সংশপ্তক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং

সংশপ্তক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং

Share

University Admission Coaching (Specialized in Jahangirnagar University).

10/08/2024

"স্মৃতির পাতা থেকে আয়নাঘর ও অন্যান্য..."

১১ জানুয়ারি, ২০২০, শনিবার। ঢাকার উদ্দেশ্য বের হচ্ছি, আম্মার চোখে পানি। বাসার সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে আমার চোখেও পানি এসে গেলো। আম্মার সামনে শক্ত থাকার চেষ্টা করেছি, নয়তো হাউমাউ করে কেঁদে দিতো।

কাল আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু, ওরিয়েন্টেশন। সামনে অনার্স লাইফ, চাকরি-বাকরি, হয়তো আর পার্মানেন্টলি বাসায় আসা হবে না। এলেও অতিথি হিসেবে।

সকালবেলা হাজীগঞ্জ বাজার থেকে বাসে উঠলাম। কাঁচপুর ব্রিজে পৌঁছালে আম্মা কল দেয়। কল রিসিভ করে বলি ঘন্টাখানেক লাগতে পারে। নেমে কল দিব ইনশাআল্লাহ।

যাত্রাবাড়ী মোড়ে নেমে হালকা নাস্তা করলাম। যাব মিরপুর, আমার ফুফাতো বোনের বাসায়। কিছুদিন আপাতত থেকে তারপর দেখেশুনে মেসে উঠবো, এই হলো চিন্তা।

হোটেল থেকে নেমে মাত্র এক দু কদম হাঁটলাম, তখন ভরদুপুর। হুট করে পাঞ্জাবি পরিহিত একজন সামনে এসে আমার নাম ফয়েজ কিনা জিজ্ঞেস করলো। হ্যাঁ বললাম। বলে আমাদের সাথে একটু যেতে হবে। সাহস করে বললাম আপনারা কারা? বলে 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী'।
বললাম 'কোনো পোশাক নেই, আইডি কার্ড নেই। আর এভাবে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?'
বলে 'গেলেই দেখতে পাবেন'।
আর অমনি শক্ত করে জাপটে ধরে কাছের এক জিপগাড়িতে উঠালো। মুহুর্তেই মধ্যেই দুই হাত পেছনে দিয়ে হ্যান্ডকাফ পড়ালো। চোখ বাঁধলো, তার উপর জমটুপি:গলা অবধি ঢেকে যায় যার, তার উপর আবার চোখ বাঁধলো। সাথে থাকা মোবাইল ফোন নিয়ে গেলো। কিছু বুঝে উঠার আগেই এতসব ঘটে গেলো।

অনুরোধ করলাম, আম্মাকে একটু কল দিয়ে বলি অন্তত ঢাকা পৌঁছেছি, নয়তো চিন্তা করবে। অনুরোধ রাখলো না। রাখবে কেন? মায়ের কান্না, মায়ের আকুতি ওরা কী বুঝবে!

হাই বিটের গান ছেড়ে দিলো গাড়িতে, যেন আশেপাশের আওয়াজ কানে না যায়। একই রাস্তায় কয়েকবার যাচ্ছে এমন মনে হচ্ছে, গোলকধাঁধার মতো। এভাবে ঘন্টাখানেক পর গাড়ি থামলো।

কিছুক্ষন পরে নিয়ে গেল ইন্টারোগেশন রুমে। এয়ার ফ্রেশনারের ঝাঁঝালো ঘ্রাণ। মাথার ঠিক উপরে দেয়াল ঘড়ি, চারপাশ নিস্তব্ধ, ঘড়ির টিকটিক আওয়াজ মগজে গিয়ে ঠেকছে।

দুর্বিষহ দিনের শুরু, পালা করে জিজ্ঞাসাবাদ আর নির্মম মাইর। এত নির্মমভাবে মানুষকে মারে? শরীরের হাড্ডি-মাংস যেন এক হয়ে যায়।

সেদিনের মতো ইন্টারোগেশন শেষ!
হ্যান্ডকাফ খুললো, পোশাক পালটে নতুন পোশাক দিল, চোখ তখনও বাঁধা।

নিস্তেজ শরীর দুজন মিলে ধরে দিয়ে আসলো এক সেলে। সারাদিনে ঐ প্রথম চোখের বাঁধন খুললো। কিন্তু বুঝার উপায় নেই কোথায় আছি।

ছোট্ট রুম, লম্বাটে শেইপ, একপাশে একটা খাট পাতা। পুরো রুমে ছাদের সাথে লাগোয়া একটা ছোট্ট জানালা, দেখার উপায় নেই বাইরে কী হচ্ছে। দরজায় ডাবল লেয়ার। একটা জেলখানার মতো শিক, সাথেই লাগোয়া আরেকটা কাঠের দরজা, মাঝখানে একটু ছিদ্র, সেটাও বন্ধ থাকে, ভেতর থেকে খোলার উপায় নেই। দরজার নিচের দিকে ছোট্ট একটা জায়গা, খাবার এদিক দিয়ে দেয়। খুজছিলাম কোথাও কোনো ক্লু পাই কি না, দেয়াল এবড়োখেবড়ো, লেখার সুযোগ নেই কোনো। রুমের এক কোনায় অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা।
বিশাল বড় এগজস্ট ফ্যান, বাইরের শব্দ যেন কানে না এসে, যেন অনুমানও না করা যায় কোথায় আছি। এত জোরে আওয়াজ করে ঘুরতো যেন জেট বিমান যাচ্ছে, তখন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ছিলো, মাইকিং হতো, তাই প্রায় সারাদিনই চলতো।

মনে হতো একটা কবরের মধ্যে আছি। আমি একা, আর কেউ নেই। বাইরের মানুষের কাছে হয়তো আমি মৃত, কিন্তু আমি জানি আমি জীবিত, জীবন্মৃত। মুনকার নাকির(!) প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছে, সন্তোষজনক উত্তর না দিলে নির্মম অত্যাচার।

বাড়ির কথা খুব মনে পড়তো। আম্মার সাথে কবে রাগ দেখিয়েছি, আব্বার কোন কোন কথা শুনিনি, ভাইয়ার সাথে কবে মারামারি করেছি, পিচ্ছি ৩টা ভাগ্নে-ভাগ্নি ছিলো। আল্লাহ.....।
আম্মা খুব কান্না করছে এটা মনে হতো। বড় মামা মারা গিয়েছে একমাসও হয়নি, এর উপর আমার হারিয়ে যাওয়া.....

এভাবে প্রায় প্রতিদিনই জিজ্ঞাসাবাদের নামে চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। রাতে একটু আরাম করে ঘুমাবো, সেই সুযোগ নেই। সারা শরীর ব্যাথা। খাবার যা দেয় গলা দিয়ে নামে না। বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া, টিকে থাকার জন্য খাওয়া।

পাশের সেলে মানুষের উপস্থিতি টের পেতাম, কিন্তু কথা বলার সুযোগ নেই। গার্ড থাকে সবসময়। এক ভাই প্রায় সারাদিনই কান্নাকাটি করতো, চিৎকার করতো, আল্লাহ জানেন উনার উপর দিয়ে কি গিয়েছে।

১০/১২ দিন পর অন্য আরেকটা রুমে পাঠায়। একটু পুরনো ধাচের। কিছুটা মসৃণ দেয়াল।
দেয়ালের এখানে সেখানে আলতো করে খোদাই করা অনেক লেখা। একেক রকম হাতের লেখা। কত শত মজলুমের স্মৃতি। কেউ আল্লাহর কাছে বিচার দিচ্ছেন, কেউ মুক্তির দু'আ করছেন। এক জায়গায় অনেকগুলো দাগ কাটা, কতদিন এখানে ছিলেন তার হিসাব, এক দেয়াল ভরে গিয়ে পরের লাইনে এসেছে, দাগ কাটা শেষ হয়না।

সবরকম নির্যাতনের ব্যবস্থাই ছিলো। একেক জনের সাথে একেক রকম নির্যাতন। ওয়াটার বোর্ডিং, ইলেকট্রিক শক, বাঁশ ডলা, ছাদের সাথে ঝুলিয়ে পেটানো....নক উপরে ফেলা, আরো কতো কি!

এভাবে ৪২ দিন পার হয়। অতঃপর আমাকে বলা হলো আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারব। তবে..... আমাকে আইনী প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।

প্রসঙ্গিত, আয়নাঘর থেকে কাউকে এমনি এমনি ছেড়ে দেয়া হয়না। হয় ক্রসফায়ার দেয়া হয়, নয়তো মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ভরে, যেন বের হয়ে মুখ খোলার সাহস না করে। তারা নিজেরা কখনও মামলা দেয় না, সাধারণত র‍্যাবের মাধ্যমে দেয়।

আমাকে হাত চোখ বেঁধে গাড়িতে তোলা হয়, শুরু হয় আরেক আয়নাঘরের জীবন। এখানে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সবমিলিয়ে ২দিন। জিজ্ঞেস না করে পশুর মতো পেটানো যার উদ্দেশ্য।

এখানে যেই রুমে ছিলাম সেটা বেশ বড়োসড়ো, ঘুটঘুটে অন্ধকার। পুরনো বিল্ডিং, জায়গায় জায়গায় ভাঙ্গা, মেঝে-দেয়ালে-ছাদে।
মাঝে করিডোর, সেখানে কিছু লাইট জ্বলে, দুপাশে ৫টা করে মোট ১০টা রুম। পালাকরে ওয়াশরুমে নিতো, কাছাকাছি রুম হওয়ায় অনুমান করেছিলাম, মোট ১০ বার তালা খুলতো আর লাগাতো।

সবচেয়ে নির্মম ব্যাপার কি জানেন?
২৪ ঘন্টা চোখ বেঁধে রাখতো, এমনকি রুমের মধ্যেও। সূর্যের আলো দূরে থাক, আলো দেখারই সুযোগ নেই। গার্ড না থাকলে মাঝে মাঝে চোখের নিচ দিয়ে আশেপাশে দেখতে চাইতাম। আমার চশমার পাওয়ার -3.50, একটু দূরেই ঝাপসা দেখি, তাই খুব একটা লাভ হয়নি।

২৪ ঘন্টা হাতে হ্যান্ডকাফ পরা থাকতো। রাত ৯টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত দুহাত পেছনে দিয়ে হ্যান্ডকাফ দিতো। রাতে যে একটু ঘুমাবো সেই সুযোগ নেই। কিচ্ছুক্ষণ বসে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে, কিছুক্ষণ উপুড় হয়ে...। কত জঘন্য।
ওয়াশরুমে গেলে শুধু একহাতেরটা খুলতো।
হাতে দাগ পড়ে গিয়েছিলো এভাবে।

মেঝেতে একটা কম্বল বিছানো ছিল। এত নোংরা, এর উপর উঠলেই শরীরে চুল্কানি হয়। বাধ্য হয়ে মেঝেতে ঘুমাতাম। উপুড় হয়ে দুই হাত পেছনে রেখে মেঝেতে ঘুমাতে কেমন লাগতো!?

