04/07/2026
কিছু দিন আগে কয়েকজন স্টুডেন্ট তাদের একাডেমিক সিভি দেখার জন্য দিয়েছিল। তারা বিদেশের ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যেতে চায়। তারও আগে বিদেশের একটি ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছে এমন দুজনের সিভি রিভিউ করেছিলাম। এরা সবাই দেশের বাইরে প্রথম মাস্টার্স, দ্বিতীয় মাস্টার্স কিংবা পিএইচডি করতে আগ্রহী।
এ ছাড়া আগে-পরে আরও অনেকের সিভি রিভিউ করেছি। কিন্তু কিছুটা অবাক হলাম। একাডেমিক উদ্দেশ্যে সিভি তৈরি করেছে, কিন্তু সেখানে অনেকেই একেবারে মৌলিক বিষয়গুলো উল্লেখ করেনি। আবার এদের মধ্যে অনেকেই ৪ থেকে ৫ পৃষ্ঠার সিভি তৈরি করেছে। অন্য সব কথা বাদ, সবার আগে একটা কথা বলি, আপনি যদি এত বড় সিভি কোনো প্রফেসরকে দেন, তাহলে তিনি সেই সিভি পড়েই দেখবেন না। আমি গ্যারান্টি দিয়ে এ কথা বলছি।
আসুন, এখন দেখি একটি একাডেমিক সিভিতে কোন কোন বিষয় অবশ্যই থাকা উচিত। সবার আগে একটি বিষয় মনে রাখবেন, এটি উচ্চশিক্ষার জন্য একাডেমিক সিভি। তাই এই সিভিতে আপনার শিক্ষা, গবেষণা এবং একাডেমিক কার্যক্রমগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন।
এগুলো দেওয়ার পর যদি জায়গা থাকে, তাহলে অন্য বিষয় যোগ করতে পারেন। তবে শতভাগ চেষ্টা করবেন, সিভিটি যেন দুই পৃষ্ঠার মধ্যে শেষ হয়। এর বাইরে যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই যৌক্তিক কারণে হতে হবে।
১। নাম ও বর্তমান ঠিকানা। এখানে ফোন নম্বর ও ই-মেইল আইডিও থাকবে। আপনার নাম অবশ্যই একাডেমিক সার্টিফিকেট অনুযায়ী হবে। একই নাম যেন আপনার পাসপোর্টেও থাকে।
২। রিসার্চ ইন্টারেস্ট। দুনিয়ার সবকিছু এখানে লিখবেন না। যে বিষয়ে বিদেশে পড়তে যেতে চান, কেবল সেই বিষয় উল্লেখ করবেন। ৪ থেকে ৫টি বাক্যে লিখবেন এবং এটি অবশ্যই আপনার এসওপি ও রিসার্চ প্রপোজালের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
৩। প্রকাশিত গবেষণাপত্র (Published Papers), যদি থেকে থাকে।
৪। কনফারেন্স প্রেজেন্টেশন, যদি থেকে থাকে।
৫। থিসিস পেপার, অনার্স ও মাস্টার্স থিসিসের শিরোনাম এবং সুপারভাইজারের নাম উল্লেখ করবেন।
৬। রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স, যদি থেকে থাকে। কোনো প্রজেক্টে বা গবেষণা দলে কাজ করে থাকলে তা এখানে উল্লেখ করবেন। তবে অবশ্যই সেই গবেষণার অভিজ্ঞতা আপনার উচ্চশিক্ষার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে।
৭। ফিল্ড অব স্টাডি। অনার্স ও মাস্টার্সে পড়া এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোর্সের নাম উল্লেখ করবেন, যেগুলো বিদেশে যে বিষয়ে পড়তে যেতে চান, তার সঙ্গে সম্পর্কিত।
৮। জব এক্সপেরিয়েন্স, যদি থাকে। ৩ বা ৪টি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু সর্বশেষ অভিজ্ঞতাটি উল্লেখ করলেই যথেষ্ট।
৯। একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড। অনেকেই এখানে শুধু অনার্স ও মাস্টার্স উল্লেখ করেন। আমি এটিকে প্রাধান্য দিই না। এখানে এসএসসি এবং এইচএসসিও থাকা উচিত। আমার মতে, অবশ্যই থাকা উচিত।
১০। অন্যান্য দক্ষতা। এখানে আপনার ভাষাগত দক্ষতা, কম্পিউটার দক্ষতা এবং কোনো প্রোগ্রামিং ভাষা জানলে তা উল্লেখ করবেন।
১১। ব্যক্তিগত তথ্য। বাবা, মা, ধর্ম, জাতীয়তা এবং স্থায়ী ঠিকানা।
১২। রেফারেন্স। কমপক্ষে দুইজন। এই দুইজনের মধ্যে অবশ্যই একজন আপনার নিজের ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হবেন। অন্যজন আপনার ইচ্ছামতো নির্বাচন করতে পারেন।
এই হলো আমার পরামর্শ। এই ক্রমই যে অনুসরণ করতে হবে, এমন নয়। আপনি চাইলে ক্রম পরিবর্তন করতে পারেন। তবে গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম-সম্পর্কিত বিষয়গুলো শুরুতেই রাখার চেষ্টা করবেন।
এগুলো দেওয়ার পর যদি দুই পৃষ্ঠার মধ্যে জায়গা থাকে, তাহলে আরও তথ্য যোগ করতে পারেন। আর জায়গা না থাকলে এখানেই শেষ। তবে আবারও বলছি, যৌক্তিক কারণ না থাকলে সিভিকে তিন পৃষ্ঠায় নিয়ে যাবেন না।
আর আপনি চাইলে ছবি দিতে পারেন, আবার নাও দিতে পারেন। তবে আমি ছবি দেওয়ার পরামর্শ দিই।
সবাই নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য চেষ্টা করে যান। দেওয়ার মালিক সৃষ্টিকর্তা।
Courtesy
বিল্লাল হোসাইন
পিএইচডি রিসার্চার
টোকিও, জাপান