27/04/2026
"ফজলুল হক মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত খাঁটি বাঙ্গালী। সেই সঙ্গে ফজলুল হক মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত খাঁটি মুসলমান। খাঁটি বাঙ্গালীত্বের সাথে খাটি মুসলমানত্বের এমন অপূর্ব সমন্বয় আমি আর দেখি নাই। ফজলুল হক আমার ছাত্র বলে বলছিনা, সত্য বলেই বলছি।খাঁটি বাঙ্গালীত্ব ও খাটি মুসলমানত্বের সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ বাঙ্গালীর জাতীয়তা।"
~(আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর : আবুল মনসুর আহমদ)
শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন ব্রিটিশ ভারতে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩), কলকাতার প্রথম মুসলিম মেয়র (১৯৩৫), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (১৯৫৫) পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর (১৯৫৬-১৯৫৮)।
বাংলায় তিনি কৃষক প্রজা পার্টির মাধ্যমে নিচু জাতের হিন্দু ও মুসলমান উভয় কৃষকদের স্বার্থের পক্ষে সংগ্রাম করেছেন। অবিভক্ত বাংলায় তিনিই ছিলেন সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলিম নেতা ও একই সাথে অসাম্প্রদায়িক নেতা।
আজ ২৭শে এপ্রিল উপমহাদেশের স্বাধীনতার অগ্রনায়ক, অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী, কৃষক প্রজাস্বত্ব আইনের রূপকার, যুক্তফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম নেপথ্য ব্যক্তি শের-এ-বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক এঁর ৬৪-তম মৃত্যুবার্ষিকী।
মহান নেতার প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
25/04/2026
দা মিটি নি যৌভা, ইঊ কাং গৌ নাউ ( The meeting is over, you can go now) একজন Native English Speaker কে এভাবে ক্যান বা কান এর জায়গায় 'ক্যাং' বলতে শুনেছেন? এটি একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া (linguistic process)
Isolated এবং carefully উচ্চারিত অনেক words ( যা তাদের citation বা অভিধানগত রূপ) rapid বা Connected speech-এ গিয়ে তাদের এই রূপের এবং ধ্বনিগত পরিবর্তন হয়ে থাকে। Native English Speaker দের কথা বুঝতে হলে এই বিষয়গুলোর সাথে পরিচিত হওয়া খুব জরুরি। প্রক্রিয়াগুলো একটি হলো Assimilation ( ধ্বনির পরিবর্তন)।
Have you got your picket money this month? ( /m/ এর পূর্বে /t/ ধ্বনিটি /p/ তে পরিবর্তিত হয়)
The grocery might be busy in the afternoon. ( /b/ এর পূর্বে /t/ ধ্বনিটি /p/ তে পরিবর্তিত হয়)
My brother got prepared for the exam. ( /p/ এর পূর্বে /t/ ধ্বনিটি /p/ তে পরিবর্তিত হয়)
( Assimilation 1)
11/04/2026
আজ সত্যিই লজ্জায় মাথা নত হয়ে যায়। যে দেশে একজন “মানবিক ডাক্তার” বছরের পর বছর বিনা পারিশ্রমিকে মানুষের জীবন বাঁচান, সেই দেশেই তার হাসপাতাল চাঁদাবাজদের টার্গেট হয়! ডা. কামরুল সাহেব ২ হাজারেরও বেশি মানুষের দেহে বিনামূল্যে কিডনি স্থাপন করে দিয়েছেন, তাকে ছাড় দিলো না চাঁদাবাজরা....
আজকে যারা চাঁদাবাজি নির্ভর দল করে তাদের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, তা আজ এমন ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। যখন দলের নাম ব্যবহার করে কিছু নেতাকর্মী মানবতার সেবায় নিয়োজিত মানুষকেও ছাড় দেয় না, তখন বুঝতে বাকি থাকে না—এই রাজনীতি আদর্শ হারিয়েছে, মানবতা হারিয়েছে।
একটা দল তখনই ধ্বংসের দিকে এগোয়, যখন তাদের ভেতরে নৈতিকতার মৃ*ত্যু ঘটে। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব আর অপকর্ম কখনোই জনগণের সমর্থন এনে দিতে পারে না—বরং ঘৃণা আর প্রত্যাখ্যানই বাড়ায়।
মানুষ এখন সব বুঝে। মানবতার বিরুদ্ধে যারা দাঁড়ায়, তাদের জন্য জনগণের আদালতে কোনো ক্ষমা নেই।
👉 মানবিক মানুষদের পাশে দাঁড়ান, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করুন।
11/04/2026
“আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকি,
তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে”
– সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।
08/04/2026
This is the difference between a diplomat and a a fascist authoritarian.
06/04/2026
নিখোঁজ ক্রুকে আমেরিকা ঠিকই খুঁজে বের করে উদ্ধার করে নিয়ে গেল, কিন্তু ইরানিরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাকে ধরতে পারল না। এর কারণ কী?
ওই ক্রুকে খুঁজে বের করা ইরানিদের জন্য ছিল খড়ের গাঁদায় সুঁই খোঁজা, কিন্তু মার্কিনরা তার একেবারে নিখুঁত অবস্থান জানত।
মার্কিন পাইলট ও ক্রুদের জ্যাকেটে এমন কিছু উন্নত সারভাইভাল রেডিও ও জিপিএস বীকন থাকে, যা কেবল মার্কিন স্যাটেলাইট বা বিশেষ বিমানেই ধরা পড়ে। ক্রুর অবস্থান পরিবর্তন হলেও এটি নিখুঁতভাবে তা জানাতে থাকে। ইরানিরা হয়তো বড় এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছিল, কিন্তু মার্কিনরা জানত ঠিক কোন্ ঝোপের আড়ালে বা পাহাড়ের খাঁজে তাদের লোকটা আছে।
এটি এক ধরনের অত্যন্ত উন্নত এবং সামরিক গ্রেডের জিপিএস ট্র্যাকার। সাধারণ জিপিএসের চেয়ে এর কাজের ধরন অনেক বেশি জটিল ও নিরাপদ। একে সামরিক ভাষায় বলা হয় Combat Survivor Evader Locator (CSEL), সংক্ষেপে বীকন (Beacon)।
আমাদের ফোনের জিপিএস চলে ইন্টারনেটের ওপর ভিত্তি করে, কিন্তু এই সামরিক বীকন সরাসরি মহাকাশে থাকা বিশেষ মিলিটারি স্যাটেলাইটের সাথে যুক্ত থাকে। এটি কাজ করার জন্য কোনো টাওয়ার বা নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হয় না। এটি পৃথিবীর যেকোনো দুর্গম মরুভূমি বা পাহাড়ের খাঁজ থেকে সিগন্যাল পাঠাতে পারে।
কেন ইরানিরা ধরতে পারল না?
সাধারণ ট্র্যাকার অনবরত সিগন্যাল পাঠায় যা শত্রুপক্ষ সহজেই 'রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি স্ক্যানার' দিয়ে ধরে ফেলতে পারে। কিন্তু এই বীকনটি 'বার্স্ট ট্রান্সমিশন' পদ্ধতিতে কাজ করে। অর্থাৎ এটি সারাদিন চুপ থাকে, কেবল কয়েক মিলিসেকেন্ডের জন্য একটি অতিক্ষুদ্র ডেটা প্যাকেট উপগ্রহে পাঠায়। ইরানিরা যখন তাদের সিগন্যাল ডিটেক্টর দিয়ে আকাশ স্ক্যান করছিল, ততক্ষণে সিগন্যাল পাঠানো শেষ! একে বলা হয় LPI (Low Probability of Intercept) প্রযুক্তি।
অধিকন্তু, এই বীকন থেকে যে-তথ্য যায়, তা অত্যন্ত শক্তিশালী এএস-২৫৬ লেভেলের কোড দিয়ে লক করা থাকে। যদি ইরানিরা কোনোভাবে সিগন্যালটা ধরেও ফেলে, তবে তারা সেখান থেকে শুধু 'নয়েজ' বা জিজ-জিজ শব্দ শুনবে। সেই কোড ভাঙার মতো সুপার কম্পিউটার বা প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে ইরানি সেনাদের কাছে থাকে না। ফলে আমেরিকানরা সুনির্দিষ্টভাবে জানত তাদের লোক কোথায়, কিন্তু ইরানিরা অনির্দিষ্টভাবে শুধু এলাকাটি আন্দাজ করতে পেরেছিল।
এ ছাড়াও, ইরানি সেনাবাহিনী যখন ওই ক্রুকে ধরার জন্য কনভয় নিয়ে এগোচ্ছিল, তখন আকাশ থেকে মার্কিন এ-১০ এবং ড্রোন অনবরত ইরানিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ফলে ইরানিরা চাইলেও ক্রুর কাছে পৌঁছুতে পারছিল না। এই ‘এয়ার সাপোর্ট’ আমেরিকার জন্য বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
এভাবে, আধুনিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির যুদ্ধ।
তবে ইরানি বাহিনীও আশাতীত দক্ষতা দেখিয়েছে। ভূপাতিত করেছে সাত-আটটি মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার। এটা দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা বাতিল করতে পারে।
──────────────
⚪আবদুল হক ॥ ০৫-০৪-'২৬।
03/04/2026
তেলিয়াপাড়ার সেই ঐতিহাসিক সকাল
১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল। সকালের সূর্যটা তখনো খুব বেশি উত্তপ্ত হয়নি, কিন্তু হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে তখন টানটান উত্তেজনা। বাগানের ম্যানেজারের সাদা বাংলোটি ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে একদল সশস্ত্র যোদ্ধা—যাঁদের চোখে দেশ স্বাধীন করার স্বপ্ন আর বুকে অসীম সাহস।
বাংলোর বড় টেবিলটাকে ঘিরে বসেছেন তৎকালীন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একঝাঁক সাহসী অফিসার। উপস্থিত আছেন কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানী, মেজর খালেদ মোশাররফ, মেজর শফিউল্লাহ, মেজর জিয়াউর রহমানসহ আরও অনেকে। বাইরে চা বাগানের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ছাপিয়ে ভেতরে চলছে এক মহাপরিকল্পনার আলোচনা।
"আমরা কি বিচ্ছিন্নভাবে লড়ব নাকি এক হয়ে?"—প্রশ্নটা যখন উঠল, তখন সবার চোখেই ছিল একই উত্তর। একতা ছাড়া এই বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে জয় সম্ভব নয়।
ঠিক সেই মুহূর্তেই নেওয়া হলো ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো:
* সারা বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হলো।
* মুক্তিবাহিনীর কমান্ড স্ট্রাকচার তৈরি হলো।
* আর শপথ নেওয়া হলো—রক্ত দিয়ে হলেও এই মাটিকে শত্রুমুক্ত করা হবে।
আলোচনা শেষে কর্নেল ওসমানী যখন সবার দিকে তাকালেন, তখন সেখানে কোনো বিভেদ ছিল না। সবাই তখন কেবল একজন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ে পরিচিত। বাংলোর বাইরে এসে দাঁড়াতেই চা বাগানের শ্রমিকেরা স্যালুট ঠুকে স্বাগত জানালেন তাঁদের সূর্যসন্তানদের।
তেলিয়াপাড়ার সেই বৈঠকটিই ছিল মূলত যুদ্ধের প্রথম সুসংগঠিত পদক্ষেপ। চা বাগানের সবুজ পাতার আড়ালে যে প্রতিরোধের আগুন সেদিন জ্বলে উঠেছিল, তা-ই পরবর্তী নয় মাসে দাবানল হয়ে পুরো দেশকে মুক্ত করেছিল।
আজও ৪ এপ্রিল আসলে সেই পুরনো বাংলোটি যেন ফিসফিস করে বলে ওঠে— "এখান থেকেই শুরু হয়েছিল একটি দেশের জন্মকথা।"
03/04/2026
অপরিশোধিত তেলের সংকটে বন্ধের মুখে ইস্টার্ন রিফাইনারি; ৩ দিনের মধ্যে থামতে পারে উৎপাদন।
বাংলাদেশে মাত্র ১ টাই রিফাইনারি আছে, আর সেটাও করেছে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। সম্ভবত আইয়ুব খান করেছিল।
স্বাধীনতার এতো বছরেও একটা রিফাইনারি তৈরি করা গেল না। তেলের রিজার্ভার তৈরি করা গেল না। এটা নিয়ে কথাও বলে নাই। এটা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটা লজ্জাজনক বিষয়।
৬ মাস তেল মজুত রাখার মত একটা রিজার্ভার থাকা উচিত ছিল। গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়, অথচ কেউ-ই এটা নিয়ে কখনো আওয়াজটাই তুলে নাই।
কালের কণ্ঠ প্রতি ঘণ্টায় একটি করে ড. ইউনূসকে নিয়ে গুজব পোস্ট করে, অথচ দেশে এত এত সমস্যা—এসব তাদের চোখে পড়ে না। চোখে পড়লে ভারত নারাজ হবে।
কাগজে কলমে স্বাধীন, কিন্তু প্রায় সব কিছুতেই বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল।