24/11/2025
Film Gurukul, GOLN
Film Gurukul, GOLN (https://filmgoln.com/) is designed to immerse you in the world of cinema.
Welcome to Film Gurukul, GOLN – Your Gateway to the World of Film and Cinema
Film has long been a powerful medium for storytelling, entertainment, and art. Whether you’re an aspiring filmmaker, actor, actress, technician, or simply a film enthusiast, Film Gurukul, GOLN (https://filmgoln.com/) is designed to immerse you in the world of cinema. This platform, an initiative of the Art & Culture Guru
24/11/2025
22/09/2025
একদিন ডালহৌসি পাড়ায় ইন্ডিয়া স্টিমশিপের হলঘরে আমাদের শুটিং চলছে। এমনিতে যথেষ্ট বড় জায়গা, কিন্তু তা জনা-পনেরো লোকের কনফারেন্স করার জন্য। সেখানে আমরা ঢুকে গেছি প্রায় পঞ্চাশ-ষাট জন। সঙ্গে আছে ক্যামেরা, লাইট, ট্রলি লাইন ও আর সব লটবহর। নড়াচড়ার জায়গা নেই বললেই হয়। তার ওপর জায়গাটা আবার এয়ার কন্ডিশনড। জানালা-টানালার বালাই না থাকার ফলে এতগুলি লোকের শরীরের তাপ, একগাদা জোরালো লাইটের তাপ মিলে সে এক অসহনীয় অবস্থা। তার মধ্যেই শুটিংয়ের তোড়জোড় চলছে। শিল্পীদের মধ্যে উৎপলবাবুও আছেন। যেহেতু প্রথমদিকের কয়েকটা শট-এ ওঁর প্রয়োজন নেই, তাই ওঁর জন্যে একটা চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে একটু দূরে আর বলা হয়েছে ওখানে বসে উনি বিশ্রাম নিন, দরকার হলে আমরা ডেকে নেব।
প্রচণ্ড অসুবিধের মধ্যে কাজ এগিয়ে চলেছে। হঠাৎ অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান এসে জানালেন যে, ঘরের এয়ার কন্ডিশনারগুলো অকেজো হয়ে গেছে, কী একটা লাইন ফল্টের জন্যে। শুনে তো আমাদের মাথায় হাত। একেই তো অতগুলি জ্বলন্ত লাইটের গরম, চামড়া পুড়ে যাওয়ার অবস্থা - তার ওপর আবার এই সুসংবাদ। নিজেদের আনা জেনারেটারের সাহায্যে লাইটগুলো কোনওরকমে জ্বালানো নেভানো যেতে পারে, কিন্তু এ.সি. মেশিনগুলি চালিয়ে যাবার সাধ্য তার নেই। ফলে শুটিং কোনওরকমে চলতে থাকল বটে কিন্তু ক্রমশ জায়গাটা একটা অগ্নিকুণ্ডের চেহারা নিতে থাকল। একজনের শ্বাস যেন আরেকজনের গায়ে এসে পড়তে লাগল, এতটাই অস্বস্তি। বেশ কয়েকটা শট নেবার পর আমার সহকারী ধ্রুবকে
ডেকে বললাম, 'যাও, উৎপলবাবুকে গিয়ে হতে বলো যে এর পরের শট-এ ওঁকে রেডি চাই । '
ধ্রুবকে বলার কারণ এই যে বেশ কিছুদিন ও উৎপলবাবুর নাটকের দলে শিল্পী হিসেবে কাজ করেছে। ‘ছায়ানট' নাটকে এক মজাদার প্রেস ফটোগ্রাফারের ভূমিকায় ওর অভিনয় দর্শকদের প্রচুর হাততালি আদায় করে নিয়েছিল।
আমার কথা শুনে ধ্রুব চলে গেল উৎপলবাবুর কাছে। কিন্তু মিনিট কয়েকের মধ্যেই ফিরে এসে শুকনো মুখে বলল-
'একবার আপনি গিয়ে বললেই ভালো হয়।'
-“কেন বলো তো?' জিগ্যেস করি।
—কী জানি। ঘুমে ঢুলছিলেন। আমি ডাকতেই চোখ খুলে তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠলেন, কাল সারারাত আমার নাটকের রিহার্সাল করেছি। গিয়ে বলো, যাচ্ছি একটু পরে।'
এখন বুঝি, মতিভ্রম হয়েছিল আমার। কিন্তু শোনামাত্র ধ্রুবর দিকে চেয়ে কিন্তু উৎপলবাবুর কানে যাতে ঠিকমতো পৌঁছয় এমন চড়া স্বরে আমিও বলে উঠলাম, 'কার পারমিশন নিয়ে উনি রাত জেগে রিহার্সাল করেছেন, জিগ্যেস করো। ওঁর ক্লান্ত চোখ আমার শুটিংয়ের কোন কাজে লাগবে ?”
