Uttara university Department of LAW - 33rd batch

Uttara university Department of LAW - 33rd batch

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Uttara university Department of LAW - 33rd batch, Education, Dhaka.

08/03/2015

ক্রিমিনাল আদালত প্রধানত দুভাগে বিভক্ত:
১। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট(সর্বোচ্চ আদালত)
২। অধস্তন আদালত বা নিম্ন আদালত
দুই ধরনের অধস্তন আদালত। যেমন:- দায়রা আদালত এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। জেলা পর্যায় যে বা যারা ক্রিমিনাল মামলা পরিচালনা করেন তাদের Session Court বা দায়রা আদালত বলে। এই আদালতের বিচারকরা হলেন:-
১। দায়রা জজ:- যিনি জেলায় পর্যায় ক্রিমিনাল মামলার প্রধান বিচারক।
২। অতিরিক্ত দায়রা জজ
৩। যুগ্ন দায়রা জজ
দায়রা জজ আইন আরোপিত সব ধরনের শাস্তি দিতে পারেন। শুধু ডেথ পেনাল্টির কার্যকর করার ক্ষেত্রে হাইকোটের অনুমতি লাগবে।
যুগ্ন দায়রা জজ ডেথ পেনাল্টি বা ১০ বছরের বেশি কারাদন্ড দিতে পারবেন না। (ধারা-৩১)
অপরদিকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দুই ভাবে পরিচিত । যেমন:- মেট্রোপলিটন এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট এবং মেট্রোপলিটন এলাকার বাহিরের ম্যাজিস্ট্রেট। মেট্রোপলিটন এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট এর শ্রেণিবিভাগ নিন্মরুপ:-
১। চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম)
২। অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
৩। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে গণ্য হবেন।
অপরদিকে মেট্রোপলিটন বা মহানগর এলাকার বাহিরের ম্যাজিস্ট্রেটরা বা জেলা আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিন্ম শ্রেনীতে বিভক্ত :-
১। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
২। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
৩। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বলতে সেকেন্ড ক্লাস এবং থার্ডক্লাশ ম্যাজিস্ট্রেটকে বোঝানো হয়েছে।
বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নয়) এর এখতিয়ার ও ক্ষমতা:- (ধারা-৩২)
১। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট :- নির্জন কারাবস সহ ৫ বছরের অনধিক কারাদন্ড দিতে পারবেন এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারবেন।
২। সেকেন্ড ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট :- নির্জন কারাবাস সহ ৩ বছরের কারাদন্ড এবং অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানা।
৩। থার্ডক্লাশ ম্যাজিস্ট্রেট :- অনধিক ২ বছরের সাজা এবং ২ হাজার টাকা জরিমানা।
কোন আসামী যদি জরিমানার টাকা দিতে না চান সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট টাকা অনাদায়ের জন্য আসামিকে দণ্ডদানের তার যে ক্ষমতা আছে তার এক-চতুথাংশের বেশি হবে না। (ধারা-৩৩)
ফৌজদারী আদালতের শ্রেণী বিভাগ
১। প্রতিস্থাপিত ধারার ৬ ধারা মতে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ব্যতীত দু'প্রকার ফৌজদারী আদালত থাকবে,
A. দায়রা জজ আদালত।
B. ম্যাজিষ্ট্রট আদালত ॥
২। জেলা জজ পর্যায়ে-
A. জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
B.অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
C.নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যূনাল।
D.ষ্পেশাল ট্রাইব্যূনাল।
E.প্রশাসনিক ট্রাইব্যূনাল।
F.বিদ্যূৎ আদালত।
৩। ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত দু'প্রকার, যথা-
A. জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।
B. এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ॥
৪। জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ৪ প্রকার, যথা-
A. মহানগর পর্যায়ে- চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট(CMM)আদালত এবং জেলা পর্যায়ে-চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট(CJM)আদালত ।
B. জেলা পর্যায়ে-১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণীর জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত॥
৫। এসব আদালতের প্রচলিত নাম হল-
A. চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।
B. অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালত।
C. চীফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।
D. অতিরিক্ত চীফ ম্যাজিষ্টেট আদালত।
E. সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (১ম শ্রেণীর ম্যাজিঃ)।
F.জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (২য়/৩য় শ্রেণীর ম্যাজিঃ)।
৬। অন্যান্য আদালত সমূহঃ
A.শ্রম আদালত।
B.নৌ আদালত।
C.শিশু/কিশোর আদালত।
D.বন আদালত।
E.বিমান বন্দর আদালত।
F.পারিবারিক আদালত।
G.জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত।
H.নিবার্হী আদালত।
I.গ্রাম আদালত।
দেওয়ানী আদালতের শ্রেণীবিভাগ এবং এখতিয়ারসমূহ
(Classification & Jurisdiction of Civil Court's)
--------
১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধির ৩নং ধারায় দেওয়ানী আদালতের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় পাঁচধরণের দেওয়ানী আদালত রয়েছে। যথাক্রমে-
১। জেলা জজ আদালত
২। অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত
৩। যুগ্ম জেলা জজ আদালত
৪। সিনিয়র সহকারী জজ আদালত
৫। সহকারী জজ আদালত
দেওয়ানী আদালতসমূহের প্রাথমিকভাবে তিন ধরনের এখতিয়ার রয়েছে । যথাক্রমে :-
১। আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Jurisdiction)।
২। আঞ্চলিক বা স্থানিক এখতিয়ার (Territorial Jurisdiction) ।
৩। বিষয় বস্তু এখতিয়ার (Subject Matter Jurisdiction)।
এছাড়াও দেওয়ানী আদালতসমূহের আরও পাঁচ ধরনের এখতিয়ার রয়েছে । যথাঃ
১। আদি এখতিয়ার (Original Jurisdiction)।
২। আপীল এখতিয়ার (Appellate Jurisdiction)।
৩। পুনরীক্ষণ এখতিয়ার (Revision Jurisdiction )।
৪। পুনঃ বিবেচনা এখতিয়ার (Review Jurisdiction) ।
৫। প্রশাসনিক এখতিয়ার (Administrative Jurisdiction) ।
আদালত সমূহের আর্থিক এখতিয়ার নিম্নরুপঃ-
১। জেলা জজ আদালত : সাধারণত এই আদালত কোন মোকদ্দমা বিচারের জন্য গ্রহণ করতে পারেন না । এই আদালতের আপীল এখতিয়ার ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত।
২। অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত : এই আদালত কোন আপীল বা মূল মোকদ্দমা বিচারের জন্য সরাসরি গ্রহন করতে পারেন না। জেলা জজ আদালতে দাখিলকৃত দরখাস্ত নিষ্পত্তির জন্য এই আদালতে প্রেরন করা হয় ।
৩। যুগ্ম জেলা জজ আদালত : এ আদালত ৪,০০,০০০(চার লক্ষ ) টাকার অধিক যে কোন মুল্যমানের বিষয়বস্তুর মূল মোকদ্দমা বিচার ও নিষ্পত্তি করতে পারেন । এই আদালত কোন আপীল বা রিভিশন গ্রহন করতে পারেন না।
৪। সিনিয়র সহকারী জজ আদালত : এই আদালত ২,০০,০০০(দুই লক্ষ) টাকার অধিক হতে ৪,০০,০০০(চার লক্ষ ) টাকা পর্যন্ত যে কোন মূল্যমানের বিষয়বস্তুর মূল মোকদ্দমা বিচার ও নিষ্পত্তি করতে পারেন । এই আদালত কোন আপীল বা রিভিশন গ্রহন করতে পারেন না।
৫। সহকারী জজ আদালত: এই আদালত ২,০০,০০০(দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত যে কোন মুল্যমানের বিষয়বস্তুর মূল মোকদ্দমা বিচার ও নিষ্পত্তি করতে পারেন । এই আদালত কোন আপীল বা রিভিশন গ্রহন করতে পারেন না।
জেনে রাখা প্রয়োজন-
সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল হবে জেলা জজের আদালতে। দাবির পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকার কম হলে, যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল হবে জেলা জজের আদালতে। এর বেশি হলে তা যাবে হাইকোর্ট বিভাগে। অন্য কিছু বলা না থাকলে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপীল হবে হাইকোর্ট বিভাগে।

20/12/2014

মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর
ফি কত?

