عمری گذشت و راه نبردم به کوی دوست
مجلس تمام گشت و ندیدیم روی دوست
একটি জীবন শেষ হলো তাও বন্ধুর গলিতে গেলাম না
জলসা-মেলা সাঙ্গ হলো বন্ধুর মুখটা দেখতে পেলাম না।
-ইমাম খোমেইনি (র.)
Department Of Persian Language And Literature, University Of Dhaka
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Department Of Persian Language And Literature, University Of Dhaka, Education, Dhaka.
06/01/2019
প্রথম বর্ষের জন্য।
21/02/2016
হজরত মওলানা জালালুদ্দিন রুমি
বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী কবি দার্শনিক হজরত মওলানা জালালুদ্দিন রুমি। তিনি মোরাকাবায় নতুন মাত্রা যোগ করেন নৃত্য সংযোজন করে। তাঁর স্রষ্টায় সমর্পণ এবং বিশ্বজনীন প্রেমের দর্শন শতাব্দী পরিক্রমায় প্রভাবিত করে এসেছে চিন্তাশীলদের। বহু ভাষায় অনুদিত হয়েছে তাঁর রচনা। আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি পঠিত কবিদের একজন তিনি। তাঁর প্রেমের কবিতা অবলম্বনে রচিত গানের এলবাম স্থান পেয়েছে বিলবোর্ড টপচার্টে। টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে মিস্টিক অফ দি ইয়ার হিসেবে উল্লেখ করে বলে, The sufi sect of the whirling dervishes dances to his rhyme. New age meditation echo his songs. ২০০৭ সালে ইউনেস্কো তাঁর ৮০০ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করে এবং ‘শান্তির সপক্ষে মানুষের হৃদয়ে স্থান’ শীর্ষক অবদানের স্বীকৃতি দেয়।
মার্কিন দৈনিক গার্ডিয়ান ক'দিন আগে এক নিবন্ধে লিখেছে, এটা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার যে, ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর সভ্যতাগুলোর মধ্যে সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেইটে সর্বোচ্চ বিক্রীত বইয়ের তালিকায় যাঁর বই স্থান পেয়েছে,তিনি মার্কিন কালজয়ী সাহিত্যিক রবার্ট ফ্রস্ট, রবার্ট সউল, ভালাস স্টিউনিয কিংবা সিলভিয়া প্লাথ এমনকি শেক্সপিয়র, হোমার, দান্তে বা ইউরোপীয় অন্য কোনো কবির বই ছিল না। বরং সর্বোচ্চ বিক্রীত কবিতার বই ছিল মৌলাভি নামের এমন একজন বিখ্যাত ইরানী মরমী কবির ধ্রুপদী কবিতার বই,যিনি কয়েক শতাব্দী আগে ইসলামী শরিয়তের বিধি-বিধান শেখানোর কাজে আত্মনিয়োজিত ছিলেন।
ইউনেস্কো ২০০৭ সালকে মৌলাভি বর্ষ নামকরণ করা সংক্রান্ত ইশতেহারে লিখেছে-" ইউনেস্কো মনে করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ববর্গ কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশ, জাতি, সংস্কৃতি বা গোত্রের লোক নন বরং তাঁরা সমগ্র মানব জাতির সম্পদ। অর্থাৎ দেশ-কাল-সমাজ-সংস্কৃতির উর্ধ্বে তাঁদের অবস্থান। এইসব কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সেইসব মহান ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচয় করানো যাঁরা মানবজাতির জন্যে মৌলিক অবদান রেখেছেন এবং বিশ্বসভ্যতা ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। শান্তির বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা, অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতার জন্যে বিশ্বের সকল দেশের প্রতি আহ্বান রইলো।"
