03/08/2020
حَٰفِظُوا۟ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ… …
তোমরা নামাযের প্রতি যত্নবান হও… …
#পর্ব- ৫
কপি/ শেয়ার করতে পারেন।
----------------------------------------
উপরোক্ত আলোচনায় চার মাজহাবের হুকুম সবগুলো চলে আসছে আলহামদুলিল্লাহ, পাঠকদের মাঝে যে যেই ফিকহ অনুসরণ করছেন তারা নিজেদের ফিকহের মাসআলা ভাল করে জেনে নিবেন ও অপর ফিকহের মাসআলার প্রতি দিলে সম্মান রেখে দিল প্রশস্ত করবেন এই আশা রাখি। তবে একত্রে সবগুলো ফিকহের হুকুম মিশ্রিত করে পালন করার ব্যপারে সাবধান হবেন। এতে ধীরে ধীরে দিলে আবার অশান্তি সৃষ্টি হতেই পারে, মতপার্থক্য আসতে পারে, কারণ ফিকহ শুধু নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ফিকহ নামাজ ছাড়াও রোজা, হজ, যাকাত, বিয়ে তালাক ইত্যাদি সব কিছুতেই আছে। এটা উত্তম নয় যে একজন ব্যক্তি একেক ইবাদাতের ক্ষেত্রে একেক ফিকহ অনুসরণ করে পুরোটাই কঠিন অবস্থা করে রেখেছে।
পরবর্তীতে আমাদের যেসব আলোচনা আসছে সেসবের ভিতকার ফিকহের আলোচনা উপরেই শেষ হয়েছে। তাই একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি হবে না। কোন নামাজ কত রাকআত, ও নামাজের ভিতরের দুয়া, ও কিছু নামাজের ফযিলত পড়ার নিয়ম আলোচনায় আসবে ইন শা আল্লাহ।
৭- ফজরের নামাজ
সকালের শুরুটা হয় ফজরের নামাজ দিয়ে, হাদিসে আছে, শয়তানের বিরুদ্ধে তার তিনটা বিজয় হয় যখন সে ঘুম থেকে ওঠে, ওজু করে ও ফজরের নামাজ আদায় করে।
ফজরের নামাজ ৪ রাকআত, দুই রাকআত সুন্নত ও তারপর দুই রাকআত ফরজ। রাসুল ﷺ কখনই ফজরের ফরজ দুই রাকআত নামাজের পুর্বে দুই রাকআত সুন্নত নামাজ কখনই কোনো হালতেই ছেড়ে দেন নাই। এই দুই রাকআত সুন্নত নামাজ দুনিয়া ও দুনিয়ার মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু থেকে উত্তম। (মুসলিম- ৭২৫) অন্যান্য সুন্নত নামাজের ব্যপারে এত তাগিদ আসে নাই যতটা এসেছে এই দুই রাকআত নিয়ে।
আমরা অনেকেই ফরজ নামাজের আগে পরের সুন্নত নামাজগুলো ছেড়ে দেই, অথচ এর ফযিলত অপরিসীম।
ফজরের নামাজের নিয়ম-
প্রথমে দুই রাকআত সুন্নত, তারপর দুই রাকআত ফরজ। তবে কেউ যদি ভুলে আগে ফরজ আদায় করে ফেলে তবে ফরজের পর সুন্নত আদায় করা যাবে, কিংবা হালত যদি এমন হয় যে খুব দেরি হয়ে গেল, নামাজের ওয়াক্ত একদম শেষের দিকে তবে আগে ফরজ আদায় করে পরে সুন্নত আদায় করতে পারবে। কিংবা কেউ যদি জামাতে নামাজ আদায় করতে চায় আর যদি সে পৌঁছার পুর্বেই জামাত দাঁড়িয়ে যায় তবে দুইটা পন্থা, এক- যদি দেখে সে সুন্নত আদায় করে জামাতে শরিক হতে পারবে তবে সুন্নত আদায় করে নিবে, আর যদি দেখে সুন্নত আদায় করতে নিলে জামাত শেষ হয়ে যাবে তবে আগে জামাতে ফরজ আদায় করে তারপর সুন্নত আদায় করবে।
পুর্বে আলোচিত নামাজের শর্ত, রুকন, ফরজ/ওয়াজিব সব মেনেই নামাজ শুরু করবে।
তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত বেধে সানা পড়ে নিবে, নামাজের জন্য একাধিক সানা আছে, সবগুলোই বা যে কোনো একটিও পড়া যায়। সানাগুলো-
১-
اللّٰهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِيْ وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللّٰهُمَّ نَقِّنِيْ مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللّٰهُمَّ اغْسِلْنْي مِنْ خَطَايَايَ، بِالثَّلْجِ وَالْمْاءِ وَالْبَرَدِ
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার গুনাহসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করুন যে রূপ দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার গুনাহসমূহ থেকে এমন পরিষ্কার করে দিন, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে বরফ, পানি ও মেঘের শিলা খণ্ড দ্বারা ধৌত করে দিন।
২-
سُبْحانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বড়ই বরকতময়, আপনার প্রতিপত্তি অতি উচ্চ। আর আপনি ব্যতীত অন্য কোনো হক্ব ইলাহ্ নেই।
৩-
وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيْفَاً وَّمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ، إِنَّ صَلاَتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِيْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، لاَ شَرِيْكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ
অর্থ : যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন আমি একনিষ্টভাবে আমার মুখমণ্ডল তাঁর দিকেই ফিরালাম, আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী বা যাবতীয় ইবাদাত, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব্ব আল্লাহ্র জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমি এরই আদেশ প্রাপ্ত হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
৪-
اللّٰهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيْلَ، وَمِيْكَائِيْلَ، وَإِسْرَافِيْلَ، فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيْمَا كَانُوْا فِيْهِ يَخْتَلِفُوْنَ، اهْدِنِيْ لِمَا اخْتُلِفَ فِيْهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِيْ مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقيْمٍ
অর্থ : হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের রব্ব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, গায়েব ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞানী, আপনার বান্দাগণ যেসব বিষয়ে মতভেদে লিপ্ত আপনিই তার মীমাংসা করে দিবেন। যেসব বিষয়ে মতভেদ হয়েছে তন্মধ্যে আপনি আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে যা সত্য সেদিকে পরিচালিত করুন। নিশ্চয় আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন।
সানার পর ইস্তিয়াজা ও বাসমালা বলে সুরাহ ফাতিহা তিলাওয়াত করবে ও তারপর বিসমিল্লাহ বলে অন্য এক সুরাহ তিলাওয়াত করবে। তিলাওয়াত শেষে তাকবির বলে রুকুতে যাবে, রুকুর জন্যও তাসবিহের পাশাপাশি একাধিক দুয়া আছে, চাইলে সবগুলোই পড়া যায়, আর এই দুয়াগুলো ফরজ/সুন্নত/নফল সব নামাজেই পড়া যায়। রুকুর দুয়াগুলো-
১-
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ
অর্থ : আমার মহান রব্বের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি
২-
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের রব্ব! আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি আপনার প্রশংসাসহ। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করে দিন।
৩-
سُبُّوُحٌ، قُدُّوْسٌ، رَبُّ المَلاَئِكَةِ وَالرُّوْحِ
অর্থ : (তিনি/আপনি) সম্পূর্ণরূপে দোষ-ত্রুটিমুক্ত, অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত; ফেরেশতাগণ ও রূহ এর রব্ব।
৪-
اللّٰهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، خَشَعَ لَكَ سَمْعِي، وَبَصَرِي، وَمُخِّي، وَعَظْمِي، وَعَصَبِي، وَمَا اسْتَقَلَّتْ بِهِ قَدَمِيْ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যেই রুকু করেছি, আপনার উপরই ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি। আমার কান, আমার চোখ, আমার মস্তিষ্ক, আমার হাড়, আমার পেশী, সবই আপনার জন্য বিনয়াবনত। আর যা আমার পা বহন করে দাঁড়িয়ে আছে [মানে আমার সমগ্র সত্তা] তাও (আপনার জন্য বিনয়াবনত)
৫-
سُبْحَانَ ذِيْ الْجَبَرُوْتِ، وَالْمَلَكُوْتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ
অর্থ : পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি সেই সত্তার, যিনি প্রবল প্রতাপ, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গৌরব-গরিমা এবং অতুলনীয় মহত্ত্বের অধিকারী
রুকুর তাসবিহ শেষ হলে -
سَمِعَ اللّٰهُ لِمَنْ حَمِدَهُ
অর্থ : যে আল্লাহর হামদ-প্রশংসা করে, আল্লাহ তার প্রশংসা শোনেন (কবুল করুন)
বলতে বলতে দাঁড়াবে, সম্পূর্ণ দাঁড়ানো হলে এরপর এই দুয়া বলবে-
১-
رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْداً كَثِيْراً طَيِّباً مُبارَكاً فِيْهِ
অর্থ : হে আমাদের রব্ব! আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা; অঢেল, পবিত্র ও বরকত-রয়েছে-এমন প্রশংসা।
২-
مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ، وَمَا بَيْنَهُمَا، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيءٍ بَعْدُ، أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ، أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ، وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ، اللّٰهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ، وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الجَدِّ مِنْكَ الجَدُّ
অর্থ : (আপনার প্রশংসা করছি) আসমানসমূহ পূর্ণ করে, জমিন পূর্ণ করে ও যা এ দু’টির মাঝে রয়েছে (তাও পূর্ণ করে), আর এর পরে যা পূর্ণ করা আপনার ইচ্ছা তা পূর্ণ করে। হে প্রশংসা ও সম্মান-মর্যাদার যোগ্য সত্ত্বা! বান্দা সবচেয়ে যে সঠিক কথাটি বলেছে তা হচ্ছে—আর আমরা সবাই আপনার বান্দা— হে আল্লাহ, আপনি যা প্রদান করেছেন তা বন্ধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রুদ্ধ করেছেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আর কোনো ক্ষমতা-প্রতিপত্তির অধিকারীর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি আপনার কাছে কোনো কাজে লাগবে না।
দুয়া শেষ করে তাকবির বলে সিজদাতে যাবে, সিজদাতেও রুকুর মত তাসবিহ ছাড়াও একাধিক দুয়া আছে ও ফরজ/সুন্নত/নফল সব নামাজেই পড়া যাবে। সিজদার দুয়াগুলো-
১-
سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى
অর্থ : আমার রব্বের পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করছি, যিনি সবার উপরে।
২-
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের রব্ব! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে মাফ করে দিন।
৩-
سُبُّوْحٌ، قُدُّوْسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوْحِ
অর্থ : (তিনি/আপনি) সম্পূর্ণরূপে দোষ-ত্রুটিমুক্ত, অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত; ফেরেশতাগণ ও রূহ এর রব্ব।
৪-
اللّٰهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ خَلَقَهُ، وَصَوَّرَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللّٰهُ أَحْسنُ الْخَالِقِيْنَ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্যই সিজদা করেছি, আপনার উপরই ঈমান এনেছি, আপনার কাছেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি। আমার মুখমণ্ডল সিজদায় অবনত সেই মহান সত্তার জন্য; যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দিয়েছেন, আর তার কান ও চোখ বিদীর্ণ করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ্ অত্যন্ত বরকতময়।
৫-
سُبْحَانَ ذِيْ الْجَبَرُوْتِ، وَالْمَلَكُوْتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ
অর্থ : পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি সেই সত্তার, যিনি প্রবল প্রতাপ, বিশাল সাম্রাজ্য, বিরাট গৌরব-গরিমা এবং অতুলনীয় মহত্ত্বের অধিকারী।
৬-
اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ كُلَّهُ، دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَعَلاَنِيَّتَهُ وَسِرَّهُ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিন— তার ক্ষুদ্র অংশ, তার বড় অংশ, আগের গুনাহ, পরের গুনাহ, প্রকাশ্য ও গোপন গুনাহ।
৭-
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوْبَتِكَ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْكَ، لاَ أُحْصِيْ ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে অসন্তুষ্টি থেকে, আর আপনার নিরাপত্তার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি আপনার নিকটে আপনার (পাকড়াও) থেকে আশ্রয় চাই। আমি আপনার প্রশংসা গুনতে সক্ষম নই; আপনি সেরূপই, যেরূপ প্রশংসা আপনি নিজের জন্য করেছেন
এক সিজদা দিয়ে উঠে বসতে হবে, বসে এই দুয়াগুলো পড়বে-
১-
رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ
অর্থ : হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।
২-
اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي، وَارْفَعْنِيْ
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমার সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে দিন, আমাকে নিরাপত্তা দান করুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন
দুয়া পড়া শেষ হলে আবার পুর্বের ন্যায় সিজদা দিবে ও দুয়া পড়বে। তারপর আবার তাকবির দিয়ে দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়াবে। তারপর শুধু বাসমালা বলে সুরাহ ফাতিহা পড়বে তারপর অন্য সুরাহ মেলাবে। খেয়াল রাখতে হবে প্রথম রাকআত থেকে যেন দ্বিতীয় রাকআতের কিরাত ছোটো হয়। এবং প্রথম রাকআত ও দ্বিতীয় রাকআতের পঠিত সুরাহের মাঝে যেন ধারাবাহিকতা রাখা হয়, আগে পিছে যেন না হয়, অর্থাৎ সুরাহ ফালাকের পর সুরাহ নাস আসবে। সুরাহ নাস প্রথম রাকাতে পড়ে দ্বিতীয় রাকাতে যেন সুরাহ ফালাক না পড়ে। ফিকহে হানাফি মতে এই তারতিব বজায় রাখা ওয়াজিব, বজায় না রাখলে মাকরুহ হবে, অন্যান্য ফিকহে তা মাকরুহ। তবে কেউ তারতিব ঠিক না রাখলে নামাজ হয়ে যাবে ও সিজদা সাহু না দিলেও নামাজ হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ।
প্রথম রাকআতের মত দ্বিতীয় রাকআতও পড়বে, তবে দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে বসে তাশাহহুদ পড়বে। তাশাহহুদ-
التَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ، وَالصَّلَوْاتُ، وَالطَّيِّباتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللّٰهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ
অর্থ : যাবতীয় অভিবাদন আল্লাহ্র জন্য, অনুরূপ ভাবে সকল সালাত ও পবিত্র কাজও। হে নবী! আপনার উপর বর্ষিত হোক সালাম, আল্লাহর রহমত ও বরকতসমূহ। আমাদের উপর এবং আল্লাহ্র সৎ বান্দাদের উপরও বর্ষিত হোক সালাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহ্র বান্দা ও রাসূল
তাশাহহুদের পর দরুদ পড়বে। দরুদ-
১-
اللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ، اللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি (আপনার নিকটস্থ উচ্চসভায়) মুহাম্মাদকে সম্মানের সাথে স্মরণ করুন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনকে, যেমন আপনি সম্মানের সাথে স্মরণ করেছেন ইবরাহীমকে ও তাঁর পরিবার-পরিজনদেরকে। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহা মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার পরিজনের উপর বরকত নাযিল করুন যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছিলেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবার-পরিজনের উপর। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহা মহিমান্বিত
২-
اللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি (আপনার নিকটস্থ উচ্চসভায়) মুহাম্মাদকে সম্মানের সাথে স্মরণ করুন এবং তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরকেও, যেমন আপনি সম্মানের সাথে স্মরণ করেছেন ইবরাহীমের পরিবার-পরিজনকে। আর আপনি মুহাম্মাদ এবং তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরের উপর বরকত নাযিল করুন যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছিলেন ইবরাহীমের পরিবার- পরিজনের উপর। নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত প্রশংসিত ও মহা মহিমান্বিত
দরুদের পর নিজের জন্য দুয়া পড়বে, চাইলে একটা কিংবা সবগুলোই পড়া যায়। দুয়াগুলো-
১-
اللّٰهُــمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্টতা থেকে
২-
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْـيَا وَالْمَمَاتِ . اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে, আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে এবং আশ্রয় চাই জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পাপাচার ও ঋণের বোঝা থেকে
৩-
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمْاً كَثِيْراً، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি। আর আপনি ছাড়া গুনাহসমূহ কেউই ক্ষমা করতে পারে না। অতএব আমাকে আপনার পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমা দ্বারা মাফ করে দিন, আর আমার প্রতি দয়া করুন; আপনিই তো ক্ষমাকারী, পরম দয়ালু
৪-
اللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ مَا قَدَّمْتُ، وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ، وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
