22/11/2021
🍀🍀মাসি-পিসি
পাঠ বিশ্লেষণ :
⇒ “হাতে দুটো পয়সা এলে তোমারও স্বভাব বিগড়ে যায় কৈলেশ।”
আহ্লাদির বর জগুর সঙ্গে চায়ের দোকানে দেখা হয়েছিল কৈলাশের। চায়ের দোকান যে শুঁড়িখানা তা বুঝতে বাকি থাকে না মাসি পিসির। জগুর মতো কৈলাশেরও যে হাতে পয়সা এলে স্বভাবের পরিবর্তন হয়ে যায় সেই বিষয়টি বোঝাতে পিসি স্বভাব বিগড়ে যাওয়ার কথা বলে।
⇒ “ সে যাতে শুনতে পায় এমনি করেই বলে কৈলাশ।”
কৈলাশ গোপন খবরটা মাসি পিসিকে চুপে চুপে জানাতে চেয়েছিল। আহ্ণাদিকে দেখার পর সে হঠাৎ গলায় জোর পেয়ে গেল। আহ্ণাদি যাতে কথাবার্তা সব শুনতে পায় এমনি করেই বলে বৈশাখ। কারণ গোপন খবরটা আহ্ণাদি সম্পর্কেই।
⇒ “যুদ্ধের আয়োজন করে তৈরি হয়ে থাকে মাসি-পিসি।”
মারাত্মক ভঙ্গিতে বঁটি আর কাটারি উঁচু করে মাসি-পিসি হাঁকডাক আরম্ভ করে। পাড়ার লোকজন ছুটে আসে। চৌকিদার পেয়াদা একফাঁকে পালিয়ে যায়। তবুও ভয় থেকেই যায় মাসি-পিসির। কারণ সেবার মেয়েটাকে কুটুমবাড়ি সরিয়ে দেওয়ায় সোনাদের ঘরে আগুন দিয়েছিল মাঝরাতে। তাই কাথা কম্বল চুবিয়ে রাখে জলে, হাঁড়ি কলসি ভরে রাখে। যুদ্ধের আয়োজন করে মাসি-পিসি জেগে থাকে সারারাত।
⇒ “গলা কেটে রক্ত দিয়ে সে ধার শোধ করা যদি বা সম্ভব, অন্ন দেওয়ার ক্ষমতা কোথায় পাবে।
আহ্ণাদির বাবা বাবা বিধবা মাসি পিসির থাকার জায়গাটুকু দিলেও খাওয়াটা ছাঁটাই করে দিয়েছিল। বিধবা দুজনের অবস্থা তখন বাঁচে কি মরে। এর ওপর জগুর অত্যাচারে মরমর হয়ে আহ্ণাদি এসে হাজির হয়। মাসি পিসির সেবা যতেœই আহ্লাদি বেঁচে উঠেছিল। আহ্ণাদির বাবা মা সেটা স্বীকার করেছে, কিন্তু তার অন্নসংস্থানের ক্ষমতা তো নেই। এ অবস্থা প্রসঙ্গেই বলা হয়েছে- ‘গলা কেটে রক্ত দিয়ে সে ধার শোধ করা যদি বা সম্ভব, অন্ন দেওয়ার ক্ষমতা কোথায় পাবে?’
⇒ “তবু মুফতে যা পাওয়া যায় তাতেই জগুর প্রবল লোভ।”
শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তির ওপর জগুর প্রবল লোভ। আহ্ণাদির বাবা-মা-ভাই কেউ বেঁচে নেই। কাজেই ঘরদোর, জমিজমা সবই তো আহ্ণাদি পাবে। এজন্যই জগু আহ্ণাদিকে বাড়ি নিতে চায়। অবশ্য জমি সামান্যই। তবু মুফতে বা মাগনা যাও পাওয়া যায় তা-ই লাভ বলে জগু মনে কর।
⇒ “সব বিরোধ সব পার্থক্য উড়ে গিয়ে দুজনের হয়ে গেল একমন, একপ্রাণ।”
মাসি-পিসির মধ্যে বিরোধ-ঝগড়া হতো মাঝে মাঝে। শাকসবজি বিক্রি করে বাঁচার চেষ্টায় যখন কোমর বেঁধে নেমে পড়ল, তখন থেকে তাদের মধ্যকার সব বিরোধ সব পার্থক্য উড়ে গেল। দুজনের তখন একটাই ভাবনা আহ্ণাদিকে খাইয়ে পরিয়ে যতেœ রাখা। এই সূত্রে দুজনের হয়ে গেল এক মন, এক প্রাণ। “তোমরা নাকি গণ করেছ মেয়া পাঠাবে না, তাতেই চটে আছে।” মাসি পিসির মন নরম করার জন্য কৈলাশ জগুর প্রশংসা করে বলে যে, জগু আর আগের জগু নেই, সে এখন বউকে বাড়ি নিতে চায়। মাসি পিসিকে সে আরও বলে যে, তারা মেয়ে শ্বশুরবাড়ি না পাঠানোর পণ্য করে আছে বলে জগু আরও রেগে আছে। এমনকি সে থানা পুলিশ করবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে।
⇒ “তাই মাসি পিসির একটা অবজ্ঞা অবহেলার ভাব ছিল।”
সাধারণত বাপের বাড়ির কেউ হলে বাপের বাড়ির ওপর জোর খাটানোই রেওয়াজ। দুজনের বয়সে এক, অবস্থা এক, একঘরে বাস, সুখ দু:খের কথা বলা সবই ঠিক ছিল। কিন্তু কোন্দল বেধে গেলে পিসির অহংকার আরও বেড়ে যেত। পিসি এ বাড়ির মেয়ে, এটি তার বাপের বাড়ি। তাই মাসির ওপর পিসির একটা অবজ্ঞা অবহেলার ভাব ছিল, কারণ সে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে।