12/05/2024
পরিবর্তন
আমি 56বছর বয়সে পা দেবো দেবো করছি আমার এক বন্ধু জিজ্ঞেস করেছিল, নিজের মধ্যে -এই বয়েসে পৌঁছে, কিছু পরিবর্তন অনুভব করছিস কি?
আমি উত্তর দিয়ে ছিলাম.....এতবছর নিজের পিতামাতা, ভাইবোন, স্বামী /স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, বন্ধুবান্ধব সবাইকে ভালবাসা দেবার পর এবার শুধু নিজেকে ভালবাসতে শুরু করেছি। হ্যাঁ , আমি পরিবর্তিত হচ্ছি।
দীর্ঘদিন পরে বুঝতে পেরেছি যে আমি কোনো মানচিত্র নই যে সমস্ত জগত আমার ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে। তাই, সবাইকে ঝেড়ে ফেলে -আমি বদলে যাচ্ছি।
আজকাল আমি দোকানে, বাজারে গিয়ে দু পয়সা নিয়ে আর ঝগড়া করিনা। কারণ আমি বুঝতে শিখেছি, দু/ চার পয়সা বেশী খরচ হলে আমি দরিদ্র হয়ে যাব না। বরং যে লোকটি দু পয়সা বেশী রোজগারের আশায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে সে দু পয়সা বেশী পেলে হয়ত তার মেয়েটির লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারবে। সত্যি, আমি বদলে যাচ্ছি।
আজকাল গাড়ি থেকে নেমে খুচরো টাকা নেবার জন্য অপেক্ষা করে থাকিনা। যে লোকটি রোজগার করছে রাতদিন, কটা টাকা বেশী পেলে হয়ত তার মুখে হাসি ফুটবে। সেই হাসিটুকুর আশায় আমি নিজেকে বদলে দিচ্ছি।
বয়স্ক লোকদের বলা একই গল্প বারবার শুনেও বলিনা, থাম ত বহুবার শুনেছি। বুঝতে শিখেছি, এই গল্পগুলোর মধ্যে তাদের অতীতের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, যা তাদের নিস্তরঙ্গ জীবনে কিছুটা আনন্দ বয়ে আনে।তাই,আমি আর সেই আগের মত তাদের কথা শুনে বিরক্ত হই না।
লোকের ভুল ত্রুটি দেখে তাকে শুধরে দেবার জন্য আগের মতন আর প্রাণপণ লড়াই শুরু করিনা কারণ আমি বুঝতে শিখে গেছি, সারা পৃথিবীর লোকদের শোধরানোর দায় আমার নয়। বরং আমার মনের শান্তি আমার কাছে অনেক বেশী দামী।
হ্যাঁ ,আমি বদলে গেছি। এখন আমি বিনা কারণেই মানুষকে অভিনন্দন জানাই, তাদের প্রশংসা করি, এতে তারা যে আনন্দ পায়, তাদের সেই আনন্দ দিতে পেরে আমি নিজেও আনন্দিত হই।
আমাকে কেউ অবজ্ঞা করলে আমি আর আগের মত অপমানিত হই না, দূরে সরে যাই তাদের থেকে। আমি বুঝি, তারা হয়ত আমার মূল্য বুঝতে না পেরে আমায় হেলা করছে, কিন্তু আমি ত জানি -আমার কাছে আমি অমূল্য।
আজকাল আবেগের যখন তখন অপ্রত্যাশিত প্রকাশ আমাকে আর লজ্জিত করে না কারণ আমি শিখে গেছি যে এই আবেগগুলোই আমাকে ‘মানুষ’ বলে নিজের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়।
এখন আর নিজের Egoকে আঁকড়ে ধরে থাকি না। বুঝে গেছি, Ego মানুষকে একাকিত্বের দিকে ঠেলে দেয়। বরং এটি ছেড়ে দিলে সম্পর্কগুলো সুন্দর হয়ে ওঠে।
প্রতিটি দিনকে জীবনের শেষ দিন মনে করে বাঁচি।
____সংগৃহীত