সিংহ শিয়ালকে বলে - যা আমার জন্য খাবার নিয়ে আয়।
শিয়াল ঘোড়ার কাছে গিয়ে বলে- ভাইজান কেমন আছেন?
ঘোড়া চিন্তা করে- যে শিয়াল খ্যাক খ্যাক করা ছাড়া কোনো কথা বলে না- সে আজ এতো মধুর স্বরে ডাকছে কেন?
নিশ্চয়ই কোনো বদ মতলব আছে।
ঘোড়া শিয়ালের ডাকে সাড়া দেয় না।
শিয়াল এবার ময়ুরীর কাছে গিয়ে বলে- আপুমনি কেমন আছো। দেখতে খুবই মিষ্টি লাগছে।
ময়ুরীও বুঝতে পারে- শিয়ালের মুখে মিষ্টি বচন। নিশ্চয়ই লক্ষণ ভালো না।
সে ও সাড়া দেয় না।
শিয়াল এবার গাধার কাছে গিয়ে বলে- বাহ! তোমাকে খুবই হ্যান্ডসাম মনে হচ্ছে।
এরকম হ্যান্ডসাম একটা প্রাণী খেটে খেটে জীবনটা নষ্ট করে দিলো।
তোমাকে আর কষ্ট করতে হবেনা। রাজার বয়স হয়ে গেছে।
তিনি অবসরে যাবেন। আর তোমাকে রাজা বানাবেন।
চলো আমার সাথে সিংহাসনে চলো।
গাধা খুব খুশি হয়। শিয়ালের সাথে সিংহাসনে আসে।
সিংহের কাছে আসা মাত্রই সিংহের এক থাবায় গাধা তার কান দুটো হারায়।
কিন্তু কোনো রকমে পালিয়ে বাঁচে।
শিয়াল গাধার কাছে এসে বলে- এতো বোকা হলে রাজা হবে কিভাবে।
রাজা তোমার মাথায় মুকুট পরাবে। কিন্তু দুপাশে দুটো কান থাকলে কি রাজমুকুট ঠিকমতো মাথায় বসবে।
তাইতো তোমার কান দুটো তোলে নেয়া হয়েছে।
কিছু বুঝনা অবুঝ প্রাণী- এটাকে গ্রুমিং বলে।
চলো চলো আমার সাথে চলো। দেরি হলে অন্য কেউ আবার রাজা হয়ে যাবে।
গাধা আবার সিংহের কাছে আসে। এবার সিংহের আরেক থাবায় তার লেজখানা খসে পড়ে।
কিন্তু এবারও পালিয়ে বাঁচে।
শিয়াল যথারীতি গাধার কাছে এসে বলে- আবারও ভুল করলে।
লেজ থাকলে রাজ সিংহাসনে বসবে কিভাবে।
তাই তোমার লেজটা খসানো হয়েছে।
অবুঝ প্রাণী দূরদর্শী চিন্তা করতেই পারোনা।
এটা হলো আলট্রা গ্রুমিং। মানে একেবারে ফাইনাল টাচ।
চলো চলো তাড়াতাড়ি সিংহাসনে চলো।
গাধা আবারও সিংহাসনে আসে।
এবার আর সে বাঁচতে পারে না।
সিংহের থাবায় তার ক্ষত বিক্ষত দেহ খানা মাটিতে পড়ে আছে।
সিংহের দাঁতে মুখে রক্তের দাগ।
শিয়াল সিংহকে বলে - মহারাজ এতো কষ্ট করে আপনি খাবেন।
মাথাটা আমাকে দেন। সুন্দর করে প্লেটে সাজিয়ে দেই।
শিয়াল গাধার ব্রেণটুকু খেয়ে মাথার অবশিষ্ট অংশ সিংহকে দেয়।
সিংহ বলে- ব্রেণ কোথায়।
শিয়াল বলে- মহারাজ যে বারবার ধোকা খেয়েও আপনার কাছে এসেছে- আপনি কি মনে করেন তার ব্রেণ বলে কিছু আছে।
গাছের ডালের উপর থেকে ময়ুর বলে-
তার ব্রেণ ঠিকই আছে। কিন্তু অতি সহজ সরল হওয়ায় প্রতারকদের বুঝতে পারেনি।
প্যাঁচা তার সন্তানকে বলে -এই ঘটনা থেকে তোমরা কি শিখলে।
শিখলামঃ
হঠাৎ করে কেউ যদি বড় আপন হয়ে ওঠে, বুঝতে হবে তার গোপন দূরভিসন্ধি আছে।
এটাও শিখলাম- যার যে কাজ তাকে সেটাই করতে হয়। অন্যের কুমন্ত্রণা শুনতে হয়না।
লোভের ফল কখনো মিষ্টি হয়না।
সাদাসিদা হওয়া ভালো। কিন্তু বোকা হওয়া ভালো না।
সবচেয়ে বড় জিনিসটা শিখলাম তা হলো- প্রতারকদের একবার বিশ্বাস করা যায়। কিন্তু বারবার বিশ্বাস করা যায় না।
অতি বিশ্বাস করে সে ঠকেছে। আর নিজের জীবন দিয়ে তার বিশ্বাসের মর্মন্তুদ পরিসমাপ্তি ঘটেছে।
একটা তুর্কীয় গল্পের ভাবানুবাদ
Our khajura
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Our khajura, School, chuadanga, Dhaka.
অন্যের লেখাঃ
"১০০% সত্য "
আমার দাদার ১০০ বিঘা জমি ছিলো। আমার বাবার ১০ বিঘা।
এর কারণ এই নয় যে বাবারা ১০ ভাই ছিলেন। কারণ এই যে, বাবা জানতেন দাদা তার জন্য ১০ বিঘা জমি রেখে যাবেন। তাই তিনি ঘুম আর খাওয়া ছাড়া পরিশ্রমের কোনো কাজ করেনি।
যে বাবা-মা সন্তানের জন্য নিরাপদ পরিমান সম্পদ রেখে যান তাদের সন্তানদের আমি দিনে দিনে নিঃশেষ হতে দেখেছি। জমিদারের ৩য় জেনারেশন তাই না খেয়ে মরে।
নিশ্চয়তা মানুষকে অলস থেকে অলসতর করে।
আপনি ভাবছেন আপনার রেখে যাওয়া অর্থ আপনার সন্তানকে নিরাপদ আগামী দেবে? ভুল। আপনার অর্থ আপনার ৫ বছরের বাচ্চাকে দামী খেলনা দাবী করার মানসিকতা দেবে। ক্লাস টেনে পড়তেই সে চাইবে আই ফোন। ইন্টারে বাইক। অনার্সে গাড়ি, বিস্তর পকেটমানি, সেশন গ্যাপ দেয়ার অধিকার, দামী ঘড়ি আর শুধু জাংক ফুডেই মাসে ১০ হাজার টাকা।
আপনি না দিলে সে বিরক্ত হবে, আপনাকে কৃপন আর সন্তানের ইমোশোনের গুরুত্ব না দেয়া হার্টলেস বাবা-মা মনে করবে।
আমি বিশ্বাস করি পৃথিবীটা পরকালের হাশরের ময়দানের মতোই হওয়া উচিত। যার যার পাপ পূর্ণের মতোই যার যার অর্থ, পরিশ্রমের প্রাপ্তি তার হওয়া উচিত।
আপনার কিছু স্বপ্ন ছিলো! আপনি কলেজে পড়ার সময় ভেবেছিলেন দুটো মেয়ের পড়ার খরচ চালাবেন, আমেরিকা না হোক অন্তত নেপাল ঘুরে আসবেন, হজ্বে যাবেন। সেই স্বপ্ন আপনি ভুলে গেছেন সন্তানের নিশ্চিত ভবিষ্যতের ভাবনায়।
আপনার এই ত্যাগ সন্তানের কাছে শুধুই দায়িত্ব পালন। অপরাধ সন্তানের নয় কিন্তু। ভুল আপনার। আপনি তাকে জানিয়েছেন 'যা আমার তার সবই তোমার'!
