ইসলামে নেতৃত্ব কেবল সম্মান বা ক্ষমতার প্রতীক নয়; এটি মানুষের ওপর এক গুরুতর দায়িত্ব এবং আল্লাহ কর্তৃক অর্পিত এক মহান আমানত। ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্র পরিচালনার যে কোনো দায়িত্ব মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও কল্যাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ইসলাম নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, সততা ও আমানতদারিতাকে অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দেখেছে।
যখন এই দায়িত্ব যোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তির হাতে আসে, সমাজে ন্যায়, স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। কিন্তু অযোগ্যদের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করলে শুরু হয় অন্যায়, দুর্নীতি এবং সামাজিক অস্থিরতা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি বলেছেন, “যখন দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির হাতে অর্পণ করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা কর।” (সহিহ বুখারি)
নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ইসলামের মূল দুটি শর্ত হলো: যোগ্যতা এবং আমানতদারিতা। কোরআনে বলা হয়েছে, ইউসুফ (আ.) বলেছিলেন: “আমাকে দেশের ভাণ্ডারের দায়িত্ব দিন; নিশ্চয়ই আমি রক্ষণশীল ও জ্ঞানসম্পন্ন।” (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৫) — যা প্রমাণ করে দক্ষতা ও সততার সমন্বয় ছাড়া দায়িত্ব পালনের দায়িত্বপূর্ণতা অসম্পূর্ণ।
অযোগ্য নেতৃত্বের প্রভাব ভয়াবহ। ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে, জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এবং রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি সামাজিক অস্থিরতা, বৈষম্য ও অবক্ষয়ের দিকে পরিচালিত করে।
নবীজি নেতৃত্বপ্রার্থীদেরও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন: “আমরা এই দায়িত্ব তাকে দিই না, যে তা চায় বা এর প্রতি লালায়িত।” (সহিহ বুখারি) — কারণ অতিরিক্ত ক্ষমতালিপ্সা ব্যক্তিস্বার্থ ও প্রাধান্য লাভের প্রবণতা বৃদ্ধি করে।
একইভাবে, নবীজি উল্লেখ করেছেন: “নেতৃত্ব একটি আমানত; কিয়ামতের দিন এটি লাঞ্ছনা ও অনুতাপের কারণ হবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত, যে এর হক আদায় করেছে।” (মুসলিম) — যা নির্দেশ করে, নেতৃত্ব কেবল দুনিয়ার বিষয় নয়, আখিরাতেও এর জবাবদিহি রয়েছে।
ইতিহাসও প্রমাণ দেয়, যোগ্য ও সততার নেতৃত্ব সমাজে উন্নতি, ন্যায় ও স্থিতিশীলতা আনে। অযোগ্যতা ও পক্ষপাতদুষ্ট নেতৃত্ব বিপর্যয় ও সংকট ডেকে আনে।
সংক্ষেপে, নেতৃত্ব কোনো সুযোগ নয়; এটি ভারী এক আমানত। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণ নিশ্চিত করতে দায়িত্ব অবশ্যই যোগ্য, সত ও আমানতদার ব্যক্তির হাতে অর্পণ করা আবশ্যক। ইসলামের শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দেয়—আমানতের সঠিক হেফাজতই ন্যায়ভিত্তিক সমাজের মূল ভিত্তি।
Madrashatul Ma'arif Al Islamiah DU
Principal Shahadat Hossain 01968727777
مَنۡ یَّشۡفَعۡ شَفَاعَۃً حَسَنَۃً یَّکُنۡ لَّہٗ نَصِیۡبٌ مِّنۡہَا ۚ وَ مَنۡ یَّشۡفَعۡ شَفَاعَۃً سَیِّئَۃً یَّکُنۡ لَّہٗ کِفۡلٌ مِّنۡہَا ؕ وَ کَانَ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ مُّقِیۡتًا ﴿۸۵﴾
📖 সূরা নিসা ৪:৮৫ এ আল্লাহ বলেন—
“যে ব্যক্তি ভালো কাজে সুপারিশ করবে, সে তার একটি অংশ পাবে; আর যে মন্দ কাজে সুপারিশ করবে, সে তারও একটি অংশ পাবে…”
🗳️ ভোট দেওয়া এক ধরনের সুপারিশ।
আপনি যাকে ভোট দিচ্ছেন, তার কাজের সাথে আপনি নিজেকেও যুক্ত করছেন।
✔️ সৎ, যোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ প্রার্থীকে ভোট দেওয়া = ভালো কাজের সুপারিশ → এর সওয়াবে অংশীদার হওয়া।
❌ দুর্নীতিবাজ বা অন্যায়কারীকে ভোট দেওয়া = মন্দ কাজে সুপারিশ → গুনাহে অংশীদার হওয়া।
তাই ভোট দেওয়ার আগে বিবেক, নীতি ও আল্লাহভীতি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিই।
আল্লাহ আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
গল্পের নাম: "নানার চা-রুটির দোকান"
নানার নাম নূর মুহাম্মাদ। তিন মামা, দুই খালা ও নানার বৌ, মানে নানিকে নিয়ে সুন্দর গোছানো সংসার। খোলপটুয়ার নদীর পাশাপাশি ব্যস্তময় একটি রেস্টুরেন্টে ছিল নানার বিখ্যাত চা-রুটির দোকান।
কালাই রুটি, বন রুটি, পাউরুটি, পরোটা, চালের রুটি, আটার রুটি আরও কত পদের রুটি যে নানা-নানি নিজ হাতে বানাতো তার কোনো হিসেব নেই। প্রতি চায়ের মূল্য মাত্র ২/= টাকা। আহারে, কি যে মনমাতানো স্বাদ আর সুস্বাদু দিয়ে ভরা দুধ চা ও রং চা!
শীতের সকালে ভাই-বোন মিলে নানার দোকানে চা-রুটি ছিলো প্রাক-নাস্তা আইটেম। এক হাতে চা অন্য হাতে গত রাতের প্রিন্ট করা নতুন খবরের কাগজ। এ যে মহা আনন্দ ও রোজনামচার প্রথম ধাপ তা যার জীবনের ইতিহাসে পাওয়া যায় শুধু সেই বুঝে এর মর্মার্থ।
আল্লাহর ইচ্ছায় ভালোই চলছিল এলাকার সুনামধন্য হোটেলটি। পাশে নদী থাকায় বাহারি পদের মাছ ছিল নিত্য দিনের খাবারের প্রধান মেনু। কথায় আছে না, ভাতে-মাছে বাঙালি! নানার বাসায় মেহমান আসলেই চা-রুটি আর মাছ দিয়ে ভাত না খেয়ে তার ছুটি হতো না। আসুন বসুন চা খান চলে যান!
হঠাৎ নানা ভাইয়ের হাসোজ্জ্বল মুখটি মলিন দেখাতে লাগলো। বয়সের ছাপ ও কাজের ব্যস্ততা একাকার হয়ে তার সুস্বাস্থ্যের কথা মনেই রাখেননি। ডাক আসলো হাসপাতাল থেকে। তিনি কি হার্ট অ্যাটাক করেছেন নাকি বেহুশ হয়ে গেছেন ডাক্তার মশাইয়ের বেশ সময় লাগলো বুঝতে। তার অনুধাবনের পূর্বেই উপস্থিত সবাই আগেই মেনে নিল যে তিনি মহান রবের সান্নিধ্যে ইহলোক ত্যাগ করে ফেরেশতাদের সাথে পরলোকে স্থানান্তরিত হয়ে গেছেন।
চা-য়ের দোকানের ব্যস্তময় দিনগুলি যেন হারিয়ে গেল নিমেষেই! কত মানুষের আনাগোনা আর বাহারি খাবারের রান্নার কড়াই, পাতিল, থালাবাসন, চায়ের কেটলি, উনুনের পাশে রাখা মশলার বাটি গুলো মন খারাপ করে একাকি কান্না করছে। তাদের প্রিয় লোকটি যে আজ আর নেই!
ঢাকায় নাকি গার্মেন্টসে চাকরি করে সবাই নাকি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ লাগাচ্ছে। মানে কাড়ি কাড়ি টাকা কামাচ্ছে। তাই সবাই সিদ্ধান্ত নিল নানিকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে জ্যামের শহরে নতুন কুটিরে বসতি স্থাপন করবে।
কে ধরবে চা-রুটি দোকানের হাল! অবশেষে ছোট খালামনি ও তার হাজবেন্ট মানে খালু, তারাই প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রাখতে নানার দোকান ক্রয় করে মালিকানা হয়ে গেলো।
দীর্ঘ ৩০ বছর পর। পটুয়াখালী নদীর পাড় যেন আরেক খন্ড গুলশান এলাকা! অলিগলির চেহারা যেন পাল্টে গিয়ে পুরাতন ইতিহাস মুছে ফেলার পায়তারা করছে। কিন্তু না, নানার দোকানটি যেন আজও সেই প্রাচীন রেস্টুরেন্টের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ কাঠামো ঠিক রেখে দাঁড়িয়ে আছে।
কবির ভাষায়,
ঐ দেখা যায় তাল গাছ
ওই আমাদের গাঁ
ঐখানে-তে বাস করে
নানা বাড়ির ছা! (ছোট খালাম্মা ও তার ফ্যামিলি)
খালুর হাসি আর চামড়ার বুড়ো বেলকি যেন ঠিক নানার প্রতিচ্ছবি বারবার মনে করে দিচ্ছে। খালাও যেন নানির চেহারার চুলপাকা বুড়ি।
একটুখানি পর, খালামনি চা-রুটি নিয়ে হাজির। প্রতিটি চায়ের চুমুকে যেন নানার হাতের বানানো চায়ের মতই স্বাদ!
দুচোখ বেয়ে মনের অজান্তেই অশ্রু এসে টপ টপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো। ইশ, সবাই যদি একসাথে মহান সৃষ্টিকর্তার স্বর্গে থাকতে পারতাম!
16/11/2024
16/11/2024
16/11/2024
25/09/2022
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Address
Uttara, Sector 3, Road/12
Dhaka