Bangladesh Agrotech Acdemy

Bangladesh Agrotech Acdemy

Share

All Agriculture Information

11/05/2023

Its beauty of village

06/12/2021

বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসের অনুষ্ঠানের তথ্য

বছরে প্রতি হেক্টর জমির ১২০ কেজি পটাশিয়াম নষ্ট হচ্ছে

জমির উর্বরা শক্তিকে ধরে রাখতে জিংক বা দস্তার পাশাপাশি নাইট্রোজেন, জৈব উপাদান, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার, বোরন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম থাকতে হবে প্রয়োজনীয় মাত্রায়। কিন্তু দেশের সিংহভাগ জমিতে নেই জৈব এসব উপাদান। আবাদে অব্যবস্থাপনা ও কৃষকের অসচেতনতায় বছরে প্রতি হেক্টর জমি থেকে নষ্ট হচ্ছে ১২০ কেজি পটাশিয়াম। ফলে দেশের আবাদি জমির বড় একটি অংশ এখন পটাশিয়ামের ঘাটতিতে রয়েছে।

গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেমিনার, শোকেসিং, সয়েল কেয়ার অ্যাওয়ার্ড ও মৃত্তিকা দিবস পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আবদুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন, ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম।

দেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপকূলের লবণাক্ত, হাওর, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ প্রতিকূল পরিবেশে ও জমিতে ফসল উৎপাদনে সরকার এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের আমলে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জিত হয়েছে। সরকার এখন সব মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলস কাজ করছে। কিন্তু ক্রমহ্রাসমান চাষযোগ্য জমি, বিপরীতে ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠী ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই বা ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, দেশে লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ত জমির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায়, খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা স্থিতিশীল ও টেকসই রাখতে হলে উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে চাষযোগ্য জাত এবং উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ছড়িয়ে দিতে হবে। সেজন্য আমরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা অনেক ফসলের লবণাক্ততাসহিষ্ণু উন্নত জাত উদ্ভাবনে করতে সক্ষম হয়েছে। এসব জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি চাষীদের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য কাজ চলছে।

জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেন, লবণাক্ততাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের নানা সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য এর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ে মানুষের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। দেশের লবণাক্ত এলাকায় কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই কৃষি অনুশীলন এবং প্রযুক্তিগত ইনোভেশন আনতে হবে। এ লক্ষ্যে মাটির অবক্ষয় রোধে বিনিয়োগ ও গবেষণা বাড়াতে হবে।

এসআরডিআইয়ের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো. বখতিয়ার, এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন। অনুষ্ঠানে এসআরডিআই প্রকাশিত ‘সয়েল অ্যাটলাস অব বাংলাদেশ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এবারের বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘লবণাক্ততা রোধ করি, মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করি’।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ২৫ শতাংশ এলাকা হচ্ছে উপকূলীয়। উপকূলীয় ১৮টি জেলার ৯৩টিরও বেশি উপজেলার ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ততায় আক্রান্ত। লবণাক্ততার কারণে এ এলাকার ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধির প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত।

10/11/2021

বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র কৃষি যন্ত্রের বাজার
কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো দেশে কৃষি যন্ত্রের বড় বাজার তৈরি হয়নি, তবে সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সারাদেশেই এসব যন্ত্রের বড় একটি বাজার তৈরি হবে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কিছু কোম্পানি বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

কৃষির আধুনিকায়নের জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে সারাদেশে ৫২ হাজার কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করবে সরকার। এই বড় বাজারের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয়ভাবে ভারী কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির পরিকল্পনা করছে।
বর্তমানে এসিআই মটরস, মুন্নু এগ্রোসহ হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি ভারী কৃষিযন্ত্র আমদানি করে। তবে সারাদেশে শতাধিক প্রতিষ্ঠান ছোট ছোট কৃষিযন্ত্র তৈরি করছে। সরকার ভারী কৃষিযন্ত্র যেমন কম্বাইন্ড হার্ভেষ্টর, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মত যন্ত্রে অঞ্চলভেদে ৫০-৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে। এজন্য ৩০২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ বছর মেয়াদী কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ২০২০-২১ সাল থেকে।

কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখনো দেশে কৃষি যন্ত্রের বড় বাজার তৈরি হয়নি, তবে সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সারাদেশেই এসব যন্ত্রের বড় একটি বাজার তৈরি হবে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কিছু কোম্পানি বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
এসিআই এগ্রি বিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এফ এইচ আনসারি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'কৃষি যন্ত্রপাতিতে বাংলাদেশে ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজার আছে। কিন্তু বর্তমানে যে পরিমাণ কৃষিযন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে তার বাজার মাত্র ৩ হাজার কোটি টাকার।'
তিনি বলেন, 'কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাজার বড় হবে এবং এটি বিনিয়োগের খাত হিসেবে বিবেচিত হবে।'
কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, 'পর্যায়ক্রমে স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরি করতে চাই। বর্তমানে বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তা আমরা কমিয়ে আনতে চাই। ইতোমধ্যে আমরা ইয়ানমার, টাটাসহ অনেক কোম্পানির সাথে কথা বলেছি, তাদেরকে অনুরোধ করেছি যাতে তারা বাংলাদেশে কৃষিযন্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করে।'
এগ্রিকালচার মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, এসিআই মটরস ও আলিম ইন্ডাস্ট্রিজ ভারী কৃষিযন্ত্র আমদানি করছে। এর মধ্যে এসিআই জাপানের ইয়ানমার কোম্পানি থেকে কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানি করে। তবে জাপানি এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে দেশে ভারী যন্ত্রপাতি তৈরির পরিকল্পনা করছে এসিআই।
এসিআই সূত্রে জানা যায়, ইয়ানমারে সঙ্গে চুক্তির জন্য এসিআই আলোচনা করছে। কারণ বিশ্বব্যপী ইয়ানমার যে ধরনের কৃষিযন্ত্র সরবরাহ করে তা বাংলাদেশের ভুমির প্যাটার্নের কারণে সবগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার উপযোগী নয়। কিছুটা পরিবর্তন এনে এ যন্ত্রগুলো তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে যন্ত্রপাতি তৈরির মত যথেষ্ট প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবলও বাংলাদেশে নেই।
যন্ত্র তৈরিতে এই কারগরি সহযোগিতাগুলো ইয়ানমারের কাছ থেকে এসিআই নিতে চায়। বাংলাদেশে শ্রমিকের খরচ কম হওয়ায় ইয়ানমার এদেশে কারখানা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা এখানে উৎপাদিত কৃষিযন্ত্র বাংলাদেশে চাহিদা মিটিয়ে এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতে সরবরাহ করতে চায় বলে একটি সূত্রে জানা যায়।

তবে কত টাকা বিনিয়োগ করা হবে, কীভাবে জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি তৈরি করা হবে সেগুলো নিয়ে আলোচনা চললেও চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে এসিআই ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় কারখানা তৈরির জমি খুঁজছে বলেও জানা গেছে।
এসিআই মানিকগঞ্জে হালকা কৃষি যন্ত্র তৈরির জন্য একটি অটোমেটেড কারখানা তৈরি করেছে। ডাচ সরকারের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, এফএমও, সিঙ্গাপুর ভিত্তিক এসডিআই প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
এদিকে কৃষিযন্ত্রপাতির সেক্টরে ভালো সম্ভাবনা থাকায় মুন্নু এগ্রো চলতি বছর তাদের একটি পুরনো একটি টুলস ফ্যাক্টরীতে এবছরই ছোট পরিসরে কৃষিযন্ত্র তৈরি করছে। শস্য মাড়াই যন্ত্র, রিপার ও বীজ বপনের জন্য কৃষি যন্ত্র তৈরি করছে। এই যন্ত্রগুলো তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) এর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি একটি অত্যাধুনিক কারখানা গড়ে তুলতে চায়। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক অবস্থায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চায়।
মুন্নু এগ্রোর কোম্পানি সচিব বিনয় পাল বলেন, 'আমরা কৃষি যন্ত্রের বাজারে ভালো সাড়া পাচ্ছি। যে কারণে টুলসের ব্যবসা ছোট করে এনে কৃষিযন্ত্র তৈরিতে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছি। বড় বিনিয়োগের অর্থায়নের জন্য আমরা ঋণের চেষ্টা করছি।'
এগ্রিকালচার মেশিনারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আলিম ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলিমুল এহসান চৌধুরী টিবিএসকে বলেন, 'ছোট কৃষি যন্ত্র তৈরি করছে এমন কোম্পানি রয়েছে কয়েকশো। সরকারের উচিত এদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা। যাতে এর মধ্য থেকেও কিছু কোম্পানি বড় কৃষিযন্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করে।'
বর্তমানে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার
চাষের জন্য জমি কর্ষণে প্রায় ৯৫ শতাংশ জমি পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু সেভাবে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়েনি ফসল লাগানো, কাটা বা মাড়াইয়ে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক তথ্যে দেখা গেছে, সারাদেশে ফসল লাগানোর জন্য মাত্র ১ শতাংশ জমিতে কৃষি যন্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে। আর ফসল কাটা এবং মাড়াই করার জন্য ৩ শতাংশের কিছু বেশি জমিতে যন্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে।
এফ এইচ আনসারি বলেন, 'কৃষি যন্ত্রের মধ্যে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারেরই চাহিদা বেশি। এসব যন্ত্র বছরে প্রায় ১০ হাজার বিক্রি হয়।'
কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি যন্ত্রের আমদানিকারক ও স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে কৃষি যন্ত্রপাতির বার্ষিক বাজার ৩ হাজার কোটি টাকা। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারও এখনো আমদানি নির্ভর। তবে স্থানীয় উৎপাদকারীরা যেসব ছোট যন্ত্র তৈরি করছে তার বাজার মাত্র ৩০০-৩৫০ কোটি টাকার।
২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের অধীনে ২০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সারা দেশে ১৭৬২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টর, ৩৭৯টি রিপার, ৩৪টি রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ প্রায় ২ হাজার ৩০০টি বিভিন্ন ধরনের কৃষিযন্ত্র কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬৮০ কোটি টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে সরকারি পর্যায়ে জোরেশোরে যান্ত্রীকীকরণের জন্য গুরুত্ব বাড়ানো হয় ২০১০ সালে। এ সময় ১৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, যার আওতায় যন্ত্র ক্রয়ে কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান করা হয়, যখন কিনা ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের চাহিদা তৈরি হতে থাকে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে 'এনহান্সমেন্ট অব ক্রপ প্রোডাকশন থ্রু ফার্ম মেকানাইজেশন প্রজেক্ট- ফেইজ টু' নামে ৩৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরে আরও একটি প্রকল্প শুরু করে বাস্তবায়ন করে সরকার।
এরপরও ভারী যন্ত্রের ব্যবহার খুব একটা না বাড়ার কারণ হিসেবে প্রকল্পটির সাবেক পরিচালক শেখ মো. নাজিম উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, 'মেশিনগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ লোকের ঘাটতি রয়েছে, একই সঙ্গে ঘাটতি রয়েছে মেশিনারিজ সার্ভিসিং এর জন্য যে ব্যকওয়ার্ড লিংকেজ দরকার তা এখনো ঠিকভাবে গড়ে উঠেনি।'
সব ধরনের ফসল চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ লাগানো বা বোনা, পাকা ফসল মাড়াই-ঝাড়াইয়ের নানা ধাপে কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে দেশে তৈরি যন্ত্র যেমন আছে তেমনি আমদানি করা ভারী যন্ত্রপাতিও রয়েছে।
পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের বাইরে ভারি যন্ত্র বলতে মাড়াইয়ের কাজে বিভিন্ন ধরনের থ্রেশারের ব্যবহার বাড়ছে। সারাদেশে প্রায় দেড় হাজারের মত থ্রেশার ব্যবহার হচ্ছে।
ধান কাটার যন্ত্র রিপার নামে পরিচিত। বর্তমানে রিপার ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ২২০০টির মত। ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়া ও বস্তাবন্দি করার জন্য ব্যবহার করা হয় কম্বাইন্ড হার্ভেস্টর। যার ব্যবহার মূলত শুরু হয় ২০১৬-১৭ তে। শুরুর এই বছরে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টর বিক্রি হয়েছিল ৭৮টি। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় তিন হাজারের মত কম্বাইন্ড হার্ভেস্টর ব্যবহার হচ্ছে।
ধান রোপনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার। যার পরিচিতিমূলক ব্যবহার শুরু হয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। তবে এই যন্ত্রটির ব্যবহার দ্রুত বাড়েনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসেবে দেখা গেছে মাত্র ১১৪টি রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার বিক্রি হয়েছে সারাদেশে। পরবর্তীতে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৪টি রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
দেশে যন্ত্রপাতির বড় অংশ আসে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, কম্বোডিয়া থেকে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, বর্তমানে কৃষি খাতের সব ধরনের যন্ত্রপাতির ব্যবহার সম্মিলিতভাবে হিসাব করা হলে হেক্টরপ্রতি ২ কিলোওয়াট শক্তি ব্যবহার হয়, যেখানে উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে ৪ থেকে ৬ কিলোওয়াট।

