15/09/2024
উত্তরাধিকার আইন(পর্ব-০১)
১. রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ভিত্তিতেই মিরাস বণ্টিত হবে:
আল্লাহর বিধানে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়রাও একে অপরের চেয়ে অধিক হকদার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত। সূরা আনফাল-৭৫
শানে নুযুল: উত্তরাধিকার বণ্টনের ব্যাপারে ইসলামি সম্পর্কের পরিবর্তে আত্মীয়তার সম্পর্কই প্রাধান্য পাবে। হিজরতের পর নবী(সাঃ) মুজাহির ও আনসারদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন কায়ম করেছিলেন তার ফলে এ দ্বীনি ভাইয়েরা পরস্পরের উত্তরাধিকারও হবে বলে কেউ কেউ ধারণা করতে শুরু করেছিলেন। তাদের এ ধারণা যে ঠিক নয়, তা বুঝানোর জন্য আল্লাহ এ কথা বলেছেন।
২. মিরাস আল্লাহ নিজেই বণ্টন করে দিয়েছেন:
এ বণ্টন আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত;নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। সূরা নিসা-১১
৩. মিরাসে নারী-পুরুষ উভয়েরই অংশ রয়েছে:
পুরুষদের জন্য পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যাক্ত সম্পদে অংশ রয়েছে এবং নারীদের জন্যও পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যাক্ত সম্পদে অংশ রয়েছে। সূরা নিসা-০৭
৪. কম হোক বা বেশি হোক সম্পদ বণ্টন করতেই হবে:
কম হোক বা বেশি হোক এসব অংশ নির্ধারিত। সূরা নিসা-০৭
৫. বণ্টন হবে ঋণ পরিশোধ ও অসিয়ত পূরণের পর:
এসব (বণ্টিত হবে) মৃত ব্যক্তির অসিয়ত অথবা ঋণ পরিশোধের পর। সূরা নিসা-১১
ব্যাখ্যা:
উপরোক্ত আয়াতসমূহ হতে মিরাস বণ্টনের ব্যাপারে যেসব নীতিগত বিধান পাওয়া যায় তা হচ্ছে,
এক: মিরাস কেবল পুরুষদের নয়, মেয়েদেরও অধিকার।
দুই: যত কমই হোক না কেন মিরাস অবশ্যই বণ্টিত হবে। এমন কি মৃত ব্যক্তি যদি এক গজ কাপড়ও রেখে যায় এবং তার দশজন ওয়ারিস থাকে, তাহলেও তা ওয়ারিসদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। তবে একজন ওয়ারিস অন্যজন থেকে যদি তার অংশ কিনে নেয় তাহলে ভিন্ন কথা।
তিন: মিরাসের বিধান স্থাবর-অস্থাবর, কৃষি-শিল্প বা অন্য যেকোন ধরনের সম্পত্তি হোক না কেন সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
চার: মিরাসের অধিকার তখনই সৃষ্টি হয়,যখন মৃত ব্যক্তি কোন সম্পদ রেখে মারা যায়।
পাঁচ: নিকটতম আত্মীয়ের বর্তমানে দূরতম আত্মীয় মিরাস লাভ করবে না।
ছয়: মিরাস বণ্টন হবে ঋণ ও অসিয়ত পূরণের পর।
আল্লাহ সকলকে বুঝার ও মানার তৌফিক দান করুন। আমীন।।