Scholarship Funding with Low CGPA

Scholarship Funding with Low CGPA

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Scholarship Funding with Low CGPA, Education, Dhaka.

লো CGPA থাকা স্বপ্নবাজদের জন্য স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের গল্পগুলো একসাথে রাখার ছোট্ট প্রয়াস।
এটি কোনো এজেন্সি বা পেইড সার্ভিস নয় সম্পূর্ণ ইনফরমেশন ও অনুপ্রেরণামূলক একটি প্ল্যাটফর্ম।

28/05/2026

দুই বছরে IELTS, দুই বারে GRE, লো সিজিপিএ তবুও আজ আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর!

জীবনের একটি দুইটি পরীক্ষায় খারাপ হলেই অনেক ছেলেমেয়ের জীবন শুরু না করতেই শেষ মনে করে। আমরা যে পরীক্ষায় খারাপ করছি, একটু চিন্তা করে দেখো পৃথিবীর অর্ধেক লোক হয়তো ওই পরীক্ষা দেবার মতো যোগ্যতাই অর্জন করে নাই বা সুযোগ পান নাই। মানে আমি এমন অবস্থায় আছি, যেই অবস্থার ভাগ্য পৃথিবীর অর্ধেক লোকের হয় নাই।

জীবনের একটি চ্যাপ্টার খারাপ মানেই জীবন খারাপ নয়। হয়তো একটু পরেই আছে আলোর ঝলকানি।
আমি নিজের সারা জীবনের ফলাফল গুলো দিলাম।
আমার এস এস সি ফলাফল ৪.৬৩ এবং এইচ এস সির ফলাফল ছিল ৫.০০। বুয়েটের বি এস সির ফলাফল ছিল ২.৯৪, ২.৪৪, ৩.৪২, ৩.০৫, ২.৭৯, ৩.০৬, ৩.১৫, ৩.৩৮ = ৩.০২। ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালাবামা অ্যাট বার্মিংহামে মাস্টার্সের ফলাফল ছিল ৩.৩৩, ৩.৬৬, ৩.৫০, ৩.০০ = ৩.৩৬। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়া অফ রিভারসাইডে পি এইচ ডিতে ফলাফল ছিল ৪.০০, ৪.০০, ৪.০০, ৩.৩০, ৩.৩০ = ৩.৮০।

তারপরও কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ আমি আমেরিকার একটি পাবলিক ভার্সিটিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসাবে কাজ করছি। সি জি পি এ খারাপ কিন্তু বাইরে আসার ইচ্ছা। চেষ্টা করতে থাকেন। নিজেকে ইম্প্রোভ করতে থাকেন। চেষ্টা করলেই কেবল ফল আসার সম্ভবনা আছে। চেষ্টা না করে নানা অদেখা বিপদের ভয়ে বসে থাকলে তো হবে না।

আমি নিজে যখন বাইরে আসার স্বপ্ন দেখছি তার ৪ বছর আবারো বলছি ৪ বছর পরে আসতে পেরেছি। শুধু এই টুকু বলতে পারি কোনো কিছু করতে ইচ্ছে হলে চেষ্টা করতে থাকেন। চেষ্টা করে না হলে নিজেকে বুঝানো যাবে, চেষ্টা করেছি কিন্তু হয় নাই। কিন্তু চেষ্টা না করে অদেখা বিপদের কথা চিন্তা করে বসে থাকা বোকামি। সিজিপিএ খারাপ, অন্য প্যারামিটার গুলো ভালো করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। কয়েকদিন আগে দেখলাম ৩.০২ সিজিপিএ নিয়ে জন হপকিংসে পি এইচ ডি করতে যাচ্ছে একটি মেয়ে। কি অসাধারণ না ব্যাপারটা।

আমি নিজে বুয়েটের ফলাফলের দিকে ব্যাকবেঞ্চার ছিলাম। তবুও চেষ্টা করে গিয়েছি। একবার জি আর ই ভালো হয় নাই, ১৪ মাসের প্রস্তুতি নিয়ে আবার দিয়েছি। একবার আই এল টি এস ভালো হয় নাই, দেড় বছরের প্রস্তুতি নিয়ে আবার দিয়েছি। মিডিওকর প্রোফাইল নিয়ে ৮ টি ভার্সিটির মধ্যে ১ টিতে ফুল ফান্ডিং পেয়েছি। এইটা না হলে পরের বছর আবারো আবেদন করা লাগতো, এই তো। পি এইচ ডি করার সময় ৬ টি ভার্সিটির মধ্যেই ১ টি থেকেই কেবল ফুল ফান্ডিং পেয়েছি। এইটাও না হলে হয়তো পরের বছর চেষ্টা করা লাগতো, এইতো।

আমি চেষ্টা করে গিয়েছি ফান্ডিং না পাওয়া পর্যন্ত। কারণ এই চেষ্টাটুকুই আমি করতে পারি, ফলাফল আমার হাতে নেই।

মো : লুৎফর রহমান অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ক্যালিফর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি সান মার্কোস

© Scholarship Funding with Low CGPA


27/05/2026

স্কলারশিপের টাকায় প্রথম কোরবানি আজও মনে পড়ে অপমান কষ্টের কথা!

এসিস্ট্যান্টশিপের টাকা থেকে কিছু টাকা জমিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিলাম কোরবানির গরু কেনার জন্য। আমার পরিবারের প্রথম কোরবানি। ছোট থেকে বড় হয়েছি এমন এক পরিবারে যেখানে ঈদ মানেই ছিল অন্যদের আনন্দ দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখা কোরবানি ঈদ মানে আরো ভয়ংকর অবস্থা।

আমাদের আশেপাশে একই বংশে একই বাড়িতে অনেক ধনী আর উচ্চবিত্ত মানুষ ছিল। তাদের ঘরে এক ঈদে দুইটা, তিনটা গরু কোরবানি হতো। সকাল থেকে বাড়ি ভর্তি মানুষ, হাসি, মেহমান, আয়োজন। আমি আর আমার ভাই দূরে দাঁড়িয়ে শুধু দেখতাম। এখনো কোরবানির ঈদ আসলে সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে।

সহানুভূতি আর মমতা এই জিনিসগুলো হয়তো সবাই শেখে না। এমনও দিন গেছে একই বাড়িতে অনুষ্ঠান হয়েছে, পুরো এলাকা দাওয়াত পেয়েছে, অথচ আমাদের একটা দাওয়াত পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। ছোট ছিলাম কিন্তু অপমান ঠিকই বুঝতাম। বুঝতাম আমরা এই সমাজের নিচু স্তরের মানুষ। হয়তো টাকা ছিল না বলেই আমাদের কোনো মূল্য ছিল না। অথচ আমাদের শরীরের রক্তও লাল ছিল। কিন্তু তাদের আচরণ দেখে মনে হতো মানুষের রক্তের রঙও বুঝি টাকার সাথে বদলে যায়।

অনেক ঈদের সময় গেছে চুপচাপ ঘরে বসে। বাইরে তাকিয়ে শুধু ভাবতাম আমাদের ঘরেও কি কোনোদিন কোরবানির আসবে? মা কি কোনোদিন খুশি হয়ে বলবে এইবার আমাদেরও কোরবানি? তখন এসব শুধু স্বপ্ন ছিল। খুব দূরের স্বপ্ন। আজ আল্লাহ সেই স্বপ্ন পূরণ করার তৌফিক দিয়েছেন। কিন্তু একটা আফসোস আজীবন থেকে যাবে আজ আমার মা নেই।

জীবনে অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। এখনো নিজেকে সফল বলি না। এখনো যুদ্ধ করে যাচ্ছি। জীবনের অর্ধেকটা হয়তো সংগ্রাম করতেই চলে গেছে। আমার বংশের উচ্চশ্রেণির মানুষজন ভাবতো বাবার মতো অন্যের জমি চাষ করেই জীবন কেটে যাবে। এলাকার সবার রেজাল্টের খবর নিতো, সবাইকে জিজ্ঞাসা করতো কি রেজাল্ট করছো? কিন্তু আমাকে কখনো জিজ্ঞাসা করেনি। পরে যখন শুনলো আমি ভালো রেজাল্ট করেছি তখন তাদের মুখের চাহনি বদলে গিয়েছিল। যেন তারা মেনে নিতে পারছিল না।

তিনবার IELTS দিয়েছি। দুইবার GRE দিয়েছি। বারবার ব্যর্থ হয়েছি আবার উঠে দাঁড়িয়েছি। তাই আজ যারা হাল ছেড়ে দিতে চাও তাদের একটা কথাই বলবো
চেষ্টা চালিয়ে যাও বন্ধু। আজকে তোমার সময় খারাপ হতে পারে মানুষ তোমাকে ছোট করতে পারে, তোমার স্বপ্ন নিয়ে হাসতে পারে। কিন্তু একদিন তোমারও দিন আসবে।সেদিন হয়তো তুমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুধু একটা কথাই ভাববে এই কষ্টগুলো বৃথা যায়নি।
তারিকুল ইসলাম টেক্সাস টেক

© Scholarship Funding with Low CGPA


25/05/2026

২.৬০ সিজিপিএ, GRE, IELTS, TOEFL কিছুই নেই তবুও রাজুর যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু কালাম পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ নটরডেমে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স অফ ফাইন আর্টস ক্রিয়েটিভ রাইটিং পোয়েট্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার সুযোগ।

অনেকেই মনে করেন কম সিজিপিএ থাকলে কিংবা ইংরেজি টেস্ট স্কোর না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া অসম্ভব। রাজু কালামের গল্প সেই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করে। তবে রাজু পেয়েছে বিধায় যে সবাই পাবে এমনটি নয়।

২০২০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। সিজিপিএ ছিল প্রায় ২.৬০। কোনো GRE, IELTS, TOEFL বা Duolingo স্কোরও ছিল না। তবুও তিনি নিজের রাইটিং সেম্পল, সাহিত্যচর্চা এবং ক্রিয়েটিভ ওয়াকের মাধ্যমে অ্যাডমিশন কমিটিকে ইমপ্রেস করতে সক্ষম হন।

তার ভাষায় ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে ভর্তি অনেকটাই নির্ভর করে রাইটিং সেম্পলের উপর। তিনি বিশ্বাস করেন তার লেখাগুলোই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ভিসা ইন্টারভিউতেও ছিল ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা। ভিসা অফিসার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন কেন তিনি এপ্লাইড কেমিস্ট্রি থেকে লিটারেচার এ চলে যাচ্ছেন। উত্তরে বলেন, আই হ্যাভ আ পেশন ফর লিটারেচার এরপর কিছুক্ষণ টাইপ করার পরই অফিসার জানিয়ে দেন এপ্রুভ।

রাজু আরও জানান ইংলিশ বিভাগের প্রোগ্রামগুলোতে ফান্ডিং পাওয়া স্টেম সাবজেক্টের মতো সহজ নয়। তাই শক্তিশালী রাইটিং প্রটফোলিও, আইডিয়া, এবং কাজের গভীরতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এই গল্প হয়তো তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে, যারা মনে করেন কম সিজিপিএ মানেই স্বপ্ন শেষ। কখনও কখনও একটি শক্তিশালী স্কিল, নিজের কাজের প্রতি আন্তরিকতা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

© Scholarship Funding with Low CGPA


24/05/2026

২.৯৮ সিজিপিএ, IELTS নেই তবুও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তন্ময়ের ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ!

কম সিজিপিএ মানেই স্বপ্ন শেষ এই কথাটা আমরা
শুনে থাকি। কিন্তু সপ্ন শেষ নয়। তবে এটাও সত্য যে ভালো একাডেমিক রেজাল্টের গুরুত্ব অনেক বেশি সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

এই মুহূর্তে তুমি যদি আন্ডারগ্র্যাডে থাকো তাহলে একাডেমিক রেজাল্ট যতটা সম্ভব ভালো রাখার দিকে সর্বোচ্চ ফোকাস করতে পারো। আর যাদের ইতিমধ্যেই গ্র্যাজুয়েশন শেষ তাদের জন্য বাস্তবতা হলো হাতে থাকা সিজিপিএ চাইলেও তুমি আর পরিবর্তন করতে পারবেনা। কিন্তু এখানেই শেষ না বরং শুরু।

কারণ এখন নিজের প্রোফাইলকে শক্তিশালী করার সুযোগ খোলা আছে। তুমি চাইলে ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি টেস্টে ভালো স্কোর করতে পারো, সময় নিয়ে রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স গড়ে তুলতে পারো, কোয়ান্টিটির পেছনে না ছুটে কোয়ালিটি সম্পন্ন পাবলিকেশনে ফোকাস করতে পারো। এমনকি দেশে মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে নিজের একাডেমিক পারফরম্যান্স আবারও নতুনভাবে ভালো করতে পারো। ধীরে ধীরে এই কাজগুলোই একসময় বড় বড় সুযোগের দরজা খুলে দিবে।

তন্ময়ের গল্পটাও ঠিক এমনই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তেজগাঁও কলেজ থেকে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজিতে অনার্স সম্পন্ন করেছে। সিজিপিএ ছিল ২.৯৮। আশেপাশের অনেকেই তখন বলেছিল এই রেজাল্ট দিয়ে বড় কোনো স্কলারশিপ তো অনেক দূরের কথা এডমিশনও পাবেনা। এগুলো বাফ দিয়ে বিসিএস এর প্রস্তুতি নাও।

কিন্তু তন্ময় শুধু সিজিপিএ নিয়েই থেমে থাকেননি।ধীরে ধীরে নিজের রিসার্চ প্রোফাইল গড়ে তুলেছে । রিসার্চে সময় দিয়েছে এবং নিজের প্রচেষ্টায় ২টি রিভিউ আর্টিকেল প্রকাশ করেছে। প্রায় দুই বছরের এই রিসার্চ অভিজ্ঞতা তাকে শুধু একাডেমিকভাবে নয় মানসিক ভাবেও অনেক বেশি পরিণত করেছে পাশাপাশি বিভিন্ন ভলান্টিয়ারিং ও কো কারিকুলার কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন।

IELTS এর প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন । তবে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় বসেননি। IELTS ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ ছিল। কোনো এজেন্সি বা কনসালটেন্সির সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে পুরো আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

অবশেষে দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল হিসেবে তন্ময় ইউরোপের অন্যতম প্রেস্টিজিয়াস ইরাসমাস মুন্ডুস স্কলারশিপের মাধ্যমে তার মাস্টার্স করবে ইউরোপের ৪টি ভিন্ন দেশে। পড়াশোনার পাশাপাশি মাসিক স্টাইপেন্ডও পাবে যা তার থাকা খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ বহন করবে।

এই গল্পটা শুধু একটি স্কলারশিপ পাওয়ার গল্প নয়। যারা মনে করো কম সিজিপিএ থাকলেই সব শেষ। বাস্তবতা হলো পথটা হয়তো একটু কঠিন হবে, সময় বেশি লাগবে ,নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, কিন্তু এটা কখনোই অসম্ভব নয়। সঠিক পরিকল্পনা ধৈর্য এবং নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে একদিন স্বপ্ন সত্যিই বাস্তবে এসে ধরা দিবে।

© Scholarship Funding with Low CGPA


22/05/2026

রাজমিস্ত্রীর ছেলে! আমেরিকায় গিয়ে এক সাবজেক্টে ফেল, স্কলারশিপ শেষ!

ওমর ফারুকের জন্ম হয়েছিল এমন এক পরিবারে যেখানে একসময় অভাব ছিল না। দাদা মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত জমিজমা ছিল ধান চাল কিনতে হতো না। কিন্তু অসুস্থতার চিকিৎসা করতে করতে প্রায় সব জমি বিক্রি হয়ে যায়। আব্বা ছিলেন একমাত্র ছেলে। চার বোন, নিজের পরিবার সব দায়িত্ব একা কাঁধে নিতে নিতে জীবনটা খুব দ্রুতই কঠিন হয়ে ওঠে।

আব্বা খুব বেশি পড়াশোনা জানতেন না, হয়তো ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত। কিন্তু আজও বিশ্বাস করি, আব্বাই ছিলেন আমার জীবনের সবচেয়ে ট্যালেন্টেড মানুষ। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন মিথ্যা বলবা না, দুর্নীতি করবা না, দেশ ও মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করবা।

ছোটবেলায় অভাবের কারণে আমাকে ফুফুর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফুফুর কোনো ছেলে ছিল না। তাদের বাড়িতে থেকেছি, জমিতে কাজ করেছি, সবজি তুলেছি, বিক্রি করেছি, সংসারের কাজ করেছি। তখনও স্কুলে যাওয়া শুরু হয়নি। পরে সরাসরি ক্লাস ফোরে ভর্তি হই। মাত্র ছয়দিন স্কুলে গিয়ে বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছিলাম।

ইংরেজি শিখেছি পুরোপুরি নিজের চেষ্টায়। এডুকেশন উচ্চারণ করতাম এডুকে টায়ন, এক্সামিনেশন উচ্চারণ করতাম এক্সামিনার টায়ন। শেখানোর মতো কেউ ছিল না। কিন্তু বাবা একটা জিনিস বলতেন বড় স্বপ্ন দেখাতে।

ছোটবেলা থেকেই বাবা খেলাধুলা করতে দিতেন না। উনার ভয় ছিল, কোথাও ইনজুরি হলে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য তো তার নেই। খুব সুন্দর করেই বুঝাতেন। যদি মাঠে খেলতে যেতাম, দূর থেকে আব্বার গম্ভীর ডাক আসত। একসময় এমন অবস্থা হলো পাড়ার ছেলেরাও খেলায় নিত না। বলত তোমার বাপ আবার আইসা নিয়ে যাইবো!

অন্যের বাবারা বাজার থেকে মাছমাংস নিয়ে ফিরতেন, আর আমার বাবা দিনমজুরি শেষে এক রিম কাগজ আর এক ডজন কলম নিয়ে ফিরতেন। বলতেন যাও একটা অংক করো। আশেপাশের কেউ উনাকে উৎসাহ দিত না। সবাই বলত এত পড়াইয়া লাভ কী? এত ছোট মানুষ চাকরি বাকরি কিছুই পাইবো না। গ্যারেজে কাজে দিয়ে দেন।

কিন্তু আমার বাবা হাল ছাড়েননি। আমি যদি বলতাম এত টাকা লাগবে আব্বা বলতেন গায়ের রক্ত বিক্রি করে হলেও তোমারে পড়ামু। আজ বুঝি হয়তো উনি জানতেন না শুধু টাকা দিলেই সব হয় না। কিন্তু উনার বিশ্বাস, উনার মোটিভেশন এগুলোই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

তখন আমাদের ঘরে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ারও সামর্থ্য ছিল না। ২৫-৩০ টাকার একটা বাল্ব জ্বালানোও কঠিন হয়ে যেত। তাই পাশের বাড়ির লাইটের নিচে দাঁড়িয়ে বই পড়তাম। নতুন বই কেনা তো দূরের কথা, আগের ক্লাসের বড় ভাইদের পুরনো বই নিয়েই পড়াশোনা চলত।

বর্ষাকালে যখন লেবারের কাজ থাকত না ঘরে অভাব থাকত তখনও রাতে ঘুমানোর আগে আব্বা বলতেন বাবা একটা গান গাও। একটা গানের লাইন আজও মনে আছে জীবনের পথ ভর উঁচু নিচু, চলতে গেলে ব্যথা পাবেই কিছু আজও জীবনের কঠিন সময়ে বাবা সেই কথাই মনে করিয়ে দেন।

ক্লাস এইটে ওঠার পর ভয়ংকর সিরিয়াস হয়ে পড়াশোনা শুরু করি। কারণ ছোটবেলা থেকেই দেখেছি কীভাবে দুর্বল মানুষের উপর সমাজ অত্যাচার করে। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে, ক্ষমতা দেখিয়ে, জমি দখল করে, অপমান করে। আমি দেখেছি আমার বাবাকে চুপচাপ সব সহ্য করতে। একসময় আমার ভেতরে ভয়ংকর রাগ জন্মেছিল। মনে হতো, এমন শক্তিশালী হতে হবে যেন কেউ আর কখনো আমাদের মতো মানুষকে অপমান করতে না পারে। পরে বুঝেছি, সত্যিকারের শক্তি ধ্বংসে না চরিত্রে।

