24/03/2024
আল্লাহ তা'লা আমাকে যে কয়েক পারা কুরআন হিফজ করার তৌফিক দিয়েছেন তার বেশির ভাগই মুখস্থ করেছি শেষ পাঁচ বছর যখন আমি জব করেছি তখন ,অফিস যাওয়া আসার পথ টুকুতে ! ডোর টু ডোর প্রায় দেড় ঘন্টা অর্থাৎ যাওয়া আসা মিলে প্রায় ৩ ঘন্টা , বেশ লম্বা একটা সময়! তো আমি ঠিক করেছিলাম এই সময়টুকু আমি শুধুই কুরআন হিফজ করবো আর কিচ্ছুনা, নিজেকে বাধ্য করার জন্য এমনকি আমি ফোন থেকে নেট সার্ভিস সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দিয়েছিলাম, কারণ নেটের জগতে একবার ঢুকলে বেশ সময় কেটে যাওয়ার আশংকা আছে যদিও আমি তখন ভালো কিছুই স্টাডি করতাম তবুও আমি চাইনি কুরআন ছাড়া আর কিছু আমি পড়ি এই সময়। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত আমার ফোনে নেট নাই , আমি শুধু পিসিতে ইন্টারনেট ব্যবহার করি। প্রথম দিকে কারী মিশারী রশীদ এর কিছু তিলাওয়াত শুনে শুনে মুখস্ত করেছিলাম কিন্তু পরে কারী আসমা হুদার সম্পূর্ণ কুরআনের তিলাওয়াত পেয়ে গেলাম, যেখানে প্রতিটি আয়াত বার বার রিপিট করা আছে, আলহামদুলিল্লাহ তার রেকর্ড গুলো আমার কাজ সহজ করে দিয়েছে। বাসা থেকে বের হয়েই কানে হেড ফোন লাগিয়ে শুনতে থাকতাম এবং চোখে দেখতাম থাকতাম সূরাটি, যেটি আমি মুখস্থ করতে চাইতাম , পুরো পথটুকু এভাবেই পার হতো তা সে বাসে বসে হোক বা ট্রেনে বা হাঁটা রাস্তা। যে সূরাটি যখন মুখস্ত করতাম, আগে তার প্রতিটি শব্দার্থসহ পুরা আয়াতের অর্থ বুঝে এরপর মুখস্ত করতাম, অর্থ বুঝলে মনে রাখা যেমন সহজ তেমনি আল্লাহর কালাম উপলব্ধি করা যায় গভীরভাবে, যেহেতু ওই সময় টুকুতে আমার আর কোনো কিচ্ছু করার ছিলোনা তাই গভীর মনোযোগ দেয়া সম্ভব ছিল, খুব অল্প সময়ে আমি কয়েক পারা মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছিলাম আল্লাহর রহমতে।
কুরআন কিছু পারা মুখস্থ করার যে উপকারিতা আমি পেয়েছি তা কিভাবে বুঝাই,
সুবহানাল্লাহ উঠতে চলতে ফিরতে আললাহর কালামের মর্মার্থ হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে, কতভাবে যে আল্লাহ জাহান্নাম, কিয়ামতের ভয়ংকর দৃশ্য তুলে ধরেছেন, জান্নাতের নয়নাভিরাম দৃশ্য... সবই যেন চোখে ভাসতে থাকে, একইভাবে আল্লাহর অপার ক্ষমার বর্ণনা তার করুনার কথায় হৃদয় যেন বিগলিত হতে থাকে, প্রতি মুহূর্তে শয়তানের ওয়াসওয়াসার সাথে লড়াই করে জেতার জন্য বড় সহায়ক। আরেকটি বিশেষ উপকারিতা যেটা অনুধাবন করেছি তা হলো সলাতে মনোযোগ ধরে রাখা, যখনি আপনি নতুন মুখস্থ একটি বড় সূরা দিয়ে সলাত পড়বেন যার প্রতিটি কথা আপনি বুঝেন, সুবহানাল্লাহ মনযোগ ছুটে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, কি অপূর্ব আস্বাদ সেই সলাতের ! যারা গদবাধা গুটি কয়েক সূরা দিয়েই সলাত পড়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর, তাদের পক্ষে সলাতের এই স্বাদ আস্বাদন করা আর মনোযোগ ধরে রাখা দুস্কর বটে!
আমার কুরআনিক এরাবিক ক্লাসেও আমি শব্দার্থ বুঝানোর সময় এসব সূরার মধ্যে কোথায় কোথায় শব্দগুলো কিভাবে ব্যবহার হয়েছে তার উদাহরণ তুলে ধরি, এই বিষয়টিও আমি যেমন এনজয় করি আমার স্টুডেন্ট আপুরাও, অনেকে জিজ্ঞাসা করে, আপু আপনি কি কুরআনের হাফেজ? আল্লাহ যেন আমার সেই বাসনা পূর্ণ করেন।
ওয়াল্লাহি দ্বীনের বুঝ আসার পর আমি কখনো কোথাও বোরিং ফীল করেছি বলে মনে পড়ে না, কোথাওনা। অপেক্ষার সময় অনেকের কাছে বোরিং বা জামে আটকে পড়া বা বাস ট্রেনে বিমানে লম্বা সময় বসে থাকা হয়তো বিরক্তিকর কিন্তু এই সময়টাই বরং আমি দারুন এনজয় করেছি এবং এখনো করি, আল্লাহর কথা শুনে অর্থাৎ তার কালাম আত্মস্থ করে ! যদি কখনো কাছে ফোন না থাকে তবে মুখে দৌনন্দিন জিকির আযকার গুলো পড়তে থাকি, আর কখনো এলোমেলো চিন্তায় যদি বিস্মৃত হই তবে সেই উপলব্ধি আবার উদয় হয় , তোমার সময় চলে যাচ্ছে....সময়টা কাজে লাগাও ।