একটা মামলা পরিচালনা করতে সংশ্লিষ্ট
আইনজীবীকে কত টাকা দিতে হবে,
তার নির্দিষ্ট কোনো আইন
কিংবা বিধান নেই। ফলে মানুষের
অসহায়ত্বকে পুঁজি করে আইনজীবীরা ইচ্ছেমতো টাকা নিচ্ছেন
বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,
হাইকোর্টে কোনো মামলায় আগাম
জামিনের জন্য ৫ থেকে ৫০ হাজার,
অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের জন্য ২০
হাজার থেকে ১ লাখ, কোনো আবেদন
বা মামলার কার্যকারিতার
স্থগিতাদেশ নিতে ২৫ থেকে ৮০
হাজার
টাকা আইনজীবীকে ফি হিসেবে দিতে হয়।
আপিল বিভাগ
কিংবা হাইকোর্টে কোনো দেওয়ানী (জমিজমা)
মামলার শুরুতেই সিনিয়র আইনজীবীদের
লাখ টাকা দিতে হয়। একই
সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি করতে লাখ
থেকে শুরু করে কোটি টাকার
চুক্তি করা হয় বলেও জানা গেছে। এ
ছাড়া সুপ্রিমকোর্টের অনেক সিনিয়র
আইনজীবী আছেন, যারা ২ লাখ টাকার
কমে কোনো মামলা শুরুই করেন না।
একই সঙ্গে সিনিয়র
আইনজীবীরা আদালতে গিয়ে মক্কেলের
পক্ষে বসে থাকলে এক রকম
ফি এবং আদালতে কথা বললে আরেক
রকম ফি দিতে হয় বলে জানান
সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,
মামলা পরিচালনায় সুপ্রিমকোর্টের
অভিজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ
আইনজীবী বিচারপতি টিএইচ
খানকে প্রতি শুনানির জন্য সর্বনিম্ন ১
লাখ, ব্যারিস্টার রফিক-উল
হককে প্রতি শুনানির জন্য ৫০ হাজার
টাকা দিতে হয়।
মামলা ফাইলিং করার খরচ মক্কেলের
আলাদা। ব্যারিস্টার আমিরুল
ইসলামকে ফাইলিংয়ের সময় ৫ লাখ
এবং প্রতি শুনানির জন্য ২ লাখ,
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে প্রতি শুনানির
জন্য ৬০ হাজার, অ্যাডভোকেট বাসেত
মজুমদারকে মামলার শুরুতে ৩ লাখ
এবং শুনানির ফি চুক্তির
মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশ
বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান
খন্দকার মাহবুব
হোসেনকে প্রতি শুনানির জন্য ৫০
হাজার টাকা দিতে হয়। সাবেক
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম
স্বভাবত হাইকোর্টের
কোনো মামলা পরিচালনা করেন না।
আর আপিল
বিভাগে মামলা পরিচালনার
ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন আড়াই লাখ
টাকা পরিশোধ করতে হয় এ
আইনজীবীকে। সুপ্রিমকোর্ট
আইনজীবী সমিতির সাবেক
সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল
আবেদীনকে প্রতি শুনানির জন্য সর্বনিম্ন
৩০ হাজার
টাকা ফি হিসেবে পরিশোধ করতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার
শর্তে সুপ্রিমকোর্টের কয়েকজন
আইনজীবী দ্য রিপোর্টকে জানান,
সুপ্রিমকোর্টের বেশ কয়েকজন
আইনজীবী আছেন,
যারা মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন
সময় ২ কোটিরও অধিক টাকা নিয়েছেন।
বিচারপতিকে ম্যানেজ করার জন্য
টাকা লাগবে বলেও অনেক
আইনজীবী মামলাকারীর কাছ
থেকে অনেক সময় টাকা গ্রহণ করেন
বলে জানান তারা।
সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র
আইনজীবীরা মামলা পরিচালনার
ক্ষেত্রে মোটা অংকের
টাকা নিয়ে থাকেন বলে কথিত আছে।
একই সঙ্গে জনস্বার্থে অনেক
মামলা তারা বিনা টাকায়
নিষ্পত্তি করে দেন বলেও
জানা গেছে।
তবে মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কত
টাকা নেওয়া হবে, তা সম্পূর্ণ সংশ্লিষ্ট
মক্কেলের ওপর নির্ভর করে। মামলার
ভুক্তভোগী ভিআইপি বা ধনী হলে ফির
পরিমাণ বেশি হয়। আর অর্থনৈতিক
অবস্থা নাজুক হলে ফির পরিমাণ কম হয়।
অপরদিকে নিম্ন
আদালতে কোনো রিমান্ড নামঞ্জুর
বা জামিনের জন্য আইনজীবীকে ১
হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার
টাকা দিতে হয়। আর আসামির
হাজিরার জন্য প্রতিদিন ১০ থেকে ৫০
হাজার, ভ্রাম্যমাণ
আদালতে শাস্তিপ্রাপ্তদের জামিনের
জন্য ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত
দিতে হয়। নিম্ন
আদালতে কোনো মামলার কার্যক্রম শুরু
থেকে শেষ পর্যন্ত নিষ্পত্তির জন্য
মক্কেলের সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিমাণ
টাকার চুক্তি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র
জানায়।
এ ছাড়া আইনি পরামর্শের ক্ষেত্রে ২০০
টাকা থেকে ৫ হাজার
টাকা নেওয়া হয়। উভয়পক্ষের সমঝোতার
ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তি করতে চাইলে ৫
থেকে ২৫ হাজার
টাকা দিয়ে তা করতে হয়।
আদালতে মামলার নিয়মিত শুনানির
জন্য প্রত্যেক শুনানিতে ১ থেকে ৫
হাজার টাকা দিতে হয়। মক্কেলের
আর্থিক অবস্থার ওপর
ভিত্তি করে টাকার পরিমাণ নির্ধারণ
করা হয় বলেও জানা গেছে।
নিম্ন আদালতে মামলা ফাইলিং করার
ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৫০ হাজার
টাকা পরিশোধ করতে হয়।
আমাদের দেশে মামলা পরিচালনার
জন্য আইনজীবীকে কত টাকা দিতে হবে,
তার নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। যদিও
‘দ্য বাংলাদেশ লিগ্যাল
প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল
অর্ডার অ্যান্ড রুলস’ ১৯৭২ এর পেশাগত
আচরণ এবং শিষ্টাচার নীতি (Bangladesh
Bar Council Canons Of Professional Conduct And
Etiquette) এর দ্বিতীয় অধ্যায়ে `মক্কেলের
সাথে আইনজীবীর আচরণ’ বিষয়ে বিধান
বর্ণিত আছে।
এ আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে মক্কেলের
সঙ্গে আইনজীবীর আচরণের
ব্যাপারে ১৪টি বিধান উল্লেখ
করা হয়েছে। যদিও আসামির (মক্কেল)
কাছ থেকে মামলা পরিচালনা করার
ক্ষেত্রে কত টাকা নিতে হবে তার
নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ উল্লেখ নেই।
মামলা পরিচালনায় আইনজীবীর ফির
সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ কোনো পরিমাণের
কথাও বলা নেই এ বিধানে।
অথচ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইডেনসহ
বিশ্বের অন্যান্য উন্নত
দেশে আইনজীবীর ফির
ব্যাপারে নির্দিষ্ট আইন আছে। কোথায়,
কীভাবে, কেমন পরিমাণ
টাকা নেওয়া যাবে তাও
বর্ণনা করা আছে। আইনের
মাতৃভূমি ব্রিটেনে আইনি সহায়তা দেওয়ার
জন্য ঘণ্টাভিত্তিক টাকা পরিশোধ
করা হয় সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তাকে।
একটা মামলার
ক্ষেত্রে আইনজীবীকে কেমন
টাকা দিতে হয়- সে বিষয়ে কথা হচ্ছিল
সুপ্রিমকোর্টে আসা এক
মামলাকারী আব্দুল মান্নানের সঙ্গে।
তিনি বলেন,
‘একটা ফৌজদারি মামলায় আমার
পক্ষে রায় হয়। পরে বিপরীত পক্ষ
হাইকোর্টে আপিল করে।
হাইকোর্টে মামলা ফাইলিং করার সময়
আমার ৪৫ হাজার টাকা লেগেছে। এরপর
প্রতি শুনানির দিন ৫ থেকে ১০ হাজার
টাকা দিতে হয় আইনজীবীকে।’
এ পর্যন্ত কত টাকা খরচ
হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
টাকার কোনো হিসাব নেই।
এটা বলে শেষ করা যাবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত
অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান দ্য
রিপোর্টকে বলেন, আইনজীবীদের
ফি নির্ধারণে আমাদের দেশে বিশেষ
কোনো আইন নেই। তাছাড়া মামলার
ঘটনা ও বিষয়বস্তুর ওপর
ভিত্তি করে নির্দিষ্ট আইন করা মুশকিল।
তিনি বলেন, ফি নেওয়ার
ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে।
এ ছাড়া খ্যাতি অনুযায়ী ফি নির্ধারণ
করা উচিত। সিনিয়ররা তুলনামূলক বেশি,
জুনিয়ররা একটু কম নেবে; তাহলেই ঠিক
হয়ে যাবে।
ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ
অসীম জানান, ফি নেওয়ার
বিষয়টি নির্ভর করে মক্কেলের ওপর।
মামলাকারীর অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর
ভিত্তি করেই মূলত ফি নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, এ
ছাড়া আইনজীবী-মক্কেলের সম্মতির
মাধ্যমেই তো মূলত ফি নির্ধারণ হয়।
কারো কাছ থেকে জোর
করে কোনোপ্রকার টাকা নেওয়া হয়
না।
সুপ্রিমকোর্টের বেশ কয়েকজন
আইনজীবী জানান,
মামলা পরিচালনায়
ফি নির্ধারণে আইন
করা হলে কোনো আইনজীবী আর
ওকালতি করবেন না। কারণ আইনের
মাধ্যমে তাদের আয়ের পরিমাণ
কমে যেতে পারে।

collected
Israt Jahan
সহসাংগঠনিক সম্পাদক
LAW and LAWYERS

17/12/2014

রিপন (ছদ্দনাম) ফোন করেছিল গতকাল। নব্য উকিল সে। যেখানে আবিষ্ট-মোহিত-নিবিষ্ট-আত্মহারা থাকার কথা সেখানে তার কন্ঠে অমিয় সূর নেই, রয়েছে অযাচিত দৌর্মনস্য-নিরূত্সাহ-বিষাদ।

দীর্ঘ সম্পর্কের ইতিবৃত্ত এখন সমাপ্ত। মেয়ের পরিবার যথেষ্ট এক কাথার। “উকিল”-“টুকিল” হবে না। এসব ছেলে মানুষি সম্পর্ক মূল্যহীন, অপদার্থের কর্ম। তাও আবার পোলা হইল “উকিল”। “যার নাই গতি সে করে উকালতি”। “উকিল” সম্পর্কে নীরুর (ছদ্দনাম) পরিবারের সন্ধান, দাবী, উত্তেজনা এবং অভিশাপটি এমনই।

যা’হোক আমি “নীরু-রিপনের” প্রেমাকাহিনীর প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী। নীরু অনার্স প্রথম বর্ষে আর রিপন এলএল.বি শেষ করে বার কাউন্সিল থেকে সদন নিয়ে “বিশ্বময়কর যোগত্যা” অর্জন করেছে যার নাম “এডভোকেট” তথা “উকিল”।

তো, রিপনের মূখে তার “বিস্ময়কর যোগত্যা” সম্পর্কে নীরুর পরিবারের অভিশাপসুলভ অব্যক্ত বাণী শুনে বললাম, ওর বাবা, মায়ের নাম-ঠিকানা সঠিকভাবে এবং সাক্ষী হিসেবে নীরুর নামটাও দিস, বাদী হিসেবে তুই থাকিস, একটা মানহানির মামলা করে দিই। দেখি, তারা কি করে?? উকিল ছাড়া কে তাদের জন্য মামলায় লড়ে একটু দেখি। যদি “উকিল” ছাড়া না করতে পারে তবে ষ্ট্যাম্পে লিখে নিবি “উকিল ছাড়া গতি নাই”।

কথাটা মজা করে বললাম। আসলটা হচ্ছে,

সমাজের চক্ষু উকিলদের প্রতি বিষাদময়। মানুষগুলো ডাক্তারকে “ডাকাত” বলে গালি দেয়, আবার নিজের সন্তানকে “ডাক্তার” বানানোর স্বপ্নও দেখে, বিচিত্র আচরণ। পৃথিবীর সব পেশাই সম্মানজনক। একজন নার্স, আমি তাকে সম্মান করি। একজন কুলি, আমি তাকে সম্মান করি। কারণ, এসব পেশাদার লোক ব্যতিত আমার মতো উকিলের বাসযোগ্য স্থান হতো মঙ্গল গ্রহ। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, আমাদের সমাজে “উকিল”কে একটু ভিন্নমাত্রিক চোখে দেখা হয়। কিন্তু এটা একমাত্র পেশা যাদেরকে Learned উপাদিতে আখ্যায়িত করা হয়। পৃথিবীর আর কোন পেশার লোকজনকে Learned বলা হয় না।

আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে, আপনি চাইলে কি আপনার সন্তাকে উকিল হিসেবে তৈরী করতে পারবেন???

বাস্তবতা হচ্ছে, “উকিল” হবার বিষয়টি সহজতর নয়।

চার বছরের এলএল,বি শেষ করলেন, লাভ কি? যতক্ষণ না বার কাউন্সিলের “ঘূর্ণ চক্র” পরীক্ষা পদ্ধতিতে আপনি উর্ত্তীণ হবেন ততক্ষণ পর্যন্ত পড়ালেখাকে মনে হবে বৃথা শ্রম। গত প্রায় তিন বছরে বার কাউন্সিলের মাত্র একটি পরীক্ষা কমপ্লিট হয়েছে। যেখানে প্রায় ১৯,০০০ মধ্যে ফাইনালি পাস তথা উকিল হয়েছে মাত্র ৩২৩১ জন। হিসাব মতে, বছরে মাত্র ১০০০ জন। যেখানে বছরের বিবিএ ছাত্র বের হয় নূন্যতম ৩০,০০০, ডাক্তার জানা নেই তবে নিশ্চিয়ই ১০০০ নয়। ইঞ্জিনিয়ার কমে তো ২০,০০০ হবে। মজার অভিজ্ঞতা হচ্ছে এই ৩২৩১ জনকে ঘূর্ণ চক্র তথা “সাপ-লুডু” টাইপের পরীক্ষা পদ্ধতি অতিক্রম করতে হয়েছে।

যদি সবদিক বিবেচনা করা হয়, তাহলে ঠিক এই মহূর্তে “উকিল” হওয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো এবং সবচেয়ে কঠিনতম পরীক্ষা। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া ঢের সহজ।

যা’হোক, কথা হচ্ছে, “যার নাই গতি সে করে উকালতি” এই অমিয় সূধা অন্তরে নিয়ে যিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি বোকার গর্ভে বসবাস করছেন, তিনি নির্বোধ। এতই যদি খায়েশ থাকে তবে স্বীয় পরিবারের একজনকে “উকিল” বানানোর স্বপ্ন করে দেখুন কিভাবে স্বপ্নভঙ্গ তথা মোহমুক্তি ঘটে।

বার কাউন্সিলে এখন যেভাবে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু আছে এটিও যদি আগামি ১০ বছর চালু থাকে তবে বাংলাদেশে “উকিলের” আকাল দেখা দিবে। পাশাপাশি যারা “উকিল” হিসেবে সম্মানীত হবেন সত্যিকারার্থে তারা সম্মানীত হবার যোগ্যও বটে। চার বছরের এলএল.বি তে যত না পড়াশোনা বার কাউন্সিলের (১+৪)=৫ ঘন্টার পরীক্ষার জন্য তার চেয়েও শতগুণ বেশী পড়তে+জানতে হয়।

আমার এই লেখা পড়ে “স্বপ্নভঙ্গ তথা মোহমুক্তি” ভয়ে ভারাকান্ত হওয়ারও প্রয়োজনীতা নেই। সম্মানজনক চেষ্ঠা, অধ্যবসায় আপনাকে “উকিল” হবার মতো কঠিন চ্যলেঞ্জে জয়ী করতে পারে। আপনি একজন Learned হবেন এমন প্রত্যয়ে এগিয়ে চলুন। নীরুদের ভীরু পরিবার কি বলল সেদিক ভাবনা আবশ্যিক নয়।

17/12/2014

FAINAL EXAM ROUTINE 33rd BATCH :
Frist exam:
Date:24.12.14-Sub:English for Law-Time:2-4pm.
Date:01.01.15-Legal History of Bangladesh-2-4pm.
Date:05.01.14-Islamic Jurisprudence-11-1pm.
Chelp time not published.

12/12/2014

-এজাহার লেখার নমুনাঃ নিজের এজাহার নিজে লিখলে হয় অনেক সঠিক ও বাস্তব কার্যকর। তাই নিজে লিখতে চেষ্টা করুন এজাহার।

০৬-১০-২০১২
বরাবর
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
উত্তরা মডেল থানা
উত্তরা, ঢাকা ১২৩০।

বিষয়: এজাহার দায়ের প্রসঙ্গে।

জনাব,
যথাবিহীত সম্মান পূর্বক বিনীত নিবেদন এ যে, আমি নিু সাক্ষরকারী মতিউর রহমান ফয়সাল; পিতা-রফিকুল ইসলাম, সেক্টর-৯ বাসা-৪২, রোড-২, উত্তরা মডেল টাউনের বাসিন্দা অদ্য আপনার থানায় উপস্থিত হইয়া এই মর্মে এজাহার দায়ের করিতেছি যে, ১) রিপন(২৪) পিতা-আ: কদ্দুস; ২) কমল(২৪) পিতা- আসগর আলী; ৩)নবীন(২২) পিতা-আসাদুজ্জামান; ৪) শ্যামল(২৪) পিতা- আসাদ মিয়া। সর্ব সাং উত্তরা অত্র এলাকার সন্ত্রাসী, বখাটে, খুনি প্রকৃতির লোক।

অপহরণের স্বীকার আমার বোন তারিনকে তারা অনেক আগে থেকে বিরক্ত করে আসছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসার সময় ইভটিজিং করতো। আমি কয়েকবার নিষেদ করা সত্যেও বিরক্ত করছিল। অপহৃত তারিন আমার আদরের ছোট বোন যে, কদমআলী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ২য় বর্ষে অধ্যায়নরত। ঘটনার দিন ৬-১০-২০১২ ইং তারিখ সকাল ৮ টায় তারিন বাসা থেকে ভার্সিটিতে ক্লাস করতে যায়। ক্লাস শেষে অনুমানিক ৯-৯.৩০ মিনিটে তারিন বাসায় আসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিচে রিকসার জন্য অপেক্ষায় থাকার সময় হঠাৎ করে সাদা মাইক্রো নিয়ে ১ নং আসামি রিপন তারিনের গতি রোধ করে তাকে হাত ধরে টানতে থাকে আর বলে, আমার সাথে চল নইলে খুন করে ফেলবো ।
আমার বোন তারিন ভয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে চা’য়ের দোকানে দাড়িয়ে থাকা তারিনের ক্লাস মেট ১.শামিম, পিতা- আশরাফুল ইসলাম; ২. সাকিব, পিতা- মুনসুর আহামেদ; ৩.হাসিব, পিতা- মোরশেদ খান; দৌড়ে আসে চিৎকার শুনে তারিনকে উদ্ধার করতে। রিপন পকেট থেকে চাকু বের করে ভয় দেখায় খুন করার। রিপনের সাথে থাকা সন্ত্রাসী কমল, নবীন ও শ্যামল এর হাতে থাকা হকিস্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে তিন জনকে। গাড়িতে তারিন কে উঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে চলে যায় রিপন সহ সন্ত্রাসী দলটি। এই দৃশ্য সাধারণ জনতার চোখে পড়লে তারা গাড়িটির দুই দিকে তাড়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই দিকের রাস্তা দিয়ে। রিপন ভয়ে তারিনকে মাইক্রোর দরজা দিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। বেশি আঘাত প্রাপ্ত শামিমকে সাকিব ও সাধারণ জনগণ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং হাসিব তারিনকে উদ্ধার করে আমাকে ফোনে বিস্তারিত জানালে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আমার বোনকে উদ্ধার করি। এবং তাৎক্ষনিক ভাবে উত্তরা মডেল থানার ডিউটি অফিসারকে ফোনের মাধ্যমে ঘটনা জানালে তারা এসে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আমাকে নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়। ১ থেকে ৪ নম্বর আসামীরা আমার বোনকে অপহরণ ও খুন করতে চেয়েছিল। এবং শামিমকে গুর“তর রকমের জখম করেছে। এর আগেও বিরক্ত করত তারিনকে । এর পিছনে আরো কারো ইন্ধন থাকতে পারে বলে আমার ধারণা। তাই উক্ত আসামীদের বিরোদ্ধে, আমি নিজে বাদী সহ শামিম, সাকিব ও হাসিবকে সাক্ষী রাখিয়া এই এজাহার দায়ের
করিলাম।

অতএব মহোদয় সমিপে বিনীত নিবেদন এই যে, আমার লিখিত দরখাস্ত এজাহার হিসেবে গণ্য করিয়া উক্ত আসামীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কর“ন। সাক্ষীগণ এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করিবেন। এবং এর সাথে আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা কামনা করছি।

বিনীত নিবেদক
……………………………….
উত্তরা, ঢাকা।
মোবাইল:

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থা 09/12/2014

বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থা বাংলাদেশে প্রায় ৬০% ফৌজদারী মামলা ভূমি সংক্রান্ত ঘটনা বা ঘটনার জের হিসাবে হয়ে থাকে। জমি ক্রয়ের পূর্বে দেখতে হয় নকশায় আছে কি-না, পরচা এবং খতিয়ানের মিল রয়েছে কি-না, বিক্রেতার উত্তরাধিকারীত্ব আছে কি-না, জমা-খারিজ করা আছে কি-না এবং দখল স্বত্ত্ব রয়েছে কিনা। বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থার নানা দিক নিম্নরুপ- …

27/11/2014

.:সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পদ্ধতি:.

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধির ১৭২নং থেকে ১৭৬নং বিধানে যেকোন অভিযুক্ত সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের বিধান নির্দেশিত রয়েছে।

কার্যপ্রণালী-বিধির ১৭২নং বিধানে কোন সংসদ সদস্যের গ্রেপ্তার কিংবা আটক ইত্যাদি বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্পীকারকে অবহিতকরণ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যদি কোন অভিযুক্ত সংসদ সদস্য ফৌজদারী অপরাধে গ্রেপ্তার হন বা যদি কোন আদালত কর্তৃক কারাদন্ডে দন্ডিত হন বা যদি কোন নির্বাহী আদেশক্রমে আটক হন, তবে ক্ষেত্রমত গ্রেপ্তারকারী বা দন্ডপ্রদানকারী বা আটককারী কর্তৃপক্ষ বা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ উক্ত কার্যপ্রণালী-বিধির তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত ফরমে অনুরূপ গ্রেপ্তার, দন্ডাজ্ঞা বা আটকের কারণ বর্ণনা করে অতি দ্রুত অনুরূপ ঘটনা স্পীকারের জ্ঞাতার্থে অবহিত করবেন।

অত্র বিধির ১৭৩নং বিধানে কোন সংসদ সদস্যের মুক্তি বিষয়েও স্পীকারকে অবহিতকরণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, কোন সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হয়ে দন্ডপ্রাপ্তির পর আপীলের বিবেচনা অনুযায়ী যদি জামিনে মুক্তি লাভ করেন বা যদি অন্যভাবে মুক্তি লাভ করেন তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুরূপ ঘটনাও তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত যথাযথ ফরমে স্পীকারকে অবহিত করবেন।

সংসদের ক্ষেত্রসীমা বা প্রাঙ্গণে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে উক্ত কার্যপ্রণালী বিধির ১৭৪নং বিধানে বলা হয়েছে যে, স্পীকারের অনুমতি ছাড়া সংসদের সীমার মধ্যে কোন ব্যক্তিকে কোন ক্রমেই গ্রেপ্তার করা যাবে না।

এদিকে ১৭৫নং বিধানে পরোয়ানা জারীর প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, যদি স্পীকারের অনুমতি পাওয়া না যায় কিংবা অনুমতি না থাকে তবে সংসদের সীমা বা প্রাঙ্গণে কোনরূপ দেওয়ানী বা ফৌজদারী পরোয়ানা জারী করা যাবে না।

ম্যাজিস্ট্রেট প্রমূখের নিকট হতে প্রাপ্ত পত্র সম্পর্কে করণীয় বিষয়েও ১৭৬নং বিধানে বলা হয়েছে যে, কার্যপ্রণালী বিধির ১৭২নং কিংবা ১৭৩নং বিধি মোতাবেক পত্র পাওয়ার পর স্পীকার যথাশীঘ্র সংসদ অধিবেশন থাকলে সংসদে তা পাঠ করবেন অথবা সংসদের অধিবেশন যদি না থাকে তবে সকল সদস্যদের অবগতির লক্ষ্যে তা প্রচারের নির্দেশ প্রদান করবেন।

সারকথা: গোলাম মাওলা রনিকে সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে স্পীকারের অনুমতি ব্যতিরেকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকে মূলত বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সংসদ প্রাঙ্গণ থেকে নয় তাই তার গ্রেপ্তার কার্যক্রমে অযৌক্তিকতার কিছু ছিল না। মোট কথা কোন সংসদ সদস্যকে শুধুমাত্র সংসদ প্রাঙ্গণেই গ্রেপ্তার করতে চাইলে অবশ্যই স্পীকারের অনুমতির প্রয়োজন পড়বে আর প্রাঙ্গণের বাইরে থাকলে গতানুগতিক নিয়মেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গ্রেপ্তারের সুযোগ রয়েছে। তবে বিগত মেয়াদে তত্‍কালীন বিরোধীদলীয় চীপ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুককে স্পীকারের অনুমতি ব্যতিরেকে এমনকি সংসদ প্রাঙ্গণ থেকেই কিভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছিল সে প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।

..............

সংযুক্তি:

"গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি (সংশোধিত)"- এর;

বিধি ১৭২: কোন সদস্যের গ্রেপ্তার, আটক ইত্যাদি বিষয় ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্পীকারকে জ্ঞাতকরণ-
কোন সদস্য ফৌজদারী অভিযোগে বা অপরাধে গ্রেফতার হইলে কিংবা কোন আদালত কর্তৃক কারাদন্ডে দন্ডিত হইলে বা কোন নির্বাহী আদেশক্রমে আটক হইলে ক্ষেত্রমত গ্রেপ্তারকারী বা দন্ডদানকারী বা আটককারী কর্তৃপক্ষ বা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত যথাযথ ফরমে অনুরূপ গ্রেপ্তার, দন্ডাজ্ঞা বা আটকের কারণ বর্ণনাপূর্বক অবিলম্বে অনুরূপ ঘটনা স্পীকারকে জানাইবেন।

বিধি ১৭৩: কোন সদস্যের মুক্তির বিষয় স্পীকারকে জ্ঞাতকরণ-
কোন সদস্য গ্রেপ্তার হইয়া দন্ড প্রাপ্তির পর আপীলের বিবেচনা সাপেক্ষে জামিনে মুক্ত হইলে বা অন্যভাবে মুক্ত হইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুরূপ ঘটনাও তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত যথাযথ ফরমে স্পীকারকে জানাইবেন।

বিধি ১৭৪: সংসদের সীমার মধ্যে গ্রেপ্তার-
স্পীকারের অনুমতি ব্যতিরেকে সংসদের সীমার মধ্যে কাহাকেও গ্রেপ্তার করা হইবে না।

বিধি ১৭৫: পরোয়ানা জারী-
স্পীকারের অনুমতি ব্যতিরেকে সংসদের সীমার মধ্যে কোনরূপ দেওয়ানী বা ফৌজদারী পরোয়ানা জারী করা হইবে না।

বিধি ১৭৬: ম্যাজিস্ট্রেট প্রমুখের নিকট হতে প্রাপ্ত পত্র সম্বন্ধে করণীয়-
১৭২ বা ১৭৩ বিধি মোতাবেক পত্র পাইবার পর স্পীকার যাথাশীঘ্র সংসদ অধিবেশনে থাকিলে সংসদে তাহা পাঠ করিবেন, কিংবা সংসদের অধিবেশন না চলিলে সদস্যদিগের অবগতির জন্য তাহা প্রচার করার নির্দেশ দিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন সদস্যের জামিনে বা আপীলে খালাস হওয়ার সংবাদ যদি মূল গ্রেপ্তার সংসদকে জ্ঞাপনের পূর্বে পাওয়া যায়, তাহা হইলে অনুরূপ গ্রেফতার বা পরবর্তী মুক্তি বা খালাসের সংবাদ স্পীকার সংসদকে না জানাইলেও চলিবে।
মোঃ রায়হান মোল্লা
ছাত্র
আইন বিভাগ

27/11/2014

ফৌজদারী কার্যবিধি-জামিন সম্পর্কিত ধারা

ধারা ৪৯৬। যে সকল ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে

ধারা ৪৯৭। যখন জামিনের অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে

ধারা ৪৯৮। জামিন মঞ্জুর ও জামিনের অর্থের পরিমাণ হ্রাসের ক্ষমতা

ধারা ৪৯৯। আসামী ও জামিনদারের বন্ড









ধারা ৪৯৬। যে সকল ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে:

জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তি কোন থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হইলে বা আটক থাকিলে, বা আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে হাজির করা হইলে, সে যদি উক্ত অফিসারের হেফাজতে থাকিবার সময় বা উক্ত আদালতের কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে জামানত দিতে প্রস্তুত থাকে তাহা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দিতে হইবেঃ



তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত অফিসার বা আদালত উপযুক্ত মনে করিলে তাহার নিকট হইতে জামানত গ্রহণের পরিবর্তে সে অতঃপর বর্ণিতভাবে হাজির হইবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করিলে তাহাকে মুক্তি দিতে পারিবেন।



তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোন বিধান ১০৭ ধারার (৪) উপধারা বা ১১৭ ধারার (৩) উপধারার কোন বিধানকে প্রভাবিত করিবে বলিয়া গণ্য করা হইবে না।







ধারা ৪৯৭। যখন জামিনের অযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে :

(১) জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার হইলে বা আটক থাকিলে অথবা আদালতে হাজির হইলে বা তাহাকে হাজির করা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া যাইেত পারে; কিন্তু সে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় কোন অপরাধে দোষী বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকিলে উক্তরূপে দেওয়া যাইবে নাঃ



তবে শর্ত থাকে যে, আদালত এইরূপ অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তি ষোল বৎসরের কম বয়স্ক বা স্ত্রীলোক বা পীড়িত বা অক্ষম হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারিবেন।



(২) ক্ষেত্রমতে তদন্ত, ইনকোয়ারী বা বিচারের কোন পর্যায়ে উক্ত অফিসার বা আদলতের নিকট যদি প্রতিয়মান হয় যে, আসামী জামিনের অযোগ্য কোন অপরাধ করিয়াছে বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ নাই, কিন্তু তাহার অপরাধ-সম্পর্কে আরও ইনকোয়ারির পর্যাপ্ত হেতু রহিয়াছে, তাহা হইলে এইরূপ ইনকোয়ারী সাপেক্ষে আসামীকে জামিনে, অথবা উক্ত অফিসার বা আদলত বা আদালতের ইচ্ছানুযাসারে সে অতঃপর বর্ণিতভাবে হাজির হইবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করিলে তাহাকে মুক্তি দিত পারিবেন।



(৩) কোন অফিসার বা আদালত (১) উপধারা বা (২) উপধারা অনুসারে কোন ব্যক্তিকে মুক্তি দিলে তাহার ঐরূপ করিবার কারণ লিপিবদ্ধ করিবেন।



(৪) জামিনের অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিচার সমাপ্ত হইবার পর এবং রায় দানের পূর্বে কোন সময় আদালত যদি মনে করেন যে, আসামী উক্ত অপরাধে দোষী নহে বলিয়া বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে, তাহা হইলে আসামী হাজতে থাকিলে রায় শ্রবণের উদ্দেশ্যে হাজির হইবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদনের পর তাহাকে মুক্তি দিবেন।



(৫) হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত এবং নিজে মুক্তি দিয়া থাকিলে অন্য কোন আদালত এই ধারা অনুসারে মুক্তিপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করাইতে ও তাহাকে হাজতে প্রেরণ করিতে পারিবেন।



ধারা ৪৯৮। জামিন মঞ্জুর ও জামিনের অর্থের পরিমাণ হ্রাসের ক্ষমতা:

এই অধ্যায়ের অধীন সম্পাদিত প্রত্যেক বণ্ডের অর্থের পরিমাণ মকদ্দমার যথাযথ পরিস্থিতি বিবেচনা করিয়া নির্ধারণ করিতে হইবে এবং উহা অত্যধিক হইবে না এবং দন্ডের পর আপীল থাকুক বা না থাকুক, হাইকোর্ট বিভাগ বা দায়রা আদালত যেকোন ক্ষেত্রে যেকোন ব্যক্তিকে জামিন মঞ্জুর করিবার বা পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দাবিকৃত জামানত হ্রাস করিবার নির্দেশ দিতে পারেন।







ধারা ৪৯৯। আসামী ও জামিনদারের বন্ড:

(১) কোন ব্যক্তিকে জামিনে বা তাহার নিজের মুচলেকায় মুক্তি দেওয়ার পূর্বে উক্ত ব্যক্তি পুলিশ অফিসার বা আদালত যেইরূপ পর্যাপ্ত মনে করেন সেইরূপ পরিমাণ অর্থের জন্য একটি বন্ড সম্পাদন করিবে এবং যখন তাহাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় তখন এক বা একাধিক পর্যাপ্ত জামিনদার এই শর্তে বন্ড সম্পাদন করিবে যে, উক্ত ব্যক্তি বন্ডে উল্লেখিত সময়ে ও স্থানে হাজির হইবে এবং পুলিশ অফিসার বা আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উক্তরূপে হাজির হইতে থাকিবে।



(২) মকদ্দমার প্রয়োজন হইলে জামিনে মুক্ত ব্যক্তির জন্য আরও শর্ত থাকিবে যে, অভিযোগের জবাবদানের জন্য আহ্বান করা হইলে হাইকোর্ট বিভাগ, দায়রা আদালত বা অন্য কোন আদালতে হাজির হইতে হইবে।
মোঃ রায়হান মোল্লা
ছাত্র
আইন বিভাগ

27/11/2014

পালিয়ে বিয়ে ও অপহরণ মামলা

কুমিল্লায় একই এলাকায় পাশাপাশি বসবাসরত শিমুল আর আঁখির মধ্যে ৩ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। একদিন দুজনে মিলেই সিদ্ধান্ত নিল কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করবে। কথামতো কাজ। দুজনেই নিকটস্থ কাজি অফিসে যায় এবং ৪ লক্ষ টাকা দেনমোহর নির্ধারণে বন্ধুবান্ধবদের উপস্থিতিতে বিয়ে করে। একই দিন তারা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের হলফনামা সম্পন্ন করে।



আঁখিকে নিয়ে শিমুল ওই দিনই শিমুলের বাবার বাড়িতে গিয়ে ওঠে। ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়ে। বিয়ের দুই দিন পরেই আঁখির বাবা শিমুল আর শিমুলের বাবাকে আসামি করে অপহরণ মামলা ঠুকে দেয় নিকটস্থ থানায়।



এ খবর পাবার পর শিমুল ও আঁখি থানায় বারবার ফোন দিয়ে বলে যে তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছে। আঁখির বাবার আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। পুলিশ তাদের কথা শুনেনি। পুলিশ তাদের কথায় কথায় গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়। কোনো উপায় না দেখে হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের আগাম জামিন নেন শিমুল ও তার বাবা। এতে আঁখির বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আগাম জামিন নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পুলিশ চার্জশিট দেয় আদালতে।

কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়। এদিকে শিমুলকে জামিন দেয়নি আদালত। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন পায় শিমুল। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যের দিন আসে। আঁখি বাবার কাছে বারবার কান্নাকাটি করে ক্ষমা চায়, তার স্বামী-শ্বশুরকে মুক্ত করে দিতে বলে। বাবার মন গলে কি না, পরে আর জানা যায়নি। এই মামলায় যদি দুই পক্ষ আপস করে শিমুলকে নির্দোষ বলে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে শিমুল ও তার বাবা মুক্ত হতে পারে। অথবা শিমুল ও আঁখি যদি দুজনে সাবালক এবং দুজনে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছে, এ সাক্ষ্য দেয়, তাহলেও মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে পারে তারা। অবশ্য দুজনের বার্থ সার্টিফিকেট ও অন্যান্য সনদ থেকে প্রমাণ মেলে যে তারা উভয় প্রাপ্তবয়স্ক।



শিমুল ও আঁখির মতো এমন অনেক ঘটনায় ঘটছে আমাদের সমাজে। এখানে কয়েকটি প্রশ্ন আসতে পারে। এ ঘটনার শিকার মেয়েটি যদি নাবালিকা হয়, তাহলে কি তার স্বামী ও শ্বশুর ফেঁসে যেতে পারত?

এর উত্তরে বলা যায়, হ্যাঁ, পারত। কারণ, ১৮ বছরের কম বয়স্ক মেয়ের স্বেচ্ছায় মতামতের মূল্য নেই আইনের চোখে। আইনের চোখে সে নাবালিকা। এ ক্ষেত্রে এমন হতে পারে যে মেয়েটি সাবালিকা না হওয়া পর্যন্ত কাস্টডিতে পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারেন আদালত। অনেক সময় গভীর প্রেমাসক্ত হয়ে নাবালিকা স্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, প্রেমিক স্বামী ব্যতীত সে আর কোথাও যাবে না; তার পিতা-মাতার জিম্মায়ও যেতে চায় না। প্রেমিক জেলে থাকলে প্রেমিকাও কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে থাকতে চায়। তার পিতা-মাতার পরিবর্তে শ্বশুর বা শাশুড়ির জিম্মায় যেতে চায়। তবে তাদের মধ্যে বিয়েটি অবৈধ হয়ে যাবে না। আর ২১ বছরের ছেলে এবং ১৮ বছরের মেয়ে স্বেচ্ছায় বিয়ে করলে তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না।

এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারকের সাথে কথা হয়। তার অভিজ্ঞতার কথা এখানে তুলে ধরছি-

সাধারণত প্রেমের বিয়ের ক্ষত্রে অপহরণের মামলা হয়। এ মামলার ভবিষ্যৎ কী হয়?



বাস্তবে দেখা গেছে, মেয়েটির বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৮-এর কম হয়ে থাকে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইন অনুযায়ী বয়স যদি ১৬ বছরের নিচে হয়, তবে তাদের সম্মতির কোনো মূল্য নেই। তারা প্রেমিকের হাত ধরে স্বেচ্ছায় চলে গেলেও অপহরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবে প্রেমিক এবং শাস্তিও ভোগ করবে।

অনেক সময় ধর্ষণের মামলাও হতে দেখা যায়? সে ক্ষেত্রে কীভাবে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়?



স্বেচ্ছায় বিয়ে করে যদি প্রেমিক স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে, তবে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে মেয়ের বয়স যদি ১৬ বছরের কম হয়, সে ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যেতে পারে। তবে ভিকটিমকে সাক্ষ্য দিতে হবে যে তার সাথে প্রতারণা করে এই সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আদালতের কিছু করণীয় থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে অপহরণের মামলা ভিকটিমসহ অন্যান্য সাক্ষী তাদের সাক্ষ্যে বলে, ভিকটিম তার বান্ধবীর সঙ্গে তার পিতা-মাতাকে কিছু না বলে খালার বা বান্ধবীর বাড়িতে বা ঢাকায় বেড়াতে গিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ভিকটিম তার প্রেমিকের সঙ্গে চলে গেছে এবং বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একত্রে রাতযাপন করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এ ধর্ষণের সংজ্ঞার উল্লেখ আছে;

বিবাহবন্ধন-বহির্ভূত ১৬ বছরের অধিক বয়সের কোনো মেয়ের যদি যৌনকর্মে সম্মতি থাকে, তবে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে না এবং এর জন্য পুরুষসঙ্গীর কোনো শাস্তিও হবে না। কিন্তু অপহরণের ব্যাপারে কোনো বয়সের কথা উল্লেখ নেই। দণ্ডবিধির ৩৬১ ধারাতে উল্লেখ আছে, ১৬ বা তার অধিক বয়সের কোনো নারী যদি কারও সঙ্গে স্বেচ্ছায় চলে যায়, তবে তা অপহরণ হিসেবে গণ্য হবে না।



নিরাপত্তা হেফাজতে কখন পাঠানো হয়?

স্বেচ্ছায় চলে গিয়ে বিয়ে করে ফেললেও তাকে তার কথিত স্বামী বা শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তা হেফাজতে প্রদান করা যাবে না। ভিকটিম তার পিতা-মাতার হেফাজতে যেতে সম্মত না থাকলে হাজতে থাকবে, যত দিন ১৮ বছর পূর্ণ না হবে। তবে ১৮ বা তার বেশি ভিকটিমের বয়স হলে ট্রাইব্যুনাল ভিকটিমকে নিজ হেফাজতে দিতে পারবে। ট্রাইব্যুনাল নিরাপত্তা হেফাজতের ক্ষেত্রে ভিকটিমকে তার মতামত জিজ্ঞাসা করতে পারে। ১৬ বছর বা তার অধিক বয়সের কোনো ভিকটিম যদি স্বেচ্ছায় তার প্রেমিকের সঙ্গে চলে যায়, সে ক্ষেত্রে পিতা-মাতা মামলা দায়ের করলে ট্রাইব্যুনালের কিছু করার থাকে না। ভিকটিমের মতামতের মূল্য দিয়ে থাকে।



অনেক সময়তো সত্য অপহরণের অভিযোগও আপস-মীমাংসা করতে দেখা যায়?

অনেক সময় সন্ত্রাসীদের ভয়ে বা সামাজিক চাপে বা অর্থের বিনিময়ে আপস করে থাকে। অপহরণের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ ঘটনায় ভিকটিমের পরিবার অপহরণকারী প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং পরিশেষে সেই মর্মে কোর্টে কোনো সাক্ষ্য না দিয়ে আসামিকে খালাসের ব্যবস্থা করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এমনও দেখা যায়, ভিকটিম উদ্ধারের পরে পিতা-মাতার হেফাজতে এলে তার ভুল বুঝতে পারে এবং প্রেমিক স্বামীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে জবানবন্দি দেয় এবং বলে যে আসামিরা জোরপূর্বক বা অজ্ঞান করে অপহরণ করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভিকটিম জবানবন্দিতে বলে, ভিকটিম আসামির প্রেমাসক্ত ছিল এবং প্রেমের টানে আসামিকে বিয়ে করার জন্য তার সঙ্গে চলে যায়।
মোঃ রায়হান মোল্লা
ছাত্র
আইনবিভাগ

25/11/2014

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় সুপ্রীম কোর্টই হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালত। অনেক দেশে সুপ্রীম কোর্টের পরও বৃটেনের প্রিভি কাউন্সিলে আপীল করার সুযোগ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এখন সেটা নেই।

সু্প্রীম কোর্টের দু’টি বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপীল বিভাগ। পাশের দেশ ভারতে একাধিক হাইকোর্ট থাকলেও বাংলাদেশে হাইকোর্ট একটি। এই হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপীল বিভাগ দু’টো একই এলাকায় অবস্থিত। মানুষের মুখে মুখে যা হাইকোর্ট নামে পরিচিত।



মামলা

উচ্চ আদালতে বিভিন্নভাবে মামলা হতে পারে। নিম্ন আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল হতে পারে, মৃত্যুদন্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে আসতে পারে, আবার নিম্ন আদালতে চলমান বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে হাইকোর্ট কোন নির্দিষ্ট মামলার ব্যাপারে নিম্ন আদালতকে নির্দেশনা দেয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে মামলাটিকে উচ্চ আদালতে নিয়ে আসে।

কিছু কিছু মামলা আছে যেগুলোতে সরাসরি হাইকোর্টে যেতে হয়, যেমন: কোম্পানী সংক্রান্ত মামলা, খ্রিস্টান বিবাহ সংক্রান্ত মামলা, এডমিরালটি বা সমুদ্রগামী জাহাজ সংক্রান্ত মামলা।



রিট

সংবিধানের ১০২ ধারা অনুসারে যেকোন নাগরিক রিট আবেদন করতে পারেন। রিটের বিষয়টি মামলার মত হলেও মৌলিক একটি পার্থক্য আছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোন আইনের অধীনে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করতে পারে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়।

আবার কেউ যদি মনে করে সরকারের প্রণীত কোন আইন প্রচলিত অন্য আইনের পরিপন্থী বা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক, সে ক্ষেত্রেও আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করা যায়।

অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে রিট এবং সাধারণ মামলা দু’টিই করা চলে। রিটে খরচ কিছুটা বেশি হলেও সাধারণত দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।



এডমিনিস্ট্রেটিভ আপিলেট ট্রাইব্যুনাল



সংবিধানের ১১৭ ধারা অনুসারে এডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল বা প্রসাশনিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। সরকারি এবং আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরি সংক্রান্ত জটিলতায় এডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়, এরপর আপীল করতে হয় এডমিনিস্ট্রেটিভ আপিলেট ট্রাইব্যুনালে। এই এডমিনিস্ট্রেটিভ আপিলেট ট্রাইব্যুনালকে হাইকোর্টের সমান মর্যাদা দেয়া হয়। কাজেই এর বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে হাইকোর্টে নয়, আপীল বিভাগে আপীল করতে হয়।

আপীল করা



সংবিধানের ১০৩ ধারা অনুসারে আপীল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ থাকে। হাইকোর্টে মামলা শেষ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আপীলের আবেদন করা যায়। আপীল বিভাগ মামলটিকে আপীল করার যোগ্য মনে করলে আমলে নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। আবার কোন মামলা চলাকালে যদি হাইকোর্ট মনে করে মামলাটিতে সংবিধানের ব্যাখ্যার বিষয়টি জড়িত, তবে হাইকোর্ট বিভাগও মামলাটিকে আপীল বিভাগে পাঠাতে পারে।

লিভ টু আপিল



হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া রায়ে যদি আপীল করা না করা প্রসঙ্গে কিছু উল্লেখ না থাকে, তবে প্রথমে আপীল বিভাগে আপীলের আবেদন করতে হয়। এই আবেদনকেই লিভ টু আপিল বলে। আবেদনকারী কি যুক্তিতে আপীল করতে চাইছে এসময় সেটা তুলে ধরতে হয়। আপীল বিভাগ আপীলের যোগ্য মনে করলে নিয়মিত মামলা হিসেবে সেটিকে গ্রহণ করে।

জামিন এবং আগাম জামিন

যদি কোন মামলায় নিম্ন আদালত জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে উচ্চ আদালত জামিন আবেদন বিবেচনা করে জামিনের নির্দেশ দিতে পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মামলাটি নিম্ন আদালতে চলতে থাকে, যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে বেরিয়ে আসার সুযোগ পান।

সাধারণত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আগাম জামিনের সুবিধা পান। যদি কেউ আশংকা করে যে তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা হতে পারে, তবে তিনি আগেভাগেই হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন।

হাইকোর্ট গুরুত্ব বুঝে আগাম জামিনের নির্দেশ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা গেলেও ঐ মামলায় তাকে গ্রেফতার করা যায় না।



কারা মামলা করতে পারেন

অন্য সব আদালতের মত উচ্চ আদালতেও নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে আইনজীবির সাহায্য নেয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে আইনগত দিক বুঝে আত্নপক্ষ সমর্থন বা নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে আইনজীবির সাহায্য নেয়া ভালো। যেসব আইনজীবি উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করার জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছেন, কেবল তারাই উচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারেন। কাজেই নিম্ন আদালতে নিয়মিত মামলা পরিচালনা করছেন কিন্তু উচ্চ আদালতে তালিকাভুক্ত নন এমন আইনজীবি মামলা পরিচালনা করতে পারেন না।

অন্তত দুই বছর বাংলাদেশের কোন জেলা জজ আদালতে মামলা পরিচালনা করেছেন এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবির তত্ত্বাবধানে কাজ করেছেন এমন আইনজীবি হাইকোর্টে তালিকাভুক্তির আবেদন করতে পারেন। আইনজীবিদের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বার কাউন্সিল লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকাভুক্তির জন্য বাছাই করে। একটি এনরোলমেন্ট কমিটি মৌখিক পরীক্ষা নেয়। এখানে সদস্য হিসেবে হাইকোর্টের দু’জন বিচারকও থাকেন।

ব্যরিস্টারি পাশ করে যারা আবেদন করেন তাদের কেবল মৌখিক পরীক্ষা দিতে হয়।

তবে আপীল বিভাগে মামলা করতে হলে আরেক দফা অনুমতি নিতে হয়। হাইকোর্ট বিভাগে অন্তত পাঁচ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন আইনজীবি এক্ষেত্রে তালিকাভুক্তির আবেদন করতে পারেন।



আইনজীবির সাথে যোগাযোগ:

সংশ্লিষ্ট আইনজীবি নিম্ন আদালতে মামলা শেষ হওয়ার পর উচ্চ আদালতে মামলার জন্য কোন আইনজীবির কাজে যেতে হবে সে পরামর্শ দিতে পারেন। তবে যেকোন আইনজীবির কাছেই যাওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশের নিয়মানুযায়ী ব্যারিস্টারগণ মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আলাদা কোন সুবিধা পান না। তবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবির হাতে ফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

অভিজ্ঞ এবং সুপরিচিত আইনজীবি ছাড়া যে মামলা জেতা যাবে না, তা কিন্তু নয়। তুলনামূলকভাবে নবীন কিন্তু দক্ষ আইনজীবিও কম খরচে মামলা জিতিয়ে দিতে পারেন।

বিভিন্ন আইনজীবি বিভিন্ন ধরনের মামলা পরিচালনা করতে অভ্যস্ত, কাজেই বিষয়টি জেনে আইনজীবি বাছাই করা ভালো। আর পরিচিতদের মাধ্যমেও আইনজীবিদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা যেতে পারে। ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত ল’ফার্মগুলোর সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আবার ব্যক্তিগতভাবেও কাউকে মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

হাইকোর্ট চত্বরে অবস্থিত সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ভবনে বিভিন্ন আইনজীবির চেম্বার রয়েছে, এছাড়া এ ভবনের দু’টি হলে আইনজীবিগণ বসেন। সুপ্রীম কোর্ট বার অফিস থেকে তালিকাভুক্ত সব আইনজীবির ঠিকানা ও ফোন নম্বর সম্বলিত একটি ডিরেক্টরী সংগ্রহ করা যেতে পারে। এটি প্রতিবছর আপডেট করা হয়।



মামলার দায়িত্ব দেয়া:



ওকলাতনামা বা একটি চুক্তিপত্রে সাক্ষরের মাধ্যমে আইনজীবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার দায়িত্ব দিতে হয়। একবার আইনজীবিকে দায়িত্ব দেবার পর তার লিখিত সম্মতি ছাড়া অন্য কোন আইনজীবির মাধ্যমে মামলা পরিচালনার সুযোগ থাকে না।

উকিল নোটিশ

যে কোন মামলা শুরু করার আগে প্রতিপক্ষকে নোটিশ দেয়ার একটি রেওয়াজ আছে। সাধারণত যে আইনজীবিকে মামলার দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তিনি এই নোটিশ দেন। নোটিশে মূলত একটি নির্দিষ্ট সময় দিয়ে বলা হয় যে, এই সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে মামলা করা হবে। কতদিন সময় দিতে হবে তার নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবে সরকার প্রতিপক্ষ হলে এক মাস সময় দেয়ার রেওয়াজ চালু আছে। অন্য ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টা থেকে থেকে এক মাস পর্যন্ত সময় দেয়া হতে পারে।

উকিল নোটিশের জন্যও আইনজীবিকে ফি দিতে হয়, আর অধিকাংশ আইনজীবি উকিল নোটিশ দেবার আগে ওকলাতনামায় সাক্ষর নেন।

উচ্চ আদালতে মামলা করতে হলে উচ্চ আদালতে কাজ করেন এমন আইনজীবিকেই নোটিশ দিতে হয়। আর নিম্ন আদালতের মামলা হলে যেকোন আইনজীবি নোটিশ দিতে পারেন।

উকিল নোটিশের সাথে আদালতের কোন সম্পৃক্ততা নেই।



মামলার খরচ

খরচ দু’ভাবে হয়। একটি আইনজীবির ফি বাবদ, অন্যটি দাপ্তরিক খরচ বাবদ। আইনজীবির ফি-এর অংক নির্দিষ্ট নয়। বিভিন্ন আইনজীবি বিভিন্ন ধরনের মামলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অংকের ফি নেন। স্বাভাবিকভাবেই জ্যেষ্ঠ আইনজীবিদের ফি-এর অংকটা বেশি হয়।

মামলার ধরন বুঝে দাপ্তরিক খরচ নির্ধারিত হয়। আর্থিক দাবীর ক্ষেত্রের টাকার পরিমাণের ওপর এটি নির্ভর করতে পারে।



মামলা শুরু করা:

এ কাজটি আইনজীবি বা তার সহকারী করেন। কোর্ট অফিসে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করলে একটি নম্বর পাওয়া যায়। তারপর হাইকোর্টের কোন একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করাতে হয়। এরপর থেকে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি প্রদর্শিত হতে থাকে। কার্যতালিকা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে শুনানী সম্পন্ন করা হয়। একাধিক দিন শুনানী হতে পারে। প্রতিপক্ষকে আত্নপক্ষ সমর্থনের জন্য সময় দেয়া হতে পারে। তবে এর মাঝে বেঞ্চ ভেঙে দেয়া হলে পুনরায় অন্য একটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়।

এই কার্যতালিকাকেই কজলিস্ট বলা হয়। সুপ্রীম কোর্টে গিয়ে যে কেউ এটি দেখতে পারেন, সুপ্রীম কোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রতিদিনের কার্যতালিকা দেয়া হয়। হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপীল বিভাগের জন্য দু’টি পৃথক কার্যতালিকা থাকে।



ছুটি



বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে ঐতিহ্যগতভাবে দীর্ঘ ছুটির রেওয়াজ চলছে। শুক্র ও শনিবার আদালতের কোন কার্যক্রম চলে না। সরকারি ছুটির দিনেও আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। প্রতিবছর সুপ্রীম কোর্ট তার নিজের ছুটির তালিকা একটি ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়। সাধারণত পাঁচ দফায় দীর্ঘ ছুটি হয়:

মার্চের শেষ সপ্তাহ ও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ

জুনের শেষ সপ্তাহ ও জুলাই-এর প্রথম সপ্তাহ

আগস্টের শেষ সপ্তাহ ও পুরো সেপ্টেম্বর

অক্টোবরের শেষ দুই সপ্তাহ

ডিসেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহ

চেম্বার জজ

যেকোন সময় বিশেষ প্রয়োজনে, বিশেষ করে দীর্ঘ ছুটিতে জরুরি মামলার বিষয়টি দেখার জন্য প্রধান বিচারপতি আপীল বিভাগের একজন বিচারককে চেম্বার জজ হিসেবে নিয়োগ করেন। তিনি আবেদনকারীর আবেদন বিবেচনা করে প্রয়োজনে নির্দেশ দেন, কিংবা নিয়মিত বেঞ্চে শুনানীর জন্য বিষয়টি পাঠিয়ে দেন। তিনি অফিস সময়ের বাইরেও আবেদন শুনতে পারেন, এমকি বাসায়ও আবেদন বিবেচনা করে রায় দিতে পারেন। তবে দেরি করলে আবেদনকারীর ক্ষতি হতে পারে কেবল এমন আবেদনই তিনি বিবেচনা করেন

উৎসঃ

প্রকাশিকডটওয়ার্ডপ্রেসডটকম

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka