17/04/2026
জুম্মা মুবারাক সবাইকে🤲
জুম্মার দিন। ঘড়িতে তখন একটা বেজে কয়েক মিনিট। পাঞ্জাবি গায়ে, সুগন্ধি মেখে মসজিদে ঢোকার সময়টায় একটা দৃশ্য সবসময় আমার মন ভালো করে দেয়। সেটা হলো, যখন দেখি ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা বা দাদার হাত ধরে মসজিদে আসছে।
এই দৃশ্যটা জুম্মার সালাতের আমার দেখা সবথেকে সুন্দর দৃশ্যগুলোর একটা। বিশেষ করে ছেলে বাবুদের পাশাপাশি যখন দেখি ছোট্ট মেয়ে বাবুরাও খুব সুন্দর করে হিজাব পরে এসেছে। বাবার হাত ধরে তাদের ওই মসজিদে আসা, জুম্মার খুশিমাখা মুখগুলো দেখে মন ভরে যায়। সালাত শেষে বের হওয়ার সময় ওই ছোট্ট হাত দিয়ে অসহায়দের সাহায্য করা, আর এরপর বাবা বা দাদারা যখন মসজিদের বাইরে থেকে তাদের আইসক্রিম বা চকলেট কিনে দেয়— এই পুরো ব্যাপারটাই জুম্মার দিন যে মুসলিমদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদ, তা খুব ভালো মতো বুঝতে পারি।
আমরা সবাই জানি, বাচ্চারা অনেক কৌতূহলী হয়। তাদের জন্য মসজিদ এক নতুন জগৎ। অনেকে হয়তো পুরো সালাত জুড়ে এখানে-সেখানে ছুটে বেড়ায়। এই ছোটাছুটি দেখে হয়তো অনেকেই বিরক্ত হন, নামাজে distracted feel করেন। গ্রামে দেখেছি, এটা নিয়ে মুরুব্বি বা বড়মানুষরা বেশ রাগ করেন, বাচ্চাদের বকাঝকা করেন। কিন্তু আমাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন থেকে আমরা কি এটা শিখি?
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সেজদা করতেন, তখন উনার দুই নাতি হাসান ও হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমা উনার পিঠে চড়ে বসতেন। তিনি সেজদা দীর্ঘ করতেন যাতে তাদের খেলার ব্যাঘাত না হয়। একবার তিনি সেজদা থেকে মাথা তুলতে দেরি করলেন, কারণ উনার নাতি পিঠ থেকে নামছিল না। সাহাবীরা ভাবলেন, হয়তো কোনো বিশেষ ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে বা রাসুলের শরীর খারাপ। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, 'আমার এই নাতি আমার পিঠে চড়ে বসেছিল, তাই সে যতক্ষণ না নিজে থেকে নামলো, আমি তাকে বিরক্ত করতে চাইনি।' (সহীহ বুখারী)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই মমতা থেকে আমরা কী শিখলাম? বাচ্চারা মসজিদের প্রাণ, ভবিষ্যতের ইবাদতকারী। তাদের এই অবুঝ চপলতা মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করে না, বরং আল্লাহর ঘরের প্রতি তাদের আকর্ষণ বাড়ায়। আজ যখন বাচ্চাদের ওই হিজাব পরা মুখ, বাবার হাত ধরে হাঁটা আর আইসক্রিমের খুশি দেখি, তখন সত্যিই মনে হয় জুম্মার দিন আমাদের জন্য কত বড় নেয়ামত। তাদের কলকাকলিতেই আমাদের সাপ্তাহিক ঈদ পরিপূর্ণতা পায়। আলহামদুলিল্লাহ।
15/10/2025