সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে উম্মতের সবার কিছু না কিছু দায়বদ্ধতা আছে বিশেষ করে ওলামাদের। হযরত শায়খুল হাদিস রহঃ নিজে যেমন এই চেতনা লালন করতেন নিজ ছত্রদের এই চেতনা ধারণে উদ্বুদ্ধ করতেন। এবং এই লক্ষে তিনি জীবনে অনেক কর্মসূচী ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে গেছেন। যে কারণে জাতীয় সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার রূহানী সন্তানদের বিপুল উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
একজন আলেমের মাঝে যদি দায়বদ্ধতার এই বোধ জাগ্রত না থাকে তাহলে বুঝতে হবে তিনি কোরআন- হাদিসের বাণী চোখে দেখেছেন মুখে উচ্চারণ করেছেন কিন্তু হৃদয় দিয়ে অনুধাবন করতে পারেন নি। কারণ
{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} [آل عمران: 110]
এই আয়াত পড়ে অনুধাবন করার পর অন্তত একজন আলেমের পক্ষে সমাজ থেকে নির্লিপ্ত থাকা সম্ভব নয়।
হযরত রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াত লাভের পূর্বে সমাজ ও সামাজিকতার প্রশ্নে কর্মতৎপর ছিলেন। ১৭ বছর বয়সে হিলফুল ফুযুলে (ফযলদের শপথ) যোগদান এরই প্রমাণ বহন করে। এছাড়া প্রথম ওহী নাযিল হওয়ার পর হযরত খাদীজা রাযিঃ এর বক্তব্য
صحيح البخاري 1/ 7
كلا والله ما يخزيك الله أبدا، إنك لتصل الرحم، وتحمل الكل، وتكسب المعدوم، وتقري الضيف، وتعين على نوائب الحق، এই বিষয়ে আরও সু-স্পট। তাই সাহস করে একথা বলাই যায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়ানো ছিল তাঁর নবুওয়তের মহান দায়িত্ব পালনের পূর্ব প্রস্তুতি স্বরূপ। অসহায়, দরিদ্র ও পীড়িতের পাশে দাঁড়ানো যদি নবুওয়তের দায়িত্ব লাভের পূর্ব প্রস্তুতি হয় তাহলে সে নবীর উত্তরসূরির জন্য এর গুরুত্ব কতটুকু তা সহজেই অনুমেয়।
কোরআন হাদিসের অধ্যয়ন এবং হযরত শায়খুল হাদিস রহঃ এর পবিত্র সোহবতে থেকে নিজেদের মাঝে যে চেতনা ধারণ করেছি সে চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ব্যক্তি পর্যায় থেকে সংঘবদ্ধতার পর্যায়ে উন্নীত হয়ে,একত্রিত হয়েছি “ আমরা রাহমানিয়ার সন্তান-২০০৯ -১০” নামে। আমরা দাঁড়িয়েছি হে আল্লাহ! এবার তোমার তাওফিক সাথে থাকলে আমরা করব অনেক কিছু।
স্বপ্ন দেখি শায়খুল হাদিসের সকল রূহানী সন্তানেরা একদিন একত্রিত হবে এমনই কোন নামে।