24/02/2021
হায়রে তামাশার গোপালপুর...!
"মাইষে চাইয়াই পায়না, অার অামরা গোপালপুরেরা পাইয়াও চাইনা!"
সিলেট টু গোপালপুর রুটে চালু হওয়া যাত্রীর জন্য দাড়িয়ে থাকা এই বিঅারটিসি বাসের ছবিটি ৯ বছর অাগে (১০ জুন) গোপালপুর থানা ব্রীজপাড় থেকে নেয়া! বিষয়টি অবাক মনে হলেও, অনেকেই অাফসোস করবেন, গোপালপুর থেকে এই বিঅারটিসি বাসকে তাড়িয়ে দেয়ার গল্পটি পড়ে!
গোপালপুর থেকে সিলেট রুটের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় গোপালপুরবাসীর যাতায়াত সহজতর এবং দুর্ভোগ কমানোর বিবেচনায়, মো. জালাল নামের এক তরুণ বিঅারটিসির হেড অফিসে কর্মরত তার এক মামাকে বলে-কয়ে শেষমেশ চালু করেছিলো গোপালপুর টু সিলেট রুটে বিঅারটিসির বাস সার্ভিস।
কয়েকদিন বেশ ভালোই চলছিলো এ বাস সার্ভিস। কিন্তু হঠাৎ বেঁকে বসে গোপালপুর বাস মালিক সমিতির তৎকালীন নেতা-কর্মকর্তারা। গোপালপুরের বাসে করে যে সকল যাত্রী ঢাকা হয়ে সিলেট যাতায়াত করে, গোপালপুরের বাস সে সকল যাত্রী হারাবে এই ক্ষুদ্র স্বার্থের যুক্তি দেখিয়ে, তুমুল বিরুধিতার মাধ্যমে বন্ধ করে দেয়, গোপালপুরবাসীর জন্য স্বপ্নময় বিঅারটিসির এ বাস সার্ভিস!
তারপর, ঐ সালের ১১ জুন সকাল ১১ ঘটিকায় সিলেট-গোপালপুর রুটে পুনরায় বিঅারটিসি বাস সার্ভিস চালুর দাবীতে সর্বদলীয় বিক্ষোভ মিছিল করেও, গোপালপুর বাস মালিক সমিতির শক্ত অবস্থানের কাছে সুবিধা অাদায় করতে পারেনি। নিজেদের পায়ে নিজেরা কুড়াল মেরে এ বিঅারটিসি সার্ভিস বন্ধই করে দেয়া হয়!
সে সময় সামিউল আলম নামে মধুপুরের এক প্রিয় বন্ধু ফেসবুকে অামায় লিখেছিলো- "মিঠু ভাই, অান্নেগর গোপালপুরের চইরাগর (চর এলাকার মানুষ) চাইতে, অামরা পাহাইড়ারাই (পাহাড় এলাকার মানুষ) ম্যালা ভালা! অামরা চাইয়াও পাইনা, অার অান্নেরা পাইয়াও চাইননা!"
লিটন সরকার নামে অামার এক বড় ভাই ফেসবুকে এই পোস্টটি দেখে বলেছিল- 'ঐ দিন অামি এই বাসে করে গোপালপুর থানা ব্রীজপাড় থেকে ময়মনসিংহের উদ্যেশে রওনা হয়ে ছিলাম। কিন্তু বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত গিয়েই পড়লাম বিপাকে! গোপালপুর বাস মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতাকর্মীরা, বিঅারটিসির বাসটিকে থামিয়ে ড্রাইভারকে নামিয়ে বেধম মারধোর করলো। শেষে ড্রাইভার 'ভাইয়েরা অামিও শ্রমিক' শব্দটা বারবার বলে জানে পার পেলো। পরে জেনেছিলাম, অামিই ছিলাম গোপালপুর টু সিলেট রুটে চলাচল করা বিঅারটিসি বাস সার্ভিসের শেষ যাত্রী!
হায়রে, তামাশার গোপালপুর...!
কে এম মিঠু
Gopalpur, Tangail, গোপালপুর উপজেলা, টাঙ্গাইল।