আমি তা করিনি, করবো না। যা আমার তা শুধুই আমার। আমার মৃত্যুর পর তারা পেলেও পেতে পারে, নাও পেতে পারে৷ আমার যদি কঠিন কোনো অসুখ হয় আমি ওয়ার্ল্ড ক্লাস ট্রিটমেন্ট নেবো সমস্ত প্রোপার্টি বিক্রি করে। মাত্র ৫ দিন বেশি বেঁচে থাকার জন্য হলেও এটা আমি করব। আমার সন্তানেরা সেটা জানবে। তাই তাদের কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই তারা সারভাইভ করা শিখবে, আমি শিখাব।
আমি শুধু তাদের পড়া আর চিকিৎসা নিয়ে কোনো প্রকার কার্পণ্য করিনি, করবো না।বাবাহিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে অন্য একজন মানুষ যাকে আমি এ ধরণীতে এনেছি তার প্রতি আমার এটুকুই দায়িত্ব। তারপর সে পৃথিবীর সন্তান। তারপর তাকে আরো লক্ষ সন্তানের সাথে দৌঁড় দিতে হবে, নিজের জায়গা নিজেকে তৈরী করতে হবে। যদি পারে সে তবেই জীবনের আনন্দ সে জানবে।
আমার রেখে যাওয়া অর্থ দিয়ে সুখে থাকা আর অন্যের আন্ডারওয়্যার পরে ইজ্জত ঢাকা একই জিনিস৷
আমার সন্তানেরা অন্তত এইটুকু বুঝুক, এইটুকু মেরুদণ্ড তাদের হোক।
সত্যিই যদি সন্তানের ভালো চান তবে তাকে বুঝতে দিন সে একজন পূর্ণ মানুষ। তার দায়িত্ব তার। আপনি তার নির্দিষ্ট দায়িত্ব পাওয়া একজন আপনজন। সন্তানকে আন্তরিকতা দেখান, অর্থ নয়।
যদি পারেন, জেনে রাখবেন আপনার ১০ বিঘা জমি ছিলো আপনার সন্তানের ১২ বিঘা হবে। আপনারটুকু না নিয়েই হবে 🙂
সন্তানদের শুধু মনে করিয়ে দিবেন,দাদার বংশের প্রতিটি সদস্যই তোমার সহযোদ্ধা।
চলার পথে হাত ছেঁড় না 💝
[সংগৃহীত পোস্ট]
লেখক অজ্ঞাত
লেখাটি আগেও পড়েছি। কয়েকদিন হলো আবারও চোখে পড়লো। জীবনের প্রতি আমাদের মৌলিক দৃষ্টিভংগি কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে এখান হতে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া যায়।
মস্ত কোন তত্ত্ব কিংবা জটিল শাস্ত্রীয় আলোচনা আমাদের মাথায় সবসময় নাই ঢুকতে পারে তবে সাধারণ কিন্তু অর্থপূর্ণ একটা জীবন যাপনের জন্য এরকম চিন্তাধারা আমাদের জন্য বেশ ভালো একটা পথনির্দেশক হতে পারে।
-------------------------------------------------------------------------
"তাড়াহুড়োর পরিস্থিতিগুলোতে ধীরস্থির থাকো। মানুষের সাথে মেলামেশায় সুন্দর আচরণ ধরে রাখো। নিজের কোনো কারণে মানুষের ওপর রাগ কোরো না - বরং আল্লাহ্র কারণে (আল্লাহ্র অবাধ্য হওয়ার কারণে) নিজের ওপর রাগ করো। কারো অন্যায়ের প্রতিদান দিতে গিয়ে নিজে অন্যায় করবে না। নিজের ব্যাপারে ওয়াকিফহাল না থাকা লোককে প্রশংসা করতে যাবে না (কেননা এটি তাকে ভুল বোঝাবে)। অন্যের কাছ থেকে নিজের জন্য আসা প্রশংসাকে পাত্তা দেবে না। কম হাসবে এবং অসার ঠাট্টা তামাশাকে বর্জন করবে।
নিজের দুঃখ কষ্টকে গোপন রাখবে। সংযম প্রকাশ করবে। মনে সবসময় আল্লাহ্র প্রতি আস্থা ও ভরসা ধরে রাখবে। পৃথিবীর স্থূল সমৃদ্ধির অসারতাকে বুঝতে শিখবে এবং নিজের প্রয়োজনগুলোকে সামলে চলবে। বিপদ যা কিছুই তোমাকে আঘাত করবে - ধৈর্য্য ধারণ করো। আল্লাহ্ তোমার জন্য যা বেঁটে দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো। আখিরাতের জন্য আল্লাহ্র ভালো প্রতিদানের যে প্রতিশ্রুতি সেটার ব্যাপারে স্পষ্ট প্রত্যয় রাখবে - আল্লাহ্র শাস্তির ব্যাপারে যে সতর্কতা তার ব্যাপারে সন্ত্রস্ত থাকবে। যা তোমাকে এমনিতেই দেয়া হবে সেটার জন্য উতলা হবে না - আর যা তোমাকে অর্জন করার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে সেটাকে নষ্ট করবে না। আল্লাহ্র যত দান সে জন্য আল্লাহ্র কাছে মুখাপেক্ষী থাকো এবং তার কাছে আখিরাতে সুন্দর পরিণতি কামনা করো।
যে তোমার সাথে অন্যায় করেছে তাকে ক্ষমা করে দাও, যে তোমাকে বঞ্চিত করেছে তাকে দান করো, যে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তার সাথে তুমি সম্পর্ক জুড়ে রাখো। যে তোমাকে ভালোবাসে তাকে আল্লাহ্র জন্য ভালোবাসা দাও। নিজের জান ও সম্পদ তোমার কাছের মানুষদের জন্য ব্যয় করো।
আল্লাহ্র যেসব হক তোমার ওপর সেগুলো আদায় করো। যেসব ভালো কাজ করছো সেগুলো যত ভালোই হোক না কেন - তোমার নিজের চোখে যেন বেশি বড় হয়ে না ওঠে। আর যেসব খারাপ কাজ করছো সেগুলোর মধ্যে ছোটটাকেও ছোট করে দেখো না। আর অন্তরের কুপ্ররোচনাগুলোকে বোঝার চেষ্টা করো - কেননা এগুলো থেকে যে মন্দ জন্ম নেবে আল্লাহ্র কাছে সেগুলোর জন্য শাস্তি তৈরি আছে।"
-----------------------------
ইমাম আল-মুহাসিবী'র "রিসালাতুল-মুসতারশিদীন" থেকে আসিফ সিবগাত ভূঞা'র অনুবাদমূলক লেখা।
| আমাদের ছেলেরা কীভাবে পুরুষ হবে? |
গ্রামের বাড়িতে গেছি বেড়াতে। রাতের বেলা শুধু মুরগির বাচ্চার কিচিরমিচির শুনছি। একটু ডিস্টার্বই হচ্ছে। দোতলার বারান্দায় নাকি আম্মু মুরগির বাচ্চা এনে রেখেছেন। জানতে চাইলাম, মুরগির খোপ রেখে এখানে এগুলো কেন রেখেছেন? আম্মু জানালেন যে, মুরগির বাচ্চা মায়ের সাথে যত বেশিদিন থাকে তত দেরিতে ডিম দেয়, আর মা থেকে আলাদা করে রাখলে দ্রুত ডিম দেওয়া শুরু করে।
চট করে আমার চিন্তাটা মুরগির বাচ্চা থেকে সরে আমাদের বর্তমান সমাজের আধুনিক প্রজন্মের ‘ছেলেবাবুদের’ দিকে সরে গেল, যারা বয়স পচিশ-ত্রিশে এসেও মানসিকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হতে পারে না।
