Biology Zone

Biology Zone

Share

Know Biology, Feel Biology, Conquer Biology...

01/09/2023

প্রোটোপ্লাজমকে কেন বংশগতির ধারক ও বাহক ও জীবনের আধার বলে?

লেখাঃ শ্রদ্ধেয় ডা. রাজীব হোসাইন সরকার


প্রোটোপ্লাজম হলো কোষের সমস্ত সজীব অংশ। যেমনঃ

কোষঝিল্লী

নিউক্লিয়াস (ক্রোমোসোম থাকে)

সাইটোপ্লাজম

সাইটোপ্লাজমের অঙ্গাণু।

খেয়াল করো, নিউক্লিয়াসের ভেতরে ক্রোমোসোম থাকে। আমরা তো জানিই ক্রোমোসোমই বংশগতির ধারক ও বাহক। সেইসুত্রে প্রোটোপ্লাজমকেও একই উপাধিতে ডাকা যায়।

কারণ প্রোটোপ্লাজমের একটি অংশ নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের একটি অংশ ক্রোমোসোম।

প্রশ্নঃ প্রোটোপ্লাজমকে কেন জীবনের আধার বলা হয়?

-আধার অর্থ আশ্রয় (Shelter)।

জীবকোষের প্রোটোপ্লাজমেই সকল বিক্রিয়া ঘটে। বলা যায়, প্রোটোপ্লাজমই বিক্রিয়ার আধার বা আশ্রয়স্থল বা বিক্রিয়াস্থল। বিক্রিয়াগুলো দ্বারাই...

ক্রোমোসোম দ্বিগুন হয় (রেপ্লিকেশন)

শক্তি উৎপন্ন হয় ( শ্বসনের বিভিন্ন ধাপ ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম)

কোষের প্রয়োজনীয় সকাল উপাদান তৈরি হয়, আদানপ্রদান ঘটে।

যেহেতু এসব বিক্রিয়ায় জীবকে বাঁচিয়ে (জীবিত রাখে) রাখে তাই বলা যায় প্রোটপ্লাজমই জীবনের আধার।

13/08/2023

মেলাটোনিন: এক রহস্যময় হরমোন

লেখাঃ রাজীব হোসাইন সরকার


এক রহস্যময় গ্রন্থি আর হরমোনের কথা বলা বলি। এই রহস্যময় গ্রন্থির নাম- পিনিয়াল গ্রন্থি। এই গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হরমোনের নাম- মেলাটোনিন হরমোন।

এই পিনিয়াল গ্রন্থিকে আমি বলি- লজ্জাবতী গ্রন্থি। আলো দেখলে লজ্জা পায়। আলোর সাথে ছোটবউ- ভাসুরের মতো সম্পর্ক। তাই দিনের আলোয় নয়, রাতের অন্ধকারে সে মেলাটোনিন ক্ষরন করে। সন্ধ্যায় সূর্য ডুবে রাত হলে মেলাটোনিন ক্ষরিত হতে শুরু করে। রাত দুটোই পিক লেভেলে থাকে। যেহেতু আলোর উপস্থিতি এরা বুঝতে পারে, আলো ও অন্ধকার আলাদা বুঝতে পারে, তাই পিনিয়াল গ্রন্থির নাম হলো- তৃতীয় চক্ষু (Third Eye) /পিনিয়াল চক্ষু /প্যারাইটাল চক্ষু। আলোর উপস্থিতি বুঝতে পিনিয়াল গ্রন্থি সাহায্য নেয় চোখের রেটিনার।

মেলাটোনিন নামক হরমোন ক্ষরণ হবার সাথেসাথে আমাদের শরীরে দুটো কাজ করে।
১. শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয় (বিক্রিয়া কমলেই তাপমাত্রা কমে, ফলে প্রেশার ও হার্টবীটও কমে)।
২. শ্বাসপ্রশ্বাস কমিয়ে দেয়।

দুটো কাজ হলেই আমাদের ঘুম শুরু হয়, ঘুম গভীর ও প্রশান্তিময় হয়ে ওঠে।

যদি রাতে লাইট জ্বালিয়ে রাখি, মেলাটোনিন হরমোন ক্ষরিত হবে না। হলেও খুবই অল্প। ফলে ঠিকঠাক ঘুম হবে না। ঘুম যদি ঠিকঠাক না হয়, জেগেও উঠতে পারবো না ঠিক সময়ে। ঘুম ও জাগার ব্যাপার অনিয়ন্ত্রিত হলে খাবার সময় নিয়েও গন্ডগোল হবে। আমরা ঠিকঠাক না খেলে, কমবেশি খেলে ওজন বাড়বে কিংবা কমতে থাকবে। শরীর বেহাল হয়ে যাবে।

এই হরমোন কাজ করে আমাদের সার্কাডিয়ান সাইকেলের সাথে। সার্কাডিয়ান সাইকেল হল আমাদের শরীরের নিজস্ব ঘড়ি। সে বলে দেয়, কখন ঘুমাবে, কখন জাগবে, কখন খাবে, প্রেশার কেমন থাকবে, তাপমাত্রা, হরমোন লেভেল কেমন থাকবে।

শুধুমাত্র রাতে ঠিকঠাক না ঘুমালেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে। শুধুমাত্র হরমোনের ব্যালেন্স এলোমেলো হলে- ব্রণ হবে, চুল উঠবে, ওজন বাড়াকমা হবে, স্মরণ শক্তি কমে যাবে। ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগও একসময় শরীরে বাসা বাঁধতে পারে।

সবকিছু এড়াতে আমাদের উচিৎ রাত দশটার পর ঘুমের প্রস্তুতি শুরু করা, এগারোটার মাঝে ঘুমিয়ে যাওয়া। ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে জেগে ওঠা।
খেয়াল করে দেখবে- কৃষক, নামাজী ও মন্দিরের পুরুতরা দীর্ঘজীবন লাভ করে। কারণ এরা সবাই ভোরে জাগে। ভোরে জাগতে হলে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হগ। কৃষকরা ক্লান্ত হয়ে সন্ধ্যার পর দ্রুত ঘুমিয়েও যায়।

আবার যে এলাকায় বিদ্যুত নেই, এরা দীর্ঘজীবন পায় (অজ পাড়াগাঁ /পাহাড়ি এলাকা)। কারণ সন্ধ্যার পরেই এই হরমোন ক্ষরণ শুরু হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া অন্ধকারে থাকাদের ঘুমও আসে তাড়াতাড়ি।

এই হরমোন আবার ইনসমনিক লোকদের ঘুমের ঔষুধ হিসেবেও ব্যবহার করে।

কারো মনে যদি প্রশ্ন জাগে, এই হরমোন কী মোবাইলের আলোতেও কম ক্ষরণ হবে?
হ্যা।
যেহেতু চোখের রেটিনায় মোবাইলের আলো পড়ে, রেটিনা এই গ্রন্থিকে আলোর খবর পাঠায় তাই মোবাইল চাপলে, ইউটিউবিং ফেসবুকিং করলেই একই পরিমাণ প্রভাব সৃষ্টি হবে।

কোনোভাবে রাতে জেগে, দিনে ঘুমালে কী এই হরমোন ক্ষরণ হবে না?
হতে পারে। উন্নত দেশে যারা নাইট শিফটে কাজ করে, খেয়াল রাখা হয়- তারা যেন দীর্ঘদিন নাইট শিফটে কাজ করতে পারে তাহলে দিনের বেলা ঘরের অন্ধকারে তাদের এই হরমোন ক্ষরণ হয়। দিনের সাথে হরমোনের ক্ষরণের টাইমিং ম্যাচ হয়। যদি কেউ রাত জেগে কাজ করে দিনে ঘুমুতে চাও, তবে প্রপ্রিদি। একই সময়ে যেন অন্ধকার ঘরে ঘুমুতে পারো সেটা খেয়াল রাখবে। তবে মনে রাখবে- দিনের ঘুম কখনোই রাতের সমান নয়। ধর্মগ্রন্থেও বলা হয়েছে- দিন রুজির সন্ধানের জন্য, আর রাত বিশ্রামের জন্য।

যেহেতু এই হরমোন প্রেশার কমায়, হার্টবিট কমায়, টেম্পারেচার কমিয়ে শরীরকে প্রশান্তি দেয় তাই যারা খুব ভয় পায়, আতঙ্কে থাকে, তাদেরকেও এই হরমোন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

মেলাটোনিন শব্দের অর্থ কী?
মেলানোস শব্দ Black বা কালো। অন্ধকার তো কালো। কালো বা অন্ধকারে ক্ষরণের কারণেই এর নাম- মেলানোস থেকে মেলাটোনিন।

তবে এরা পরোক্ষ্যভাবে শরীরের বর্ণেও ইফেক্ট ফেলে। নাইটকুইন নামক ক্ষতিকর রং ফর্সাকারী ক্রিম না মেখে বরং শান্তিময় ঘুম দিলেও গায়ের রঙ উজ্জ্বল হতে পারে।

এই হরমোন যে গ্রন্থি থেকে ক্ষরণ হয় তার নাম পিনিয়াল গ্রন্থি। পিনিয়াল অর্থ হলোঃ পাইন কোন। এই গ্রন্থি দেখতে পাইন কোনের মতো। পাইন কোন বোঝার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হলো- ক্রিসমাস ট্রি কিংবা ঝালমুড়ির ত্রিকোনাকার ঠোঙ্গার মতো।

এই পাইন কোনের মতো বা ক্রিসমাস ট্রির মতো গ্রন্থিটির আঁকার একটি চালের দানার সমান। খেয়াল করো- পিট্যুইটারি গ্রন্থির আঁকার আবার মটরদানার সমান।

07/08/2023

#বীন বাজালে সিনেমায় সাপ নাচে। বাস্তবে নাচে না। সাপের কান নাই। শোনার জন্য ঘনঘন জিহ্বা বের করতে হয়।

সাপ আপনাকে আক্রমণ করবে না। আপনি যদি শব্দ করে হাঁটেন, সে বুঝতে পারে। সাপের বুকের তলায় খোলসের রঙ আলাদা। সেখানে বিশেষ স্নায়ুতন্তু থাকে। মাটির কম্পন বোঝার জন্য। আপনি কতদুরে আছেন, আপনি সাইজে কতবড়, কম্পন দেখেই সে বুঝতে পারে। পালিয়ে যায়।
বেলি, হাস্নাহেনার গন্ধে কখনো সাপ আসে না। কেউকেউ জীবদ্দশায় বেলি, হাস্নাহেনা গন্ধরাজের তলায় সাপ দেখেছেন হয়তো। মনে রাখবেন, সাপের ঘ্রাণশক্তি খুবই দূর্বল। সে গন্ধ পায় না।

সুগন্ধি ফুলে পোকামাকড় আকৃষ্ট হয় বেশি। পোকা খেতে ব্যাঙ আসে। ব্যাঙ খেতে মাঝেমাঝে সাপ আসতে পারে। খাবার পর মানুষের মত সাপও ক্লান্ত হয়। মানুষ খাবারের পর যেমন আয়েশ করে ঘুমায় তেমনই সাপও বেলি-হাস্নাহেনার তলায় ঘুমুতে পারে। তবে এসব গাছ যদি বাড়ির ভেতর থাকে তবে সাপ কম আসে। কারণ মানুষের উপস্থিতি তারা ভয় পায়। তবে বাড়ির সাইডে, ঝোপঝাড়ে এমন গাছ থাকলে সাপ আসা স্বাভাবিক।

একটা সাপকে মারলে তার জোড়া সঙ্গী কখনোই আপনাকে খুঁজে দংশন করতে আসবে না। সাপের স্মৃতিশক্তি খুবই দূর্বল। সাপ বাংলা সিনেমার স্বর্পরাজ শাকিব খান কিংবা নাগিন মুনমুন নয়
যে সঙ্গীহারার প্রতিশোধ নিতে ছুটে আসবে। সাপ নিম্নজাতের প্রাণি। এদের মধ্যে রিভেঞ্জ বলে কিছু নাই।

কিন্তু একটা সাপ মারার পর আরেকটা সাপ প্রায়ই একই স্থানে দেখা যায়, কারণ কী?

সিম্পল। মেটিং এর সময় তাদের পার্টনার আশেপাশে থাকতেই পারে কিংবা আশেপাশে গর্ত থাকলে তার বাচ্চাকাচ্চা কিংবা আরো সাপ উঠে আসতেই পারে। সে প্রতিশোধ নিতে আসেনি বরং ভুল করে গর্ত থেকে চলে এসেছে।

ছোট সাপের বিষ নাই। কথাটা ভুল। সাপের বাচ্চাও সাপ। কেঁচোর সমান একটা কেউটের কামড়ে আমার চোখের সামনে এক রোগীকে টানা ২৪ ঘণ্টা জীবনের সাথে ফাইট করতে হয়েছে। আইসিইউতে আমরা তিন ডাক্তার তার পাশে ২৪ ঘন্টা লড়েছিলাম। আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেশন থেকে শুরু করে একাধিকবার অ্যান্টি-ভেনম দিয়েছি। সে সুস্থ হয়ে বাড়িতে গেছে। যাবার আগে আমাদের গালিগালাজ করে গেছে। আমরা নাকি তাকে অনেক দামী ঔষুধ দিয়েছি। সে জানে না, একডোজ অ্যান্টিভেনমের দাম ১০ হাজার টাকা। লজিক্যালি লোকটার দোষ নেই। সে ছিল জেলে। দিনে হয়তো এক দেড়শ টাকা তার ইনকাম।
রাতে যারা বাজার থেকে অন্ধকারে ঘরে ফেরে তাদের এবং জেলেদের সাপ বেশি কাটে।

জেলেরা বর্ষায় রাতে আইল বরশি ফেলে, জাল ফেলে মাছ ধরে। নদী বা নালায় মাঝ ধরে। সাপ শুকনো ভেবে সেখানে থাকে। কামড় দেয়।
সিনেমা বলে, সাপ দুধ খায়। গরুর দুধ খেতে গোলাঘরে হানা দেয়। ভুল কথা। এসব সাপ ক্ষেতের ব্যাঙ- পোকামাকড় খায়। কালো রঙ্গের দাড়াশ সাপ দেখি, এরা আমাদের উপকার করে। ফসল বাঁচায়। এদের না মারা উত্তম।

সাপে কাটলে ব্লেড দিয়ে কেটে দিলে বিষ বের হয়ে যায়। কথাটা ভুল। ভুলেও এই কাজ করবেন না। ব্লেড দিয়ে কাটলেন তো বিষকে রক্তের সাথে নিজহাতে মিশিয়ে দিলেন।

দংশন করা সাপকে উল্টোকামড় দিলে বিষ ফেরত চলে যায় সাপের ভেতরে। কথাটা ভুল। পায়ে কাটলে বিষ সেখানে। আপনার মুখের দাঁতে তো বিষ নাই। কীভাবে ফেরত দিবেন?

সাপের বিষ তার দাঁতে থাকে না। সে যখন কামড় দেয় তার মুখের পেশিগুলো টানটান হয়ে যায়। দাঁতের কাছেই ঠাকে বিষধর। সেখান থেকে বিষ দাঁত বেয়ে আপনার শরীরে প্রবেশ করে।
শক্ত করে বাঁধলে বিষ ছড়াতে পারে না এমন ধারনা ভুলে যান। আপনি নিজেও নিশ্চিত না সাপটা বিষধর ছিল কি না, তাহলে শক্ত করে বাঁধবেন কেন?

অনেক ডাক্তার সাপে কাটার পর বাঁধতে নিষেধও করেন। কারণ এতে হিতে বিপরীত হয়।

ফুটবলের অ্যাংলেট পায়ে দিলে যেমন আটসাট হয়ে থাকে এমন ভাবে গামছা বা শার্ট বা শাড়ি দিয়ে দংশনের কিছু উপরে পেঁচিয়ে নিতে পারেন। বাঁধন অবশ্যই ঢিলা রাখবেন। দুট আঙ্গুল ঢোকে এমনভাবে ঢিলা করবেন। আবার খুব ঢিলাও না। ২০ মিনিট পরপর খুলে আবার লাগাতে পারেন। ভুলেও লোহার তার, সুতলি, কারেন্টের তার বা অন্য সরু জিনিস দিয়ে বাঁধবেন না। বাঁধলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে হাতে-পায়ে পঁচন শুরু হবে। চিরতরে হাত বা পা খোয়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। হয়তো আপনাকে বিষধর সাপ কাটেই নি অথচ আপনি ভয়ে গিট্টু দিয়ে হাত পা পঁচিয়ে পঙ্গু হয়ে গেলেন। কেমন হবে?

সাপ কাটলে কিন্তু আংটি, চুড়ি, ব্রেসলেট খুলে ফেলবেন। কিছু সাপের বিষে আপনার আঙ্গুল, হাত বা পা ফুলে যেতে পারে। আংটি বা চুড়ি থাকলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পঁচন ঘটতে পারে।
সাপ কখন দংশন করে?

১। যদি ভুলে আপনার মুখোমুখি হয় সে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু সে নিজে ভয় পেলে হিংস্র হয়। সব প্রাণিই এমন। মুরগীরও মাঝেমাঝে মানুষকে ঠোকর দেয়। সামনে সাপ পড়লে তাকে চলে যেতে দিন।
২। বর্ষাকাল মানেই হাসপাতালে সাপে কাটা রোগী। বর্ষায় গর্তে পানি উঠে যায়। ফলে সাপ ডাঙ্গায়, শুকনো জায়গায় উঠে আসে। সেটা ক্ষেতের আইল, রাস্তা কিংবা আপনার ঘরের তোশকের তলা, বালিশের তলা, আলনার ভেতর, কাঠের স্তুপ যেকোন জায়গাতেই আসতে পারে।
৩। অন্ধকারে সাপের শরীরে পা পড়লে। জঙ্গলায় ভুলে তার শরীরে পা পড়লে কামড় দেয়।
৪। ইদুরের গর্তে সাপ থাকলে সেখানে পা রাখলে বা বসে থাকলে কামড় দিতে পারে। বাচ্চা ছেলেরা মাঝেমাঝে বসে গর্তের মুখে প্রস্রাব করে। সন্তানকে শিক্ষা দিন। এই কাজ যেন না করে।
সব সাপ বিষাক্ত?

বাংলাদেশে ৮০ ধরণের সাপ আছে। মাত্র ২৭টা বিষাক্ত। অধিকাংশই সামুদ্রিক। মাত্র ৫/৬ প্রজাতি স্থলে আছে যারা বিষধর।
আপনার চোখের সামনে নিয়মিত যাদের ঘোরাফেরা দেখেন, তারা বিষাক্ত নয়। পানির সাপ অধিকাংশই বিষাক্ত নয়। তবে সামুদ্রিক সাপ সবাই বিষাক্ত।

যদি চেনেন তবে বলি গোখরা, কালকেউটে, শঙ্খচূড়, চন্দ্রবোড়া বিষাক্ত।
সাপে কাটলে বুঝবেন কীভাবে?

দংশন করেছে এমন মনে হবার পর যদি সরাসরি সাপ দেখেন, তাহলে ভাবতে পারেন সে আপনাকে দংশন করেছে।

একবার এক ছেলে হাসপাতালে আসল। মাটির ঘরে অন্ধকারে হেলান দিয়ে ছিল। পীঠে সাপ কেটেছে। সারাদিন হাসপাতালে আমাদের অবজারভেশনে ছিল। রাতে রিলিজের আগে খবর আসল, যেখানে হেলান দিয়ে ছিল, সেখানে কে যেন তারকাটা পুতে রেখেছিল। পীঠে লেগে তারকাটা দেয়ালে ঢুকে যায়। খোচা লাগাকে সাপে কাটা ভেবে সে হাসপাতালে আসে। ২৪ ঘণ্টা ভয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফেরে সুস্থ অবস্থায়।

বিষাক্ত সাপে কাটলে বোঝা বেশ সহজ।
১। শিকারি পশুর মত সাপের দুটো দাঁত বড় থাকে। বাঁকানো। দংশন করলে গভীর ক্ষত হয়। দুঁটো দাঁতের অস্তিত্ব থাকলে ধরে নিতে পারেন, আপনাকে বিষাক্ত সাপ দংশন করেছে।
২। যদি অনেকগুলো দাঁত থাকে, সেখানে মাংস তুলে নিলেও ভেবে নিতে পারেন এটা ছাগলের মত। অনেক দাঁত কিন্তু বিষদাঁত নাই। আপনার কিছু হবে না।
৩। সাপের বিষ কয়েক ধরণের। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে নিউরোটক্সিন রিলিজ করা সাপের কামড়ে। এক্ষেত্রে ঝিমঝিম লাগবে। চোখে ঝাঁপসা দেখবে। চোখের উপরের পাতা নেমে চোখ অংশিক বন্ধ হয়ে যাবে। মাথা ঝুলে যাবে। জিহ্বা ও শ্বাসনালী ফুলে যাবে। শ্বাস নিতে পারবে না। মুখে লালা ঝরবে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। বমি করতে পারে।
আরো নানাবিধ লক্ষণ আছে।

চন্দ্রবোড়া কামড় দিলে লোহিত রক্তকনিকা ভেঙ্গে যায়। ফলে রক্তবমি, রক্তপায়খানা হতে পারে। কামরের জায়গায় রক্ত ঝরতে পারে। ফুলে যেতে পারে, লাল হতে পারে। ফোস্কা পড়তে পারে। কালোও হতে পারে।
কিছু সাপের কামড়ে হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারাও যেতে পারে।
মাঝেমাঝে নির্বিষ সাপ কামড়েও মানুষ মারা যায়।কেন জানে?
ভয় পেয়ে হার্ট অ্যাটাক করে।

সাপে কামড়ে সিনেমায় গড়াগড়ি দেখেন, বিষের কারণে চেঁচামেচি দেখেন। এগুলো অভিনয়। সাপের বিষ নিয়ে একটা প্রবাদ আছে, কেমন ব্যাথা বুঝিবে সে কীসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে... এইসব ভুলে যান। সাপে কাটা মানুষ খুব স্বাভাবিক থাকে শুরুতে। কোন ব্যাথা নাও থাকতে পারে। এমনকী মৃত্যু ঘটার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কোন ব্যাথা নাও বুঝতে পারে।

চিকিৎসা?

একদম ঘাবড়াবেন না। বেশি ঘাবড়ালেই বিষ বেশি ছড়াবে।
সাপেকাটা জায়গা ধুয়ে ফেলুন সাবান দিয়ে।
কাটবেন না ব্লেডে।
চুষে রক্ত বের করবেন, এমন চিন্তা ভুলে যান।
যেখানে কামড়াবে সেখানকার নাড়াচাড়া বন্ধ। হাতে কামড়ালে হাত নাড়ালে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে যায়। হাত একদম নাড়াবেন না। পায়ে কামড়ালে হাঁটবেন না।

সাপেকাটা স্থানে ভুলেও অ্যাসিড ঢালবেন না। মরিচের গুড়ো দিবেন না। কার্বলিক অ্যাসিডে ঝলসাবেন না। কোন ফলের বীজ, সর্পরাজ তেল, গুটি, আটি, বড়ি, তাবিজ কিছুই লাগাবেন না।
সাপটাকে পারলে চিনে রাখুন। ডাক্তারকে বললে চিকিৎসা পেতে সুবিধা হবে। তবে ধরে যাবেন না। মেরেও ফেলার দরকার নাই।
মৃত সাপকে ধরতে যাওয়াও নিরাপদ নয়। এরা মৃত্যুর ভান করে শুয়ে থাকতে পারে।

জীবিত ধরে ওঝার কাছে যাবেন, এমন চিন্তা থাকলেও ঝেড়ে ফেলুন। ওঝা সাপের বিষ নামাতে পারে না।
ওঝারা অনেক রোগী ভালো করে। যেগুলো আসলেই বিষাক্ত সাপের কামড় ছিল না। বিষাক্ত হলে একটা সময় বুঝতে পারে তখন নানা অজুহাত নাগ-নাগিনির কথা বলে এরা হাসপাতালে রোগী রেফার করে। আমরা হাসপাতালে অনেক পাই যারা একেবারে শেষ মুহুর্তে আসে। ওঝার কাছে গিয়ে জীবন খুইয়ে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি করে আসে।
বিষাক্ত সাপে কাটলে আপনি বাঁচতে পারেন একটামাত্র পথন অনুসরণ করলে। সেটা হল- দুনিয়ার কারো মতামত নিবেন না। সরাসরি হাসপাতাল যাবেন।

সাপে কাটলে এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে সরকারি বড় হাসপাতালে যান। রাসেল ভাইপারভ বাদে সব সাপেরই বিষের অ্যান্টিভেনম আছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই চিকিৎসা শেষে ফিরে আসবেন। [রাসেল ভাইপার বাংলাদেশে বিলুপ্ত সাপ। তবে রাজশাহীতে কয়েকবার নতুন করে পাওয়া গেছে। ফরিদপুরে পাওয়া গেছে কিছুদিন আগে। বন্যার জল-স্রোতে এরা আবার ছড়িয়ে পড়তে পারে দেশময়]

যদি বুঝে ফেলেন, সাপতা বিষধর নয়, তাহলে কী করবেন?
তবুও হাসপাতালে যাবেন। ভর্তি হয়ে প্রয়োজনে বিছানায় ২৪ ঘন্টা বসে থাকবেন। তবুও হাসপাতালে যাবেন।

[নোটঃ অধিকাংশ সাপই নির্বিষ। সাপ মারবেন না। সাপ বাস্তুতন্ত্রের অংশ। ঘরে সাপ পাওয়া গেলে স্নেক রেস্কিউয়ারকে জানাতে পারেন। ওঝাদের জানিয়ে পরিবেশ থেকে এসব সাপ বিলুপ্ত করবেন না। ওঝারা সাপ মেরে পুড়িয়ে তেল বানায়। সেই তেল বাত ব্যাথা- সাপের বিষ নামানো, হারানো যৌবন পুনরুত্থান নামক নানাকিসিমের মিথ্যা চিকিৎসায় ব্যবহার করে। তাদের এই কাজ করতে দিবেন না। কারণ দিনশেষে সেই সাপের তেল হয়তো আপনার আত্মীয়ই কিনে নিয়ে ব্যবহার করছে]
কার্বলিক অ্যাসিডে সাপ পালায়?

সাপের ঘ্রাণ শক্তিই এত দূর্বল যে ফুলের গন্ধেও আসে না, তাহলে কার্বলিকে সাপ পালাবে কে বলল আপনাকে?
এসব সেইফটি এককালে প্রচলিত ছিল। এখন ব্যর্থ টোটকা।
বাড়িতে খড়ের গাদা, লাকড়ির স্তুপ থাকলে আপনার মা বা স্ত্রীকে সতর্ক করে দিন। খড় বা লাকড়ি নেবার আগে সেখানে লাঠি দিয়ে কিছুক্ষণ শব্দ করুন। সাপ থাকলে চলে যাবে।
রাতে বিছানা এমনকী বালিশের তলাও চেক করবেন। আলনার ভেতরে থাকতে পারে। শব্দ করে কাপড় নিতে যাবেন।
বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড় থাকলে কেটে ফেলুন। ঈদুরের গর্ত থাকলে ভরাট করে ফেলুন।

অনেকেই বলেন, মরিচপড়া দিয়ে ইদুরের গর্তের মুখে ধরলে সাপ চলে যায়। এ ব্যাপারে আমার জানা নাই। অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে পারেন।
বর্ষাকাল বর্ষা সবে। তখন সাপ আপনার বাড়িতে-ঘরে আশ্রয় নিতে আসতেই পারে। সাবধান থাকুন। অন্যদের সতর্ক করে রাখুন। গ্রামের আপন মানুষদের (বাবা-মা, বউ-বাচ্চা-বন্ধু) সাপের ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে রাখুন।
সতর্ক থাকবেন-ভয় পাবেন না-অবহেলা করবেন না।
-ডা. রাজীব হোসাইন সরকার

বিঃদ্রঃ ছবিতে দেখানো সাপটি ঐ মানুষের হাতের ধমনী ছিন্ন করে নিয়েছিল, যা একটি ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের মত!

07/08/2023

+50s= 70s; 40s+60s=80s কেনো এবং কীভাবে?

এই ব্যাপারটা সোশাল মিডিয়ায় বায়োলজির সবচেয়ে বেশি ট্রলড একটি টপিক। অামরা ধারণা করি এটি হয়ত নিছক একটা যোগ কিংবা গণিত মাত্র। কেউ কেউ ধারণা করি এটি বায়োলজির ভিত্তিহীনতার প্রমাণ।

অামি স্কুল লাইফে থাকাকালীন যখন এটি বায়োলজি বইয়ে ফাস্ট দেখেছিলাম তখন ধারণা করেছিলাম, ১০০% সিউর এটি বইয়ের প্রিন্টিং মিস্টেক। হাহা। অামাদের কতো জনের গল্পে যে অারও কতো মজার কাহিনী লুকিয়ে অাছে কোষের রাইবোসোম এর এই ব্যাপারটিকে ঘিরে। অামারা বেশিরভাগ স্টুডেন্টই অাসলে এই ব্যাপারটা বুঝতে পারি না, মূল মজাটা ধরতে পারি না তাই এটাকে নিয়ে এত ট্রল করি। অামি অাজ এই ফর্মূলা তে যে মজার ব্যাপারটা লুকিয়ে অাছে তা কিছুটা শেয়ার করার চেষ্টা করবো।

=>এই ব্যাপারটা আসলে কী?
~ 70s ও 80s কোষীয় অঙ্গাণু রাইবোসোম এর তলানী পরার হার বা সেডিমেন্টেশন হওয়ার হার বা অধঃক্ষেপন এর হার। অাদি কোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষে সেডিমেন্টেশন হার 70s অার প্রকৃত বা সুকেন্দ্রিক কোষে এই হার 80s.

=>এখানে s এর পরিচয় কী?
~ s হলো Svedberg Unit(ভেদবার একক) এর প্রতীক। অার এই ভেদবার একক হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের পরিমাণ, যার মান ১০০ ফ্যাম্টোসেকেন্ডস (10/13 সেকেন্ডস) এর সমান। কোনো বস্তুর সেডিমেন্টেশন হার বা অধঃক্ষেপনের হার তলানী পরার হার কে ভেদবার এককে প্রকাশ করা হয়। এজন্য এই এককের প্রতীক ব্যবহৃত হচ্ছে। সুইডিশ কেমিস্ট Theodor Svedberg এর নামানুসারে।এই একক এর নামকরণ করা হয়েছে।

দুটি হার একসাথে যোগ হয়েছে কেনো? (30s+40s / 40s+60s)

~ রাইবোসোম দেখতে প্রায় গোলাকার হলেও অাসলে তারা দুইভাগে বিভক্ত অবস্থায় বা দুটি সাব-ইউনিটে বিভক্ত অবস্থায় থাকে। এই দুটি ভাগ অসম অাকারের অর্থ্যাৎ তাদের অাকার একে অপরের সমান নয়। একটি বড় একটি ছোট।

যেহেতু একটি রাইবোসোম দুটি অসম ভাগে বিভক্ত থাকে সেহেতু দুটি ভাগের অধঃক্ষেপন হার বা তলানী পরার হার ভিন্ন হবেই। অার সে কারণেই অাদি কোষীয় রাইবোসোমের ভিন্ন দুই ভাগের ভিন্ন দুটি অধঃক্ষেপণ হার দেখতে পাই অামরা। দুটি ভাগের অধঃক্ষেপণ হারকে যোগ করে বুঝানো হয় যে এটি অাসলে একটি রাইবোসোম।
Such as- অাদি কোষের রাইবোসোমে অধঃক্ষেপণ হার 70s (30s+50s), প্রকৃত কোষের রাইবোসোমে অধঃক্ষেপণ হার 80s(40s+60s).

=>এখানে মূলত কী ঘটে?
~ অামরা যখন ব্লাড টেস্ট করাতে যাই তখন অামাদের ব্লাড টেস্টটিউবে নেয়া হয়। তারপর সেই টেস্টটিউব সেন্ট্রিফিউগাল মেশিনে রেখে ঘুরিয়ে সেন্ট্রিফিউজ করা হয়। তখন অামাদের ব্লাডের প্লাজমা থাকে টেস্টটিউবের উপরের অংশে অার ব্লাড সেল(RBC,WBC,Platelet) গুলো টেস্টটিউবের নিচের অংশে তলানী পরে থাকে। কারন ব্লাডের প্লাজমার তুলনায় ব্লাড সেলের ভর বেশি। তেমনি রাইবোসোম যখন সেন্ট্রিফিউজ করা হয় তখন রাইবোসোমের ও অধঃক্ষেপ পরে বা তলানী পরে। এই তলানী পরার হিসাব কেই 70s, 80s দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

=>কেনো অাদিকোষে 70s হলেও প্রকৃত কোষে 80s?
~ সেডিমেন্টেশন হার বা তলানী পরার হার নির্ভর করে বস্তুর অায়তন, বস্তুর অাকার কিংবা বস্তুর ভরের উপর। যার অাকার, অায়তন, ভর যত বেশি তার তলানী পরার হার ততো বেশি। অাদিকোষের রাইবোসোম এর তুলনায় প্রকৃত কোষের রাইবোসোম এর অাকার বড়, ভর বেশি, অায়তন বেশি। তাই অাদিকোষের (70s) তুলনায় প্রকৃত কোষের(80s) রাইবোসোম এর তলানী পরার হার বা সেডিমেন্টেশন হার বেশি।

