29/12/2012
♥♥আজ রাতের গল্প♥♥
''বৃদ্ধাশ্রম''
মা মা, এভাবেই ডাকতে ডাকতে ঘরে প্রবেশ করল শফিক,
- কি হয়েছে রে শফিক, এভাবে ডাকছিস কেন?
-অনেক খোজার পর মনের মত একটা বৃদ্ধাশ্রম খুজেপেয়েছি মা, ঢাকার অদূরেই গাজীপুরে। অনেক সুযোগ সুবিধা । তোমার কোন কষ্টই হবেনা মা। সময় না হতেই খানা পেয়ে যাবে, অনেক যত্ন নেয় তারা। কাছেই তো আমরা মাসে মাসে গিয়ে দেখে আসবতোমায়। আর আমার পুরাতন মোবাইল টা তো তোমাকে দিয়ে দেব চাইলেই ফোনে কথা বলতে ও পারবে। এক নাগাড়ে মাকে সব শুনালো শফিক।
মা, আর দুইদিন পর আমার বস আসছে আমাদের বাসায়। আমি তাকে দাওয়াত করেছি। বস কে খুশি করতেই পারলে বড় একটা কাজ পেয়ে যাব। আমার বাসায় তো তখন মানুষের যাতায়াত বেড়ে যাবে মা। আমি ভেবে দেখেছি তোমায় বৃদ্ধাশ্রম এ রেখে আসব। কদিন থেকে আমি তাই খুজেঁ বেড়াচ্ছিলাম যাক আজ মিলে গেল। তুমি ভালই থাকবে মা সেখানে, দারুন সব সুযোগ সুবিধা, সব ভদ্রলোক ছেলেদের মা 'রা থাকে সেখানে!! আমাদের পাশের বিল্ডিংয়ের মারুফ ভাইয়ের মা ও তো সেখানে থাকে। তা শুনে পাশ থেকে শফিকের বউ বলে উঠলো - শুনলেন তো মা? আপনার ছেলে কেমন বৃদ্ধাশ্রম দেখে এসেছে আপনার জন্য? যাবার আগেই তো বান্ধবী পেয়ে গেলেন, মজাতেই কাটবে আপনাদের সময়।
চারদিকে সুযোগ সুবিধার কথা শুনেও মমতার বেগমের মন খুশি হতে পারছেনা। মনে পড়ে যায় শফিকের ছোট বেলার সে কথা, সেদিন শফিক তার মামার সাথে মামার বাড়ি গিয়েছিল, মাঝ রাতে ঘুমভেঙ্গে গেলে মাকে কাছে না পেয়ে কান্না শুরু করে দেয়, শেষে শফিকের মামা রাত একটার সময় তাকে মমতা বেগমের কাছে নিয়ে আসে।
আজ শফিক আর ছোট নেই এখন একা থাকতে পারবে সে, তার এখন অনেক প্রেস্টিজ মা বাসায় থাকলে আবার প্রেস্টিজে যদি আঘাত আসে। শফিকের বাবা মারা যাবার পর গ্রামের সব জায়গা জমি মাকে দিয়ে বিক্রি করিয়ে শহরে ফ্ল্যাট কিনে নিজের নামে।এক বেড এক বাথ এক ড্রইং এক কিচেন এর ফ্ল্যাটে মায়ের থাকার জায়গাটা ই নেই। ড্রইংরুমে গেস্টরা আসা যাওয়া করতে হয়। নতুন ব্যবসা শুরু করেছে কতজন ই তো আসা যাওয়া করে বাসায়। মা 'র জন্য ভালোভাবে সময় দিতেই কষ্ট হয়, পড়তে হয় বিড়ম্বনায়, মা বৃদ্ধাশ্রম চলে গেলে আর এ সমস্যায় পড়তে হবেনা। তাইতো বস আসার আগেই মাকে সেখানে রেখে আসার সব কিছু ঠিক করে এসছে।
মা, কাল আমার বস আসবে আমার বাসায় আমি আজ তোমাকে রেখে আসব বৃদ্ধাশ্রম এ। আমি দেখে আসব মাঝে মাঝে। আমি বড় ফ্ল্যাট নিলে আবার না হয় তুমি চলে এসো। তুমি ভালই থাকবে মা।
মমতা বেগম কিছু না বলে চোখের জল মুছতে মুছতে প্রস্তুত হতে থাকলেন। যাবার বেলায় ছেলে ছেলেবউ কে দোয়া দিয়ে গেলেন যেন অনেক ভাল থাকে। শফিক মাকে রেখে আসল। বাসায় এসে আগামী দিন বস কে আপ্যায়নের ব্যাবস্থা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ল। বসের সেক্রেটারির কাছ থেকে জেনে নিল বসের পছন্দ অপছন্দ। এ কাজটা পেয়ে গেলে শফিকের ঘুরে দাড়াতে মোটেও সময় লাগবেনা। তাইতো বস কে রাজি খুশি করাতে উঠেপড়ে লেগেছে শফিক।
পরদিন - শফিক তার বস আসার অপেক্ষায় ছিল। একসময় বসের গাড়ি এসে থামলো। গাড়ি থেকে নেমে এলেন মহসিন সাহেব। নেমেই গাড়ির পিছনের দরজা খুলে কাকে যেন বের হতে সাহায্য করছিলেন তার ওয়াইফ ও ধরছিলেন, শফিক ও এগিয়ে গেল। একজন ষাটোর্দ্ধ মহিলা, মহসিন সাহেব শফিক কে পরিচয় করিয়ে দিল।
-আমার মা শফিক, তোমার বাসায় তো অনেকক্ষণ থাকা হবে, মা বাসায় একলা থেকে কি করবে তাই নিয়ে এলাম। শফিক বস কে বলে উঠল অনেক ভাল করেছেন স্যার। চলেন ভিতরে চলেন। মহসিন সাহেব এ বাসায় আসা মানে গরীবের ঘরে হাতির পা পড়ার মতইব্যাপার। শফিকের বউ এসে কুশল বিনিময় করে গেল।
-তোমার মাকে দেখছিনা যে শফিক? প্রশ্ন টা শুনেশফিকের চার বছরের মেয়েটি বলে উঠলো দাদু মনি তো বৃদ্ধাশ্রম চলে গেছেন। আব্বু রেখে এসেছে কাল। জানেন আঙ্কেল এখন আমার সাথে খেলার কেউ নাই। আমি একা একা কম্পিউটার গেমস খেলি।
তোমার মাকে বাসায় না রেখে বৃদ্ধাশ্রম এ রেখেছো শফিক, এটা কেমন কথা!!? কোন সভ্য সন্তানএমন করতে পারে? জানো ব্যবসা কে ও আমি আমার মায়ের মত সম্মান করি। যে মানুষ নিজের মায়ের সম্মান করতে পারেনা সে কি করে ব্যাবসা কে সম্মান দিবে? ভেবেছিলাম তোমাকে নতুন প্রজেক্ট টা দিয়ে দিব, কাগজ পত্র ও নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু আমি স্যরি শফিক যে সন্তান নিজের মায়ের দেখভাল করতে পারেনা সে কি করে আমার ব্যাবসা দেখভাল করবে??
শফিকের বস কে কিছু বলার মুখ ও রইলোনা। চলে গেলেন মহসিন। চলে যেতেই শফিকের বউ এসে বকবক শুরু করল - এই বুড়ি বাড়ি ছেড়ে গিয়েও শান্তি দিচ্ছেনা, বুড়ি টার জন্য আজ কাজ টা পেলেনা।শফিকের মাথা এমনিতে গরম ছিল বউয়ের কথা শুনে ঠাস করে একটা চড় লাগিয়ে বেরিয়ে গেল মাকে ফিরিয়ে আনতে.....
(বন্ধুরা আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ সবাই এই গল্পটি শেয়ার করবেন এতে করে আপনার সব বন্ধুরা পিতা-মাতা সম্পর্কে আরও সচেতন হবে)