আমার বন্ধু শরিফ। ওরা দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি বৃটিশ। ওর বাবা গিয়েছিলেন ষাটের দশকে। ও ওর নিজের জীবনের দারুণ একটা ঘটনা শুনিয়েছিল আমাকে। ওর বয়স যেদিন ষোলো বছর পূর্ণ হয়ে সতেরোতে পড়ল, সেদিন ওর বাবা ওকে ডেকে বললেন, এখন থেকে তুমি বৃটিশ আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাধীন ও স্বনির্ভর পুরুষ। এখন থেকে তোমার দায়িত্ব তোমাকেই বহন করতে হবে। তোমার লেখাপড়ার খরচা তোমাকেই যোগাতে হবে। আর আমার বাসায় থাকতে হলে বাসা ভাড়া, আর খেতে হলে খাবার খরচ দিতে হবে। যেই কথা সেই কাজ। কোনো ছাড় নেই। শরিফ বাধ্য হয়ে একটা শপে পার্টটাইম কাজ জোগাড় করল। স্কুল শেষে সেখানে কাজ করত। সেই টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া আর খাবার বিল দিত। লেখাপড়া তো সরকারি স্কুলে, তাই এক বাচা বাঁচল। বৃটিশ কালচারে এটা স্বাভাবিক হলেও বাঙালী হিসেবে বাবার এই আচরণ মেনে নিতে ওর বেশ কষ্ট হয়েছিল। এই সময়টাতে বাবার প্রতি জমেছিল এক রাশ ঘৃণা আর অভিমান। এই ঘৃণা আর অভিমান কিভাবে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় রূপ নিয়েছিল তা আমরা একটু পরে বলছি।
জীবনের এই প্রথম ধাক্কাই তাকে অনেকটা পরিপক্বতা এনে দিয়েছিল। ১৯ বছর বয়সে বিয়ে করেছিল। এখন মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে গেছে। আমি শরিফকে আমার এই বিশ বছরের বন্ধুত্বের জীবনে অসংখ্য ভালো কাজের উদ্যোগ নিতে ও অংশগ্রহণ করতে দেখেছি। অনেক অসহায় মানুষকে, পরিবারকে ও সাহায্য করেছে।
ঠিক এর বিপরীতে গেলে আমাদের সমাজে অসংখ্য মানুষ দেখতে পাবেন, যারা ত্রিশে এসেও বালকসুলভ জীবন কাটায়, পুরুষ হয় না। কোনো দায়িত্ব নিতে সক্ষম নয়, কোনোকিছুতে স্থির নয়, কোনো লক্ষ্যপানে ধাবিত নয়, কোনো অর্জনের জন্য স্থির নয়।
আমাদের অধিকাংশ মানুষদের দেখবেন বলতে, ছেলেমেয়েদের জন্যই তারা খেটে মরে, বাড়িগাড়ি বানায়। জিজ্ঞেস করলে বলে, আমরা যে কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছি আমার ছেলেমেয়েরা যেন তার মধ্য দিয়ে না যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এ ধরণের চিন্তার বাবা-মায়ের সন্তানরা খুবই অযোগ্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়। যে বাবা-মা তাদের জন্য খেটে মরেছে, তাদের জন্য কিছু করা তো দূরের কথা, তারা নিজেদের দায়িত্বই নিতে সক্ষম হয় না। বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া সম্পদের উপর নির্ভরশীল হয়। সেটা ফুরিয়ে গেলে চরম মানবেতর জীবনযাপন করে।
আমাদের ভিতরে যারা একটু স্মার্ট এবং বাস্তবসম্মত চিন্তা করেন, তারা ভাবেন—ছেলেমেয়েদের জন্য বাড়িগাড়ি রেখে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব নয়, তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলাই আমাদের দায়িত্ব। তারা দেখা যায় উন্নত লেখাপড়ার জন্য ছেলেমেয়ের পিছনে অঢেল টাকাপয়সা ব্যয় করেন, দুনিয়ার সকল ঝুটঝামেলা ও বাস্তবতা থেকে এমনভাবে দূরে রাখেন, ফলে তারা হয় ‘শিক্ষিত বলদ’।
সত্যিকারভাবে ছেলেদেরকে পুরুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ খুব কম মানুষই গ্রহণ করতে পারেন। আর এর অবধারিত ফল হলো ব্যক্তি হিসেবে, পরিবার হিসেবে, সমাজ ও জাতি হিসেবে পিছিয়ে পড়া।
একটা মানুষ যদি পৃথিবীর জন্য পনেরো-ষোলো বছর থেকে অবদান রাখা শুরু করতে পারে, তাহলে তার অবদানের মাত্রা ও মান দুটোই অনেক বৃদ্ধি পায়। পক্ষান্তরে কথিত মাস্টার্স শেষ করে কর্পোরেট স্লেইভ হতে হতে যে সময় ব্যয় হয়ে যায়, তাতে অবদান রাখার সময় যেমন হারিয়ে যায়, তেমনই অবদানের মানও আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো হয়ে ওঠে না।
আমি ড্রাইভিং শিখেছিলাম ৩৩ বছর বয়সের দিকে। আমার এক বন্ধু তখন বলেছিল—তুমি এখন আর ফার্স্ট ক্লাস এফিশিয়েন্ট ড্রাইভার হতে পারবা না, তুমি হবা ‘আংকেল ড্রাইভার’। সামনের আরেকটা গাড়ির পেছনে পেছনে স্টিয়ারিং ধরে গাড়ি চালিয়ে তোমার জীবন যাবে। আমি খুব গভীরভাবে লক্ষ্য করলাম যে, কথা খুবই সত্য। আমার পাশ দিয়ে বহু গাড়ি কাটিয়ে চলে যায়, আর আমার কাছে সামনের গাড়ির পিছনে ধরে রাখাকেই নিরাপদ ও আরামদায়ক মনে হয়। তাই দেরি করে দায়িত্ব নেওয়ার ব্যাপারটা শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীন করে তা-ই নয়, দায়িত্ববোধের মান ও দায়িত্ব পালনের যোগ্যতাও হ্রাস করে ফেলে।
বাবার প্রতি শরিফের ঘৃণা আর অভিমানের কথা মনে আছে? এবার বলি সেই ঘৃণা আর অভিমান কিভাবে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় রূপ নিয়েছিল। বিয়ের দু’বছর পর যখন একটা ব্যবসা দাড় করানোর জন্য ভালো অংকের একটা নগদ অর্থ দরকার হলো তখন সেই কঠোর বাবা তার হাতে পাউন্ডের একটা বান্ডিল দিয়ে বলেছিলেন, ‘এটা বাসা ভাড়া আর খাওয়ার খরচ হিসেবে দেওয়া তোমার সেই অর্থ। এমন কোনো প্রয়োজনের সময় দেওয়ার জন্য জমা করে রেখেছিলাম’। জীবনে কোনো এক সময় যদিও বাবার প্রতি শরিফের ঘৃণা জন্মেছিল, কিন্তু এখন বাবার সেই কঠোরতাটুকুকে সে তার জীবনের অমুল্য সম্বল মনে করে এবং বাবাকে নিয়ে সে আজ সত্যিকারে গর্ব অনুভব করে।
সেই মুরগির গল্পে ফিরে আসুন। ফিরে আসুন ইসলামের বাতলানো সমাজ চিন্তায়। মুরগির বাচ্চা যেমন মায়ের ডানার তলে থাকলে ডিম দেবে না, তেমনি আপনার ছেলেকে যতদিন ডানার নিচে রাখবেন সে দায়িত্বশীল হবে না। এটা সৃষ্টির প্রকৃতির মধ্যে দেওয়া স্রষ্টার অমোঘ নিয়ম। ইসলাম বলে একটা ছেলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার তিনটা সাইন:
১. স্বপ্নদোষ হওয়া
২. নাভির নিচে লোম গজানো, কিংবা
৩. বয়স পনেরো বছরে উপনীত হওয়া
এরপর ইসলামি আইনমতে সে একজন পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। তার উপর শরিয়তের সকল আইন কার্যকর। মহান আল্লাহ এই সীমাটা এইজন্যই নির্ধারণ করেছেন যে, এই বয়স থেকে সে জীবন ও জগতে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন শুরু করবে। আমাদের উচিত ছিলো, আমাদের সন্তানদেরকে এই বয়সে উপনীত হওয়ার আগেই তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও যোগ্য করে গড়ে তোলা; কিন্তু সেটা না করে একটা দীর্ঘ সময় তাদেরকে স্পুন ফিডিং করে আমরা একটি অকর্মন্য ও অযোগ্য প্রজন্ম গড়ে তুলছি।
আমরা কি বিষয়টা নিয়ে একটুও ভাবার প্রয়োজন বোধ করি?
© প্রধান সম্পাদক, সিয়ান পাবলিকেশন
সিয়ান | বিশুদ্ধ জ্ঞান | বিশ্বমান
যুদ্ধ চলছে, ঠান্ডা যুদ্ধ। দল ভারী করার যুদ্ধ। মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে খেলার যুদ্ধ। বুঝতে পারছেন না কি বলছি ? আচ্ছা, আসুন এই যুদ্ধের কিছু উদাহরন দেখি …
===>
আপনি নতুন কোন মুভি দেখছেন। মুভির এক পর্যায়ে দেখা গেল একটি বাচ্চা প্রচুর কান্না করছে, সাথে একটা হৃদয় নিংড়ানো আবেগময় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজছে। বাচ্চার কান্নাটা আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করে গেল। আপনার অবচেতন মন খুজে ফিরছে কি কারনে এই বাচ্চাটা কান্না করছে ?! কিছুক্ষন পর দেখা গেল ঐ বাচ্চার বাবা-মাকে কেহ গুলি করে বা বোম ব্লাস্টের মাধ্যমে মেরে ফেলেছে। তখন আপনার অবচেতন মনে সেই গুলি করা ব্যক্তি বা বোম ব্লাস্ট করা ব্যক্তির প্রতি তৈরি হল একরাশ ঘৃণা ও রাগ। আরো কিছুক্ষন পর সেই ঘাতকের চেহারা দেখতে পেলেন আপনি। মাথায় টুপি ও সৌদি রুমাল, মুখভর্তি দাড়ি, পরনে পাঞ্জাবি পায়জামা …
এখন আপনি যতই ইসলামভক্ত হন না কেন, মাইন্ড গেইম সম্পর্কে যদি আপনার ধারনা না থাকে তবে আপনার মনে সেই ব্যক্তির প্রতি সাথে সাথে অবচেতনভাবে সেই মাথায় টুপি ও সৌদি রুমাল, মুখভর্তি দাড়ি, পাঞ্জাবি পায়জামার প্রতি একটা ঘৃণা ও বিদ্ধেষ সৃষ্টি হয়ে যাবে। যা হয়তো আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন না …
আর যারা ইসলাম সম্পর্কে অভিজ্ঞ না শুধু নামে মুসলমান তাদের চিন্তার কি অবস্থা হবে ?!
===>
আবার ধরুন,
রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছেন। হঠাৎ চোখ পড়ল একটি রাস্তার পাশে একটি বিজ্ঞাপন “ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা”। সাথে ছবি দেয়া টুপি মাথায় দেয়া, মুখে দাড়ি, পাঞ্জাবি পড়া একটি লোক ভিক্ষার থালা নিয়ে দাড়িয়ে। আপনার অবচেতন মন ধারনা তৈরি করে নিয়েছে “ টুপি মাথায় দেয়া, মুখে দাড়ি, পাঞ্জাবি পড়া” লোকের সাধারণত ভিক্ষুক টাইপের গরিব, আত্মমর্যাদাহীন হয়। সমাজে এই জাতীয় লোকের কোন কদর নেই, দাম নেই, সম্মান নেই …
===>
আবার ধরুন,
আপনি ও আপনার বাচ্চা একসাথে টিভিতে কার্টুন দেখছেন। কার্টুনের নাম “Little Krishna” অথবা “Return of Hanuman” । সেখানে দেখা যাচ্ছে হনুমান বা কৃষ্ণ একাই অসাধ্য সাধন করছে এবং তার ভক্তবৃন্দরা ভক্তির সাথে তাদের পূজা-অর্চণা করছে। আপনি নিজের মনকে যতই আটকে রাখুন, আপনার বাচ্চা কিন্তু হনুমান বা কৃষ্ণর ভক্ত হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে কিছু চাইতে হলে সে আল্লাহ তায়ালা থেকে হনুমান বা কৃষ্ণকে অগ্রাধিকার বেশিই দেবে ….
===>
আবার ধরুন,
বর্তমানে ছেলে বা মেয়েরা মুভি-নাটকের খুব ভক্ত। প্রতিদিন কিছু সময় এই পেছনে ব্যয় না করলে মনে হয় তাদের জীবনটাই বৃথা। তো মুভি-নাটকের মূল টপিকই হল প্রেম, লিভ-টুগেদার, অবৈধ সম্পর্ক, পালিয়ে বিয়ে, ভ্যালেন্টাইনস ডে, ধর্ষন, জুয়া, ড্রাগ, একশ্যান সিন ইত্যাদি। আপনিই বলুন বর্তমানে এই জাতীয় বিষয়গুলো আমাদের সমাজে বেড়েছে নাকি কমেছে ? চিন্তা করেছেন কখনও …
===>
আবার ধরুন,
কিছুই না, নায়কের রুমে শুধু চে গুয়েভারার একটি ছবি টাঙ্গানো (চে গুয়েভারাকে বর্তমানে নাস্তিকরা তাদের আদর্শ হিসেবে মেনে থাকে)। যেহেতু দেখা যাচ্ছে নায়ক চে গুয়েভারার ভক্ত তাই নায়কের ভক্তরাও চে গুয়েভারার ভক্তে পরিনত হবে(অবচেতন মনে)। কিছুদিন পর তারা চে গুয়েভারার আদর্শে আদর্শবান হবে, অর্থাৎ নাস্তিকতার দিকে ধাবিত হবে …
===>
আবার ধরুন,
আপনি ছোটবেলায় সামাজিক বিজ্ঞান বইতে জনসংখ্যা অধ্যায়ে পড়েছেন “মুখ দিয়েছেন যিনি আহার দেবেন তিনি”- এটা কুসংস্কার। তো বড় হয়ে যখন আপনার ধর্মগুরুর মুখে ঠিক এই কথাটি শুনলেন তখন আপনার অবচেতন মন আপনার ধর্মকে একটি কুসংস্কার হিসেবে চিহ্নিত করল। আপনি ধারনাও করতে পারবেন না যে, আপনার আজকের এই অবচেতন মনের ধারনা সৃষ্টির জন্য কেহ আপনার জন্য ছোটবেলায় এই পড়ার অধ্যায় তৈরি করেছিল !!! চিন্তা করেছেন কখনও …
———————————————————————————
এগুলো নাম হচ্ছে মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে খেলা, নিরব যুদ্ধ, দল ভারি করার যুদ্ধ … এই যুদ্ধে ক্ষেত্র বিশাল …
আপনি বা আপনার প্রজন্ম কি প্রস্তুত এই যুদ্ধে লড়াই করার জন্য ? কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন তাদের ঈমান ও আমল বাচানোর জন্য ?
শুধু দায়সারা গোছের কোনমতে মহল্লার মসজিদে বাচ্চাকে ঠেলেঠুলে কুরআনটা রিডিং পড়িয়ে দিলেই কি হল ?
সে কি পারবে এই গেইমের সাথে টেক্কা দিয়ে নিজের ঈমান-আমল বাচাতে ?
চিন্তা করেছেন কখনও …
©️ সুমন ভাই
approve plz🙏🙏
গরুর মাংস রপ্তানী করে এরকম দশটি দেশের তালিকায় ৪র্থ অবস্থানে আছে ভারতের নাম । এমনকি তালিকায় প্রথম যে তিনটি দেশ আছে , ব্রাজিল , অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকা এরা কেউ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ নয় ।
তালিকার প্রথম ৭ টি দেশ মিলিয়ে শুধু ২০২০ সালেই ১ বিলিয়ন পাউন্ডের মতো মাংস রপ্তানী করেছে পুরো বিশ্বে । ভারত এখানে কন্ট্রিবিউট করেছে শতকরা ১২ ভাগের কাছাকাছি ।
তালিকার প্রথম ১০ টি দেশের মধ্যে কোনটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশ নেই । একদম ১৪ নম্বর অবস্থানে আছে পাকিস্তানের নাম । ২৪ নম্বরে আছে সৌদি আরবের নাম । ২৬ নম্বরে আছে মালয়শিয়া ।
United States Department Of Agriculture এর দেয়া তথ্য মতে জাপানে শুধুমাত্র ২০২১ সালের জানুয়ারী মাসেই ১০৫০ টি গরু জবাই করা হয়েছে ।
তালিকাটি যদি একটু বড় করি তাহলে দেখাতে পারবো ,শুধু শুকরের মাংসের জন্যই একই বছরের জানুয়ারী মাসে প্রায় ১৬ ,৫৭০ টি শূকর জবাই করা হয়েছে ।
বাদ রইলো ঘোড়া । জাপানের মানুষ সেটাও বাদ দেয় না । কানাডা থেকে ঘোড়া আমদানী করা হয় জাপানীদের জন্য ।
ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের তথ্য মতে , প্রতি বছর প্রায় ১৯ বিলিয়ন মুরগী , দেড় বিলিয়ন গরু , এক বিলিয়ন ভেড়া এবং সমপরিমান শূকর জবাই করা হয়ে থাকে । বিগত ৫০ বছরে মাংসের চাহিদা বেড়েছে ৩ গুন । এর বেশিরভাগটাই চীন এবং ইউরোপিয়ানদের পেটে যায় ।
শুধু আমেরিকাতেই প্রায় ৮০০ টির উপরে স্লট্যারহাউজ আছে যেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ড মাংস প্রক্রিয়াজাত হয় ( নিউইয়র্ক টাইমস ,এপ্রিল ১৮,২০২০)
এসব তো গেলো গরুর মাংস নিয়ে বিজনেসের কথা । এইবার একটু দেখে আসি কোন দেশগুলো সবচেয়ে বেশি গরুর মাংস নিচ্ছে ।
২০১৮ সালে প্রকাশিত এই রিপোর্টের ( ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম ) তথ্য বলছে আমেরিকার একজন মানুষ বছরে প্রায় ৯৯ কেজি বা ২১৯ পাউন্ড মাংস খায় । আমেরিকানরা তাই সবার উপরে ।
২য় অবস্থানে আছে অস্ট্রেলিয়া । জন প্রতি ২০৩ পাউন্ড করে খায়বছর প্রতি ।
৩য় অবস্থানে আছে আর্জেন্টিনা । মাথাপিছু ১৯৮ পাউন্ড মাংস খায় প্রতি বছর ।
৪র্থ অবস্থানে আছে ইসরায়েল । মাথাপিছু ১৯৫ পাউন্ড মাংস ।
পরের অবস্থা যারা আছে তারা কেউ মুসলিম দেশ না । ব্রাজিল , কানাডা , নিউজিল্যান্ড আর চিলির মানুষ মাংসের উপরেই চলে ।
এরপরেও যদি আপনার মনে হয় শুধু মুসলিম বলেই একজন মানুষকে কোরবানীর সময় ক্রিটিসাইজ করা উচিত , এরপরেও যদি আপনার মনে হয় কোরবানীর মৌসুম এলেই পশু প্রেম নিয়ে আপনার কথা বলা উচিত তাহলে আমি বলবো আপনি সমালোচক নন । আপনি একজন সুযোগসন্ধানী নিন্দুক । জানেন ,বোঝেন কিন্তু মানতে চান না ।
কোরবানী ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিভাবে প্রান সংহার করা হয় তার একটা বিবরণ দিই ।
তোরজা উপজাতির মধ্যে একটা অনুষ্ঠান প্রচলিত আছে । তারা মৃত মানুষের সম্মানে অনুষ্ঠানটা করে । সেই অনুষ্ঠানে জীবন্ত মহিষের গলায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ( জবাই করে নয় ) ছুরি দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে যন্ত্রনা দেয়া হয় ।
স্পেনের বুল ফাইট দেখে আপনার কাছে অস্বস্তি লাগে না ? বিয়ার গ্রিলসকে দেখে আপনার মধ্যে অনুশোচনাবোধ কাজ করে না ?
বিফ বার্গার খেতে গিয়ে কোনদিন মনে হয়নি ভেতরের বিফটা কোথা থেকে এলো ?
অমলেট খেতে গিয়ে মনে আসছে না একটা প্রাণ গিলে নিচ্ছেন ?
বারবিকিউ করতে গিয়ে ঝলসানো মুরগীর মাংস দেখে কখনো মনে প্রশ্ন আসেনি ?
গাছেরও তো প্রান আছে । তাহলে ঘাস মাড়িয়ে চলেন কেন ? কাঠ দিয়ে ফার্নিচার বানাচ্ছেন কেন ?
আমিষের চাহিদা মেটাতে মাছ খাচ্ছেন কেন ? অথবা প্রোটিনের উৎস হিসেবে শাক সবজি ?
প্রশ্নগুলো করেছি তর্কের খাতিরে নয় । সেই যোগ্যতা হয়নি । বিবেচনাবোধের খাতিরে,যেন বিবেচনা করতে পারি । আরেকটা কথা উপরের আর্টিকেলে কাউকে ব্লেইম করতে চাইনি । বলতে চেয়েছি একটা ন্যাচারাল ইকোসিস্টেমকে শুধুমাত্র তর্কের খাতিরে প্রশ্নবোধক করে ফেলার কোন যৌক্তিক কারন থাকতে পারে না । যিনি বিফ খাচ্ছেন তিনি নিজের প্রয়োজনেই খাচ্ছেন । যিনি পোর্কের উপর বেঁচে আছেন তারও সেই অধিকার আছে । একইভাবে যিনি কোরবানী দিচ্ছেন তাকেও ধর্মান্ধ বলে সরিয়ে দেয়ার কারন নেই ।
একটা ঘটনা বলে লেখাটা শেষ করছি ।
চট্টগ্রামে আমার এক স্টুডেন্ট ছিল । খ্রিস্ট ধর্মের মানুষ । খুব সৎ এবং ধর্ম কর্ম মেনে চলেন ।
একদিন নাস্তার টেবিলে মাংস জাতীয় কিছু আসলো । খুব স্বাভাবিকভাবেই আমি ইতস্তত করতে লাগলাম ।
একদিন গেলো । খাবার খাবারের মতোই থাকলো । আমি কিছু মুখে নিই না । লজ্জায় কিছু বলতেও পারি না ।
পরদিন আন্টি আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন , তুমি নিশ্চিন্তে খেতে পারো । ওটা পোর্ক না । চিকেন । আশা করি চিকেনে তোমার সমস্যা নেই ।
আমি আশ্বস্ত হলাম ।
ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ যে আমরা বলি তার উদাহরণ ছিল এই ঘটনাটি । সবাই সবার কমফোর্ট জোনটা বুঝে সেই অনুযায়ী তাকে স্পেস দেয়া । ধর্মটা যার যার হলে ,উৎসবটাও যার যার । কিন্তু মানুষ হিসেবে বিবেচনাবোধের জায়গায় আমরা সবাই এক । এখানে কোন ভেদাভেদ নেই । থাকাও উচিত না ।
ঠিক একই কথা কোরবানীর জন্যও প্রযোজ্য ।
আমার কোরবানী আমি দেবো । কাউকে আঘাত দেয়ার জন্য নয় । কারো সাথে তর্কে যাওয়ার জন্য নয় । সকল ধর্মের প্রতি , সকল মানুষের প্রতি মনুষ্যত্বের জায়গা থেকে সমান ভাবে শ্রদ্ধা । আমরা যেন কেউ কাউকে আঘাত না করি ।
সেই সাথে আরো কিছু জিনিস এই কোরবানীতে “”কোরবানী “” দেয়ার চেষ্টা করি ।
রক্তমাখা ছুরির ছবি দিয়ে কমনসেন্সের ঘাটতি না দেখানো ।
কোরবানীর ভিডিও ভাইরাল করে ফেসবুকে না দেয়া ।
জেনে বুঝে ইন্টেনশনালি কাউকে আঘাত করার জন্য দাওয়াতের অভিনয় না করা ।
দাওয়াত দিলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা ।
ধর্ম যার যার । উৎসবও যার যার । কিন্তু ভালোবাসাটা সবার জন্যই ।
লিখেছেন ♥️Arafat Abdullah ( মধ্যরাতের অশ্বারোহী )
University of Chittagong ♥️
উফ !! ভাই ♥️আপনি এত সুন্দর করে লিখেন কীভাবে ♥️
👉 𝗜 𝗮𝗺 𝗳𝗿𝗼𝗺 𝗕𝗮𝗻𝗴𝗹𝗮𝗱𝗲𝘀𝗵 𝗮𝗻𝗱 𝘀𝘂𝗽𝗽𝗼𝗿𝘁 𝗣𝗮𝗹𝗲𝘀𝘁𝗶𝗻𝗲 🇵🇸 🇵🇸 🇵🇸
সকলের পড়া উচিৎ!
