12/05/2020
👉 নিচের কথাগুলো সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। 🇧🇩
অনেকেই ইনবক্স করে আমাকে কানাডায় সেল্ফ ফান্ডিংএ কম খরচে কিভাবে পড়তে আসা যায় তার জন্য ইনফরমেশন চাচ্ছেন। তাদের জন্য আমার পুরোনো একটি নোট শেয়ার করলাম। আশা করছি সবার কাজে লাগবে।
“আমার অধিকাংশ ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীরা সেল্ফ ফান্ডিংএ পড়াশুনা করতে এসেছে। তাদের ক্যালকুলেশন খুব পরিষ্কার, দেশের জমি-জিরাত বিক্রি করে দিয়ে সেই টাকা দিয়ে ক্যানাডা বা আমেরিকায় পড়বে। ২ বছরের কোর্স বেইজড মাস্টারর্স বা ডিপ্লোমা পড়া শেষে দ্রুত চাকুরীতে ঢুকে দ্রুত রেসিডেন্ট হয়ে যায়। ক্যানাডায় ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টের সব মিলিয়ে আড়াই থেকে তিন বছর লাগে রেসিডেন্ট হতে। প্রক্ষান্তরে, আমাদের দেশের গ্র্যাজুয়েটদের বেহাল দশা। তারা প্রথমত ফান্ডিংএর আশায় চাতক পাখির মতন চেয়ে থেকে সময় অপচয় করে। তারপর আবার ভার্সিটির রেংকিং নামের অদ্ভুত এক কনসেপ্টের পেছনে ছোটে যা কিনা খোদ কানাডা বা আমেরিকাতেই কেউ ধার ধারে না। বিদেশে যাওয়া যদি মূখ্য উদ্দ্যেশ্য হয়, তখন সময় নষ্ট করে কি লাভ? ক্যানাডায় এভারেজ বাৎসরিক স্যালারি ৬০,০০০ ক্যাড বা প্রায় ৪০ লাখ টাকা। ফান্ডিং না পেলে দেশের জমি-জমা বিক্রি করে মাস্টার্স বা পোস্টগ্র্যাড ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে দেশের বাহিরে চলে আসা আর এসেই পার্ট-টাইম জবে ঢুকে কাজ করে ডিগ্রী নিয়ে রেসিডেন্সি নিশ্চিত করা বুদ্ধিমানের মতন কাজ বলে মনে করি। তিন বছর অনেক কষ্ট হবে, কিন্তু পাশ করার পর চাকুরী পেলে ২ বছরের মাঝেই ওই খরচের সব টাকা উঠে আসে। নিচে একটা সিম্পল হিসেব দেইঃ
[যেমনঃ আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়র শিক্ষক - কেইপ ব্রেটন ইউনিভার্সিটিতে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টে পোস্টগ্র্যাড ডিপ্লোমার টিউশন ফি প্রতি তিন ক্রেডিটে সব মিলে প্রায় ১৮৫০ ডলারের মতন। তার মানে দু বছরে সর্বমোট ৪২ ক্রেডিটের জন্য একাডেমিক খরচ বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১৬ লাখের মতন।
পাশ করার পর জব পেলে ক্যানাডায় ট্যাক্স কেটে নেয়ার পর সর্বনিম্ন হিসেবে কেউ যদি ৩৫,০০০ ডলারও পায় তাহলে দু বছরে হয় প্রায় ৪৪ লাখ টাকার মতন। এর অর্ধেকও যদি জমাতে পারেন তাহলে ২২ লাখ টাকা, যা কিনা আপনার পড়াশুনার ১৬ লাখ টাকার খরচ উঠিয়েও বর্ধিত থাকবে। আর ঠিক এই ক্যালক্যুলেশনই করে ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীরা।]”
-মুহাম্মাদ জুজুলী
শিক্ষক, কেইপ ব্রেটন ইউনিভার্সিটি, কানাডা।