16/01/2017
" অতঃপর বিচ্ছেদ ""
লেখা = পিচ্চিমনি (মুণিরা)
দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে আসছে অথচ
রোদেলা এখনো এলনা এ নিয়ে চিন্তিত
মনে চা তৈরি করতে লাগলেনন সামিরা
বেগম। অন্য সময় হলে চিন্তার কোনো
কারণ ছিলনা কিন্তু আজ হরতাল
রাস্তাঘাটের অবস্থাতো ভাল না।
(নিজেকে নিজেই বলতে লাগলেন
সামিরা বেগম)
রবি সাহেব-চা কি হল?
সামিরা বেগম-এইতো আসছি।
(তাড়াহুড়ো করছে)
র-আর কত সময় লাগবে?
সা-এই নাও(চায়ের কাপটা বাড়িয়ে
দিল)
র-আজ হরতালের দিন রোদেলা এখনো
এলনা?(চায়ে চুমুক দিয়ে)
সা-আসেনি।
বাড়ির ফটক দিয়ে ঢুকে সিড়িতে পা
রাখতেই অন্তুকে রোদেলা কল দেয়।
অন্তু-হ্যালো
রোদেলা-কই?
অ-আসছি,রিক্সায় আছি।
রো-তাড়াতাড়ি আস।(রেগে গিয়ে)
কলিংবেম চাপতেই সুমি দরজা খুলে দেয়।
সুমি-ভেতরে আয়।অন্তু কই?(দরজা
আটকাচ্ছে সে)
রো-আসতেছে।
সু-তাকে কিছু বলেছিস?
রো-না।
সু-বাসা থেকে বেড়িয়েছিলি কখন?
রো-সকালে।অর্ণির বাসায় কিছু নোট
আনতে গিয়েছিলাম।
হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল।
সু-অন্তু এসেছে মনে হয়।(বসা থেকে উঠে
এগিয়ে যাচ্ছে)
রো-দেখতো।
সু-কেমন আছিস?
অ-ভাল থাকব,আগে সামনে থেকে সর।
সু-আসেন।
অ-কি জন্য এত জরুরি তলব?(রোদেলার
দিকে তাকিয়ে বলল।রোদেলার চেহারা
বদলেছে অনেকটা অসুস্থভাব।পরনে
সাদামাটা ড্রেস সব মিলিয়ে কোথায়
যেন সৌন্দর্যের কমতি সৃষ্টি হয়েছে।)
তো কথা বল আমি আসছি।আগেই
বলেছিলাম বাসায় কেউ থাকবেনা।
বলেই সুমি রান্নাঘরের দিকে পা
বাড়াল।
অ-কি হল?কিছু বললেনা?
রো-বিয়ের সব ঠিকঠাক।তোমার কথা
মেনে যা হওয়ার তা হল।
অ-ওহ।
রো-কি করবে?
অ-কংগ্রেটস।
রো-বুঝলাম না!
অ-তারিখটা?
রো-এই মাসের ১৪ তারিখ।
অ-আসার চেষ্টা করব।
রো-এইসবের মানেটা কি?
অ-নাথিং।বিয়ে করে নাও।আমি আজ
আসছি।সুমি গেলাম।(উচ্চ স্বরে)
সু-কই যাচ্ছিস,ওয়েট কর আমি আসছি।
রো-কিছু না বলে কই যাও?
অ-সুমিকে বলিও।বাই।
কথাটা বলেই অন্তু বেরিয়ে গেল।
রোদেলাকে ছেড়েই পথ চলা শুরু।
বেখেয়ালি ছেলেরা কখনো কাওকে
দেখানো স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনা।
রোদেলার সব পরিস্থিতিতে নিজেকে
মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতার
অধিকারী আজও সে ঠিক নিজেকে
সামলে নিবে।আমি না হয় একলা পথিক
হলাম।
রো-আমি যায়।
সু-সে কি বলল?
রো-জেনে কি হবে?বিয়েতে আসিস।
সু-কি?(বুঝতে পেরে হতভম্ব হয়ে গেল)
রো-হুম।বাই।
বেশ কিছুক্ষণ হল রোদেলা বাইরে
দাড়িয়ে। মা কই গেল?
সা-রান্নাঘরে ছিলাম।(দুয়ারে
দাড়িয়ে)
রো-ওহ
সা-এত দেরি হল?
রো-নোট লিখতে সময় লেগেছে।বাসায়
কি কেউ এসেছিল??(চারপাশটা
গোছানো,নতুন পর্দা লাগানো হয়েছে।
ঘরদোরও পরিস্কার করানো হয়েছে বোঝা
যাচ্ছে, রোদেলা এইসব দেখছে)
সা-না,কয়েকটা দিন পর তোর বিয়ে তাই
আগে থেকেই সব ঠিকঠাক করছি।
রো-ভাল করেছ(অন্যমনস্ক হয়ে আছে)
সা-ফ্রেশ হয়ে নে,নাস্তা দিচ্ছি।
রো-না মা,কিছু খাবনা।(নিজের রুমের
দিকে সে এগিয়ে গেল)
এই তোকে দেখতে মিস্টি লাগছে।লাল
শাড়ি,গহনা সব মিলিয়ে মানিয়েছে।
রো-তাই?
সু-ঠিক বলেছিস,অর্ণি।খুব মানিয়েছে।
সবাই নিজ নিজ কাজে ব্যাস্ত,বাড়ির
সামনে বিড়াট জায়গাজুড়ে বিয়ের
অয়োজন করা হয়েছে ডান পাশে কনের
স্টেজ আর বামপাশটায় বরের জন্য।
একদিকে লোকজনকে খাওয়ানো হচ্ছে।
বরপক্ষ এখনো আসেনি।রোদেলাকেও
স্টেজে আনা হয়নি।আজ রোদেলাকে
কেমন লাগবে?বউ সাজ,শাড়ি, গহনা সব
কিছু দিয়ে রাঙ্গানো হয়েছে দেখতে
মায়াবীনি রোদেলা মনে হবে।ভাবতে
ভাবতে বাড়ির দিকে পা বাড়াতে গিয়ে
থমকে দাড়ায় অন্তু।কাওকে না জানিয়ে
রোদেলার কাছে যাওয়া যাবেনা।
সু-হ্যালো!
অ-রোদেলা কই?আমি রোদেলাদের
বাড়ির সামনে।তার কাছে যাওয়া
যাবে?
সু-এই অন্তু আসবে?(ফোনটা নামিয়ে)
রো-তুই নিয়ে আয়।
সু-আমি আসছি।তুই অপেক্ষা কর।
অ-অকে।
রোদেলার রুমে এখন কেউ নেই,সবাই
বাইরে গিয়েছে।বিছানায় রোদেলা
সজ্জিত অবস্থায় বসে আছে।
অ-কেমন আছ?
রো-যেমনটা দেখছ।
অ-মানিয়েছে ভিষন।
রো-কখনো কি বুঝবেনা?
অ-বোঝার কি দরকার?
রো-আমার হাতটা সারাজীবননের জন্য
ধর!
অ-তা সম্ভব নয়,বর আসবে।
রো-ভয় করিনা।
অ-বিয়োগই উত্তম।
রো-এই কি শেষ।
অ-ঠিক তাই।
রো-অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
নির্বাক দর্শকের ন্যায়।
পকেট থেকে শুকিয়ে যাওয়া একটি ফুল
বের করল অন্তু।
অ-তোমার দেওয়া সে প্রথম গোলাপ।এর
চেয়ে উত্তম কোনো উপহার তোমার জন্য
খুজে পায়নি।
রো-শুধু কাঁদছে কোনো শব্দ নেই।
অ-ভাল থেকো।
রো-তুমি থাকতে পারবে কি?
অ-হয়ত হ্যা অথবা না।
রো-কেনো হেয়ালী কর?
অ-ভাগ্য যে হেয়ালী করে।
রো-ভালবাসি।
অ-ভুলে যাও।
রো-কিভাবে?
অ-সময়ের সাথে।আর নয়,শুভ কামনা রইল।
রো-ভাল থেকো।
অন্তু হাটছে কষ্ট নামক শব্দটিকে সঙ্গী
করে একাকী পথের পথিক হিসেবে
নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে,সামনে
একজোড়া প্রেমিক-প্রেমিকা হাতে
হাত রেখে যাচ্ছে।
তাদের দেখে অন্তু আনমনে বকতে থাকে,
""এসবের কোনো গন্তব্য নেই শেষ
পরিণতি হিসেবে আছে সম্পর্কের
বিচ্ছেদ........।