নেশার ছোঁয়ায় ভালোবাসা
নিশীতা আক্তার
রাত অনেক গভীর।
বারান্দার বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে।
পুরো শহর ঘুমিয়ে গেছে অনেক আগেই।
শুধু মিথিলার চোখে ঘুম নেই।
বিছানার এক কোণে চুপচাপ বসে আছে সে।
হাঁটুর ওপর থুতনি রেখে
জানালার বাইরে তাকিয়ে।
তার ভেতরটা আজ অদ্ভুত ভারী।
কিছু অনুভূতি আছে—
যেগুলো কাউকে বলা যায় না।
শুধু বুকের ভেতর নিঃশব্দে পুড়তে হয়।
হঠাৎ—
পেছন থেকে কেউ আলতো করে তার কাঁধে হাত রাখল।
মিথিলা চমকে পিছনে তাকাতেই
আহিরকে দেখতে পেল।
কালো শার্টে ভেজা চুলগুলো এলোমেলো।
চোখে ক্লান্তি।
কিন্তু সেই ক্লান্ত চোখেও
একটা মানুষ শুধুই তাকে খুঁজছে।
আহির ধীরে বলল—
“এখনো ঘুমাওনি?”
মিথিলা কিছু বলল না।
শুধু চোখ নামিয়ে নিল।
আহির দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
তারপর ধীরে ধীরে মিথিলার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।
“আমার দিকে তাকাও।”
মিথিলা তাকাতে চাইল না।
কারণ সে জানে—
এই মানুষটার চোখে তাকালে
নিজেকে আর লুকানো যায় না।
আহির আলতো করে তার থুতনি তুলে ধরল।
“কাঁদছিলে?”
মিথিলা জোর করে হাসল।
“না তো।”
আহির হালকা মাথা নেড়ে বলল—
“তুমি মিথ্যা বললে তোমার চোখ কেঁপে ওঠে।”
এই ছোট্ট কথাটাতেই
মিথিলার বুক কেঁপে উঠল।
কেউ তাকে এতটা খেয়াল করে—
এই অনুভূতিটা ভয়ংকর সুন্দর।
বাইরে বজ্রপাত হলো।
এক মুহূর্তের আলোয়
আহিরের মুখটা আরও গভীর লাগল।
সে ধীরে বলল—
“তুমি কেন নিজেকে এত কষ্ট দাও, মিথিলা?”
“সবসময় মনে হয় তুমি একা একা যুদ্ধ করো।”
মিথিলার চোখ ভিজে উঠল।
“সবাই তো একসময় ছেড়ে চলে যায়…”
কথাটা বলেই সে চোখ নামিয়ে ফেলল।
আহির কিছুক্ষণ চুপ রইল।
তারপর খুব আস্তে
মিথিলার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল।
“আমি না।”
দুইটা শব্দ।
খুব ছোট।
কিন্তু সেই দুইটা শব্দের ভেতর
এতটা নিশ্চয়তা ছিল—
যে মিথিলার বুক কেঁপে উঠল।
আহির তাকে নিজের বুকে টেনে নিল।
তার কণ্ঠ ভারী।
“তুমি জানো তোমার সবচেয়ে ভয়ংকর অভ্যাস কী?”
মিথিলা নিঃশব্দে মাথা নাড়ল।
“তুমি সবাইকে ভালোবাসো…”
“কিন্তু নিজেকে না।”
মিথিলার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
আহির সেই জল আঙুল দিয়ে মুছে দিল।
“তোমার কান্না আমার সহ্য হয় না।”
তারপর একটু হেসে বলল—
“তাই প্লিজ…
আমাকে এতটা দুর্বল বানিও না।”
মিথিলা হঠাৎ শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরল।
যেন ভয় হচ্ছে—
এই মানুষটাকেও হারিয়ে ফেলবে।
আহির চোখ বন্ধ করল।
তার বুকের ভেতর ধকধক শব্দ হচ্ছে।
ভালোবাসা কখনো কখনো নেশার মতো।
একবার কারও মাঝে ডুবে গেলে
ফিরে আসতে ইচ্ছে করে না।
আর মিথিলা—
সে হয়তো আহিরের সবচেয়ে সুন্দর নেশা।
বাইরে বৃষ্টি আরও জোরে নামল।
আর ভেতরে—
দুজন মানুষ নিঃশব্দে
একজন আরেকজনের ভাঙা হৃদয় জোড়া লাগাতে লাগল।
Moniruzzaman Monir
সঠিক উপায়ে শিখলে, অল্প পড়েও অনেক ভাল রেজাল্ট করা যায়- মনিরুজ্জামান মনির LEARN WITH MONIRUZZAMAN MONIR
শুভ সকাল বন্ধুরা
05/05/2026
দরজাটা একটু জোরে বন্ধ করেই কাজের টেবিলের দিকে গিয়ে বসে পড়ল রিনা। কানাডার শীতের দুপুর, বাইরে হালকা তুষার পড়ছে। জানালার ওপাশে টরন্টোর স্কারবোরো এলাকার সাদা ধূসর আকাশ।
ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে সোহান বের হতেই রিনা বলল,
-আম্মুর জন্য একটা শাল পাঠাব ভাবছি। আব্বুর ডায়াবেটিক্সের জন্য গ্লুকোমিটারটাও নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু টাকা পাঠানো দরকার।
সোহান ভ্রু কুঁচকে তাকাল,
- টাকা পাঠাবে মানে? কোন টাকা? আমি তো আর টাকার গাছ লাগাই নি।
-মানে… তুমি তো ফুলটাইম জব করো, ট্যাক্স কেটে হলেও তো ভালোই থাকে। আমার নিজের তো ইনকাম নেই…
বাকিটা শেষ করতে পারল না রিনা। সোহান জোরে হাসল, তাচ্ছিল্যের শব্দ মিশে গেল হিটারের গুঞ্জনে।
- নিজের পরিবার, নিজের গিফট, নিজের ফানফেয়ার সবকিছুই "আমার" দিয়ে শুরু। তাহলে টাকা কেন "আমার" না? নিজের টাকায় করো। আমি চ্যারিটি খুলে বসি নি।
রিনার বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
-তুমি সিরিয়াসলি বলছো? ওরা আমার বাবা-মা।
-আরে প্লিজ, ইমোশনাল ডায়লগ মেরে লাভ নেই। আমি তো কানাডায় কষ্ট করে কাজ করছি, বিল দিচ্ছি, গাড়ির ইন্স্যুরেন্স, গ্রোসারি, রেন্ট… সব সামলাতে সামলাতে আমি তোমার বাড়ির লোকজনকে গিফট পাঠানোর এটিএম মেশিন হতে পারব না।
কথাটা বলে সে ফোনটা হাতে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসে ইনস্টাগ্রামে স্ক্রল শুরু করল। যেন কিছুই হয়নি।
সেদিন রাতে বেডে শুয়ে শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে রিনা। ক্যানডনের হলুদ আলো পর্দার ফাঁক গলে ঘরে ঢুকে একটা অদ্ভুত অন্ধকার মিশ্র আলো তৈরি করেছে। পাশে শোয়া সোহান গভীর ঘুমে, হালকা নাক ডাকার শব্দ।
রিনা ফিসফিস করে নিজের মনেই বলে,
-আমি কি তবে ভুল মানুষের সঙ্গে আছি?
তার মাথায় ভেসে ওঠে ঢাকার বাসা। মায়ের মুখ। আব্বুর কাঁপা গলা, "মা, তোর পাঠানো সেই উলের শালটা না, এখনও রোজ নামাজে পরি।" তিন মাস হয়ে গেল সে কিছুই পাঠাতে পারেনি।
পরদিন সকালে সোহান অফিসে চলে গেলে সে ল্যাপটপ খুলে বসে। জব সাইটগুলোর অধিকাংশ সার্চ দেয়। সব জায়গায়ই যেন একই কথা কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্স চাই, বা উচ্চ ডিগ্রি, ঝকঝকে ইংরেজি।
ভাষাতত্ত্বে মাস্টার্স করা মেয়েটা আজ একজন অভিবাসী গৃহবধূ, চা বানানো, বাসন মাজা আর ঘর গুছানোই যেন তার একমাত্র কাজ।
সন্ধ্যাবেলা সোহান ফিরে এলে রিনা সাহস করে বলল,
-আমি ভাবছি জব খোঁজা শুরু করব।
সোহান চোখ কুঁচকালো,
-তুমি? তুমি কী জব করবে? তোমার তো কানাডিয়ান এক্সপেরিয়েন্স-টেক্সপেরিয়েন্স কিছুই নেই।
-সব তো একদিন থেকেই শুরু হয়। শুরুটা করতে চাই।
সোহান কাঁধ ঝাঁকাল, ঠান্ডা গলায় বলল,
-যা খুশি করো। তুমি তো এমনিতে তোমার সার্টিফিকেট এর গরম দেখাও, এবার প্রুভ করো। তুমি তো গ্রাম থেকে উঠে আসো নি। জানি অনার্স মাস্টার্স দুটোতেই ফার্স্ট ক্লাস ছিল, নিজেই তো গর্ব করে শতবার বলো।
কয়েক সপ্তাহের পরিশ্রম, হতাশা আর অদ্ভুত অদ্ভুত ইন্টারভিউর পর একদিন ইমেইলে চাকরির অফার এলো। ডাউনটাউন টরেন্টোতে কিং স্ট্রিটের কাছাকাছি একটা ল ফার্ম, কাজটা রিসিপশনিস্ট এর। যদিও ওরা একটু গ্রুমিং করেই নেবে।
ইমেইল পড়েই তার চোখ ভিজে গেল। সে প্রায় দৌড়ে রান্নাঘরে গেল। সোহান তখন কফি বানাচ্ছে।
- সোহান! আমার জব হয়েছে।ডাউনটাউন টরন্টোতে, কোর্টের কাছে… ভালো স্যালারি।
সোহান একটু থেমে তাকাল। তারপর খুবই নির্লিপ্তস্বরে বলল,
-ওহ, কংগ্রেটস। কবে থেকে জয়েনিং?