অর্থ : হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন আমার গুনাহসমূহ— যা পূর্বে করেছি, যা পরে করেছি, যা আমি গোপন করেছি, যা প্রকাশ্যে করেছি, যা সীমালঙ্ঘন করে করেছি, আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। আপনিই (কাউকে) করেন অগ্রগামী, আর আপনিই (কাউকে) করেন পশ্চাদগামী, আপনি ব্যতীত আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই।
৫-
اللّٰهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার যিক্র করতে, আপনার শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন
৬-
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, আপনার আশ্রয় চাই কাপুরুষতা থেকে, আপনার আশ্রয় চাই চরম বার্ধক্যে উপনীত হওয়া থেকে, আর আপনার আশ্রয় চাই দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে
৭-
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই
৮-
اللّٰهُمَّ بِعِلْمِكَ الغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِيْ مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْراً لِي، وَتَوَفَّنِيْ إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْراً لِي، اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِيْ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার গায়েবী জ্ঞান এবং সকল সৃষ্টির উপর আপনার সার্বভৌম ক্ষমতার অসিলায় (চাই), আমাকে আপনি জীবিত রাখুন সে-সময় পর্যন্ত, যে সময় পর্যন্ত জীবিত থাকা আপনার জ্ঞানে আমার জন্য কল্যাণকর; আর আমাকে মৃত্যু দিন যখন আপনি জানেন যে, মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট চাই গোপনে ও প্রকাশ্যে আপনাকে ভয় করা
৯-
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ يَا أَللّٰهُ بِأَنَّكَ الْوَاحِدُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِيْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ، وَلَمْ يَكنْ لَهُ كُفُوْاً أَحَدٌ، أَنْ تَغْفِرَ لِيْ ذُنُوْبِيْ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِّيْمُ
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনিই একক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী; যিনি জন্ম দেন নি, জন্ম নেন-ও নি; আর যার সমকক্ষ কেউ নেই। তাই হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই, যেন আপনি আমার সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দেন; নিশ্চয় আপনি অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু
১০-
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ، الْمَنَّانُ، يَا بَدِيْعَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই; কারণ, সকল প্রশংসা আপনার, কেবলমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আপনার কোনো শরীক নেই, সীমাহীন অনুগ্রহকারী; হে আসমানসমূহ ও যমীনের অভিনব স্রষ্টা! হে মহিমাময় ও মহানুভব! হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী-সর্বসত্তার ধারক! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই।
১১-
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ بِأَنِّيْ أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِيْ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوْاً أَحَدٌ
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাই। কেননা, আমি সাক্ষ্য দেই যে, নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই; আপনি একক সত্তা, অমুখাপেক্ষী—সকল কিছু আপনার মুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেন নি এবং জন্ম নেনও নি। আর যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই
দুয়া পড়া শেষ হলে প্রথমে ডান দিকে ও পরে বাম দিকে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে সালাম দিবে। দুই সালামের মাঝখানে মাথাকে ঝাঁকাবে না বা বুকের কাছে নামিয়ে আনবে না, সোজা ডান দিকে মুখ ঘুরাবে ও তারপর সোজা বাম দিকে নিয়ে যাবে। ডান দিকে সালাম দেওয়ার সময় এদিক ওদিক বা ডান দিকের কাতারে বা সে দিকে কিছু থাকলেও তাকাবেনা কারণ প্রথম সালাম দেওয়ার পরেও আমরা নামাজের ভিতরেই থাকি।
এভাবে শেষ হল দুই রাকআত নামাজের নিয়ম। এই নিয়মেই ফরজ নামাজের দুই রাকআত বিশিষ্ট সকল সুন্নত নামাজ আদায় করা হয়।
চলবে ... ...