19/08/2012
"Eid Mubarak"
Beautiful Bangladesh (The School of Life) Admission Going on.
19/08/2012
"Eid Mubarak"
দেশের একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ সাউথ এশিয়া-মিডলইস্ট- ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-ফোর ৬ জুন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারে ভোগান্তিতেপড়ে। সমস্যা সমাধানে কয়েক দফা সময় নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ-সিঙ্গা পুর সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ চালু করা যায়নি। এ সংযোগ নতুন করে চালু করতে আবারও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল মেরামত শেষ হবে কবে? এদিকে একমাত্র ক্যাবলের পাশাপাশি দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে এরই মধ্যেবিএসসিসিএলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সি-মি-উই ফাইভ নামের এ ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরে সাবমেরিন ক্যাবলের এ সংযোগে সমস্যা দেখা দেয় গত ৬ জুন। এতে ধীর হয়ে পড়ে দেশে ইন্টারনেট সংযোগের গতি। তখন বিএসসিসিএল থেকে বলা হল আগামী ৭ দিনের মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক করা হবে। আর বিকল্প হিসেবে ইন্টারনেটের গতি
স্বাভাবিক রাখতে ১০ জুন থেকে অতিরিক্ত১০ গিগাবাইট পার সেকেন্ড (জিবিপিএস) ব্যান্ডউইডথ কেনার ব্যবস্থা করে বিএসসিসিএল। এতে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে ইন্টারনেটের গতি। তার পরও বর্তমানে প্রায় ৮ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথের ঘাটতি রয়েছে। এরপর বলা হয় আগামী এক মাসের মধ্যে ইন্টারনেট গতি ফিরে আসবে। কিন্তু এক মাসে তার সমাধান না করে প্রায় দুই মাস পর প্রতিষ্ঠানটি ২ আগস্ট ক্যাবল মেরামত শেষ হওয়ার কথা বলেছিল। রিপিটার পরিবর্তনের জন্য গত ১৮ জুলাই এবং ২ আগস্ট রাতে সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় ৩ ঘণ্টা বিছিন্ন রাখা হয়। বিএসসিসিএলের অনুরোধে গভীর রাতে মেরামত কাজ করায় প্রাতিষ্ঠানিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সমস্যা কিছুটা কম অনুভূত হয়। কিন্তু এত কিছু করেও কোন কাজ হয়নি। এদিকে মেরামত কাজ শেষ না হওয়ায় এখনও স্বাভাবিক গতি ফিরে পায়নি দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা। আর এখন নতুন করে বলা হচ্ছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে সাবমেরিন ক্যাবলমেরামতের কাজ শেষ হবে। ক্যাবলের বিভিন্ন স্থানে আরও রিপিটার পরিবর্তনের কারণে মেরামতে সময় বেশি লাগছে। এ প্রসঙ্গে বিএসসিসিএলের কর্তৃপক্ষ জানায়, সিঙ্গাপুর থেকে এ রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। রিপিটার পরিবর্তনের জন্য ক্যাবলের পাওয়ার বন্ধ রাখতে হয়। ফলে দেশের ইন্টারনেট সংযোগও সে সময় বন্ধ থাকে। তবে ক্যাবল কাটা পড়ার পর পরই ইতালির পালেরমো থেকে অতিরিক্ত ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে করে ইন্টারনেটের ধীরগতির সমস্যা কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে। এবার ক্যাবল মেরামতের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি রিপিটার পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ জন্য সময় বেশি লাগছে। আগামী ৯ আগস্টের মধ্যে এ মেরামত শেষ হবে।
25/07/2012
এটা কি পড়ছি আমি!!! তাহলে কি হুমায়ুনকে হত্যা করা হয়েছে?
শাওন আর মাযহার মিলে?
হাসপাতাল থেকে ফেরার পরের দিন বাসায় মদের আসর বসায় শাওন!! চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার একদিন পরে সাধারন গাড়িতে করে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা হয়? অজানা ইনফেকশন? হাসপাতাল থেকে হারিয়ে যায় শাওন আর মাযহার! লাশ ফেলে রাখে ফেউনারেল হোমে! গোসল হয় না! দোয়া দরুদ নাই!! শাওনের প্রথম শ্রেনীর টিকেট না পাওয়ায় লাশ যেতে একদিন দেরী!! এসব কি ???
সবাই পড়ুন.....আর দেখুন ....ভাবুন.......মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে...ভাবতে পারছি না।
-----------------------------------
হুমায়ূনের মৃত্যু অবহেলায়!
বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১২ মানবজমিন: ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, নিউ ইয়র্ক: ড. হুমায়ূন আহমেদ ক্যান্সারে মারা যাননি। রক্তের সংক্রমণই তার অকাল মৃত্যুর কারণ। বাসায় ফেরার একদিন পর তিনি চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। তাৎক্ষণিক হাসপাতালে না নিয়ে জননন্দিত এই ব্যক্তিত্বকে প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় একদিন পর নেয়া হয় জ্যামাইকার কুইন্স মেডিকেল সেন্টারে। এরপরই যত জটিলতা। যার প্রেক্ষিতে কোটি মানুষের প্রিয় হুমায়ূন আহমেদকে পাড়ি দিতে হলো পরপারে। লেখক হুমায়ূন আহমেদের লাশ গোসল করানোর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে লাশের গোসল নিয়ে তার ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তিকে হেস্তনেস্ত হতে হয়েছে। অন্যের সাহায্য নিতে হয়েছে গোসল করানোর কাজে। ফিউনারেল হোমে হুমায়ূন আহমেদের লাশ পড়েছিল একা। অনাদরে অবহেলায়। মাতমে অস্থির কাউকে তখন দেখা যায়নি প্রিয় ব্যক্তির কফিনের পাশে। আত্মীয় জামাল আবেদীন ও আনিসুর রহমান ছাড়া কেউ নেই। সাধারণত কেউ মারা গেলে লাশের পাশে সার্বক্ষণিক কাউকে রাখা হয়। দোয়া কালাম পড়া হয় আত্মার শান্তি কামনা করে। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের পালেম পাশে কেউ না থাকায় গোসলের পর মাত্র চার ব্যক্তিকে প্রথম মোনাজাত করতে হলো। এসব নিয়ে এখন হাজারো প্রশ্ন সাধারণের মনে। কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের মণি হুমায়ূন আহমেদ কেন এমন উপেক্ষার শিকার হলেন এর জবাব চান তার ভক্তরা। এ বিষয়ে জানতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রমতে, গত ১২ই জুন বেলভ্যু হাসপাতালে অপারেশন হয় হুমায়ূন আহমেদের। অপারেশনের পর সবাই খুশি। চিকিৎসকরা বললেন, এটা ১০০% সফল অস্ত্রোপচার। মাত্র ৮ দিনের মাথায় ২০শে জুন হুমায়ূন আহমেদকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করা হলে তিনি নিজেই পায়ে হেঁটে গিয়ে গাড়িতে চড়ে ওজনপার্কের ভাড়া বাড়িতে ফিরে আসেন।
সূত্রমতে, বাড়ি ফেরার দিনই একটি পার্টি করা হয় হুমায়ূন আহমেদের বাড়িতে। সেখানে সব ধরনের গোশতসহ পানীয় ছিল। ক্যান্সার অপারেশনের একজন রোগীকে এসব খাবার দেয়া সঠিক হয়েছে কিনা তা নিয়ে রয়েছে অনেকের প্রশ্ন।
২১শে জুন দুপুরে হুমায়ূন আহমেদ চেয়ার থেকে পড়ে যান। এটাই হয়েছিল তার জন্য বড় কাল। চেয়ার থেকে কিভাবে তিনি পড়লেন এটা কেউ জানেন না। পড়ে যাওয়ার কারণে অপারেশনস্থল আঘাতপ্রাপ্ত হয় মারাত্মকভাবে। এ নিয়ে সার্বক্ষণিক সঙ্গীরা কোন ব্যবস্থা নেননি তাৎক্ষণিকভাবে। একদিন পর ব্যথায় কুঁকরে ওঠেন হুমায়ূন আহমেদ। এ সময় মুক্তধারার প্রধান বিশ্বজিৎকে ফোন করেন শাওন। জানতে চান ডাক্তারের ফোন নাম্বার। বিস্ময়কর বিষয় হলো, শাওন ও মাজহারুল ইসলামের কাছে জরুরি প্রয়োজনের জন্য ফোন নাম্বারটিও ছিল না ড. হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসকরে।
পরদিন অর্থাৎ ২২শে জুন বিকালে যখন ব্যথা চরম আকার ধারণ করে তখন একটি প্রাইভেট কারে করে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে তারা রওনা হন হাসপাতালের দিকে। গাড়িতেই তিনি সংজ্ঞা হারান। এ পর্যায়ে এম্বুলেন্স ডাকা হলে সংজ্ঞাহীন হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে যাওয়া হয় জ্যামাইকায় অবস্থিত কুইন্স মেডিকেল সেন্টারের ইমার্জেন্সি রুমে। অবস্থা বেগতিক দেখে শেষে তাকে বেলভ্যু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তখন আরেকটি এম্বুলেন্স ডেকে রাতে লেখককে নিয়ে যাওয়া হয় বেলভ্যুতে। সেখানে যাওয়ার পর পরই অবস্থার ভয়াবহতা দেখে চিকিৎসকরা তাকে আবার অপারেশন করার সিদ্ধান্ত নেন ২৩শে জুন। এরই মধ্যে ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ।
সূত্র জানায় হুমায়ূন আহমেদ মারাত্মক ইনফেকশনে আক্রান্ত হলেও সব সময়ই এটাকে ঢেকে রাখার একটি প্রবণতা ছিল। এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে হাজারো প্রশ্ন।
প্রশ্ন উঠেছে, ১২ই জুন যখন বেলভ্যুতে হুমায়ূন আহমেদের অপারেশন হচ্ছিল তখন তার স্ত্রী শাওন ও মাজহারের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে। ড. হুমায়ূন আহমেদের দীর্ঘ অপারেশনের সময় সেখানে উপস্থিত ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, বিশ্বজিৎ সাহাসহ আরও অনেকে ছিলেন উদ্বিগ্ন। বসে বসে তারা মনিটরে পর্যবেক্ষণ করছিলেন লেখকের সর্বশেষ অবস্থার খবর। কিন্তু শাওন ও মাজহার বেরিয়ে যান। তারা ফিরে আসেন প্রায় দুই ঘণ্টা পর। উপস্থিত শুভানুধ্যায়ীরা বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করেননি।
একটি সূত্রমতে, ড. হুমায়ূন আহমেদ বাসায় পড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু একদিন পরে প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় রক্তে সংক্রমণ। যা শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে তার মৃত্যুর কারণ। এই গাফিলতির দায়ভার কে নেবে এটাই এখন প্রশ্ন।
চিকিৎসার জন্য নিউ ইয়র্কে এসে প্রায় ১০ মাস ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। দশ মাস নিউ ইয়র্কে অনেকটা নীরবেই কেটেছে তার। ক্যান্সারের স্পর্শকাতর চিকিৎসার কারণেই নিয়ন্ত্রিত ছিল তার চলাচল। বাংলাদেশী অধ্যুষিত নিউ ইয়র্কের কুইন্সে ঘর ভাড়া করে চিকিৎসা চলছিল। নির্বিঘ্ন চিকিৎসা অব্যাহত রাখার জন্যই প্রবাসীদের পক্ষ থেকে অহেতুক বিব্রত করা হয়নি প্রয়াত লেখককে। প্রবাসীদের সব আড্ডা-সমাবেশে হুমায়ূন আহমেদের প্রসঙ্গ এসেছে। সবাই কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করেছেন প্রিয় লেখক যেন সেরে ওঠেন। যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন। সব শুভ কামনা ধুলায় মিশে যায়। ১৯শে জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ। পাঠকের মনোজগৎ নিয়ে বহু রহস্য সৃষ্টি করে গেছেন ক্ষণজন্মা এ শব্দের কারিগর। মৃত্যুর আগে ও পরে নিউ ইয়র্কেও তাকে নিয়ে বেশ কিছু রহস্য, বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনে।
চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল বদল: বিখ্যাত ক্লোন ক্যাটারিং মেমোরিয়েল হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের। শারীরিক অবস্থার উন্নতিও ঘটেছিল। ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্লোন ক্যাটারিং মেমোরিয়েল হাসপাতাল। হঠাৎ করেই জানা গেল বেলভ্যু হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। বেলভ্যু’র কোন বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে পরিচিতি নেই। এখানেই তার অস্ত্রোপচার হলো। অস্ত্রোপচারের আট দিনের মাথায় বাড়ি ফিরলেন হুমায়ূন আহমেদ। বাড়িতে শরীরের অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটে। জ্যামাইকা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ হয়ে আবার বেলভ্যু হাসপাতালে গেলেন এবং টানা প্রায় চার সপ্তাহ ওখানে থেকেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।
অনেকেরই জিজ্ঞাসা, হাসপাতাল পরিবর্তন করা হলো কেন? লোকজন জানতে চেয়েছেন, কারণটা কি ছিল অর্থনৈতিক?
বলা হচ্ছে ক্যান্সারের আক্রমণে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু ঘটেনি। ঘটেছে অজানা ভাইরাসের আক্রমণে। এ আক্রমণটা ঘটলো কোথায়? হাসপাতালে না নিজের ঘরে? ক্যান্সার চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীর জন্য প্রযোজ্য দেখাশোনায় হুমায়ূন আহমেদের বেলায় কোথাও কোন অবহেলা হয়েছে কি?
নিউ ইয়র্কে কে ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের অভিভাবক?
হুমায়ূন আহমেদ কোন সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন না। তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর জানার জন্য উদ্বিগ্ন থেকেছে বাংলাদেশের লক্ষ্য কোটি মানুষ। চিকিৎসার জন্য লেখকের সঙ্গে আসা প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম ছিলেন সার্বক্ষণিক। নিউ ইয়র্কে অবস্থানকালীন চিকিৎসা থেকে নানা বিষয়ে দৌড়ঝাঁপ করেছেন মুক্তধারার বিশ্বজিৎ সাহা। লেখকের শারীরিক অবস্থা জানার জন্য এ দু’জনের ওপরই সংবাদকর্মীদের নির্ভর করতে হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, দু’জনের দেয়া ভাষ্যে ফারাক ছিল বিস্তর। প্রিয় লেখকের সঙ্কটজনক শারীরিক অবস্থা নিয়ে সংবাদ পরিবেশনে হিমশিম খেতে হয়েছে সংবাদকর্মীদের। অনেকেই বলেছেন, ১৯শে জুলাই সকাল পর্যন্ত মাজহারুল ইসলাম লেখকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেননি। অনেকেরই জিজ্ঞাসা, কোথাও কি কিছু আড়াল করার চেষ্টা ছিল?
আমাদের ব্যর্থতা: নিউ ইয়র্কের বাংলা সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু সংবাদ পেয়েছেন ঢাকা থেকে। সংবাদ প্রচার হওয়ার পরও দ্রুত নিউ ইয়র্কের বাংলা সংবাদপত্রের কর্মীরা হাসপাতালে উপস্থিত হতে পারেননি। হাসপাতালের ভেতর থেকে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন এবং মাজহারুল ইসলাম নিউ ইয়র্কের সংবাদ কর্মীদের নয়, ঢাকায় ফোন করে সংবাদ দিচ্ছিলেন।
হুমায়ূন আহমেদকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টা পর ফিউনারেল হোমে পাঠানো হয়। এ পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সংবাদকর্মীরা ছাড়া মাত্র তিনজন সাধারণ প্রবাসীকে হাসপাতালের গেটে ভিড় করতে দেখা গেছে।
জ্যামাইকার রকওয়ে বুলেভার-এর ইসলামিক ফিউনারেল হোমে রাখা হয়েছিল হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ। বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম রোজার প্রস্তুতি এবং তার জানাজা নামাজের ব্যস্ততা ছিল, ফিউনারেল হোমের মূল ফটকসহ কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল। রাত ১২টা পর্যন্ত ফিউনারেল হোমে কোন প্রবাসীকে ছুটে আসতে দেখা যায়নি।
জ্যামাইকার রকওয়ে বুলেভার এবং ১১৬ স্ট্রিটের ঘরে হুমায়ূন আহমেদের পরিবার ছিলেন। সেখানে মধ্যরাত পর্যন্ত মাত্র জন বিশেক মানুষের আগমন ঘটেছে।
শুক্রবার সকালে ফিউনারেল হোমে মরদেহ দেখার ব্যবস্থা থাকলেও কোন প্রবাসী বাংলাদেশীকে সেখানে দেখা যায়নি।শুক্রবার জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের নামাজে জানাজায় লোকসমাগম নিয়েও কথা উঠেছে। রমজানের প্রথম জুমার নামাজে একই ধরনের লোকসমাগম হয়ে থাকে বলে অনেকেই জানিয়েছেন। জানাজার পর মরহুমের কফিন দর্শনার্থীদের জন্য অবমুক্ত করা হয়। কিন্তু সেখানে কোন শৃঙ্খলা ছিল না।
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে নামাজে জানাজার পর কোন শুভেচ্ছার আয়োজন দেখা যায়নি। যেসব সংগঠন, সমিতির নেতারা অহরহ বিবৃতি দিয়ে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানান, তাদেরও দেখা যায়নি।
বহু ফুল ফোটানোর মহানায়ক হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ শনিবার দুপুর পর্যন্ত ছিল ফিউনারেল হোমে। প্রবাসী বাংলাদেশী কোন সংগঠন, নেতা-পাতি নেতাদের সেখানে ফুলের তোড়া নিয়ে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি।যেসব বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক যোদ্ধা, লেখকের আত্মার আত্মীয় বলে পরিচয় ছিল তাদেরও দেখা মিলেনি। শনিবার রাতে জনাবিশেক লোক ছিলেন জেএফকে বিমানবন্দরে।
যারা এখন শোকসভার ডাক দেবেন, ইনিয়ে বিনিয়ে নানা কথা লিখবেন, তাদের টিকিটিও চোখে পড়েনি হাসপাতাল থেকে ফিউনারেল হোম পর্যন্ত। ফিউনারেল হোম থেকে অস্থায়ী বাড়ি, জানাজা এবং শেষ বিদায়ে জেএফকে’তে।
বিমানবন্দরে কমিউনিটির উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া ছিল লজ্জাজনক।
অনেকেই জানতে চেয়েছেন, প্রিয় লেখককে কেন বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল? নানা কারণে সভা সমিতি করে যারা নিজেদের মোড়লত্ব জাহির করেন তারাই বা কেন এগিয়ে গেলেন না? যারা নিজেদের বুদ্ধিজীবী দাবি করেন, কুঁজো হয়ে হাঁটেন তারাই বা কোথায় ছিলেন?
