আহ্বান

আহ্বান

Share

Dawah & Learning

22/01/2024

◾Brac Bank
◾Brac University
◾Bkash
◾Aarong
◾Aarong Dairy
◾Brac Tea
◾Brac Printing Pack
◾BracNet
◾Delta Brac Housing
◾IPDC Finance
◾Brac NGO
◾Brac artificial inseminations
◾Brac seed
◾Brac cold storage
◾Brac sericulture
◾ব্র্যাক নার্সারি
◾ব্র্যাক আয়োডিনযুক্ত লবন
◾ব্র্যাক স্বাস্থ্যসামগ্রীসহ, ব্র্যাকের সকল সেবা ও কার্যক্রমকে বয়কট করা আমাদের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব।

বয়কট ব্র্যাক স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত সকল প্রতিষ্ঠান। ব্র্যাকের সকল অঙ্গসংগঠনসমূহকে বয়কট তো করবেনই, এর পাশাপাশি এদের এনজিওর লোকজন যেখানে দেখবেন সেখানেই দৌড়ানি দিবেন।

ব্র্যাক এদেশের সম কামীদের অন্যতম মূল এজেন্ট।

A war has just begun. Either you are for it or against it. There is no middle ground, there is no space for being silent.

©

13/10/2023

আমাদের সন্তানকে বারবার ফিলি স্তিনের ইতিহাস শুনাবো, তাকে বারবার বলব কেন আমরা ফিলি স্তিনকে ভালোবাসি—

১.ফিলি স্তিন নবীদের পূণ্যভূমি।

২.ইবরাহীম আলাইহিস সালাম সর্বপ্রথম ফিলি স্তিনে হিজরত করেন এবং পরবর্তীতে স্ত্রী সারার সাথে সেখানে বসবাস করেন।

৩. লুত আলাইহিস সালামের কওমের ওপর পতিত গজব থেকে আল্লাহ তাআলা লুত আলাইহিস সালামকে রক্ষা করেন ফিলি স্তিনে।

৪.নবী ইসহাক আলাইহিস সালাম ও ইয়াকুব আলাইহিস সালাম ও ইউসুফ আলাইহিস সালামের জন্ম এই ফিলি স্তিনে।

৫.নবী মুসা আলাইহিস সালাম মিসর থেকে বনী ইসরাইলকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন পবিত্র এই ভূমিতে প্রবেশ করার জন্য। যদিও ইহু দিরা তাদের চিরকালীন কাপুরুষোচিত স্বভাবের কারণে প্রবেশ করতে পারেনি। মুসা আলাইহিস সালাম এই ভূমিকে পবিত্র বলেন।

৬.নবী দাউদ আলাইহিস সালাম অত্যাচারী জালূতের কপালে পাথর ছুঁড়ে তখনকার মুমিনদেরকে ফিলি স্তিন পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করেন।

৭.নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম ফিলি স্তিনে বসেই জিন ইনসানসহ পৃথিবীবাসির ওপর রাজত্ব করেন।

৮.সুলাইমান আলাইহিস সালাম ও পিঁপড়ের যে বিখ্যাত কাহিনী কুরআনে বর্ণিত আছে তা এই শহরেই ঘটেছিল। বর্তমান city of ashkelon এ অবস্থিত আন্ট ভ্যালি আছে واد النمل নামে।

৭.নবী জাকারিয়া আলাইহিস সালাম ফিলি স্তিনেই বাস করতেন এবং তার মিহরাব এই ফিলি স্তিনেই ছিল।

৮.এই বায়তুল মাকদিসেই মারইয়াম আলাইহাস সালাম বসবাস করতেন এবং অলৌকিক খাদ্যভাণ্ডার প্রাপ্ত হতেন।

৯. এই ফিলি স্তিনেই মারইয়াম আলাইহিস সালাম কোনো পুরুষ ব্যতীত একটি শিশু গর্ভে ধারণ করার মতো আশ্চর্যজনক ঘটনার জন্ম দেন।

১০.নবী ঈসা ও ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের এই ফিলি স্তিনে জন্মগ্রহণ করেন এবং বেড়ে উঠেন।

১১.এই ফিলি স্তিনেই ঈসা আলাইহিস সালামকে হ ত্যার ষড়যন্ত্র হলে আল্লাহ তাআলা ঈসা আলাইহিস সালামকে আকাশে উঠিয়ে নেন।

১২.আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রাতে আকাশের জগতে রওয়ানা হওয়ার আগে আল্লাহ তাআলা তাকে ফিলি স্তিনের বায়তুল মাকদিসে মেহমান করেন।

১৩.বায়তুল মাকদিসের দক্ষিণদিকে কোথাও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য জগতের বাহন তাঁর বোরাককে বেঁধে রাখেন।

১৪.ফিলি স্তিনের বায়তুল মাকদিসেই আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল নবী রাসূলগণের নামাজের ইমামতি করেন।

১৫.মিরাজের রাতে নামাজ ফরজ হওয়ার পর মসজিদুল আকসাই ছিল মুসলমানদের প্রথম কিবলা। মুসলমানরা বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে আল্লাহর আদেশে কিবলা পরিবর্তন করে আল্লাহর সবশ্রেষ্ঠ ঘর কাবার দিকে ফেরানো হয়।

১৬.কেয়ামতের আগে ঈসা আলাইহিস সালাম ফিলিস্তিনের কাছাকাছি শামের পবিত্র শহর দামেস্কে আসমান থেকে নেমে আসবেন ।

১৭.ঈসা আলাইহিস সালাম দাজ্জালকে শামের বাবে লুদের কাছে হ ত্যা করবেন।

১৮.রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘বায়তুল মাকদিস হলো হাশরের ময়দান। পুনরুত্থানের জায়গা। তোমরা তাতে গিয়ে সালাত আদায় করো। কেননা, তাতে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা অন্যান্য মসজিদে এক হাজার সালাত আদায়ের সওয়ার পাওয়া যায়।’

১৯.দুনিয়াতে নির্মিত দ্বিতীয় মসজিদ পবিত্র শহর ফিলিস্তিনে অবস্থিত। মসজিদটি হলো মসজিদুল আকসা। বলা হয়ে থাকে আদম আলাইহিস সালামই মসজদটি নির্মাণ করেছেন। আবু জর গিফারি রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একদিন নবীজিকে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! দুনিয়াতে প্রথম কোন মসজিদটি নির্মিত হয়েছে? তিনি বলেন, মসজিদুল হারাম। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, তারপর কোনটি? প্রতিউত্তরে তিনি বললেন, তারপর হলো মসজিদুল আকসা। এরপর তিনি জানতে চাইলেন যে, উভয়ের মধ্যে ব্যবধান কত বছরের? তিনি বললেন চল্লিশ বছরের ব্যবধান। [সহিহ বুখারি]

২০.বুখারী শরিফে আছে পৃথিবীতে মাত্র তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য সকল মসজিদে ইবাদতের উদ্দেশ্য ভ্রমণ করা নিষিদ্ধ। এক.মসজিদুল হারাম। দুই.[বলুন তো কোন মসজিদ, কুইজ রইলো] তিন.মসজিদুল আকসা।

২১. সুরা বনি ইসরাইলে আল্লাহ তাআলা মসজিদুল আকসার পরিবেশকে বরকতময় বলেছেন।

২২.সুরা আম্বিয়ায় আল্লাহ তায়ালা এই ভূখন্ডের ব্যাপারে বলেন, ‘আর আমি তাকে ও লুতকে উদ্ধার করে নিয়ে গেলাম সেই ভূখণ্ডে, যেখানে আমি কল্যাণ রেখেছি বিশ্ববাসীর জন্য।’

২৩.সুরা আরাফে আল্লাহ তাআলা ফিলি স্তিনকে কল্যাণপ্রাপ্ত রাজ্য বলেছেন।

২৪.সূরা আম্বিয়ার আরেকটি আয়াতেও সুলাইমানের আলাইহিস সালামের ঘটনায় আল্লাহ তাআলা ফিলি স্তিনে কল্যাণ রেখেছেন বলে ঘোষণা দেন।

২৫.ফিলি স্তিনের এই ইতিহাস হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হেডলাইন। ফিলি স্তিনের আছে আরও অসংখ্য বিস্তারিত ইতিহাস, সাহাবাদের আমলের, তাবেয়ীদের আমলের, সালাফদের আমলের ইতিহাস, সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর ইতিহাস। এই ভূমির কল্যাণের ব্যাপারে আছে হাদিসও। এখানকার মানুষের ব্যাপারেও আছে হাদিস। এতসব কিছু ছাড়া ফিলি স্তিনের যে অধ্যায়টি আমাদের হৃদয়ের সাথে সংযুক্ত, সেটা হলো ফিলি স্তিন হচ্ছে— শ হী দদের ভূমি। এখানে নিয়মিত সেই অমূল্য নেয়ামত লাভে ধন্য হচ্ছে মানুষ, যে নেয়ামত পেলে জীন্দেগী অতিবাহিত করা স্বার্থক। সেই নেয়ামতের কল্যাণে যারা সেখানে বাস করে তারা মুহূর্তেই পৌঁছে যায় জান্নাতের দোরগোড়ায়। ফিলি স্তিন ও ফিলি স্তিনের মানুষকে ভালো না বেসে কি পারা যায়!

সবগুলো কারণেই আমরা ফিলি স্তিনকে ভালোবাসি। তবে বিশেষভাবে ফিলি স্তিনকে ভালোবাসার যদি একটা কারণ জিজ্ঞেস করা হয়— কোন বিশেষ কারণটির কথা বলবেন?

©মাজিদা রিফা আপু

05/06/2022

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
আহ্বান এবার এগিয়ে যেতে চায় ভিন্ন আঙ্গিকে।
চমক আসছে! থাকছেন তো আহ্বানের সাথে?

13/11/2020

জীবন-মৃত্যু-জীবন পর্ব-৮ (Baseera)

ভিডিওটির ৭মি. ৩০ সে. সময় থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনযোগ সহকারে শুনবেন ইন শা আল্লাহ। এই টপিকেই আমরা খুব বেশি গাফেল!

08/11/2020

প্রতিটা লাইন!💘
অমূল্য প্রতিটা লাইন!💘

26/10/2020

রাসূলের অপমানে যদি কাঁদে না তোর মন, মুসলিম নয় মুনাফিক তুই রসূলের দুশমন” (SAW)
(SAW)

23/10/2020

স্কুল/কলেজে একটা পরীক্ষায় খারাপ/ফেইল করলে আবার সেই পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ থাকে।
কিন্তু আমাদের জীবন একটাই, পরীক্ষা দেয়ার সুযোগও একটাই।
হাশরের ময়দানে পুনরায় দুনিয়ায় পাঠানোর অনুরোধ কবুল হবে না।
কাজেই আপনি যেমন ফল পেতে চান তেমন কাজ করুন।
সময় খুব কম।
আহ্বান

10/08/2020

حَٰفِظُوا۟ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ… …
তোমরা নামাযের প্রতি যত্নবান হও… …
#পর্ব- ৬
পুর্বের পর্ব লিঙ্ক প্রথম কমেন্টে
পড়বেন ও নোট করবেন।
কপি/ শেয়ার করতে পারেন।
----------------------------------------

৮- ইশরাকের নামাজ
৯- চাশ্ত/দুহা/ আওয়াবিন ও যাওয়ালের নামাজ

উপরের পয়েন্ট দুটো একত্রে লিখছি কারণ এই নামাজগুলোর রাকআত সংখ্যা বা ফযিলত ঘুরে ফিরে একই।

ইশরাকের সময়- সূর্যোদয়ের কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট পর এই নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়।
রাকআত সংখ্যা- সর্বনিম্ন ২ থেকে ৮ বা ১০, কোনো কোনো মতে ১২ রাকআত।
নিয়ম- ফজরের নামাজের পর দুনিয়াবি কাজ ও কথা থেকে বিরত থেকে ইবাদাতে মশগুল থাকবে, এরপর সূর্যোদয়ের ১৫-২০ মিনিট পর দুই দুই রাকআত করে পড়বে। কেউ যদি ইবাদাতে মশগুল থাকতে না পারেন , কাজে ব্যস্ত হতেই হয় তবে সেও সময় হলে এই নামাজ পড়ে নিতে পারবে।
ফযিলত- হাদিসঃ যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাআতে পড়ে, অতঃপর সূর্যোদয় অবধি বসে আল্লাহর জিকির করে তারপর দুই রাকআত নামাজ পড়ে, সেই ব্যক্তির একটি হজ্জ ও উমরার সওয়াব লাভ হয়।” বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রাসুল বললেন, “পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ।” অর্থাৎ কোন অসম্পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব নয় বরং পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব। (তিরমিযী, সুনান, সহিহ তারগিব ৪৬১নং)

- শরীরের প্রতিটি জোড়ার পক্ষ থেকে সাদাকা আদায়
-জান্নাতের নেয়ামত লাভ ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির সুসংবাদ।

চাশ্ত / দুহা/ আওওয়াবিন-
অনেকে ইশরাক ও চাশ্তের নামাজকে একই নামাজ বলেন, অনেকে আবার দুটোকে আলাদা করে বলেন, আবার অনেকে চাশ্ত বা দুহার নামাজকে একই বলেন, আবার অনেকে বলেন চাশ্ত ও ইশরাক এক নামাজ , দুয়া ও আওওয়াবিন এক নামাজ। তবে একই নামকরণ করা হোক বা দুটো আলাদা হোকনা কেনো একইদিনে চাইলে ইশরাক, আওওয়াবিন বা দুহার নামাজ আদায় করা যায়।