-পরের সোমবার থেকে। সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা।
-হুম। তাহলে কিন্তু তোমাকে সাতটার মধ্যে বের হতে হবে। বাস-সাবওয়ে ধরে ডাউনটাউন যেতে সময় লাগবে। প্ল্যান করে নিও। সাজতে বসলে এসব তো মাথায় থাকে না।
শব্দগুলো কানে সুচ ফুটিয়ে দিল রিনার।
চাকরিতে যোগ দেয়ার পর রিনার জীবন পুরো বদলে গেল। ঘুমখোর আরামপ্রিয় রিনার ভোরবেলা অ্যালার্মে ঘুম ভাঙে, ঘুম চোখে কফি মেশিন অন করে, তারপর নিজে তাড়াহুড়ো করে শাওয়ার নিয়ে দ্রুত রেডি হয়।
সকাল সাতটার বাস ধরে স্কারবোরো থেকে কেনেডি স্টেশন, সেখান থেকে সাবওয়ে ধরে ডাউনটাউন। ইউনিয়ন স্টেশনের ভিড়, কাচের দেয়াল, উঁচু উঁচু বিল্ডিং, শীতের কুয়াশার ভিতর দিয়ে সিএন টাওয়ার এর মাথা দেখা যায়।
ল ফার্মে ঢুকতেই রিসেপশনের ফোন আর ইমেইলের ঝড়। ক্লায়েন্টরা আসছে, যাচ্ছে, কাগজপত্র সাইন হচ্ছে। রিনা প্রথম দিকে গুলিয়ে ফেললেও ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যায়। ফার্মের সিনিয়র লইয়ার মার্গারেট একদিন তাকে আলাদা করে যা বলল তা বাংলা করলে অনেক টা এরকম,
তুমি খুব ভালো ভাবে কাজ করছো রিনা, এটি চালিয়ে যাও।
সেদিন বাসায় ফিরে এসে কিচেনে দাঁড়িয়ে সে নিজেকেই বলল,
— আমি পারি… সত্যিই পারি।
প্রথম বেতন পেলো মার্চের শেষ সপ্তাহে। পে-স্টাবের দিকে তাকিয়ে সে কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল। ট্যাক্স কেটে যা থাকে, তা বাংলাদেশের মুদ্রায় কনভার্ট করলে অনেক বড় অঙ্ক।
ফোন তুলে ভিডিও কলে আম্মুকে দেখাল।
-দেখো আম্মু, এটা আমার নিজের রোজগারের টাকা।
মায়ের চোখ ভিজে উঠল,
-মামনি, তুই খুশি তো?
মা সামনে থাকলে নিশ্চিত রিনা তাকে জড়িয়ে ধরতো।
সেই রাতেই সে একটা প্ল্যান করল।
-এবার ঈদে আমি নিজের টাকায় আব্বু-আম্মুর গিফট পাঠাব। ঢাকার বাসায় সুন্দর একটা ফ্রিজ, আব্বুর মেডিসিনের জন্য একটা ফান্ড আর আম্মুর জন্য শাড়ি।
পরের কয়েক সপ্তাহে সে খরচ কমিয়ে দেয়। ব্র্যান্ডেড কফি কেনা বাদ, বাইরে খাওয়া কম। পে-ডে আসতেই সে অনলাইনে অর্ডার করে ঢাকার এক ইলেকট্রনিক্স শোরুম থেকে ভালো একটা ফ্রিজ, আর অনলাইন শপ থেকে দুটো সুন্দর জামদানি শাড়ি, রেমিট্যান্স করে পাঠায় কিছু টাকা।
হাতে ফোন নিয়ে হঠাৎ ওয়াশরুমের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল সোহান।
-কী করছো?
-ঢাকায় টাকা পাঠালাম। আর ফ্রিজও অর্ডার করে দিলাম বাসার জন্য নিজের টাকায়। ব্যঙ্গ করে বললো রিনা।
দিন যায়, মাস যায়। গ্রীষ্ম আসে, টরন্টোর ড্যানফোর্থে গ্রিক ফেস্টিভাল হয়, লেকে বোট শো হয়, সিএন টাওয়ারের আশেপাশে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। অফিসে রিনার জায়গা শক্ত হয়, সে মার্গারেটদের কাছের মানুষ হয়ে ওঠে।
রিনা এখন প্রায়ই বাবা মা ভাইয়ের জন্য এটা সেটা পাঠায় সোহানকে দেখিয়ে।
শরৎ এসে গেছে। গাছের পাতা লাল, কমলা, হলুদ হয়ে উইলসন সাবওয়ে স্টেশনের পাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। একদিন অফিস থেকে ফেরার পথে বাসের জানালার পাশে বসে রিনা ফোন স্ক্রল করছিল। হঠাৎ ঢাকার বাসা থেকে ভিডিও কল।
কল রিসিভ করতেই দেখল তার আম্মু কান্না গলায় বলছে,
- মা, তোর আব্বু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে, হার্টের সমস্যা। অপারেশন লাগবে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট লাগবে। খরচ অনেক বেশি। তোর ভাই তো একা সামলাতে পারছে না।
রিনার দুনিয়া কেঁপে গেল।
-কত টাকা লাগবে আম্মু?
যে অঙ্কটা আম্মু বলল, তা শুনে তার মাথা ঘুরে উঠল। তবুও সে বললো,
-চিন্তা করো না, আমি ব্যবস্থা করছি।
সে তার সেভিংসে থাকা প্রায় সব টাকা ট্রান্সফার করে দিল ঢাকায়। চোখের পানি গাল বেয়ে পড়তে লাগল।
সেদিন রাতে সোহান দেখল, রিনা অনেকটাই গুম হয়ে গেছে।
-কিছু হয়েছে?
-আব্বু হাসপাতালে। অনেক টাকা লেগেছে। আমি সব সেভিংস পাঠিয়ে দিয়েছি।
-তুমি একা এত বড় অঙ্ক পাঠালে? আমার সাথে কথা না বলে?
