যারা ফলোয়ার বাড়াতে চান তারা আমাকে ফলো দিতে পারেন। ফলোয়ার লিস্ট ধরে ফলো ব্যাক করা হয়।তাই নো টেনশন।
GK for Job Aspirants
Only Study
কূটনৈতিক উচ্চাভিলাষী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করে গত মঙ্গলবার। তাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল
১.ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি
২.ইউক্রেন-রাশিয়া আলোচনা
৩.গাজা
৪.সিরিয়া ও
৫.এফ-৩৫ ফাইটার জেট কর্মসূচি।
প্রত্যাশা যার যেটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা হলো তাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হোক। পৃথিবীতে নেমে আসুক শান্তি।
মানুষের জীবন মুক্ত পাখির মতো। তাকে মুক্ত আকাশেই উড়তে দিতে হয়।নিজের সুখ, ভালোলাগা, নিজেকেই খোঁজে নিতে হয়। আসুন হয়ে যাক ব্যাক টু ব্যাক।
ইরান-ইসরাইল কি আসলেই ৩য় বিশ্বযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে?
19/06/2025
যাদের ৪৫ তম ভাইভা এবং ৪৬ তম রিটেন অথবা ৪৭ তম প্রিলি আছে তারা নিম্নোক্ত গুগল ফর্ম পূরণ করবেন।
যে মানুষ তার প্রিয় মানুষকে নিজের কষ্ট বোঝাতে পারে না তার মতো দুঃখী মানুষ আর কেউ নেই।
প্রত্যেকটা মানুষেরই জীবনের একটা লক্ষ্য থাকে আর মানুষ সেই লক্ষ্যে পৌঁছে গেলে তাদের আর করার কিছুই থাকে না। মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। তাই জীবনের লক্ষ্যগুলো কে কখনোই এমনভাবে নির্ধারণ করা ঠিক নয় যেটা খুব তাড়াতাড়ি পূরণ হবে আর তুমি বেকার হয়ে পড়বে।
চাকুরি করে কিভাবে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে....
চাকুরি করে আসলে লিখিত তাও আবার বিসিএস লিখিত প্রস্তুতি নেওয়া খুবই কঠিন। তবে আমার মনে হয় এক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে থাকে আমাদের মোটিভেশন। একটা চাকরি পেয়ে গেলে আর্থিক সচ্ছলতা অফিসের প্রেসার আসার পর সেই লেভেলের মোটিভেশন না থাকলে পড়া শোনা চালিয়ে যাওয়া টা খুবই টাফ। এজন্য সর্ব প্রথম যেটা করতে হবে তা হলো বিসিএস টা আমার প্রয়োজন না কি প্যাশন সেটা বুঝতে হবে যে প্যাশন হয়ে থাকে এবং আপনার দ্বারাই শুধু সম্ভব নচেৎ নয়। চাকুরীই পাওয়ার পর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথম দরকার সেটা বিসিএস টা প্যাশন হওয়া।
এর পর আসি কিভাবে সময় বের করব
১. এক্ষেত্রে বাসা অফিসের কাছাকাছি হওয়াটা পড়াশোনায় একটা আলাদা বেনিফিট সৃষ্টি করবে আপনার জন্য।এক্ষেত্রে যাতায়াত এর ক্লান্তি এবং সময় নষ্ট হবে না,,
২. যারা রাতে পড়তে ভালোবাসেন তারা রাত ৩/৪ টা পর্যন্ত পড়তে পারে।
৩. আর যারা সকালে পড়তে ভালোবাসেন তারা রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে ভোর ৩/৪ টার সময় উঠে সকালে অফিসের যাওয়ার আগে পর্যন্ত পড়লে তাও উভয় ক্ষেত্রে ৭/৮ ঘণ্টা পড়া হবে।
মোটিভেশন পাওয়ার থেকে মোটিভেশন ধরে রাখা কঠিন।
টাকায় জীবনের সব। জীবনে শুধু টাকা থাকলেই চলবে,, সাথে অন্যসব বিষয় সাপ্লিমেন্টারি।সব আছে কিন্তু টাকা নাই তাহলে জীবন অচল। কিন্তু যদি কিছুই না থাকে শুধু টাকা থাকে তাহলে দেখবে আস্তে আস্তে সব তোমার হাতের মুঠোয় চলে আসতেছে। তাই জীবনে যাই করো না কেন টাকা উপার্জনের চিন্তা প্রথমেই করতে হবে। তবে হ্যাঁ অবশ্যই সৎ পথে।
াংলাদেশে_বেকারত্ব_সমস্যা_ও_সম্ভাবনা
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ চাকরি করে আয় উপার্জন করতে পছন্দ করে কিন্তু বাংলাদেশে বেকারত্বের সমস্যা তীব্র হওয়ার ফলে তা সম্ভব হচ্ছে না অনেক অংশেই।
যখন একটি শ্রমিক বর্তমান মজুরি দিয়ে চাকরি পেতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই শ্রমিকটি বেকার হয়। এই ধরনের বেকারত্ব একটি অর্থনৈতিক প্রস্তুতির অবস্থা হয় যখন একটি শ্রমিক বর্তমান বাজার মজুরির মূল্যে চাকরি পেতে ইচ্ছুক হলেও সেই সময় তার জন্য কোনো চাকরি নেই।
বেকারত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। শিক্ষিত ও তরুণদের ছাড়া এদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে গ্রামীণ এলাকায় শহর এলাকার তুলনায় বেকারত্ব অনেক বেশি পাওয়া যায়। গ্রামীণ এলাকায় মোট বেকারের সংখ্যা 1.82 মিলিয়ন যেখানে শহুরে এলাকায় 0.77 মিলিয়ন।
বাংলাদেশের 50% এরও বেশি যুবক, কর্মক্ষম ব্যক্তি যেখানে উন্নত দেশগুলিতে মাত্র 20-25% যুবক রয়েছে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আমাদের দেশের মানব শ্রমের জন্য একটি বড় সুযোগ।
UNDP এর একটি রিপোর্টে, 189 টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের রেঙ্ক হল 135 এবং HDI মান 0.614 এবং এটি মাঝারি স্তরে অবস্থিত।
বাংলাদেশে বেকারত্বের হারঃ
বাংলাদেশের বেকারত্বের হারের তথ্য
২০০৮ সালের পর ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ বেকারত্বের হার ছিল ৫% এবং ২০১০ সালে সর্বনিম্ন বেকারত্বের হার ছিল ৩.৩৮%। ২০১০ সালের পর, বেকারত্বের হার ২০১৩ পর্যন্ত আবার বৃদ্ধি পায় যখন এটি ছিল ৪.৪৩%। তারপরে বেকারত্বের হার ধীরে ধীরে কমছে ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ সালে তা ছিল যথাক্রমে ৪.৩৭%, ৪.৩৮% , ৪.৩৮%। ২০১৬ সালে মোট বেকার ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২.৭ বিলিয়ন এবং ২০১৯ সালে তা ছিল প্রায় ২.৬ বিলিয়ন।বেকারত্বের হার ২০২০ থেকে ২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি ছিল যা ৫.২১ , ৫.১০% যা আবার ২০২২ সালে কিছুটা কমে ৪.৬৭ % হয়।
বাংলাদেশে বেকারত্বের কারণ সমুহঃ
১.অতিরিক্ত জনসংখ্যা: উচ্চ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যা এই দেশে বেকারত্বের প্রধান কারণ। জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে কিন্তু বিনিয়োগের ঘাটতি রয়েছে।
২.অনুন্নত অর্থনীতি: বাংলাদেশের অর্থনীতি অনুন্নত এবং কৃষিভিত্তিক। একটি অনুন্নত অর্থনীতিতে সমস্ত লোককে নিয়োগ করা খুব কঠিন।
৩.মূলধনের অভাব: মাথাপিছু আয় কম হওয়ায় বাংলাদেশিদের স্বল্প সঞ্চয় রয়েছে। সুতরাং, এখানে পুঁজি গঠন সম্ভব নয় বা এখানে সামান্য পুঁজি গঠন করা যেতে পারে। মূলধনের অভাব মানে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নেই।
৪.কারিগরি শিক্ষার অভাব: সব শিল্পেই দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন। বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকাংশেরই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান নেই।
৫.প্রাকৃতিক দুর্যোগ: নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদির কারণে প্রতি বছর বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়ে।
৬.রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অদক্ষ প্রশাসন আমাদের সামাজিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয় ফলে মানুষ বিনিয়োগ করতে চায় না ।
৭.কৃষি নির্ভরতাঃ বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল ফলে বিশাল।
৮.দুর্নীতি: ব্যবসার প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতি রয়েছে। দুর্নীতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা হতাশ।
৯.কুটির শিল্প ধ্বংস: বাংলাদেশী কুটির শিল্প দিন দিন বিলুপ্ত হওয়ার পথে তাই বিদেশী শিল্পের সাথে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষমতা হারাচ্ছে ফলে বেকারত্বের হার বাড়ছে।
১০.বিনিয়োগের অভাব: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অবস্থান করতে বিনিয়োগের অভাব একটি মৌলিক সমস্যা। বিনিয়োগ না থাকলে নতুন উৎপাদন যোগান করা সম্ভব হয় না ফলে বেকারত্ব বাড়ে।
১১.কর্মীর অভাব: মহিলা শ্রমিকের উপর ভরসা একটি সমস্যা হতে পারে, যেটি বাংলাদেশের সমাজ এবং অর্থনীতি উন্নতির উপযোগী নয়।
১২.শিল্প নীতির অভাব: সটিক শিল্প নীতি না থাকলে শিল্প ক্ষেত্রে উন্নতি সাধনে সমস্যা হতে পারে বাড়তে পারে বেকারত্ব।
১৩.রাজস্ব নীতি: রাজস্ব নীতির সটিক প্রয়োগ না হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তেমন কিছু করতে পারে না , বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রাজস্ব দেয় মাত্র ৭ % মানুষ।