=>কেনো 30s+50s= 80s না হয়ে 70s হয়? কেনো 40s+60s= 100s না হয়ে 80s হয়?
~ অাদি কোষের রাইবোসোম দুইটি ভাগে ভাগ হয়ে থাকে। যার একটি অাকারে ছোট, অপরটি অাকারে কিছুটা বড়। প্রথমটি অাকার ছোট হওয়ার কারণে ভরও কম, অায়তনও কম তাই প্রথম ভাগটির তলানি পরার হার কম বা তার সেডিমেন্টেশন হার কম অর্থ্যাৎ 30s. অার যে ভাগটির অাকার কিছুটা বড় তার ভর কিছুটা বেশি অায়তন কিছুটা বেশি তাই তার সেডিমেন্টেশন হার কিছুটা বেশি অর্থাৎ 50s.
একই ঘটনা ঘটে প্রকৃত কোষের রাইবোসোম এর ক্ষেত্রেও। যে ভাগটির অাকার ছোট তার সেডিমেন্টেশন হার কম (40s). য়ে ভাগটির অাকার কিছুটা বেশি তার সেডিমেন্টেশন হার বেশি(60s)
এবার এখানেই ঘটে অাসল খেলা। যখন অাদি কোষে ও প্রকৃত কোষে প্রোটিন সংশ্লেষণ এর জন্য রাইবোসোম এর দুইভাগ জোড়া লাগে তখন পুরো রাইবোসোমটার ভর, অাকার, অায়তন বেশি হয়ে যায় অাগের অবস্থার দুটি ভাগের চেয়ে। তখন অাদিকোষে সেডিমেন্টেশন হার হয়ে যায় 70s অার প্রকৃত কোষে 80s। কিন্তু জোড়া লাগলে ত অাদিকোষে 80s অার প্রকৃত কোষে 100s হওয়ার কথা। তাহলে কী জোড়া লাগে না? বায়োলজি কি ভুল? অাসলে জোড়া লাগে ঠিকই বাট জোড়া লাগা অবস্থায় রাইবোসোম সেন্ট্রিফিউজ হওয়ার সময় বা তলানী পরার সময় এর দুইটি তল বল এর দ্বারা ক্রিয়াশীল হয়। কিন্তু যখন রাইবোসোমটি দুই ভাগে বিভক্ত থাকে তখন দুই ভাগের দুটি দুটি করে মোট ৪ টি তল বল এর দ্বারা ক্রিয়াশীল হয় তলানী পরার সময়। অর্থ্যাৎ একত্রিত থাকা অবস্থায় তলানী পরার সময় বল দ্বারা ক্রিয়াশীল বেশী হয় তাই তলানী দ্রুত পরে। মনে রাখতে হবে 70s এর চেয়ে 80s এর তলানী পরার হার বেশি এবং সময় ও বেশি। অাবার 80s এর চেয়ে 100s এর তলানী পরার হার বেশি এবং সময়ও বেশি লাগে। কিন্তু রাইবোসোম এর দুই অংশ একত্রিত অবস্থায় যেহেতু ৪ টি তল ক্রিয়া না করে ২টি তল বলের দ্বারা ক্রিয়াশীল হয়, সেহেতু একটু কম সময়েই তলানী পরে যায়। সেজন্যই অাদিকোষে 80sনা হয়ে 70s হয়, অার প্রকৃত কোষে 100s না হয়ে 80s হয়।
ভুল ক্রুটি হলে ক্ষমাপ্রার্থী রইলাম এবং শুধরে দেয়ার অনুরোধ রইলো।

©মামুনুর রশীদ ইভান

10/07/2023

মানব ইতিহাসে মানবদেহের নানান লুকায়িত সুপ্ত রহস্য আবিষ্কারের বিষয় বরাবরের মতই একটি তুমুল আলোচ্য ও আগ্রহের কৌতূহলের দিকে পরিণত হয়েছে অনেক আগেই। দেহঘড়ির কার্যাবলী উন্মোচনের পেছনে যেসব বিজ্ঞানীর অক্লান্ত নিরলস ও অসামান্য অবদানের কথা ইতিহাসের পাতায় পাতায় সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে অবিরত, দৈনন্দিন জীবনের বস্তুগত কাজের ফাঁকে আমরা সময় পেলেই যেখানে ডুব দিই ফেসবুকে, ফেসবুক-ইউটিউবের পর্দায় সময়-অর্থ ব্যয়ে আসক্তি সৃষ্টি করে নিজেদের ক্লান্তি দূর করলেও যেসকল মনীষীর জীবন উৎসর্গ করা অবদানে আজকের মানবসভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে, আজকের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি যারা গড়ে দিয়েছেন, তাদের অবদান পড়তে আমাদের অজুহাত আর অনীহার যেন কোন কমতি থাকে না। স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ের সাথে সংশ্লিষ্টতার খাতিরে পদার্থ ও রসায়নের বিজ্ঞানীদের কথা বুঝে পড়লেও বিশেষত জীববিজ্ঞানীদের কথা ও অবদান একপ্রকার দাঁতে দাঁত চেপেই পড়তে হয়, ফলস্বরূপ জন্ম নেয় এই বিষয়টির প্রতি তুমুল ঘৃণা ও বিষাক্ত তীরের আশীর্বাদ। তাই বইয়ের বাইরে বের হয়ে ছোট আকারে পূর্ণাঙ্গভাবে এসব বিষয় উপস্থাপন করে গেলে একদিকে তা যেমন আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে বহিঃবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করবে, তেমনি অন্যদিকে জীববিজ্ঞানের প্রতি অনাগ্রহ দূর করে আগ্রহ আনয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

And our ultimate goal is to head towards this! Wanna see you all as a part of this Biology Zone !! Best wishes for all.

05/07/2023

ড. মরিস বুকাইলি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে আছেন ফেরাউনের মমি করা লাশের দিকে। রাত গভীর হয়েছে। কিন্তু তিনি হিসেব মেলাতে পারছেন না৷ এ কী করে সম্ভব! কী এমন রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে এর পেছনে! শত শত বছর ধরে মেডিকেল সায়েন্সকে একপ্রকার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি লাশ কীভাবে টিকে থাকল! লাশের দেহে পাওয়া গেছে লবন, যা প্রমাণ করে—এটিকে সমুদ্র থেকে তোলা হয়েছে। কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ কেন কার্যকর হলো না লাশের শরীরে!

বলছি প্যারিসের এক ল্যাবরেটরির কোনো এক মধ্যরাতের দৃশ্যপট নিয়ে। এই দৃশ্যপটটি যে সময় সংঘটিত হচ্ছিল, সে সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঁসোয়া মিত্রা। তিনি মিসর সরকারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন—তার দেশ ফেরাউনের মমিকে ফ্রান্সে নিতে চায়। উদ্দেশ্য মমিটি নিজেদের আয়ত্বের ভেতরে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা করা। সে সময়কার মিসর সরকার ফ্রান্সের এই অনুরোধ বিবেচনা করে সায় দিলো তাতে। মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে ফেরাউনের মমি নিয়ে আকাশে ওড়া বিমানটির গন্তব্য প্যারিস।

বিমান যথারীতি পৌঁছে গেল প্যারিস এয়ারপোর্টে। ফেরাউনের মমি করা লাশ বিমান থেকে অবতরণ করল অনেকটা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। এককালের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী মিশর শাসক বলে কথা! মমিকে স্বাগত জানাতে বিমান বন্দরে স্বয়ং উপস্থিত হয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। সাথে উজির নাজির অমাত্যবর্গ। বিমানের সিঁড়ি দিয়ে ফেরাউনের মমি নামানো হচ্ছে। সবার মধ্যেই টান টান উত্তেজনা। সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রীবর্গ এবং ফ্রান্সের সিনিয়র অফিসারগণ। কুর্নিশ করে ফেরাউনকে স্বাগত জানালেন তারা।

জমকালো প্যারেডের মাধ্যমে রাজকীয়ভাবে বরণ করে নেওয়া হলো এককালের মিশর অধিপতি ফেরাউনের মমি করা লাশকে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফ্রান্সের প্রত্নতাত্ত্বিক কেন্দ্রের একটা বিশেষ ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হলো মমি, যেখানে অপেক্ষমান ফ্রান্সের সবচেয়ে বড়ো সার্জনগণ। তারা ফেরাউনের মমির ময়নাতদন্ত করে সেটা নিয়ে স্টাডি করবেন। এই মমির টিকে থাকার পেছনের গোপনীয়তা আবিষ্কার করাই তাদের লক্ষ্য। উদঘাটন করবেন এর হাজার হাজার বছর ধরে অবিকল টিকে থাকার গভীর এবং জটিল রহস্য।

এই গবেষক দলের প্রধান ড. মরিস বুকাইলি। গবেষক দলের মধ্যে যারা থেরাপিস্ট ছিলেন, তারা চাচ্ছিলেন—ক্ষত অংশগুলো ঠিক করে মমিটিকে পুনর্গঠন করবেন। কিন্তু ড. মরিস বুকাইলির দৃষ্টি ছিল ভিন্ন দিকে। তিনি প্রথমেই ফেরাউনের মৃত্যুরহস্য উদঘাটন করতে চাচ্ছিলেন। এ নিয়েই ভাবতে শুরু করলেন তিনি। অবশেষে দীর্ঘ গবেষণার একপর্যায়ে মৃত্যুরহস্য স্পষ্ট হয়ে উঠল তাঁর কাছে। পানিতে ডুবেই যে ফেরাউনের মৃত্যু হয়েছে, এ বিষয়ে নিশ্চিত হলেন তিনি। কিন্তু লাশটি টিকে থাকল কীভাবে, সেই রহস্যের কোনো কুল-কিনারা করতে পারলেন না। ব্যাকটেরিয়া এখানে অকার্যকর কেন?

অতঃপর ড. মরিস বুকাইলি রিপোর্ট তৈরি করলেন এবং বললেন, 'এটি এক নতুন আবিষ্কার, যা আধুনিক বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য সহায়ক হতে পারে।' এরমধ্যে তাঁর এক কলিগ জানালেন—ফেরাউনের ডুবে যাওয়া এবং তার লাশ সংরক্ষণের ব্যাপারে মুসলিমদের ধর্মীয় পুস্তক আল কুরআনে বলা হয়েছে। কথাটা বিস্মিত করল ড. মরিসকে। তিনি পালটা প্রশ্ন করলেন, 'এটা কীভাবে সম্ভব? এই মমি পাওয়া গেছে সবেমাত্র সেদিন; ১৮৮১ সালে, আর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে! আরবের লোকজন প্রাচীন মিসরীয়দের মমি করার পদ্ধতি জানতোই না। আমরাই তো এটা জানলাম মাত্র কয়েক দশক আগে!'
ড. মরিস বুকাইলি সেই রাতে ফেরাউনের লাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দীর্ঘসময় বসে রইলেন। গভীরভাবে ভাবতে লাগলেন তাঁর কলিগের কথাটি। বাড়তে থাকল তাঁর কৌতূহল। এ বিষয়ে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত তথ্যগুলোর খোঁজ নিতে লাগলেন। তিনি দেখলেন—বাইবেলে ফেরাউন কর্তৃক মুসা আলাইহিস সালামের পিছু নেওয়ার কথা বলা হলেও শেষমেষ ফেরাউনের লাশের কী হয়েছিল, সে সম্পর্কে কিছুই বলা নেই। তিনি ভেবে পেলেন না—আরবের মরুভূমির এক নিরক্ষর মানুষের আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে এমন একটি তথ্য তাহলে কী করে জানবার কথা! এ তো অবিশ্বাস্য!

নাছোড়বান্দা ড. বুকাইলি। তিনি মরিয়া হয়ে উঠলেন প্রশ্নগুলোর উত্তর জানবার জন্য। তিনি এ-ও বুঝতে পারলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর হুবহু পেতে হলে তাঁকে ধর্মীয় গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করতে হবে। সেগুলোতে উপস্থাপিত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে তাঁকে। সে রাতে নির্ঘুম রাত কাটালেন তিনি। এরপর তাওরাত (তোরাহ্) সংগ্রহ করলেন। দেখলেন—তাওরাতে লেখা রয়েছে, 'পানি এলো এবং ফেরাউনের সৈন্য ও তাদের যানবাহনগুলোকে ঢেকে দিলো। যারা সমুদ্রে ঢুকল, তাদের কেউই বাঁচতে পারল না।' কিন্তু ফেরাউনের লাশ সংরক্ষণের ব্যাপারে কিছুই বলা নেই তাওরাতে। তাহলে ইসলামের নবি মুহাম্মাদ এই তথ্য কী করে জানলেন!

এ পর্যায়ে ড. মরিস কোনো একটি মুসলিম দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। উদ্দেশ্য—সেখানকার প্রখ্যাত অটোপসি বিশেষজ্ঞ মুসলিম ডাক্তারের সাক্ষাৎকার নেওয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী মুসলিম ডাক্তারের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে তাঁর সমগ্র গবেষণার ফলাফল অবহিত করলেন এবং এ বিষয়ে কুরআনের কোনো বক্তব্য সত্যিই রয়েছে কি না জানতে চাইলেন। তখন মুসলিম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পবিত্র কুরআন খুললেন এবং সংশ্লিষ্ট আয়াতটি ডা. মরিসকে পড়ে শোনালেন। আয়াতটি এমন, 'সুতরাং আজ আমি তোমার দেহটি সংরক্ষণ করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। আর নিশ্চয় অনেক মানুষ আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে গাফেল।' [সূরা ইউনুস : ৯২]

কুরআনের এই আয়াতটি শোনার পর সত্যি সত্যিই হতভম্ব হয়ে পড়লেন ড. মরিস বুকাইলি। সেই মুহূর্তে তাঁর মনে হলো—এই গ্রন্থটি মানুষের
রচিত হওয়া কোনোভাবেও বাস্তবসম্মত নয়৷ আরবের মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে শত শত বছর আগে মিশরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার এমন বিবরণ দেওয়া একজন নিরক্ষর মানুষের পক্ষে রীতিমতো অসম্ভব।
কুরআনের এই অভিনব সত্য দর্শনে সেই মুহূর্তেই তিনি জোর গলায় চিৎকার দিয়ে ঘোষণা দিলেন, 'আমি ইসলামে বিশ্বাস করি, আমি এই কুরআনে বিশ্বাস করি।'

এ ঘটনার পর ফ্রান্সে ফিরে গেলেন ড. মরিস বুকাইলি। কিন্তু তখন তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মানুষ। বিশ্বাসের হিরণ্ময় জ্যোতিতে উদ্ভাসিত৷ পরবর্তী ১০ বছর পেশাগত ডাক্তারি প্রাকটিস বন্ধ রাখলেন এবং গভীর সাধনার মধ্য দিয়ে শিখে ফেললেন আরবি ভাষা। এরপর সমগ্র কুরআন আদ্যোপান্ত গবেষণা করলেন তিনি। সবকিছুই বিস্মিত করছিল তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করে লিখে ফেললেন পৃথিবীবিখ্যাত বই, 'Bible Quran & Science.' এই বই পৃথিবীর অন্তত ৫০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বইটির একটি উক্তি হলো, 'The Quran does not contain a single statement that is assailable from a modern scientific point of view'. অর্থাৎ কুরআনে এমন একটি তথ্যও নেই, যা আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

'কুরআন সাধকদের গল্প-২'

(Copied)

03/07/2023

ব্যাথা হয় না- এটি সঠিক নয়। বরং অন্য স্থানের চেয়ে কম ব্যাথা অনুভুত হয়।
এসব স্থানে অতিরিক্ত কেরাটিন জমে। এটাকে হাইপারকেরাটোসিস বলে। একারণে আপনার 'চিমটি' সহজে নার্ভ এন্ডিং (স্নায়ুর সংবেদনশীল প্রান্ত) পর্যন্ত সহজে পৌছায় না। এজন্য ব্যাথা কম লাগে।

কয়েকটা স্পটে চিমটি কাটুন। দেখবেন, সেইম অভিজ্ঞতা।

পায়ের গোড়ালির তালু, আঙ্গুলের প্রান্তের পুরু স্কিন, হাতের তালুর স্কিন, কনুই এর স্কিন।

এদের Thickened skin বলে।

চিমটি একটু জোরে দিন। দেখবেন চিমটি তালুর কেরাটিনাজড লেয়ার পেরিয়ে ঠিকই স্নায়ুকে আঘাত করবে। ব্যাথাও পাবেন।

(Copied)

03/07/2023

বীন বাজালে সিনেমায় সাপ নাচে। বাস্তবে নাচে না। সাপের কান নাই। শোনার জন্য ঘনঘন জিহ্বা বের করতে হয়।

সাপ আপনাকে আক্রমণ করবে না। আপনি যদি শব্দ করে হাঁটেন, সে বুঝতে পারে। সাপের বুকের তলায় খোলসের রঙ আলাদা। সেখানে বিশেষ স্নায়ুতন্তু থাকে। মাটির কম্পন বোঝার জন্য। আপনি কতদুরে আছেন, আপনি সাইজে কতবড়, কম্পন দেখেই সে বুঝতে পারে। পালিয়ে যায়।
বেলি, হাস্নাহেনার গন্ধে কখনো সাপ আসে না। কেউকেউ জীবদ্দশায় বেলি, হাস্নাহেনা গন্ধরাজের তলায় সাপ দেখেছেন হয়তো। মনে রাখবেন, সাপের ঘ্রাণশক্তি খুবই দূর্বল। সে গন্ধ পায় না।

সুগন্ধি ফুলে পোকামাকড় আকৃষ্ট হয় বেশি। পোকা খেতে ব্যাঙ আসে। ব্যাঙ খেতে মাঝেমাঝে সাপ আসতে পারে। খাবার পর মানুষের মত সাপও ক্লান্ত হয়। মানুষ খাবারের পর যেমন আয়েশ করে ঘুমায় তেমনই সাপও বেলি-হাস্নাহেনার তলায় ঘুমুতে পারে। তবে এসব গাছ যদি বাড়ির ভেতর থাকে তবে সাপ কম আসে। কারণ মানুষের উপস্থিতি তারা ভয় পায়। তবে বাড়ির সাইডে, ঝোপঝাড়ে এমন গাছ থাকলে সাপ আসা স্বাভাবিক।

একটা সাপকে মারলে তার জোড়া সঙ্গী কখনোই আপনাকে খুঁজে দংশন করতে আসবে না। সাপের স্মৃতিশক্তি খুবই দূর্বল। সাপ বাংলা সিনেমার স্বর্পরাজ শাকিব খান কিংবা নাগিন মুনমুন নয়

যে সঙ্গীহারার প্রতিশোধ নিতে ছুটে আসবে। সাপ নিম্নজাতের প্রাণি। এদের মধ্যে রিভেঞ্জ বলে কিছু নাই।
কিন্তু একটা সাপ মারার পর আরেকটা সাপ প্রায়ই একই স্থানে দেখা যায়, কারণ কী?

সিম্পল। মেটিং এর সময় তাদের পার্টনার আশেপাশে থাকতেই পারে কিংবা আশেপাশে গর্ত থাকলে তার বাচ্চাকাচ্চা কিংবা আরো সাপ উঠে আসতেই পারে। সে প্রতিশোধ নিতে আসেনি বরং ভুল করে গর্ত থেকে চলে এসেছে।
ছোট সাপের বিষ নাই। কথাটা ভুল। সাপের বাচ্চাও সাপ। কেঁচোর সমান একটা কেউটের কামড়ে আমার চোখের সামনে এক রোগীকে টানা ২৪ ঘণ্টা জীবনের সাথে ফাইট করতে হয়েছে। আইসিইউতে আমরা তিন ডাক্তার তার পাশে ২৪ ঘন্টা লড়েছিলাম। আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেশন থেকে শুরু করে একাধিকবার অ্যান্টি-ভেনম দিয়েছি। সে সুস্থ হয়ে বাড়িতে গেছে। যাবার আগে আমাদের গালিগালাজ করে গেছে। আমরা নাকি তাকে অনেক দামী ঔষুধ দিয়েছি। সে জানে না, একডোজ অ্যান্টিভেনমের দাম ১০ হাজার টাকা। লজিক্যালি লোকটার দোষ নেই। সে ছিল জেলে। দিনে হয়তো এক দেড়শ টাকা তার ইনকাম।
রাতে যারা বাজার থেকে অন্ধকারে ঘরে ফেরে তাদের এবং জেলেদের সাপ বেশি কাটে।

জেলেরা বর্ষায় রাতে আইল বরশি ফেলে, জাল ফেলে মাছ ধরে। নদী বা নালায় মাঝ ধরে। সাপ শুকনো ভেবে সেখানে থাকে। কামড় দেয়।
সিনেমা বলে, সাপ দুধ খায়। গরুর দুধ খেতে গোলাঘরে হানা দেয়। ভুল কথা। এসব সাপ ক্ষেতের ব্যাঙ- পোকামাকড় খায়। কালো রঙ্গের দাড়াশ সাপ দেখি, এরা আমাদের উপকার করে। ফসল বাঁচায়। এদের না মারা উত্তম।

সাপে কাটলে ব্লেড দিয়ে কেটে দিলে বিষ বের হয়ে যায়। কথাটা ভুল। ভুলেও এই কাজ করবেন না। ব্লেড দিয়ে কাটলেন তো বিষকে রক্তের সাথে নিজহাতে মিশিয়ে দিলেন।
দংশন করা সাপকে উল্টোকামড় দিলে বিষ ফেরত চলে যায় সাপের ভেতরে। কথাটা ভুল। পায়ে কাটলে বিষ সেখানে। আপনার মুখের দাঁতে তো বিষ নাই। কীভাবে ফেরত দিবেন?

সাপের বিষ তার দাঁতে থাকে না। সে যখন কামড় দেয় তার মুখের পেশিগুলো টানটান হয়ে যায়। দাঁতের কাছেই ঠাকে বিষধর। সেখান থেকে বিষ দাঁত বেয়ে আপনার শরীরে প্রবেশ করে।
শক্ত করে বাঁধলে বিষ ছড়াতে পারে না এমন ধারনা ভুলে যান। আপনি নিজেও নিশ্চিত না সাপটা বিষধর ছিল কি না, তাহলে শক্ত করে বাঁধবেন কেন?

অনেক ডাক্তার সাপে কাটার পর বাঁধতে নিষেধও করেন। কারণ এতে হিতে বিপরীত হয়।
ফুটবলের অ্যাংলেট পায়ে দিলে যেমন আটসাট হয়ে থাকে এমন ভাবে গামছা বা শার্ট বা শাড়ি দিয়ে দংশনের কিছু উপরে পেঁচিয়ে নিতে পারেন। বাঁধন অবশ্যই ঢিলা রাখবেন। দুট আঙ্গুল ঢোকে এমনভাবে ঢিলা করবেন। আবার খুব ঢিলাও না। ২০ মিনিট পরপর খুলে আবার লাগাতে পারেন। ভুলেও লোহার তার, সুতলি, কারেন্টের তার বা অন্য সরু জিনিস দিয়ে বাঁধবেন না। বাঁধলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে হাতে-পায়ে পঁচন শুরু হবে। চিরতরে হাত বা পা খোয়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। হয়তো আপনাকে বিষধর সাপ কাটেই নি অথচ আপনি ভয়ে গিট্টু দিয়ে হাত পা পঁচিয়ে পঙ্গু হয়ে গেলেন। কেমন হবে?

সাপ কাটলে কিন্তু আংটি, চুড়ি, ব্রেসলেট খুলে ফেলবেন। কিছু সাপের বিষে আপনার আঙ্গুল, হাত বা পা ফুলে যেতে পারে। আংটি বা চুড়ি থাকলে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পঁচন ঘটতে পারে।
সাপ কখন দংশন করে?
১। যদি ভুলে আপনার মুখোমুখি হয় সে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু সে নিজে ভয় পেলে হিংস্র হয়। সব প্রাণিই এমন। মুরগীরও মাঝেমাঝে মানুষকে ঠোকর দেয়। সামনে সাপ পড়লে তাকে চলে যেতে দিন।
২। বর্ষাকাল মানেই হাসপাতালে সাপে কাটা রোগী। বর্ষায় গর্তে পানি উঠে যায়। ফলে সাপ ডাঙ্গায়, শুকনো জায়গায় উঠে আসে। সেটা ক্ষেতের আইল, রাস্তা কিংবা আপনার ঘরের তোশকের তলা, বালিশের তলা, আলনার ভেতর, কাঠের স্তুপ যেকোন জায়গাতেই আসতে পারে।
৩। অন্ধকারে সাপের শরীরে পা পড়লে। জঙ্গলায় ভুলে তার শরীরে পা পড়লে কামড় দেয়।
৪। ইদুরের গর্তে সাপ থাকলে সেখানে পা রাখলে বা বসে থাকলে কামড় দিতে পারে। বাচ্চা ছেলেরা মাঝেমাঝে বসে গর্তের মুখে প্রস্রাব করে। সন্তানকে শিক্ষা দিন। এই কাজ যেন না করে।
সব সাপ বিষাক্ত?
বাংলাদেশে ৮০ ধরণের সাপ আছে। মাত্র ২৭ তা বিষাক্ত। অধিকাংশই সামুদ্রিক। মাত্র ৫/৬ প্রজাতি স্থলে আছে যারা বিষধর।
আপনার চোখের সামনে নিয়মিত যাদের ঘোরাফেরা দেখেন, তারা বিষাক্ত নয়। পানির সাপ অধিকাংশই বিষাক্ত নয়। তবে সামুদ্রিক সাপ সবাই বিষাক্ত।

যদি চেনেন তবে বলি গোখরা, কালকেউটে, শঙ্খচূড়, চন্দ্রবোড়া বিষাক্ত।
সাপে কাটলে বুঝবেন কীভাবে?
দংশন করেছে এমন মনে হবার পর যদি সরাসরি সাপ দেখেন, তাহলে ভাবতে পারেন সে আপনাকে দংশন করেছে।
একবার এক ছেলে হাসপাতালে আসল। মাটির ঘরে অন্ধকারে হেলান দিয়ে ছিল। পীঠে সাপ কেটেছে। সারাদিন হাসপাতালে আমাদের অবজারভেশনে ছিল। রাতে রিলিজের আগে খবর আসল, যেখানে হেলান দিয়ে ছিল, সেখানে কে যেন তারকাটা পুতে রেখেছিল। পীঠে লেগে তারকাটা দেয়ালে ঢুকে যায়। খোচা লাগাকে সাপে কাটা ভেবে সে হাসপাতালে আসে। ২৪ ঘণ্টা ভয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঘরে ফেরে সুস্থ অবস্থায়।

বিষাক্ত সাপে কাটলে বোঝা বেশ সহজ।
১। শিকারি পশুর মত সাপের দুটো দাঁত বড় থাকে। বাঁকানো। দংশন করলে গভীর ক্ষত হয়। দুঁটো দাঁতের অস্তিত্ব থাকলে ধরে নিতে পারেন, আপনাকে বিষাক্ত সাপ দংশন করেছে।
২। যদি অনেকগুলো দাঁত থাকে, সেখানে মাংস তুলে নিলেও ভেবে নিতে পারেন এটা ছাগলের মত। অনেক দাঁত কিন্তু বিষদাঁত নাই। আপনার কিছু হবে না।
৩। সাপের বিষ কয়েক ধরণের। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে নিউরোটক্সিন রিলিজ করা সাপের কামড়ে। এক্ষেত্রে ঝিমঝিম লাগবে। চোখে ঝাঁপসা দেখবে। চোখের উপরের পাতা নেমে চোখ অংশিক বন্ধ হয়ে যাবে। মাথা ঝুলে যাবে। জিহ্বা ও শ্বাসনালী ফুলে যাবে। শ্বাস নিতে পারবে না। মুখে লালা ঝরবে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। বমি করতে পারে।
আরো নানাবিধ লক্ষণ আছে।
চন্দ্রবোড়া কামড় দিলে লোহিত রক্তকনিকা ভেঙ্গে যায়। ফলে রক্তবমি, রক্তপায়খানা হতে পারে। কামরের জায়গায় রক্ত ঝরতে পারে। ফুলে যেতে পারে, লাল হতে পারে। ফোস্কা পড়তে পারে। কালোও হতে পারে।
কিছু সাপের কামড়ে হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারাও যেতে পারে।
মাঝেমাঝে নির্বিষ সাপ কামড়েও মানুষ মারা যায়।কেন জানে?
ভয় পেয়ে হার্ট অ্যাটাক করে।
সাপে কামড়ে সিনেমায় গড়াগড়ি দেখেন, বিষের কারণে চেঁচামেচি দেখেন। এগুলো অভিনয়। সাপের বিষ নিয়ে একটা প্রবাদ আছে, কেমন ব্যাথা বুঝিবে সে কীসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে... এইসব ভুলে যান। সাপে কাটা মানুষ খুব স্বাভাবিক থাকে শুরুতে। কোন ব্যাথা নাও থাকতে পারে। এমনকী মৃত্যু ঘটার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত কোন ব্যাথা নাও বুঝতে পারে।
চিকিৎসা?

একদম ঘাবড়াবেন না। বেশি ঘাবড়ালেই বিষ বেশি ছড়াবে।
সাপেকাটা জায়গা ধুয়ে ফেলুন সাবান দিয়ে।
কাটবেন না ব্লেডে।
চুষে রক্ত বের করবেন, এমন চিন্তা ভুলে যান।
যেখানে কামড়াবে সেখানকার নাড়াচাড়া বন্ধ। হাতে কামড়ালে হাত নাড়ালে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে যায়। হাত একদম নাড়াবেন না। পায়ে কামড়ালে হাঁটবেন না।

সাপেকাটা স্থানে ভুলেও অ্যাসিড ঢালবেন না। মরিচের গুড়ো দিবেন না। কার্বলিক অ্যাসিডে ঝলসাবেন না। কোন ফলের বীজ, সর্পরাজ তেল, গুটি, আটি, বড়ি, তাবিজ কিছুই লাগাবেন না।
সাপটাকে পারলে চিনে রাখুন। ডাক্তারকে বললে চিকিৎসা পেতে সুবিধা হবে। তবে ধরে যাবেন না। মেরেও ফেলার দরকার নাই।
মৃত সাপকে ধরতে যাওয়াও নিরাপদ নয়। এরা মৃত্যুর ভান করে শুয়ে থাকতে পারে।

জীবিত ধরে ওঝার কাছে যাবেন, এমন চিন্তা থাকলেও ঝেড়ে ফেলুন। ওঝা সাপের বিষ নামাতে পারে না।
ওঝারা অনেক রোগী ভালো করে। যেগুলো আসলেই বিষাক্ত সাপের কামড় ছিল না। বিষাক্ত হলে একটা সময় বুঝতে পারে তখন নানা অজুহাত নাগ-নাগিনির কথা বলে এরা হাসপাতালে রোগী রেফার করে। আমরা হাসপাতালে অনেক পাই যারা একেবারে শেষ মুহুর্তে আসে। ওঝার কাছে গিয়ে জীবন খুইয়ে ফেলার পরিস্থিতি তৈরি করে আসে।
বিষাক্ত সাপে কাটলে আপনি বাঁচতে পারেন একটামাত্র পথন অনুসরণ করলে। সেটা হল- দুনিয়ার কারো মতামত নিবেন না। সরাসরি হাসপাতাল যাবেন।

সাপে কাটলে এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে সরকারি বড় হাসপাতালে যান। রাসেল ভাইপারভ বাদে সব সাপেরই বিষের অ্যান্টিভেনম আছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই চিকিৎসা শেষে ফিরে আসবেন। [রাসেল ভাইপার বাংলাদেশে বিলুপ্ত সাপ। তবে রাজশাহীতে কয়েকবার নতুন করে পাওয়া গেছে। ফরিদপুরে পাওয়া গেছে কিছুদিন আগে। বন্যার জল-স্রোতে এরা আবার ছড়িয়ে পড়তে পারে দেশময়]

যদি বুঝে ফেলেন, সাপতা বিষধর নয়, তাহলে কী করবেন?
তবুও হাসপাতালে যাবেন। ভর্তি হয়ে প্রয়োজনে বিছানায় ২৪ ঘন্টা বসে থাকবেন। তবুও হাসপাতালে যাবেন।

[নোটঃ অধিকাংশ সাপই নির্বিষ। সাপ মারবেন না। সাপ বাস্তুতন্ত্রের অংশ। ঘরে সাপ পাওয়া গেলে স্নেক রেস্কিউয়ারকে জানাতে পারেন। ওঝাদের জানিয়ে পরিবেশ থেকে এসব সাপ বিলুপ্ত করবেন না। ওঝারা সাপ মেরে পুড়িয়ে তেল বানায়। সেই তেল বাত ব্যাথা- সাপের বিষ নামানো, হারানো যৌবন পুনরুত্থান নামক নানাকিসিমের মিথ্যা চিকিৎসায় ব্যবহার করে। তাদের এই কাজ করতে দিবেন না। কারণ দিনশেষে সেই সাপের তেল হয়তো আপনার আত্মীয়ই কিনে নিয়ে ব্যবহার করছে]
কার্বলিক অ্যাসিডে সাপ পালায়?
সাপের ঘ্রাণ শক্তিই এত দূর্বল যে ফুলের গন্ধেও আসে না, তাহলে কার্বলিকে সাপ পালাবে কে বলল আপনাকে?
এসব সেইফটি এককালে প্রচলিত ছিল। এখন ব্যর্থ টোটকা।
বাড়িতে খড়ের গাদা, লাকড়ির স্তুপ থাকলে আপনার মা বা স্ত্রীকে সতর্ক করে দিন। খড় বা লাকড়ি নেবার আগে সেখানে লাঠি দিয়ে কিছুক্ষণ শব্দ করুন। সাপ থাকলে চলে যাবে।
রাতে বিছানা এমনকী বালিশের তলাও চেক করবেন। আলনার ভেতরে থাকতে পারে। শব্দ করে কাপড় নিতে যাবেন।
বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড় থাকলে কেটে ফেলুন। ঈদুরের গর্ত থাকলে ভরাট করে ফেলুন।
অনেকেই বলেন, মরিচপড়া দিয়ে ইদুরের গর্তের মুখে ধরলে সাপ চলে যায়। এ ব্যাপারে আমার জানা নাই। অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে পারেন।
বর্ষাকাল বর্ষা সবে। তখন সাপ আপনার বাড়িতে-ঘরে আশ্রয় নিতে আসতেই পারে। সাবধান থাকুন। অন্যদের সতর্ক করে রাখুন। গ্রামের আপন মানুষদের (বাবা-মা, বউ-বাচ্চা-বন্ধু) সাপের ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে রাখুন।
সতর্ক থাকবেন-ভয় পাবেন না-অবহেলা করবেন না।

(Copied)

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Dhaka
1216