-তুমিই তো বলেছিলে নিজের টাকায় করো। তাই করলাম। কিন্তু আমি জানি এই টাকায় এত বড় অপারেশন আর তারপরেও খরচ সব মিটবে না। ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো রিনা। অনেকদিন পর সোহানের সামনে সে কাঁদলো।
পরেরদিন ভোরবেলা। টরন্টোর আকাশ তখনও অন্ধকার, জানালার কাঁচে কুয়াশা জমেছে। ঘুম থেকে উঠে কফি বানাতে গিয়ে রিনা দেখল, কিচেনের টেবিলের ওপর কিছু কাগজ, একটা লাল খাম আর ছোট্ট একটা চিঠি রাখা।
রিনা,
আমি জানি, তুমি ভাবো আমি খুব স্বার্থপর, খারাপ মানুষ। তুমি একজন মেধাবী স্টুডেন্ট , দেখতে চমৎকার আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এসব দেখেই আমি তোমাকে বিয়ে করেছিলাম। সেই তুমি কানাডায় এসে শুধুমাত্র গৃহস্থালির কাজ নিয়ে মত্ত হয়ে পড়লে। বিয়ের প্রথম দু বছর আমার বাবা-মায়ের সাথে সাথে তোমার বাবা-মায়ের দায়িত্বও আমি পালন করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তুমি সেটাকে আমার একার দায়িত্ব হিসেবেই ধরে নিয়েছিলে। বাধ্য হয়ে পরে আমাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তুমি একবার আমাকে বলেছিলে তোমার পরিবারকে গিফট পাঠানোর জন্য টাকা দিতে, তখন আমি ইচ্ছে করেই না বলেছিলাম। কারণ আমি তখনই ঠিক করেছি তুমি যদি নিজের পায়ে দাঁড়াতে না শিখো, তাহলে জীবনের অনেক বড় বড় ঝড় একা সামলাতে পারবে না। তুমি আমার স্ত্রীর পাশাপাশি আমার পার্টনার। আমার কাছে পার্টনার মানে বন্ধু, সঙ্গী, ভালোবাসার মানুষ, যে সম্পর্কে শ্রদ্ধা থাকবে, বিশ্বাস থাকবে এমন কেউ। এমন কেউ নয় যে শুধুমাত্র আমার উপর ডিপেন্ড করে বসে থাকবে। আমার কিছু হয়ে গেলে যে নিরুপায় হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরবে।
আমি বাংলাদেশ থেকে বের হওয়ার আগের রাতে তোমার আব্বুর মুখ টা মনে আছে তোমার? তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো, ওকে কোনদিন ছোট করো না ।’ আমি নিজেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমি তোমাকে নিজের পায়ে দাঁড় করাবো। কিন্তু সেই তুমি স্বেচ্ছায় যেন নিজেকে গৃহবন্দী করলে।
আমি জানতাম, তুমি ক্যাপেবল. তুমি শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলে। আমি খারাপ লোকের মতো আচরণ করেছি ইচ্ছে করেই, যেন তুমি রাগে-দুঃখে হলেও উঠে দাঁড়াও। তুমি দাঁড়িয়েছো। আজ তুমি শুধু আমার ঘরের স্ত্রী না, তুমি নিজের পরিবার, নিজের বাবা-মায়ের ভরসা।
আমি কখনও তোমার পরিবারকে ঘৃণা করিনি। তাদের জন্যই তো আজ এমন একটা মেয়ে পেয়েছি। তোমার পাঠানো ফ্রিজ, শাড়ি— সব আমি আমার ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখেছি, কারণ ট্রান্সফার ডিটেইলস আমার ইমেইলে আসে। তোমার আব্বুর মেডিকেলের টাকা পাঠানোর আগেই আমি আলাদা একটা লাইনে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলাম তোমার ভাইয়ের একাউন্টে।
লাল খামের ভেতরে আজকের দিনেই করা আরেকটা ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সফারের রিসিট আছে। ওটা আমি করেছি। তোমার আব্বুর চিকিৎসার বিল কভার করার মতো।
আমি কখনও চাইনি তুমি ভাবো আমি হিরো। শুধু আমার পাশে থেকো, একটু ভালোবেসো। তোমাকে ভালোবাসি, আজন্ম তোমাকেই ভালোবাসবো।
"সোহান”
চিঠিটা পড়তে পড়তেই রিনার চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। কাঁপা হাতে সে লাল খামটা খুলল। সত্যিই আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্সের রিসিট, বিশাল অঙ্কের টাকা পাঠানো হয়েছে ঢাকায়, তার ভাইয়ের একাউন্টে।
ওই মুহূর্তে পেছন থেকে আস্তে করে একটা কণ্ঠ শোনা গেল,
- তোমার কফি টেবিলে ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার আগেই খেয়ে নাও।
রিনা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল। দরজার ফাঁকে দাঁড়িয়ে আছে সোহান, চুল এলোমেলো, চোখে অদ্ভুত ক্লান্তি আর শান্তি মেশানো দৃষ্টি।
-তুমি… আগে বলোনি কেন? রিনার গলাটা যেন আটকে গেল।
সোহান হালকা হেসে বলল,
-কারণ তুমি এত শিক্ষিত মেধাবী হয়েও নিজেকে শুধু কারও স্ত্রী হিসেবে দেখছিলে। আমি চাইছিলাম, তুমি প্রথমে নিজের পরিচয় তৈরি করো, বাবা মাকে ছেলে শুধু কেন দেখবে? মেয়ের প্রতিও তাদের অধিকার আছে, তুমি তাদের ঢাল হয়ে দাঁড়াও।
একটু থেমে যোগ করল,
- আর হ্যাঁ, খারাপ স্বামীর রোলটা আমি ভালোই প্লে করি, তাই না?