বলামাত্র সারা সেট নিস্তব্ধ। আমার অমন উঁচু গলায় কথা বলা ওদের কানে নিশ্চয়ই নতুন ঠেকলো। উৎপলবাবুও শোনামাত্র ওঁর ভাঁটার মতো দুচোখ দিয়ে আমাকে প্রায় ভস্ম করে দেওয়ার ভঙ্গিতে ফুঁসে উঠলেন। যেন সেই মুহূর্তে আমাকে দশবার খুন করে দেবেন উনি। আমারও মেজাজ তখন সপ্তমে। ওসব গ্রাহ্য না করে আরো চড়া গলায় বলে উঠলাম, “ওঁকে বলো, ঘুমোনোর জন্যে কেউ ওঁকে ডাকেনি এখানে। ওঁকে উঠে দাঁড়িয়ে থাকতে বলো, যতক্ষণ না আমি বসবার পারমিশন দিচ্ছি।'
বলামাত্র আমার জ্ঞানোদয় হলো। ছি ছি, এ কী করলাম আমি। ওঁর মতো একজন শিল্পী যাঁর সঙ্গে আমার এত বছরের সুন্দর সম্পর্ক, তাঁকে বললাম এসব কথা। কিন্তু ততক্ষণে বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে বেরিয়ে গেছে। লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে গেল আমার। মনে মনে বললাম, 'সরি, এক্সট্রিমলি সরি উৎপলবাবু।' কিন্তু মুখ ফুটে বলার আগেই একটা বিস্ময়কর ঘটনা ঘটল। উৎপলবাবুর সেই রাগত চোখের চাউনি আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে এল। আর ধীরে ধীরে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন উনি। তারপর দুষ্টুমি করা ছাত্র যেমন কড়া মাস্টার মশাইয়ের সামনে মিইয়ে যায়, অবিকল সেই মাথা নিচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। যেন কোনও শোকসভা চলছে।
এবার আমার পালা। ছুটে গিয়ে ওঁর হাত দুটো ধরে ক্ষমা চাইলাম ।
কিন্তু এইখানে মানুষটার মহত্ব যে আমার কথা শোনামাত্র বলে উঠলেন,
-'আরে! আপনি কেন ক্ষমা চাইবেন? আপনি ডিরেকটার, আমি আর্টিস্ট। আমাকে ধমকাবার অধিকার হাজারবার আপনার আছে। আমিও তো ধমকাই, আমার নাটকের রিহার্সালে যখন কেউ ভুল করে। গালাগাল করে ভূত ভাগিয়ে দিই।'
আজ আর উনি আমাদের মধ্যে নেই, যেমন নেই শ্রীমতী সুচিত্রা সেনও। জানতে ইচ্ছে করে, এমন শিষ্টাচারের উত্তরাধিকার কি ওঁরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে রেখে গেছেন? হয়তো হ্যাঁ। হয়তো না। কী জানি।
- সিনেমাপাড়া দিয়ে (তরুণ মজুমদার)
19/09/2025
থিয়েটারে নাটক বা সিনেমা শুরুর আগে তিনবার বেল বাজানো হয়। আমরা সবাই সেই বেল শুনি, কিন্তু অনেকে এর প্রকৃত অর্থ জানি না। চলুন জেনে নেওয়া যাক।
থিয়েটারের জগতে এই ঘণ্টাধ্বনিকে বলা হয় “Curtain Bells” বা “House Bells”। এটি একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ রীতি। দর্শক যখন হলঘরে প্রবেশ করেন, তাঁদের মনে করিয়ে দেওয়া এবং নাটক শুরু হওয়ার জন্য প্রস্তুত করে তোলার উদ্দেশ্যেই এই ঘণ্টা বাজানো হয়। শুধু সময় মেনে চলার একটি প্রক্রিয়া বললে এর মাহাত্ম্য কমে যায়—আসলে এটি দর্শক ও মঞ্চের মধ্যে এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন তৈরি করে। প্রতিটি ঘণ্টার আলাদা আলাদা তাৎপর্য আছে, এবং সেগুলো মিলেই গড়ে ওঠে নাটকের পরিবেশ।
ফার্স্ট বেল (First Bell):
প্রথম ঘণ্টা সাধারণত নাটক শুরু হওয়ার ১০–১৫ মিনিট আগে বাজানো হয়। এটি এক কোমল সতর্কবার্তা, যেন দর্শকরা বুঝতে পারেন—সময় ফুরিয়ে আসছে, এখন হলে প্রবেশ করে আসন গ্রহণের মুহূর্ত। তখনও অনেকে বাইরে আলাপচারিতা বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাঁদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্যই ফার্স্ট বেল। এটি এক প্রকার আহ্বান—“মঞ্চ প্রস্তুত, এখন আপনাদেরও প্রস্তুত হতে হবে।”
সেকেন্ড বেল (Second Bell):
দ্বিতীয় ঘণ্টা বাজানো হয় নাটক শুরুর প্রায় পাঁচ মিনিট আগে। এটি প্রথম ঘণ্টার তুলনায় অনেক বেশি দৃঢ় ও চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। তখন দর্শকরা দ্রুত নিজেদের আসনে ফিরে আসেন, আলো ক্রমে ম্লান হতে শুরু করে, এবং হলে নেমে আসে প্রত্যাশার নীরবতা। সেকেন্ড বেল আসলে শেষ সুযোগ—এর পর আর দেরি করার অবকাশ থাকে না। বলা যায়, এটি দর্শককে বাইরের জগৎ থেকে সরিয়ে এনে মঞ্চের জগতে প্রবেশের মানসিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করায় সাহায্য করে।
থার্ড বেল (Third Bell):
তৃতীয় ঘণ্টা হলো সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। এটি বাজানো হয় ঠিক নাটক শুরু হওয়ার মুহূর্তে। এর পরেই মঞ্চের আলো জ্বলে ওঠে বা নিভে যায়, পর্দা ধীরে ধীরে উঠতে থাকে, আর দর্শক বুঝতে পারেন—অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে। অনেক থিয়েটারে নিয়ম আছে, থার্ড বেলের পর হলে প্রবেশ আর অনুমোদিত নয়, যাতে নাটকের প্রবাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। তাই থার্ড বেল হলো নাটকের পর্দা তোলার সংকেত—যার পরে দর্শক ও অভিনেতা একসঙ্গে এক অভিন্ন অভিজ্ঞতায় আবদ্ধ হন।
এভাবে “Curtain Bells” কেবল ঘণ্টাধ্বনি নয়, বরং নাট্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো দর্শককে ধীরে ধীরে বাইরের বাস্তবতা থেকে সরিয়ে এনে কল্পনার জগতে নিয়ে যায়।
17/09/2025
পাটিয়ালা, শ্যাম চৌরাসিয়া, কাওয়াল বাচ্চা, ইটাওয়াহ, গোয়ালিয়র প্রভৃতি বড় ঘরানার বিশিষ্ট ওস্তাদরা দেশভাগের পর পাকিস্তানে গমন করেছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের ঐতিহ্য ও ঘরানা সেখানে কতটুকু বিকশিত হয়েছে?
ওস্তাদ আমানত আলী, বড় ওস্তাদ ফাতেহ আলী, ওস্তাদ সালামত আলী খাঁ প্রমুখ শিল্পীদের যে মূল্যায়ন প্রাপ্য ছিল, তা কি পাকিস্তানে যথাযথভাবে হয়েছে? বাস্তবতা হলো, ভারতে তাদের সমমানের ওস্তাদরা যে সম্মান, জনপ্রিয়তা, আর্থিক স্বচ্ছলতা ও মর্যাদা অর্জন করেছেন, পাকিস্তানে তার অর্ধেকও শিল্পীরা পাননি।
প্রকৃতপক্ষে, এসব ওস্তাদ ও তাদের উত্তরসূরিদের সংগীত বৃহত্তর শ্রোতৃমণ্ডলীর কাছে পৌঁছেছে মূলত তখনই, যখন তারা ভারতের সংগীতশিল্প ও শিল্প-সংস্কৃতির অবকাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছেন।
ভারত রাষ্ট্র যে পরিমাণ বিনিয়োগ শাস্ত্রীয় ও উপশাস্ত্রীয় সংগীতের আন্তর্জাতিক বাজার গড়ে তোলার জন্য করেছে, পাকিস্তান তার সামান্য অংশও করতে পারেনি। বরং ভারতের সৃষ্ট বাজারে পাকিস্তানি অনেক শিল্পী সুযোগ পেয়েছেন—বিদেশে কনসার্ট, রেকর্ডিং, ফেলোশিপ ইত্যাদির মাধ্যমে।
ভারত শিল্প-সংস্কৃতি থেকে যে বিপুল বৈদেশিক রাজস্ব অর্জন করেছে, পাকিস্তানের আয় তার ০.০৫ শতাংশও নয়।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলাপই করছি না, কারণ বড় ঘরাণার শিল্পীরা এদেশে বসতি গড়েননি। আমাদের দেশে যেসব শিল্পী ছিলেন, তারা হয় সংখ্যায় অল্প ছিলেন, নয়তো বিকশিত হওয়ার মতো পরিবেশ পাননি।
এখানেই পরিবেশগত পার্থক্যের তাৎপর্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একটি কট্টর, সাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিকভাবে রুদ্ধ রাষ্ট্রে সংগীত-সংস্কৃতি কখনো পূর্ণ বিকাশ লাভ করতে পারে না।
যদি সত্যিই সমৃদ্ধ সংগীতচর্চা ও শিল্প-সংস্কৃতি লালন করতে হয়, তবে প্রয়োজন একটি উদার, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ ও রুচিশীল সমাজব্যবস্থা। এমন এক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে, যেখানে শিল্প-সংস্কৃতিকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হবে এবং তা নীতি ও পরিকল্পনার স্তরে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হবে।
17/09/2025
এরই মধ্যে আরেকদিন আরেকটা অবাক করে দেবার মত ঘটনা ঘটে গেল। সেটা রবিকে নিয়ে।
সকাল ১০ টা থেকে শুটিং প্রোগ্রাম। শিল্পীদের অন্য সবাই যথারীতি মেকাপ নিয়ে তৈরি কিন্তু রবির দেখা নেই।। বাড়িতে বার কয়েক ফোন করেও কোন ফল হল না। শুধু ক্রিং ক্রিং করে বেজেই গেল, কেউ ফোন তুলল না। আমরা তখন একই সঙ্গে অবাক আর অথৈ জলে। কেলেঙ্কারি, রবি না হলে শুটিং হবে কি করে? ওকে ঘিরেই তো আজকে দৃশ্য।
এমন সময় ঝড়ের বেগে একটা ট্যাক্সি এসে স্টুডিও চত্বরে ঘ্যাস করে থেমে গেল। ভাড়া মিটিয়ে যে লোকটা নেমে এলো, সে রবি ই। কিন্তু ওর এমন পোশাক কেন? ওরা ধুতি পরনে, খালি পা, গায়ে একটা কোরা মার্কিন কাপড়ের উত্তরীয়। চুল উসকো খুসকো, চোখ লাল।
--'কি হয়েছে রবি?' প্রায় সবাই এসে ঘিরে ধরে ওকে।
একটু চুপ করে থেকে রবি সংক্ষেপে বলে
--"মা.. "
-- "মা? কি হয়েছে?"
--" কাল মাঝরাতে সি এক্সপায়ার্ড। দাহ কাজ সেরে স্ট্রেট এখানে "
আমরা থ '।
রবিই তাড়া দেয় -
--" কই চলুন। আমি পাঁচ মিনিটে তৈরি হয়ে আসছি। জাস্ট ৫ মিনিট। "
- সিনেমাপাড়া দিয়ে (তরুণ মজুমদার)
একবার এক সাংবাদিক চিত্রনায়ক অভিষেক চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করল—
“আপনি হিরো, ভিলেন, নাকি কমেডি—সব চরিত্রেই কাজ করেছেন। আপনার আসল চরিত্র কী?”
অভিষেক হেসে বললেন—
“আসল চরিত্র হচ্ছে ‘হিরোইনদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা’। বাকিটা পরিচালক ঠিক করেন।” 😉
02/09/2025
বাকি ৫০% এরই বা কী এমন দরকার?
খাওয়া, সঙ্গম, বাড়ি, গাড়ি আর ক্যাশ থাকলেই তো জীবন ফাটাফাটি!
সুকুমার বৃত্তি-টৃত্তির উন্নয়নে কই মানুষকে পেট ভরায়, না গায়ে ব্র্যান্ডের গন্ধ দেয়?
বাঙালি নারী অভিনেত্রীর পথচলা
(বিস্তারিত কমেন্টে)
26/08/2025
শ্রদ্ধাঞ্জলি: ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে
আজ ২৬ আগস্ট - এই দিনে জন্মেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেতা, কমেডির সম্রাট ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯২০ সালের এই দিনে তিনি জন্ম নেন বিক্রমপুরে (বর্তমান মুন্সীগঞ্জ, বাংলাদেশ)। তাঁর আসল নাম ছিল সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায়। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে অভিনয়ের ঝোঁক ছিল, তবে তিনি কখনও ভাবেননি যে একদিন তিনি হয়ে উঠবেন বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
শিক্ষাজীবন শেষ করার পর তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং চাকরি জীবনের পাশাপাশি নাট্যচর্চা ও অভিনয়ের প্রতি নিজেকে ধীরে ধীরে নিবেদন করেন। অবশেষে ১৯৪৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জাগরণ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের সূচনা ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তাঁর অভিনয়ের স্বতঃস্ফূর্ততা, হাস্যরস এবং মানবিকতার ছোঁয়ায়।
বাংলা চলচ্চিত্রে কমেডি মানেই তখন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। সাড়ে চুয়াত্তর (১৯৫৩) ছবির মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত হন। এই ছবিতে তাঁর কৌতুকাভিনয় আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। শুধু কৌতুক নয়, বিভিন্ন ছবিতে তিনি নায়কের ভূমিকাতেও অভিনয় করেছেন, যেমন পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা আশিতে আসিও না। আবার মিস প্রিয়ংবদা ছবিতে চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি নারী সেজে অভিনয় করেছিলেন, যা বাংলা চলচ্চিত্রে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে আজও স্মরণীয়।
ভানুর অভিনীত জনপ্রিয় ছবির তালিকা বিশাল—যমালয়ে জীবন্ত মানুষ, ভানু পেলো লটারি, গল্প হলেও সত্যি, ভ্রান্তিবিলাস, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রভৃতি। প্রতিটি চরিত্রে তিনি যে স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করেছিলেন, তা বাংলা চলচ্চিত্রকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
শুধু অভিনেতা নন, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন অসাধারণ কণ্ঠশিল্পী ও গায়কও। তাঁর কণ্ঠের ভঙ্গি, সংলাপ বলার বিশেষ ধরণ এবং স্বাভাবিক হাস্যরস তাঁকে দর্শকদের কাছে আপন করে তুলেছিল।
১৯৮৩ সালের ৪ মার্চ তিনি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে তাঁর সৃষ্ট চরিত্র, সংলাপ এবং পর্দায় হাসির ঝরনা আজও দর্শকদের মনে তাজা। তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন—বাংলা চলচ্চিত্রের অমূল্য সম্পদ হিসেবে।
আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেই মহান শিল্পীকে, যিনি আমাদের হাসিয়েছেন, আনন্দ দিয়েছেন, আবার জীবনকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শিখিয়েছেন। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক যুগের প্রতিচ্ছবি, এক চিরন্তন আনন্দের উৎস।
#ভানু_বন্দ্যোপাধ্যায় #জন্মদিন #বাংলা_চলচ্চিত্র #কমেডির_সম্রাট #সাড়ে_চুয়াত্তর #যমালয়ে_জীবন্ত_মানুষ #ভানু_পেলো_লটারি #গল্প_হলেও_সত্যি #এন্টনি_ফিরিঙ্গি
19/08/2025
🌹 ফিল্ম গুরুকুলের শ্রদ্ধাঞ্জলি 🌹
জহির রায়হান (১৯৩৫ – ১৯৭৭)
আজ, ১৯ আগস্ট, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাহিত্য জগতের এক অমর নক্ষত্র জহির রায়হানের জন্মদিন। ফিল্ম গুরুকুলের পক্ষ থেকে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাচ্ছি এই মহান শিল্পীকে, যিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম।
জহির রায়হান শুধুমাত্র একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন গল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং সমাজচেতনা সম্পন্ন শিল্পী। তার প্রতিটি কাজেই প্রতিফলিত হতো মানুষের যন্ত্রণার সঙ্গে সংহতি, সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মানবিকতা। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি সমাজের বাস্তবতা এবং মানুষের জীবনের নানা স্তরের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
তার চলচ্চিত্র যেমন “কোথায় বাংলার মানিক”, “রোদেলা”, “বেদের মেয়ে জোছনা”, “সাহারা” এবং অসংখ্য ছোট গল্পভিত্তিক চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত হয় মানবজীবনের বাস্তবতা ও সামাজিক সচেতনতা। তার কাজ আমাদের শেখায় যে, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি সমাজের দৃষ্টি খোলে, সচেতন করে, এবং পরিবর্তনের প্রেরণা যোগায়।
আজ, তাঁর জন্মদিনে আমরা জহির রায়হানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তার অনন্য অবদান আমাদের মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার জীবন, শিল্প, এবং দর্শন আমাদের সকলের জন্য প্রেরণা হিসেবে থাকবে।
🙏 চিরস্মরণীয় জহির রায়হানকে ফিল্ম গুরুকুলের পক্ষ থেকে অশেষ শ্রদ্ধা।
19/08/2025
🙏 শ্রদ্ধাঞ্জলি 🙏
অচ্যুত পোতদার (২২ আগস্ট ১৯৩৪ – ১৯ আগস্ট ২০২৫)
আজ বলিউড হারাল এক প্রিয় মুখ, এক অবিস্মরণীয় অভিনেতা। অচ্যুত পোতদার ৯০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় ১২৫টিরও বেশি চলচ্চিত্র ও ৯৫টিরও বেশি টেলিভিশন শোতে অভিনয় করেছেন।
তাঁর অভিনয় জীবনে ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে যায়েঙ্গে’, ‘লাগান’, ‘আমির খান, সালমান খান, শাহরুখ খানের জনপ্রিয় সিনেমা’, ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’, ‘মুন্না ভাই এমবিবিএস’, ‘মিশন কাশ্মীর’, ‘ইয়ারানা’, ‘অ্যাকশন জ্যাকসন’ সহ অসংখ্য হিন্দি সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে। চরিত্র বড় হোক বা ছোট—প্রতিটি ভূমিকায় তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতায় দর্শকের মনে অমলিন ছাপ রেখে গেছেন।
বলিউডে তিনি ছিলেন সহ-অভিনেতা হিসেবে এক চিরপরিচিত মুখ। ছোট ছোট ভূমিকাতেও তাঁর উপস্থিতি সিনেমার দৃশ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয়, সহকর্মীদের কাছে ছিলেন ভীষণ শ্রদ্ধেয়।
আজ তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ শোকাহত। তিনি চলে গেলেও তাঁর অসংখ্য চরিত্র, হাসি-আনন্দে ভরা অভিনয়চিত্র আমাদের হৃদয়ে চিরজীবন্ত হয়ে থাকবে।
🌹 বিদায় অচ্যুত পোতদার।
শ্রদ্ধাঞ্জলি রইল এই মহান অভিনেতাকে। 🙏
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Address
A3, Navana Sattar Garden, 86/1 New Eskaton Road
Dhaka
1000