05/02/2018
আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন ১৩ বছর যাবৎ বেতনহীন কলেজ শিক্ষক। আমার মা ৭১'এর মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্থানী হানাদার দ্বারা শরীরের পরপর দুটি স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েও বেচেঁ আছে,সঙ্গে ছিল তাঁর বাবা-মা, ভাই, ভাইবউ, ভাইপোসহ, আপনজন সবাই, তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে সঙ্গে সঙ্গে মারা যায় শুধুমাত্র আমার মা আনেক চিকিৎসার পর বেঁচে যায়। আমি সেই যুদ্ধাহত মায়ের একমাত্র সন্তান। আমার মা চিকিৎসার পর ভালো হলেও শরীরের ক্ষত থেকে যায়। আমার মা বুক ভরা আশা নিয়ে আনেক কষ্টে আমাকে বাংলায় এম এ পাশ করান। শিক্ষাজীবন শেষ করে আমি স্থানীয় এক ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে চাকুরীর আবেদন করি এবং পরীক্ষায় প্রথম স্থান পাওয়ায় আমাকে যোগদান করতে বলা হয় এবং আমি সবকিছু শেষ করে তাদের চাহিদা মাফিক ডনেশন দিয়ে বিগত ২৪/১১/২০০৪ সালে যোগদান করি। আমার বেতনের জন্য ডিজি বরাবর আবেদন করতে গিয়ে বুঝতে পারি আমি উক্ত কলেজের বাংলা বিষয়ে তৃত্বীয় শিক্ষক তাই আমার এমপিও ভুক্ত করা হবে না আথচ গত ২০১০ এমপিও তে বেশিকছু কলেজে হাইকোটের রীট স্বাপেক্ষে এমপিও ভুক্ত হয় কিন্তু আমাদের হয়নি, কিন্তু বর্তমান জনবল কাঠামো ২০১০ মোতাবেক ডিগ্রি কলেজে দুই জনের বেশী এমপিও ভুক্ত হবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম (আধিভুক্তি সংক্রান্ত রেগুলেশন ২০১৫ ১(৫) ধারা-প্রতিটি বিষয়ে তিনজন নিয়োগকৃত শিক্ষক ছাড়া বিষয় আনুমোদন হয় না। প্রতিষ্ঠানের জবাব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম আনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অপেক্ষা করুন বেতন হবে। এমিন করে তেরটি বছর ধরে আমি চাকুরী করছি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনরকম বেতনভাতা আমাকে দেওয়া হয় না। এমনকি নতুন অধ্যক্ষ আমাদের যোগদান নিয়োগপত্র ফটোকপি সত্যায়িত করতে চাই না, বলে আমি নিয়োগ দেয়নি বিগত অধ্যক্ষ নিকট যান। আমি এবং আমার আসুস্থ মা সহ আমার পরিবার নিয়ে এক আমানবিক জীবন যাপন করছি। জানি যুদ্ধে আনেক প্রান হারিয়েছে কিন্তু শরীরের তাজা রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন এ দেশে আমার মায়ের মতো যারা বেঁচে থেকে এক আমানবিক জীবন যাপন করছে,এ যে কি কষ্টের, এমন মায়ের বেকার সন্তান ছাড়া, এ কষ্ট কে বুঝবে ? শিক্ষামন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিশ্বিবদ্যালয়ের মারপেঁচে আজ আমার মতো আনেকে কলেজের প্রভাষক হয়েও বেকার, কে আমাদের জীবন নষ্টের জন্য দায়ী ? আমাদের দায়িত্ব কে নিবে?