ইজরায়েলে যারা শাসন করে তারা মূলত ইউরোপীয় ইহুদী। এদেরকে বলা হয় আশকেনাজি জুইশ। এরা ইউরোপ থেকে এসে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে গেড়ে বসা ইহুদী। কিছু আরব ইহুদী আছে, যারা আগে থেকেই ফিলিস্তিনে ছিল। আর কিছু অন্যান্য আরব দেশ থেকে এসেছে। এদেরকে বলা হয় মিজরাহি জুউশ। হিস্পানিক কিছু জুইশ আছে।
তবে এলিট শ্রেণী হচ্ছে- আশকেনাজি জুইশ। এরাই মূলত জার্মান আর ফ্রান্স থেকে বিতাড়িত হয়ে ফিলিস্তিনীদের জমি দখল করেছে। এরা অসম্ভব উগ্র, জেনোফোবিক এবং ধণী। ইজরায়েলের এলিট শ্রেণী হচ্ছে এরা। এদের কালচারের সাথে আরব ইহুদীদের কালচার কোনোভাবেই মিলেনা।
ইহুদী ধর্ম অনুযায়ী মেসিয়াহ (মুসলমানদের কাছে দাজ্জাল) না আসা পর্যন্ত ইহুদীদের জন্য আলাদা দেশ গঠন করা পুরোপুরিভাবে নিষিদ্ধ।
এই কারণেই অন্যান্য দেশের অর্থোডক্স ইহুদী এবং ইহুদী ধর্মগুরুগণ ইজরায়েলের বিরোধী।
কারণ এই রাষ্ট্র ইহুদী ধর্মমতেও নিষিদ্ধ।
ধর্মীয় দেশ দাবী করলেও ইজরায়েল মূলত কোনো ইহুদী দেশ নয়, এটা একটা জায়োনিস্ট দেশ। সহজ ভাষায় বললে- জায়োনিজম হচ্ছে ইহুদী জাতীয়তাবাদের একটি পলিটিক্যাল টার্ম।
জায়োনিস্ট হওয়ার জন্য ইহুদী হওয়া শর্ত নয়। অর্থাৎ ইহুদী নন এমন ব্যক্তিরাও জায়োনিস্ট হতে পারেন। আবার ইহুদী মানেও জায়োনিস্ট নয়।
জায়োনিজমকে বাংলায় সম্ভবত ইহুদীবাদ বলা হয়। হিন্দু আর হিন্দুত্ববাদ যেমন এক নয়, অনেকটা সেরকম। ইহুদী ধর্মকে বলা হয় জুদাইজম।
তো জায়নবাদের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছে স্টেট অব ইজরায়েল জাতির পিতা থিউডর হার্ৎজেল। যার স্বপ্ন ছিল তার মুভমেন্টের সমর্থক ইহুদীদের জন্য আলাদা একটা দেশ হবে এবং সেটা হবে ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিতে।
সে আবার অবশ্য তার জীবদ্দশায় ইজরায়েল দেখে যেতে পারেনাই। তবে সে নানাভাবে চেষ্টা করেছিল।
ওসমানী খলীফা আব্দুল হামীদকে সে চিঠি লিখে প্রস্তাব দিয়েছিল যেন ইহুদীদের জন্য বাইতুল মোকাদ্দাসের কাছে কিছু জমি বরাদ্ধ দেয়া হয়।
বিনিময়ে তুরস্কের সব ঋণ পরিশোধ করে দেয়া হবে। খলীফা এই প্রস্তাব নাকচ করে দিলে ১৯০১ সালের মে মাসে থিওডর তার ক্লোজফ্রেন্ড পোলিশ ফিলিপ নিউলিন্সকিকে দিয়ে আবার প্রস্তাব পাঠায়। এবারে খলীফার জন্য বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ সহ নানা উপহারের প্রস্তাব দেয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, অন্যান্য ব্যবসা এবং সুদের ব্যবসা করে ইহুদীরা অনেক আগে থেকেই প্রচুর সম্পদের মালিক। ব্যাংকিং কনসেপ্ট জিনিসটাই ইহুদীদের থেকে তাদের সুদের ব্যবসা থেকে এসেছে। এই কারণে তাদের সম্পত্তি ছিল অঢেল।
খলীফা আব্দুল হামীদ বলেছিলেন- ফিলিস্তিনের ভূমি আমার একার সম্পদ নয় যে আমি লিখে দেব। প্রতিটা মুসলমানের রক্তের ফোঁটাতে এর মালিকানা। আমি বেঁচে থাকতে সেটা হতে দিতে পারিনা।
খলীফা আব্দুল হামীদ মারা গেছেন, ওসমানী খেলাফত ধ্বংস হয়েছে। খেলাফত বিলুপ্ত হয়েছে। বৃটিশরা যুদ্ধে জিতেছে। থিউডর হার্ৎজেল মারা গেছে। কিন্তু তার আইডিওলজি দিনে দিনে শক্তিশালী হয়েছে। তার স্বপ্নের দেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বৃটিশরা ইউরোপ থেকে মার খাওয়া ইহুদীদের জন্য জায়গা বরাদ্ধ করে দিল ফিলিস্তিনে। থিউডরের স্বপ্নের সেই দেশ প্রতিষ্ঠিত হলো ফিলিস্তিনীদের রক্তের উপর। লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হলো। ঘরবাড়ী এবং জীবন হারালো। জায়োনিস্টদের তখন সশস্ত্র মিলিশিয়া ছিল।
তারা ফিলিস্তিনীদের হত্যা করতো, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে সেই ভূমি দখল করতো।
এবং তারা বিশেষভাবে বৃটিশদের সহায়তা পেত।
ইহুদীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই ইজরায়েলেও ইহুদীরাই বৈষম্যের শিকার হয়। যারা কালো ইহুদী তারাও বৈষম্যের শিকার হয়। এ নিয়ে তারা অনেকবার রাস্তায় নেমেছে। সবচেয়ে বেশী শিকার হয় আরব ইহুদীরা। কারণ তাদের ভাষা আরবী, তাদের বেশভূষা আরব মুসলমানদের মত। আরবী বলার কারণে তাদের চাকরী হয়না, আরবদের মত পোষাক পরায় চাকরী হয় না।
ধর্মে ইহুদী হওয়ার পরও জাতিতে একই না হওয়ায় তারা নানা বৈষম্য, বুলিং এবং হেনস্থার শিকার হয়। তাদের বলা হয় আরবদের ঘৃণা করতে। তো যারা পূর্বে আরব দেশে ছিল, তারা অর্থ্যাৎ বৃদ্ধরা বিষয়টা মেনে নিতে পারেনা। তারা প্রতিবাদ করে। কোনো লাভ হয় না।
তো যারা নিজ ধর্ম ইহুদীদের সাথেই এমন করে, তারা আরব মুসলমানদের সাথে কেমন আচরণ করবে সেটা সহজেই অনুমেয়। আবার আমরা তো দেখতেও পাই।
ইজরায়েল শুরু থেকেই বৃটিশ এবং আমেরিকানদের প্রত্যক্ষ সাপোর্ট পেয়ে আসছে। আরব ইজরায়েল যুদ্ধে আমেরিকান সৈন্যরা ইজরায়েলের পক্ষে যুদ্ধ করেছে বলেও বলা হয়।
এখনো যখন ইজরায়েল ফিলিস্তিনীদেরকে হত্যা করে, নারী-শিশুদেরও হত্যা করে, ধরে নিয়ে যায় এ নিয়ে জাতিসংঘ ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব আনলে আমেরিকা ভেটো দেয়। সরাসরি ইজরায়েলকে রক্ষা করে।
জাতিসংঘের আইন, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, যুদ্ধাপরাধ আইন সব কিছুই তারা নিয়মিত লংঘন করে। কিন্তু তাতে তাদের কোনো কিছুই হয় না। কারণ আমেরিকা আছে। তারা প্রকাশ্যেই ইজরায়েলকে রক্ষা করে নেয়, একদম নগ্নভাবে।
ইজরায়েলের কোনো সীমানা নেই। কারণ, তারা প্রতিদিনই দখল করে চলেছে। যেকোনো দিন ইহুদী সেটেলার এসে আপনাকে বলবে এই ঘর আমার। এরপর ইজরায়েলী পুলিশ এসে আপনাকে বের করে দেবে, পুরুষদের জেলে নিয়ে যাবে। তারপর বুলডোজার এসে আপনার ঘর গুঁড়িয়ে দেবে। এরপর সরকারী টাকায় সেখানে ইহুদীদের জন্য ঘর বানানো হবে।
নিজেদের শত শত বছরের ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়া ফিলিস্তিনীরা এক দিনেই উদ্বাস্তু হয়ে গেল। রিফিউজি হিসেবে কোথাও আশ্রয় নিতে হবে।
এভাবে তারা প্রতিদিন ঘরবাড়ী দখল করে নেয় আর ফিলিস্তিনীরা উদ্বাস্তু হয়।
ইহুদীদের জন্য ঘরবাড়ী বানানোর জন্য যে টাকা খরচ হয়, তার জন্যও আমেরিকা থেকে সরকারী এবং বেসরকারিভাবে টাকা আসে।
আবার প্রতিবছর ইজরায়েলের জন্য প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা আসে।
পশ্চিমের দেশগুলোতে ইজরায়েলীদের জন্য প্রায় ভিসা ফ্রী। নামী দামী ইউনিভার্সিটি গুলোতে তারা স্কলারশিপ পায়। এর বাইরে আবার প্রায় সব বড় বড় কোম্পানীর বিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট আছে ইজরায়েলে। তারা শিক্ষাখাতে ইনভেস্ট করে, গবেষণা খাতে ইনভেস্ট করে, ট্যুরিজম খাতে ইনভেস্ট করে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনীরা আগামীকাল পর্যন্ত তাদের বাড়ীটা থাকবে কিনা জানে না। প্রাণ থাকবে কিনা সেটাও জানেনা। স্কুলটা থাকবে কিনা তাও জানেনা। রাত বিরাতে এসে তল্লাশী চালিয়ে ইজরায়েলী পুলিশ যাকে তাকে ধরে নিয়ে যায়। অল্পবয়সী শিশু হলেও কোনো রক্ষা নাই।
ফিলিস্তিনীদের সেনাবাহিনী কিংবা পুলিশ ফোর্স রাখারও পারমিশন নাই। ফিলিস্তিনী সিকিউরিটি ফোর্স নামে একটা বাহিনী আছে, তাদের ভারী কোনো অস্ত্র রাখার অনুমতি নাই।
ইজরায়েলের সাথে এক চুক্তিতে এটা মেনে নেয় ইয়াসির আরফাতের পিএলও।
ফলে মাহমুদ আব্বাস নামের প্রেসিডেন্ট হলেও কাজে কোনো ক্ষমতা তার নাই।
ইজরায়েল দখল করতে করতে ফিলিস্তিনকে এমনভাবে দখল করেছে- একপাশে গাযা উপত্যকা, অন্যপাশে পশ্চিম তীর। মাঝখানে ইজরায়েল।
ব্যাপারটা অনেকটা পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তানের মত পশ্চিম তীর আর গাযা, মাঝখানে ভারতের মত ইজরায়েল।
মনে করার সুবিধার্তে, গাযা হচ্ছে বাংলাদেশ, পশ্চিম তীর পাকিস্তান। মাঝখানে ভারত হচ্ছে ইজরায়েল।
(ভৌগোলিক অবস্থান বা ম্যাপ বুঝার সুবিধার্তে বললাম)।
ইজরায়েলীরা পৃথিবীর ১৬০টি দেশে প্রায় ভিসা ফ্রী ঘুরতে পারলেও ফিলিস্তিনীরা এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় যেতে ইজরায়েলের অনুমতি নিতে হয়। ফিলিস্তিনের গাযা উপত্যকা থেকে যদি কেউ ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে যেত চায়, তাহলে অনেকদিন আগে এপ্লাই করতে হয়। তাও ৯০% ক্ষেত্রে অনুমতি পাওয়া যায় না। জিজ্ঞাবাদে ইজরায়েল সন্তুষ্ট হলেই কেবল অনুমতি দেয়।
বেশীরভাগ গাযাবাসী কখনো আল আকসা মসজিদ চোখে দেখেনি। কারণ আল আকসা পশ্চিমতীরে।
পিএলও আর হামাস হচ্ছে ফিলিস্তিনের দুটি রাজনৈতিক দল। হামাস সংখ্যাগরিষ্ঠ গাযাতে আর পিএলও পশ্চিম তীরে।
তবে ২০০৬ সালে পুরো ফিলিস্তিনের নির্বাচনে হামাস পিএলওর উপরে জয়লাভ করে ফিলিস্তিনের ক্ষমতায় আসে। ইসমাইল হানিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়। মাহমুদ আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা দখল করে নেয়।
অনেকটা পাকিস্তানের নির্বাচনের মত। শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচিত হয়েও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেননি। ইসমাইল হানিয়ার ক্ষেত্রেও তাই ঘটে।
এরপর থেকে ইসমাইল হানিয়া তার এলাকা গাযাতেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকেন।
বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়ে যাওয়ার মত। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ফিলিস্তিন নিজেই তো স্বাধীন নয়।
মাহমুদ আব্বাসের পিএলও ইজরায়েলী সকল শর্ত মেনে ফিলিস্তিন তথা পশ্চিমতীরকে ডিমিলিটাইরাইজড করলেও গাযার হামাস সেটা মেনে নেয়নি।
পশ্চিম তীরে ইজরায়েলী শর্ত অনুযায়ী কোনো সেনাবাহিনী নেই। সিকিউরিটি ফোর্স আছে, যাদের নামে মাত্র একটা পুলিশ ফোর্স আছে। যেটা আছে তাদেরও শর্ত হচ্ছে ইজরায়েলী পুলিশকে সাহায্য করতে হবে। তাদের কোনো ভারী অস্ত্র নেই। হাল্কা অস্ত্র যা আছে, সেটাও ইজরায়েলের দেয়া। ওদের গাড়ীও ইজরায়েলের দেয়া। যা ইজরাইল সবসময় ট্র্যাক করে।
কোনো ফিলিস্তিনীকে জোর করে বেআইনিভাবে ধরে নিয়ে গেলেও ফিলিস্তিনী সিকিউরিটি ফোর্স কিছু করতে পারেনা।
এজন্য পশ্চিম তীরের যেকোনো বাড়ীতে ইজরায়েলী পুলিশ চাইলে যেকোনো সময় তল্লাশী চালাতে পারে। আমরা যে পাথর ছুড়ার দৃশ্য দেখি, এগুলা বেশীরভাগই পশ্চিম তীরের। কারণ তাদের অস্ত্র রাখার অনুমতি নেই।
ইচ্ছে হলেই যে ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দখল করে নেয়, সেটাও পশ্চিমতীরে। কারণ পশ্চিমতীর ইজরায়েলী অকিউপ্যাশনে। এখানকার বাসিন্দারা মোটামুটি চলাচলের স্বাধীনতা পেলেও ঘরবাড়ী কখন বেদখল হয়ে যাবে বলতে পারে না। এতে ফাতাহ বা পিএলও কিছু করতে পারেনা।
অন্যদিকে হামাস শাসিত গাযা উপত্যকা ইজরায়েলের কোনো শর্ত মানেনা। তাদের মিলিটারী আছে। তাদের অঞ্চলে ইজরায়েলী পুলিশ ঢুকতে পারেনা। তারা নিজেরাই সেখানকার নিরাপত্তা দেয়। তাদের আর্টিলারি ইউনিট আছে। তাদের কাছে ভারী অস্ত্র আছে। যার বেশীরভাগ তারা নিজেরাই তৈরী করে।
এখানে ইজরায়েলী সেটেলাররা তো দূরের কথা, ইজরায়েলী পুলিশ, ইজরায়েলী আর্মীও ঢুকতে পারেনা।
ইজরায়েলের শর্ত মেনে না নেয়ায় গাযা উপত্যকাকে ইজরায়েল চারিদিক থেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গাযার দুইদিকে ইজরায়েল, একদিকে মিশর আরেকদিকে সমুদ্র। তাদের উপর ইজরায়েল ল্যান্ড, এয়ার এন্ড সী ব্লক দিয়ে রেখেছে। গাযা উপত্যকাকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জেলখানা।
মিশর সীমান্তে আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি দেয়াল তুলে দিয়েছে। ফিলিস্তিনীদের চলাচলের জন্য মাটির নীচে সুড়ঙ্গ ছিল, সেগুলো সে বন্ধ করে দিয়েছে।
মুহাম্মদ মুরসী ক্ষমতায় আসার পর যখন মিশর সীমান্ত ফিলিস্তিনীদের জন্য খুলে দেয়, তখন ইজরায়েল মুরসীকে সবচেয়ে বড় থ্রেট হিসেবে নেয়। ইজরায়েল, সৌদি ও আমিরাত জোট মুরসীকে হটিয়ে সিসিকে ক্ষমতায় আনে।
সে সময়ে সিসিকে সবার আগে অভিনন্দন জানায় সৌদি আরব। যদিও ইজরায়েলের উদ্দেশ্য আর তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন, লক্ষ্য ছিল একই। কপাল পুড়ে ফিলিস্তিনীদের। এরপর থেকেই ফিলিস্তীনের জন্য সেই সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায়। সুড়ঙ্গ পথ ব্যবহারের জন্য মিশর সীমান্তে যে ঘরবাড়ি গুলো ছিল, বুলডোজার দিয়ে সেসব বাড়ীও ভেঙে দেয় মিশর।
হামাস শাসিত গাযায় শিক্ষার হার ৯৯%। ইজরায়েলী হামলায় ঘরবাড়ি ভেঙে গেলে সবার আগে তারা স্কুল গুলোকে ঠিক করে। তাদের একটা আন্তর্জাতিক মানের ইউনিভার্সিটি আছে।
গাযায় একটা বিমানবন্দর ছিল, গাযা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট নামে, যা ইজরায়েল ধ্বংস করে দেয়।
পুরো ফিলিস্তিনে আর কোনো এয়ারপোর্ট নেই।
ফিলিস্তিনী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সাথে ইজরায়েলের ফুল স্কেলে দুইবার যুদ্ধ হয়। এতে ইজরায়েলী আর্মীর ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। ২০১৪ সালের যুদ্ধে ইজরায়েলী সেনাদের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলে ইজরায়েল পিছু হটে। জুলাইয়ের ৮ তারিখ থেকে আগস্টের ২৬ তারিখ পর্যন্ত স্থায়ী এই যুদ্ধে প্রায় ১শ ইজরায়েলী সেনা নিহত হয়, অপরদিকে দুই হাজার ফিলিস্তিনী শহীদ হয়। কিন্তু ইজরায়েলের জন্য এটাও ছিল বিশাল ধাক্কা।
গাযা উপত্যকায় খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় অষুধ সহ চোরাই পথে আনতে হয়। ইরান চোরাইপথে অস্ত্র আর কাতার টাকা দেয়। এর বাইরে তুরস্ক সমুদ্র সীমা আর ইজরায়েলী সীমা ব্যবহার করে জাহাজভর্তি খাবার, অষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গাযায় পৌঁছে দেয়। একবার তুরস্কের একটা জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল ইজরায়েল।
সৌদি আরব সহ অন্যান্য আরবদেশ গুলো তাদের দানের একটা বড় অংশ ফিলিস্তিনে পাঠায়। তবে সেটা গাযায় নয় বরং পশ্চিমতীরে যায়।
ইজরায়েল হামাসকে বার বার বলছে- তোমরা যদি আমাদের শর্ত মেনে নাও, সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করো, অস্ত্র সমর্পণ করো, নিরস্ত্র হও তাহলে তোমাদের অবরোধ আমরা তুলে নেব। তোমরা যেখানে চাও যেতে পারবে। আমাদের এখানে চাকরী করতে পারবে। যা কিনতে চাও, তা কিনতে পারবে।
মাহমুদ আব্বাসের পিএলও পশ্চিমতীরে এই শর্ত মেনে নিলেও ইসমাইল হানিয়া আর খালিদ মিশালের গাযা উপত্যকার হামাস সেটা মেনে নেয়নি। যার কারণে তারা অবরুদ্ধ।
এই কারণে পশ্চিমতীরের ফিলিস্তিনীরা ইজরায়েলের দিকে ঢিল আর পাথর ছুঁড়লেও গাযা উপত্যকার ফিলিস্তিনীরা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করে, ইজরায়েলের দিকে মিসাইল ছুঁড়ে।
যদিও ইজরায়েলী অত্যাধুনিক ডিফেন্স সিস্টেম আইরন ডোম ফিলিস্তিনীদের এই মিসাইল আকাশে থাকতেই ধ্বংস করে। তবে এইবার ইজরায়েলের আইরন ডোম হামাসের মিসাইল গুলো সব আটকে দিতে সক্ষম হয়নি।
অনেক গুলো মিসাইল ইজরায়েলের নানা শহরের রাস্তা এবং ভবনে আঘাত হেনেছে। এতে ইজরায়েল সহ তার মিত্ররা বেশ অবাক হয়েছে।
যদিও এ ব্যাপারে ইসমাইল হানিয়ে গত বছর বলেছিলেন।
আইরন ডোম কতটা আঘাত ঠেকাতে সক্ষম সেটা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। কারণ হামাসের মিসাইল গুলো কোনো অত্যাধুনিক মিসাইল নয়। এগুলো তারা পাইপ এবং অন্যান্য পরিত্যক্ত জিনিসপত্র থেকে বানায়।
এই হ্যান্ডমেইড রকেট গুলো আঘাত হানার পর আইরন ডোম কতটা সেফ সেটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
প্রায় চার বিলিয়ন ডলার বার্ষিক সামরিক সহায়তা, বিলিয়ন ডলারের শিক্ষা এবং রিসার্চের ইনভেস্টমেন্ট, প্রায় ভিসা ফ্রী ট্রাভেল, নামী ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ, আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপের একনিষ্ঠ সাপোর্ট এত কিছু পাওয়া ইজরায়েলের সাথে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের তুলনা করার সময় আপনারা যারা "ইজরায়েল জ্ঞান বিজ্ঞানে কত এগিয়েছে অথচ ফিলিস্তিন জ্ঞান বিজ্ঞানে আগায় নাই কেন?" বলেন, আপনাদের লজ্জা করে না?
লিখেছেন: তাহমিদুল ইসলাম।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Chuadanga
Dhaka
CHUADANGA.KHULNA