পরিচালকের কথা...
আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
সমস্ত প্রশংসা রাব্বুল আলামিন ও মহান আল্লাহর যিনি মানুষ সৃষ্টি করে তাঁদের পথ প্রদর্শনের জন্য কুরআন মজীদ শিক্ষা দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ চিত্তে সাক্ষ্য দিচ্ছি- সেই আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। তিনি একক এবং তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরোও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর প্রতি অসংখ্য দুরুদ ও সালাম। একাবিংশ শতাব্দীর এই বিপুল সম্ভাবনার যুগে উপনীত হয়ে প্রথমে কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সুমহান আল্লাহ্তালার, যিনি এ বিশ্ব সৃষ্টি করে মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। মানুষকে তিনি জগতে করেছেন তাঁর প্রতিনিধি মানুষ স্রষ্টার গুনে গুণাণ্বিত হয়ে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করবে এটাই বাঞ্চনীয়। শিক্ষাই মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে। আর এজন্যই সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ শিখছে এবং জগৎ ধ্বংসের পূর্ব পর্যন্ত শিখবে। যদি শিক্ষা মানুষের মানুষ্যত্ব বিকাশের সহায়ক না হয়, সেই শিক্ষা হবে কুশিক্ষার নামান্তর। শিক্ষার মূখ্য উদ্দেশ্য মানব শিশুর সুপ্ত মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন ও উৎকর্ষ বিধান করে তাকে আশরাফুল মাখলুকাতের গুণাবলীতে ভূষিত করে আল্লাহর খলিফাহওয়ার যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম করে গড়ে তোলা। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবিকা অর্জনের কলা-কৌশল আয়ত্ত করাও শিক্ষার আর একটি উদ্দেশ্য। শিক্ষা শুধু বেঁচে থাকার হাতিয়ার,মনুষ্যত্ব অর্জনের প্রয়োজনে নয়, এ ধরণাই দিচ্ছে প্রচলিত শিক্ষানীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় জাগতিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে । মানবীয় গুনাবলী অর্জনের লক্ষ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষাণীতি ও পাঠ্য ক্রম আজও প্রণীত হয়নি। পাঠক্রমে ধর্মীয় মূল্যবোধের অনুপস্থিতিতে মানবিক গুনসম্পন্ন শিক্ষিত মানুষ খুব কমই সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীগণ জ্ঞানার্জন অপেক্ষা সনদ অর্জনকে প্রাধান্য দিচ্ছে, ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী,শিক্ষাঙ্গন ও জাতীয় জীবনে আজ চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ পারছে না আদর্শ ও চরিত্রবান মানুষ উপহার দিতে। জাতিকে সুনাগরিক উপহার দিতে প্রয়োজন ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা। ২৫০ বছর পূর্বে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রণীত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু থাকলেও জনগনের নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে তখন এদেশে শিক্ষিত অমানুষ কমই সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে মানুষের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ লোপ পাওয়ায় শিক্ষিত অথচ মানবিক মূল্যবোধ বর্জিত মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ আমরা এক দূর্ভাগ্য জাতিতে পরিণত হয়েছি। তার প্রধান কারণ হলো জীবন দর্শন সম্বন্ধে আমাদের সুষ্ঠ ও সঠিক ধারণার অভাব । 'Morality has ist root in religion' এ অমোঘ বানীকে ভুলে গিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ বর্জিত পার্থিব শিক্ষাকে প্রধান্য দেওয়ার কারণে আমরা মনুষ্যত্বহীন হয়ে পড়েছি। নৈতিকতা বর্জিত শিক্ষা মানুষের মনুষ্যত্ববোধকে ধ্বংস করে সর্বনিকৃষ্ট জীবের স্তরে নামিয়ে দেয়। জাতীয় জীবনের সর্বত্র আজ এ দৃশ্য বিরাজমান। সাম্য ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের প্রবক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষা দীক্ষায় ও জ্ঞান গরিমায় মানবকুলের এককালে গুরুর আসনে সমাসীন জাতি আজ সর্বস্তরে নির্যাতিত নিগৃহীত ও নিন্দিত হচ্ছে এ ঘৃণ্য অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে আমাদের সম্মুখপানে এগিয়ে যেতে হবে মানবিক শুণসম্পন্ন জাতি গঠনে দৃঢ় অঈীকার নিয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য আমাদেও কাজ করে যেতে হবে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী আদর্শ পরিবেশে লেখা-পড়ার সুযোগ পায়, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার কৌতুহলী মনের প্রশ্নের যর্থাথ উত্তর শিক্ষকদের নিকট পায়। প্রচলিত যুগোপযোগী শিক্ষায় পারদর্শী করে তোলার পাশাপাশি ইসলামী দিক নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটানোই আমার জীবনের মূল লক্ষ্য। আমার উদ্দেশ্য সে শিক্ষার প্রবর্তন করা যে শিক্ষায় ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণ সাধনের নিশ্চয়তা বিদ্যমান। আমাদের এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার সকল প্রয়োজন মেটাতে আমরা অঙ্গিকারাবদ্ধ। আমার দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা,বিদ্যুৎসাহী ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদেও অনুপ্রেরণা, সুশীল ও সচেতন ধর্মীয় সমাজের উৎসাহ উদ্দীপনা ও অনুরোধে ও সর্বোপরি শিক্ষাসচেতন দেশবাসীর সহয়োগিতায় ২০০৭সালে নভেম্বও মাসে ইকরা মডেল স্কুল এন্ড কলেজ চালু করেছি ইনশাল্লাহ হতাশ দুর্দশাগ্রস্ত ও দিকভ্রান্ত এ জাতিকে আমরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষত কওে তুলব আপনাদের সকলের দোয়া ভালবাসা ও সর্বাতœক সহযোগিতাই আমাদেও কাম্য মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন আমিন।
ফিরোজ আহমেদ
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক: ইকরা মডেল স্কুল এন্ড কলেজ