20/08/2019
মহান আইনবিদ বিচারপতি লর্ড ডেনিংকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল - আপনি এতো হাজার হাজার মামলার নজীর আর আইন কিভাবে মনে রাখেন, আর সারাদিন এগুলো এতো অধীর আগ্রহ নিয়ে পড়েন কিভাবে?
উনি উত্তর দিয়েছিলেন -
সব মামলাই হচ্ছে মানুষের বাস্তব জীবনের একেকটা গল্প, আর মানুষের জীবনের গল্পের ভেতরে ঢুকে দেখবার চাইতে ইন্টারেস্টিং আর কি হতে পারে ?
(What can be more interesting than looking inside the lives of real men ?)
ওনার আইন বিষয়ক বইগুলো শুধু আইনজীবী না, যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষদের মাঝেও জনপ্রিয়।
বিগত কয়েকশো বছরের মধ্যে ব্রিটেনের সবচাইতে বিখ্যাত মামলাগুলো বেছে বেছে সেগুলোর কাহিনী ছোট গল্পের মত করে লিখে তিনি চমৎকার এক সংকলন তৈরী করেন।
এভাবেই লেখা হয় তার অতি জনপ্রিয় Landmarks in the Law বইটি।
আইন বিষয়ে আগ্রহ তৈরির জন্য বিখ্যাত বিচারক এবং আইনজীবীদের নিয়ে লেখা জনপ্রিয় উপন্যাস এবং তাদের আত্মজীবনীগুলো পড়া যেতে পারে।
আইনজীবী, আদালত ও বিচারকদের নিয়ে তৈরী চমৎকার সব সিনেমা আর টিভি সিরিজগুলোও অবসর সময়ে দেখা যেতে পারে।
বাংলা ভাষায় আইনজীবীদের নিয়ে লেখা সবচাইতে বিখ্যাত উপন্যাস শংকরের "কত অজানারে"।
বইটিতে দেখা যায় জনৈক ব্যারিস্টার সাহেবের চেম্বারের একজন পড়ুয়া ক্লার্ক আইন আদালতের বহু বিচিত্র ঘটনার দর্শক এবং শ্রোতা হয়।
এই বই হয়তো অনেকেই পড়েছেন।
কিন্তু কয়জন জানেন যে এটি বাংলা ভাষার বিখ্যাত লেখক শংকরের বাস্তব জীবনের কাহিনী?
শংকর ছোট থাকতেই তার আইনজীবী বাবা হঠাৎ মারা যান।
কিশোর বয়সে বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর চরম অর্থ কষ্টে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত প্রতিভাবান এই লেখক ক্লিনার থেকে শুরু করে হকার, টাইপিস্ট, কোম্পানির এজেন্ট, আইনজীবী সহকারী বা মুহুরী থেকে শুরু করে প্রাইভেট টিউটর কিংবা স্কুল শিক্ষক পর্যন্ত বহু রকম কাজ করেন।
তিনি কোলকাতার শেষ ব্রিটিশ ব্যারিস্টার নোয়েল ফ্রেডেরিক বারওয়েল সাহেবের চেম্বারে ক্লার্ক বা মুহুরী হিসেবেও কাজ করেছিলেন।
তার বর্ণণা মতে ব্যারিস্টার বারওয়েল সাহেব অত্যন্ত ভদ্র এবং মহৎ ব্যক্তি ছিলেন।
শংকর বারওয়েল সাহেবের অনুপ্রেরণায় লেখালেখি শুরু করে পরবর্তীতে এক সময় বাংলা ভাষার অত্যন্ত বিখ্যাত একজন লেখক হয়ে ওঠেন। (তথ্য সূত্র: https://en.m.wikipedia.org/wiki/Mani_Shankar_Mukherjee )
আইনজীবী পিতার আদরের সন্তান শংকর তার বাবার মৃত্যুর পর নিদারুণ অর্থ কষ্টে পড়ে কিশোর বয়সেই যখন ক্লিনার এবং হকারের কাজ করতে শুরু করেন সেই সময় তিনি তার বন্ধু বান্ধব আত্মীয়স্বজন সহ বহু আপনজনকেই দুঃস্বপ্নের দৃশ্যের মত পুরোপুরি অচেনা আর অপরিচিত হয়ে যেতে দেখলেন।
সূক্ষ্ম পরিবর্তন আর অবহেলা দিয়ে শুরু হলেও পরে তাদের মোটাদাগের রূঢ়তায় সবই পরিস্কার হয়ে যায়।
সেই দুঃসময়ে চারপাশের পৃথিবীর ভয়ঙ্কর নির্মমতা আর কাছের মানুষদের আসল চেহারা খুব দ্রুত বের হয়ে আসে।
সেই উপেক্ষা আর তাচ্ছিল্যে ভরা সময়ে অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে মমতা বা সৌজন্যের দেখা পেয়ে বিমূঢ় এবং হতভম্ব হয়ে গেছেন।
তার সেই অভিজ্ঞতাগুলো নানাভাবে বিভিন্ন বইতে উঠে এসেছে।
১৯৫৫ সালে প্রকাশিত তার প্রথম বই "কত অজানারে" বাংলা সাহিত্যে আইনজীবী, মামলা মোকদ্দমা আর আদালত সংশ্লিষ্ট মানুষজনকে নিয়ে লেখা একমাত্র উপন্যাস যেটি কালজয়ী ক্লাসিকের মর্যাদা পায়।
অবহেলিত ও অখ্যাত শংকর কোন রকমে টিকে থাকার ঝুলন্ত পরিস্থিতি থেকে রাতারাতি বিপুল জনপ্রিয়তা, সাফল্য আর সম্মান অর্জন করেন।
ওনার লেখা কাহিনী নিয়ে একাধিক সিনেমা তৈরী করেন বিখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়।
ওনার বই পড়ে ওনার লেখা কাহিনীর সিনেমায় গভীর আগ্রহ সহকারে নায়ক হতে এগিয়ে আসেন উত্তম কুমার।
কারো কারো মন দুর্ভাগ্য, উপেক্ষা, বিদ্রুপ আর তাচ্ছিল্যের আঘাতে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়।
আর কারো মনের জেদ, প্রত্যয় আর সংকল্প সেই আঘাতে ফুলে ফেপে অদম্য হয়ে ওঠে।
এরকম বিষয় নিয়ে লেখা বই, সিনেমা বা টিভি সিরিজ দেখার কথা বললে অনেকেই বলবেন, বাস্তব জীবন তো আর সিনেমা বা টিভি সিরিজ না।
কথা সত্য, তবে এগুলোর অনেকগুলোই বাস্তব জীবনের কাহিনী অবলম্বনে লেখা।
সুতরাং এগুলো থেকে শিক্ষণীয় কিছুই নেই এই কথা ঠিক না।
এসব জিনিস বিশুদ্ধ আইনের বই পড়া বা আদালতে যাবার বিকল্প অবশ্যই না, তবে আইন আদালত সম্পর্কিত এসব কাহিনী পড়তে গিয়ে দরকারী অনেক তথ্য, আইন, অভিজ্ঞতা আর প্রেরণা মাথার মধ্যে ঢুকে যায়।
বাংলা ভাষার বইপত্র খোঁজাখুঁজি করলে দেখা যায় -
সহজবোধ্য ও প্রাণবন্ত বাংলা ভাষায় আইনের বই লেখার বিষয়ে যিনি পথিকৃত সেই বিচারক জনাব গাজী শামছুর রহমানের হৃদয়স্পর্শী আত্মজীবনী "বিচারক জীবনের স্মৃতিচারণ",
কিংবা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জনাব গোলাম রব্বানির প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা আত্মজীবনী "ওকালতি ও জজিয়তি জীবনের জলরেখা",
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জনাব হামিদুল হকের আগ্রহ উদ্দীপক আত্মজীবনী "বিচার বিভাগে ৪৫ বছর",
বাংলাদেশের প্রথম অ্যাটর্ণি জেনারেল জনাব এম এইচ খন্দকারের লেখা অনুপ্রেরণাদায়ক আত্মজীবনী "Mottoes",
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি জনাব লতিফুর রহমানের লেখা আত্মজীবনী "তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা" যেখানে ওনার আইনজীবী ও বিচারপতি জীবনের কথা অকপটে তুলে ধরেছেন,
সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের লেখা বেশ কয়েকটি অভিজ্ঞতা ও তথ্যবহুল বই
- আইনজীবী ও বিচারকদের জীবন নিয়ে লেখা এরকম অসাধারণ বেশকিছু বই ও আত্মকথা আমাদের দেশে রয়েছে।
বিচারপতি লতিফুর রহমান স্যারের বইয়ের শুরুর দিকেই Sir Walter Scott এর চমৎকার একটা কথা দেওয়া আছে -
"Without courage there can be no truth and without truth there can be no virtue." (সাহস ছাড়া সত্য থাকতে পারেনা আর সত্য ছাড়া কোন গুণ টিকতে পারেনা)
ওনার এক চোখ বিশিষ্ট আইনজীবী পিতার পুরোপুরি অন্ধ হবার পরেও দক্ষভাবে মামলা পরিচালনা করা, পিতার অসুস্থতা আর অনটনের মধ্যে ওনার নৈশ কলেজে শিক্ষকতা আর প্রাইভেট টিউশনি করে ঢাকা শহরের বুকে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা, আর সেখান থেকে ধীর কিন্তু নিশ্চিতভাবে আইনজীবী হিসেবে উঠে আসার ঘটনা, সবই এই সাবেক প্রধান বিচারপতির বইতে উঠে এসেছে।
ওনার সাথে একবার দেখা করেছিলাম। আমার আব্বা যিনি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশন এর সভাপতি ছিলেন তিনি ওনার সাথে একটা আরবিটরেশন প্যানেলে ছিলেন। ঐসময় BIAC (Bangladesh International Arbitration Centre) এ ওনার সাথে দেখা করার জন্য ওনার লেখা বইটা নিয়ে আব্বার সাথে গেলাম। উনি অত্যন্ত সদয়ভাবে আমার সাথে অনেকক্ষণ ধরে উৎসাহব্যঞ্জক সব কথা বললেন।
কিছুদিন আগে খবরের কাগজে দেখলাম স্যার ইন্তেকাল করেছেন। ওনার অটোগ্রাফ যুক্ত বইটা এখনো মাঝে মাঝে চোখে পড়লেই এই অসাধারণ মানুষটির কথা মনে পড়ে।
ভারতের বিচারপতিদের মধ্যে সবচাইতে বিখ্যাত দুইজন বিচারপতির একজন হচ্ছেন জাস্টিস ভগবতী আর অন্যজন হচ্ছেন বিখ্যাত লেখক ও নিপীড়িত মানুষের বিচারপতি হিসেবে পরিচিত ভি আর কৃষ্ণা আইয়ার।
বিচারপতি ভগবতী আইন ব্যাখ্যার জন্য বিখ্যাত কিন্তু বিচারপতি কৃষ্ণা আইয়ার আইনের ব্যাখ্যার পাশাপাশি সংস্কারক হিসেবে বিচিত্র, সাহসী এবং ক্যারিশমাটিক কাজ কর্ম করে বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করেন। উনি নিজের অভিজ্ঞতাগুলো নিয়ে বেশকিছু বিখ্যাত বই লিখেছেন।
চরম বিপদগ্রস্ত আর অসহায় মানুষের চিঠিকে রীটের দরখাস্ত হিসেবে বিবেচনায় নেবার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন (estoppelary Jurisdiction) বিচারপতি কৃষ্ণা আইয়ার।
আধুনিক দাসপ্রথার শিকার হওয়া মানুষ, জেলের ভেতরেই অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতদরিদ্র নারী এরকম অনেকেই চিঠি লিখে এটির আওতায় রীট জুরিসডিকশনের প্রতিকার পেয়েছিলেন।
এই ধরণেরই অনেকগুলো ভয়াবহ এবং আলোচিত বিষয় ভারতীয় বিচারপতি ভি আর কৃষ্ণা আইয়ার চমৎকার সব সমাধান করে অনুকরণীয় বেশকিছু নজির রেখে গেছেন।
মাঝে মধ্যেই তিনি আদালত থেকে ঘটনাস্থলের আসল অবস্থা পরিদর্শনের ও ফয়সালার জন্য উপস্থিত হয়ে লোকজনকে ভূত দেখার মত চমকে দিতেন।
নিজ রাজ্যের আইন মন্ত্রী, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবার পর বিচারপতি হয়েছিলেন তিনি !
ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম সংস্কার করার বিষয়ে উনি কিংবদন্তি হয়ে আছেন।
পুলিশের লাগামহীন ক্ষমতা প্রয়োগ আর নৃশংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে এই প্রতিবাদী স্বভাবের মানুষটি আইনজীবী থাকার সময়েও জেল খেটেছিলেন।
জেলখানার সেই অমানবিক ও অপমানজনক দুঃসহ স্মৃতি আর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ওনাকে জেলখানা ও পুলিশ বাহিনী সংস্কারে ভয়ঙ্কর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তুলেছিল।
ক্ষমতায় আসার পর তিনি জেলখানা ও পুলিশের বিষয়ে সেই অভিজ্ঞতা ভালোমতোই কাজে লাগিয়েছিলেন।
তাকে এখনো ভারতে স্মরণ করা হয় Keeper of conscience (বিবেকের রক্ষক) বলে আর তার তৈরী করা কেস ল গুলো এখনো উপমহাদেশে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ ও ব্যবহার করা হয়।
শোনা যায় এই অসম্ভব হৃদয়বান মানুষটি অবসর নেবার পরেও নিজের বাড়ির দরজা হতদরিদ্র আর চরম বিপদগ্রস্ত মানুষকে আইনি পরামর্শ আর সহায়তা দেবার জন্য খোলা রাখতেন আর ওনার বাসায় এজন্য ভিড় লেগেই থাকতো।
বিচারপতি ভি আর কৃষ্ণা আইয়ার নিজের আইনি অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকগুলো বই লিখেছেন।
এমনকি নিজের ১০০ বছর বয়স হওয়া উপলক্ষে সেটা সেলিব্রেট করার জন্য ৯৯ বছর বয়সে এসেই একটা বই লিখে রেখেছিলেন। বইয়ের নাম To Work is a Pleasure (কাজ করা আনন্দের)।
শততম জন্মদিনের ঠিক আগেই তিনি মারা যান।
ওনার আত্মজীবনী Wandering in Many Worlds (অনেক জগতে ঘোরাঘুরি)।
তৎকালীন পশ্চিম - পাকিস্তানের সাহসী প্রধান বিচারপতি (১৯৫৮- ৬২) জনাব রুস্তম কায়ানির ক্লাসিক বইগুলোর (Not the whole truth, The Whole Truth, Half-Truth, A Judge May Laugh) কথাও উল্লেখ্য। ওনার দুর্দান্ত হিউমার আর তীক্ষ্ম স্যাটায়ারে ভরা বইগুলো ওনার মৃত্যুর অর্ধশত বছর পরেও গভীর আগ্রহ নিয়ে পড়া লিগ্যাল ক্লাসিকের তালিকায় অন্যতম স্থান ধরে রেখেছে।
এতো সংক্ষেপে বা অল্প সময়ে ওনাদের লেখা বা মামলাগুলোর কথা বর্ণণা করা সম্ভব না।
এগুলো আইনের বিষয়ে লেখা জটিল বা শুকনো বই না, বরং ওনাদের বিচারক ও আইনজীবী জীবনের ঘটনাবহুল আর তথ্য সমৃদ্ধ চমৎকার সব কাহিনী।
যে যাই বলুক বিনোদন ছাড়া মানুষ বাঁচে না।
আর সেই বিনোদনের অংশবিশেষ যদি এগুলো পড়ে বা দেখে হয় তাহলে ক্ষতির পরিবর্তে লাভের সম্ভাবনাই অনেক বেশী।
যারা আইন থেকে আনন্দ আহরণের বিষয়টিকে হাস্যকর মনে করেন এবং বিনোদনের মত হালকা বিষয়ের সাথে আইনের মত সাংঘাতিক সিরিয়াস বিষয়ের যোগসূত্র স্থাপনকে সময় অপচয়ের আরেক ফিকির মনে করেন তারাও নিশ্চয়ই একসময় "Reading for Pleasure" প্রবন্ধটি পড়েছেন, যেখানে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, আনন্দের সঙ্গে যা পড়া বা করা হয় তা অনায়াসেই স্মৃতিতে স্থায়ী এবং অর্থবহ হয়, তাই পড়ার মাঝে কোন না কোনোভাবে কেউ আনন্দ খুঁজে পেলে সে সেই বিষয়ে অনায়াসেই গভীরতা, ব্যাপকতা ও শক্তিশালী দখল অর্জনে সক্ষম হয়।
আমাদের জীবনের সাধারণ শিক্ষকরা আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন।
কিন্তু আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা শিক্ষা দানের সময় আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে আগ্রহ তৈরী করছেন।
"A good teacher teaches, but a truly great one inspires." - Proverb.
বিশ্বাস করেন আর নাই করেন এসব মহান আইনবিদদের অনেকের আত্মজীবনী বা এরকম ঘটনাগুলো আসলেই অনেক ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত, উদ্দীপ্ত বা অভিভূত করার ক্ষমতা রাখে।
কিন্তু এসব সিনেমা বা বই গভীর আগ্রহ নিয়ে পড়ে বা দেখে খুব কম মানুষই।
বাস্তবে ওনাদের সামনাসামনি কিংবা বেশী সময় পেতে না পারি, ওনাদের বই থেকে অসাধারণ আইডিয়াগুলোর মুখোমুখি হয়ে সেগুলো আমরা নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারি।
বলাতো যায়না, সেগুলো পড়ে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের মত সাধারণ মানুষদের কেউ কেউ ভবিষ্যতে স্থবিরতা আর অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে অসাধারণ প্রতিভাদীপ্ত, অসমসাহসী বা বৈপ্লবিক সংস্কারমূলক কাজ কর্মও করে ফেলতে পারে।
কথায় আছে - "To believe in the heroic makes heroes."
©Barrister mustasim tanjir vai