13/05/2024
আপনি জানেন কি? দক্ষিন কোরিয়া প্রতি বছর সরকারীভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। চাইলে আপনিও শুধুমাত্র কোরিয়ান ভাষা শিখে খুব সহজে বোয়েসেল এর মাধ্যমে সরকারীভাবে স্বল্পখরচে কোরিয়ায় গমন করতে পারেন এবং নিজের সফল কর্মজীবন নিশ্চিত করতে পারেন।
ইপিএস কর্মসূচীর আওতায় কর্মী নির্বাচন, রোস্টার, শ্রম চুক্তি ইস্যু এবং চ্যালেঞ্জ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সচেতনমূলক তথ্য:
বাংলাদেশ সরকার ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ও কোরিয়া সরকারের পক্ষে হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস অব কোরিয়া (এইচআরডি কোরিয়া)’র যৌথ ব্যবস্থাপনায় ইপিএস-এর আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষিণ কোরিয়ায় গমন করে থাকে।
এইচআরডি কোরিয়া কর্তৃক নির্ধারিত বার্ষিক কোটার ভিত্তিতে কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইন প্রাথমিক নিবন্ধন, প্রয়োজনে লটারি, চূড়ান্ত নিবন্ধন ও চূড়ান্ত পাশের সংখ্যা এবং জব রোস্টারভুক্ত করে থাকেন।
রোস্টার-এ অন্তভূক্তির পদ্ধতি:
এইচআরডি কোরিয়া কর্তৃক কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষা, স্কীল টেস্ট ও কালার ব্লাইন্ডনেস টেস্ট গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়ে থাকে।
এইচআরডি কোরিয়ার চাহিদা মোতাবেক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের চাকরির লক্ষ্যে রোস্টারভুক্ত করা হয়ে থাকে। রোস্টারভুক্ত হওয়ার পর কে আগে বা পরে পাশ করলো, কে বেশি বা কম নম্বর পেলো, কার শিক্ষাগত কম বা বেশি এ তথ্যগুলো জব রোস্টারে উল্লেখ থাকে না বিধায় শ্রম চুক্তি ইস্যুর ক্ষেত্রে ব্যাচ/সাল ভিত্তিক অগ্রাধিকার প্রদানের কোনো সুযোগ নেই।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের পদ্ধতি:
• ইপিএস-এর আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ১৬টি দেশ থেকে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করে থাকেন;
• সংশ্লিষ্ট ১৬ দেশের সেন্ডিং এজেন্সি (বোয়েসেল)-এর কার্যক্রমের মূল্যায়ন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত কর্মীদের অবৈধ অবস্থান রোধ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক অবস্থার উপর কোরিয়া সরকার বার্ষিক কোটা নির্ধারণ করে থাকেন;
• কোরিয়াগামী ইপিএস কর্মীদের কর্মস্থলসহ সার্বিক বিষয়ের উপর বার্ষিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিয়োগকর্তা কর্মসংস্থান কোটা পূরণ নিশ্চিত করে থাকেন;
• কোরিয়ান নিয়োগকর্তা কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে নির্ধারিত ১৬ দেশের মধ্যে পছন্দের দেশের প্রায়োরিটি তালিকাসহ কোরিয়াস্থ শ্রম মন্ত্রণালয়ে আবেদন দাখিল করেন;
• কোরিয়াস্থ শ্রম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার সক্ষমতা যাচাই বাছাই করে সঠিক প্রমাণিত হলে, নির্ধারিত জব রোস্টার থেকে এক জন প্রার্থীর বিপরীতে ৩ জন প্রার্থীর তথ্যসহ জব অ্যাপলিকেশ নিয়োগকর্তার নিকট প্রদান করেন;
• সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা তিন জন থেকে যাচাই বাছাই করে একজন প্রার্থীর শ্রম চুক্তি ইস্যু করে থাকেন এবং
• শ্রম চুক্তি ইস্যুর প্রেক্ষিতে সিসিভিআই ইস্যু হলে বোয়েসেল নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও বর্হিগমন কার্যাদি সম্পন্ন করে নিয়োগ প্রাপ্ত দক্ষিণ কোরিয়া গমনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
মনে রাখতে হবে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা পুরণে একজন ইপিএস কর্মীর দায়িত্ব অপরিসীম। এজন্য নিয়োগকর্তার নিয়মনীতি এবং গন্তব্য দেশের আইন মেনে চলতে হবে:
• কোন অবস্থায় কর্মস্থলে কারো সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না;
• বিনা কারণে অজুহাত সৃষ্টি করে কর্মস্থল পরিবর্তন করা যাবে না;
• কোরিয়ান ভাষায় সাবলিলভাবে কথা বলার সক্ষমতা হারানো যাবে না।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য ইপিএস কোটা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের বিপুলসংখ্য দক্ষ কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চ বেতনে কর্মস্থানের সুযোগ পাবেন। এজন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার পূর্বে,
• কর্মস্থল পরিবর্তনের মানসিকতা দূর করতে হবে;
• কর্মস্থলে উত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে;
• ভাষা দক্ষতা ও কর্ম দক্ষতা দিয়ে কর্মীর অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে।
যদি একজন কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার পর এসব গুনাবলী অর্জন করতে সক্ষম হলে তারা বিধি অনুযায়ী E-7 ভিসায় অধিকারী হতে পারেন, নিয়োগকর্তার চাহিদা মোতাবেক লাগাতার কর্মের সুযোগ পাবে। ক্ষেত্র বিশেষে পরিবার নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কর্মীকে উচ্চ বেতনে দক্ষতার সাথে দক্ষিণ কোরিয়ায় কাজ করুন, আর একজন বাংলাদেশি কর্মীকে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করুন এবং বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধশালী করুন।
যেহেতু ইপিএস কর্মসূচির আওতায় কর্মী নিয়োগ/শ্রম চুক্তি ইস্যু প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে হয়ে থাকে, সেহেতু ২০২৪ সনে নির্ধারিত ১১৫০০ জনের কোটা পূরণের লক্ষ্যে নির্বাচিত প্রার্থী বা কোরিয়া অবস্থানরত সকলকে কোরিয়ান ভাষা চর্চা আরও বৃদ্ধিসহ সকল পর্যায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে, তুচ্ছ বা বিনা প্রয়োজনে চাকরি পরিবর্তন/রিলিজ না করা, দক্ষিণ কোরিয়ার আইন কানুন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানকালীন চলাফেরা ও চাকরির রীতিনীতি এবং সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, 3D (Dirty, Difficult & Dangerous) কাজে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও পুশআপ করা (পুশ আপ হলো একটি অতি পরিচিত সরঞ্জামবিহীন শরীরচর্চা যেখানে প্রন পজিশন বা উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় দুই হাত বা বাহুর উপর ভর করে শরীর ওঠানামা করা হয়, প্রচলিত বাংলায় এটি বুক ডাউন নামে পরিচিত), কোরিয়ান ভাষায় স্পিকিং ও লিসেনিং এর উপর অধিকতর গুরুত্বারোপ করতে হবে। কোরিয়া ভাষা কোচিং সেন্টার/প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে বর্ণিত বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
সবার জন্য নিরন্তর শুভকামনা, বোয়েসেল।
বোয়েসেল এর ফেসবুক পেজ হতে সংগৃহীত।