17/02/2026
রমজান মাস গুনাহ মাফের মাস,এই মাসের এবাদত আল্লাহ্ তা'আলার বেশি পছন্দনীয়।
✅ প্রধান আমলগুলো (পুরো রমজান জুড়ে):
১. বেশি বেশি ইস্তেগফার
সারাদিন, ইফতার-সেহরি, নামাজের পর "আসতাগফিরুল্লাহ" জারি রাখুন। হাদিসে আছে—ইস্তেগফার দুশ্চিন্তা দূর করে, রিজিক বাড়ায় এবং বন্ধ দরজা খোলে। গুনাহ মাফ হলে দোয়া কবুলের পথ সহজ হয়।
২. সূরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াত (চোখের শীতলতার দোয়া)
প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর গভীর মনোযোগ সহকারে পড়ুন:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ'ইউনিঁ ওয়াজআলনা লিলমুত্তাকীনা ইমামা।
অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী-সন্তানদের মধ্য থেকে চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্য ইমাম বানিয়ে দিন।
এ দোয়া নেক জীবনসঙ্গী ও পরিবারের শান্তির জন্য সরাসরি কুরআনি দোয়া।
৩. হজরত মুসা (আ.)-এর দোয়া (সূরা কাসাস ২৪) সেজদায় বা যেকোনো সময় বেশি পড়ুন:
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রব্বি ইন্নী লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর।
অর্থ: হে আমার রব! তুমি আমার প্রতি যে কোনো কল্যাণ নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী।
এ দোয়া বিয়ে, চাকরি, রিজিক—সব খায়রের জন্য অসাধারণ।
৪. দোয়া কবুলের সময়গুলোতে দোয়া।
তাহাজ্জুদ (শেষ রাতে উঠে), সেজদায়, ইফতারের মুহূর্তে, তারাবীহর পর—এসব সময় নিজের চাহিদা বলুন:
"ইয়া আল্লাহ! আমাকে নেক জীবনসঙ্গী দান করুন, হালাল চাকরি দান করুন, মনের শান্তি দান করুন।
৫. সদকা ও অন্যের জন্য দোয়া।
প্রতিদিন অল্প হলেও সদকা দিন—সদকা বিপদ দূর করে। যারা বিয়ে-চাকরির অপেক্ষায়, তাদের জন্য দোয়া করুন; ফেরেশতারা আপনার জন্য দোয়া করবেন।
৬. নিয়মিত নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও রুকইয়াহ।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ (জামাতে পড়বেন পুরুষ হলে) তারাবীহ ছাড়বেন না। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করুন। সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক-নাস, আয়াতুল কুরসি সহ বেশি বেশি দূরূদ শরীফ নিয়মিত পড়ে নিজেকে হেফাজত করুন।
রমজান হলো পরিবর্তনের মাস—আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে নেক জীবনসঙ্গী, হালাল রিজিক ও মনের শান্তি দান করেন। এবং রমজানের সকল রহমত দান করেন.. আমীন।