24/08/2021
🛑 শিরকের ভয়াবহতাঃ
১। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় অপরাধ হচ্ছে “শিরক”। [বুখারী হা/৬৯১৯]
২। হে রাসুল আপনিও যদি শিরক করেন তাহলে আপনার যাবতীয় আমল অবশ্যই বরবাদ হয়ে যাবে। এবং আপনিও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। [যুমার -৬৫]
৩। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যাক্তি আল্লাহর সাথে বিন্দুমাত্র শরিক করবে সে জানহান্নামে যাবে। [মিশকাত হা/৩৮]
৪। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না। শিরক ছাড়া অন্য গোনাহ যাকে ইচ্ছা করেন ক্ষমা করেন। [নিসা-৪৮]
🛑 সমাজে প্রচলিত শিরকসমূহঃ
১। অদৃশ্য বিপদে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ব্যাক্তি,পীর-বুজুর্গ, ইমাম, কোন মৃত ব্যাক্তি এমনকি নবি রাসূলের কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক। এই ব্যাক্তিদের সম্মান দেখানোর জন্য তাদের কবরের সামনে সালাত আদায় করা,সিজদা করা কিংবা তাদের কবরকে চুমু খাওয়া শিরকের অন্তর্ভুক্ত। [আনফাল-৯, আরাফ-১৯৪, নাহল-২১,ফাতিহা-৫, আল আহকাফ-৫, ইউনুস-১০৭, তিরমিজি হা/২৫১৮] এছাড়া তারা পরকালে আল্লাহর অনুমতি ব্যতিত সুপারিস করতে পারবেই, কবরের সওয়াল জবাব দিয়ে দেবে,জান্নাতে নিয়ে যাবে, পুলসিরাত পার করে দেবে এমন বিশ্বাস রাখাও শিরক। [যুমার-৪৪,বাকারা-২৫৫, নামল-৬২, হাজ্জ-৭৩, ফাতির-১৩]
২। “আপনার উপরই আমার ভরসা, আপনি ছিলেন বলেই আজকে রক্ষা পেলাম, মাঝি ভালো বলেই নৌকা ডুবলো না, ড্রাইভার ভালো ছিল বলেই একসিডেন্ট হলো না, আপনি ছাড়া আর কে সাহায্য করবে, ছেলেটা/মেয়েটা অকালে মারা গেলো, তার এই মৃত্যুটা মেনে নেওয়া যায় না, ডাক্তার ভালো বলে রোগী বেঁচে গেল, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া, আপনি ভালো থাকবেন ” এই রকম বাক্য বলা শিরক কারণ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপর ভরসা করা বা জীবন মৃত্যু অন্য কারও হাতে মনে করা, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ নিজে নিজে ভালো থাকতে পারে এরকম মনে করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। [মায়িদা-২৩, ফুরকান-৩,যুমার-৪২]
৩। আল্লাহ নিরাকার এমন বিশ্বাস রাখা শিরক। [সোয়াদ-৭৫, ত্বাহা-৩৯,মায়েদা-৬৪, কলম-৪২, বাকারা-১১৫, আর রাহমান ২৬-২৭, বুখারী হা/৪৯১৯, মিশকাত হা/৫৫৪২]
৪। আল্লাহ সকল মুমিনের অন্তরে, সকল স্থানে, সকল বস্তুর মধ্যে, মানুষের ডান কাধে অবস্থান করেন এমন বিশ্বাস করা শিরক। কারণ আল্লাহ আরশের উপর সমুন্নিত। [মুলক ১৬-১৭, ত্বাহা-৫]
৫। আল্লাহ ছাড়া কেউ (যেমন গণক,পীর,বিভিন্ন বাবা) হাত দেখে ভাগ্য বলতে পারে,গায়েব বা অদৃশ্যের খবর জানে, হাত চালান বা বাটি চালান করতে পারে,