এক গার্ড ছিলো একটু ভালো, অনেক অনুরোধ করলাম অন্তত এটা বলুক জায়গাটা কোথায়। বললো র‍্যাব ১।

টানা ৩০দিন এভাবে ছিলাম।

অতঃপর আমাকে নতুন আরেক জায়গায় নিয়ে গেলো। আয়নাঘর নং ৩। সেখানে এক রাত ছিলাম। একদম ছোট একটা রুম, রুমের মধ্যেই কমোড, ঠিকমতো ঘুমালে কমোডে পা চলে যায়, পাশে সর্বোচ্চ ২ হাত প্রশস্ত।

সে রাতেই এসে পাঞ্জাবির মাপ জানতে চাইলো।
চিন্তায় ঘুম হয়নি আর।

পরদিন সন্ধ্যার দিকে রঙচঙে এক পাঞ্জাবি নিয়ে আসলো, সাথে একটা ট্রাউজার। দ্রুত পরে নিতে বললো।
অতঃপর চোখ বাঁধলো, পেছনে দুই হাত দিয়ে হ্যান্ডকাফ, মাথায় হ্যালমেট। একটা গাড়িতে উঠালে, অনুভব করলাম আমার মতো আরো দুইজনকে উঠালো।

একজন গাড়ি থামিয়ে তারা নিজেরা নামলো।
- ঐ গাড়ি চেক কর, সাবধান ভেতরে অস্ত থাকতে পারে।
- স্যার অস্ত্র নাই, উগ্রবাদী বই পাইসি।

কিছুক্ষণ হট্টগোল, তারপর আবার গাড়ি চললো।

নিয়ে এলো র‍্যাব ৩ এ, প্রথমবারের মতো চোখের বাঁধন খুললো। গারদে আমার সাথে আরো ২জন ঢুকলো। মোট ৩জন। নাটকের উদ্দেশ্য মিথ্যা মামলা সাজাবে, এখন বুঝলাম সব। ডেকে নিয়ে ছবি তুললো, সামনে কিছু বই-মোবাইল এসব সাজানো, এগুলো নাকি আমাদের কাছে পাওয়া গিয়েছে, অথচ এসবের নামও কখনো শুনিনি।

আর আমার কাছে এসব থাকবে কেনো। পরদিন ওরিয়েন্টেশন, ব্যাগে জামা কাপড় আর একাডেমিক কাগজপত্র ছিলো। মিথ্যার তো একটা সীমা থাকা উচিত।

এজহারে যা লিখলো.... তার সারমর্ম হলো: "আমরা ২৩মার্চ ২০২০, রাত ৮টার দিকে মতিঝিল মডেল হাইস্কুলের মেইন গেইটের পূর্বপাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার জন্য রাজধানী ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিলাম। সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাফেরা করাকালে তারা আমাদের ধাওয়া করে, ৩জনকে আটক করতে সক্ষম হয়, বাকি ৮/১০ পালিয়ে যায়। নিষিদ্ধ বইগুলো আমাদের সাথে থাকা ব্যাগে ছিলো"

পরদিন মতিঝিল থানায় নিলো, মামলা দায়ের করলো, এমন কোনো ধারা নেই যে দেয়নি, যেন ১/২ বছরেও বের না হতে পারি।

বাড়িতে কল করতে দিলো। আব্বা আম্মা আর ভাইয়া আসলো। থানার গারদে সেদিন অনেক কেঁদেছিলাম উনাদের জড়িয়ে ধরে.....

সবমিলিয়ে প্রায় ৭৭০ দিন পর আমার জামিন হয়। সে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা, অন্য এক পোস্টে বলবো ইনশাআল্লাহ....
(গুম ৭২ দিন, জেলে ৭৭০ দিন, সবমিলিয়ে ৮৪২ দিন)

এখনও মামলা চলমান, হাজিরা দিতে হয় মাসে মাসে। ২বছরে ১টা স্বাক্ষীও আসেনি। আসবে কীভাবে? ঐযে গাড়ি থামিয়েছিলো, সেখানকার আশেপাশের পথচারী, রিকশাওয়ালা, ঝালমুড়ি ওয়ালাকে ভয়ভীতি দেখিতে মিথ্যা স্বাক্ষী বানিয়েছে...।

__

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে...
"আপনাকে কেন ধরবে?"
"কিছু তো অবশ্যই ছিলো..."

আমি নটরডেমে কলেজে পড়া অবস্থায় আরামবাগে থাকতাম। সেখানে আরামবাগ মোড়ের বাইতুল আমান মসজিদে এক ভাই আরবী পড়াতেন। সব বয়সের স্টুডেন্ট ছিলো উনার, স্কুল কলেজ পড়ুয়া থেকে অবসরপ্রাপ্ত চাকুরীজীবি পর্যন্ত। মসজিদের লাইব্রেরিতে পড়াতেন বেশিরভাগ, নয়তো বারান্দায়। প্রকাশ্যে, সবার সামনে, সবাই জানতো। লুকোচুরি কিছু না। মসজিদের ইমাম থেকে মসজিদ কমিটি সবাই জানতো। কমিটির অনেকে উনার কাছে পড়েছে।
আমি উনার কাছে কিছুদিন পড়েছিলাম।
আমাকে গুম করার প্রায় ২মাস আগে উনাকেও গুম করে। পরবর্তীতে উনাকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেয়। জিজ্ঞাসাবাদের ধরন দেখে ধারণা করছি এই সূত্র ধরেই হয়তো আমাকেও গুম করে। পরবর্তীতে শোনা যায়, উনি গুম হওয়ার কিছুদিন পূর্বে মসজিদ কমিটির সাথে উনার কী একটা ঝামেলা হয়েছিলো।
মামলার এজহারেও আরবী শেখার কথা তারা লিখেছিলো। তবে লিখেছে আরবী শেখার নামে জ-ঙ্গিবাদের ট্রেইনিং নিতো।
____

নতুন বাংলাদেশে এসব থেকে মুক্তি পাব কী?

মামলা থেকে অব্যাহতি মিলবে কী?

আমার জীবনের আড়াই বছর কি তারা ফিরিয়ে দিতে পারবে কখনও?

Source-FridayPost

09/08/2024

ঠিক যেনো জহির রায়হানের একুশের গল্পের তপু।

মুগ্ধ ও তাদের বন্ধু জাকির আন্দোলনের মাঝেই একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য রোড ডিভাইডারের ওপর বসেছিলেন।

“হঠাৎ সবাই আমির কমপ্লেক্স আর রাজউক কমার্শিয়ালের ওইদিক থেকে দৌড়ে আসছে! আমরা দেখলাম! কিছুটা ধীর গতিতেই উঠব ভাবলাম! দুই-তিন সেকেন্ড পর মুগ্ধর পায়ের ওপরে হাত রেখে বললাম - চল দৌড় দেই। আমার বন্ধু শেষবারের মতো আমাকে বললো—চল!”

প্রথমে জাকির উঠে দৌড় দিলেন এবং তারপর তিনি। কিন্তু “তিন থেকে চার কদম যাওয়ার পর আমার সামনেই জাকিরকে দেখছি দৌড়াচ্ছে। কিন্তু আমার পাশে মুগ্ধ নেই!”

“থেমে গেলাম, পেছন ঘুরে তাকাতেই দেখি আমার বন্ধু ওই বসা অবস্থা থেকেই মাটিতে পড়ছে, চোখ দুটো বড় করে আমার দিকে তাকায় আছে, হাতে সেই অবশিষ্ট বিস্কুট আর পানির বোতলের পলিথিন, কপালে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন। গুলি লাগছিলো কপালে, মেয়েরা যেখানে টিপ পরে। আমি চিৎকার করলাম—জাকির, মুগ্ধ গুলি খাইসে!”

বিবিসি নিউজ বাংলা থেকে সংগৃহীত

#কোটা_আন্দোলন_২০২৪

06/03/2024

অভিনন্দন
ফারহানা তাসমিম অর্নি,
সংশপ্তক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং থেকে কোচিং করে A -unit এ ১৫৮ তম হয়েছে।
তোমার এই সফলতায় পাশে থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত। তোমার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি।

Heartiest congratulations to Farhana Tasmim Orny for achieving 158th merit position in Jahangirnagar University A-Unit admission test. We are proud of your achievement.

Family

05/03/2024

অভিনন্দন
ফয়সাল আহমেদ রাজ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে B - ইউনিটে ১৭০তম হওয়ায় আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত। তোমার এই অসামান্য অর্জনে পথ প্রদর্শক হিসেবে পাশে ছিলো সংশপ্তক। সঠিক গাইডলাইন পেলে স্বল্প সময়েও ভালো ফলাফল করা সম্ভব তুমি প্রমান করেছো।
সংশপ্তকের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা অভিনন্দন ও দোয়া রইলো।

01/03/2024

অভিনন্দন
নাইমা জান্নাত আনুশী,
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে D -Unit এ ৪র্থ হয়ে চমৎকার একটি রেজাল্ট উপহার দেওয়ায় এবং তোমার এই অর্জনে পথ প্রদর্শক হিসেবে পাশে থাকতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত।
" সংশপ্তক সব সময়ই বলে থাকে সঠিক গাইড লাইনে অল্পদিন পড়েই চান্স পাওয়া সম্ভব " এটা যে বাস্তবিক অর্থেই সত্য তা তুমি আবারও প্রমান করলে।

Heartiest congratulations to Naima Jannat Anushi for securing 4th position in Jahangirnagar University D-Unit Admission Test. We are proud of your achievement.


21/02/2024

অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ইউনিটের চূড়ান্ত সাজেশন ও অন্যান্য বইয়ের ওপর ২১% ছাড়! শুধুমাত্র WhatsApp Order এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
Let's celebrate International Mother Language Day with 21% discount on all JU Admission Books on orders through WhatsApp. Order Now!
WhatsApp Number: +8801839960826
Check out our complete catalogue on: https://wa.me/c/8801839960826

14/06/2023

🟥 আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার ট্রান্সপোর্ট ও রুটওয়ে -

❓ ঢাকা শহর থেকে জাবি কীভাবে আসবেন?

✅ সদরঘাট থেকে ' সাভার পরিবহন বাস' জাবি গেইটে নামিয়ে দিবে।

✅ নারায়ণগঞ্জ থেকে মৌমিতা বাস

✅ যাত্রাবাড়ী থেকে ' ঠিকানা, মৌমিতা, নীলাচল, লাব্বাইক' বাস আছে যা জাবি পর্যন্ত যায় ।

✅ মুগদা, খিলগাঁও, মৌচাক থেকে " লাব্বাইক বাসে করে যেতে পারবেন ।

✅ ফার্মগেট থেকে ওয়েলকাম, লাব্বাইক, স্বজন বাসে যেতে পারবেন ।

✅ বাড্ডা, আগারগাঁও থেকে "অগ্রদূত" বাসে করে যাবেন ।

✅ মিরপুর ১-১০ থেকে ইতিহাস বাসে করে যাবেন ।

❓ টঙ্গী, গাজীপুর বোর্ড বাজার থেকে কীভাবে যাবেন?

✅ আপনারা প্রথমে আব্দুল্লাহপুর চলে আসবেন এইখান থেকে ' বিকাশ বা আলী নূর' বাসে করে নবীনগরে চলে যাবেন এবং নবীনগরে থেকে সাভারে যেকোনো বাসে উঠলেই হবে আপনাকে জাবি নামিয়ে দিবে । অথবা আশুলিয়া নেমে লেগুনাতে করে সিএমবি স্টপেজে নেমে রাস্তা পার হয়েই যেকোনো বাসে উঠলেই হবে।

❓ যারা চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী থেকে বাসে আসবেন, তারা কীভাবে আসবেন?

✅ আপনারা " সাইনবোর্ড' নেমে যাবেন এইখান থেকে ' ঠিকানা, মৌমিতা, নীলাচল বাসে করে সরাসরি জাবি যেতে পারবেন ।

🔺 উক্ত সকল বাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গেইট হয়ে যাবে 🔻

✅ ট্রেন করে যারা আসবেন আপনারা ' বিমানবন্দরে স্টেশন ধরতে পারেন বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর চলে আসবেন ।

⚠️ বি.দ্র: ভর্তি পরীক্ষার সময় জ্যাম ও ভীড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই যথেষ্ট পরিমাণে সময় হাতে রেখে রওনা দিবেন।

04/06/2023

মানুষ কতটা ফ্রড হতে পারে। তিন বছর আগের বই দিয়ে সহজ সরল পরীক্ষার্থী দের বিভ্রান্ত করছে। অন্য কোম্পানীর দালালী করলে কিছু টাকা পয়সা পাওয়া যায় , তাই মাথা ঠিক নেই। বইয়ের কভার পেজে পরিস্কার লেখা আছে ২০ সাল , ২৮ তম সংস্করন।সেই বইয়ের পিক দিয়ে বিভ্রান্ত করছে শিক্ষার্থীদের । এখন ২৩ সাল , এবছর ৩১ তম সংস্করন বের হয়েছে ।
আর এই ধরনের গ্রুপের কাজই হলো শিক্ষার্থীদের বোকা বানানো ।গ্রুপে হাজার হাজার ফলোয়ার দেখে স্টুডেন্ট ভাবে বিশাল কিছু , ।আসলে সবই শুভংকরের ফাঁকি।
যে সমস্ত গ্রুপে অন্যের সমালোচনা হয় , বুঝতে হবে তাদের নিজেদের ফালতু , বস্তপচাঁ , নষ্ট জিনিষকে stablish করার জন্য অন্যের সমালোচনা করে।এদের থেকে সবার সতর্ক থাকা উচিত।

11/05/2023

ছেলেটা শসা বিক্রি করছিল বাসের বাইরে থেকে। এক যাত্রী শসা নিলেন। টাকাও দিলেন। তবে বিশ টাকার নোট। ঠিক তখনই বাস ছেড়ে দিল। ছেলেটা বাকি দশটাকা যাত্রীকে ফেরত দিতে পারলো না।

এদিকে সে যাত্রীও সিট থেকে উঠে দাঁড়ালো জানালার ফাঁক দিয়ে টাকাটা ফেরত নেয়ার জন্য। কিন্তু বাসের স্পিড অনেক। লোকটা বললও- এই ছেলে, যাহ টাকা ফেরত দেয়া লাগবে না। চকলেট খেয়ে নিস।

কিন্তু শিক্ষার স্থায়িত্ব, মানবিক বিবেক আর ব্যক্তিত্বের স্থায়ীত্ব ছেলেটার এতই বেশি যে- সে তার মাথা থেকে শসার ডালা এক দোকানে রেখেই জানপ্রাণ ছেড়ে দৌড়াতে লাগলো বাসের পেছনে। তাকে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। শসাক্রেতা সে যাত্রী বার বার বলছে- আহা রে থাম থাম। আসিস না। ফেরত দেয়া লাগবে না টাকা।
কিন্তু কে শোনে কার কথা! ছেলেটা অবিরাম দৌড়িয়েই যাচ্ছে। একে তে প্রচণ্ড গরম। তারওপর সে দৌড়াচ্ছে। বাস প্রায় আধা কিলোমিটারের মতো চলে এসেছে। এক পর্যায়ের বাসের যাত্রীরা ড্রাইভারকে বললেন, ড্রাইভার সাব দ্রুত বাস থামান। বাস থামলো। ছেলেটে এক লাফে বাসে উঠে সে যাত্রীর কাছে গিয়ে দশটাকা ফেরত দিল।
সবাই বিস্মিত। কী হলো এটা? সে যাত্রীও একটু বিরক্ত হলেন। বললেন, কতবার বললাম, টাকা ফেরত দেয়া লাগবে না। শুনলি না কেন!

ছেলেটা রীতিমতো হাফাচ্ছিল। দম নিয়ে বলল- নাহ স্যার। লাগবে না। আমি বাড়তি নেব না।
অন্য যাত্রীরা তার এই কাজে দারুণ মুগ্ধ হলো, অবাকতো হয়েছেই। এক যাত্রী তার ব্যাগ থেকে জুসের বোতল বের করে ছেলেটাকে দিয়ে বলল- প্লিজ একটু খা। ছেলেটা অল্প একটু মুখে দিল।
তার শরীরে ক্লান্তি, কিন্তু চোখেমুখে প্রশান্তি। যেন সে দীর্ঘদিনের একটা দায় মিটিয়ে ফেলল। বাস তাকে নামিয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে আগাতে থাকলো। ছেলেটা ধীর পায়ে তার রেখে আসা শসার ডালার দিকে এগিয়ে যেতে পা বাড়ালো।

আহা সততা!

08/05/2023

বাবা ঢাকায় এসেছেন দিন তিনেক হলো। আজ চলে যাবেন। শহর জীবনের ব্যস্ত দিন গুলোর মধ্যে বেশ কাটালাম তার সাথে। কর্পোরেট অফিসে চাকরির কারণে গ্রামে যাওয়া হয়না অনেক দিন। ছুটিও পাচ্ছিলাম না কোনো ভাবেই। এর মধ্যেই ছোট দুটু ছেলে মেয়ে ধরলো তাদের দাদুকে দেখার বায়না। বাবাকে দেখার ইচ্ছেটাও অনেক দিন ধরে মাথা চারা দিয়ে উঠেছিলো। তো কি আর করবো। নিজেতো যেতে পারবো না তাই বাবাকে বলতেই তিনি খুশি মেজাজ নিয়ে চলে আসলেন ঢাকায়।

আজ তিনি চলে যাবেন। সকাল থেকেই নিজের জিনিস পত্র গোছানোর কাজে ব্যস্ত তিনি। অনেক করে বললাম আমাদের সাথে ঢাকাতেই স্যাটেল হয়ে যেতে। কিন্তু উনার তাতে সম্মতি নেই। প্রতিবার বলার পরই তিনি বলেন, “গ্রামের লোকেরা কি আর শহরে সব ছেড়ে আসতে পারে। তুই যেহেতু ঢাকাতেই চাকরি করিস এখানেই থাক। না হয় মধ্যে মধ্যে দেখা হবে আমাদের।”

স্ত্রী আর ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাবাকে নিয়ে চলে আসলাম কমলাপুরে। ট্রেন ছাড়ার সময়ও বেশ ঘনিয়ে এসেছে। তিনি আমাকে বিভিন্ন উপদেশ দিয়ে উঠে বসলেন ট্রেনে। ট্রেন ছাড়ার আগ পর্যন্ত তার সাথেই ছিলাম আমি। ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষন আগে তিনি মিনতির স্বরে বললেন, “অনেক মনে পরে তোদের। যদি পারিস তাহলে সামনের ছুটিতে এই বৃদ্ধ বাবাটাকে দেখে আসিস।”

তার এই অনুরোধের পর কিছুই বলতে পারিনি। শুধু মাত্র মৃদু হাসি দিয়ে বিদায় জানিয়েছি তাকে। বুক ফেটে কান্না বের হয়ে আসছিলো আমার। ইচ্ছে করছিল সব ছেড়ে তার কাছে গিয়ে থাকি। কিন্তু চাইলেই কি সব পারা যায়?

*

বাবাকে বিদায় জানিয়ে ফিরছি। স্টেশন থেকেই অফিসে যাবো। তাই যতটুকু পারছি একটু জোরে হেটে আসছি বাহির পথের দিকে। এর মধ্যেই একটা জায়গায় চোখ আটকে গেল। স্টেশনের এক বেঞ্চিতে বসে কেউ ফুপিয়ে কাঁদছে মনে হলো। একটু খেয়াল করতেই দেখলাম একজন বৃদ্ধ বসে আছে সেখানে। কাঁদছে আপন মনে। আসে পাশে কেউ নেই।

কি মনে করে যেন এগিয়ে গেলাম বৃদ্ধের কাছে। ষাটর্ধো বয়েস হবে উনার। বয়েসটা ঠিক বাবার মত। গায়ে একটা ময়লা পাঞ্জাবি। দেখলেই বুঝা যায় অনেক দিন হলো পরিষ্কার করা হয় না সেটা। বারবার সেই ময়লা পাঞ্জাবিটা দিয়েই তিনি তার চোখের পানি মুছতে চেষ্টা করছে।

কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম, উনি কাঁদছে কেন? কিছুক্ষন ফেল ফেল করে তাকিয়ে রইলেন তিনি আমার দিকে। আজব এই শহরে আমি অন্যদের চাইতে একটা ভিন্ন প্রানী হয়তো ভাবছেন তিনি আমাকে। আমার অফিসের তারা আছে। তাই আবার জিজ্ঞেস করলাম, “কি হয়েছে।”

ময়লা পাঞ্জাবির হাতা দিয়ে আবারো তিনি তার চোখ মুছলেন। এরপর আমাকে তার পাসে বসার জন্য বললেন। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও বসে পরলাম। বৃদ্ধ মনে হয় কিছু বলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি কি বলে তা শোনার জন্য আমিও তার মুখের দিকে চেয়ে বসে রইলাম।

বৃদ্ধ ভাষায় কিছুটা আঞ্চলিক টান রেখে বলতে শুরু করলেন, “আমার বাড়ি রংপুর। ঢাকাতে আসছিলাম আমার ছেলের সাথে দেখা করতে। মাস ছয়েক আগে বাড়ি গিয়েছিল সে। কিছু টাকা দিয়ে আবার চলে এসেছিল ঢাকায়। তারপরেই আর কোনো খোঁজ খবর নাই তার। তার আম্মাও তার জন্য অস্থির হয়ে আছে। শেষ মেষ অন্য কোনো উপায় না দেখে তাকে খোঁজতে ঢাকায় আসি আমি। সে যেখানে থাকতো সে জায়গার ঠিকানা ছিলো আমার কাছে। কিন্তু এখানে এসে শুনতে পাই সে বিয়ে করেছে। এখন অন্য কোথাও থাকে, যার ঠিকানা তার সাথে আগে থাকনেওয়ালারা জানে না।”

এতোটুকু বলে থামলেন বৃদ্ধ। এর মধ্যেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। চোখের পানিও আগের চাইতে বেশি করে পরছে। কি একটা টান যেন বৃদ্ধের প্রতি আমার তৈরি হয়েছে। তাই বেঞ্চ ছেড়ে উঠতেও পারছি না। কিছু বলতে যাচ্ছিলাম। তখন দেখলাম বৃদ্ধ আবার মুখ খুলেছে। তাই তাকেই বলতে দিলাম।

তিনি আবার শুরু করলেন, “এরপর পকেটে যা ছিলো তা দিয়ে চার দিন ধরে খেয়ে না খেয়ে ছেলেটার খোঁজ করি। কিন্তু কোথাও কোনো খবর পাই নাই। এর মধ্যে তার এক বন্ধুর সাথে দেখা। তার কাছ থেকে ছেলেটার ফোন নাম্বার পাই। ফোনও দেই। কিন্তু আমার পরিচয় পাওয়ার পর ফোনের অন্য পাশ থেকে একটা মেয়ে কন্ঠ বলে দেয় এখানে ঐ নামে কেউ থাকে না। কিন্তু বিশ্বাস করো বাবা, আমি নিশ্চিত ঐটাই আমার ছেলের বউ ছিলো। তারপর আর কি করবো। বুঝতে পারলাম ছেলে আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে চায় না। তাই বাড়ির পথে রওনা দিলাম। কিন্তু এখন দেখি পথে এক টাকাও নাই। আর বাড়ি গিয়েই বা ছেলের মাকে কি বলবো? এ কথা শোনার পর সে সাথে সাথে স্টক করে মারা যাবে। অনেক আদরের ছিলো ছেলেটা। কিন্তু কে জানতো শেষ পর্যন্ত এমন করবে সে?”

কথা শেষ করেই বৃদ্ধ আরো ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদতে লাগলো। খেয়াল করলাম আমার চোখেও পানি জমা হয়েছে বেশ। বাবাকে এখন একটু আগের চেয়ে বেশি মিস করছি। কেন জানিনা, বারবার ইচ্ছে হচ্ছে এখনই সব ছেড়ে বাবার কাছে চলে যাই আজীবনের জন্য।

বৃদ্ধকে শান্ত করলাম আমি। শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করলাম কিছুটা। তারপর তার হাতে শ’পাঁচেক টাকা গুজে দিয়ে বললাম, “বাবা এই টাকাটা রাখুন। আশা করি এ দিয়েই আপনি বাড়ি পৌছে যেতে পারবেন। আর ছেলের জন্য চিন্তা করবেন না। সে ফিরে আসবেই।”

বৃদ্ধ নিজের সাথে অনেক যুদ্ধ করার পর মনে হয় টাকাটা হাতে নিলো। এছাড়া কোনো উপায় ছিলো না তার। টাকাটা হাতে নিয়ে তিনি আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। এরপর বললেন, “তোমার ফোন নাম্বারটা আমাকে দাও। বাড়ি যাওয়ার পর তোমার টাকাটা ফিরিয়ে দেব। কারো প্রতিদান আমি কখনো নেই নি। এখনো চাই না কেউ আমাকে দয়া করে কিছু দিক।”

বৃদ্ধের মনের অবস্থা আমি বুঝতে পারলাম। তাই কিছু না বলে প্যাডে আমার নাম সহ নাম্বারটা লিখে তাকে দিয়ে দিলাম। এবং বিদায় জানিয়ে যত তারাতারি সম্ভব অত্যাধিক প্রশান্তি নিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

পরিশিষ্টঃ অফিসের কাজ শেষ করে সন্ধ্যা সাতটায় বাসায় ফিরেছি তখন। হঠাৎ করেই একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে জানতে চায়, আমি সাইফ কিনা। ‘হ্যাঁ’ বলার পর তিনি আমাকে জানায়, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম জেনারেল হাসপাতালে একজন অজ্ঞাত মৃত বৃদ্ধের লাশ আছে। যার কাছ থেকে আমার নাম সহ মোবাইল নাম্বার পেয়েছে। আমি বৃদ্ধের কিছু হই কিনা জানতে চেয়ে বললো, “যদি কেউ হয়ে থাকি তাহলে যেন লাশ নিয়ে এসে নিজ দায়িত্বে তার দাফন কাজ সম্পন্ন করি। তা না হলে বেওয়ারেশি লাশ হিসেবে তাকে দাফন করা হবে।”

তখন কিছুই মাথায় ঢুকছিলো না। সকালে দেখা বৃদ্ধের এমন ভাবে চলে যাওয়া কিছুতেই মানতে পারছিলাম না। তাকে আমি বাবা বলে ডেকেছি। কেমন যেন একটা টানও অনুভব করছি তার জন্য। আবার এর মধ্যে হসপিটাল থেকে বললো, সে যদি আমার কেউ না হয় তাহলে তাকে বেওয়ারেশি লাশ হিসেবে দাফন করা হবে। কিন্তু আমাদের মত সন্তানেরা থাকতে তার মত বাবাকে কেন বেওয়ারেশি হিসেবে দাফন হতে হবে?

কথা ভেবেই যত জরতা আছে তা ঠেলে দিলাম। স্ত্রীকে ঘটনাটা সংক্ষিপ্ত আকারে বলে রওনা দিলাম হসপিটালে দিকে। একজন সন্তান হয়ে বাবার শেষ কাজটা সম্পন্ন করতে।

Collected post

17/12/2022

শচীন টেন্ডুলকার জীবনে যতবার আউট হয়েছেন আপনি হয়তো ততবার ক্রিকেট খেলাও খেলেননি। কিন্তু দিনশেষে আজকে শচীনকে পুরো বিশ্ব ক্রিকেট নক্ষত্র হিসেবেই জানে। কারণ তিনি ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করাদের মধ্যে একজন। আর আপনি দু'একবার কোনো কাজে হেরে গেছেন তো আবার অন্য পথ খুঁজেন।

মার্ক জুকারবার্গকে যখন তার গার্লফ্রেন্ড সকল সোশ্যাল সাইট থেকে ব্লক করে দেয়, তখন সে জেদ করে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল সাইট ফেসবুক তৈরি করে, যার মাধ্যমে সে ওয়ার্ল্ডের টপ ফাইভ রিচম্যানদের একজন। আর আপনি হলে কী করতেন? শেভ করা ছেড়ে দিয়ে, সিগারেট টানতেন আর বলতেন- বেঁচে থেকে কী লাভ!

টমাস আলভা এডিসন একটা বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করতে গিয়ে যতবার ব্যর্থ হয়েছেন এই পৃথীবীর ইতিহাসে তত বছর কেউ বাঁচেওনি। ৯৯৯ বার ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। আর আপনি? সাকসেস হওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন কতবার চেষ্টাটা করতে পারবেন?

সাইকেল গ্যারেজে কাজ করা রাইট ভ্রাতৃদ্বয় যতবার প্ল্যান করে বিমান উড়াতে চেষ্টা করে করে ব্যর্থ হয়েছেন, আপনি ততবার প্ল্যান করে পাখির উড়াও দেখেননি। তবু তিনি বিমানটা আবিষ্কার করেই ছাড়লেন।

আপনার পাশের বাসার ছেলেটি কিংবা পাশের গ্রামের মেয়েটি অথবা আপনার যে বন্ধুটি গতবার চাকরিটা পেয়ে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন, আপনি তার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন, আর বলছেন- কী কপাল তার! নারে বস, এটা তার কপালের গুণে পায়নি। পরিশ্রমের গুণে পেয়েছে।

সৃষ্টিকর্তাকে একবার জানান দেন সাকসেস না আসার আগ পর্যন্ত আপনি থামবেন না, হেরে গেলেও না, বারবার ব্যর্থ হলেও না।

ছোটবেলায় যেভাবে একবার হাঁটতে না পারলে আবার চেষ্টা করতেন, পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়ে কান্না করতে করতে আবার দেয়াল ধরে হাঁটতে চাইতেন, আবার পড়তেন আবার হাঁটতেন। কেউ আপনাকে তখন থামায় রাখতে পারেনি। নাছোড়বান্দার মত আপনি লেগেছিলেন।

এখন সময় এসেছে আবার দাঁতে দাঁত চেপে নাছোড়বান্দার মত লেগে থাকার। যে যাই বলুক, যে যা করুক, আপনি শুধু লেগে থাকেন। বাকিটা সিস্টেম্যাটিক্যালি স্রষ্টা আপনাকে দিয়ে দিবেন।
(সংগৃহীত)

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Orchid Plaza 2, (4th Floor), 109 Green Rd
Dhaka
1215

Opening Hours

Monday 08:00 - 20:30
Tuesday 08:00 - 18:00
Wednesday 08:00 - 18:00
Thursday 08:00 - 18:00
Friday 08:00 - 18:00
Saturday 08:00 - 18:00
Sunday 08:00 - 18:00