১৪.পরিকল্পনার অভাব: একটি সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে দেশের উন্নতি সাধনে সমস্যা হতে পারে।
১৫.কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিতে উন্নতি মানুষের শ্রমের বিকল্প হিসেবে কাজ কর।
বেকারত্ব সমস্যার প্রভাবঃ
মূলত,বেকারত্ব দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্রের শৃঙ্খল নিয়ে আসে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ কম, তাই এটি কম বিনিয়োগ- কম কর্মসংস্থান- কম আয়- কম সঞ্চয়- কম উৎপাদনশীলতা- কম বিনিয়োগ এবং উল্টো।
গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব হল শহরাঞ্চলে অভিবাসন। যাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং অবিবাহিত এবং তাদের টার্গেট করা শহর ঢাকা।
বেকারত্ব অপরাধকে উৎসাহিত করে। মানুষ আইন লঙ্ঘন করে যদি তাদের জীবন পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকে।
লোকেদের স্বাস্থ্য দরিদ্র কারণ তাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই।
বাংলাদেশের বেকার সমস্যার সমাধানঃ
এই সমস্যাগুলি সমাধানে সাহায্য করতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নেওয়া যেতে পারে:
1. স্ব-উদ্যোগ সৃজন: - খামার এবং প্রাণী সম্পদ সুবিধা তৈরি করতে স্ব-উদ্যোগ সৃজন করা যেতে পারে, সমুদ্র মাছ চাষ, বা অন্য যে কোন কৃষি বা প্রাণী সম্পদ প্রকল্প।
2. সব নারীদের শক্তি এবং চাকরি সুযোগ:- সব নারীদের জন্য স্বাধীনতা এবং চাকরি নিশ্চয়তা বেকারত্বের হার কমাতে পারে।
3. চাকরি তথ্য কেন্দ্র স্থাপন:- একটি চাকরির তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে যাতে শ্রমিকদের চাকরি সম্পর্কিত তথ্য প্রাপ্ত করতে সাহায্য করা যায়।
4. কর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণ:- শ্রমিকদের সঠিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা উচিত যাতে তারা কাজ সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।
5. শিল্পের প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপলব্ধ করা:- উদ্যোক্তাদের সাথে শিল্পের প্রয়োজনীয় উপাদানের সরবরাহ উপলব্ধ করা উচিত।
6. শ্রমিকের দক্ষতা বিবিধ করা: - শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে, উদাহরণস্বরূপ, তাদের বিভিন্ন কাজে দক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
7. সরকারের সামাজিক কাজ: - সরকারের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক কাজ প্রবাসী সময়ে চাকরি না থাকলেও সহায়ক হতে পারে, সেইসাথে আর্থিক সাহায্য ও যাত্রাপ্রয়াণে সাহায্য করতে পারে।
8. সম্প্রসারণশীল মৌদ্দা নীতি এবং আর্থিক নীতি গ্রহণ: - সরকারের সম্প্রসারণশীল মৌদ্দা নীতি এবং আর্থিক নীতি গ্রহণ করা উচিত যাতে অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন হতে পারে।
9. কর্মীদের তথ্যগত এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রদান: - শ্রমিকদের প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং তথ্যগত শিক্ষা প্রদান করা উচিত যাতে তারা আপাতত এবং আগামীতে কর্মে নিযুক্ত হতে সক্ষম হতে পারে।
10. গ্রামীণ এলাকায় ছোট এবং কটেজ শিল্প স্থাপন:- গ্রামীণ এলাকায় ছোট এবং কটেজ শিল্প স্থাপন করতে পারে, যা গ্রামীণ লোকের চাকরি সৃজন করতে সাহায্য করতে পারে।
11. প্রান্তীয় এলাকায় নিয়ন্ত্রিত প্রকৌশলে বিশেষ বেসরকারি নিয়োগ : - প্রান্তীয় এলাকায় বিশেষ বেসরকারি নিয়োগ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে বিশেষ এলাকায় নিয়োগ সৃষ্টি করতে পারে, যার মাধ্যমে অবস্থানীয় লোকের চাকরি সাধন করা সম্ভব হতে পারে।
12. প্রান্তীয় প্রযুক্তি নির্শিক্ষণ প্রদান: - প্রান্তীয় প্রযুক্তি নির্শিক্ষণ প্রদান করা উচিত যাতে স্থানীয় শ্রমিকের কাজ সম্পর্কে নিজেদের দক্ষতা উন্নত করতে পারে।
13. প্রান্তীয় এলাকায় ছোট এবং কটেজ শিল্প স্থাপন:- প্রান্তীয় এলাকায় ছোট এবং কটেজ শিল্প স্থাপন করতে পারে, যা গ্রামীণ লোকের চাকরি সৃষ্টি করতে সাহায্য করতে পারে।
14. বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণীয় পরিবেশ: - বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণীয় পরিবেশ সৃষ্টি করতে সাহায্য করতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
বাংলাদেশে বেকারত্বের প্রকৃতি:
১.আচ্ছাদিত বেকারত্ব: এটি প্রাথমিক রূপে বাংলাদেশের কৃষি খাতে দেখা যায়, যেখানে পরিবারের সব সদস্য তাদের ফার্মে কাজ করে। একই সময়ে এই ফার্মে এক বা দুটি সদস্য যদি ফাঁকি থাকে, তবে মোট উৎপাদন একই থাকে। এখানে যে সমস্যা হচ্ছে, সব লোক কাজ করে যাওয়া দেখায়, কিন্তু এই শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা নেতিবাচক বা শূন্য হতে পারে।
২.শিক্ষিত বেকারত্ব: এটি এমন স্থিতি যেখানে লোকেরা শিক্ষাগত প্রতিষ্ঠানে থাকলেও তাদের যথেষ্ট যোগ্যতা বা উদ্যোগ নেই যাতে তারা যে কোন চাকরি করতে পারে।
নিয়মিত বেকারত্ব: আমাদের দেশে কিছু মানুষ সর্বদা বেকার থাকেন কারণ তারা বিরাম থাকেন বা প্রত্যাশিত চাকরি পায়নি।
৩.মৌসুমিক বেকারত্ব: কৃষি ব্যাপারে আমাদের দেশে প্রচুর মৌসুমিক শ্রমিক আছে, কারণ তাদের প্রয়োজন হয় কেবল বীজ চাষ এবং ফসল কাটার সময়।
৪.বিভিন্ন বেকারত্ব: উপরের সব ধরনের বেকারত্বের সাথে বাংলাদেশে অন্যান্য ধরনের বেকারত্ব দেখা যায়, যেমন প্রযুক্তিগত বেকারত্ব, ঘূর্ণিত বেকারত্ব, স্বেচ্ছাসেবা বেকারত্ব ইত্যাদি।
এই বেকারত্বের বিভিন্ন ধরণের সমাধানের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, উদ্যোগ, প্রযুক্তি, বেকারত্ব মিটানোর পদক্ষেপ, ও সমর্থন প্রদান করা উচিত। এছাড়াও, প্রয়োজনে সরকারের পলিসি এবং প্রকল্পে পরিবর্তন করা উচিত যাতে বেকারত্ব সমস্যাগুলি মিটানো যায়।
্থনৈতিকসংকটমূল্যস্ফীতিনিয়ন্ত্রণেকরণীয়কী_ #
এটা অনস্বীকার্য যে, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভঙ্গুর ও নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চার-পাঁচ বছরের বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ ভঙ্গুর এবং নাজুক পরিস্থিতির জন্য কিছুটা দায়ী। যেমন করোনা মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্বের আর দশটা দেশের মতো, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শ্লথ করেছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু আজকের বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক সংকটের কথা সবাই বলছে, তার কারণ কিন্তু আসলে দেশজ।
বর্তমানে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তার কারণ
১.অতীতের দিনগুলোয় রাষ্ট্রের সব অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও বিধিনিষেধ ভঙ্গ করা হয়েছে,
২.জবাবদিহিতার সব কাঠামো নষ্ট করা হয়েছে, সব ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা হয়েছে—
এক কথায়, সার্বিক এক অর্থনৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা বাংলাদেশ অর্থনীতিকে আজকের সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সংকট, খেলাপি ঋণ, অর্থ পাচার এবং বাংলাদেশ অর্থনীতিতে ব্যাপ্ত দুর্নীতির কারণে বিরাট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জন্ম হয়েছে। অতীত অর্থনীতিতে উদ্ভূত বিশাল এবং গভীর বহু সমস্যা বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামোর কাছে দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে এটাও সত্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইতিমধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন,
*** বাইরে থেকে অর্থপ্রবাহ বেড়েছে,
***-বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের উন্নতি হয়েছে,
*** সম্পদ পাচার আটকানো গেছে,
***ব্যাংকিং খাতে যেসব ব্যাংক ভেঙে পড়েছে, তাদের পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে,
***ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদগুলো পুর্নবিন্যস্ত করা হয়েছে। অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বেশকিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এতদসত্ত্বেও, বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর প্রথমেই রয়েছে মূল্যস্ফীতি, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মানুষ উচ্চমূল্যের শিকার। এর সঙ্গে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির সংযোগ নেই।
উন্নত বিশ্বে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৩ শতাংশ, ক্যানাডায় ১ শতাংশ। সব দেশই কোভিড সম্পর্কিত এবং ইউক্রেন যুদ্ধ সম্পৃক্ত উচ্চমূল্য কমিয়ে আনতে পেরেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ভিন্ন অন্য সব দেশের মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের চেয়ে কম।দুই বছর আগেকার সংকট কাটিয়ে শ্রীলঙ্কা তার ৭০ শতাংশ মূল্যস্ফীতিকে বর্তমান সময়ে ১ শতাংশের নিচে কমিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছে। কিন্তু বাংলাদেশে মূল্যহ্রাস হয়নি।
বর্তমানে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তার কারণ অতীতের দিনগুলোয় রাষ্ট্রের সব অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও বিধিনিষেধ ভঙ্গ করা হয়েছে, জবাবদিহিতার সব কাঠামো নষ্ট করা হয়েছে, সব ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা হয়েছে...
নানাবিধ কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্লথ গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন যে, আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো তার আগের পর্যায়ে যেতে পারেনি। তেমনিভাবে, পোশাক শিল্পখাতের উৎপাদন এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
অন্যান্য শিল্পখাতেও উৎপাদন হ্রাস এখনো কাটিয়ে ওঠা যায়নি। এ সবকিছু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতিও প্রবৃদ্ধিকে ক্ষয় করেছে।
দেশের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যাও একদিকে যেমন মানুষের জীবন ও জীবিকা বিনষ্ট করেছে, সম্পদের ক্ষতি করেছে, অন্যদিকে উপদ্রুত অঞ্চলের উৎপাদন কাঠামো নষ্ট করেছে। যদিও প্রবৃদ্ধির ওপরে বন্যার অর্থনৈতিক প্রভাব এখনো যথাযথভাবে নিরূপণ করা যায়নি, কিন্তু দেশের বিস্তৃত অঞ্চলের ব্যাপ্ত বন্যা যে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে, তাতে সন্দেহ নেই।
আমরা সবাই বলছি যে, বন্যার কারণে আমাদের বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দাম বাড়তে পারে। নিশ্চয়ই বন্যা উপদ্রুত অঞ্চলে নানান জিনিসের দাম বাড়বে। কিন্তু যখন পণ্য উৎপাদন অঞ্চলেও অন্যান্য জায়গার মতো জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়, তখন শঙ্কিত হওয়ার কারণ থাকে বটে।
অর্থনৈতিক শ্লথ গতি যে শুধু দেশের উৎপাদন খাতের ওপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে তাই নয়, তা দেশের সামাজিক খাতকেও প্রভাবিত করবে। সামাজিক খাত যেমন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি জায়গায় বিনিয়োগ কমে আসতে পারে, কারণ সম্পদের অপ্রতুলতা।
অবশ্য বাংলাদেশ অর্থনীতির কোনো খাতে অর্থনৈতিক শ্লথ গতি সবচেয়ে বেশি আঘাত হানছে, তার ওপরে এ শ্লথ গতির সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে। বিগত সময়ে শিল্পখাতে কর্ম শূন্য প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে।এ অবস্থায় শিল্পখাতে উৎপাদন হ্রাস পেলেও হয়তো কর্মনিয়োজন তেমন একটা কমবে না তবে সেবাখাতের কর্মকাণ্ড হ্রাস পেলে মানুষের কর্মনিয়োজন এবং আয়ের ওপরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু নানাবিধ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বিদ্যমান, তাই কাঙ্ক্ষিত দেশজ এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অনুপ্রবেশ করছে না। ব্যাংকিং খাতও খুব যে ভালো একটা অবস্থায় আছে, তাও নয়। ফলে প্রবৃদ্ধির সুযোগও হ্রাস পেয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কিছু প্রাক্কলন করা হয়েছে। অতি সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক আভাস দিয়েছেন যে ২০২৪-২৫ সালের অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.১ শতাংশ হতে পারে। এর আগে একই অর্থবছরের জন্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট প্রাক্কলিত সংখ্যা ছিল ৫.১ শতাংশ।এসব উপাত্ত থেকে দুটো বিষয় খুব স্পষ্ট :
এক, প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতারই প্রতিফলন।
দুই, যদিও দেয় উপাত্তের মধ্য পার্থক্য আছে, কিন্তু বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক উভয়েই তাদের পূর্ব প্রাক্কলিত উপাত্তকে কমিয়ে নিয়ে এসেছেন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে আয় এবং সম্পদের অসমতা সর্বজনবিদিত। হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ কিংবা অর্থপাচারের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে অর্থ ও বিত্ত কয়েকটি মানুষ এবং পরিবারের কুক্ষিগত। মোটাদাগের উপাত্তের দিকে যদি তাকাই, তাহলে আয়ের মাপকাঠিতে বাংলাদেশের মোট আয়ের মাত্র ১৩ শতাংশ যেখানে দেশের নিম্নতম ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর আয়, সেখানে সমাজের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ মানুষ ভোগ করে দেশজ আয়ের ৩৮ শতাংশ।
বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর প্রথমেই রয়েছে মূল্যস্ফীতি, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মানুষ উচ্চমূল্যের শিকার। এর সঙ্গে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির সংযোগ নেই।
মানব উন্নয়নের নানান সূচকেও এমন বৈষম্য বিদ্যমান। অনূর্ধ্ব পাঁচ বছরের শিশু মৃত্যুর হার সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে যেখানে প্রতি হাজারে ৪৯, সেখানে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তা প্রতি হাজারে ২৫। আঞ্চলিক বৈষম্যের দিকে যদি তাকাই, তাহলে দেখা যায়, বরিশালে সাক্ষরতার হার যেখানে ৭৫ শতাংশ, সিলেটে সেটা ৬০ শতাংশ।
বৈষম্য শুধু ফলাফলেই নয়, সুযোগের ক্ষেত্রেও বৈষম্য বিদ্যমান। যেমন, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য সুযোগে বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট। শিক্ষায় সরকারি এবং বেসরকারি ধারা, বাংলা এবং ইংরেজি মাধ্যম, বিত্তবান এবং বিত্তহীনদের জন্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি প্রবণতার মাধ্যমে শিক্ষা সুযোগে একটি বিশাল বৈষম্যের সৃষ্টি করা হয়েছে।
একইভাবে স্বাস্থ্যখাতে ত্রি-ধারা ব্যবস্থা বজায় রেখে স্বাস্থ্য সুযোগের ক্ষেত্রেও একটি বিশাল বৈষম্যের দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সেবার পরিমাণ যেমন অপ্রতুল, তেমনি তার মানও খুব নিচু। সাধারণ মানুষই সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যায় এবং স্বাভাবিকভাবেই তারা ন্যূনতম স্বাস্থ্য সুবিধা পান না।
বাংলাদেশ অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা এইসব বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করে। তবে এসব অর্থনীতির সত্ত্বেও আশা করা যাচ্ছে যে আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশ এসব অন্তরায় কাটিয়ে উঠতে পারবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার চলমান উন্নতি এবং সেই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা অবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে, বাংলাদেশ স্থিতিশীল ভিত্তির ওপরে দাঁড়াতে পারবে, যার ফলে অর্থনীতি বিষয়ে জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস আরও মজবুত হবে।
ড. সেলিম জাহান ।। ভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Website
Address
Dhaka