جامعة دار الصفة للبنات

جامعة دار الصفة للبنات নারীদের দীনি তালীম ও তারবিয়াতের এক আদর্শ ও বিশ্বস্ত সঙ্গী।

আল্লাহ তায়ালার অগণিত সৃষ্টির মাঝে মানবজাতিই সেরা। আল্লাহ তায়ালার ইবাদত, রাসূলের আনুগত্য, নৈতিক গুণাবলীর অনুশীলন, মানবীয় তৎপরতা, সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের মধ্য দিয়েই মনুষ্যত্বের বিকাশ। আর জ্ঞান ও কর্মে তার শ্রেষ্ঠত্বের বহিঃপ্রকাশ। জ্ঞান যদি বিশুদ্ধ না হয়, কর্ম যদি না হয় পরিশুদ্ধ তাহলে সে মানুষ না; অমানুষ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “আমি জিন ও মানুষের মধ্য হতে বহুজনকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি। তাদের অন্তর আছে কিন্তু তা দ্বারা তারা অনুধাবন করে না, তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দ্বারা দেখে না এবং তাদের কান আছে কিন্তু তা দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তারচেয়েও বেশী বিভ্রান্ত। এরাই গাফেল।” তাইতো রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সর্বপ্রথম ওহী নাযিল করে আল্লাহ তায়ালা আদেশ করেন, اقرأ (পড়)। কিন্তু তিনি কি শুধু পড়তে বলেই ক্ষান্ত করেছেন? না, তা করেননি বরং পাঠের বিষয় সুস্পষ্টরূপে উল্লেখ করে বলেন, باسم ربك الذي خلق (তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।) অতএব যে-কোনো শিক্ষাই মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড হতে পারে না। বরং যে শিক্ষা খালেক ও মাখলূকের মাঝে সেতুবন্ধন তৈরী করে, সৃষ্টিকে স্রষ্টার নৈকট্য দান করে, মানুষের মাঝে তার রবের পরিচয় ও বড়ত্ব তুলে ধরে, মানুষের মাঝে উন্নত নৈতিকতা ও মনুষ্যত্ববোধ সৃষ্টি করে, মানবজীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ অবগত করে, সর্বোপরি যে শিক্ষার মাধ্যমে মানবজাতি মনুষ্যত্বের সর্বোচ্চ শিখরে আসীন হতে পারে সে শিক্ষাই মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের মানদন্ড এবং জাতির মেরুদণ্ড।
ইসলামের উষালগ্নে ইলমে ওহীর চর্চা আর বিকাশ সাধিত হয় মক্কার দারে আরকামে, মদীনার সুফফায়। ওহীর নির্মল ঝরনাধারায় স্নাত হয়ে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পাশে গড়ে উঠে সোনালী মানবের একটি বিশাল জামাত। যাঁরা এ ধূলির ধরাতেই পেয়েছিলেন প্রভুর সন্তুষ্টির মহান ঘোষণা رضى الله عنهم ورضوا عنه (আল্লাহ তায়ালা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহতে সন্তুষ্ট।) তাঁদের সেই ইলম্-আমল আর আদর্শের ফল্গুধারা বয়ে চলে যুগ থেকে যুগান্তরে। সেই স্রোতধারারই নির্মল একটি ঝরণা হলো দারুল উলূম দেওবন্দ। যুগের চাহিদা ও দাবীর প্রেক্ষিতে নানা অনুষঙ্গ ও প্রসঙ্গ যুক্ত হলেও আজকের এই দেওবন্দী ধারার বিদ্যাপীঠগুলো সেই আরকামীয় স্রোতধারারই এক একটি প্রবাহ। দারুস সুফফাহ ইলমে নববীরই একটি তেজস্বী স্রোতস্বিনী এবং ইলমে নববীরই প্রতিনিধি। সুতরাং দারে আরকাম থেকে দারুস সুফফাহ একই সূত্রে গাঁথা।
কেন দারুস সুফফাহ প্রতিষ্ঠা:
চমৎকার বলেছেন জনৈক কবি:

নারীর সৃজনই ধরাকে করেছে শোভাময়॥
মানব জাতির সম্প্রসারণ ধারায় বিভিন্ন সভ্যতা ও সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও দেশ অস্তিত্ব লাভ করে। সে ধারায় মানব জাতির পথ প্রদর্শনের জন্য নবী-রাসূল প্রেরণের ধারাও অব্যাহত থাকে। বিশ্বময় মানব সভ্যতার ঈর্ষণীয় অগ্রগতি ও সোনালী ইতিহাসের পেছনে অবশ্যই কোন না কোন নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ যুগে যুগে নারীরাই ছিল অবহেলিত, নির্যাতিত ও নিষ্পেসিত। তবে ইসলাম নারীজাতিকে আসীন করেছে অনন্য মর্যাদায়। নারী যদি হয় কন্যা তবে তোমার গর্বের ধন, যদি হয় ভগ্নি তবে সে তোমার সম্মান, যদি হয় স্ত্রী তবে সে তোমার জীবন সঙ্গিনী, জীবন চলার সাথী, নারী যদি হয় মা তবে তার পদতলে তোমার জান্নাত-এই হলো ইসলামের শিক্ষা।
ইসলাম প্রদত্ত এই সম্মান সারা বিশ্বের নারীদের মুক্তি, মর্যাদা ও অধিকারের মহাসনদ হিসেবে বিবেচিত। ইসলামের অধিকার বলে মুসলিম রমণীগণ কুরআন, হাদীস, মাসআলা-মাসায়িলের পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রেও অনন্য ভূমিকা রেখেছে। তাইতো দেখা যায় গার্হস্থ্য থেকে রণাঙ্গন কোথায় নেই নারীর বিচরণ!
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম নারীদের শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। নারীদের শিক্ষা-দীক্ষার জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম স্বতন্ত্র মজলিসের ব্যবস্থা পর্যন্ত করেছেন। তাদের জন্য সপ্তাহের একটি দিন ধার্য করে সেদিন তাদের মাসআলাগুলো শুনতেন ও তাদেরকে শিক্ষা দিতেন। তাঁর অনুকরণে প্রতিটি যুগের উলামায়ে কেরাম কোন না কোনভাবে নারীদের শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। এ কারণেই নারীরা শুধু দীনি ইলমের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায়ই দক্ষতা ও পরিপক্কতা অর্জন করেনি; বরং কর্মক্ষেত্রেও তাদের ছিল ঈর্ষণীয় কীর্তি। তাদেরই সযত্ন লালনপালন, শিক্ষা ও শাসনে বেড়ে উঠেছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের কিংবদন্তি, দিগি¦জয়ী সাহসী বীর সেনানী, ইনসাফগার ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসক, ছূফী সাধক। ইতিহাসের প্রতিটি সফল ও প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের পেছনে তাদেরই ভূমিকা অনস্বীকার্য।
অধঃপতনের এই যুগে আমাদের নারীরা ভুলে বসেছে তাদের গৌরব ও ঐতিহ্য। নায়িকা, গায়িকা, মডেল, উপস্থাপিকা আর বিশ্ব সুন্দরীর প্রতিযোগিতায় হারিয়ে গেছে ইজ্জত-আবরু, হায়া ও গায়রত। তাদেরকে উপস্থাপন করা হয় বিভিন্ন আসরের শোভাবর্ধক এবং বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে। মুসলিম নারী হয়েও অবলীলায় এসব করছে। আর তুলনামূলক সম্ভ্রান্ত ও কিছুটা দীনদার পরিবারের নারীরা শুধু গৃহস্থালীর কাজ কর্ম আঞ্জাম দেয়া এবং বাচ্চাদের প্রতিপালনকেই জীবনের উদ্দেশ্য মনে করে। মুসলিমজাতি হিসেবে নারীদের এই অধঃপতন আমাদের আশাহত করে।
মহান আল্লাহ নারীদের নামে একটি স্বতন্ত্র সূরাই নাযিল করেছেন। নারীদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য অভিভাবকদের উৎসাহিত করে প্রিয় নবী স. বলেন, যে ব্যক্তি তিনজন কন্যাসন্তান বা তিনজন বোনকে লালনপালন করবে এবং তাদের ভদ্রতা, শিষ্টাচার, উত্তম চালচলন ও মার্জিত আচার-ব্যবহার শিক্ষা দিয়ে উপযুক্ত করে গড়ে তুলবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দেবেন- (বুখারী)। হযরত ওমর রা. বলেন, তোমরা নারীদের সূরা নূর শিক্ষা দাও। তাই শরীয়ত অনুমোদিত উপায়ে নারীশিক্ষার প্রসার ও তৎপরতাকে ইসলাম কল্যাণকর এবং অপরিহার্য মনে করে। শিক্ষাসহ নারীর সকল মৌলিক অধিকারপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে মহানবী স. বলেন, তোমরা নারীজাতির বিষয়ে সতর্ক হও। কেননা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ। (বুখারী)
নারীদের ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শ নারীরূপে নিজেকে গড়ে তোলার উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার এমন সংকটময় মুহূর্তে নারী শিক্ষালয় যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক। সে লক্ষ্যেই ১৪৪৪ হিজরী সনের শাওয়াল মাসে ( মে-২০২৩ ঈ:) প্রতিষ্ঠা লাভ করে দারুস সুফফাহ।
জামিয়ার অবস্থান: জামিয়ার যেহেতু নিজস্ব কোন ভবন নেই। তাই ২৫/৭ ডি, শের শাহসূরী রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭ এ বাড়ীতে জামিয়া তার কার্যক্রম শুরু করে। এটি বাইতুল ফালাহ মসজিদের উত্তর পাশে ও জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুল ফালাহ এর গেট এর সাথে।
লক্ষ্য-উদ্দেশ্য: কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য লাভ ও নববী আদর্শের আলোকে একদল আদর্শ মা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। যাদের ক্রোড়ে বেড়ে উঠবে যুগের গাজালী, রাজী, জিলানী আর মোহাম্মদ বিন কাসিমরা। সাথে সাথে যারা এ নারী ফিতনার যুগে নারীদের মাঝে একজন আদর্শ দাঙ্গ এর ভূমিকা পালন করবে এবং ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ও প্রোপাগাণ্ডার কলমী জবাবদানে অনবদ্য ভূমিকা পালন করবে।
আর এ সবের পেছনে একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে পরকালীন মুক্তি।

জামিয়া দারুস সুফফাহ ও নারীদের ধর্মীয় শিক্ষাভূমিকাআল্লাহ তায়ালা বলেন: “اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ -পড়ো তোমার ...
29/10/2025

জামিয়া দারুস সুফফাহ ও নারীদের ধর্মীয় শিক্ষা

ভূমিকা
আল্লাহ তায়ালা বলেন: “اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ -পড়ো তোমার সেই প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আল-‘আলাক: ১)
আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—طلب العلم فريضة على كل مسلم.- “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয।” (ইবনে মাজাহ)
এই আয়াত ও হাদীস প্রমাণ করে যে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্যই ইসলামী জ্ঞান অর্জন অত্যাবশ্যক। কারণ জ্ঞানের আলো ছাড়া দীন ও সমাজের সঠিক দিকনির্দেশনা সম্ভব নয়।
মহান মুসলিম মনীষী হযরত ইমাম গাযযালী রহ. বলেছেন, “নারীর শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের মাধ্যমেই একটি জাতির নৈতিক ভিত্তি দৃঢ় হয়।”
একজন শিক্ষিতা ও নেককার মায়ের কোলে জন্ম নেয় জ্ঞানী, নৈতিক ও আল্লাহভীরু প্রজন্ম। তাই নারীর ধর্মীয় শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির উপকরণ নয়, বরং এটি গোটা সমাজের আত্মিক জাগরণের মূলভিত্তি।
এই বিশ্বাস থেকেই “জামিয়া দারুস সুফফাহ লিল-বানাত” প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
“তা‘লীম, তারবিয়াত ও হুসনে আখলাক”— এই মহৎ স্লোগান ধারণ করেই যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
নারীদের দীনি-তালীম-তারবিয়াতের এক আদর্শ ও বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে এটি এখন দীনপ্রেমী অভিভাবক ও ছাত্রীদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য নাম।
প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও লক্ষ্য
‘জামিয়া দারুস সুফফাহ লিল-বানাত, ঢাকার মোহাম্মদপুরের শের শাহসূরী রোডে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য মহিলা মাদরাসা। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইসলামী জ্ঞানের বিস্তার, নারীদের চরিত্র গঠন, আমল ও আখলাকের উন্নয়ন এবং সমাজে দ্বীনি দাওয়াতের কাজকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে।
প্রতিষ্ঠাতা আলেমগণ উপলব্ধি করেছেন— নারী যদি দীনী জ্ঞানে সমৃদ্ধ না হয়, তবে পরিবার ও সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সেই চিন্তা থেকেই জামিয়াটি প্রতিষ্ঠিত হয় “ইলম ও আমলের সমন্বয়ে নারীর পূর্ণাঙ্গ ইসলামী গঠন”— এই মূলনীতির ওপর।
শিক্ষার ধারা ও পাঠ্যক্রম
জামিয়া দারুস সুফফাহ লিল-বানাত বাংলাদেশের কওমী ধারার শিক্ষাব্যবস্থার আওতাভুক্ত। এখানে শিক্ষা কার্যক্রম প্রাথমিক থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়।

প্রধান ধাপসমূহ হলো —
1. নূরানী ও প্রাথমিক বিভাগ – কুরআন তিলাওয়াত, তাজবীদ, আরবী হরফ, মৌলিক দীনী জ্ঞান, বাংলা, ইংরেজী ও সাধারণ বিষয়সমূহ।
2. মুতাওয়াসসিতা (মধ্যম স্তর) – নাহু, সরফ, ফিকহ, তাফসীর, সীরাত ও হাদীস অধ্যয়ন।
3. সানাভিয়া (উচ্চ মাধ্যমিক স্তর) – হিদায়া, কুদূরী, নূরুল আনওয়ার, মিশকাতুল মসাবীহ প্রভৃতি গ্রন্থ অধ্যয়ন।
4. **তাকমীল (দাওরায়ে হাদীস) – সহীহ বুখারী, মুসলিম, তিরমিজী, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, মুওয়াত্তা ইমাম মালিক ও মুওয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদসহ তেরোটি প্রসিদ্ধ হাদীস গ্রন্থ পাঠ ও বিশ্লেষণ।
এই সমৃদ্ধ পাঠ্যসূচি ছাত্রীদের শুধু জ্ঞানীই নয়, বরং সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বদানকারী রূপে গড়ে তোলে।
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বৈশিষ্ট্য
জামিয়ার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—
আখলাক ও আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ: প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিয়মিত তাযকিয়া, দাওয়াত, খিদমাত ও আদবের চর্চায় অভ্যস্ত করা হয়।
সাধার শিক্ষার সংমিশ্রণ: বাংলা, ইংরেজী ও সাধারণ জ্ঞানের পাঠও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ: পর্দা, সময়নিষ্ঠা, আমল ও আখলাকের বিষয়ে কঠোরভাবে নিয়ম পালন করা হয়।
অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী: দক্ষ মহিলা শিক্ষিকা ও অভিজ্ঞ উস্তাযাদের মাধ্যমে পাঠদান পরিচালিত হয়।
শিক্ষার ফলাফল ও প্রভাব
প্রতি বছর জামিয়া থেকে বহু ছাত্রী দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকতা, মহিলা মক্তব পরিচালনা, কুরআন শিক্ষা ও সমাজে দীন প্রচারে নিয়োজিত হচ্ছেন।
এই নারীরা নিজেদের পরিবার ও সমাজে দীনী চেতনা জাগিয়ে তুলছেন, যা ইসলামী সমাজ নির্মাণে এক বিশাল অবদান।
আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গি
জামিয়া দারুস সুফফাহর লক্ষ্য শুধু জ্ঞানার্জন নয়, বরং আচরণ, আদব ও আমলের মাধ্যমে ইসলামী জীবনধারা বাস্তবায়ন।
প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে, “জ্ঞান তখনই মূল্যবান, যখন তা আমলে রূপ নেয়।”
এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য জামিয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, সহানুভূতি, বিনয়, পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের গুণাবলি গড়ে তোলে।
উপসংহার
নারীর দীনী শিক্ষাকে কেন্দ্র করে জামিয়া দারুস সুফফাহ লিল-বানাত আজ একটি শক্তিশালী ও আলোকিত কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এটি শুধু একটি মাদরাসা নয়, বরং একটি ‘‘নারী দীনী জাগরণের প্রতিষ্ঠান’’।
যেখানে নারীরা কুরআন-সুন্নাহর আলোয় নিজেদের জীবন সাজায়, পরিবারকে ইসলামী নীতিতে পরিচালিত করে এবং সমাজে আল্লাহভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলে।
এই জন্য বলা যায়—
“জামিয়া দারুস সুফফাহ লিল-বানাত— মুসলিম নারীর জ্ঞান, চরিত্র ও আমলের পরিপূর্ণ বিকাশের এক উজ্জ্বল আলোকস্তম্ভ।”

29/10/2025
29/10/2025
জামিয়ার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা আগামী ২৫ অক্টোবর শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।"📖
28/09/2025

জামিয়ার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা আগামী ২৫ অক্টোবর শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।"📖

জামিয়ার প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল
14/08/2025

জামিয়ার প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল

জামেয়ার পরীক্ষার হল প্রস্তুত আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তাআলা পরীক্ষার্থীদের কামিয়াবী দান করুন।
26/07/2025

জামেয়ার পরীক্ষার হল প্রস্তুত আলহামদুলিল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা পরীক্ষার্থীদের কামিয়াবী দান করুন।

Address

Mohammadpur
Dhaka
1207

Telephone

+8801816401846

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when جامعة دار الصفة للبنات posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category