রিনা চুপচাপ এগিয়ে গিয়ে তার বুকে মুখ গুঁজে দিল। কানাডার শীতের বাড়তি ঠান্ডাটুকু যেন হঠাৎ করেই মিলিয়ে গেল।
সেই মুহূর্তে, এক লাইনে সব হিসাব বদলে গেল,
যে মানুষটাকে এতদিন সে নিছক স্বার্থপর, হিংস্র, বেয়াদব, অসভ্য ভাবছিল, সেই মানুষটাই আসলে নীরবে তার বাবা-মায়ের উপর থেকে দায়িত্ব নামিয়ে নিয়ে, তাকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।
#গোপন_সহযাত্রী
কমেন্টে গঠনমুলক মন্তব্য করবেন দয়া করে।
07/12/2025
বিয়ের দ্বিতীয় দিন আমার শাশুড়ি আমায় বললেন, "তোমার বিয়েতে পাওয়া সমস্ত গহনা আমাকে দাও। তুমি সামলে রাখতে পারবে না।"
আমি বললাম, "পারবো মা।"
শাশুড়ি মা রেগে বললেন, "যা বলছি, তাই করো। যাও। গহনাগুলো নিয়ে আসো।"
আমি কোমল কন্ঠে বললাম, "না মা। আমার গহনা আমি কাউকে দিবো না। আমি নিজেই এগুলো সামলে রাখতে পারবো।"
আমার শাশুড়ি, মেঝ জা ও ছোট ননদ বিস্ফোরিত দৃষ্টি মেলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বড় জা-এর চোখে অশ্রু চিকচিক করলেও, মুখে বিজয়ীর হাসি দেখতে পেলাম।
আমার শাশুড়ি রেগে আমার ছোট ননদকে বললেন, "দেখেছিস নূপুর! দিহান এ কোন ফকিন্নির বাচ্চাকে ধরে আনলো! আমি কী তার গহনাগাঁটি বিক্রি করবো? আমার কাছে রাখলে কী হবে?"
নূপুর বললো, "বাদ দাও না মা। ভাবী যেহেতু দিতে চাচ্ছে না, তোমার কাছে রাখার দরকারই বা কী?"
আমার শাশুড়ি মা নূপুরের দিকে চোখ পাকিয়ে তাকালেন। বড় ভাবীর বিয়েতে পাওয়া গহনা থেকে একজোড়া বালা তিনি তার বড় মেয়ে ফুলিকে দিয়ে দিয়েছেন। মেঝ ভাবীর ভাই পুলিশের এসআই হওয়ায় তিনি মেঝ ভাবীর থেকে গহনা চাওয়ার সাহস পান নি।
আমার গহনা থেকে স্বর্ণের হার ও রুপোর নূপুর তিনি ছোট ননদকে দিতে চেয়েছিলেন। আমার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না আর এতে নিজেই আমার ছোট ননদ ব্যাগড়া দিচ্ছে।
আপনারা ভাবছেন, আমি আমার শাশুড়ির ভাবনা কোথায় থেকে শুনলাম? আমার খালা শাশুড়ি আমায় জানিয়েছেন।
তিনিও আগে এমন করতেন বিধায় তার পুত্রবধূরা এখন আর তার তেমন দেখভাল করে না। সকালের নাস্তা দুপুরের আগে খেতে দেয়, রাতের খাবার দিতে দিতে এগারোটা বেজে যায়।
সময়ের সাথে সাথে সংসারের অদৃশ্য চাবির হাতবদল হয়। যে মেয়েটা সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে ভীতু অবস্থায় নতুন বাড়িতে পা রাখে, সেই বাড়িতেই সে একদিন কর্ত্রী হয়ে ওঠে।
আমার খালা শাশুড়ি চান না, আমার শাশুড়ির সাথে আমি কখনো এমন করি। তাই তিনি আমাকে গহনা দিতে নিষেধ করেছেন। আমি তার কথা রাখলাম।
সেদিন রাতেই,
আমার নামে বিচারসভা বসানো হলো। বিচারসভায় শাশুড়ি কেঁদে কেঁদে বললেন, "দিহান রে! এ তুই কাকে বিয়ে করলি? বিয়ে হতে না হতেই আমার মুখে মুখে তর্ক করে। কয়েকদিন পরে তো আমায় দেখবেই না।"
দিহান আমায় বললো, "তন্বী! গহনাগুলো মাকে দিয়ে দাও। আমি তোমায় পরে কিনে দিবো।"
আমি দৃঢ়স্বরে উত্তর দিলাম, "আমার গহনা যেহেতু, আমার কাছেই থাকুক। তুমি বরং মা-কে পরে কিনে দিও।"
আমার শাশুড়ির চক্ষু চড়কগাছ। তিনি স্বপ্নেও ভাবেন নি, দিহান গহনা দিতে বললেও আমি গহনা দিবো না।
বড় ভাবী বললেন, "গহনা নিয়ে এত নাটক করার দরকার নাই। আম্মা আপনি আমার গহনা থেকে স্বর্ণের হারটা নূপুরকে দিয়েন। আর আমি আপনার বড় ছেলেকে রূপোর নূপুরের ব্যবস্থা করতে বলছি।"
নূপুর ভীষণ অবাক হয়ে বললো, "সে কী! আমি কেন তোমার গহনা নিতে যাবো?"
অন্দরমহলের দ্বন্দ্বে প্রয়োজন ছাড়া নূপুর কখনো থাকে না। তাই অনেককিছুই তার অজানা।
বড় ভাবী বললো, "কেন নেবে না? ফুলিকে যে মা আমার স্বর্ণের বালা দিয়েছে।"
সবার চোখ শাশুড়ি মায়ের দিকে ঘুরে গেল। হাঁটে হাঁড়ি ভাঙায় শাশুড়ী মা আমতাআমতা করছেন।
মেঝ ভাবী মুচকি হাসছেন। তিনিই শাশুড়ী মাকে আজকের বিচারসভার আয়োজন করার জন্য প্ররোচনা দিয়ে গিয়েছেন। তাকে খারাপ ভেবেছিলাম তখন। এখন বুঝতে পারলাম, তিনি সত্যি ভীষণ বুদ্ধিমান ও খুব ভালো মনের মানুষ।
অণুগল্প: কৌশলে_মুখোশ_উন্মোচন
লেখিকা: ফারজানা_ফাউজিয়া_মুগ্ধতা
ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন দয়া করে।
আমার_কী_দোষ?
সকালে মায়ের কাছে ১০০ টাকা চাইছিলাম বাহিরে গিয়ে বন্ধুদের সাথে একটু আড্ডা দিব সেই জন্য।মুখের ওপর নেই বলে দিছে,সাথে এটাও বলেছে,কামাই করে কত দিয়েছি?কথাটা গায়ে মাখি নাই,কারণ আমি স্টুডেন্ট,কামাই করি না +টো টো কম্পানির মালিক(ওই খাই দাই ঘুরি আরকি)।তাই আমার মতো আকাইম্মারে তো সহজে টাকা দিবে না, যতক্ষণ না তার পায়ের কাছে নাগিন ড্যান্স না দিচ্ছি। সেই জন্য সময় নষ্ট না করে মায়ের কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান শুরু করে দিলাম।
-ও মা!দাও না ১০০ টাকা।শুধু আজকের জন্যই দাও,এর পর থেকে আর চাইবো না।
-বললাম না নেই,
-দাও না মা,
বারবার এভাবে বলায় মা বিরক্ত হয়ে বলে,
-দাড়া দিচ্ছি,
বলেই মা তার পার্স ব্যাগ থেকে ১০ টাকা বের করে আমার হাতে দেয়।১০ টাকা হাতে নিয়ে আমি একবার টাকাকে দেখছি তো আরেকবার মাকে দেখছি।চাইলাম কী আর দিল কী?
-ওমা,এইটা কী?
চাইলাম ১০০ আর তুমি দিলে ১০!
-যা দিয়েছি তাই নে,আমার কাছে আর টাকা নেই,
কথাটা শুনে আমি অবাক হয়ে বলি,
- কী বললা!তোমার কাছে টাকা নাই।এটা তুমি গ*লা পযন্ত পানিতে দাড়িয়ে বললেও তো আমি বিশ্বাস করবো না।তুমি যেই কিপটার কিপটা,সহজে পাঁচ টাকা ভাংগো না আর তোমার কাছে কোনো টাকা নাই!
কথাটা বলতে দেড়ি সাথে সাথেই মা আব্বুর ভাত খাওয়ার স্টিলের থালাটা দিয়ে দিল পিঠে এক বারি। বুঝলাম মা জননী আর টাকা দিবে না।
পিঠ ডলতে ডলতে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মাকে বললাম,
-সন্তানকে টাকা দিতে চাও না,তোমার এই টাকা পিপড়ায় খাবে,
সাথে সাথেই মা ওই থালাটা আবার আমার দিকে ছুড়ে মারে,কিন্তু তার আগেই আমি দরজাটা আটকিয়ে দেই।এইবারের মতো বাঁচলাম।
বিকেল-৪ টা
নিজের ঘরে সু*য়ে ফোন টি*পছিলাম এমন সময় বাহির থেকে কার যেন কান্না শুনি।প্রথমে আমি গুরুত্ব দেই নি,কিন্তু যখন দেখলাম মা ও ঘর থেকে বের হচ্ছে আমি ও মায়ের পেছন পেছন চলে আসি।
বাড়ির রাস্তার সামনে এসে দেখি একটা মহিলা রাস্তায় হাত পা ছ*ড়িয়ে কান্না করছে।আশে পাশের সবার থেকে শুনে বুঝলাম,মহিলার ছেলে অসুস্থ,ডাক্তার দেখানো লাগবে আর তাতে অনেক টাকা লাগবে কিন্তু তার কাছে কোনো টাকা নাই ইত্যাদি ব্লা ব্লা কাহিনী।এসব কাহিনী শুনে আমি বিরক্তিকর চেহারা বানিয়ে ঘরে এসে পড়ি।ওমা কিছুক্ষণ পর দেখি মা সেই মহিলাকেই আমাদের ঘরে নিয়ে আসছে সাথে পাশের বাড়ির নাগ গলানো এক কাকিও আছে।তারা তিনজন মিলে মায়ের ঘরে কিসব আলাপ করতে থাকে। মোবাইলে চার্জ না থাকায় আমি তখন টিবি দেখছি।প্রায় ৩০ মিনিটের মতো আলাপচারিতা করার পর সেই মহিলা চলে যায়।তার কিছুক্ষণ পর মা আর পাশের বাড়ির কাকি এসে আমাকে এক জোড়া দুল দেখায়।
-দেখতো কেমন লাগে এই দুল জোড়া,
-ভালোই লাগে,,কিন্তু এগুলো পেলে কই?তোমার তো এমন কোনো দুল নেই,
-ওই মহিলার থেকে কিনছি।ছেলেকে ডাক্তার দেখানোর টাকা নাই,তাই স্বর্ণের দুল জোড়া বেচতে চায়।দশ হাজার টাকা দাম হবে জিনিসের,চার হাজার নিয়ে গেছে বলছে টাকা না দিতে পারলে জিনিস আমার,
মায়ের কথা শুনে আমি মাথায় হাত দিয়ে বলি,
-এই যুগে আমার মায়ের মতো বলদ মানষ ও পৃথিবীতে আছে?আচ্ছা তুমি কী যাচাই করে দেখছো এটা স্বর্ণের?
মা আর কাকি চুপ হয়ে যায়।এতক্ষণ পর তাদের টনক নড়ল।আসলেই তো,যাচাই ছাড়া তারা কিভাবে জিনিসটা কিনতে পারল!আমি মায়ের হাত থেকে জিনিসটা নিয়ে বললাম,
-আমি স্বর্ণকারের দোকান থেকে এটা যাচাই করে আনছি।
বলেই আমি বাইরে চলে গেলাম।
স্বর্ণকারের দোকানে যাচাই করতে দিয়ে আমার সন্দেহই ঠিক হয়।এটা স্বর্ণের না,ইমিটি।আমার মাকে বোকা পেয়ে তার চার হাজার টাকা নিয়ে ভেগেছে মহিলা।
জিনিসটা নিয়ে বাড়ি আসার পর শুনি পুরো এলাকায় এই ঘটনা ছড়িয়ে গিয়েছে।নিশ্চয়ই এটা ওই নাক গলানো কাকির কাজ।
ঘরে এসে মায়ের হাতে জিনিসটা দিয়ে বলি,
-এতে কোনো স্বর্ণ নেই,এটা ফুটপাথ থেকে কেনা ২০ টাকা দামের দুল।
-(জিনিসটা নেড়েচেড়ে) মহিলাটা আমাকে এইভাবে ঠকাইলো!
-ঠকাবে না!আমি ১০০ টাকা চাইলে দিতে চাও না,আর ওই মহিলা ৪০০০ হাজার নিয়ে ভেগেছে,ভালোই হয়েছে
মা আমার কথা শুনে রাগ হয়ে বলে,
-আমি আছি আমার জ্বালায় আর ও আছে ওর ১০০ টাকা নিয়ে।যা সর আমার সামনে থেকে,
মায়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় একটু ঢং করে গাইলাম,
পিঁপড়া খাইলো বড়লোকের ধ*ন ও সো*নারে,
সাথে সাথেই মা আব্বুর সেই স্টিলের থালাটা নিয়ে দিল এক বারি।
বুঝলাম না আমি কী দোষ করলাম?টাকা নেয় একজনে আর ফাও মাইর খাই আমি!
সমাপ্ত
রম্যগল্প
চলবে??
15/11/2025
৪১৬৬ পদে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রাইমারি সহকারী শিক্ষক পদে বিশাল সার্কুলার প্রকাশ।
আবেদন শুরু: ১৪ নভেম্বর
আবেদন শেষ: ২৭ নভেম্বর
15/11/2025
"উমম্! ব্যা'থা পাচ্ছি অভিক ভাই ছাড়ুন প্লিজ"! অনুরোধ সুরে বললো সানা,
অভিকের বা হাতে বন্ধি তার দুটো হাত মাথার উপরে বিছানায় চেপে ধরা।
আরেক হাত কোমরের শাড়ির ভাজে উ*ন্মুক্ত কোমরে খা*মচে ধরা ।
ন'খ ডেবে যাচ্ছে এক প্রকার ।
উজ্জ্বল শ্যাম বর্ন রঙেও লাল হয়ে যাচ্ছে জায়গাটা ।
রাগে হিসহিসিয়ে উঠছে অভিকেৱ মস্তিষ্ক ।
কতো বড় সাহস! এতোবার বারন করার পরেও পরপুরুষের সামনে যায় সেজেগুজে সং হয়ে! এই অভিক এহসানের বৌ কে কিনা আরেক পুরুষ দেখে যায় বিয়ের উদ্দেশ্য!
আরও জোরে খা*মচে ধরলো উ*দর। যেন মাং*শ তুলে নিবে।
এবার শব্দ করে কেদে দিল সানা ব্যথায় ভয়ে তার প্রান পাখি যায় যায় অবস্থায় ।
কান্নার তোপে পুরো শরীর কেপে উঠছে ।
ব্যথায়, শরীরের উপরে ভারি শরীরের চাপে নিশ্বাসের গতি এলোমেলো হচ্ছে সানাৱ
সানা কে শব্দ করে কাদতে দেখে মস্তিষ্ক কিছুটা শান্ত হয়ে আসছে অভিকেৱ রাগ কমছে।
খা*মচে ধরা উ*দর থেকে হাত কিছুটা শিথিল হলো ।
অভিক কে কিছুটা শান্ত হতে দেখে কেদে ফুপিয়ে ফুপিয়ে নিজের হয়ে সাফাই গাইতে শুরু করলো সানা "আমি যেতে চাইনি ওনাদের সামনে , মামা আর মামী জোর করে শাড়ি পরিয়ে নিয়ে গেছে আমায় ।
বলেয় আবার ফোপাঁতে লাগল সানা ।
"তোকে বলেছিনা আমার বৌ তুই? এহসান বাড়ির পুএবধু তুই!
তুই কেন পরপুরুষের সামনে গিয়ে সং সেজে বসবি? এক্ষুনি খুলবি এই শাড়ি ।
" বলেই সানাৱ হাত ছেড়ে কাদ থেকে শাড়ির আচল টেনে খুলে ফেললো, শাড়ির কুচিতে হাত দিতে গেলেই সানা দু'হাতে আটকাতে চাইলো অভিক কে।
রাগে হিতাহিত জ্ঞ্যান শূন্য অভিক ; কোন বাধা মানলো না ।
বেগুনি কালার জামদানী শাড়িটার স্থান হলো ফ্লোরে ।
দু'হাতে শরীরের উন্মুক্ত স্থানকে ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে সানা , কিন্তু সম্ভব হচ্ছেনা ।
তাই ছোট দুটি হাত দিয়ে কেবল ব*ক্ষবি*ভাজনটা আড়াল করে রাখলো।
যদিও ডিম লাইটের হালকা আলোতে কিছু বোঝা যাচ্ছে না।
সানাকে চুপসে যেতে দেখে তার দিকে দৃষ্টি দিল অভিক
ব*ক্ষবি*ভাজ আড়াল করে রাখা , উ*ন্মুক্ত উ*দর, না'ভির নিচে থাকা পেটিকোট এসব কিছু চোখে ধরা পড়তেই মাথায় অন্য নে*শা জ্বলে উঠলো অভিকেৱ
চোখ দুটো দিকদিক করছে নে*শায়।
বাকানো খাজের কেন্দ্রবিন্দুতে বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে স্লাইড করছে অভিক আর জীব দিয়ে ঠোঁট ভিজাচ্ছে।
তার কণ্ঠনালি শুকিয়ে এসেছে , বারবার ঢোক গিলার চেষ্টায় এড্যামাস এ্যপেলটা ভেসে উঠছে
সানা কিছু বলতে যাবে এর আগেই দু'ঠোট দ্বারা আকরে দরলো সানাৱ নরম কোমল ঠোঁট ।
নিশ্বাস নিতে পারছেনা সানা ।
দু'হাতে ঠেলে সরাতে চাচ্ছে অভিকে এতে আবারও তার দুটি হাত আটকা পড়ল অভিকেৱ শক্ত পুরুষালি হাতের মুঠোয় ।
জোরে জোরে শ্বাস টানছে সানা, শ্বাস নেওয়ার সাথে সাথে ব*ক্ষবি*ভাজের উঠানামা'ও বেরে গিয়েছে , সেদিকে তাকিয়ে অভিকেৱ মাথা পা*গল পা*গল হয়ে যাচ্ছে , নিজেকে আটকাতে না পেড়ে মুখ ডুবিয়ে দিল গলার কাছে ।
ঘাড়ে আলতো করে কা*মড় দিল।
"উমমম্! পা*গল করে দিচ্ছিস আমায় " অস্পষ্ট স্বর অভিকেৱ
নতুন শিহরণ, নতুন অনুভুতিতে জমে গেছে সানা।
পায়ের তলা শিরশির করছে, তলপেটে প্রজাপতিরা উরোউরি করছে ।
আঠারো বছরের নারী সত্তা নতুন কিছুর স্বাদ নিতে চাচ্ছে ।
চোখ গড়িয়ে জল পড়ছে সানার ।
আবার গলায় মুখ ডুবিয়ে বললো "আমায় কেন রাগাস ডিয়ার?
তুইতো জানিস আমার রাগ কতো ভয়ংকর!
আমি আপনার অবাধ্য হতে চাইনি অভিক ভাই। মাথা মোটা কোথাকার!"
বলেয় সানাৱ উপর থেকে উঠে গেল ।
ফ্লোর থেকে শাড়িটা উঠিয়ে সানাৱ দিকে ছুড়ে মে*রে নিঃশ্বব্দে বেড়িয়ে গেল রুম থেকে দরজা দিয়ে।
ঘড়িতে তখন রাত বারোটার উপরে । শাড়িটা কোনরকম গায়ে জড়িয়ে উঠে দরজা আটকালো সানা !
কী_কৱে_তোকে_ৰলৰো
তানিয়া_খাতুন
Part _1
__________________________________________
[ সতর্কতা ! এই গল্পটি অনেকটা রোমেন্টিক হবে । সাইকো টাইপ, যারা অতিরিক্ত রোমেন্টিকতা পছন্দ করেন না তারা এড়িয়ে চলবেন । ]
[মন্তব্য করে জানাবেন হুউ! ফলো দিয়ে পাশে থাকবেন ধন্যবাদ 🖤]
একটা সময় ছিলো ছেলেরাও বিড়ি খাইতো লুকাইয়া যাতে করে কেউ না দেখতে পায়, সোশ্যাল ভ্যালু এমন ছিলো যে, কেউ দেখলেই না জানি তার সম্মান চলে যায়! বেয়াদবের কাতারে তার নাম চলে যায়।
অথচ আজকাল ছেলেদের কথা আর কি বলবো মেয়েরাই পাবলিক প্লেসে ছেলে বন্ধুর দিয়াশলাই দিয়ে বিড়ি ধরাইয়া দেয় টান!! ন্যুনতম লজ্জা, সম্মান, ভয় কিছুই নাই!!
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Dhaka