ইদানীং বিশ্ববাসীর দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে মৌলাভি এবং তাঁর কবিতার ওপর। কেন? এ প্রশ্নটি নিশ্চয়ই সবার সামনে জেগে উঠছে। কিন্তু কে এই মৌলাভি ? কিংবা তাঁর কবিতার বৈশিষ্ট্যই বা কী, শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এখনো তাঁর কবিতার পাঠকই যে শুধু কমে নি তাই নয় বরং দিনের পর দিন তাঁর জনপ্রিয়তা আরো বেড়েই যাচ্ছে। লন্ডন ভিত্তিক দৈনিক গার্ডিয়ান পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী কোলম্যান বার্কস মৌলাভির যে অনুবাদ করেছেন বিশ্বব্যাপী তার অন্তত ৫ লক্ষাধিক কপি বিক্রি হয়েছে এবং বিশ্বের প্রধান প্রধান ভাষাগুলোতে অনূদিত হয়েছে। এসব দেশে বই বিক্রির পরিমাণ সাধারণত দশ হাজার অতিক্রম করে না।
জালালুদ্দিন মোহাম্মাদ বালখি মৌলাভি নামেই বেশি পরিচিত। তিনি হিজরী সপ্তম শতাব্দীর একজন ইরানী কবি এবং আরেফ বা আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন বালখের বিশিষ্ট আরেফ, শিক্ষক,খতীব বাহা ওলাদের সন্তান। মৌলাভি বাহা ওলাদের ছত্রছায়ায় শিক্ষা-দীক্ষা লাভ করেন এবং লালিত পালিত হন। ইরানের সীমান্ত এলাকাগুলোতে মোঙ্গল সেনাদের হামলা যখন ভয়াবহ রূপ নেয়, শহরগুলো ধ্বংস হয় এবং গণহত্যা চালানো হয়, একইভাবে সুলতান মুহাম্মাদ খাওয়ারেযমশাহ যখন স্বেরাচারী শাসন চালায় তখন ইরানের মহান ব্যক্তিত্ব ,বুদ্ধিজীবী ও মনীষীগণের অনেকেই নিজস্ব মাতৃভূমি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। মৌলাভির পিতা বাহা ওলাদও এভাবে মাতৃভূমি ত্যাগকারীদের একজন ছিলেন। তিনি তাঁর পরিবার-পরিজনসহ ৩০০ অনুসারী নিয়ে কাবা যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিরিয়া এবং আরব ভূখণ্ডে যান। মৌলাভির পরিবার নিশাবুর, বাগদাদ,সিরিয়া এবং মক্কায় কিছুদিন অতিবাহিত করে মধ্য এশিয়ার লা-রান্দেহ শহরে যান এবং সেখান থেকে যান কুনিয়ায়। জীবনের শেষ মহূর্ত পর্যন্ত তিনি ঐ কুনিয়াতেই ছিলেন।
মৌলাভি তাঁর পিতা এবং তাঁর কৃতী ছাত্র ও তাঁর সমকালীন স্বনামধন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে সে সময়কার প্রচলিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে পরিচিত হয়েছিলেন। তারপর পিতা মারা গেলে তিনিই পিতার স্থলাভিষিক্ত হন। মৌলাভির কাস এবং তাঁর বক্তব্য,তাঁর জ্ঞান,তাঁর গল্প,তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভা ইত্যাদি ছিল সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। আর তাঁর এই স্বাতন্ত্র্যই মুরিদদেরকে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট করেছে। তাঁর বক্তব্য এবং পাঠদানের দুটি সংকলন আছে। এগুলো হলো âমাজালেসে সাবআ' সাত বৈঠক এবং âফীহে মা ফীহে' বা তাতে যা তার মধ্যে। মাসনাবি এবং দিওয়ানে শামসও মৌলাভির কালজয়ী দুটি কাব্যগ্রন্থ। ৬৭২ সালের ৫ই জমাদিউস সানীতে ৬৮ বছর বয়সে কুনিয়াতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পাঠক! মৌলাভি বর্ষ উপলক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী তাঁকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই আমরা এই আসরের আয়োজন করেছি। এই আসরে তাঁর সাহিত্য সমালোচনা এবং তাঁর চিন্তা বিশ্লেষণ করবো। সেইসাথে মৌলাভি বর্ষ উপলক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী নিত্যনতুন আয়োজন ও ঘটনাপ্রবাহের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেবো। মৌলাভির গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি মাসনাবীর জন্যে তাঁকে আখ্যানকাব্যকার বা গল্পের কবি বলা হয়। তিনি বিভিন্ন কিসসা-কাহিনীর রূপকে তাঁর চিন্তা-চেতনা,বোধ ও বিশ্বাস এবং তাঁর শিক্ষা বর্ণনা করেছেন। মাসনাবির গল্পগুলোতে তিনি আধ্যাত্মিকতার যথাযথ অর্থ ব্যক্ত করেছেন এবং বাস্তবতা ও আধ্যাত্মিকতাপ্রেমীদেরকে তার রসসুধা পান করিয়েছেন। আমরা প্রতিটি আসরেই আপনাদেরকে তাঁর কিসসার ভূবনে নিয়ে যাবো।
প্রফেসর আব্দুল হোসাইন যাররীন কুব তাঁর সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে খোদার সাক্ষাৎ' নামক মৌলাভির জীবনীমূলক গ্রন্থে লিখেছেন- মৌলাভি তাঁর মাসনাভি এবং অন্যান্য গযলে উচ্চতর রহস্যময় চিন্তা এবং শিক্ষাগুলোকে কবিতার মতো করে রচনা করেছেন। তাঁর নিজের জীবনটাও সেই ছোট্ট বেলা থেকেই আধ্যাত্মিকতার সিঁড়ি অতিক্রম করে করে অগ্রসর হয়েছে। তিনি তো কবিতা লেখেন নি,কবিতাকে মূর্তমান করেছেন। আমার মতে মৌলাভির অ-রচিত কবিতাগুলো অর্থাৎ তাঁর আধ্যাত্মিক রহস্যঘেরা জীবনেতিহাস উপলব্ধি করা ছাড়া তাঁর কবিতা উপলব্ধি করা সম্ভব হবে না। কারণ তাঁর জীবন এবং কবিতার মধ্যে রয়েছে বিস্ময়কর অভিন্নতা ও সমন্বয়।' (রেডিও তেহরান থেকে)
মসনবী
মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমি
অনুবাদকঃ মাওলানা আবদুল মজীদ
খেশ রা ছাফী কুন আয আওসাফে খোদ
তা বেবীনী যাতে পাকে সাফে খোদ
নিজেকে আমিত্বের ছেফত হইতে পবিত্র কর তাহা হইলে তুমি তোমার সত্তাকে এমন অবস্থায় পাইবে যে,
বীনি আন্দর দেল উলূমে আম্বিয়া
বে কিতাবো বে মুয়ীদো ঊস্তা
নিজ দেলের মধ্যে (আয়নায় প্রতিফলিত হওয়ার ন্যায়) কিতাব, সমপাঠী, এবং ঊস্তাদের মাধ্যম ব্যতীত নবীদের এলম দেখিতে পাইবে।
দার মেসালে খাহী আয এ্লমে নেঁহা
কেচ্ছা গো আয রূমীয়ানো চীনিঁয়া
যদি এ্লমে লাদুন্নীর দৃষ্টান্ত চাও, তবে রোমবাসী এবং চীনবাসীদের কাহিনী পাঠ কর। (সংক্ষেপিত)
রুপালি পর্দাঃ ২
যদিও এই পরিচালক কে দিয়েই শুরু করা উচিত ছিলো... কারন আমার মতে উনিই সেরা... ভুলে গেছিলাম। তাই উনি দ্বিতীয়।
মাজিদ মাজীদীঃ
১৯৫৯ সালে তেহরানের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া এই প্রতিভাবান চলচিত্রকার মঞ্ছাভিনয়ের মাধ্যমে চলচিত্র জগতে হাতেখড়ি। পরবর্তীতে কিছু চলচিত্র-এ অভিনয়ও করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কিছু স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচিত্র নির্মাণ করে নজর কাড়তে সক্ষম হন। অভিনয়, চিত্রনাট্য রচনা, পরিচালক সর্বোপরি চলচিত্র জগতে অনবদ্য ভূমিকার জন্য অর্জন করেন-
• Oecumenical Special Award, 25th Montreal Film Festival, 2001.
• Grand Prix Des Ameriques, 25th Montreal Film Festival, 2001.
• Nominated for Academy Awards for Best Foreign Film, 1998.
• Grand Prix of Americas Best Film, 21st Montreal Festival for World Films, 1999.
