26/05/2026
গরুগুলোর চোখে মরিচের গুঁড়ো দিয়ে দেয়া হয়েছে, আর জিহ্বায় ডলে দেয়া হয়েছে, চুলকানি পাতা। তাতেও হয়নি, পেটের নিচে আঁড়াআঁড়িভাবে দেয়া হয়েছে বাঁশ, চোয়ালে বাঁধা হয়েছে ঊর্ধ্বমুখী রশি।
এ সব কিছু করা হয়েছে, ঢাকায় আনার পথে দীর্ঘ দুইদিনের যাত্রায় গরুগুলো যেন বসে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা। যন্ত্রণায় সে ছটফট করতে করতেই চলে যাবে দুইদিন।
হাটে যখন তোলা হয়েছে, তাতেও কি মিলেছে স্বস্তি? না, মাথা যথাসম্ভব ঊর্ধ্বমুখী রেখে ছোট করে এভাবে রশি বাঁধা হয়েছে, যেন কোনোভাবেই বসতে না পারে, বসলে ক্রেতাদের দেখানো যাবেনা। ক্রেতারা আকৃষ্ট হবে না।
যতদিন অবিক্রীত অবস্থায় থাকবে, ততদিনই সয়ে নিতে হবে কষ্টের এই সুতীব্র যাতনা।
অন্যদিকে ছাগলের গলায় পাইপ ঢুকিয়ে দিয়ে কল ছেড়ে দেয়ার দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে অন্যত্র। পাঁচ কেজি পানি পেটে পুড়ে দিলেই বেড়ে যাচ্ছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা।
অবলা এসব প্রাণীদের ওপর এমনসব অমানবিক জুলুমের সাক্ষী আমি নিজেই। হাটে হাটে ছোটবেলা থেকে প্রচুর ঘুরি, এবারও ঘুরেছি। ব্যাপারীদের সাথে একসাথে বসে ভাতও খেয়েছি। এরকম অসহনীয় বহু জুলুমের কথা ওরাই আমাকে অকপটে বলেছে৷
এতসব ধাপ পেরিয়ে যাবীহাগুলো যখন আপনার হাতে কুরবানি হওয়ার জন্য আপনার গ্যারেজে বা দরজায় অপেক্ষমাণ, তখন কি এই প্রাণীদের প্রতি একটুও মায়া কাজ করছে আপনার? কিছু খাচ্ছেনা দেখে, কীভাবে একটু খাওয়ানো যায়, এ ভেবে বেচাইন হচ্ছে আপনার মন?
একটু গোসল করিয়ে দেয়া, বসার জায়গাটা পরিস্কার করে দেয়া, সুযোগ পেলে আদর করা, এসব কিছুই যদি আপনার ইচ্ছে না করে, সুনিশ্চিতভাবেই বলা যায় কুরবানির প্রধানতম একটি মাকসাদ লঙ্ঘিত হচ্ছে আপনার অজান্তেই।
অথচ কুরবানির মাকাসিদের প্রধানতম মাকসাদ কিন্তু এটাই যে, আল্লাহ আপনার ত্যাগ দেখতে চান, যেমন দেখতে চেয়েছিলেন হযরত ইবরাহিম আলাইহিসসালামের কাছ থেকে। আল্লাহর আদেশে তিনি নিজ সন্তানকে পর্যন্ত উৎসর্গ করে দিতে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন।
আল্লাহ আপনার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। প্রিয় জিনিসটি আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করে দেয়ার পরীক্ষায় আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন বিকল্প পথ। কিন্তু মাকসাদ কিন্তু অভিন্নই আছে; আল্লাহর জন্য 'প্রিয়' জিনিসের ত্যাগ ও কুরবানি।
কিন্তু কুরবানি তখনই তো কুরবানি, যখন যাবীহা আপনার 'প্রিয়' হয়ে উঠবে।৷ কুরবানি হয়ে যাওয়া যাবিহার জন্য আপনার ভেতরটা লুকিয়ে রাখা বিষণ্ণতায় ভরেই যদি না উঠলো, শুধু ভোজনের আনন্দ মনে কিলবিল করতে থাকল, সে আর কুরবানি কী থাকলো?
যত্ন নিন আপনার যাবীহার। আদর করুন। মমতাভরে পেতে দিন আপনার সব ভালোবাসা, যেন ওরা দু'দিনেই ভুলে যায় ফেলে আসা যাতনার সব ব্যথা, ক্লেশ এবং ক্লান্তি...
সংগ্ৰহীত লিখা ও ছবি
ছবি: তানজিবুর রহমান