ইশরাকের সময় হয় সূর্যোদয়ের পর, বা ফজরের ওয়াক্ত থেকে দেড় বা পৌনে দুই ঘণ্টা পর আর চাশ্ত বা দুহার ওয়াক্ত হয় সূর্যোদয় থেকে জোহরের ওয়াক্তের ঠিক মাঝ মাঝি সময়, বা বলা যায় ৯টার পর থেকে ঘণ্টাখানেক পর্যন্ত। চাশ্ত অর্থ যা দুহা অর্থও তা। দুহা শব্দের অর্থ পূর্বাহ্ণ বা দ্বীনের প্রথম অংশ যাকে ফারসি ভাষায় চাশ্ত বলা হয়। এই সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে এই নামাজের সময় হচ্ছে যখন সূর্যের প্রখর তাপে উত্তপ্ত বালুর কারণে উটের বাচ্চার পা উত্তপ্ত হতে থাকে।
বলাই যায় ইশরাকের সময় রৌদের তাপ এতটা উত্তপ্ত থাকেনা যতটা থাকে সকাল ৯টা থেকে ১১টার সময়।
এই নামাজ হচ্ছে তাহাজ্জুদের নামাজের পর অন্যতম মাসনুন নফল নামাজ। এই নামাজকে বলা হয় আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের নামাজ, বা অধিক তওবাকারিদেড় নামাজ, যাকে আরবিতে বলা হয় আওওয়াব বা আওওয়াবিনদের নামাজ।
ফযিলত- পুর্বে বর্ণিত ফজিলতগুলোর সাথে আরও একটি ফযিলত - যে ব্যক্তি এই নামাজে যত্নশীল হবে তার সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমপরিমাণ হয়।
- জান্নাতে স্বর্ণের প্রাসাদ
রাসুলুল্লাহ ﷺ এই নামাজের প্রতি যত্নবান হতে ওয়াসিয়ত করে গেছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অনেকে বলে থাকেন ইশরাক, দুহা একই নামাজ, শুধু সময়ের ভিন্নতার কারণে নাম ভিন্ন হয়েছে তাই কেউ ইশরাক পড়লে দুহা পড়বে না বা কেউ ইশরাক না পড়তে পারলে তখন দুহা পড়বে, এই কথা কতটুক ঠিক?

উত্তর- এই কথা একেবারেই ভুল নয়, আংশিক ঠিক আছে, আমরা যদি ফজিলতগুলো দেখি তবে দেখতে পাই যে ইশরাক ও দুহার নামাজের ফযিলতগুলো একই , আবার কিছু ফযিলত শুধু দুহার নামাজের ব্যাপারে এসেছে, তাই এই কথাতুকু সত্য হতেই পারে যে সময় ভিন্নতার কারণে নামে ভিন্নতা এসেছে তবে নামাজগুলো একই। কিন্তু এই কথা বলা যায় না যে কেউ ইশরাক পড়লে দুহা পড়তে পারবে না। বরং কেউ যদি ফজর আদায় করে, এরপর ইশরাক আদায় করে সে অবশ্যই চাশ্ত/দুহা/আওওয়াবিনের নামাজ আদায় করতেই পারবে। এতে গুনাহ বা বিদআত হবে এই কথা বলার অবকাশ নেই। সবগুলো আদায় করলে সবগুলোর সোওয়াব ও ফযিলত পাওয়া যাবে ইন শা আল্লাহ।
* মাগরিবের পরের নামাজকে আওওয়াবিনের নামাজ বলা হয়, সকালের এই আওওয়াবিন ও সন্ধ্যার আওওয়াবিন নিয়ে বেশ বিতর্ক হয়, মাগরিবের পরের আওওয়াবিন নিয়ে ইন শা আল্লাহ মাগরিবের নামাজের সাথে আলোচনা করা হবে।

রাকআত সংখ্যা- সর্বনিম্ন ২ থেকে ৮ বা ১০, কোনো কোনো মতে ১২ রাকআত কিংবা আরও বেশি
হুকুম- হানাফি ফিকহে সুন্নত, বাকী তিন ফিকহে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ

যাওয়ালের নামাজ- এই নামাজ সুর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার সাথে সাথে আদায় করতে হয়। অর্থাৎ জোহরের নামাজের পুর্বে এই নামাজ আদায় করবে।
ফযিলত- এই সময় আসমানের সব দরজা খুলে দেওয়া হয় ও ইবাদাত ও দুয়া কবুল হয়।

রাকআত সংখ্যা- চার রাকআত, এক সালামে কিংবা দুই দুই রাকআত করে দুই সালামে পড়া যায়। তবে এক সালামে চার রাকআত বেশি প্রসিদ্ধ।

চলবে ...

03/08/2020

حَٰفِظُوا۟ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ… …
তোমরা নামাযের প্রতি যত্নবান হও… …
#পর্ব- ৫
কপি/ শেয়ার করতে পারেন।
----------------------------------------

উপরোক্ত আলোচনায় চার মাজহাবের হুকুম সবগুলো চলে আসছে আলহামদুলিল্লাহ, পাঠকদের মাঝে যে যেই ফিকহ অনুসরণ করছেন তারা নিজেদের ফিকহের মাসআলা ভাল করে জেনে নিবেন ও অপর ফিকহের মাসআলার প্রতি দিলে সম্মান রেখে দিল প্রশস্ত করবেন এই আশা রাখি। তবে একত্রে সবগুলো ফিকহের হুকুম মিশ্রিত করে পালন করার ব্যপারে সাবধান হবেন। এতে ধীরে ধীরে দিলে আবার অশান্তি সৃষ্টি হতেই পারে, মতপার্থক্য আসতে পারে, কারণ ফিকহ শুধু নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ফিকহ নামাজ ছাড়াও রোজা, হজ, যাকাত, বিয়ে তালাক ইত্যাদি সব কিছুতেই আছে। এটা উত্তম নয় যে একজন ব্যক্তি একেক ইবাদাতের ক্ষেত্রে একেক ফিকহ অনুসরণ করে পুরোটাই কঠিন অবস্থা করে রেখেছে।

পরবর্তীতে আমাদের যেসব আলোচনা আসছে সেসবের ভিতকার ফিকহের আলোচনা উপরেই শেষ হয়েছে। তাই একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি হবে না। কোন নামাজ কত রাকআত, ও নামাজের ভিতরের দুয়া, ও কিছু নামাজের ফযিলত পড়ার নিয়ম আলোচনায় আসবে ইন শা আল্লাহ।

৭- ফজরের নামাজ

সকালের শুরুটা হয় ফজরের নামাজ দিয়ে, হাদিসে আছে, শয়তানের বিরুদ্ধে তার তিনটা বিজয় হয় যখন সে ঘুম থেকে ওঠে, ওজু করে ও ফজরের নামাজ আদায় করে।

ফজরের নামাজ ৪ রাকআত, দুই রাকআত সুন্নত ও তারপর দুই রাকআত ফরজ। রাসুল ﷺ কখনই ফজরের ফরজ দুই রাকআত নামাজের পুর্বে দুই রাকআত সুন্নত নামাজ কখনই কোনো হালতেই ছেড়ে দেন নাই। এই দুই রাকআত সুন্নত নামাজ দুনিয়া ও দুনিয়ার মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু থেকে উত্তম। (মুসলিম- ৭২৫) অন্যান্য সুন্নত নামাজের ব্যপারে এত তাগিদ আসে নাই যতটা এসেছে এই দুই রাকআত নিয়ে।

আমরা অনেকেই ফরজ নামাজের আগে পরের সুন্নত নামাজগুলো ছেড়ে দেই, অথচ এর ফযিলত অপরিসীম।

ফজরের নামাজের নিয়ম-
প্রথমে দুই রাকআত সুন্নত, তারপর দুই রাকআত ফরজ। তবে কেউ যদি ভুলে আগে ফরজ আদায় করে ফেলে তবে ফরজের পর সুন্নত আদায় করা যাবে, কিংবা হালত যদি এমন হয় যে খুব দেরি হয়ে গেল, নামাজের ওয়াক্ত একদম শেষের দিকে তবে আগে ফরজ আদায় করে পরে সুন্নত আদায় করতে পারবে। কিংবা কেউ যদি জামাতে নামাজ আদায় করতে চায় আর যদি সে পৌঁছার পুর্বেই জামাত দাঁড়িয়ে যায় তবে দুইটা পন্থা, এক- যদি দেখে সে সুন্নত আদায় করে জামাতে শরিক হতে পারবে তবে সুন্নত আদায় করে নিবে, আর যদি দেখে সুন্নত আদায় করতে নিলে জামাত শেষ হয়ে যাবে তবে আগে জামাতে ফরজ আদায় করে তারপর সুন্নত আদায় করবে।

পুর্বে আলোচিত নামাজের শর্ত, রুকন, ফরজ/ওয়াজিব সব মেনেই নামাজ শুরু করবে।
তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত বেধে সানা পড়ে নিবে, নামাজের জন্য একাধিক সানা আছে, সবগুলোই বা যে কোনো একটিও পড়া যায়। সানাগুলো-

১-

اللّٰهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِيْ وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللّٰهُمَّ نَقِّنِيْ مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللّٰهُمَّ اغْسِلْنْي مِنْ خَطَايَايَ، بِالثَّلْجِ وَالْمْاءِ وَالْبَرَدِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার গুনাহসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করুন যে রূপ দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার গুনাহসমূহ থেকে এমন পরিষ্কার করে দিন, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে বরফ, পানি ও মেঘের শিলা খণ্ড দ্বারা ধৌত করে দিন।

২-

سُبْحانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বড়ই বরকতময়, আপনার প্রতিপত্তি অতি উচ্চ। আর আপনি ব্যতীত অন্য কোনো হক্ব ইলাহ্‌ নেই।

৩-

وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيْفَاً وَّمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ، إِنَّ صَلاَتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِيْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، لاَ شَرِيْكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ

অর্থ : যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন আমি একনিষ্টভাবে আমার মুখমণ্ডল তাঁর দিকেই ফিরালাম, আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী বা যাবতীয় ইবাদাত, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব্ব আল্লাহ্‌র জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমি এরই আদেশ প্রাপ্ত হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।

৪-

اللّٰهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيْلَ، وَمِيْكَائِيْلَ، وَإِسْرَافِيْلَ، فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيْمَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ، اهْدِنِيْ لِمَا اخْتُلِفَ فِيْهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِيْ مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقيْمٍ

অর্থ : হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব্ব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, গায়েব ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞানী, আপনার বান্দাগণ যেসব বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত আপনিই তার মীমাংসা করে দিবেন। যেসব বিষয়ে মতভেদ হয়েছে তন্মধ্যে আপনি আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে যা সত্য সেদিকে পরিচালিত করুন। নিশ্চয় আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন।

সানার পর ইস্তিয়াজা ও বাসমালা বলে সুরাহ ফাতিহা তিলাওয়াত করবে ও তারপর বিসমিল্লাহ বলে অন্য এক সুরাহ তিলাওয়াত করবে। তিলাওয়াত শেষে তাকবির বলে রুকুতে যাবে, রুকুর জন্যও তাসবিহের পাশাপাশি একাধিক দুয়া আছে, চাইলে সবগুলোই পড়া যায়, আর এই দুয়াগুলো ফরজ/সুন্নত/নফল সব নামাজেই পড়া যায়। রুকুর দুয়াগুলো-

১-
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ

অর্থ : আমার মহান রব্বের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি

২-

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের রব্ব! আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি আপনার প্রশংসাসহ। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করে দিন।

৩-

سُبُّوُحٌ، قُدُّوْسٌ، رَبُّ المَلاَئِكَةِ وَالرُّوْحِ

অর্থ : (তিনি/আপনি) সম্পূর্ণরূপে দোষ-ত্রুটিমুক্ত, অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত; ফেরেশতাগণ ও রূহ এর রব্ব।

৪-

اللّٰهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، خَشَعَ لَكَ سَمْعِي، وَبَصَرِي، وَمُخِّي، وَعَظْمِي، وَعَصَبِي، وَمَا اسْتَقَلَّتْ بِهِ قَدَمِيْ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যেই রুকু করেছি, আপনার উপরই ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাড়, আমার পেশী, সবই আপনার জন্য বিনয়াবনত। আর যা আমার পা বহন করে দাঁড়িয়ে আছে [মানে আমার সমগ্র সত্তা] তাও (আপনার জন্য বিনয়াবনত)

৫-

سُبْحَانَ ذِيْ الْجَبَرُوْتِ، وَالْمَلَكُوْتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ

অর্থ : পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি সেই সত্তার, যিনি প্রবল প্রতাপ, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গৌরব-গরিমা এবং অতুলনীয় মহত্ত্বের অধিকারী

রুকুর তাসবিহ শেষ হলে -

سَمِعَ اللّٰهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

অর্থ : যে আল্লাহর হামদ-প্রশংসা করে, আল্লাহ তার প্রশংসা শোনেন (কবুল করুন)

বলতে বলতে দাঁড়াবে, সম্পূর্ণ দাঁড়ানো হলে এরপর এই দুয়া বলবে-

১-

رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْداً كَثِيْراً طَيِّباً مُبارَكاً فِيْهِ

