23/09/2026
ব্যবসায়িক লেনদেন থাকলে প্রতারনার মামলা চলবে না এই সংক্রান্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ‘ইসলাম আলী মিয়া ওরফে মো. ইসলাম বনাম আমল চন্দ্র মণ্ডল এবং অন্যান্য’ (Criminal Appeal No. 3 of 1992) মামলার ঐতিহাসিক রায়টির একটি বিস্তারিত পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
১. মামলার সংক্ষিপ্ত পটভূমি ও ঘটনা (Factual Background)
পক্ষসমূহ: আপিলকারী হলেন মো. ইসলাম আলী মিয়া (মাছের ব্যবসায়ী, চুয়াডাঙ্গা) এবং ১ নং রেসপন্ডেন্ট হলেন আমল চন্দ্র মণ্ডল (মাছের আড়তদার, পটুয়াখালী)।
ব্যবসায়িক লেনদেন: উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। ২০ আগস্ট ১৯৮৮ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ পর্যন্ত রেসপন্ডেন্ট আপিলকারীকে মোট ২৭,১৩,৮৬১.৫৯ টাকার ইলিশ মাছ বাকিতে সরবরাহ করেন।
দাবি ও বিরোধ: আপিলকারী এর মধ্যে ২৩,৮৮,৩৭৮.৬২ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ৪,০৫,৪৮২.৯৭ টাকা সঠিক হিসাব-নিকাশ (proper accounting) সাপেক্ষে পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আপিলকারী এই বকেয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
মামলা দায়ের: রেসপন্ডেন্ট পটুয়াখালীর উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ (criminal breach of trust) এবং ৪২০ (cheating) ধারায় একটি ফৌজদারি অভিযোগ (CR Case No. 39 of 1991) দায়ের করেন। ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিয়ে প্রসেস ইস্যু করেন।
২. হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত ও আপিল
আসামি (আপিলকারী) এই ফৌজদারি কার্যক্রম বাতিল করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১এ (561A CrPC) ধারায় আবেদন করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এটি সম্পূর্ণ দেওয়ানি প্রকৃতির বিরোধ। কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগ আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে বলেন যে, লেনদেন অস্বীকার করা চুক্তির লঙ্ঘন এবং এটি অপরাধ হতে পারে যা সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে বিচার্য। পরবর্তীতে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা হয়।
৩. আপিল বিভাগের আইনি বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ
প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মামলাটির নথিপত্র পর্যালোচনা করে হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করেন এবং ফৌজদারি কার্যক্রমটি কোয়াশ (Quash) বা বাতিল ঘোষণা করেন। আদালতের মূল পর্যবেক্ষণগুলো ছিল নিম্নরূপ:
দেওয়ানি বনাম ফৌজদারি দায় (Civil vs Criminal Liability): আদালত স্পষ্ট করেন যে, বাকিতে পণ্য কেনা এবং পরবর্তীতে বকেয়া টাকা পরিশোধ না করা বা টাকা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করা কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি একটি দেও