নিয়ন্ত্রণহীন অব্যবস্থাপনার কারণে অনেকেই শেষ দেখা দেখতে পারেননি প্রিয় লেখকের প্রিয়মুখ। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কোন সমন্বয় ছিল না। নামাজে জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেছেন ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আকরামুল কাদের, জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন।
অব্যবস্থাপনা ছিল ফিউনারেল হোমেও: শুক্রবার সকাল ৯টায় ইসলামিক ফিউনারেল হোমে গিয়ে মরহুম লেখকের কোন স্বজনকে পাওয়া যায়নি। ফিউনারেল হোমের পরিচালক ব্রুস বেইটস জানান, মরদেহ গোসল করানোর জন্য স্বজনদের অপেক্ষা করছেন। সকাল সোয়া ১০টার দিকে জামাল আবেদীন ও আনিসুর রহমান ফিউনারেল হোমে উপস্থিত হন। দু’জনই মরহুম লেখকের একান্ত স্বজন, প্রথম পক্ষের স্ত্রী গুলতেকিনের নিকট আত্মীয়। অন্য কারও জন্য অপেক্ষা না করে মরদেহ গোসল এবং ধর্মীয়ভাবে প্রস্তুত করা হয়। ধর্মীয় নিয়ম-কানুন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকলেও প্রিয় লেখকের এ অন্তিম পর্বে আমিও যোগ দেই। নিয়ম অনুযায়ী সাদা কাফনের শেষ পরিচ্ছদে মুড়িয়ে দেয়া হয় মরহুমের দেহ।
ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া: মরদেহ গোসল করানোর আমার কোন পূর্বঅভিজ্ঞতা ছিল না। ফিউনারেল হোমের উন্মুক্ত টেবিলে চিরচেনা লেখকের নিথর দেহ দেখে মুষড়ে পড়ার অবস্থা। আমার থর থর কাঁপ এবং অঝোর কান্না দেখে জামাল আবেদীন আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেন। আমরা তিনজন তখন দোয়া দরুদ পড়ছিলাম। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই মরদেহ কফিনে রেখে দেয়া হয়।
ফিউনারেল হোমে পারিবারিক দর্শনার্থী: ফিউনারেল হোমে পারিবারিক দর্শনার্থীদের জন্য কফিনে রাখা হলেও বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোন স্বজন বা পরিবারের লোকজন আসেননি। এখানে একটি প্রার্থনা কক্ষ থাকলেও ধর্মীয় কোন আয়োজনও ছিল না ফিউনারেল হোমে। মরহুম লেখকের জন্য ছিল না কোন দোয়া কালামের ব্যবস্থা।
হলরুমে কফিনের মধ্যে লাশ পড়ে আছে একটা। কেউ নেই কিছু বলার। আমরা মাত্র চার জন বসে আছি। এরই মধ্যে ফিউনারেল হোমে পৌঁছে গোছেন বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের। নীরব নিথর হুমায়ূন আহমেদের কফিন পড়ে আছে। কেউ নেই দেখার। আমরা চার জন পাশে গেলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম দোয়া দরুদ করার। তারপর তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় প্রথম মোনাজাত করি আমরাই। কেউ নেই। তাই শেষ পর্যন্ত বাংলা পত্রিকা সম্পাদক আবু তাহেরকে অনুরোধ করা হয় মোনাজাত পরিচালনার জন্য। মাত্র চার জন মিলে আমরা মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করি।
বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন তার মা তহুরা আলী, দুই পুত্র নিনিত ও নিশাদকে নিয়ে ফিউনারেল হোমে পৌঁছেন।
মেহের আফরোজ শাওন মরহুম হুমায়ূন আহমেদের কফিনে ধরে বিলাপ করতে থাকেন ‘জিম জিম-তুমি চলে গেলে/তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো কিভাবে।’ হুমায়ূন আহমেদকে সম্ভবত ‘জিম’ নামেই ডাকেন তার স্ত্রী শাওন। শাওন বলছিলেন, ‘জিম তুমি বলতে কুসুম আমার চোখ বুলিয়ে দাও (শাওনকে হুমায়ূন আহমেদ ‘কুসুম’ বলেই ডাকতেন)’ শাওন বলেন, ‘দেখো জিম, আমি তোমার চোখ বুলিয়ে দিচ্ছি।’ শাওন বিলাপ করতে থাকেন, ‘জিম আমি রাখতে পারলাম না।’ এ সময় শাওনের মা তহুরা আলী মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছিলেন, ‘দু’সন্তানের জন্যই তোমাকে বেঁচে থাকতে হবে। মন শান্ত করো মা।’
নিশাদ ও নিনিত
দু’সন্তান নিশাদ ও নিনিত শেষ দেখা দেখেছে ওদের বাবা কোটি জনতার প্রিয় মানুষ হুমায়ূন আহমেদকে। ফিউনারেল হোমে মা ও নানীর সঙ্গে নিয়ে এলে তারা শুধু দেখছিল। বাবাকে ‘বাই বলো, বাবার কাছ থেকে বিদায় নাও’- বলছিলেন মা মেহের আফরোজ শাওন। পলকহীন অবুঝ দুই শিশুপুত্র তখন কেবল এদিক ওদিক তাকাচ্ছিল।
ছবি উঠানো বারণ: হুমায়ূন আহমেদের কফিনে বিলাপরত তার স্ত্রী ও স্বজনদের ছবি গ্রহণের উদ্যোগ নেই। ফিউনারেল হোমের পরিচালকের কাছ থেকে প্রথম জেনে নেই ছবি তুলতে কোন বাধা আছে কিনা। ক্যামেরায় ছবি ধারণ করতেই ক্ষুব্ধ মেহের আফরোজ শাওন ছুটে এসে আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেন। তার মা তহুরা আলী উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ নিষেধ করে গেছেন কোন ছবি যেন ওঠানো না হয়।’ প্রয়াত লেখকের নিষেধের কথা আমার জানা নেই বলে তাৎক্ষণিক দুঃখ প্রকাশ করা হয়। ধারণ করা সব ছবি মুছে ফেলে আমার ক্যামেরা ফেরত দেয়া হয়।
অসুস্থ অবস্থায় প্রয়াত লেখকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক থাকা মুক্তধারার বিশ্বজিৎ সাহা জানিয়েছেন, ছবি ওঠানোর ব্যাপারে নিষেধের কথা হুমায়ূন আহমেদ বলে যাননি। মৃত্যুর তিন সপ্তাহ আগে থেকেই তো তিনি কিছু বলতে পারছিলেন না।
মরদেহ ফিউনারেল হোমে রেখে অপ্রীতিকর আচরণ: মাত্র সাতজন পারিবারিক দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল থাকার জন্য বলছিলেন সকাল থেকে ফিউনারেল হোমে উপস্থিত জয়নাল আবদীন। তার দিকে হঠাৎ তেড়ে আসেন প্রয়াত লেখকের বন্ধু বলে পরিচিত ফানসু মণ্ডল। স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে আসা ফানসু মণ্ডল এবং জয়নাল আবেদীনের মধ্যে ‘তুমি কে, তা আমি দেখে নেবো’ ইত্যাদি বাক্যবিনিময় শুরু হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ফিউনারেল হোম কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।
মরদেহ দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা:
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে নামাজে জানাজা শেষ হওয়ার পরও মরহুম দেশে ফেরার সময় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসা করা হলে সবাই বলছিলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চলছে, শুক্রবার রাতেই যেন ফ্লাইট ধরানো যায়। সমন্বয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মুক্তধারার বিশ্বজিৎ সাহা জানান, কার্যত সব টিকিট প্রথম শ্রেণীর না পাওয়ায় বিলম্ব হচ্ছিল। মরদেহের সঙ্গে যারা ঢাকা যাবেন তারা নাকি প্রথম শ্রেণী ছাড়া ভ্রমণ করবেন না। অথচ হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই ড. জাফর ইকবাল ইকোনমি ক্লাসে ওইদিন ঢাকার উদ্দেশে নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করেন।
জননন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ তখন ফিউনারেল হোমের হিমাগারে। জীবদ্দশায় তার ভ্রমণে প্রথম শ্রেণীর চাহিদা সবসময় ছিল কিনা জানি না। তবে লাখো জনতার অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠায় স্বদেশ তখন প্রিয় লেখকের কফিনের অপেক্ষায়।
সূত্র: নিউইয়র্কের সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা
দয়া করে সবাই পড়বেন।
হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান দেশবাসী। তারা অপেক্ষা করছেন প্রিয় লেখককে শেষবারের মত দেখতে, শেষ বিদায় জানাতে। কিন্তু রিপোর্টটিং করতে গিয়ে জানলাম, হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ নিয়ে শুক্রবারই রওনা হওয়া যেত। সেক্ষেত্রে রোববারই দেশবাসী সুযোগ পেতেন হুমায়ূন আহমেদকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর। কিন্তু তার স্ত্রী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এয়ারলাইন্সের বিজনেস ক্লাস ছাড়া যাবেন না।
যদিও হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ এবং স্ত্রী ও দুই পুত্রের দেশে ফেরার খরচ বহন করছে বাংলাদেশ সরকার। জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন হন্যে হয়ে টিকিট খুঁজেছে গত দুদিন ধরে। কিন্তু কোথাও একসঙ্গে টিকেট পাওয়া যাচ্ছিল না। মরদেহ বহন করার ব্যবস্থা হলেও পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে টিকেট মেলেনা। অবশেষে এমিরেটস-এয়ারলাইন্সে শনিবার রাতের টিকেট মিলেছে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে, এরমধ্যে চারটি বিজনেস ক্লাস এবং বাকিগুলো ইকোনমি। কিন্তু ইকোনমি ক্লাসে যাবেন না মেহেরআফরোজ শাওন।
চারটি বিজনেস ক্লাসের টিকেটে মা সংসদ সদস্য তহুরা আলী এবং দুই ছেলের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু অন্যপ্রকাশের মাযহার আর শাওনেরেএক বোনকে তাহলে যেতে হবে ইকোনমি ক্লাসে।আর এখানেই যত আপত্তি শাওনের। তিনি বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের কাছে তার আপত্তির কথা জানিয়েছেন। এখন এ বিষয়টি শাওনকে বোঝানো হচ্ছে। শাওন রাজি না হলে সোমবারও পৌঁছবে না হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ।
এ বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে লিখতে চাচ্ছি না। কারণ কোটি কোটি হুমায়ূন ভক্ত শোকাহত। তাদের মনে এই মুহূর্তে কোনো প্রশ্নের উদ্রেগ হোক তা চাই না বলেই রিপোর্ট না লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, অর্থ সাশ্রয়ের জন্য যদি বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল ছেড়ে যদি সাধারণ হাসপাতালে হুমায়ূন আহমেদের অপারেশন হয় তাহলে এখন বিজনেস ক্লাসের অজুহাতে কেন হুমায়ূন আহমেদের লাশ তার কোটি কোটি ভক্তদের কাছে পাঠানো হচ্ছে না। কেন মার্কিন মুল্লুকের শবাগারে পড়ে আছে এই প্রিয় লেখকের মরদেহ?
এখানে টাকার প্রশ্ন আসবে কেন? স্লোয়ন কেটারিং হাসপাতাল তো কারো কাছে টাকা চায়নি। টাকা পরে না হয় দিতে হতো। পুরো দেশবাসী কিন্তু পাশে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রপ্র বাসী সকল বাংলাদেশী হুমায়ূন আহমেদের পাশে ছিল। কিন্তু কাউকেউ তো কোনো সুযোগ দেননি হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী শাওন এবং কথিত পারিবারিক বন্ধু মাযহার। আপনি দুর থেকে উপলব্ধি করতে পারছেন না বলেই আপনার এমনটি মনে হচ্ছে। জ্যামাইকা হাসপাতালে কিন্তু বলেই দিয়েছিল তার অপারেশনে ত্রুটি আছে। এরপরই তো আবার অপারেশন হল।
আরো শুনবেন? প্রথম অপারেশনের পর বাসায় চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। শাওন এ কথাটি ডাক্তারের কাছে গোপন করেছিলেন। চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ায় তার অপারেশনের সেলাই কেটে গিয়েছিল। এসব কিন্তু নিউজে এসেছে। আপনি পুরনো নিউজগুলো পড়ুন। একটি কথা মনে রাখবেন, ডাক্তার আর উকিলের কাছে কোনো কথা গোপন রাখতে নেই।
কেন তাকে বিশ্বখ্যাক স্লোয়ন কেটারিং সেন্টার হাসপাতাল থেকে বেলভ্যু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করা হল সেই প্রশ্নের খোঁজার চেষ্টা করছি। এমনও উত্তর পেয়েছি যে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে তার পরিবার, অর্থাৎ মেহের আফরোজ শাওন এবং বন্ধু মাযহার। অথচ আমরা সবাই জানি, এই মার্কিন মুল্লুকে যে কোনো হাসপাতালে সবার আগে রোগীর চিকিৎসা। বিল নিয়ে হাসপাতাল কখনো মাথা ঘামায় না।
হুমায়ূন আহমেদের বিল তার যত সম্পদ তা থেকে পরিশোধ করা যেত। না পারলে দেশবাসী অবশ্যই দিতেন। এমনকি বিল মওকুফ করারও সুযোগ আছে এখানে। যত হাজার ডলার বিল হোক না কেন। আগে তো প্রিয় লেখককে বাঁচানো দরকার ছিল। এখন লেখক নেই, কিন্তু তিনিতো অঢেল সম্পদ রেখে গেছেন। কি হবে এই সম্পদ দিয়ে?
একটি বই বেরুলে কোটি টাকার ওপর রয়্যালটি পেতেন হুমায়ূন আহমেদ। শত শত বই লিখেছেন। নিজের টাকায় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে চেয়েছিলেন। ইত্তেফাকে আমার সহকর্মীযিনি একজন চিকিৎসকও। তিনি আজ লিখেছেন‘ইনফেকশনের জন্য দায়ী কে? আমি যদি আজপ্রশ্ন করি ক্যান্সার হাসপাতাল রেখে কেন তাকে সাধারণ হাসপাতালে নেওয়া হল, এই উত্তর কে দেবেন? আজ হোক, কাল হোক এই প্রশ্ন সামনে আসবেই...আসবে।
-ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি ,
শহীদুল ইসলামের স্ট্যাটাস থেকে
হুমায়ুন স্যারের দাফন নিয়ে যে ঘটনা গুলো ঘটছে তা সবার জানা দরকার। আশা করব আপনারা সবাই একটা মিথ্যা আবেগকে পাত্তা না দিয়ে সত্যটা জানবেন। আমি যা বলব তা একান্তই হুমায়ুন আহ্মদে স্যারের একদম কাছের একজন মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য। প্রথম কথা হলো আপনারা সবাই শাওনের বর্তমান অবস্থ্যাকে দেখছেন... অথচ আপনারা এটা জানেন না হুমায়ুন স্যারের মায়ের অবস্থ্যাই সবচেয়ে খারাপ। উনি তার ছেলের শোকে অভিনয় করেননি...তাই হুইল চেয়ারে চড়ে ছেলেকে দেখতে আসার দরকার মনে করেননি।
আপনাদের এটাও জানা প্রয়োজন, শুধুমাত্র বিজনেস ক্লাসে চড়ে আসতে পারবেন না বলে শাওন এবং তার পরিবার একদিন অপেক্ষা করেছে... অথচ জাফর ইকবাল স্যার এবং তার স্ত্রী একদিন আগেই দেশে এসেছেন। এখানে একটা জিনিষ বুঝতে হবে জাফর ইকবাল স্যারও সরকারের দেয়া সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারতেন.. তিনি তা নেননি। হুমায়ুন স্যার কোন জায়গাতেই লেখে জাননি তাকে নুহাশ পল্লীতে কবর দেয়া হোক...বরং প্রথম আলোতে তিনি পরিস্কার বলে গেছেন নুহাশ পল্লীকে যেন মাজার বা কবর স্থানে পরিণত না করা হয়।
হুমায়ুন স্যারের অসুস্থ্য মায়ের দাবী তার ছেলেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে দাফন করা হোক... যেন চাইলেই তিনি ছেলের কবর দেখতে যেতে পারেন... অথচ এটা সম্ভব হচ্ছেনা শাওনের ক্ষমতাশীল পরিবারের একান্ত ইচ্ছার কারনে। আজকে স্যারের দাফন হয়ে যাবার কথা ছিলো... যেটাকে জোর করে বন্ধ করে লাশ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়েছে। লাশের রঙ নীল হয়ে গেলেও... সেটার চাইতে এখানে ক্ষমতার জোরটাই বেশি।
জাফর ইকবাল স্যার, তার পরিবার, হুমায়ুন স্যারের মেয়ে নোভা, শীলা বা ছেলে নুহাশ...এই কথাগুলো মিডিয়াতে বলবেন না এটাই বাস্তবতা...তারাবাবা থাকতেও পায়নি। এমনকি শেষ সময়ে বাবার সাথে যোগাযোগের অন্যতম বাধা ছিলেন স্বয়ং শাওন। এটা কোন মনগড়া গল্প নয়... হুমায়ুন স্যারের সবচেয়ে প্রিয় মেয়ের কাছ থেকেই প্রাপ্ত তথ্য। আশা করব সস্তা আবেগ দিয়ে বিচার না করে এই পরিবারে পাশে দাড়াবেন... এবং জোরালো দাবী জানাবেন যেন হুমায়ুন স্যারের মায়ের ইচ্ছাটাই পুরন হয়...নাহলে খুব অন্যায় হয়ে যাবে এই পরিবারের সাথে।
এসব দেখে একটা গল্প মনে পড়ে গেল। একবার কাজীর কাছে এক ছোট বাচ্চা নিয়ে হাজির হলো দুই মহিলা। দুইজনেই দাবী করছে বাচ্চা তার, সেই আসল মা। কাজী পড়লেন বিপদে তিনি কিভাবে নির্ধারণ করবেন কে আসল মা। শেষে এক বুদ্ধি আটলেন। ডাকলেন জল্লাদকে। বললেন বাচ্চাটাকে দু'ভাগ করে দুই মহিলাকে দিয়ে দিতে। এই কথা শুনে এক মহিলা যুকরে কেঁদে উঠলেন। আর্তনাদ করে বললেন তার বাচ্চা লাগবে না। ঐ মহিলাই বাচ্চাটা নিক, তবুও বাচ্চাটা বেঁচে থাক। কাজী বুঝলেন এই হলো আসল মা।
লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর দাফন নিয়ে যে বেহুদা নাটক হলো তার বর্তমান স্ত্রী শাওন আর আগের ঘরের সন্তানদের মাঝে এবং শেষ পর্যন্ত শাওনের ইচ্ছারই জয় হলো - আমরা বেহুদা পাবলিক কিন্তু বুঝতে পারলাম কে বা কারা তার আসল সুহৃদ।
নোভা, শিলা, বিপাশা আর নূহাস - জয় তোমাদেরই হয়েছে - অকৃত্রিম ভালবাসার জয়।
আর ব্যক্তিগত ভাবে আমার নিজের মনে হয় হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী শাওন দেশে নামার পর থেকে অভিনয় শুরু করেছে। বিশেষ করে চ্যানেল NEWS 24 এর খবর দেখার পর থেকে। দেশে এসে বিমান থেকে হুইল চেয়ারে নামা, হুমায়ুন আহমেদের সম্পর্কে বলা যে- উনি নাকি লাশ নিয়ে টানাটানি করতে মানা করেছেন, কথাটি সম্পূর্ণ বানানো মনে হয়েছে। সেহেরীর সময় খবরে দেখলাম উনি (শাওন) নিউজ রিপোর্টারকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন চোখ বন্ধ করে আর ধন্যবাদ দিচ্ছেন হুমায়ুন আহমেদের পরিবারকে তার ইচ্ছে মত কবর দিতে অনুমতি দেওয়ার জন্য। সবই অভিনয় লাগল। হায় মানবতা, হায় সম্পত্তির লালসা!!!
বাবার আত্নার শান্তির জন্য ছাড় দিল প্রথম ঘরের সন্তানরা...
এমনিতেই শাওনের জন্য বিজনেস ক্লাস টিকিট ম্যানেজ করতে হুমায়ূন আহমেদের লাশ আমেরিকা থেকে আসতে দুদিন বিলম্ব হয়েছিল। আবার দেশে এসে প্রায় একদিন লাশ হিমাঘারে পরে থাকা দেখে অবশেষে নুহাশ পল্লীতে দাফনের আপত্তি থেকে সরে এসেছে হুমায়ূন আহমদের মা-ভাই এবং প্রথম ঘরের সন্তান ণোভা-শীলা ও নুহাশ। সোমবার দিবাগত রাত দুই টা ১০ মিনিটে এ কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন হুমায়ূনের ছোটভাই মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।জাফর ইকবাল গভীর রাতে সাংবাদিকদের বলেন, হুমায়ূন আহমেদের সন্তানরা চাচ্ছিলো তাদের বাবার দাফন মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে হোক। কারণ সেখানে সবাই সহজে যেতে পারবে। কিন্তু হুমায়ূনের দ্বিতীয় স্ত্রী শাওনকে রাজি করানো যায়নি। আবার সন্তানরা চাচ্ছে না যে, তাদের বাবার লাশ বারডেমের হিমঘরে পড়ে থাকুক। এ কারণেই তারা নুহাশ পল্লীতে দাফনের বিষয়টি মেনে নিয়েছে তারা।
CONGRATULATES Tigers! Bangladesh Cricket team wins first ever T20 Series in a foreign country! Tigers are roaring and so are we.
নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদ আর নেই। ক্যান্সার নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তার। তার এই মৃত্যুতে সমগ্র জাতী আজ শোকাহত। তার আত্ত্বার মাগফিরাত কামনা করছি ....
আজ পবিত্র শবেবরাত
আজ পবিত্র শবেবরাত। পরম রহমত ও ফজিলতের রাত। আজকের রাতটি মুসলমানদের কাছে ইবাদতের রাত হিসেবে পরিচিত। এ রাতে ইবাদতের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মুসলমানরা পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে তাঁদের আকুতি জানান। শবেবরাত অর্থ 'সৌভাগ্যের রজনী'। মর্যাদাপূর্ণ এ রাতে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালা সবার ভাগ্য নির্ধারণ করেন বলে মুসলমানরা বিশ্বাস করেন।
হিজরি ক্যালেন্ডার অনুসারে মধ্য শাবানের মধ্যরাত বা ১৪ তারিখের রাতটিকেই শবেবরাত বা মুক্তির রাত হিসেবে গণ্য করা হয়। আরবিতে এ রাতকে বলা হয় লাইলাতুল বরাত। পাপকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে গুনাহ থেকে মুক্তিলাভ ও আগামীর সৌভাগ্যময় প্রস্তুতির রাতও বলা হয় শবেবরাতকে।
এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে বলা হয়েছে, বরকতময় এ রজনীতে মুমিনদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ বর্ষিত হয়। আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয় মানুষের আমলনামা। নির্ধারিত হয় সব মানুষের আগামী এক বছরের রিজিক।
এই রাত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। রমজান মাসের আগের মাস শাবান। রমজানের সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি হিসেবে শাবান মাসকেও বরকতময় মাস বলে অভিহিত করা হয়েছে হাদিস শরিফে। এ রাতকে ইবাদতের জন্য উত্তম সময় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষমাপ্রার্থীদের এ রাতে আল্লাহতায়ালা ক্ষমা করেন। যাঁরা আল্লাহর কাছে রহমত ও বরকত প্রার্থনা করেন, তাঁরা তা পান। মহান আল্লাহ চান, মানুষ পাপ-তাপ থেকে মুক্ত হয়ে সুখ-সমৃদ্ধিতে জীবন যাপন করুক। তিনি চান মানুষ সত্য ও কল্যাণের পথে এসে সৌভাগ্য লাভ করুক।
এই রাত মানুষের মধ্যে শুভবোধের উন্মেষ ঘটায়, শুভচিন্তা ও সৎকর্মের আদর্শে তাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনে যা কিছু শুভ ও সুন্দর, তার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। সমাজে যে অন্যায়-অবিচার-অনাচার, তা দূর করা এবং সাধারণ মানুষের কষ্ট ও দুঃখ লাঘবের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি জানানো হয়।
আজকের রাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ সব মসজিদে ওয়াজ মাহফিল, ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
তাৎপর্যপূর্ণ এ রাতের বিশেষ বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে বিশ্বের মুসলমানরা রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি করেন।
Our fan of the week is... Tithy Sabiha! Congratulations. To get picked as our next fan of the week, post on our wall or comment / like other posts and we might just pick you.
17/06/2012
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক টাইমের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফরচুন অনুযায়ী এক নজরে পৃথিবীর ১২ উদ্যোক্তার নাম এবং প্রতিষ্ঠান ।
১ স্টিভ জবস : Apple
২ বিল গেটস : Microsoft
৩ ফ্রেডরিক স্মিথ : Fedex
৪ জেফ বেজোস : Amazon
৫ ল্যারি পেজ ও সার্জেই ব্রিন : Google
৬ হাওয়ার্ড শুলুজ : Coffee starbug
৭ মার্ক জুকারবার্গ : Facebook
৮ জন ম্যাকেই : Wholefood
৯ হার্ব কেলেহার : Southwast airlines
১০ নারায়ন মূর্তি : Infoses
১১ স্যাম ওয়ালটন : Wal-mart
১২ ড. মুহাম্মদ ইউনুস : Grameenbank !!
সূএ: যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক টাইমের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ফরচুন ।
দুঃখের বিষয় আমরা এই মানুষটাকে উপযুক্ত সম্মান দিতে পারলাম না।
16/06/2012
শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে কেক কাটা হয়েছে। তবে আগের বছরগুলোর মতো উচ্ছ্বাস ছিলো না। খুব চুপচাপ ছিলো। চুপচাপ কেন জিজ্ঞেস করতেই ছোট্র মেঘের ছোট্র উত্তর, মন খারাপ। তার একটু পরই ঘুমিয়ে পড়ে মেঘ। সকালে স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করেছে মেঘ। অনেকটা আবেগতাড়িত হয়েই মেঘের এই ম্রিয়মান জন্মদিনের কথা বাংলানিউজকে জানান মামা নওশের রোমান।
শনিবার ১৬ জুন মেঘের জন্মদিন। ছয় বছরে পা রাখছে শিশু মেঘ। তবে গত পাঁচ বছরের জন্মদিনের সঙ্গে এবারের জন্মদিনের পার্থক্য হলো-- এবার তাকে জন্মদিন পালন করতে হচ্ছে বাবা-মাকে ছাড়া। এ জন্যই হয়তো শিশু মেঘের মনে অব্যক্ত কষ্টের মেঘ জমে ছিল। মেঘের স্কুল উইলিয়াম কেরি এবং মেঘের বাবা সাংবাদিক সাগর সারওয়ারের শেষ কর্মস্থল মাছরাঙা টেলিভিশন মেঘের জন্মদিন পালনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান রোমান।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, গতবার মেঘের জন্মদিনের কয়েকদিন আগেই দেশে ফিরে আসে আপু আর সাগর ভাই। রাত ১২টায় যখন মেঘ আর সাগর ভাইকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা হয়, তখন তারা খুবই সারপ্রাইজড হয়েছিলেন। কথা ছিল, এবার আমরা মেঘের জন্মদিন খুব ঘটা করে পালন করবো। কিন্তু তা আর কখনোই হবে না।
অষ্ট্রেলিয়া থেকে মেঘের খালা সিলভী ফেসবুকে মেঘকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, মেঘ বাবা, তুমি জেনে নিও, তুমি আর একা নাই, তোমার সঙ্গে অনেকে আছেন, যাদের তুমি দেখতে পাও না, কিন্তু তোমার বিপদে তুমি এদের পাবে। এরা টিভি ক্যামেরার সামনে বড় বড় কথা বলে দায়িত্ব নেয় না, এরা মানবতার শক্তি দিয়ে মাথায় হাত রাখে। আব্বু, তুমি তো অনেক বুদ্ধিমান ছেলে, বল তো বাতাস কি আমরা দেখতে পাই? কিন্তু বাতাসের শক্তি দেখেছ ঝড়ের সময়ে? এই বাতাসই কিন্তু পানিকে সাথে নিয়ে সুনামি তৈরি করে। আর তখন পৃথিবীর কোনো শক্তি থাকে না তাকে আটকে রাখে। আমরাও তেমন। আমরা তোমার জন্য লড়ব বাবা। কথা দিচ্ছি। তোমার জন্যই বা বলছি কেন, তুমি তো আমাদেরই...আমরা আসলে আমাদের জন্যই লড়ব।
কষ্ট, দুঃখ, কান্না দুই হাতে চেপে রেখে তোমাকে আর্শীবাদ করছি, আব্বু জি...জন্মদিনটা শুভ কিছু বয়ে আনুক তোমার জন্য।
অপরদিকে আমেরিকা প্রবাসী সাংবাদিক ফারজানা খান গোধুলি বলেন, জন্মদিন অনেক আনন্দে কাটুক বেটা, সব দুঃখকে জয় করে বড় হয়ে উঠ, চাইনা কেউ তোমাকে আজ দুঃখী দুঃখী মুখে শুভেচ্ছা জানাক। তোমার জন্মদিনে কেউ চোখের পানি ফেলুক। আজ তোমাকে খুশি করার দিন। আজ কাল ও আগামী প্রতিটা দিন তোমাকে সবাই খুশি রাখুক, যাতে বাবা-মা না থাকার কষ্টটা তোমার জীবনে ক্ষত না হয়ে দাঁড়ায়। দোয়া করি সব বাধা পায় দলে মানুষের মত মানুষ হয়ে উঠ।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসার বেডরুমে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। খুনীদের গ্রেফতারে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও চার মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু সাগর রুনির হত্যাকারীরা আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গিয়েছে।
মেঘের আগামী জন্মদিনে আমরা কি পারি না, হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে জন্মদিনে মেঘকে সেরা উপহারটা দিতে??
সবশেষে বলি, শুভ জন্মদিন মেঘ
Every week we choose one of our fans as "fan of the week". No winners this time, but post on our wall or comment / like our posts and we might pick you next.