08/11/2021

বাড়ছে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা ক্লাবের সদস্য

সরকারের অনুকূল নীতি, উদ্যোক্তাদের দূরদৃষ্টি এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাই-টেক ও বিদ্যুৎ খাতও বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি কোম্পানি নাম লিখিয়েছে বার্ষিক ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনের ক্লাবে।

মোবাইল অপারেটর হিসেবে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের বাজারে ব্যবসা শুরু করে গ্রামীণফোন। যাত্রা শুরুর কয়েকবছরের মধ্যেই এ খাতের শীর্ষস্থানে পৌঁছে যায় প্রতিষ্ঠানটি। মাত্র ১২ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে ব্যবসা করা প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বছরে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নাম লেখায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ নরওয়ের এ কোম্পানিটি।

গ্রামীনফোনের এই সাফল্যের পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল তৎকালীন সরকারের নীতি। সে সময়ে সরকার টেলিকম খাতকে বেসরকারি খাতে প্রতিযোগিতার জন্য উন্মুক্ত করেছিল। যার ফলে দেশব্যাপী সেলফোনের রমরমা বাজার তৈরি হয় এবং বর্তমান সময়ের ইন্টারনেট বিপ্লব হয়ে উঠে সহজ।

এরপর দ্রুতই এই টেলিকম জায়ান্টের পাশাপাশি ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্যাংকিং, প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং তামাকসহ বিভিন্ন খাতের কমপক্ষে এক ডজন তালিকাভুক্ত কোম্পানি যোগ দেয় ৫০০ কোটি টাকার বার্ষিক মুনাফার ক্লাবে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই বার্ষিক মুনাফা এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

তবে এই যাত্রা সবার জন্য একরকম ছিল না।

তামাকজাত পণ্যের ব্যবসা করা বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (ব্যাট) এর জন্য এই যাত্রা ছিল দীর্ঘ ৬৫ বছরের। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো ব্যাটের বার্ষিক মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০০ কোটি টাকা। ভোক্তা পর্যায়ে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং অন্য প্রতিযোগীদের কাছ থেকে ধীরে ধীরে বাজার দখলের মাধ্যমে এ পর্যায়ে পৌঁছাতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

সরকারের অনুকূল নীতি, উদ্যোক্তাদের দূরদৃষ্টি এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিং এবং বিদ্যুৎ খাতও বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ ৫০০ কোটি টাকা মুনাফার ক্লাবের সদস্য দাঁড়াতে পারে ১০০তে। তবে, ফাস্ট-মুভিং কনজিউমার গুডস (এফএমসিজি) ও টেক্সটাইল খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানই তালিকাভুক্ত না হওয়ার এ হিসাবের বাইরে তারা রয়ে গেছে।

স্বাধীনতার পরপরই যাত্রা শুরু করে দেশীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড। অনেকগুলো সহযোগী একীভূত হওয়ার পাশাপাশি উচ্চ মুনাফার ফলে ২০১০ সালে বেক্সিমকো বার্ষিক ৫০০ কোটি টাকা মুনাফার মাইলফলকে পৌঁছেছিল।

সে বছর এই পরিমাণ মুনাফা অর্জনের পর, প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর আবারও ৫০০ কোটি টাকার মুনাফার তালিকায় ফিরে এসেছে। করোনা মহামারির ফলে বেক্সিমকোর উৎপাদিত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) রপ্তানির পাশাপাশি টেক্সটাইল এবং আইটি পণ্যসহ এর অন্যান্য ব্যবসায়িক আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসও এ বছর ৫০০ কোটি টাকার মুনাফা ক্লাবে প্রবেশ করেছে।

চার দশক আগে সরকারের যথাযথ নীতি দেশকে ওষুধ শিল্পে স্ব-নির্ভর হতে সাহায্য করেছে। যার ফলে দেশের শীর্ষ কোম্পানিগুলো এখন ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে ওষুধ রপ্তানি করছে।

১৯৬৪ সালে ছোট্ট পরিসরে ব্যবসায় শুরু করা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এখন দেশের ওষুধ শিল্পের শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি ২০১৫ সাল থেকেই ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা ক্লাবের সদস্য। এ বছর স্কয়ারের বার্ষিক মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়ে এক হাজার ৫৯৪ কোটি টাকায়।
ফাইজার ফার্মাসিউটিক্যালস বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করে ১৯৭২ সালে। ১৯৯৩ সালে কোম্পানিটির মালিকানা গ্রহণ করে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। তখন প্রতিষ্ঠানটির নাম বদলে রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস রাখা হয়। ২০০০'র দশকের শুরুতে বার্ষিক প্রায় ১০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করত রেনাটা। চলতি বছর কোম্পানিটি বার্ষিক ৫০০ কোটি টাকা মুনাফার ক্লাবে প্রবেশ করেছে।

মুনাফার এই মাইলফলকে পৌঁছানো সব কোম্পানিই এই পর্যায়ে আসতে কয়েক দশক সময় নিয়েছে এবং আরও বেশি শক্তিশালী হওয়ার জন্য ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

গত এক দশকে দ্রুততম বৃদ্ধি

গত দশকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিং খাতও দ্রুত বিকশিত হয়েছে। কারণ অর্থনীতি এবং জনগণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার এই খাতগুলোকে নানা ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে।

উদাহরণ হিসেবে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কথা বলা যেতে পারে। কোম্পানিটি ২০০৭ সালে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেডের কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ শুরু করেছিল; এটি এখন দেশের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ অর্জনকারী স্থানীয় তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

ইউনাইটেড পাওয়ার তার দুটি নিজস্ব ব্যবসায়িক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বেশ কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণের মাধ্যমে ২০১৯ সালে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফার মাইলফলকে পৌঁছায়। এই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বার্ষিক আয় এক হাজার কোটি টাকার উপরে।

সরকার বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদন নীতি গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গেই ১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করে সামিট পাওয়ার। সরকারের সঙ্গে একাধারে অনেকগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান বর্তমানে দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।

বিনিয়োগকৃত মূলধনের উপর প্রয়োজনীয় রিটার্ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলিকে একীভূত করে, সামিট পাওয়ার ২০১৯ সালে ৫০০ কোটি টাকার মুনাফা ক্লাবে প্রবেশ করেছে এবং চলতি বছরে প্রতিষ্ঠানটির লাভের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

ইলেকট্রনিক্স এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশীয় এই কোম্পানিটি যাত্রা শুরুর মাত্র ৭ বছরের মাথায় প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। আর এখন এর বার্ষিক মুনাফার পরিমাণ এক হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি।

২০০৮ সালে মাত্র ১০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। সরকারের সহায়ক নীতির ফলে প্রতিষ্ঠার পর দ্রুতই রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্যের স্থানীয় বাজারে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয় ওয়ালটন।

ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় ওয়ালটনের জনপ্রিয়তা বেশি। স্থানীয় বাজারে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে পরাজিত করা ওয়ালটন এখন ইলেকট্রনিক্সের শীর্ষস্থানীয় গ্লোবাল প্লেয়ার হওয়ার লক্ষ্যের দিকে আগাচ্ছে।

এক লক্ষ রেফ্রিজারেটর রপ্তানি, কম্প্রেসরসহ আরও নানা ধরনের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম রপ্তানির নতুন নতুন চুক্তিতে পৌঁছেছে ওয়ালটন। কোম্পানিটির সাম্প্রতিক এই অগ্রগতিতে বলা যায়, উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি ঠিক পথেই এগোচ্ছে।

জাতীয় অর্থনীতির আকার যত দ্রুত বাড়ছে বিনিয়োগ, বাণিজ্য অর্থায়ন, সঞ্চয় এবং ঋণ - সবকিছুই দ্রুতগতিতে বাড়ছে এবং দেশের ব্যাংকগুলোও বড় মুনাফাদাতা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

তবে, এক দশক ধরে খেলাপি ঋণ ও বিনিয়োগ ঝুঁকির বিরুদ্ধে সরকার যে বিধি নিষেধ নির্ধারণ করেছে, তা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সাহায্য করেনি।

২০১১ সালে প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল ব্যাংক ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক মুনাফা অর্জন করে। তবে, ব্যাংকিং খাতের অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠনের চেয়ে ন্যাশনাল ব্যাংক সর্বোচ্চ পরিশোধিত মূলধন গড়ে তুললেও পরবর্তী বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি তার অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি।

দেশের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৮ সালে এই ক্লাবে প্রবেশ করলেও পরের বছরগুলোতে আবারও নিচে নেমে যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় ব্যাংকই ৫০০ কোটি টাকা মুনাফার মাইলফলকের কাছাকাছি রয়েছে।

স্থানীয় এবং ডাচ উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক যৌথ-উদ্যোগের ফল হিসেবে ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক মুনাফা করেছিল।

অন্যান্য খাতের পাশাপাশি দেশে নির্মাণ খাতও বিকশিত হচ্ছে। সেই ফলশ্রুতিতে শীর্ষস্থানীয় ইস্পাত নির্মাতা বিএসআরএম লিমিটেডও অভিজাত এই ক্লাবের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে। ১৯৬০ সালে যাত্রা শুরু করা তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিটির এ বছরের মুনাফার দাঁড়িয়েছে ৪৯৭ কোটি টাকায়।

৫০০ কোটি টাকা মুনাফার ক্লাবে প্রবেশের পথে ১০০ টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান

সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের প্রাক্তন সভাপতি শহিদুল ইসলাম মনে করেন, বছরে ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করছে এমন বাংলাদশি কোম্পানির সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি। কারণ খুব অল্প সংখ্যক বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে, যারা তাদের প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে।

উদাহরণ স্বরূপ ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এই খাতের শীর্ষ দশটি সংস্থার দুই-তৃতীয়াংশই ব্যক্তিগত এবং বেশিরভাগ এফএমসিজি জায়ান্ট এখনও স্টক মার্কেটের বাইরে রয়েছে। এছাড়া, বড় বড় টেক্সটাইল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও তালিকাভুক্তি ছাড়াই কাজ করছে।

ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামও এই দশক শেষ হওয়ার আগেই ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনকারী তালিকাভুক্ত সংস্থার সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। কারণ অনেক তালিকাভুক্ত সংস্থা তাদের বিদ্যমান ভিত্তি থেকে মুনাফার পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, "একটি কোম্পানি তার প্রথম বার্ষিক মুনাফায় ৫০০ কোটি টাকা আয় করতে যে সময় নেয়, তা প্রতি বছর অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরবর্তী ৫০০ কোটি টাকা আয়ের সময় এক দশকেরও কম সময়ে নেমে আসবে।"

তিনি আরও মনে করেন, কিছু সময়ের মধ্যেই ব্যাংকিং খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ৫০০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনের তালিকায় জায়গা করে নেবে।

তিনি বলেন, "আগামীকাল হয়তো আমরা এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে কথা বলব।"

14/10/2021

ব্যবসা বহুমুখীকরণে আরও শক্তিশালী হয়েছে তারা
পোশাক শিল্প থেকে প্রায় ১০০টি কোম্পানি অন্য খাতে ব্যবসা বাড়িয়ে ব্যবসা বহুমুখীকরণ করেছে। তাদের কেউ কেউ ঈর্ষণীয় সাফল্যও অর্জন করেছে।
পোশাক শিল্প থেকে কোম্পানি অন্য খাতে ব্যবসা বাড়িয়ে ব্যবসা বহুমুখীকরণ
দীর্ঘদিন ধরে একই খাতে ব্যবসা করে আসা ব্যবসায়ীদের সামনে এখন একটাই সমীকরণ—ব্যবসা বহুমুখীকরণ করা অথবা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া। এই সমীকরণ সামনে রেখে, ব্যবসায়িক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা গত চার দশকে আবাসন, হাসপাতাল, সিরামিক টাইলস, এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতেও ব্যবসা বহুমুখীকরণ করেছেন।
এ ধরনের কৌশলগত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত সময়ের সাথে তাদের বড় ও শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছে।
রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় নেমেছে এনভয় গ্রুপ। এ ব্যবসায় আসার কারণ জানিয়ে গ্রুপটির চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেছেন: 'আরএমজির বাইরে নতুন ব্যবসায় আসার কারণ হলো, একটা ব্যবসা ঝামেলায় পড়লে অন্য ব্যবসা থেকে যেন সাপোর্ট পাই।'
পোশাক নির্মাতা ডিবিএল গ্রুপ এসেছে ওষুধ ব্যবসায়। গ্রুপটির ভাইস চেয়ারম্যান এমএ রহিম ফিরোজের মতে, ব্যবসার সম্প্রসারণ ধরে রাখার একটি মাধ্যম হলো বৈচিত্র্য।
মোহাম্মদী গ্রুপ বলছে, সময়ের প্রয়োজনেই তারা তথ্যপ্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে পা রেখেছে।
তবে শান্তা গ্রুপের ব্যাপারটা আলাদা। পোশাক ব্যবসা যথেষ্ট হয়েছে ভেবে গ্রুপটি এই খাত থেকে সরে গেছে। শান্তা গ্রুপ এখন মনে করছে যে, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আরও অনেক কাজ করার আছে।
এই লেখা তৈরি পোশাকের এমন কিছু বড় নামের গল্প নিয়ে যারা অন্যান্য ব্যবসাতেও নিজেদের ছাপ ফেলেছে।
পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের তথ্য অনুসারে, এই খাত থেকে প্রায় ১০০টি কোম্পানি অন্য খাতে ব্যবসা বাড়িয়ে ব্যবসা বহুমুখীকরণ করেছে। তাদের কেউ কেউ ঈর্ষণীয় সাফল্যও অর্জন করেছে।
এনভয় গ্রুপ
দেশের বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারকগুলোর একটি এনভয় গ্রুপ। ১৯৮৪ সালে ছোট একটা কারখানা নিয়ে যাত্রা শুরু করে গ্রুপটি। সে সময় ওই কারখানা থেকে মাসে ৭ লাখ টাকার ব্যবসা হতো।
এখন এনভয় গ্রুপের কারখানার সংখ্যা ১৫টি। কোম্পানিটি এখন দেশের অন্যতম বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক।
গত তিন দশকে প্রধানত তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল উৎপাদন এবং সম্প্রতি টেক্সটাইল বিভাগের মাধ্যমে নাটকীয়ভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে এনভয় গ্রুপ।
এনভয় টেক্সটাইলস বিশ্বের প্রথম প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত ডেনিম টেক্সটাইল মিল।
গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল ছাড়াও গ্রুপটি ওয়াশিং প্লান্ট, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকিং অটোমেশন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ট্রেডিং, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত এবং ভোগ্যপণ্যসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ করে ব্যবসায় বৈচিত্র্য এনেছে।
বর্তমানে এনভয় গ্রুপের প্রায় ৪০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রায় ২১ হাজার কর্মী নিয়ে গ্রুপটির বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার।
এনভয় গ্রুপ ও শেলটেক গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'আরএমজির বাইরে আমাদের নতুন ব্যবসা শুরু করার কারণ হলো, একটা ব্যবসা ঝামেলায় পড়লে অন্য ব্যবসা থেকে যেন সাপোর্ট পাই।'
এনভয়ের পোশাক উৎপাদন ইউনিট চালুর চার বছর পর, ১৯৮৮ সালে ঢাকা শহরের বাসিন্দাদের জন্য মানসম্মত বাড়ি তৈরির লক্ষ্যে গ্রুপটি শেলটেক (প্রাইভেট) লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর গত ৩৩ বছরে শেলটেক রাজধানীতে ৩ হাজার ৮০০টি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ইউনিট নির্মাণ করেছে।
শেলটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এনভয় গ্রুপের পরিচালক তানভীর আহমেদ বলেন, 'শেলটেক এখন একটা স্বতন্ত্র গ্রুপ। গ্রুপটির ১৭টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক বিক্রি প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।'
তিনি আরও বলেন, শেলটেক গ্রুপ মূলত সেবা খাতে মনোনিবেশ করেছে। গ্রুপটিতে প্রায় ২ হাজার কর্মী রয়েছে।
শেলটেক গ্রুপের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল নির্মাণ, সিরামিক টাইলস উৎপাদন, অ্যাব্রেসিভ পেপার উৎপাদন, নগর অঞ্চল পরিকল্পনা ও স্টক ব্রোকারেজ।
কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, শেলটেক এখন প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির সিরামিক ফ্লোর টাইলস এবং ওয়াল টাইলস শিল্পের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা।
বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিও শেলটেক অ্যান্ড এনভয় গ্রুপের সাথে যুক্ত। রপ্তানিমুখী বিশ্বমানের মাংস শিল্প বেঙ্গল মিট প্রসেসিং দেশেও মাংস সরবরাহ করে থাকে।
স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক, এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালক এবং সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, আমরা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বেসকারি স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্কয়ার হসপিটালস লিমিটেডের গর্বিত অংশীদার।
হা-মীম গ্রুপ
পোশাক প্রস্তুতকারক হা-মীম গ্রুপ ১৯৮০-র দশকের গোড়ার দিকে যাত্রা শুরু করে। কোম্পানির প্রধান এ কে আজাদ ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে ব্যবসা বহুমুখীকরণ শুরু করেন।
তিনি প্রিন্টিং, এমব্রয়ডারি, ওয়াশিং, লেবেল, পলি ও প্যাকেজিং, কার্টন, বেল্ট ও টেপ, শিপিং, টিভি চ্যানেল, সংবাদপত্র, চা বাগান ইত্যাদি খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন।
হা-মীম গ্রুপে ৬০ হাজারের বেশি কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। গ্রুপটির পত্রিকা দৈনিক সমকাল ও টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল২৪ দেশে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
তবে ব্যবসা বহুমুখীকরণের পরও পোশাক ও বস্ত্র খাতই এখনও হা-মীম গ্রুপের প্রধান ব্যবসা।
ডিবিএল গ্রুপ
দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড (ডিবিএল) দেশের অন্যতম বৃহৎ পোশাক রপ্তানিকারক। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পর কোম্পানিটি তাদের ব্যবসা টেক্সটাইল, টেক্সটাইল প্রিন্টিং, ওয়াশিং, গার্মেন্টস আনুষঙ্গিক, প্যাকেজিং, সিরামিক টাইলস, ফার্মাসিউটিক্যালস, ড্রেজিং, সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন (ভিএলএসআই), আইসিটি এবং টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য খাতে সম্প্রসারণ করে বৈচিত্র্য এনেছে।
দুই দশক আগে মাত্র ৩০০ কর্মী যাত্রা শুরু করা কোম্পানিটির বর্তমান কর্মীসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ডিবিএল গ্রুপের টার্নওভার ছিল প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার।
তবে তৈরি পোশাকই এখনও গ্রুপটির প্রধান ব্যবসা। হা-মীম গ্রুপের প্রায় ৩০ হাজার কর্মচারী পোশাক খাতে এবং বাকিরা টেক্সটাইলসহ অন্যান্য শিল্পে কর্মরত আছে।
বিখ্যাত জার্মান ব্র্যান্ড পুমার পণ্য বাংলাদেশে বাজারজাত করছে ডিবিএল গ্রুপ। বনানীর পর গত সপ্তাহে ধানমন্ডিতে পুমার দ্বিতীয় আউটলেট খোলা হয়েছে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিপিএলে একটি দলের স্পন্সরর ডিবিএল গ্রুপ।
গ্রুপটি ডিবিএল ফার্মাসিউটিক্যালস নামে ওষুধ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে, যা আগামী নভেম্বর থেকে বিপণন শুরু করবে। সিরামিক, টেলিকমিউনিকেশন, গার্মেন্টসের আনুষঙ্গিক উপকরণ এবং টেক্সটাইলে বিনিয়োগ করেও গ্রুপটি সফল হয়েছে।
ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রহিম ফিরোজ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'ব্যবসাগুলোকে টেকসই করার জন্যই বহুমুখীকরণ করা উচিত। পোশাক ব্যবসা তো আর সবসময়ই ভালো যাবে না। হাতে দ্বিতীয় বিকল্প রাখার প্রয়োজন আছে।'
টিম গ্রুপ
একটিমাত্র পোশাক কারখানা নিয়ে ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে টিম গ্রুপ। এখন গ্রুপটির ১২টি ইউনিটে ১৮ হাজারের বেশি কর্মচারী রয়েছে।
গ্রুপটি সোর্সিং, ওষুধ, আইটি, রিয়েল এস্টেট এবং স্থানীয় খুচরা ব্যবসায় বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা বহুমুখীকরণ করেছে।
দেশের সবচেয়ে বড় বায়িং হাউস টিম সোর্সিংয়ের শতভাগ মালিকানা টিম গ্রুপের। বায়িং হাউসটি ১০০-র বেশি পোশাক কারখানার সাথে ব্যবসা করে।
প্রতিষ্ঠার মাত্র চার বছরের মধ্যেই বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে টিম ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
টিম গ্রুপের আইটি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলিয়ার লিমিটেড ক্লাউড ইন্টিগ্রেশন, মাইগ্রেশন এবং ইআরপি পরিষেবাসহ সফ্টওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সলিউশন দিয়ে থাকে। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য নকশার জন্য টিম ডেভেলপারস লিমিটেড রিয়েল এস্টেট শিল্পে আলাদা স্থান করে নিয়েছে।
গ্রুপটি 'টুয়েলভ' নামে একটি স্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডও তৈরি করেছে। ২০১২ সালে যাত্রা শুরুর পর টুয়েলভ অল্পদিনের মধ্যে সারা বাংলাদেশে কার্যক্রম প্রসারিত করে।
সারা বাংলাদেশে ২৭টি স্থানে টুয়েলভের দোকান রয়েছে। ফিজিক্যাল দোকান ছাড়াও টুয়েলভ ই-কমার্স সাইট ও ফেসবুকভিত্তিক দোকানের মাধ্যমে সব বয়সের মানুষের কাছে পোশাক বিক্রি করে থাকে।
গত বছর টিম গ্রুপের টার্নওভার ছিল ৩৬০ মিলিয়ন ডলার। গ্রুপটি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারের টার্নওভারে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছে। ২০২২ সালের শেষ দিকে জিরো ডিসচার্জ ওয়াশিং প্ল্যান্টসহ একটি নতুন ডেনিম পোশাক কারখানাও চালু করবে গ্রুপটি।
টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হিল রাকিব বলেন, 'আমার ব্যবসার মডেল খুবই সহজ-সরল। আমি আমার কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিই এবং তাদের ক্ষমতায়ন করার চেষ্টা করি। একবার তাদের ক্ষমতায়ন হয়ে গেলে তারাই ব্যবসা পরিচালনায় নেতৃত্ব দেয়।'
তিনি আরও বলেন যে, ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবসা গড়ে তোলার জন্যই তারা ব্যবসায় বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছেন।
প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড
প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড দেশের সবচেয়ে বড় ডেনিম পোশাক রপ্তানিকারক। তাদের পাঁচটি ইউনিট থেকে বছরে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। বিশ্বব্যাপী ক্যাজুয়াল পোশাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কোম্পানিটি সম্প্রতি একটি নিট কম্পোজিট কারখানা চালু করেছে।
এছাড়াও গ্রুপটি চট্টগ্রামে ম্যারিয়টের সঙ্গে একটি পাঁচ-তারকা হোটেল চালু করার অপেক্ষায় রয়েছে।
১৯৮৪ সালে একটি পোশাক কারখানা এবং মাত্র ২০০ জন কর্মচারী নিয়ে যাত্রা শুরু করে গ্রুপটি। বর্তমানে এর কর্মীসংখ্যা ৩১ হাজার।
প্যাসিফিক জিন্সের দুটি প্রতিষ্ঠান—ইউনিভার্সাল জিন্স লিমিটেড ও প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড—গত কয়েক বছর ধরে রপ্তানিতে জাতীয় স্বর্ণ ও রৌপ্য ট্রফি জিতে আসছে।
প্যাসিফিক জিন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এম তানভীর বলেন, ব্যবসা বহুমুখীকরণের মাধ্যমে তারা তাদের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে চান। তিনি জানান, 'বাংলাদেশ যেহেতু ক্যাজুয়াল পোশাকের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে, তাই আমরা একটি নিট ইউনিটে বিনিয়োগ করেছি।'
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ চট্টগ্রামে তাদের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প চলমান রয়েছে বলে জানান তানভীর।
মোহাম্মদী গ্রুপ
বাংলাদেশের পোশাক খাতের শৈশবকালে, ১৯৮৬ সালে পোশাক ব্যবসা শুরু করে মোহাম্মদী গ্রুপ। তিন উদ্যোক্তা আনিসুল হক, হাবিব রহমান ও ফারুক-আল-নাসির দেশ গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজেরাই পোশাক রপ্তানি শুরু করেন। বর্তমানে মোহাম্মদী গ্রুপের মালিক প্রয়াত আনিসুল হকের পরিবার।
কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা আনিসুল হক বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অভ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) নেতৃত্ব দেওয়ার পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হন। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মারা যান। বর্তমানে তার স্ত্রী ও সন্তানরা তার ব্যবসা দেখাশোনা করছেন।
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে গ্রুপটি ব্যবসা বহুমুখীকরণ শুরু করে। এরপরের কয়েক বছরে মোহাম্মদী গ্রুপ ব্যবসা বহুমুখীকরণ করে রিয়েল এস্টেট, বিদ্যুৎ উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, মিডিয়া এবং বিনোদন অঙ্গনে সাফল্য অর্জন পেয়েছে। কোম্পানিটির সাম্প্রতিকতম উদ্যোগ নাগরিক টেলিভিশন ২০১৮ সালের মার্চে চালু হয়েছে।
মোহাম্মদী গ্রুপ যাত্রা শুরু করেছিল মাত্র ৫২ জন কর্মী নিয়ে। বর্তমানে গ্রুপটিতে ১০ হাজার কর্মী রয়েছে।
টেকনোভিস্তা নামে একটি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসার মাধ্যমে কোম্পানিটি প্রথম পোশাক খাতের বাইরে ব্যবসা বহুমুখীকরণ আরম্ভ করে। এরপর অন্যান্য খাতে সম্প্রসারণ হয়। গ্রুপটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। মোহাম্মদী গ্রুপের বর্তমানে ২১টি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।
মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাভিদুল হক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, '১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ওপর থেকে যখন কোটা ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়, তখনই আমার বাবা [আনিসুল হক] ভাবলেন কী করা যায়। তার মনে হলো, সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখা ঠিক হবে না। তখনই আইটি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা বহুমুখীকরণ শুরু হয়। এর পরে ক্রমান্বয়ে আবাসন এবং বিদ্যুতে বিনিয়োগ হয়।'
নাভিদুল হক বলেন, '২০০৮-০৮ সালে দেশে যখন বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল, তখন আমরা বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু এখন অনেকেই এই খাতে বিনিয়োগ করেছেন। ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এর বাইরে আমাদের নতুন কোনো খাতে বিনিয়োগ করার প্রয়োজন নেই। ইতিমধ্যে যেসব খাতে বিনিয়োগ করেছি, সেগুলোতেই আমরা সুস্থ ব্যবসা করতে চাই।'
শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড
১৯৮৬ সালে শান্তা গার্মেন্টস নিয়ে ব্যবসা শুরু করার পর গ্রুপটি ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে ব্যবসা বহুমুখীকরণ আরম্ভ করে। গ্রুপটির প্রধান খন্দকার মনির উদ্দিন আবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করেছেন। একে একে সবগুলো গার্মেন্ট ইউনিট বিক্রি করে দেওয়ায় এই গ্রুপের এখন কোনো পোশাক কারখানা নেই।
ট্রপিকা গ্রুপ ও সেপাল গ্রুপের সঙ্গে একীভূত হয়ে শান্তা গ্রুপ এসটিএস গ্রুপ গঠন করেছে। এই গ্রুপটির এভারকেয়ার হাসপাতাল (অ্যাপোলো হসপিটালস ঢাকা), ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) এবং দিল্লি পাবলিক স্কুলের মালিক।
সেপাল গ্রুপ বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির মালিকানাধীন আরএমজির সঙ্গেও ব্যবসা শুরু করেছে।
শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেডের অধীনে জিডিএস কেমিক্যাল বাংলাদেশ লিমিটেড, শান্তা সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের মতো কোম্পানি রয়েছে। ঢাকা ব্যাংকেও বিনিয়োগ রয়েছে খন্দকার মনির উদ্দিনের।
খন্দকার মনির, তার ছেলে এবং মেয়ে ব্যবসাগুলোর দেখাশোনা করেন।
শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেডের পরিচালক সাইফ খন্দকার বলেন, 'আমরা আরএমজি দিয়ে অনেক অর্জন করেছি। কিন্তু এটা বেশি চাপের। আর আমার বাবা সবসময় মানসম্মত জীবনযাপনের সাথে সম্পর্কিত এমন ব্যবসায় যুক্ত থাকতে চেয়েছেন। এজন্য তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসনের দিকে মন দিয়েছেন। বাংলাদেশে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য তিনি প্রথমবারের মতো দেশে একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল [বর্তমানে এভারকেয়ার] নির্মাণ করেন।'
সাইফ খন্দকার আরও বলেন, 'শিক্ষা এবং রিয়েল এস্টেটের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড ইতিমধ্যে ৩০টি প্রকল্প হস্তান্তর করেছে, আরও ২৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আমরা ভবিষ্যতে আমাদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারিত করব।'

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka