নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করাই ক্ষুদ্রতা।তুমি ক্ষুদ্র নও।আফ্রিকান একটি প্রবাদ আছে,If you think you are too small to make a differense,try sleeping with a mosquito. একটা মশা তোমার চেয়েও ক্ষুদ্র,তবে তোমার ঘুম হারাম করে দিতে পারে।মানুষ ক্ষুদ্র হয় তার কর্মে ও ভাবনায়। বড় হয় কর্মে ও ভাবনায়।
HSC Mathematics by RRK Sir
Md. Rasel Rana Khandaker
B.Sc (Hon's),M.Sc (First Class Second), M.Phil, PhD (Researcher).DUET,Gazipur. Lecturer, Dept. of Mathematics. Aftabnagar, Badda.
Dhaka Imperial College (DIC).
তুমি দেখি অভিনয় ও বোঝোনা, ফারায! হাত মেলালেই কি সবাই বন্ধু হয়!!
What goes around comes around.
“মানুষ তার স্বপ্ন ও চেষ্টার সমান বড়।
নৌবাহিনী স্কুল ও কলেজ, ঢাকার সম্মানিত স্কুল শিক্ষিকা মিসেস আফরোজা কাউসার শিউলী ম্যাডাম বর্তমান শ্রেণী কক্ষ ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নিম্নোক্ত বয়ানটি লিখেছেন, তাঁর লেখাটি নিয়ে শিক্ষক হিসেবে আমি চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন।
কোথায় যাচ্ছি আমরা! আসলেই প্রতিটি বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের চিত্র এখন এমনই 😭😭
সময় থাকলে একটু পড়ে নিবেন-------------
তিনি লিখেছেনঃ
🔵আমি হাসিমুখে ক্লাস নিতে ভালোবাসি… কিন্তু এখন আর পারছি না
২৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি—ভালোবাসা দিয়েই শেখানো যায়।
গল্প করতে করতে, হাসতে হাসতে, ছোট ছোট আনন্দের ভেতর দিয়ে বাচ্চাদের নতুন কিছু শেখানো—এটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
কিন্তু আজকাল ক্লাসে দাঁড়িয়ে নিজেকে চিনতে পারি না…
🔵একটা অদ্ভুত পরিবর্তন চোখের সামনে ঘটছে
একটা ক্লাস শেষ করে আরেকটা ক্লাসে যেতে মাত্র ২–৩ মিনিট সময় লাগে।
এই সামান্য সময়ের মধ্যেই পুরো বারান্দা ভরে যায় অস্থিরতা, চিৎকার, দৌড়াদৌড়িতে।
ধাক্কাধাক্কি, মারামারি—কেউ কাউকে শুনছে না।
যে বাচ্চারা আগে চুপচাপ বসে থাকত, ক্লাস ক্যাপ্টেন সবাইকে সামলে রাখত—
আজ তারা চোখের দিকে তাকায় না, ডাকে সাড়া দেয় না।
🔵সবচেয়ে কষ্টের জায়গাটা কোথায় জানেন?
ওদের মধ্যে যেন “সংযোগ” নেই।
না চোখের ভাষা বোঝে, না আদর বোঝে, না ধমক কাজ করে।
মোবাইলের গেম, স্ক্রিনের জগৎ—ওদের মনটাকে এমনভাবে নিয়ে গেছে,
বাস্তব মানুষ, বাস্তব সম্পর্ক—সব যেন দূরের কিছু।
🔵শাসন করবো? সেটাও আজ আর সহজ না
আমরা ছোটবেলায় শুনতাম—
“শিক্ষক যা ঠিক মনে করেন, সেটাই করবেন।”
আর এখন?
সামান্য কিছু বললেই অভিভাবকরা প্রশ্ন তোলেন, বিচার করেন, চাপ তৈরি করেন।
শিক্ষক যেন পড়ানোর আগে হাজারবার ভাবেন—“এটা বলা ঠিক হবে তো?”
🔵তাই এখন ক্লাসে কী করি জানেন?
হাসিমুখে ঢুকি,
আর কিছুক্ষণ পর নিজেকে দেখি কপাল কুঁচকে, দাঁতে দাঁত চেপে কথা বলছি…
এটা আমি না।
এটা আমি হতে চাইনি।
🔵একটা কথা বলতে চাই—অভিভাবকদের কাছে
আপনার সন্তান শুধু বইয়ের পড়া শিখলেই মানুষ হবে না।
শিখতে হবে—
• শ্রদ্ধা
• শোনার অভ্যাস
• নিয়ম মেনে চলা
• অন্যকে বুঝতে পারা
এই জিনিসগুলো বাড়ি থেকে শুরু হয়। স্কুল শুধু সেটাকে গড়ে তোলে।
🔵আর আমার প্রিয় ছাত্রছাত্রীদের জন্য
তোমরা খারাপ না…
কিন্তু তোমাদের মনটা খুব অস্থির হয়ে গেছে।
একটু থামতে শিখো,
একটু শুনতে শিখো,
একটু চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখো।
🔵শেষ কথা
শিক্ষকতা শুধু পেশা না—এটা একটা অনুভূতি।
কিন্তু সেই অনুভূতিটা যদি প্রতিদিন ভেঙে যায়,
তাহলে একসময় দাঁড়িয়ে ভাবতেই হয়—
“আমি কি সত্যিই পারছি?”
হয়তো এখন সময় এসেছে আমরা সবাই একটু থামি—
শিক্ষক, অভিভাবক, আর ছাত্রছাত্রী—
এবং নতুন করে ভাবি—
আমরা আসলে কোথায় যাচ্ছি…
“শূন্য থেকে শুরু করে পূর্ণতায় পৌঁছানো—এটাই গণিত, এটাই আমার ক্লাসের গল্প।”
19/04/2026
"মানুষের ওপর রাগ করতে নেই।
কারণ মানুষ তো আসলে পরিস্থিতির দাস।
তার ভেতরে এমন সব লড়াই চলে যার খবর আমরা রাখি না।
🧭কারো প্রতি ঘৃণা পুষে রাখা মানে হলো নিজের ভেতর একটা বিষাক্ত সাপকে লালন করা।"
বৃত্তের কোণের পরিমাণ যে ৩৬০ ডিগ্রি, সে কথা স্কুলে আমরা প্রায় সবাই শিখেছি। কিন্তু এই কোণের মান ৩৬০ ডিগ্রি না হয়ে তো ১০ ডিগ্রি কিংবা ১০০ ডিগ্রিও হতে পারত। আবার ৫০০ ডিগ্রি হলেও কারো হয়তো ক্ষতি বৃদ্ধি হতো না। তাহলে হিসাব-নিকাশের ব্যাপারটাও আমাদের জন্য সরল হতো। কিন্তু তা না হয়ে এরকম সংখ্যা হলো কেন?
এককথায় এ প্রশ্নের উত্তর হলো: এর সঠিক কারণ কেউ জানে না। তবে পেছনের কারণটা নিয়ে বেশ কিছু হাইপোথিসিস চালু আছে। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক, গাণিতিক এবং ব্যবহারিক বিভিন্ন কারণ। সেগুলোই একে একে চলুন জানার চেষ্টা করি।
ঐতিহাসিক কারণটা ৪ হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার ব্যাবিলনে বলে ধারণা করা হয়। তারও আগে সুমেরীয় সভ্যতাতেও এ ধারণা চালু ছিল বলে অনেকে অনুমান করেন। আমাদের বর্তমানের গণনা পদ্ধতিকে বলা হয় দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে আমরা মাত্র ১০টি অঙ্ক ব্যবহার করি—০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯। মাত্র এই ১০টি অঙ্ক দিয়েই সব সংখ্যা লেখা যায়। কিন্তু প্রাচীন ব্যাবিলনের মানুষেরা আজকের মতো দশমিক সংখ্যা পদ্ধতি জানত না। তারা ব্যবহার করত ৬০ ভিত্তিক সংখ্যা পদ্ধতি। এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করেই আজকের মিনিট (৬০ সেকেন্ড) এবং ঘণ্টা (৬০ মিনিট) তৈরি হয়েছে।
আধুনিক হিসেবে এ সময়ের পরিমাণ আসলে ৩৬৫.২৫ দিন। কিন্তু সে যুগের হিসাব অনুযায়ী ৩৬০ দিনই ছিল সঠিক। কারণ তাদের কাছে আধুনিক সূক্ষ্ণ যন্ত্রপাতি ছিল না।
তাদের কাছে ৬০ সংখ্যাটি ছিল একটি বিশেষ সংখ্যা। তাই বৃত্তের কোণ নির্ধারণের জন্য তারা ৬০-এর গুণিতক ৩৬০-কে বেছে নেয়, যা তাদের গণনা পদ্ধতির সঙ্গে ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমরা যেমন ১০, ২০, ৩০ বলে গুনি, তেমনি তারা গুনত ৬০, ১২০, ১৮০ বলে। এই ৬০ সংখ্যাটা তাদের কাছে ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ৬০-কে অনেক সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা যায়। যেমন ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ১০, ১২, ১৫, ২০, ৩০ দিয়ে। এটা তাদের হিসাব-নিকাশে অনেক সুবিধা দিত।
এটুকু না হয় বোঝা গেল; কিন্তু প্রশ্ন হলো, ৬০ থেকে ৩৬০ এল কীভাবে?
৩৬০ ডিগ্রি মাপের সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছু মিলে যা
৩৬০ ডিগ্রি মাপের সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছু মিলে যা
এর পেছনে আছে প্রাচীন মানুষের আকাশ দেখা। আসলে সে কালের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছিল, সূর্য প্রতিদিন আকাশে একটু একটু করে সরে যায়। অর্থাৎ আকাশে সূর্যটা যে জায়গায় আজ দেখা গেল, ঠিক একই সময়ে কাল সূর্যটা একই জায়গায় দেখা যাবে না। তার অবস্থান বদলে যাবে। এভাবে প্রতিদিনই সূর্য জায়গা বদল করে চলে। প্রাচীন জ্যোতির্বিদদের হিসেবে, সূর্য এভাবে স্থান বদলাতে বদলাতে আবার তার আগের জায়গায় ফিরে আসতে সময় নেয় প্রায় ৩৬০ দিন। অবশ্য আধুনিক হিসেবে এ সময়ের পরিমাণ আসলে ৩৬৫.২৫ দিন। কিন্তু সে যুগের হিসাব অনুযায়ী ৩৬০ দিনই ছিল সঠিক। কারণ তাদের কাছে আধুনিক সূক্ষ্ণ যন্ত্রপাতি ছিল না। তাই প্রাচীন মানুষেরা ধারণা করল, সূর্য একটি বৃত্তাকার পথে চলে এবং সেই বৃত্তে ৩৬০টি সমান ভাগ আছে।
এই চিন্তাভাবনা থেকেই একসময় জন্ম নেয় ডিগ্রির ধারণা। প্রাচীন জ্যোতির্বিদেরা ভাবলেন, আকাশটা যদি অনেক বড় একটা বৃত্ত হয় এবং সূর্য সেখানে ৩৬০ দিনে একবার ঘুরে আসে, তাহলে প্রতিদিন সূর্য এক ডিগ্রি করে সরে যায়। এভাবেই ৩৬০ ডিগ্রি ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
শুধু জ্যোতির্বিদ্যাই নয়, ৩৬০ সংখ্যাটির আরও কিছু গুণ আছে। সে কারণে এটি প্রাচীন গণিতবিদদেরও আগ্রহী করে তুলেছিল। গণিতের দৃষ্টিকোণ থেকেও ৩৬০ একটি অসাধারণ সংখ্যা। ৩৬০ এমন একটি সংখ্যা, যার অনেকগুলো উৎপাদক বা ভাজক আছে। মানে এ সংখ্যাকে অনেক ছোট ছোট সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা যায় এবং ভাগফল পূর্ণ সংখ্যা হয় (মনে রাখা দরকার, সে কালে ভগ্নাংশ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা ছিল না। ভগ্নাংশ হিসেব করাও ছিল খুব কঠিন। তাই পূর্ণ সংখ্যাকে গুরুত্ব দিতেন গণিতবিদেরা)। ৩৬০-কে ভাগ করা যায় ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৫, ১৮, ২০, ২৪, ৩০, ৩৬, ৪০, ৪৫, ৬০, ৭২, ৯০, ১২০, ১৮০ এবং ৩৬০ দিয়ে। অর্থাৎ মোট ২৪টি সংখ্যা দিয়ে নিঃশেষে ভাগ করা যায়। এত সব সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা যায় বলে বৃত্তকে সমান ভাগে ভাগ করা খুব সহজ। এর ফলে বৃত্তকে অনেকগুলো সমান অংশে ভাগ করা খুব সহজ হয়। যেমন বৃত্তকে অর্ধেক করতে হলে ১৮০ ডিগ্রি, এক-তৃতীয়াংশ করতে হলে ১২০ ডিগ্রি বা এক-চতুর্থাংশ করতে হলে ৯০ ডিগ্রি—এই সবই পূর্ণ সংখ্যায় পাওয়া যায়। নকশা তৈরির ক্ষেত্রে এটি অনেক বড় সুবিধা। প্রকৌশল, স্থাপত্য ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় এই বিভাজনের সুবিধা আজও অপরিহার্য।
মজার দিক হলো, আমাদের হাতের আঙুল দিয়েও ৩৬০ গোনা যায়! একটি হাতের চারটি আঙুলের প্রতিটিতে তিনটি করে গিঁট আছে, মানে মোট ১২টি গিঁট। অন্য হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে এই গিঁটগুলো গুনলে ১২ পর্যন্ত গোনা যায়।
একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা আরও পরিষ্কার হবে। ধরা যাক, আপনি একটি বৃত্তাকার কেক ৬ জনের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করতে চান। তাহলে প্রতিটি টুকরার কোণ হবে ৩৬০÷৬ = ৬০ ডিগ্রি। আবার যদি ৮ জনের মধ্যে ভাগ করেন, তাহলে প্রতিটি টুকরা হবে ৪৫ ডিগ্রি। এভাবে অনেক সুন্দর পূর্ণ সংখ্যায় ভাগ হয়ে যায়।
প্রাচীন গ্রিসের গণিতবিদেরাও এই ধারণা গ্রহণ করেছিলেন। জ্যোতির্বিদ্যা ও ত্রিকোণমিতির কাজে ৩৬০ ডিগ্রি ব্যবহার করেছিলেন বিখ্যাত গ্রিক গণিতবিদ টলেমি। তাঁর গবেষণা ও বইপত্রের মাধ্যমে এ পদ্ধতি পৃথিবীর অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।
৩৬০ ডিগ্রি মাপের সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছু মিলে যায়। একটি বর্গক্ষেত্রের চারটি কোণ—সবগুলোই ৯০ ডিগ্রি, এবং ৪×৯০ = ৩৬০। একটি সমবাহু ত্রিভুজের প্রতিটি বাইরের কোণ ১২০ ডিগ্রি, এবং ৩×১২০ = ৩৬০। একটি ষড়ভুজের (ছয় কোণবিশিষ্ট আকৃতি) প্রতিটি বাইরের কোণ ৬০ ডিগ্রি, এবং ৬×৬০ = ৩৬০।
মানুষের কাছে ৩৬০ ডিগ্রিই বেশি পরিচিত এবং বোধগম্য
মানুষের কাছে ৩৬০ ডিগ্রিই বেশি পরিচিত এবং বোধগম্য
আরেকটি মজার দিক হলো, আমাদের হাতের আঙুল দিয়েও ৩৬০ গোনা যায়! একটি হাতের চারটি আঙুলের প্রতিটিতে তিনটি করে গিঁট আছে, মানে মোট ১২টি গিঁট। অন্য হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে এই গিঁটগুলো গুনলে ১২ পর্যন্ত গোনা যায়। এখন যদি বাকি চার আঙুল দিয়ে এই ১২-এর গুণিতক গুনেন (১২, ২৪, ৩৬...), তাহলে ৫×১২×৬ = ৩৬০ পর্যন্ত গোনা যায়। প্রাচীন ব্যাবিলনীয়রা এভাবেই হিসাব করত!
কিন্তু প্রশ্ন থাকতে পারে, আজকের যুগে আমরা কি অন্য কোনো মাপ ব্যবহার করতে পারি না? আসলে গণিতে আরও দুটি কোণ মাপার একক আছে। সেগুলো হলো রেডিয়ান এবং গ্রেড। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে ৩৬০ ডিগ্রিই বেশি পরিচিত এবং বোধগম্য। বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের কিছু ক্ষেত্রে রেডিয়ান ব্যবহার করার কারণ, এতে অনেক গাণিতিক সূত্র সহজ হয়ে যায়। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে, ভূগোলে, নৌবিজ্ঞানে, স্থাপত্যবিদ্যায় ৩৬০ ডিগ্রিই ব্যবহার হয়। কারণ এটি সহজবোধ্য।
সূত্র: হিস্ট্রি টুডে ডট কম
ম্যাথনেসিয়াম ডট কম
টাইম ম্যাগাজিন.
11/04/2026
ভারতের হরিয়ানার এক ছোট্ট শহর 'কারনাল'। যেখানে আর দশটা মেয়ে পুতুল খেলে শৈশব কাটাত, সেখানে এক একরোখা মেয়ে রাতে খোলা আকাশের নিচে শুয়ে তারা গুনতেন। বাবা জিজ্ঞেস করতেন, "কী দেখিস মা?" মেয়েটি বলত, "ঐ আকাশের সীমানাটা কোথায়, সেটা দেখতে চাই।"
তিনি কল্পনা চাওলা। যিনি প্রমাণ করেছিলেন, স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে ডানা ছাড়াও ওড়া সম্ভব।
২০০৩ সালের ১৬ই জানুয়ারি। কল্পনা যখন Space Shuttle Columbia (STS-107) মহাকাশযানে চেপে ১৬ দিনের মিশনে পাড়ি জমাচ্ছিলেন, তাঁর চোখে ছিল এক অদ্ভুত তৃপ্তি। তিনি জানতেন না, মহাকাশ তাকে এতোটাই ভালোবাসবে যে তাকে আর পৃথিবীর বুকে ফিরতে দেবে না।
💔 ফিরে আসার সেই অভিশপ্ত ১৬ মিনিট!
১লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৩। মিশন শেষ করে পৃথিবীতে ফেরার পথে ‘কলম্বিয়া’ যখন বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে, তখন গ্রাউন্ড কন্ট্রোল থেকে আর কোনো সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছিল না। পৃথিবী থেকে মাত্র ১৬ মিনিট দূরে ছিলেন তাঁরা।
কিন্তু এই বিপর্যয়ের বীজ বোনা হয়েছিল আরও আগে—
উৎক্ষেপণের দিনেই শাটলের বাইরের ট্যাংক থেকে একটি ফোমের টুকরো ছিটকে গিয়ে বাম ডানায় আঘাত করে। সেই ছোট্ট আঘাতেই তাপ-প্রতিরোধী আবরণে তৈরি হয় অদৃশ্য এক ক্ষত।
মহাকাশে থাকার সময় সেটি তেমন গুরুত্ব পায়নি।
কিন্তু ফেরার সময়, যখন শাটলটি আগুনের মতো উত্তপ্ত বায়ুমণ্ডলে ঢুকছিল, সেই ছোট ছিদ্র দিয়েই প্রবল তাপ ঢুকে পড়ে ডানার ভেতরে।
ধীরে ধীরে ভেতরটা গলে যেতে থাকে…
আর তারপর—
নীল আকাশে সাদা ধোঁয়ার রেখা টেনে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় পুরো মহাকাশযানটি।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে কোটি মানুষের স্বপ্ন আর ৭ জন বীরের প্রাণ মিশে যায় শূন্যতায়।
এই ভয়াবহ ঘটনাটি ইতিহাসে পরিচিত
👉 Space Shuttle Columbia disaster নামে।
কল্পনা বলতেন, "আমি মহাকাশের জন্যই তৈরি হয়েছি।" হয়তো প্রকৃতি তাঁর সেই কথাটিই শুনে ফেলেছিল। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যখন তাঁর মহাকাশযানটি আগুনের গোল্লা হয়ে ভেঙে যাচ্ছিল, তখন কল্পনা হয়তো শেষবারের মতো তাঁর প্রিয় পৃথিবীকে নীল গোলকের মতো দেখেছিলেন।
এই দুর্ঘটনার পর NASA প্রায় ৮০,০০০-এরও বেশি ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করে, যা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিল।
প্রতিটি টুকরো যেন বলছিল—
বিজ্ঞান শুধু সাফল্যের গল্প নয়…
এটা শেখার গল্প, ভুল থেকে উঠে দাঁড়ানোর গল্প।
আজ যখনই আমরা রাতের আকাশের দিকে তাকাই, মনে হয় ঐ হাজারো তারার মাঝে উজ্জ্বলতম হয়ে আমাদের দিকে চেয়ে আছেন সেই অদম্য সাহসী মেয়েটি।
কল্পনা, আপনি আজ কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নন; আপনি হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণের কাছে এক ধ্রুবতারা। আপনি শিখিয়ে গেছেন, জন্ম যেখানেই হোক, লক্ষ্যটা হওয়া উচিত নক্ষত্রলোক। 🌌✨
ভালো থেকো আকাশের মেয়ে। ওপারে আবারও দেখা হবে নক্ষত্রদের মেলায়। 🇮🇳👩🚀🙏
রিযিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ২০টি গুনাহ!
১. সুদ (Riba):
যে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আল্লাহ নিজেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, সেখানে কখনো বারকাহ আসতে পারে না।
📖 রেফারেন্স: সূরা আল-বাকারা ২৭৯ — “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা।”
২. অকৃতজ্ঞতা:
যে রিযিককে তুমি তুচ্ছ করো, সেটাই ধীরে ধীরে তোমার হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
📖 রেফারেন্স: সূরা ইবরাহীম ৭ — “কৃতজ্ঞ হলে বাড়িয়ে দেব, অকৃতজ্ঞ হলে শাস্তি কঠিন।”
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা:
রিযিকের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক সরাসরি যুক্ত। সম্পর্ক কেটে দিলে রিযিকের দরজা বন্ধ হয়।
📖 হাদিস: “যে রিযিক বাড়াতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।”
— বুখারি ২৯৮৬
৪. অসততা:
ব্যবসায় মিথ্যা বললে সাময়িক লাভ হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রিযিক নষ্ট হয়।
৫. প্রতারণা:
কারও হক মেরে খেলে প্রতিটি হা/রাম টাকা জীবনে অভাব ডেকে আনে।
📖 হাদিস: “যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের মধ্যে নয়।” — মুসলিম ১০২
৬. সালাত অবহেলা:
আজান–সালাত গুরুত্বহীন মনে করলে রিযিকের বারকাহ কমে যায়।
📖 হাদিস: “রিযিক সালাতে আছে।”
— সহিহ অর্থে বহু বর্ণনায় প্রমাণিত
৭. গীবত:
অন্যের পিঠ পেছনে খারাপ বলা তোমার নিজ জীবনের বারকাহ খেয়ে ফেলে।
📖 সূরা হুজুরাত ১২
৮. অহংকার:
রিযিক উপহার, প্রমাণ নয় যে তুমি শ্রেষ্ঠ।
অহংকার আসমানের দরজা বন্ধ করে দেয়।
📖 হাদিস: “যার অন্তরে অহংকারের অণু পরিমাণ থাকে, সে জান্নাতে যাবে না।”
— মুসলিম ৯১
৯. যাকাত আটকে রাখা:
যাকাত না দিলে সম্পদ অপবিত্র হয়ে যায় এবং ধ্বং/স হতে থাকে।
📖 সূরা তাওবা ৩৪-৩৫
১০. কর্মচারীদের ওপর জুলুম:
যাদের তোমার ওপর কিছুটা অধিকার আছে, তাদের হক না দিলে রিযিক শুকিয়ে যায়।
📖 হাদিস: “মজদুরের মজুরি ঘাম শুকানোর আগেই পরিশোধ করো।”
— ইবন মাজাহ ২৪৪৩
১১. বেচাকেনায় প্রতারণা বা জিনিসের দোষ লুকানো:
এতে সম্পদের বারকাহ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়।
১২. লোভ:
যে শুধু আরও আরও চায় কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ বলে না—সে শেষ পর্যন্ত কম পায়।
📖 হাদিস: “মানুষের মন যদি দুই পাহাড় ভরা সম্পদ পায়, তবুও সে তৃতীয়টি চাইবে।”
— বুখারি ৬৪৩৯
১৩. বাবা–মাকে অবহেলা:
তোমার রিযিক তাদের দোয়া বা অভিশাপের সাথে জড়িত।
📖 হাদিস: “রিযিক ও আয়ু বাড়ে বাবা-মাকে সন্তুষ্ট রাখলে।”
— মুসলিম (হাসান সনদে বহু রেওয়ায়েতে প্রমাণিত)
১৪. জুলুম করে সম্পদ অর্জন:
জুলুমের সম্পদে কোনো বারকাহ নেই, বরং ধ্বং/স ডেকে আনে।
১৫. সদকা অবহেলা:
সদকা কখনো সম্পদ কমায় না, বরং বাড়ায়।
📖 হাদিস: “সদকা সম্পদ কমায় না।”
— মুসলিম ২৫৮৮
১৬. হিংসা:
অন্যের রিযিক দেখে মন খারাপ করা নিজের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।
১৭. নারীদের ও বাচ্চাদের প্রতি জুলুম:
যাদের যত্নের অধিকার সবচেয়ে বেশি, তাদের প্রতি অন্যায় করলে রিযিক উঠে যায়।
১৮. মিথ্যা কসম খাওয়া:
টাকা বা ব্যবসার জন্য মিথ্যা শপথ বারকাহ পুড়িয়ে ফেলে।
📖 বুখারি ২০৮৭
১৯. অলসতা:
রিযিক চেষ্টা করা মানুষের কাছে আসে।
যারা চেষ্টা করে না, ভাগ্যও দরজা খোলে না।
২০. তাকদির নিয়ে অসন্তুষ্টি:
আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ করা ভবিষ্যতের রিযিকের দরজা বন্ধ করে দেয়।
📖 হাদিস: “আল্লাহ্র সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকলে সে হৃদয়কে পরিপূর্ণ করেন।”
— তিরমিজি ২৫১০
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Dhaka
Opening Hours
| Monday | 08:00 - 20:00 |
| Tuesday | 08:00 - 20:00 |
| Wednesday | 08:00 - 20:00 |
| Thursday | 08:00 - 20:00 |
| Saturday | 08:00 - 20:00 |
| Sunday | 08:00 - 20:00 |