24/11/2025
ঢাকা সিটি কলেজে পড়ুয়া একটি মেয়েকে নিয়ে এই লেখাটা শেয়ার করছি, কারণ সে সত্যিই এমন এক অবস্থার ভিতরে আছে যেখান থেকে একা বের হয়ে আসা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। আপুটি কিছুদিন আগেই আমাদের নক করে তার সমস্যার কথা জানায়।আমরা তার প্রাইভেসি রক্ষায় পরিচয় প্রকাশ করছি না
গত কয়েক মাস ধরে তার পরিবারের ভিতর চলছে একের পর এক ঝামেলা। তার বাবার আচরণ এতটাই অস্থির হয়ে গেছে যে ঘরের পরিবেশ প্রতিদিনই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। কথা কাটাকাটি, চিৎকার–চেঁচামেচি, রাগ… আর এর মাঝে সবচেয়ে বেশি যে মানুষটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তিনি তার মা। দিনের পর দিন এই নারী নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন শারীরিকভাবেও খুব দুর্বল হয়ে পড়েছেন। ঠিকমতো চিকিৎসা পর্যন্ত পাচ্ছেন না।
এই পরিস্থিতির মাঝেই মেয়েটাকে প্রতিদিন কলেজের পড়াশোনা সামলাতে হয়। অথচ এই বয়সে তার চিন্তা করার কথা ছিলো ক্লাস, সেমিস্টার, স্বপ্ন আর ভবিষ্যত নিয়ে। সে পড়ালেখায় খুবই ভালো, তার টিউশন টিচারও বলেছিলেন—
“মেয়েটা সুযোগ পেলে খুব দূর যাবে।”
কিন্তু ঘরের এই পরিস্থিতি তার মন থেকে পড়াশোনার শক্তিটাই কেড়ে নিয়েছে।
বই খুলে বসতে গেলেই ভয় আর দুশ্চিন্তা তাকে গ্রাস করে।
বাসায় এখন খাবার, থাকা, নিরাপত্তা—এমনকি একজন মানুষের মতো বেঁচে থাকার মৌলিক জায়গাটুকুও অনিশ্চিত হয়ে গেছে। যার জন্য মেয়েটি এবং তার মা তার কোন এক খালামুনির বাসায় উঠেছে।
মা–মেয়ে দুজনেই চেষ্টা করছে বাঁচার, কিন্তু তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর মতো একজনও নেই। আত্মীয়রাও সাহায্য করতে পারছে না। মেয়েটিই নিজের পরিবার সামলানোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে লড়াই করছে—যা তার বয়সের তুলনায় অনেক বেশি।
এ অবস্থায় তাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা।
একটু সাহায্য পেলেই তারা নিরাপদ জায়গায় থাকতে পারবে, মায়ের চিকিৎসা করাতে পারবে, আর মেয়েটা আবার পড়াশোনায় ফিরে যেতে পারবে।
সিটিয়ানরা,
একটা পরিবার আজ সত্যিই অসহায় হয়ে পড়েছে।
যারা পারেন—দয়া করে এই মা–মেয়ের পাশে দাঁড়ান।
আপনার ছোট্ট সহায়তাও তাদের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে।