08/03/2015
ক্রিমিনাল আদালত প্রধানত দুভাগে বিভক্ত:
১। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট(সর্বোচ্চ আদালত)
২। অধস্তন আদালত বা নিম্ন আদালত
দুই ধরনের অধস্তন আদালত। যেমন:- দায়রা আদালত এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। জেলা পর্যায় যে বা যারা ক্রিমিনাল মামলা পরিচালনা করেন তাদের Session Court বা দায়রা আদালত বলে। এই আদালতের বিচারকরা হলেন:-
১। দায়রা জজ:- যিনি জেলায় পর্যায় ক্রিমিনাল মামলার প্রধান বিচারক।
২। অতিরিক্ত দায়রা জজ
৩। যুগ্ন দায়রা জজ
দায়রা জজ আইন আরোপিত সব ধরনের শাস্তি দিতে পারেন। শুধু ডেথ পেনাল্টির কার্যকর করার ক্ষেত্রে হাইকোটের অনুমতি লাগবে।
যুগ্ন দায়রা জজ ডেথ পেনাল্টি বা ১০ বছরের বেশি কারাদন্ড দিতে পারবেন না। (ধারা-৩১)
অপরদিকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুই ভাবে পরিচিত । যেমন:- মেট্রোপলিটন এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট এবং মেট্রোপলিটন এলাকার বাহিরের ম্যাজিস্ট্রেট। মেট্রোপলিটন এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট এর শ্রেণিবিভাগ নিন্মরুপ:-
১। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম)
২। অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
৩। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে গণ্য হবেন।
অপরদিকে মেট্রোপলিটন বা মহানগর এলাকার বাহিরের ম্যাজিস্ট্রেটরা বা জেলা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিন্ম শ্রেনীতে বিভক্ত :-
১। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
২। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
৩। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বলতে সেকেন্ড ক্লাস এবং থার্ডক্লাশ ম্যাজিস্ট্রেটকে বোঝানো হয়েছে।
বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নয়) এর এখতিয়ার ও ক্ষমতা:- (ধারা-৩২)
১। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট :- নির্জন কারাবস সহ ৫ বছরের অনধিক কারাদন্ড দিতে পারবেন এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন।
২। সেকেন্ড ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট :- নির্জন কারাবাস সহ ৩ বছরের কারাদন্ড এবং অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা।
৩। থার্ডক্লাশ ম্যাজিস্ট্রেট :- অনধিক ২ বছরের সাজা এবং ২ হাজার টাকা জরিমানা।
কোন আসামী যদি জরিমানার টাকা দিতে না চান সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট টাকা অনাদায়ের জন্য আসামিকে দণ্ডদানের তার যে ক্ষমতা আছে তার এক-চতুথাংশের বেশি হবে না। (ধারা-৩৩)
ফৌজদারী আদালতের শ্রেণী বিভাগ
১। প্রতিস্থাপিত ধারার ৬ ধারা মতে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ব্যতীত দু'প্রকার ফৌজদারী আদালত থাকবে,
A. দায়রা জজ আদালত।
B. ম্যাজিষ্ট্রট আদালত ॥
২। জেলা জজ পর্যায়ে-
A. জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
B.অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
C.নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যূনাল।
D.ষ্পেশাল ট্রাইব্যূনাল।
E.প্রশাসনিক ট্রাইব্যূনাল।
F.বিদ্যূৎ আদালত।
৩। ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত দু'প্রকার, যথা-
A. জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।
B. এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ॥
৪। জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ৪ প্রকার, যথা-
A. মহানগর পর্যায়ে- চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট(CMM)আদালত এবং জেলা পর্যায়ে-চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট(CJM)আদালত ।
B. জেলা পর্যায়ে-১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণীর জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত॥
৫। এসব আদালতের প্রচলিত নাম হল-
A. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।
B. অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালত।
C. চীফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।
D. অতিরিক্ত চীফ ম্যাজিষ্টেট আদালত।
E. সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (১ম শ্রেণীর ম্যাজিঃ)।
F.জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (২য়/৩য় শ্রেণীর ম্যাজিঃ)।
৬। অন্যান্য আদালত সমূহঃ
A.শ্রম আদালত।
B.নৌ আদালত।
C.শিশু/কিশোর আদালত।
D.বন আদালত।
E.বিমান বন্দর আদালত।
F.পারিবারিক আদালত।
G.জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।
H.নিবার্হী আদালত।
I.গ্রাম আদালত।
দেওয়ানী আদালতের শ্রেণীবিভাগ এবং এখতিয়ারসমূহ
(Classification & Jurisdiction of Civil Court's)
--------
১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৩নং ধারায় দেওয়ানী আদালতের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় পাঁচধরণের দেওয়ানী আদালত রয়েছে। যথাক্রমে-
১। জেলা জজ আদালত
২। অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত
৩। যুগ্ম জেলা জজ আদালত
৪। সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
৫। সহকারী জজ আদালত
দেওয়ানী আদালতসমূহের প্রাথমিকভাবে তিন ধরনের এখতিয়ার রয়েছে । যথাক্রমে :-
১। আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction)।
২। আঞ্চলিক বা স্থানিক এখতিয়ার (Territorial Jurisdiction) ।
৩। বিষয় বস্তু এখতিয়ার (Subject Matter Jurisdiction)।
এছাড়াও দেওয়ানী আদালতসমূহের আরও পাঁচ ধরনের এখতিয়ার রয়েছে । যথাঃ
১। আদি এখতিয়ার (Original Jurisdiction)।
২। আপীল এখতিয়ার (Appellate Jurisdiction)।
৩। পুনরীক্ষণ এখতিয়ার (Revision Jurisdiction )।
৪। পুনঃ বিবেচনা এখতিয়ার (Review Jurisdiction) ।
৫। প্রশাসনিক এখতিয়ার (Administrative Jurisdiction) ।
আদালত সমূহের আর্থিক এখতিয়ার নিম্নরুপঃ-
১। জেলা জজ আদালত : সাধারণত এই আদালত কোন মোকদ্দমা বিচারের জন্য গ্রহণ করতে পারেন না । এই আদালতের আপীল এখতিয়ার ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত।
২। অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত : এই আদালত কোন আপীল বা মূল মোকদ্দমা বিচারের জন্য সরাসরি গ্রহন করতে পারেন না। জেলা জজ আদালতে দাখিলকৃত দরখাস্ত নিষ্পত্তির জন্য এই আদালতে প্রেরন করা হয় ।
৩। যুগ্ম জেলা জজ আদালত : এ আদালত ৪,০০,০০০(চার লক্ষ ) টাকার অধিক যে কোন মুল্যমানের বিষয়বস্তুর মূল মোকদ্দমা বিচার ও নিষ্পত্তি করতে পারেন । এই আদালত কোন আপীল বা রিভিশন গ্রহন করতে পারেন না।
৪। সিনিয়র সহকারী জজ আদালত : এই আদালত ২,০০,০০০(দুই লক্ষ) টাকার অধিক হতে ৪,০০,০০০(চার লক্ষ ) টাকা পর্যন্ত যে কোন মূল্যমানের বিষয়বস্তুর মূল মোকদ্দমা বিচার ও নিষ্পত্তি করতে পারেন । এই আদালত কোন আপীল বা রিভিশন গ্রহন করতে পারেন না।
৫। সহকারী জজ আদালত: এই আদালত ২,০০,০০০(দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত যে কোন মুল্যমানের বিষয়বস্তুর মূল মোকদ্দমা বিচার ও নিষ্পত্তি করতে পারেন । এই আদালত কোন আপীল বা রিভিশন গ্রহন করতে পারেন না।
জেনে রাখা প্রয়োজন-
সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল হবে জেলা জজের আদালতে। দাবির পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকার কম হলে, যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল হবে জেলা জজের আদালতে। এর বেশি হলে তা যাবে হাইকোর্ট বিভাগে। অন্য কিছু বলা না থাকলে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল হবে হাইকোর্ট বিভাগে।