অর্থ : হে আমাদের রব্ব! আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা; অঢেল, পবিত্র ও বরকত-রয়েছে-এমন প্রশংসা।

২-

مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ، وَمَا بَيْنَهُمَا، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيءٍ بَعْدُ، أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ، أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ، وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ، اللّٰهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ

অর্থ : (আপনার প্রশংসা করছি) আসমানসমূহ পূর্ণ করে, জমিন পূর্ণ করে ও যা এ দু’টির মাঝে রয়েছে (তাও পূর্ণ করে), আর এর পরে যা পূর্ণ করা আপনার ইচ্ছা তা পূর্ণ করে। হে প্রশংসা ও সম্মান-মর্যাদার যোগ্য সত্ত্বা! বান্দা সবচেয়ে যে সঠিক কথাটি বলেছে তা হচ্ছে—আর আমরা সবাই আপনার বান্দা— হে আল্লাহ, আপনি যা প্রদান করেছেন তা বন্ধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রুদ্ধ করেছেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আর কোনো ক্ষমতা-প্রতিপত্তির অধিকারীর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি আপনার কাছে কোনো কাজে লাগবে না।

দুয়া শেষ করে তাকবির বলে সিজদাতে যাবে, সিজদাতেও রুকুর মত তাসবিহ ছাড়াও একাধিক দুয়া আছে ও ফরজ/সুন্নত/নফল সব নামাজেই পড়া যাবে। সিজদার দুয়াগুলো-

১-

سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى

অর্থ : আমার রব্বের পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করছি, যিনি সবার উপরে।

২-

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের রব্ব! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করে দিন।

৩-

سُبُّوْحٌ، قُدُّوْسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوْحِ

অর্থ : (তিনি/আপনি) সম্পূর্ণরূপে দোষ-ত্রুটিমুক্ত, অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত; ফেরেশতাগণ ও রূহ এর রব্ব।

৪-

اللّٰهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ خَلَقَهُ، وَصَوَّرَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللّٰهُ أَحْسنُ الْخَالِقِيْنَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই সিজদা করেছি, আপনার উপরই ঈমান এনেছি, আপনার কাছেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি। আমার মুখমণ্ডল সিজদায় অবনত সেই মহান সত্তার জন্য; যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দিয়েছেন, আর তার কান ও চোখ বিদীর্ণ করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ্‌ অত্যন্ত বরকতময়।


৫-

سُبْحَانَ ذِيْ الْجَبَرُوْتِ، وَالْمَلَكُوْتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ

অর্থ : পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি সেই সত্তার, যিনি প্রবল প্রতাপ, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গৌরব-গরিমা এবং অতুলনীয় মহত্ত্বের অধিকারী।

৬-

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ كُلَّهُ، دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَعَلاَنِيَّتَهُ وَسِرَّهُ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিন— তার ক্ষুদ্র অংশ, তার বড় অংশ, আগের গুনাহ, পরের গুনাহ, প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ।

৭-

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوْبَتِكَ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْكَ، لاَ أُحْصِيْ ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে অসন্তুষ্টি থেকে, আর আপনার নিরাপত্তার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি আপনার নিকটে আপনার (পাকড়াও) থেকে আশ্রয় চাই। আমি আপনার প্রশংসা গুনতে সক্ষম নই; আপনি সেরূপই, যেরূপ প্রশংসা আপনি নিজের জন্য করেছেন

এক সিজদা দিয়ে উঠে বসতে হবে, বসে এই দুয়াগুলো পড়বে-

১-

رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ

অর্থ : হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।

২-

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي، وَارْفَعْنِيْ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমার সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে দিন, আমাকে নিরাপত্তা দান করুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন

দুয়া পড়া শেষ হলে আবার পুর্বের ন্যায় সিজদা দিবে ও দুয়া পড়বে। তারপর আবার তাকবির দিয়ে দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়াবে। তারপর শুধু বাসমালা বলে সুরাহ ফাতিহা পড়বে তারপর অন্য সুরাহ মেলাবে। খেয়াল রাখতে হবে প্রথম রাকআত থেকে যেন দ্বিতীয় রাকআতের কিরাত ছোটো হয়। এবং প্রথম রাকআত ও দ্বিতীয় রাকআতের পঠিত সুরাহের মাঝে যেন ধারাবাহিকতা রাখা হয়, আগে পিছে যেন না হয়, অর্থাৎ সুরাহ ফালাকের পর সুরাহ নাস আসবে। সুরাহ নাস প্রথম রাকাতে পড়ে দ্বিতীয় রাকাতে যেন সুরাহ ফালাক না পড়ে। ফিকহে হানাফি মতে এই তারতিব বজায় রাখা ওয়াজিব, বজায় না রাখলে মাকরুহ হবে, অন্যান্য ফিকহে তা মাকরুহ। তবে কেউ তারতিব ঠিক না রাখলে নামাজ হয়ে যাবে ও সিজদা সাহু না দিলেও নামাজ হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।

প্রথম রাকআতের মত দ্বিতীয় রাকআতও পড়বে, তবে দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে বসে তাশাহহুদ পড়বে। তাশাহহুদ-

التَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ، وَالصَّلَوْاتُ، وَالطَّيِّباتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللّٰهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ

অর্থ : যাবতীয় অভিবাদন আল্লাহ্‌র জন্য, অনুরূপ ভাবে সকল সালাত ও পবিত্র কাজও। হে নবী! আপনার উপর বর্ষিত হোক সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকতসমূহ। আমাদের উপর এবং আল্লাহ্‌র সৎ বান্দাদের উপরও বর্ষিত হোক সালাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ্‌র বান্দা ও রাসূল

তাশাহহুদের পর দরুদ পড়বে। দরুদ-

১-

اللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ، اللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি (আপনার নিকটস্থ উচ্চসভায়) মুহাম্মাদকে সম্মানের সাথে স্মরণ করুন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে, যেমন আপনি সম্মানের সাথে স্মরণ করেছেন ইবরাহীমকে ও তাঁর পরিবার-পরিজনদেরকে। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহা মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার পরিজনের উপর বরকত নাযিল করুন যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছিলেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহা মহিমান্বিত

২-

اللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি (আপনার নিকটস্থ উচ্চসভায়) মুহাম্মাদকে সম্মানের সাথে স্মরণ করুন এবং তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরকেও, যেমন আপনি সম্মানের সাথে স্মরণ করেছেন ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনকে। আর আপনি মুহাম্মাদ এবং তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরের উপর বরকত নাযিল করুন যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছিলেন ইবরাহীমের পরিবার- পরিজনের উপর। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহা মহিমান্বিত

দরুদের পর নিজের জন্য দুয়া পড়বে, চাইলে একটা কিংবা সবগুলোই পড়া যায়। দুয়াগুলো-

১-

اللّٰهُــمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্টতা থেকে

২-

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْـيَا وَالْمَمَاتِ . اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে, আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং আশ্রয় চাই জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পাপাচার ও ঋণের বোঝা থেকে

৩-

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمْاً كَثِيْراً، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি। আর আপনি ছাড়া গুনাহসমূহ কেউই ক্ষমা করতে পারে না। অতএব আমাকে আপনার পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমা দ্বারা মাফ করে দিন, আর আমার প্রতি দয়া করুন; আপনিই তো ক্ষমাকারী, পরম দয়ালু

৪-

اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ مَا قَدَّمْتُ، وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ، وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

অর্থ : হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন আমার গুনাহসমূহ— যা পূর্বে করেছি, যা পরে করেছি, যা আমি গোপন করেছি, যা প্রকাশ্যে করেছি, যা সীমালঙ্ঘন করে করেছি, আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। আপনিই (কাউকে) করেন অগ্রগামী, আর আপনিই (কাউকে) করেন পশ্চাদগামী, আপনি ব্যতীত আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই।

৫-

اللّٰهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার যিক্‌র করতে, আপনার শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন

৬-

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, আপনার আশ্রয় চাই কাপুরুষতা থেকে, আপনার আশ্রয় চাই চরম বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে, আর আপনার আশ্রয় চাই দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে

৭-

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই

৮-

اللّٰهُمَّ بِعِلْمِكَ الغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِيْ مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْراً لِي، وَتَوَفَّنِيْ إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْراً لِي، اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِيْ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার গায়েবী জ্ঞান এবং সকল সৃষ্টির উপর আপনার সার্বভৌম ক্ষমতার অসিলায় (চাই), আমাকে আপনি জীবিত রাখুন সে-সময় পর্যন্ত, যে সময় পর্যন্ত জীবিত থাকা আপনার জ্ঞানে আমার জন্য কল্যাণকর; আর আমাকে মৃত্যু দিন যখন আপনি জানেন যে, মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট চাই গোপনে ও প্রকাশ্যে আপনাকে ভয় করা

৯-

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ يَا أَللّٰهُ بِأَنَّكَ الْوَاحِدُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِيْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ، وَلَمْ يَكنْ لَهُ كُفُوْاً أَحَدٌ، أَنْ تَغْفِرَ لِيْ ذُنُوْبِيْ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِّيْمُ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনিই একক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী; যিনি জন্ম দেন নি, জন্ম নেন-ও নি; আর যার সমকক্ষ কেউ নেই। তাই হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই, যেন আপনি আমার সকল গুনাহ্‌ ক্ষমা করে দেন; নিশ্চয় আপনি অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু

১০-

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ، الْمَنَّانُ، يَا بَدِيْعَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই; কারণ, সকল প্রশংসা আপনার, কেবলমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আপনার কোনো শরীক নেই, সীমাহীন অনুগ্রহকারী; হে আসমানসমূহ ও যমীনের অভিনব স্রষ্টা! হে মহিমাময় ও মহানুভব! হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী-সর্বসত্তার ধারক! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই।

১১-

اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِأَنِّيْ أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِيْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوْاً أَحَدٌ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই। কেননা, আমি সাক্ষ্য দেই যে, নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই; আপনি একক সত্তা, অমুখাপেক্ষী—সকল কিছু আপনার মুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেন নি এবং জন্ম নেনও নি। আর যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই

দুয়া পড়া শেষ হলে প্রথমে ডান দিকে ও পরে বাম দিকে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে সালাম দিবে। দুই সালামের মাঝখানে মাথাকে ঝাঁকাবে না বা বুকের কাছে নামিয়ে আনবে না, সোজা ডান দিকে মুখ ঘুরাবে ও তারপর সোজা বাম দিকে নিয়ে যাবে। ডান দিকে সালাম দেওয়ার সময় এদিক ওদিক বা ডান দিকের কাতারে বা সে দিকে কিছু থাকলেও তাকাবেনা কারণ প্রথম সালাম দেওয়ার পরেও আমরা নামাজের ভিতরেই থাকি।

এভাবে শেষ হল দুই রাকআত নামাজের নিয়ম। এই নিয়মেই ফরজ নামাজের দুই রাকআত বিশিষ্ট সকল সুন্নত নামাজ আদায় করা হয়।

চলবে ... ...

03/08/2020

حَٰفِظُوا۟ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ… …
তোমরা নামাযের প্রতি যত্নবান হও… …
#পর্ব- ৪
কপি/ শেয়ার করতে পারেন।
----------------------------------------

২- নামাজের রুকন-

নামাজের শর্তগুলো হচ্ছে নামাজ শুরু করার আগ মুহূর্তের কাজ, নিয়ত শেষ করেই তাকবিরের মাধ্যমে বান্দা নামাজ নামক ইবাদাতে প্রবেশ করে। নামাজের কিছু রুকন আছে, রুকনগুলোর কোনোটা ফিকহের বিভিন্ন কিতাব বা আলোচনায় ওয়াজিব বা ফরজ হুকুমেও এসে থাকে, রুকনের কোনো কিছু বাদ গেলে এবং তা যদি নামাজের মাঝেই স্মরণ হয়ে থাকে তবে তা পুনরায় আদায় করে এরপর সিজদা সাহু দিতে হবে। আর যদি নামাজের পর স্মরণ হয়ে থাকে তবে পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে। কিন্তু যদি কোনো রুকন বাদ যায় ও ব্যক্তি ভুলে যায়, নামাজের মাঝে বা পরেও মনে না আসে তবে তা রহিত হয়ে যায়, আল্লাহ চাইলে বান্দার ভুলে যাওয়া ভুল মাফ করে দিবেন। কেউ যদি ইচ্ছাকৃত কোনো রুকন বাদ দেয় বা স্মরণ হওয়ার পরেও তা আদায় না করে তবে নামাজ বাতিল হয়ে যাবে।

নামাজে রুকন ১৩টি- (উল্লেখিত- ভিন্ন ভিন্ন মতে রুকন ৮টি থেকে ১৪/১৬ টি পর্যন্ত এসেছে, সেগুলো রুকুতে এতমিনানের সাথে ঝুঁকা ও সিজদাতে এতমিনানের সাথে জমিনে যাওয়ার কথা এসেছে। ও বৈঠকে এতমিনানের সাথে বসার কথা এসেছে)
১/ সামর্থ্যানুযায়ী দাঁড়ানো ( চার মাজহাব )
২/ তাকবিরুল ইহরাম ( শাফিয়ি ও হানবালি রুকন, ফিকহে হানাফি- শর্ত, ফিকহে মালিকি- ওয়াজিব )
৩/ সুরাহ ফাতিহা তিলাওয়াত ( তিন মাজহাব, ফিকহে হানাফি- ওয়াজিব, সুরাহ ফাতিহার পর অন্য সুরাহ পড়াও ওয়াজিব )
৪/ রুকু করা ( চার মাজহাব )
৫/ রুকু থেকে দাঁড়ানো ( তিন মাজহাব, ফিকহে হানাফি- ওয়াজিব )
৬/ সিজদা করা ( চেহারা{কপাল+নাক}, দুই হাত, দুই হাঁটু,দুই পা) ( তিন মাজহাব, ফিকহে মালিকি- ওয়াজিব )
৭/ দুই সিজদার মাঝে বসা ( তিন মাজহাব, ফিকহে হানাফি- ওয়াজিব )
৮/ প্রতিটি রুকন ধীরস্থির ভাবে আদায় করা ( চার মাজহাব )
৯/ ধারাবাহিকতা ( চার মাজহাব ) ( চার মাজহাব )
১০/ শেষ বৈঠকে বসা (তিন মাজহাব, ফিকহে হানাফি- ফরজ)
১১/ শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠ করা (মালিকি ও শাফিয়ি প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া সুন্নত, শেষ বৈঠকে রুকন, ফিকহে হানবালিতে প্রথম বৈঠকে ওয়াজিব, শেষ বৈঠকে রুকন, ফিকহে হানাফিতে উভয় বৈঠকে ওয়াজিব )
১২/ শেষ বৈঠকে দরুদ পড়া ( মালিকি ও হানাফি মতে সুন্নত, শাফিয়ি ও হানবালি মতে রুকন )
১৩/ দুই দিকে সালাম ফেরানো ( তিন মাজহাব, ফিকহে হানাফি- ওয়াজিব )

এখানে বলে রাখা ভাল, হুকুমের ক্ষেত্রে মাজহাব ভেদে ভিন্ন হুকুমের কথা আসলেও ৪ মাজহাবই একমত যে ধীরস্থির ভাবে ও ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এই কাজগুলো আদায় না করলে নামাজ বাতিল হওয়ার সুযোগ থেকে যাচ্ছে। ভিন্ন হুকুমের কথা আসলেও কোনোটিই ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

৩- নামাজের ওয়াজিব-

শর্ত আদায়ের পর যখন নামাজ শুরু হয় তখন নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত রুকুন, ওয়াজিব, ফরজ, সুন্নত সবগুলো হুকুমই একের পর এক আসতে থাকে, বলে রাখা ভাল, ফিকহি পরিভাষায় কখনও ওয়াজিব ও ফরজকে একই বুঝিয়েছে, কখনও বা আলাদা বুঝিয়েছে, তবে দুটোর হুকুম একই অর্থাৎ ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে। নামাজের ওয়াজিব কেউ ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দিলে নামাজ বাতিল হবে, ভুলবশত ছুটে গেলে সিজদা সাহু দিলেই হয়ে যাবে, ওয়াজিব/ফরজ ছুটে গেলে সিজদা সাহুর হুকুম ও রুকন ছুটে গেলে সিজদা সাহুর হুকুম ভিন্ন, উভয়টিই আলোচনায় এসেছে।

নামাজের ওয়াজিব ৮টি
১/ তাকবিরুল ইহরাম ছাড়া বাকী সব তাকবির
২/ রুকুর তাসবিহ
৩/ রুকু থেকে ওঠার সময় তাকবির না বলে সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ বলা
৪/ দাঁড়িয়ে রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ বলা
৫/ সিজদার তাসবিহ বলা
৬/ দুই সিজদার মাঝের বৈঠকের দুয়া পড়া
৭/ প্রথম তাশাহহুদ
৮/ প্রথম তাশাহহুদের বৈঠক
উপরের হুকুমগুলো আলাদা করে মাজহাব ভেদে লেখা হল না, কারণ রুকনেই মোটামুটি ভিন্ন ভিন্ন মতের ওয়াজিবগুলো চলে এসেছে।

৪- নামাজের সুন্নত
হানাফি ফিকহে ৪১টি
মালিকি ফিকহে ১৪টি
শাফিয়ি ফিকহে ২০টি
হানবালি ফিকহে ৬৮টি

সবগুলোর বিস্তারিত আলোচনায় না যেয়ে সংক্ষেপে যদি বলি-
তাকবির তাহরিমের সময় কান সমান, কাঁধ সমান, বা কান ও কাঁধের মাঝ বরাবর পর্যন্ত হাত তোলা, তাকবির তাহরিমা ছাড়া রুকুতে যাওয়ার আগে, রুকু থেকে ওঠার সময় ও প্রথম বৈঠক থেকে উঠে তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর সময় তাকবির বলে হাত তোলা, মহিলাদের জন্য বুকে ও পুরুষদের জন্য নাভির উপরে, নিচে বা নাভিতে হাত বাধা, মহিলাদের জন্য বা হাতের ওপর ডান হাত হালত করে বিছিয়ে রাখা, পুরুষদের জন্য ডান হাতের কনিষ্ঠ ও বৃদ্ধা আঙ্গুলদ্বয় দিয়ে বাম হাতের কবজি চেপে ধরা ও বাম হাতের পিঠে ডান হাতের বাকী তিন আঙ্গুল বিছয়ে দেওয়া, নজর সিজদার জায়গায় রাখা, পুরুষরা দুই পায়ের মাঝে ৪ আঙ্গুল ফাঁক রাখা, মহিলারা ৪ আঙ্গুল ফাঁক রাখা বা উভয় পা মিলিয়ে রাখা, সানা পাঠ করা, ১ম রাকাতে সুরাহ ফাতিহার আগে ইস্তিয়াজা পাঠ করা, প্রতিবার সুরাহ ফাতিহার পর অন্য সুরাহ মেলানোর আগে বাসমালাহ পাঠ করা, সুরাহ ফাতিহার পর আমিন বলা, তা নিরবে কিংবা সামান্য জোরে উভয় হালত সুন্নত,তবে মহিলারা নিরবে বলবে, রুকুতে তাসবিহ বিজোড় সংখ্যায় পাঠ করা, ও রুকুর যেসব একাধিক দুয়া আছে সেসব পড়া, মহিলারা রুকুর সময় হাঁটু সামান্য সামনে বাড়িয়ে দিবে ও হাত শরীরের সাথে মিশিয়ে হাঁটু ধরবে, পুরুষরা পিঠ ও মাথা বরাবর সোজা রেখে রুকু দিবে ও হাঁটু ধরবে, রুকুতে নজর পায়ের কাছে রাখবে, রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবে ও দুয়া পড়ার পর অতিরিক্ত বলবে- হামদান কাসিরান ত্বইয়িবান মুবারাকান ফিহ, সিজদায় যাওয়ার সময় আগে হাঁটু দিয়ে পর হাত বিছাবে, তারপর মাথা রাখবে, দুই হাত কান বরাবর বিছাবে, পুরুষরা কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত তুলে রাখবে ,পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর দিবে ও কোমর উপরে তুলে দিবে ও পায়ের ভাজগুলো যথেষ্ট দূরত্বে থাকবে, মহিলারা দুই পা ডান দিকে বের করে দিয়ে জমিনে সম্পূর্ণ মিশে যাবে, দুই হাতও সম্পূর্ণ বিছিয়ে দিবে, সিজদার তাসবিহ বিজোড় সংখ্যায় পড়া ও তাসবিহ ছাড়া সিজদার যেসব একাধিক দুয়া আছে সেসব পাঠ করা, সিজদা থেকে উঠে বসার সময় মহিলারা দুই পা ডান দিকে বের করে বসবে ও পুরুষরা ডান পা আঙ্গুলে ভর দিয়ে খাড়া রেখে বাম পা বের করে দিবে কিংবা বাম পায়ের উপর বসবে, তাশাহহুদ বলার সময় ব্রদ্ধা ও মধ্যমা একত্রে ধরে তর্জনী তুলবে ও বাকী দিন আঙ্গুল ভাজ করে রাখবে, এবার তর্জনী তোলা সুন্নত, ধীরে ধীরে বারবার ওঠানামা করাও সুন্নত, শেষ বৈঠকে দরুদের পর শেষ বৈঠকের একাধিক যে দুয়াগুলো আছে সবগুলো পড়া ইত্যাদি।

৫- নামাজের মাকরুহ
নামাজের মাকরুহ কাজ অনেকগুলো, কোনো কোনো মাকরুহ কাজ কোনো কোনো মতে আবার ইচ্ছাকৃত আদায়ের ফলে নামাজ বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা এসেছে, তাই কাজগুলো করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক-

১/ একদম অন্ধকার কক্ষ বা স্থানে নামাজ পড়া
২/ চোখ বুজে নামাজ পড়া
৩/ পেশাব, পায়খানা, গ্যাস চেপে রেখে নামাজ পড়া
৪/ হাত বাড়িয়ে হাতা ঠিক করা বা বার বার কাপড় ঠিক করা
৫/ শরীরের কোনো অংশ চুলকানো
৬/ অহেতুক নড়াচড়া করা
৭/ সিজদায় যাওয়ার সময় জোরে মাটিতে হাঁটু ও হাত রাখা
৮/ আকাশে তাকানো
৯/ এদিক ওদিক তাকানো
১০/ অন্যমনস্ক হওয়া
১১/ কাউকে ইশারায় কিছু বুঝানো
১২/ আঙ্গুল নাড়াচাড়া করা বা ফোটানো
১৩/ কিয়াম ছাড়া অন্য কোথাও সুরাহ তিলাওয়াত করে ফেলা
১৪/ যেসব জায়গায় তাকবির নাই সেখানে তাকবির বলা বা হাত তোলা
১৫/ মুর্তি, ছবি আছে এমন স্থানে নামাজ পড়া বা কবরস্থানে নামাজ পড়া ইত্যাদি।

এছাড়া ওজু ভেংগে গেলে, রুকন ছুটে গেলে, ইচ্ছাকৃত ফরজ/ওয়াজিব তরক করলে, কথা বললে, জোরে হাসলে, ঘুমিয়ে গেলে, কিবলা থেকে সম্পূর্ণ সরে গেলে, নামাজ ভেংগে যাবে।

নামাজের সুন্নত ছুটে গেলে সিজদা সাহু দিলে সেই সুন্নত আদায়ের সোওয়াব পাওয়া যাবে, আর যদি মাকরুহ কোনো কাজ করে তবে সিজদা সাহু দিলে সেই মাকরুহ কাজ মাফ হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।

৬- সাহু সিজদা-
রুকন ছুটে গেলে সেই রুকন আদায় করে এরপর সিজদা সাহু ওয়াজিব
ওয়াজিব/ফরজ ছুটে গেলে সিজদা সাহু ওয়াজিব
সুন্নত ছুটে গেলে সিজদা সাহু মুস্তাহাব
মাকরুহ কাজ হয়ে গেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সিজদা সাহু ওয়াজিব, যেমন, রুকু সিজদায় যদি কুরআনের কোনো আয়াত বা সুরাহ ফাতিহা তিলাওয়াত করে ফেলে।

সিজদা সাহু দেওয়ার নিয়ম-

১- শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে ডানে সালাম দিয়ে দুইটা সিজদা দিয়ে এরপর আবার বসে তাশাহহুদ, দরুদ ও দুয়া মাসুরাহ পড়ে ডানে বায়ে সালাম দিয়ে নামাজ শেষ করা। (ফিকহে হানাফি)
২- তাশাহহুদ, দরুদ ও দুয়া মাসুরাহ পড়ে আবার দুই সিজদা দিয়ে উঠে বসে দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করা।( শাফিয়ি, মালিকি, হানবালি)
৩- তাশাহহুদ, দরুদ ও দুয়া মাসুরাহ পড়ে দুই দিকে সালাম ফিরিয়ে এরপর আবার দুই সিজদা দিয়ে উঠে বসে নামাজ শেষ করা। ( শাফিয়ি, মালিকি, হানবালি)

এই আলোচনার মাধ্যমে আশা করি আমরা জানতে পারলাম নামাজে অবশ্যকরণীয় কাজগুলো কী কী, কী আদায়ে নামাজ ভেঙ্গে যায় ও কী না আদায়ে নামাজ ভেংগে যায়না, কোন বিষয়গুলোতে আমাদের বেশি যত্নবান হতে হবে ও কোন বিষয়গুলোতে আমরা তর্ক-বিতর্কে না যেয়ে ছেড়ে দিব। ভিন্নমতগুলো ভুল নয়, বরং ভিন্নমতগুলোতে আমরা সম্মান রেখে নিরব থাকব, কাউকে বলতে যাব না ‘তোমার নামাজ হচ্ছে না’ । এখানে খুব সহজ ভাবে নারিপুরুষ উভয়ের নামাজের ব্যপারে আলোচনা করা হয়েছে। কারও যদি নারীপুরুষের নামাজের পার্থক্য নিয়ে দালিলিক আলোচনা করতে ইচ্ছে হয় তবে সে যেন
মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালিক হাফিইজাহুল্লাহ সাহেবের কিতাব ‘উম্মাহের ঐক্য পথ ও পন্থা’ ও মাওলানা আব্দুল মতিন হাফিইজাহুল্লাহ সাহেবের কিতাব ‘ দলিলসহ নামাজযের মাসায়েল’ এই কিতাব দুইটি অবশ্যই পড়ে নেয়।

চলবে ... ...

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka