05/05/2026
দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন ভিসা নীতি – বিশ্বব্যাপী প্রতিভাবানদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ
বিশ্বজুড়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, দক্ষিণ কোরিয়া তার ভিসা নীতিতে উল্লেখযোগ্য এবং সুদূরপ্রসারী সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। ৪ঠা মে আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক উপস্থাপিত এই নতুন নীতিটি মূলত দেশের শ্রম ঘাটতি পূরণ এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিভাবান ব্যক্তিদের আকৃষ্ট করার একটি আন্তরিক প্রচেষ্টা। এই পদক্ষেপটি কেবল বিদেশী কর্মী, শিক্ষার্থী এবং ডিজিটাল নোম্যাডদের জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করবে না, বরং বিশ্বব্যাপী কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রচারেও সহায়তা করবে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে একটি হলো রন্ধন প্রশিক্ষণের জন্য ডি-৪ (ভিসার স্টুডেন্ট ভিসা) শর্ত শিথিল করা। এখন, অভিজ্ঞতা এবং ভাষার প্রয়োজনীয়তা সহজ করা হয়েছে, বিশেষ করে “সোরা একাডেমি”-এর মতো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য। এর লক্ষ্য হলো কোরিয়ান রন্ধনশৈলী (হানসুক) বিশ্বের কাছে পরিচিত করানো এবং এই ক্ষেত্রে নতুনদের জন্য সুযোগ তৈরি করা।
একইভাবে, দক্ষ কর্মীদের জন্যও সুখবর রয়েছে। ই-৭-৩ ভিসার অধীনে একটি নতুন পাইলট প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে, যা এমন সব শিল্পে বিদেশী দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি করবে যেখানে স্থানীয়ভাবে কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ছাঁচ তৈরির খাতে প্রতি বছর ১৫০ জনকে সুযোগ দেওয়া হবে, যা এই শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জেজু দ্বীপকে ডিজিটাল নোম্যাড এবং রিমোট কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখন প্রবেশের পর ভিসা-মুক্ত থাকার সময়কাল ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৯০ দিন করা হবে (অনুমোদন সাপেক্ষে), যা সারা বিশ্বের ফ্রিল্যান্সার এবং অনলাইন কর্মীদের কোরিয়ায় বসবাস ও কাজ করার সুযোগ দেবে।
শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবীদের জন্যও বেশ কিছু সুবিধা চালু করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ক্ষেত্রের স্নাতকদের জন্য পেশাদার ভিসা পাওয়া সহজ করা হবে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ডি-৪ ভিসার সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও, কোরিয়ায় শিক্ষাগত সুযোগ অন্বেষণের জন্য ওইসিডি (OECD) দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য একটি “গ্যাপ ইয়ার” প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে।
এই সমস্ত পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে দক্ষিণ কোরিয়া কেবল তার জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সমস্যার সমাধানই খুঁজছে না, বরং নিজেকে এমন একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করছে যেখানে প্রতিভা, সংস্কৃতি এবং উদ্ভাবনকে একত্রিত করা যায়। আইনমন্ত্রী জং সেউং-হো-এর মতে, সরকার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে নমনীয় নীতি গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সংক্ষেপে, এই নতুন ভিসা নীতিটি বিদেশিদের জন্য কেবল একটি সুবর্ণ সুযোগই নয়, এটি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকও প্রমাণিত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে মানুষ কীভাবে এই সুযোগগুলো কাজে লাগায় এবং কোরিয়া কীভাবে একটি বৈশ্বিক প্রতিভা কেন্দ্রে পরিণত হয়, তা দেখা আকর্ষণীয় হবে।
অনুলিখন: ইয়াসিন বালোচ
দক্ষিণ কোরিয়া 🇰🇷
Khawar Cheema WarsiAli Shokat CHKhalid Gawer
CourtesyMumtajul Haque vai
22/04/2026
21/04/2026
21/04/2026