সহ আর অনেক দেশি-বিদেশি স্বীকৃতি।
তার বিখ্যাত কতগুলো ছবি হচ্ছে-
Children of Heaven (1997)
IMDB রেটিং-8.2
আলি ও যাহ্রা। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের স্কুল পড়ুয়া এই দুই ভাইবোনের জুতো মাত্র একজোড়া ! দুই শিফটে ভাগাভাগি করে তাইই চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল ওরা । এরই মাঝে স্কুলের বার্ষিক দৌড় প্রতিজগিতার তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ঘোষিত হয় একজোড়া জুতা, যা কিনা আলীর ভিশন প্রয়োজন। আলি কি পারবে দৌড় প্রতিজগিতার অংশগ্রহন করে ছোটবোনের জন্য জুতোজোড়া ছিনিয়ে আনতে? জানতে হলে দেখুন এই হৃদয়স্পর্শী ছবিটি। আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজের ধরা দেয়া- না দেয়া স্বপ্ন গুলোর সাথে অনেক মিল খুজে পাবেন কথা দিচ্ছি।
The Color of Paradise (1999)
IMDB রেটিং- 7.9
মাতৃহীন অন্ধ বালক মোহাম্মদ তেহরানের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলের ছাত্র। গ্রীষ্মের ছুটিতে একদিন যখন সে বাবা এসে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাবার অপেক্ষায় ঠিক তক্ষনি বাসা থেকে পড়ে যাওয়া একটা পাখীর বাচ্চার ডাক শুনতে পায়। অন্ধ হলেও কোমল হৃদয় মোহাম্মদ ঠিক ঠিক গাছে উঠে বাসায় পৌঁছে দেয় পাখীর বাচ্চাটিকে। গ্রামে এসে দেখতে পায় তার জন্য অধীর অপেক্ষায় তার দাদী ও ছোটবোন। কিন্তু তার বাবা, যে কিনা তার অন্ধ ছেলেকে নিয়ে সদাবিব্রত ও বোঝা মনে করেন তিনি চাইছেন মোহাম্মদকে স্থানীও একটি শহরে ছুতোরের কাজে লাগিয়ে দিয়ে খুব সহসাই বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করতে। দাদীও তার ছেলের সুখের দিকটাই ভাবছেন। কেউ ভাবেনা মোহাম্মদের কথা। অলৌকিক কোন কিছুকি পারে বাবা ও ছেলেকে এক করে দিতে? দেখুন তবে-The Color of Paradise।
The Song of Sparrows (2008)
IMDB রেটিং- 7.7
করিম তেহরানের অদূরবর্তী একটি অস্ত্রিচ পাখীর খামারের শ্রমিক। সুখেদুঃখে পরিবারের অন্যান্যদের সাথে ছোট্ট একটি কুঁড়েঘরে মোটামুটি দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু বিপত্তি দেখা দিল তখনি যখন তাকে একটি অস্ত্রিচ পাখী হারানোর দায় মাথায় নিয়ে চাকরি হারাতে হল। ঘটনাক্রমে মেয়ের কানের শ্রবণ যন্ত্র ঠিক করাতে শহরে এসে ভাগ্য বিড়ম্বনায় বেছে নিতে হল ট্যাক্সি ড্রাইভারের জীবন। নতুন পেশায় এসে ব্যাস্ত শহরে দিনকেদিন করিম কি বদলে যাচ্ছে? হারিয়ে ফেলছে কি তার অতীত দিনের গ্রাম্য ঐতিহ্য ও সততা?
প্রধান অর্জনঃ Best Foreign Language Film in the 81st Academy Awards
Baran (2001)
IMDB রেটিং- 7.6
রোম্যান্টিক মুভি আর ইরানী সমাজ ব্যাবস্থা এ দুটোকে একসাথে ভাবা যদি কষ্টকর মনে হয় তবে ঝটপট দেখে ফেলুন Baran (2001)। ঘটনা অনেকটা এরকম- লাতিফ একটি ভবন নির্মাণ প্রতিস্থান-এর সাইটে দিন মজুরি করে। শ্রমিকদের খানা পাকানো, চা-সিগ্রেট এনে দেওয়া সর্বোপরি কাজ না থাকলে তাদের সাথে ঝগড়া করাই তার প্রধান কাজ। এমনি একদিন সাইটে উপর থেকে পড়ে গিয়ে পা ভেঙ্গে ফেলে নাজেফ নামের একজন অবৈধ আফগান শ্রমিক। কিন্তু বশে থাকলে কি নাজেফের পরিবারের দিন চলবে? বদলি হিসেবে হাজির হয় নাজেফের পুত্র রহমত যে আসলে পুরুষের ছদ্মবেশে নাজেফের কন্যা। কেউ না বুঝলেও একদিন ঠিকই ধরা পড়ে যায় লতিফের চোখে। যথাসাধ্য সাহায্যও করে যায় লতিফ। বুঝতে পারে আসলে প্রেমে পড়ে গেছে সে। কিন্তু ওপার সীমান্তের কঠোর রক্ষণশীল আফগান কন্যা কি সাড়া দিয়েছিল?
The Father (1996)
IMDB রেটিং- 7.1
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হটাত পিতার মৃত্যুতে মেহেরুল্লাহর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। অগত্যা কি আর করা! পরিবারটা বাঁচাতে শহরে একটা কাজ জুটিয়ে নেয়। কিন্তু ছুটিতে বাড়ি এসে যখন সে জানতে পারে যে তার মা একজন পুলিশ অফিসার-কে বিয়ে করে বসে আছে তখন সৎ-বাবা এবং মায়ের উপর তার ক্রোধ সিমা ছাড়িয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিশোধপরায়ন মেহেরুল্লাহ একদিন তার সৎ-বাবার পিস্তল চুরি করে শহরে পালিয়ে যায়। পিছু নেয় সৎ-বাবা এবং ধরা পড়ে মেহেরুল্লাহ। যাহোক, বাবা ও ছেলে যখন হোন্ডায় করে মরুময় অঞ্চল দিয়ে গ্রামের উদ্দেশে পাড়ি দিচ্ছিল ঠিক তখনি মরু-মাঝে হোন্ডা বিকল হয়ে যায়। আটকা পরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে মেহেরুল্লাহ নতুন রূপে আবিষ্কার করা শুরু করে তার সৎ-বাবাকে।
রুপালি পর্দাঃ ১
যে সকল পরিচালক ইরানী চলচ্চিত্রকে দিয়েছেন নতুন মাত্রা,পরিচিত করেছেন বিশ্বের কাছে,তাদের নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক আয়োজন।
আসগর ফারহাদিঃ
১৯৭২ সালে ইরানের ইস্ফাহান প্রদেশে আসগর ফারহাদির জন্ম। তারপর পর্যায়ক্রমে থিয়েটারে গ্র্যাজুয়েট সহ নাট্যকলায় বিএ, এবং সর্বশেষ মঞ্চ নির্দেশনায় যথাক্রমে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় এবং তারবিয়াত মোদারেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ ডিগ্রি অর্জন করেন। শুরুতে শর্ট ফিল্মে ও টিভি সিরিজ নিয়ে মনযোগী থাকলেও Dancing in the Dustছবিটির মাধ্যমে চলচিত্র জগতে প্রথম পদার্পণ। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে তৈরি করে গেছেণ বক্তব্যধর্মী চলচিত্র আর যথারীতি তার সাফল্যও ঘরে তুলেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হচ্ছে-
• Asia Pacific Film Festival (2003)
• Warsaw International Film Festival (2004)
• Berlin International Film Festival (2011)
• Golden Globe Awards (2012)
• Academy Awards (2012)
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রঃ
A Separation (2011)
IMDB রেটিং-8.5
নাদের এবং সিমিনের ১৪ বছরের দাম্পত্য জীবন। ১১ বছরের একমাত্র কন্যা তারমেহ এবং নাদের-এর আলঝাইমার রোগাক্রান্ত বাবা সহ তেহরান শহরে এই পরিবারটির বসবাস। সিমিনের একান্ত ইচ্ছা সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ভাবে চলে যাওয়া। সে চায়না এই পরিবেশের মধ্যে দিয়ে তাদের মেয়ে বেড়ে উঠুক। অন্যদিকে নাদের আপাতত তার বৃদ্ধ বাবা ভিন্ন অন্যকিছু ভাবতে নারাজ। ভাঙনের সূত্রপাত এখানেই। সিমিন বিবাহ বিচ্ছেদের চিন্তা ভাবণা শুরু করে এবং এর ফলশ্রুতিতে তার বাবা-মার কাছে চলে যায়। অপারগ নাদের তাই বৃদ্ধ বাবার দেখাশোনার্থে বাধ্য হয় রাজীয়া নামক একজন আয়া নিয়োগে। অনেকটা রগচটা রক্ষণশীল স্বামীকে না জানিয়েই ছোট মেয়েটিকে নিয়ে অন্তঃসত্ত্বা রাজীয়া কাজ করতে আসত। যাহোক, কিছু টাকা চুরি যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রাজীয়াকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া নিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় এবং বাসার সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নামতে গিয়ে রাজীয়ার গর্ভপাত ঘটে। আদালতে নাদের দোষী সাব্যস্ত হয়। রাজীয়ার স্বামী এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোটা অংকের অর্থ দাবী করে কিন্তু ধর্মভীরু রাজীয়া সন্দিহান যে এ ধরণের দাবী কটটুকু যৌক্তিক? বিপদের এই দিনে অবস্থা সামাল দিতে সিমিন আপাতত ফিরে আসে। শেষ দৃশে দেখা যায় বিবাহ বিচ্ছেদ আদালতের বাইরে নাদের ও সিমিন অপেক্ষমাণ আর ভেতরে অশ্রুসজল দ্বিধাবিভক্ত তারমেহ ঠিক বুঝতে পারেনা সে কার সাথে যাবে? বাবা না মা ?
About Elly (2009)
IMDB রেটিং-8.0
তেহরানের মধ্যবিত্ত সমাজের একদল বন্ধুবান্ধব তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে চলে যায় সমুদ্রতীরে। তাদেরই একজন Sepideh তার কন্যার শিক্ষক এলি-কেও সাথে নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য সদ্য বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া জার্মান ফেরত বন্ধু আহমেদ-এর সাথে একটা সম্পর্ক গড়ে দেয়া। পরদিন সকালে দলের অন্যান্য মহিলারা যখন শহরে শপিং করতে চলে যায় তখন এলি জানায় যে তার মাকে হার্ট সার্জারির জন্য হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাকেও ফিরে যেতে হবে। কিন্তু বাচ্চাদের দেখাশোনার জন্য এলিকে রয়ে যেতে হয়। এরমাঝে একটি শিশু সাগরে পড়ে গেলে দলের পুরুষরা তাকে সাগর থেকে উদ্ধার করে। কিন্তু একি! এলি কোথায়? তবেকি সেও শিশুটিকে উদ্ধার করতে যেয়ে সমুদ্রে হারিয়ে গেল নাকি মায়ের অপারেশনের জন্য ইতিমধ্যেই শহরে ফিরে গেছে? অজানা এক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয় পরিবার তিনটি। শেষ পর্যন্ত কি হল?
(একটি মজার পোষ্ট)
পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীণ সভ্যতা হচ্ছে পারস্য সভ্যতা এবং সে কারনে তাদের লৌকিক ঐতিহ্যও প্রাচীনত্ত্বের দাবিদার। যিশু খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৪ হাজার বছর পূর্ব থেকে বিভিন্ন দলিল দস্থাবেজে পারস্য সভ্যতা ও সংস্কৃতির উল্লেখ পাওয়া যায়। উল্লেখ্য যে প্রাচীণ পারস্যেই বর্তমানের ইরান। নিচে তাদের কিছু প্রাচীণ লোকসংস্কৃতির (বিভিন্ন বস্তু এবং বস্তু অনুসারে বিভিন্ন অর্থ) উল্লেখ করা হলো...
১. একটি পুরো এলাচি : একটি পুরো এলাচি কাউকে পাঠালে বুঝতে হয় অসীম ধৈর্য এবং ভদ্রতার প্রয়োজন। ধৈর্য এবং ভদ্রতা বজায় রাখলেই যে উদ্দেশ্যে এলাচি পাঠানো হয়েছে তা সফলতায় পরিণত হবে।
২. এলাচি দানা : এলাচির খোসা ফেলে দিয়ে দানা পাঠালে বুঝতে হবে কোন অসুবিধা নেই, কাজ হাসিল হবে এবং কোন বাধা বিপত্তিই থাকবে না। খোসা এর বাধা চলে গেছে।
৩. লবঙ্গ : লবঙ্গ অকৃতকার্যতার লক্ষন। লবঙ্গ পাঠালে বুঝতে হবে 'আমি নাচার' অর্থাত্ কাজ হবেনা।
৪. দারুচিনি পুরো এক কাঠি : যে কোন উদ্দেশ্যে এমনকি প্রেম বিনিময় করার ইচ্ছায় পুরো এককাঠি দারুচিনি শুভ লক্ষন বহন করে। এটা পাঠানোর উদ্দেশ্যে হলো, "আমি তোমার জন্যে উত্সর্গীত, তোমার জন্যে প্রাণ দিতে প্রস্তুত"।
৫. দারুচিনি খন্ড খন্ড অবস্থায় : দারুচিনি খন্ড খন্ড অবস্থায় প্রদান করলে বোঝা যাবে "আমার হৃদয় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে", অতএব এই মন জোড়া দেওয়ার ব্যবস্থা প্রয়োজন।
৬. একটি সুডৌল পুরো আখরোট : এটি আত্মনিবেদনের অর্থ জ্ঞাপন করে অর্থাত্ আমি তোমার জন্য প্রস্তুত আছি। আমাকে যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারো।
৭. আখরোটের চামড়া কিছুটা : আখরোটের উপরিভাগের শক্ত খোসা কিছুটা কেটে পাঠালে বুঝতে হবে আমি অসুস্থ নিরুপায় অসুবিধা আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। অতএব সাহস চিকিত্সা কিংবা বুদ্ধির দরকার আছে কাজ হাসিলের জন্যে।
৮. আঁখ : রসালো পাকা আঁখ পাঠালে বুঝতে হবে তোমার ব্যবহার আমাকে পরিতৃপ্ত করেছে। আমি তোমাকে চাই, আমিও তোমার কাছে রসালো আখ সদৃশ থাকবো।
