Varsity Education Information

Varsity Education Information

Share

A website for students.

Here every students will get information about admission circulars, scholarships information, study abroad news, success stories, motivational advices, and all kinds of educational news.

10/10/2024
22/01/2023

প্রাচীন অনুরাধাপুরা (সিংহল বা অধুনা শ্রীলংকা) নামক রাজ্য শাসন করত ধাতুসেনা নামের এক রাজা। তাঁর ছিল তিন সন্তান। দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলের নাম ক্যশপ, ছোট ছেলের নাম মোজ্ঞালানা। বয়সের বিচারে ক্যশপ সিংহাসনের দাবীদার হলেও, রাজ হারেমের রক্ষিতার গর্ভে জন্ম হয়েছিল বলে তাঁকে স্বীকৃতি না দিয়ে রাজ মাতার গর্ভে জন্মে নেয়া ছোট ছেলে মোজ্ঞালানাকে যুবরাজ হিসেবে ঘোষনা করে ধাতুসেনা। অন্যদিকে ক্যশপকে রাজ কর্মচারি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ক্যশপকে ছোটবেলা থেকে এভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে। সে খুশি খুশি রাজার আদেশে রাজসভার কাজ দেখভাল করতে লাগল। সমস্যা শুরু হল ধাতুসেনা যখন তাঁর মেয়ের বিয়ে ঠিক করল।

আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বছর আগের কথা। মহা ধুমধাম করে সিংহলে মৌর্য্য বংশের স্থপতি মহান রাজা ধাতুসেনার একমাত্র কন্যার বিয়ে হয় তাঁরই আপন বোনের ছেলে মিগারার সাথে। যে ছিল অনুরাধাপুরা রাজ্যের সেনাবাহিনীর বীর জেনারেল, এক দুর্ধষ ক্ষত্রিয়। ধাতুসেনা তাঁর মেয়েকে অন্ধের মত ভালোবাসত। মেয়ের বিয়ের পর তাঁর শাশুড়ির সাথে কোন এক বিষয় নিয়ে একদিন ঝগড়া লাগল। রাজকন্যা এসে তার বাবার কাছে বিচার দিলে ধাতুসেনা তাঁর বোন ও মেয়ের শাশুড়িকে দরবারে তলব করে। ভালো মন্দ কোন কিছু জিজ্ঞেস না করে ধাতুসেনা তার বোনের শিরচ্ছেদের নির্দেশ দিয়ে দেয়। ভরা মজলিসে তার জামাতা মিগারার চোখের সামনে রাজার হুকুম তামিল করা হয়।

মিগারার মনে তখন প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। রাগের মাথায় উলটা পালটা কিছু না করে ধূর্ত মিগারা রাজনীতির মাধ্যমে রাজাকে ঘায়েল করার সিদ্ধান্ত নিল। এরপর শুরু হল তাঁর প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, গেইম অফ থ্রোনস।

কিছুদিনের মধ্যেই মিগারা রক্ষিতা পুত্র ক্যশপের সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলল। মদ পান করিয়ে ক্যশপের মাথায় রাজ জামাতা সিংহাসনের ভুত ঢুকিয়ে দিল। ‘তুমিই যোগ্য, তুমিই রাজা, সিংহাসন তোমার অধিকার’- দুলাভাইয়ের এমন এহেন কানপড়া তথা মোটিভেশনাল স্পিচ শুনে ক্যশপ তাঁর পিতাকে একদিন রাজবাগানে জ্যান্ত পুঁতে হত্যা করে রাজ সিংহাসন দখন করে নেয়। প্রাণের ভয়ে ছোট ভাই মোজ্ঞালানা ভারতে পালিয়ে যায়।

অন্যায়ভাবে পিতাকে হত্যা করে রাজ্য দখল করার পর ক্যশপের মনে ভয় ঢুকে গেল। প্রতি রাতে তাঁর পিতার ভুত দেখতে লাগল। সেই সাথে সে আতঙ্কিত থাকত যে এই বুঝি তার ছোটভাই ভারতীয় তামিল বা পান্ডবদের নিয়ে হামলা করতে আসছে। নিজেকে আরও সুরক্ষিত করতে সে তার রাজ প্রাসাদ নতুন করে গড়ে তোলার জন্য নির্দেশ জারি করল। রাজ্যের সব প্রতিভাবান স্থপতি, শিল্পী ও রাজ করিগরদের সন্নিবেশ ঘটানো হল। প্রাচীন জ্ঞান বিজ্ঞান প্রজ্ঞা কলা কৌশলের এক অভুতপূর্ব ক্যামেস্ট্রির পর তৈরি হল, ‘সিগিরিয়া’- প্রাচীন স্থাপত্যকলার এক অভূতপূর্ব নিদর্শন, একটা ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেল! বর্তমানে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।

হাজার ফুট উঁচু বিশালকায় এক পাথর কেউ যেন সমতলে বসিয়ে দিয়েছে। এই পাথরের উপরেই তৈরি করা হয়েছিল রাজা ক্যশপের নতুন প্রাসাদ ও দুর্গ, সিগিরিয়া বাংলা করলে এর অর্থ দাঁড়ায় সিংহ পাথর। বিশালকায় এই পাথরকে ঘিরে বানানো হয়েছিল বিশাল সব পরিখা। পরিখা পেড়িয়ে পৌঁছানো যেত পাথরের গোড়ায়। এরপর কারিগরেরা পাথর খোদাই করে বানিয়েছে একের পর এক সিঁড়ি। হাজার ফিট সিঁড়ির পর বানানো হয়েছিল বিশালকায় এক সিংহ তোড়ন। সেই তোরণের নিচের অংশ সিংহের পাঞ্জা দুটি আজও টিকে আছে। এরপর রাজ পরিবারদের জন্য মনোরম প্রাসাদ, প্রমোদের জন্য উদ্যান, ফল ফলাদির বাগান, আয়নার মত চকচকে পাথরের দেয়াল, দেয়ালে দেয়ালে আঁকা অনিন্দ্য সুন্দর অপ্সরাদের পেইন্টিং...

ভাবতে যতটা সহজ, আদতে কিন্তু কাজটা অনেক কঠিন ছিল। পাথরের পাহাড়ের উপর পানির ব্যবস্থা কি হবে? পানির ব্যবস্থা ছাড়া দুর্গের তো প্রশ্নই উঠে না। প্রাচীন স্থপতিরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য তৈরী করল সারফেস/ সাব সারসেফ হাইড্রলিক সিস্টেম। রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ও হারনেসের জন্য বানানো হল একুয়াডাক্ট ও একুইফার। পুরো দুই হ্যাক্টর পাথর জুড়ে বানানো হল ওয়াটার চ্যানেল, কাটা হল বিশালকায় পুকুর ও অনিন্দ্য সুন্দর ফোয়ারা। পানির চ্যানেলগুলো ঘিরে বানানো হল গুচ্ছ বন ও উদ্যান। এ ইডেন অন দ্যা রক।

রাজা কশ্যপ খুব বেশিদিন তাঁর এই ইনভিন্সিবল ফোর্ট্রেস ভোগ করতে পারেনি। ৪৯৫ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে পালিয়ে যাওয়া মোজ্ঞালানা তাঁর পিতৃভূমি অনুরাধাপুরায় ফিরে আসে ও সৎ ভাই ক্যশপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে বসে। পুরাণে পাওয়া যায়, সম্মুখ যুদ্ধে এডভান্টেজ নেয়ার জন্য হাতির উপর বসে থাকা রাজা ক্যশপ একটু ঘুরে আক্রমন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু রাজার হাতি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে হঠাৎ বামে চলে যাচ্ছে দেখে কশ্যপের সৈন্য বাহিনী ভেবে বসে রাজা বোধ হয় যুদ্ধ থেকে পালাচ্ছে। এহেন ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে পুরো সৈন্য বাহিনী রাজাকে রেখে আত্মসমার্পন করে বসে। রাগে দুঃখে ক্ষোভে রাজা ক্যশপ ছুড়ি বের করে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করে। মোজ্ঞালানা সিংহাসনে বসে অনুরাধাপুরার রাজধানী আবার আগের জায়গায় নিয়ে যান ও সিগিরিয়াকে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আশ্রমে পরিণত করেন।

এরপর ধীরে ধীরে একসময় সিগিরিয়া পরিত্যক্ত নগরী হয়ে যায়। বিশালকায় বন পুরো অঞ্চল ঢেকে ফেলে। লোক চক্ষুর আড়ালে চলে যায় প্রাচীন এই নগরী। এর বহু বছর পর ১৮৩১ সালে ব্রিটিশ এক্সপ্লোরার জোনাথান ফোর্বস খুঁজে বের করেন শ্রীলঙ্কার এই অষ্টম আশ্চর্য। সে এক ভিন্ন গল্প।

ছবি:

#সংগৃহীত

Photos from Nobel Prize's post 10/01/2023
Photos 10/01/2023

পেশা দিনমজুরি। আর নেশা বই পড়া। বই পড়তে পড়তেই গ্রামে গড়ে তুলেছেন পাঠাগার।
বিস্তারিত- https://pulse.ly/jg8pguf18h

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Uttara
Dhaka
1230