02/01/2026
যখন কাউকে বলা হয় আপনার সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করুন— পরের দিনই সে বলে বসে, “আমি এখনো হতাশ, আমার মনে এখনো সন্দেহ।” যখন একজন ডাক্তার কোনো ঔষধ দেয়, ধরা যাক মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, তখন ডাক্তার এ কথা বলে দেয় যে, ঔষধটা তিন-চার সপ্তাহ ধরে সেবন করুন, এরপর আপনি এর ফলাফল পাবেন এবং ঔষধ নেওয়া বন্ধ করবেন না। ঠিক একই বিষয়টা কুরআনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কুরআন থেকে ফল পেতে হলে, কুরআনের সাথে আমাদের গভীর সম্পর্ক থাকতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন নিরবিচ্ছিন্নভাবে অধ্যবসায়ের সাথে তিলাওয়াত করে যাওয়া।
— শায়খ আহমাদ মুসা জিবরীল (হাফি.)
27/12/2025
ইবলিস তার রবকে বলছে! আপনার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম! আমি বনি আদমকে ভ্রষ্ট করতেই থাকব যতক্ষণ তাদের মধ্যে রুহ থাকে!!
আল্লাহ বলেন! আমার ইজ্জত ও বড়ত্বের কসম! আমি তাদের ক্ষমা করতে থাকব যতক্ষণ তারা আমার নিকট ইস্তেগফার করতে থাকবে!!
[ সহীহ হাদিসে কুদসি - ৩২ ]
02/12/2025
আমি সব পারি ; কিন্তু কুরআন পড়তে জানি না৷
বুঝতে হবে আমার ঈমানে ঘাটতি আছে। মুমিন তার তেলওয়াত সহিহ করবেই। বে-দ্বীন তা নিয়ে ভাববে না।
~আদিব সালেহ।
#কুরআন
30/11/2025
"যদি তুমি ঘুমাতে ভালোবাসো, তাহলে তাহাজ্জুদের জন্য জেগে ওঠো; যদি তুমি টাকা ভালোবাসো, তাহলে আরও বেশি দান-খয়রাত করতে শুরু করো; যদি তুমি গান শুনতে ভালোবাসো, তাহলে কুরআন শুনতে শুরু করো। যদি তুমি খাবার ভালোবাসো, তাহলে রোজা রাখতে শুরু করো; কারণ দুনিয়ার প্রতি তোমার ভালোবাসা আল্লাহর প্রতি তোমার ভালোবাসার চেয়ে বেশি হওয়া উচিত নয়।"
Ummul Qura Online Madrasa
05/11/2025
তুমি যত বেশি আল্লাহর কাছে দু'আ করবে, ততই তুমি তাঁর নিকটবর্তী হবে এবং তুমি তত বেশি তাঁর প্রিয় হয়ে উঠবে। আর তুমি যত বেশি দু'আ করতে অবিচল থাকবে, তিনি তোমাকে তত বেশি ভালোবাসবেন।"
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহি.)
17/10/2025
নামাযে খুশু-খুযু: 'দাঁড়িয়ে আল্লাহর সাথে কথা বলা' - যে গোপন মন্ত্রে সফলকাম হন মুমিনরা!
নামাজ... কেবল কয়েকটি শারীরিক ক্রিয়া নয়। এটি হলো বান্দার জন্য তার মালিক, প্রতিপালক ও সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাথে একান্ত আলাপের সর্বোচ্চ মাধ্যম। যখন আপনি তাকবীরে তাহরীমা বেঁধে হাত বাঁধেন, তখন যেন দুনিয়ার সব কোলাহল আপনার মন থেকে দূরে সরে যায়। কিন্তু যদি এই ইবাদতে মন না বসে, তবে কেমন যেন সবকিছু অর্থহীন মনে হয়।
ইসলামে এই গভীর মনোনিবেশ এবং বিনীত অবস্থাকে বলা হয় 'খুশু' (ভীতিপূর্ণ বিনয়) ও 'খুযু' (শারীরিক স্থিরতা)। এটিই নামাজের প্রাণ। খুশু-খুযুবিহীন নামাজ একটি প্রাণহীন কাঠামোর মতো। আসুন, আমরা কুরআন ও হাদিসের প্রামাণিক রেফারেন্স, এর অসাধারণ ফলাফল এবং তা অর্জনের কার্যকরী উপায়গুলো, বিশেষত তাসবিহগুলো কীভাবে পড়লে এই সংযোগ দৃঢ় হবে, তা জেনে নিই।
১. কুরআন ও হাদিসের দৃষ্টিতে খুশু-খুযু
খুশু-খুযু নামাজকে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে এবং মুমিনকে সফলতা এনে দেয়।
মহান আল্লাহ বলেন:"অবশ্যই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ। যারা তাদের নামাযে বিনয়ী (খুশু’র অধিকারী)।"[সূরা আল-মুমিনুন, ২৩: ১-২]
আল্লাহর সামনে বিনীত হয়ে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি আরও বলেন:
"তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর, তবে সালাতে একাগ্রতা বঞ্চিতদের জন্য তা খুব কঠিন।"[সূরা আল-বাকারা, ২:৪৫]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুশু-খুজুর ফজিলত সম্পর্কে বলেন:"যে ব্যক্তি নামাজের সময় হলে সুন্দরভাবে অজু করে এবং একাগ্রতার সঙ্গে সুন্দরভাবে রুকু-সিজদা করে নামাজ আদায় করে, তার এ নামাজ আগের সব গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়; যতক্ষণ পর্যন্ত না সে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। আর এই সুযোগ তার সারা জীবনের জন্য।"[সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২২৮]
২. খুশু-খুজুর ফলাফল ও আলিম-উলামাদের দৃষ্টান্ত
খুশু-খুযু শুধু নামাজকে প্রাণবন্ত করে না, বরং মুমিনের জীবনে এনে দেয় এক অসাধারণ স্থিরতা ও প্রশান্তি।
খুশু-খুজুর ফলাফল:
গুনাহ মাফ: খুশু-খুজুর সাথে আদায়কৃত নামাজ অতীতের সগীরা গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।
জান্নাতের নিশ্চয়তা: একনিষ্ঠভাবে নামাজ আদায়কারীকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
নামাজ সহজ হওয়া: খুশু-খুযু থাকলে নামাজ আদায় করা সহজ হয়ে যায়।
শান্তি ও স্থিরতা লাভ: অন্তর আল্লাহর ভীতি ও ভালোবাসায় ভরে যায়, ফলে জীবনে স্থিরতা আসে।
সালাফে সালেহীনের (পূর্ববর্তী নেককারগণ) দৃষ্টান্ত:
সালাফে সালেহীন খুশু-খুজুর এত বেশি গুরুত্ব দিতেন যে, তাদের নামাজ দেখলে মনে হতো তারা যেন অন্য কোনো জগতে আছেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তাকে দেখে মনে হত যেন একটি পড়ে থাকা কাপড়।[মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস: ৩৩০৩]
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন মনে হত একটি কাঠ মাটিতে গেড়ে দেওয়া হয়েছে।[মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস: ৭৩২২]
৩. নামাযে খুশু-খুযু ঠিক রাখার কার্যকরী উপায়
খুশু-খুযু অর্জনের মূল উপায় হলো— ১. মনোযোগ ও একাগ্রতা রক্ষা করা এবং ২. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা। এর জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবলম্বন করা যেতে পারে:
ক. ধীরস্থিরভাবে তাসবিহ পাঠ ও অর্থ অনুধাবন:
খুশু-খুযু আনার অন্যতম সেরা উপায় হলো নামাজের প্রতিটি তাসবিহ ও রুকন ধীরস্থিরভাবে আদায় করা এবং সেগুলোর অর্থ নিয়ে চিন্তা করা:
রুকুতে: সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম (আমার মহান রব পবিত্র) - রুকুতে গিয়ে মনে করুন, আপনি আপনার রবের মহত্ত্বের সামনে ঝুঁকে পড়েছেন এবং বারবার তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছেন। |
সিজদায় - সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা (আমার সুউচ্চ রব পবিত্র)- শরীরের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ (মাথা) তাঁর পায়ের নিচে রেখে সর্বোচ্চ বিনীত অবস্থায় নিজের ক্ষুদ্রতা স্বীকার করুন এবং আল্লাহর সুউচ্চ মর্তবার কথা ভাবুন।
রুকু- থেকে ওঠার পর - রাব্বানা লাকাল হামদ (হে আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা) -গভীরভাবে অনুভব করুন যে, আপনি আল্লাহর আদেশ পালন করে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। |
(সুন্নত ,ওয়াজিব এবং নফল নামাজে রুকু সেজদা তসবি গুলো একুশ বারের উপরে পড়ে দেখুন খুশু খুজু আসবেই এটা আমার পরীক্ষিত)
দুই সিজদার মাঝে -আল্লাহুম্মাগফিরলী (হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন) - আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ চাওয়ার সুযোগ নিন। ধীরস্থিরভাবে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করুন।
সূরা ফাতিহা পাঠ -নিজেকে বলুন: আমি এখন আল্লাহর সাথে কথা বলছি। প্রতিটি আয়াতে আল্লাহর উত্তর শোনার মতো মনোযোগ দিন। |
অন্যান্য উপায়সমূহ:
১. শেষ নামাজ মনে করা: এই মনোভাব নিয়ে নামাজ আদায় করা যে, এটিই আপনার জীবনের শেষ নামাজ।
২. আল্লাহকে হাজির জানা: 'ইহসানের' অনুভূতি নিয়ে নামাজ আদায় করা – হয় আমি আল্লাহকে দেখছি, না হয় আল্লাহ তো অবশ্যই আমাকে দেখছেন।
৩. অনর্থক নড়াচড়া পরিহার: নামাযে এদিক সেদিক তাকানো বা শরীর চুলকানো, কাপড় ঠিক করা থেকে বিরত থাকা। নামাজে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা খুশুর অন্তর্ভুক্ত।
৪. নামাজের পূর্ব প্রস্তুতি: নামাজের আগে দুনিয়াবি কাজ শেষ করে মনকে শান্ত করে অজু করা। অজু সুন্দরভাবে এবং ধীরস্থিরতার সাথে সম্পন্ন করা।
৫. সুতরা ব্যবহার: সুযোগ থাকলে সামনে সুতরা (আড়াল) ব্যবহার করা, যা দৃষ্টিকে সীমাবদ্ধ রাখে এবং বাইরের মনোযোগ বিঘ্নিত হতে দেয় না।
খুশু-খুযু নামাজের প্রাণ এবং মুমিনের সফলতার অন্যতম ভিত্তি। আসুন, আমরা সকলে সচেতনভাবে নামাজের সময় নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও মনকে আল্লাহর দিকে সম্পূর্ণভাবে নিবদ্ধ করি, তাঁর জিকির ও তাসবিহগুলোর অর্থ অনুধাবন করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে খুশু-খুজুওয়ালা নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন। (আমিন)
#নামাজ #খুশু_খুজু #সালাত #একাগ্রতা #ইসলামিক_পোস্ট
27/09/2025
জ্ঞানী ব্যক্তির ব্যক্তির মর্যাদা আল্লাহর কাছে কেন এত বেশি জানেন কি?
কারণ জ্ঞানী ব্যক্তি প্রকৃত পক্ষেই তার সীমানা জানে, সে নিজের দুর্বলতা এবং অক্ষমতা বোঝে। সাথে এও যে, সে আল্লাহর দাস এবং তাঁর দয়ার মুখাপেক্ষী। এবং মালিক আল্লাহই এমন একক সত্তা যিনি মহাপরাক্রমশীল ও আমুখাপেক্ষী।
ইমাম গাজ্জালী (রহ.) এ বিষয়ে তার গ্রন্থে একটি চমৎকার উক্তি করেন-
আপন রবকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে ঐ ব্যক্তি, যে নিজের সম্পর্কে এবং আপন রবের সম্পর্কে বেশি জানে। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: 'আমিই তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় করি' একইভাবে আল্লাহ তায়ালা বলেন: 'আমার বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।'
ইয়াহইয়াউ উলুমমুদ্দিন: ৪/১৬৪ ||
অতএব যদি আল্লাহর প্রিয় হতে চান, জ্ঞান অর্জনে
মনোনিবেশ করুন!
09/09/2025
আল্লাহর পথে ফিরে আসার জন্যে আপনি যতবার চেষ্টা করেন, প্রতিবারই সেটি ইবাদত।
পথচলা যদি ধীর হয়, তবুও থেমে যাবেন না।
আপনি হয়তো খুব গুছিয়ে নামাজ পড়তে পারেন না। আপনি হয়তো মনোযোগ দিয়ে দোয়া করতে পারেন না। হয়তো আপনি কষ্টে আছেন, অশান্তি মনে—তবুও, আপনি যখন আর না পারতে বলে ওঠেন, “হে আল্লাহ আমি তো আর পারছিনা, তবে আপনার জন্য আমি হাল ছাড়বো না!" এটুকু ডাকও ইবাদত।
আপনার চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকা, ভুলের পর আফসোস করে মনে মনে ফিরে আসার ইচ্ছা—সবকিছু আল্লাহ দেখছেন।
আল্লাহ যেই দরজা তাঁর বান্দাদের জন্য খুলে রেখেছেন, সেটা তো আপনি বন্ধ করতে পারবেন না।
আপনি একজন চেষ্টা-করতে-থাকা মুসলিম।
এটাই আপনার পরিচয়, এটাই আপনার সৌন্দর্য।
এর মাঝেই বেঁচে থাকার সবটুকু আশা এবং ভরসা খুঁজে পাওয়া যায় ...
©
21/08/2025
এক বুড়ি মা মসজিদের সামনে বসে ভিক্ষা করতো। এক ব্যাক্তি বুড়িকে জিজ্ঞেস করল, আপনার কি উপার্জন করার মত কোনো ছেলে নেই?
বুড়ি: এক ছেলে আছে।
ব্যাক্তি: তাহলে আপনি ভিক্ষা করছেন কী জন্যে?
বুড়ি: আমার স্বামী ইন্তেকাল করেছেন। ছেলে চাকরির জন্য বিদেশে গেছে। যাওয়ার সময় আমাকে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে গেছিল, তা এখন শেষ হয়ে গেছে। এজন্য আমি ভিক্ষা করছি।
ব্যাক্তি: আপনার ছেলে আপনার জন্য বিদেশ থেকে কিছু পাঠায় না?
বুড়ি: পাঠায় তো। প্রতিমাসে রঙ্গিন রঙ্গিন কাগজ পাঠায়। তা আমি যত্নে ঘরের দেয়ালে আটকিয়ে রাখি।
ওই ব্যাক্তি বুড়ির সাথে তার বাড়ি গেল। দেখল দেয়ালে ৬০টি ব্যাংক ড্রাফ্ট আটকানো। প্রতিটি ৫০হাজার টাকার ড্রাফ্ট। পড়তে না জানার কারণে বুড়ি জানতো না, তার কাছে কী পরিমাণ টাকা জমা হয়ে আছে। ওই ব্যাক্তি বুড়িকে ড্রাফ্ট সম্পর্কে জানালো, আরো জানালো এখন কী পরিমাণ টাকা তার জমা আছে।
বুড়ি অত্যন্ত খুশি হলো এবং সাথে সাথে আশ্চর্য হলো যে, এ পরিমাণ টাকা থাকার পরও সে মানুষের কাছে ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছিল!
★★
আমাদের অবস্থাও ঠিক বুড়ির মত! আমার কাছে কুরআনের মত সম্পদ আছে, আমরা সেটা চুমু খাই, মাথায় রাখি, বাড়িতে শোকেসে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখি। কিন্তু কুরআন থেকে আমরা উপকৃত হতে পারি না।
আমরা কুরআন থেকে তখনই উপকৃত হতে পারব যদি কুরআনের গুরুত্ব অনুধাবন করে আমরা কুরআন তিলাওয়াত করি, তার অর্থ শিখার চেষ্টা করি এবং তার উপর আমল করি।
বরং যদি কুরআনকে জীবনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে ইহকাল ও পরকালে সফলকাম হতে পারব।
©
20/08/2025
– এক লোক প্রচুর কুরআন পড়ত। কুরআন নিয়েই ডুবে থাকতে ভালবাসত। কিন্তু কেন যেন কুরআনের কিছুই সে মুখস্থ রাখতে পারত না। একদিন লোকটির ছোট ছেলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলল, 'বাবা, আপনি যে এত কুরআন পড়েন, কিছুই তো মনে রাখতে পারেন না।
এতে কী লাভ হচ্ছে ??
— তোমার এই প্রশ্নের উত্তরটা দিবো। তার আগে এক কাজ করো, তুমি এই বেতের ঝুড়িটা সমুদ্র তীরে নিয়ে যাও এবং পানি ভরে নিয়ে আসো।
— এটা তো বেতের তৈরি, পানি কীভাবে ধরবে?
— আহা, চেষ্টা করে দেখো না!
সাধারণত কয়লা আনা-নেওয়ার কাজে তারা এই ঝুড়ি ব্যবহার করে। তবুও বাবার কথায় ছেলেটি ঝুড়ি নিয়ে তীরে গেল এবং পানি ভরল। কিন্তু বাড়ি ফিরে আসতে আসতে সব পানি পথেই শেষ। পড়তে পড়তে একদম খালি হয়ে গেছে।
'দেখলেন ? কোনো লাভ হলো ?
পানি একটুও বাঁচেনি।' ছেলে আফসোস নিয়ে বলল।
লোকটি আশ্বাস দিলো, 'চেষ্টা চালিয়ে যাও সোনা। আরও কয়েকবার চেষ্টা করো।'
এভাবে দুইবার, তিনবার, চারবার, সবশেষে পাঁচবার পর্যন্ত চেষ্টা করল ছেলেটি। কিন্তু এক মুঠো পানিও আনতে পারল না। অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে বাবাকে বলল, 'এই ঝুড়ি দিয়ে আমার পক্ষে পানি আনা অসম্ভব।'
এবার লোকটি শান্ত গলায় বলল, 'আচ্ছা, তবে তুমি কি ঝুড়িটার ভিতরের দিকে খেয়াল করেছ?
ভিতরের অবস্থার কোনো পরিবর্তন দেখেছ?'
— হ্যাঁ, এটা পানি ধরে রাখতে না পারলেও বার বার পানি ভরার কারণে কয়লার ময়লাগুলো সাফ হয়ে গেছে। ভিতরটা বেশ পরিষ্কার দেখাচ্ছে এখন।
— ঠিক ধরেছ। এবার বলি, কুরআনও ঠিক এই কাজটাই করে তোমার অন্তরের ভিতরে। দুনিয়ার পেছনে ছুটতে ছুটতে তোমার অন্তর যখন কলুষিত হয়ে পড়ে, তখন কুরআন সমুদ্রের পানির মতোই তোমাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেয়। অন্তরে মুখস্থ রাখতে না পারলেও সে তোমাকে পবিত্র করে দেয়। (আলহামদুলিল্লাহ)
বাবারে, একটা কথা মনে রেখো, কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াত হলো 'পড়ো'।
কাজেই মুখস্থ করতে না পারার কারণে শয়তান যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে, কুরআন পড়া থেকে দূরে সরিয়ে দিতে না পারে।
20/08/2025
হাদীসের ছাত্রের বিস্ময়কর কাহিনী:
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••
একদিন দারুল উলূম দেওবন্দে দাওরায়ে হাদীসের এক ছাত্র ইন্তেকাল করলেন।
তিনি মূলত আফগানিস্তানের বাসিন্দা ছিলেন। অনেক দূর হওয়ায় জানাযা পড়ে তাকে দেওবন্দেই কবরস্থ করা হলো। পত্রের মাধ্যমে খবর পাঠানো হলো তার পরিবারকে। কিন্তু দূরত্ব এত বেশি ছিল যে খবর পৌঁছাতে ছয় মাস লেগে গেলো।
দাফন করার ছয় মাস পর পরিবার এসে বলল,
“আমরা প্রিয় আমাদের সন্তানকে আমাদের দেশে আফগানিস্তানে নিয়ে যেতে চাই।”
তৎকালীন প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা ক্বারী মুহাম্মদ তৈয়্যব সাহেব রহ. তাদেরকে অনেক বুঝালেন, কিন্তু তারা কিছুতেই রাজি হলো না। পরে হযরত বাধ্য হয়ে আফগানিস্তানের অধিবাসী উস্তায হযরত আল্লামা শামসুল হক আফগানীর কাছে তাদেরকে পাঠালেন। তিনি-ও তাদেরকে অনেক বুঝালেন। কিন্তু তারা বলল—
“আমরা হয়তো আমাদের সন্তানের লাশ নিয়ে যাবো, নয়তো আমাদের পুরো পরিবারকে এখানে চলে আসতে হবে।”
শেষমেশ কবর খোঁড়া হলো…
হায়! আল্লাহর কী রহস্য! ছয় মাস পরও সেই হাদীসের ছাত্র তার কাফনে অক্ষত শুয়ে আছেন, দেহ অটুট, আর চারপাশ সুগন্ধে ভরে গেছে!
অশ্রুসিক্ত চোখে তাকে কাঠের বাক্সে রাখা হলো। সাথে পাঠানো হলো দেওবন্দের আরেকজন ছাত্রকে তার সম্মানার্থে। যাত্রাপথে যখন ট্রেন পেশাওয়ারে পৌঁছালো, পুলিশ হঠাৎ বাক্স খুললো। তারা ভেবেছিল—“এটা কোনো মেশক আম্বর (কস্তুরী), যা অবৈধভাবে পাচার হচ্ছে।”
কিন্তু বাক্স খুলতেই দেখা গেলো—
হাদীসের সেই ছাত্র, যার দেহ থেকে অনবরত সুগন্ধ ছড়াচ্ছে।
মানুষ অবাক! উপস্থিত সবাই কান্নায় ভেঙে পড়লো!
দৃশ্যের আরেক দিকও ছিলো সেই দিন…
এক নবাবের ছেলে, যে ইংল্যান্ডে গিয়েছিল পাশ্চাত্য শিক্ষা নিতে, সেখানেই সে মারা গিয়েছিল। তার লাশ তিন দিন পর দেশে ফিরলো। কিন্তু কী ভয়ঙ্কর অবস্থা! পচন আর দুর্গন্ধে আত্মীয়স্বজন কেউ তার চারপাশে দাঁড়াতেই পারছিল না। লাশ বহনের জন্য ভাড়া করতে হয়েছিল শ্রমিকদের।
হায়! কী ভিন্নতা…
একজন হাদীসের সৌভাগ্যবান ছাত্র—মৃত্যুর ছয় মাস পরও তার দেহ অক্ষত, সুগন্ধ ছড়াচ্ছে।
আরেকজন দুনিয়ার চাকচিক্যে মগ্ন ছাত্র—মাত্র তিন দিনেই দুর্গন্ধে ডুবে গেলো!
হযরত আল্লামা আফগানী রহ. এ ঘটনা শুনিয়ে বলতেন:
“হে মানুষ! শিক্ষা নাও! আল্লাহর দীন ও হাদীসের সেবার মর্যাদা কেমন, আর দুনিয়ার নেশায় ডুবে যাওয়ার পরিণাম কেমন!”
📖 (হাওয়ালা: খুতবাতে আফগানী, পৃষ্ঠা ৪৩২)