এর মধ্যেই ভর্তি হলাম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়াতে। গ্রামের একটা দরিদ্র পরিবারের ছেলের কাছে এই কলেজের ড্রেসটাই ছিল স্বপ্নের মতো। সকালে টিউশন পড়াতাম, কলেজ করতাম, রাতে আবার পড়তাম। আমাদের ঘরের অবস্থা এত খারাপ ছিল যে বৃষ্টি এলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ত। মেট্রিক পাশ করার আগ পর্যন্ত জানতামই না ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে কী করতে হয়। কোনো মেন্টর ছিল না কোনো গাইডলাইন ছিল না। এক বড় ভাই প্রথম আমাকে বলেছিল বুয়েট বলে একটা জায়গা আছে। তখন বুঝলাম স্বপ্ন দেখারও একটা ঠিকানা আছে।

পরে শহরে গিয়ে মেস লজিং শুরু করলাম। দুই বেলা পড়াবো, তিন বেলা খেতে দিবে। মাসে হাতে থাকত ২৫ টাকা। সেই টাকা দিয়ে রিকশা ভাড়া, সাবান, কাপড় ধোয়ার সার্ফ সব চালাতে হতো। প্রতিদিন দোয়া করতাম আল্লাহ আমি যেন অসুস্থ না হই। এক বাসায় আমাকে সবসময় নিম্নমানের খাবার দেওয়া হতো। একদিন বৃষ্টির মধ্যে ভুল করে ঘরের ভেতর দিয়ে যেতে গিয়ে দেখি, বাসার মালিকেরা গরুর মাংস দিয়ে খাবার খাচ্ছেন। তখন বুঝলাম, আমার জন্য আলাদা করে নিম্নমানের খাবার রাখা হতো। সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।

সেই বাসা ছেড়ে পরে আরেকটা গরিব পরিবারের বাসায় পড়াতে যাই। টিনশেডের ছোট ঘর, রিকশার টায়ার টিউব মেরামত করেই সংসার চলে। কিন্তু ওদের ব্যবহার ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। ঈদের সময় তারা দুইটা নতুন শার্ট কিনে এনে বলেছিল স্যার কোনটা আপনারে বেশি সুন্দর লাগবে? ওই কালো শার্টটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম নতুন ঈদের শার্ট। আমি সেটাই পাঁচ-সাত বছর পরেছি। আজও কালো শার্ট পরলে সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে।

ইন্টারমিডিয়েটে সায়েন্স পড়া শুরু করার পর বুঝলাম, প্রাইভেট ছাড়া টিকে থাকা কঠিন। তখন কিছু বড় ভাই আমাকে সাহায্য করেছিলেন। একজন কেমিস্ট্রি স্যার আমাকে ফ্রিতে পড়িয়েছিলেন। বইও জোগাড় হয়ে গেল। সেই সাহায্যগুলো না পেলে হয়তো আমি আর সামনে এগোতে পারতাম না।

তারপর শুরু হলো ঢাকায় বুয়েট কোচিংয়ের যুদ্ধ। একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফর্ম কেনার জন্য রক্ত বিক্রি করেছি। এক ব্যাগ রক্তের দাম ছিল ৮০ টাকা। অনেক অনুরোধ করে ২০০ টাকা পেয়েছিলাম। কারণ জানতাম, যদি আমি থেমে যাই আমার পুরো পরিবার থেমে যাবে।

ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় ফ্লোরে ঘুমাতাম। একদিন রাত ১০টায় বাসা থেকে বের করে দেওয়া হলো, কারণ বাসায় মেহমান এসেছে। সেই রাতে একটা বাসে উঠে উত্তরা চলে যাই দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাসায়। তারা আমাকে চিনতেনও না, তবুও দরজা খুলে থাকতে দিয়েছিলেন। আজও সেই মানবিকতা ভুলতে পারিনি। এরপর ঢাকায় ১২ জন ড্রাইভারের সাথে মেঝেতে থেকেছি, ঘুমিয়েছি। অনেকদিন শুধু দুধ-ভাত খেয়ে থেকেছি। জন্ডিস হয়েছিল। বন্ধুর বেল্ট ধরে সিঁড়ি ভেঙে ক্লাসে উঠেছি। কিন্তু পড়াশোনা ছাড়িনি।

ফার্মগেটের ব্রিজে পার্টটাইম চাকরির পোস্টার দেখে একটা চাকরি নিয়েছিলাম। পরে বুঝলাম, সেটা আসলে ইন্স্যুরেন্সের ফাঁদ। নিজের সব টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুললাম, কিন্তু পরদিন গিয়ে দেখি বসার চেয়ার পর্যন্ত নেই। সেদিন মনে হয়েছিল, আমি সব হারিয়ে ফেলেছি। থাকার মতো টাকা নেই, খাওয়ার মতো টাকা নেই, আর কোচিংও করা হয়নি। বুয়েটে এক্সাম দেওয়াও হয়নি। স্বপ্নটা সেদিন ভেঙে গিয়েছিল। কাউকে কিছু না বলে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে আসি।

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অভাব ছিল মেন্টর শিপের অভাব। কীভাবে সামনে এগোতে হয়, কোন পথে গেলে নিজের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাওয়া যায় এসব বুঝিয়ে দেওয়ার মতো কেউ ছিল না। কিন্তু একটা জিনিস ছিল ভেতরে আগুন ছিল। দারিদ্র্য, অপমান, অনিশ্চয়তা সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করার আগুন।

ঠিক সেই সময় আমার জীবনে আসে আসমা। প্রথমে ভালো লাগা, পরে গভীর ভালোবাসা। কিন্তু তার জীবনেও নেমে এলো ভয়াবহ ঝড় অসুস্থতা, মায়ের মৃত্যু। আমি গিয়ে শুধু বলেছিলাম তুমি আমার সাথে ঢাকা যাইবা? সে বলেছিল হ্যাঁ যামু। সেদিন কোনো আই লাভ ইউ ছিল না। ছিল শুধু একসাথে পথ চলার সিদ্ধান্ত।

আমার নিজের কিছুই ছিল না। খাওয়ার মতো টাকা ছিল না, ঘর ছিল না, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তবুও বলেছিলাম, আমি ওকেই বিয়ে করমু। আব্বা ৫০০ টাকা ধার করে আমাকে নিয়ে তার বাসায় গিয়েছিলেন। আসমা এক কথায় বলেছিল, জীবনে যা করা লাগে, আমি সব করমু।

বিয়ের পর নতুন বউ হয়েও সে পুরো পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে নেয়। আমার অসুস্থ দাদীর সেবা করেছে, ছোট ভাইকে মানুষ করেছে, গ্রামের স্কুলে পড়িয়েছে, প্রাইভেট পড়িয়েছে। মাটির ঘরে থেকেছে, ভাঙা ঘরে থেকেছে, পানি পড়া ঘরে থেকেছে। কিন্তু কোনোদিন অভিযোগ করেনি। আমি ঢাকায় লড়েছি, সে গ্রামে লড়েছে। আমি স্বপ্ন দেখেছি, সে সেই স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন বানিয়েছে। তখন বুঝেছি, সংসার শুধু ভালোবাসা দিয়ে না দায়িত্ব দিয়ে টিকে থাকে।

এক রাতে হঠাৎ এক বন্ধুকে ডাকতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ডাকার আগেই ভেতর থেকে তার বাবার কথা কানে ভেসে এলো বখাটে ছেলেটার সাথে বেশি ঘুরাফেরা করিস না, আড্ডাও দিবি না। কথাগুলো খুব কাছ থেকে শুনেও আর তাকে ডাকিনি। নিঃশব্দে ফিরে এসেছিলাম। পুরো পথজুড়ে শুধু একটা কথাই মাথায় ঘুরছিল আমি কি সত্যিই এত খারাপ? যে আমি ইন্টারমিডিয়েটে এমন রেজাল্ট করেছি, যা আমাদের পুরো গ্রামে আজও কেউ করতে পারেনি, সেই আমিই সবার চোখে বখাটে!

এদিকে ঋণের চাপে আব্বা ঘর ছেড়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে চলে গিয়েছিলেন। পাওনাদাররা বাড়িতে এসে চিৎকার চেঁচামেচি করত। একসময় ঘরের টিন খুলে নিয়ে যায়, গাছ কেটে নিয়ে যায়। নিজের বাড়িতে দাঁড়িয়ে এসব অসহায়ের মতো দেখা ছাড়া তখন আর কিছুই করার ছিল না।

সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবো। রেজাল্ট ভালো ছিল, তাই বিশ্বাস ছিল ওয়েভার পাবো। মনে মনে হিসাব কষে রেখেছিলাম প্রতি সেমিস্টারে ৪ এ ৪ রাখতে পারলে আর টাকা লাগবে না। আর যদি কখনো সেই অবস্থাও না থাকে, তাহলে ঢাকায় রিকশা চালিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে যাবো।

ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের ঢাকা ক্যাম্পাসে ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করলাম। কিন্তু ভর্তি হওয়ার মতো টাকাও ছিল না। সেই সময় আমার ফুফু সুদে টাকা এনে আমাকে বিশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আম্মা কষ্ট করে জোগাড় করেছিলেন আরও পাঁচ হাজার টাকা। আর আসমা প্রতিটা মুহূর্তে সাহস জুগিয়েছিল। এই সামান্য টাকা অনেক মানুষের ত্যাগ আর বুকভরা স্বপ্ন নিয়েই শুরু হয়েছিল নতুন পথচলা।

ঢাকায় এসে শুরুটা সহজ ছিল না। সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ছিল একটা টিউশনি খুঁজে পাওয়া। দিনের পর দিন ঘুরেও যখন কিছু হতো না, তখন নিজেকেই খুব অসহায় লাগত। ভার্সিটির অনেক বন্ধু মজা করে আতেল বলে ডাকত। কখনো বন্ধুদের খাবার খেয়েছি, তাদের কাপড় পরেছি, আবার কখনো তাদের বাজার পর্যন্ত করে দিয়েছি। আত্মসম্মানকে অনেক সময় চুপ করিয়ে রাখতে হতো।

তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করল। একসময় টিউশনি পাওয়া শুরু হলো। তারপর গুলশান, ধানমন্ডি, বনানীর মতো জায়গায় পড়াতে যেতাম। ভালো টাকাও আসতে শুরু করল। নিজের খরচ চালানোর পর বাড়িতেও টাকা পাঠাতাম। তখন মনে হতো, এত কষ্টের মাঝেও হয়তো আল্লাহ একটা পথ খুলে দিচ্ছেন।

দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে তখন কোনো ধারণাই ছিল না। একদিন রাস্তায় জিআরই কোচিং এর বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। পরে বুঝেছিলাম সেটা “গ্রি” না জিআরই। কিন্তু সেই ভুল উচ্চারণের ভেতর দিয়েই জন্ম নিয়েছিল আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন।

তখন জানতাম না জিআরই কী, টোফেল কী, কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। শুধু জানতাম আমাকে একটা পথ বের করতেই হবে। ওয়াশরুমের দেয়ালে, বেডরুমের দরজায় জিআরইর ভোকাবুলারি লিখে টানিয়ে রাখতাম। বারবার পড়তাম, মনে রাখার চেষ্টা করতাম।

জিআরই আর টোফেল দেওয়ার পর শুরু হলো ইউনিভার্সিটিগুলোতে মেইল করা। একটার পর একটা মেইল পাঠাতাম, কিন্তু কোনো রিপ্লাই আসত না। তবুও থামিনি। অবশেষে একদিন একটা ইউনিভার্সিটি
সাউথ ডাকোটা মাইনস থেকে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপসহ অফার লেটার পেলাম।

কিন্তু নতুন সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ালো। ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হবে। অথচ নিজের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টই ছিল না, টাকাও ছিল না। সেই সময় গুলশানে আমার এক স্টুডেন্টের বাবা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আজও সেই ঋণ হৃদয়ে বহন করি।

যেদিন ভিসা পেলাম, সেদিন আব্বা সিএনজিতে ছিলেন। খবরটা শোনার পর তিনি আনন্দে সিএনজি থেকে নেমে উল্টো পথে দৌড় দিতে শুরু করেছিলেন। এরপর বন্ধু আর আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করলাম। এভাবেই এক বুক স্বপ্ন আর হাজারো কষ্ট নিয়ে আমেরিকার পথে রওনা হয়েছিলাম।

আমেরিকায় আসার পরও যুদ্ধ থামেনি। এক সেমিস্টারে একটা কোর্সে ফেল করেছিলাম। তখন নিজের কোনো কম্পিউটারই ছিল না। শেষ পর্যন্ত অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চলে যায়। মানে নিজের টাকায় পড়তে হবে, না হলে দেশে ফিরে যেতে হবে। সেই সময়টা ছিল জীবনের সবচেয়ে অসহায় সময়গুলোর একটি।

কিন্তু হাল ছাড়িনি। আবার নতুন করে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে আবেদন করলাম। আল্লাহর রহমতে আগের ইউনিভার্সিটির চেয়েও বড় একটি ইউনিভার্সিটি
সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেল থেকে ফান্ডিংসহ অফার পেলাম। সেখান থেকেই শেষ পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করি। এর পর বিশ্ববিখ্যাত স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটি তে পড়ি।

গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর Amazon, Apple, Facebook Meta তে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। শুধু কাজই না হায়ারিং টিমেও ছিলাম। অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীর ইন্টারভিউ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। আর এখন Microsoft-এ যোগ দিতে যাচ্ছি।

জীবন আমাকে একটা জিনিস শিখিয়েছে স্বপ্ন দেখতে টাকা লাগে না, কিন্তু সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে অসীম ধৈর্য লাগে। আর একজন মানুষ যদি পাশে বিশ্বাস নিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে অসম্ভব বলেও হয়তো কিছু থাকে না।

© Scholarship Funding with Low CGPA


20/05/2026

২.৯০ সিজিপিএ, জিআরই নেই তবুও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাফিসার ফুল ফান্ডেড পিএইচডি!

নাফিজার এসএসসি জিপিএ ছিলো ৪.৩৩, ইন্টার মিডিয়েট এ ৩.৫৮। তাই পাবলিক ইউনিভার্সিটি তে ফর্ম তুলা হয়নি। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি র ভালো কলেজ গুলো তেও এই জিপিএ দিয়ে চান্স হবে না। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে পড়ে লাভ নেই অনেক টাকা লাগবে কাছের আত্মীয় বলেছিলেন।

বাড়ি থেকেও বলা হয়েছিলো আর লেখাপড়ার দরকার নেই, বিয়ে দিয়ে দিবে। লেখাপড়া করতে চাইলে নিজের পথ নিজের দেখে নিও। মেয়ের পেছনে আর কোন ইনভেস্ট করতে পারবো না। অন্যের ছেলে মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করে পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে চান্স পায় তুমি কি করলা? তোমার হাতে ফোন তুলে দেওয়ার জন্যই এই অবস্থা।

এর মাঝেই নাফিজার আব্বা একদিন হার্ট অ্যাটাক করে। তাদের আকাশ ভেঙে পড়ে। পরিবারের উপার্জন করার মতো তেমন কেউ নাই। কিছু টাকা ছিলো এ গুলো দিয়ে তার আব্বার চিকিৎসা করা হয়। ছোট ভাই নিজের একটা ফুড কার্ট খুলে ভালোই চলছিলো, কিন্তু কিছুদিন পর উচ্ছেদ অভিযানের জন্য রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দোকান ভাড়া নেওয়ার মতো মোটা অংকের টাকা ছিলো না।

এরপর নাফিজা কিন্ডারগার্টেনে জয়েন করেন। প্লে থেকে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত ক্লাস নিতেন, টিউশনি করাতেন। এর মাঝেই তার বাবা মারা যায়। বাবার গ্রামের বাড়িতে কিছু জায়গা ছিলো কিন্তু চাচারা তাদের দখলে রেখেছিলো, দিতে চাচ্ছিলো না। পরে ঘরোয়া মীমাংসার মাধ্যমে কিছু জায়গা পায়। জায়গা কিছুতেই বিক্রি করতে পারছিলো না, তাই অল্প দামে তাদের কাছেই বিক্রি করে দেয়। যে টাকা পায় সেই টাকা দিয়ে তার ভাই একটা হোটেলের জন্য দোকান ভাড়া নেয়। হোটেল ভালোভাবে চলতে থাকে, টাকা নিয়ে এরপর আর তেমন চিন্তা করতে হয়নি।

জাতীয় ইউনিভার্সিটি র আন্ডারে ইন্সটিটিউট অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সাইন্সে গ্রাজুয়েশন করেন। সিজিপিএ ছিলো ২.৯০। পাশাপাশি টিউশনি করতে থাকেন। এভাবেই চলতে থাকে। থার্ড ইয়ারে এসে মনে হলো ডিগ্রি প্রায় শেষের দিকে, ফিউচারে কি করবে? টিউশনি কি আজীবন করবে নাকি বিসিএস দিবে? বুঝে উঠতে পারছিলো না।

এর মাঝে একটা হায়ার স্টাডি নিয়ে সেমিনার হয় কলেজে। গেস্ট হিসেবে তাদের ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই রাকিব ভাই ছিলেন, যিনি চায়না থেকে পিএইচডি করে এখন আমেরিকায় পোস্টডক করছেন। এরপর নিজের মধ্যে হিসাব করা শুরু করে বিসিএস বনাম উচ্চশিক্ষা। একটা জিনিস উপলব্ধি করে, যে সাবজেক্ট নিয়ে লেখাপড়া করেছে তা শুধু একাডেমিক পাশ করার জন্য করেছে, আসলে সাবজেক্ট নলেজে অনেক ঘাটতি আছে। নিজের সাবজেক্টে নিজে থেকে ডিপ নলেজ নিতে হবে।

এরপর থেকে নিজের সাবজেক্টগুলো নিয়ে পড়া শুরু করে। বিভিন্ন স্কিল শেখা শুরু করে। গ্রাজুয়েশন শেষ করে একটা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে জব শুরু করে। সেলারি ভালো ছিলো কিন্তু চাপও অনেক বেশি ছিলো।

একদিন ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে তার এক ফ্রেন্ডের পোস্ট দেখে সে আমেরিকায় চলে যাচ্ছে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে। তাকে নক করে। প্রথমে ইগনোর করলেও পরে কিছু গাইডলাইন পায়। তখনই লক্ষ্য স্থির করে।

কিন্তু সে তো গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে। তার ডিপার্ট মেন্টের শিক্ষকরা রিসার্চের সাথে কখনো জড়িত ছিলেন না। তখন বুঝতে পারে ইউনিভার্সিটি আসলে কত বড় ফ্যাক্টর। পরে তার কিছু বন্ধুদের সাথে কথা হয় যারা নর্থ সাউথ, ইস্ট ওয়েস্ট, বুয়েটে পড়ত। তারা দেশের বাইরে পিএইচডি করতে যাবে এজন্য বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করছিলো। তারা তাকে কিছু ম্যাটেরিয়াল দেয়, কিছু সফটওয়্যার ও টুল শিখতে বলে। সেও শুরু করে।

পরে তাদের সুপারিশে একটা রিসার্চ গ্রুপে যুক্ত হয়। স্যারের তত্ত্বাবধানে কিছু কাজ করে। ধীরে ধীরে কিছু ভালো মানের পেপার পাবলিশ হয়, কিছু কনফারেন্স পেপারও হয়। এরপর টোফেলের প্রস্তুতি নিয়ে টোফেল দেয়। টোফেলে স্কোর ছিলো ১১০।

তার ওই বন্ধুরা যেখানে টোফেলের কোচিং করতো, তারা স্টুডেন্টদের ফাইল প্রসেসও করতো। তাদের মাধ্যমে কাজ শুরু করে। এজেন্সি প্রথমে বলেছিলো স্কলারশিপ ম্যানেজ করে দিবে, ফুল ফান্ডিং না হলেও ৫০-৮০% হবে। কিন্তু পরে কোন স্কলারশিপই মেলেনি। অস্ট্রেলিয়ার কিছু ইউনিভার্সিটি থেকে শুধু টিউশন ওয়েভার পেয়েছিলো।

তার দুই বন্ধু স্কলারশিপের পিছনে না ছুটে এজেন্সির মাধ্যমে এগিয়ে যায়। নাফিজা নিজের টাকা ফেরত চাইছিলো কিন্তু এজেন্সি দেয়নি। এরপর বুঝতে পারে একাডেমিক প্রোফাইল, ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি টেস্ট, পাবলিকেশন এগুলোর চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করে নিজের কমিউনিকেশন স্কিল, ইউনিভার্সিটি সার্চিং, প্রফেসর ম্যানেজিং। এক কথায় নিজের অ্যাপ্লিকেশন নিজে করা।

এরপর পুরো এক বছর সময় নেয়। কিভাবে এসওপি লিখতে হয় কিভাবে প্রফেসর ম্যানেজ করতে হয়, কিভাবে মেইল করতে হয় এসব নিয়ে রিসার্চ করে। অনেক প্রফেসরকে মেইল দেয় কিন্তু কোন রিপ্লাই আসতো না। নিজেকে আরো আপডেট করে, ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। এরপর ধীরে ধীরে কিছু প্রফেসর রিপ্লাই দেওয়া শুরু করেন। বেশির ভাগ রিপ্লাই ছিলো জেনেরিক এই মুহূর্তে তাদের হাতে পর্যাপ্ত ফান্ডিং নেই।

হঠাৎ একদিন লিংকডইনে এক চাইনিজ প্রফেসরের পোস্ট দেখে। উনি স্টুডেন্ট নিবেন। উনার রিকোয়ারমেন্টের সাথে তার সবকিছুই ম্যাচ করছিলো। উনার পাবলিশ করা পেপারগুলো পড়ে। এরপর প্রফেসর এসওপি সিভি দেখে ইন্টারভিউ নিতে রাজি হন। ইন্টারভিউ দেয়। উনি তাকে ডিরেক্ট অ্যাপ্লাই করতে বলেন।

তারপর অফার লেটার হাতে পায়। সাথে ফুল ফান্ডিং।আজ নাফিজা ইউনিভার্সিটি অফ ডানভারে তে পিএইচডি র পথে। লো সিজিপিএ পথ কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়।

© Scholarship Funding with Low CGPA



19/05/2026

ফুল ফান্ডেড পিএইচডি অফার পেলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্রদয় রুবায়েত!

রুবায়েত সরকারি বি.এল কলেজ খুলনা থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফিজিক্সে অনার্স সম্পন্ন করেন। সিজিপিএ ছিল ৩.২৬। রুবায়েত শুরু থেকেই জানতেন শুধু সিজিপিএ না, নিজের প্রোফাইলের অন্য দিকথেকে ও প্রোফাইল শক্তিশালী করতে হবে।

এর পর কুয়েটের ফিজিক্সে মাস্টার্স এ ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রিসার্চ এর সাথে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে শুরু করেন। কুয়েটের হ্যালথ ফিজিক্স ল্যাবে দীর্ঘ সময় রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মংলা আরটিএমএল এও গবেষণাসংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এই সময়ে নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, এনভায়রন মেন্টাল ফিজিক্স এবং হেলথ ফিজিক্স সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি কনফারেন্স পেপার প্রকাশ করেন। ধীরে ধীরে তার রিসার্চ প্রোফাইল শক্ত হতে থাকে।

রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স বাড়ানোর পাশাপাশি আইএলস প্রস্তুতি নেন এবং আইইএলটিএস এ ৭ স্কোর করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো জিআরই দেন নি।

এর মধ্যে কুয়েটে তার মাস্টার্স চলমান ছিল। কিন্তু যখন তিনি বিদেশে এপ্লাই করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার মাস্টার্স শেষ হয়নি। এমনকি প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট পর্যন্ত ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেননি, কারণ রাজনৈতিক কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় রেজাল্ট প্রকাশে জটিলতা তৈরি হয়।

তখন অনেকেই তাকে বলেছিলেন, শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অর্নাস রেজাল্ট সাটিফিকেট দিয়ে সরাসরি পিএইচডি তে এপ্লাই করা খুব রিস্কি হবে। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। নিজের রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স, পাবলিকেশন এবং অভারঅল প্রোফাইলের এর উপর ভরসা রেখে সরাসরি পিএইচডি তে এপ্লাই করেন।

এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেসপন্স আসতে শুরু করে। কিছু জায়গায় রিজেক্ট হন, আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার পান।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিবাচক সাড়া বা অফার পেয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি অব লুইজিয়ানা অ্যাট লাফায়েত আর্থ অ্যান্ড এনার্জি সায়েন্সে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি, ইউম্যাস ডার্টমাউথ পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স, ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন ক্লিয়ার লেক পদার্থবিজ্ঞানে মাস্টার্স ইনস্টেট টিউশন সুবিধা ও টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট শিপ সুযোগ।

এরপর শুরু হয় ভিসা জার্নি। ইন্টারভিউতে তাকে খুব অল্প কিছু প্রশ্ন করা হয়। পরে ভিসা অফিসার তার সোসাল মিডিয়া যাচাইয়ের জন্য ২২১(জি) দেন এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসেসিং এ পাঠান।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ ৭৫ দিনের অপেক্ষা। এই সময়ে তার ফল ২০২৫ সেশনও মিস হয়ে যায়। কিন্তু তিনি ধৈর্য হারাননি। অবশেষে তার স্ট্যাটাস অনুমোদিত হয়, পরে ভিসা ইস্যু হয় এবং তিনি পাসপোর্ট হাতে পান।

ধাপে ধাপে নিজেকে তৈরি করতে পারলে এবং ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেলে সুযোগ একদিন আসবেই, ইনশাল্লাহ।

© Scholarship Funding with Low CGPA


18/05/2026

২.৯৫ সিজিপিএ, তবুও তেজগাঁও কলেজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স!

২০১৩ সালে এসএসসি, ২০১৫ সালে এইচএসসি। এরপর স্বপ্ন ছিল ভালো কোথাও ভর্তি হওয়ার। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল সেই স্বপ্নের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। কোথাও চান্স হলো না। এক বছর কেটে গেল অনিশ্চয়তায়। চারপাশের মানুষের প্রশ্ন, নিজের ভেতরের হতাশা সব মিলিয়ে সময়টা সহজ ছিল না।

শেষ পর্যন্ত ভর্তি হলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তেজগাঁও কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগে। সেশন ২০১৬–১৭। শুরুটাও খুব একটা গোছানো ছিল না। ক্লাসে দেরি করে আসা, শিক্ষকদের বকা খাওয়া, কখনো ক্লাস থেকে বের হয়ে যাওয়া এসবই ছিল বাস্তবতা। অনেকেই হয়তো ভাবতেন, এই ছেলে দিয়ে কিছু হবে না।

কিন্তু জীবন সব সময় প্রথম ইমপ্রেশন দিয়ে বিচার হয় না।

ধীরে ধীরে তিনি নিজের মতো করে পথ খুঁজতে শুরু করেন। খুব ভালো সিজিপিএ ছিল না ২.৯৫ ছিলো তবুও তিনি একটা জিনিস বুঝেছিলেন, শুধু সিজিপিএ না, সঠিক দিকনির্দেশনা আর ধারাবাহিক চেষ্টাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

একটা সময় বিদেশে পড়াশোনার ব্যাপারটা তাকে টানতে শুরু করে। কীভাবে আবেদন করতে হয়, কী কী লাগে, কোথায় চেষ্টা করা উচিত শুরুতে কিছুই পরিষ্কার ছিল না। কিন্তু তিনি থেমে যাননি।একে একে প্রোফাইল ঘুছিয়েছেন আইএলটিএস দিয়েছেন স্কোর ছিলো ৬,জিআরই তে ২৯২, কিছু প্রজেক্ট । নতুন কিছু খুঁজেছেন, শিখেছেন, ভুল করেছেন, আবার নতুন করে চেষ্টা করেছেন।

সেই চেষ্টার ফলেই আজ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের East Texas A & M University তে Masters in Mathematics Data Science concentration প্রোগ্রামে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন। গ্রেজুয়েট এসিস্ট্যান্ট হিসেবে
পড়াবেন ও ।

আরিফুজ্জামানের গল্পটা শুধু একজন মানুষের বিদেশে যাওয়ার গল্প না। এটা অনেক ভুল ধারণা ভাঙার গল্প। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মানেই স্বপ্ন শেষ এই কথাটা যে সত্যি না, সেটার একটা বাস্তব উদাহরণ তিনি।

লো সিজিপিএ পথ কঠিন করতে পারে, কিন্তু স্বপ্ন থামিয়ে দিতে পারে না।

© Scholarship Funding with Low CGPA

17/05/2026

একসময় কাঠমিস্ত্রী, আজ আমেরিকা থেকে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপের অফার!

সঞ্জয়ের জীবন শুরু হয়েছিল সীমাহীন আর্থিক অনটন ও প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে। ছোটবেলায় পরিবারে অভাব এতটাই তীব্র ছিল যে অনেকেই তার পড়াশোনা বন্ধ করে কাজে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল।

সে সময় তার কাছে বইয়ের চেয়ে বেঁচে থাকাটাই বেশি জরুরি হয়ে ওঠে। তার বিশ্বাস ছিল বিদ্যার অভাবে কোনোভাবে বেঁচে থাকা যায়, কিন্তু ভাতের অভাবে নয়। এই নির্মম বাস্তবতাই তাকে কাঠমিস্ত্রীর কাজে বাধ্য করেছিল।

প্রতিদিন তিনবেলা খাবারের বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। বই খাতার বদলে হাতে উঠেছিল করাত, হাতুড়ি আর নির্মাণ সরঞ্জাম।

কিন্তু এক পর্যায়ে সঞ্জয় সিদ্ধান্ত নেন এভাবে জীবন চলতে পারে না। তিনি কাঠমিস্ত্রীর কাজ ছেড়ে দিয়ে আবার পড়াশোনায় ফিরে আসেন। পুরনো বই সংগ্রহ করে সীমিত সুযোগের মধ্যেই শুরু করেন নতুন করে পথচলা। এই সিদ্ধান্তই ছিল তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত।

অসীম কষ্ট ও বাধা অতিক্রম করে সঞ্জয় SSC ও HSC পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটেরিনারি মেডিসিন DVM বিভাগে ভর্তি হন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি শুধু পড়াশোনাই নয়, জীবিকার দায়িত্বও নিজের কাঁধে বহন করেন। টিউশনি, কৃষিকাজ এবং নানা ধরনের পার্ট টাইম কাজ করে নিজের খরচ চালিয়ে যান।

এর মধ্যেও তিনি একাডেমিক ফলাফলে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখেন এবং মাস্টার্স পর্যায়ে মাইক্রো বায়োলজি বিভাগে গবেষণায় যুক্ত হন।

সমস্ত সংগ্রাম, সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সঞ্জয় আজ পৌঁছে গেছেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের আর্কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি
তে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন।

© Scholarship Funding with Low CGPA



16/05/2026

২.৭০ সিজিপিএ, ২ বার ভিসা রিফিউজড তবুও শেষ পর্যন্ত আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স ও ভিসা জয়!

২.৭০ সিজিপিএ। তবুও থামেননি তন্ময়। বরং লড়াই চালিয়ে গেছেন শেষ পর্যন্ত। আন্ডারগ্র্যাডে সিজি যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে, এটা আর পরিবর্তন করার সুযোগ নেই এই বাস্তবতাটা তিনি খুব দ্রুত মেনে নিয়েছিলেন।

এরপর ফোকাস করেন নিজের হাতে থাকা জিনিস গুলোর উপর। যেমন আইইএলটিএস, জিআরই, রিসার্চ পাবলিকেশন, ভালো এসওপি, ইউনিভার্সিটি শর্টলিস্টিং ইত্যাদি।

আইইএলটিএস ও জিআরই তে বাড়তি জোর দেন। ফলাফল আসে আইইএলটিএস এ ৭.৫ এবং জিআরই তে ৩০৩। এরপর ধীরে ধীরে নিজের প্রোফাইলে রিসার্চ যোগ করেন। ১টা ভালো মানের পাবলিকেশন, ১টা কনফারেন্স পেপার ছোট ছোট স্টেপে নিজের প্রোফাইলটা আগের থেকে অনেক শক্ত করেন।

প্রথমে ভিসা রিফিউজড। আবার অ্যাপ্লাই করেন। আবার প্রস্তুতি নেন। আবার ইন্টারভিউ দেন। অবশেষে টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস রিও গ্র্যান্ড ভ্যালি থেকে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স অফার পান। এরপর আমেরিকার ভিসাও পেয়ে যান।

অনেকেই লো সিজিপিএ দেখেই ধরে নেয় বিদেশে হায়ার স্টাডি বা ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স পিএইচডির সুযোগ হয়তো সম্ভব না। কিন্তু বাস্তবে সিজিপিএ ছাড়াও আরও অনেক কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তন্ময়ের জার্নিটা সেটারই একটা বাস্তব উদাহরণ।

আমরা scholarship funding with low cgpa প্লাটফর্ম থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই সিজিপিএ এর গুরুত্ব অবশ্যই অনেক। কিন্তু সিজিপিএ লো মানেই জীবন শেষ, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

তোমার অ্যাপ্লাই করার মতো মিনিমাম সিজিপিএ থাকলে অন্য যেসব বিষয় আছে, যেমন আইইএলএস, জিআরই, পাবলিকেশন, রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স, জব এক্সপেরিয়েন্স, এসওপি এগুলোর দিকে বেশি ফোকাস করো।

আর যাদের সিজিপিএ একেবারেই কম, তারা দেশের পাবলিক বা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স শুরু করতে পারো। পাশাপাশি আইইএলটিএস, জিআরই, পাবলিকেশন, রিসার্চ এক্সপেরিয়েন্স এগুলোর প্রস্তুতি নিতে পারো। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে নিজের প্রোফাইল বিল্ড আপ করো। ছোট ছোট ইমপ্রুভমেন্ট একসময় অনেক বড় পরিবর্তন তৈরি করে।

© Scholarship Funding with Low CGPA


Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka
1000