৯. আয়না : আয়না পাঠালে বুঝতে হবে তুমি সবসময় আমার সঙ্গে আছো। অতএব তোমাকে আমার চাই।
১০. আঙ্গুর : আঙ্গুরের অর্থ নিম্নোক্ত লোক সঙ্গীতে ব্যক্ত করে থাকে। যেমন- "তোমার দুঠোট যেনো টসটসে আঙ্গুরের দানা, কথার অমৃত রস এ হৃদয়ে দেয় শুধু হানা"
অর্থাত্ আঙ্গুরের রস পান করতে আমি একাগ্রচিত্ত।
এইগুলা ছাড়াও আরো অনেক চিত্তাকর্ষক ও আকর্ষনীয় লোকসংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে ইরানে। ইরানের লোকজন তাদের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্যে এসব বস্তুর ব্যবহার করে থাকে :-)
লেখকঃ
Mumit Al Rashid স্যার।
সহযোগী অধ্যাপক, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
নওরোজ উৎসব। ইরানের পহেলা বৈশাখঃ
হাজার বছরের পরিক্রমায় বয়স, ভাষা, বর্ণ, গোত্র বা সামাজিক মর্যাদা নির্বিশেষে সর্বস্তরের ইরানী জনগণ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে নওরোয পালন করে আসছে। ফার্সী ভাষায় ‘নওরোয’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘নতুন দিন’ বা নববর্ষ এবং এটি সৌর বছরের শুরু বোঝায়। এটি একই সাথে ইরানী জাতি ও অপর কিছু সংখ্যক জাতিরও ক্যালেন্ডারের শুরু।
নওরোয উৎসব হলো প্রকৃতির পুনর্জন্ম উৎসব। এ পুনর্জাগ্রত হওয়া অন্ধকার অপশক্তিরূপ শীতকালের বিরুদ্ধে উত্তম শক্তির বিজয়ের প্রতীক।
প্রাচীন পারস্যে কখন এবং কিভাবে নওরোয অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে তা জানা যায় নি। তারপরও এটা বলা যায় যে, ইরানীরা সব সময়ই নওরোয পালন করে এসেছে।
ইরানের বিখ্যাত কবি আবুল কাসেম ফেরদৌসী (৯৪০-১০২০) তাঁর মহাকাব্য শাহনামায়, আবু রায়হান আল বিরুনী, কবি ওমর খইয়াম তাঁর ‘নওরোযনমেহ’ গ্রন্থে নওরোযের উৎসবকে ইরান সম্রাট জামশিদের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।
প্রাচীন ইরানে ইরানীরা প্রধানত দু’টি উৎসব পালন করতো যে সম্পর্কে লোগ্বাতনমে দেহখোদায় উল্লেখ করা হয়েছে। নওরোয বলতে সাত মাসব্যাপী গ্রীষ্মকালের শুরুকে বোঝাতো, আর ‘মেহেরগান’ উৎসব হতো শরৎকালের প্রথম ভাগে যা এখনো জরথুস্ত্রীদের দ্বারা পালিত হয়।
নওরোয উৎসবের ব্যাপারে প্রাচীনতম প্রত্নতাত্ত্বিক রেকর্ড পাওয়া যায় ২৫০০ বছর আগের হাখামানেশী আমলের। তারা সেই অঞ্চলে প্রথম সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে এবং শিরাজ নগরীর সন্নিকটে ‘পারসেপোলিস কমপ্লেক্স’ তৈরি করে।
চার ঋতুর জন্য হাখামানেশীদের ভিন্ন ভিন্ন চারটি আবাসস্থল ছিল। পারসেপোলিস ছিল তাদের বসন্তকালীন আবাসস্থল এবং নববর্ষ উদ্যাপনের স্থান। প্রাচীন ভাস্কর্যের নকশাদিতে দেখা যায়, সম্রাট সিংহাসনে বসে তাঁর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের প্রজাসাধারণ, গভর্নর এবং বিভিন্ন অঞ্চলের দূতদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। তাঁরাও সম্রাটকে উপহার সামগ্রী দিচ্ছেন এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। আমরা এসব রীতি সম্পর্কে বেশি কিছু জানি না। কিন্তু এটা নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, সকালগুলো প্রার্থনা ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতো।
ইসলামের আগমনের পূর্বে ইরানের সর্বশেষ রাজবংশ সাসানীদের আমলে নতুন বছরের প্রথম দশ দিন নওরোযের উৎসব পালন করা হতো। ইরানে ইসলামের আবির্ভাবের পর নওরোয উৎসব পালন করা হতে থাকে মহানবী (সা.)-এর মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের দিন অর্থাৎ ১ রবিউল আউয়াল থেকে (আরবি ‘রবি’ শব্দের অর্থ বসন্ত)। নয় শতাব্দীরও পূর্বে প্রখ্যাত মুসলিম বিজ্ঞানী ওমর খইয়াম তুর্কী সালজুক শাসক মালেক শাহেব নির্দেশনায় যথাযথভাবে সৌর হিজরী ক্যালেন্ডার তৈরি করেন এবং ফারভারদিন মাসের ১ তারিখকে নওরোয হিসাবে নির্দিষ্ট করেন। এ দিক থেকে ২০১২ সালের ২১ মার্চের নতুন বর্ষ হলো সৌর বর্ষ হিসাবে মহানবী (সা.)-এর হিজরতের ১৪৩৩ সাল।
ইরানীরা আজো তাদের ঐতিহ্যবাহী নওরোয পালন করে। নওরোযের আরো অনেক আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় ঐতিহ্য রয়েছে যা এখনো ইরানীদের দ্বারা উদ্যাপিত হয়। যখন রেডিও বা টেলিভিশনে নওরোযের ঘোষণা দেয়া হয় তখন পরিবারের ছোট সদস্যরা বড়দের প্রতি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানায়, তাদের গালে চুমু দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে, কখনো কখনো তাদের হাতেও চুম্বন করে। আত্মীয়-স্বজনরা পরস্পরকে চুম্বন ও কোলাকুলি করে, টাকা উপহার দেয়। সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয় যাতে বছরের অবশিষ্ট সময়ে তাদের জীবন মধুময় হয়। একটি ছোট আয়না চারদিকে ঘোরানো হয়, বাতাসে গোলাপ পানি ছিটানো হয় এবং কুদৃষ্টি দূর করার জন্য এসফান্দ নামক সুগন্ধী বীজ জ্বালানো হয়।
প্রথম কয়েকদিন পরিবারের বয়স্ক সদস্য এবং আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে সাক্ষাতে ব্যয় করা হয়। শিশুরা বড়দের নিকট থেকে উপহার সামগ্রী লাভ করে। মিষ্টি ও অন্যান্য বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।
নওরোয উৎসব হলো ইরানীদের ইতিহাস, সাহিত্য, কবিতা ও জনসাধারণের জীবনের সবচেয়ে জনপ্রিয় উৎসব।
তাজিকিস্তান, ইরাকী কুর্দিস্তান, আফগানিস্তান, কাজাখস্তান, উযবেকিস্তান, ভারতের একটি অংশে, পাকিস্তান এবং চীনেও ব্যাপকভাবে নওরোয পালন করা হয়। মিশর, ফিলিস্তিন এবং সিরিয়ায় বসন্ত উৎসব পালন করা হয় যা ‘ঈদ-উল-উম্ম বা ‘প্রকৃতি মায়ের উৎসব’ নামে পরিচিত। জাপনীরাও মার্চ মাসে বসন্ত উৎসব পালন কলে। আঠারো শতক পর্যন্ত রাশিয়া যে ক্যালেন্ডার ব্যবহার করত তাতে বছর শুরু হতো ২৪ মার্চ। এসব কারণে ‘বসন্তবিষুব’ দিন জাতিসংঘ কর্তৃক ছুটির দিন বলে ঘোষিত হয়েছে।
নওরোযের বাণী হলো সামাজিক ন্যায়বিচার, ঐক্য, সাহচর্য, আনন্দ, সুখ এবং মানবতার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির বাণী।
ফার্সি রসঃ ১
একবার ইরাক আর ইরানের তথ্যমন্ত্রীর মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলো। শক্ত সামর্থ্য হওয়ায় ইরানের তথ্যমন্ত্রী সহজেই জিতে গেলেন। সেই রাতে ইরাকের সরকারি গণমাধ্যমের খবরে বলা হলো : তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ইরাকের তথ্যমন্ত্রী রৌপ্যপদক জয় করেছেন। অথচ ইরানের তথ্যমন্ত্রী অনেক চেষ্টার পরও শেষ লোকটার আগে পৌঁছেছেন মাত্র।
05/10/2013
ইরানের বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফি.........
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka