14/12/2025
উনিশশো একাত্তর সালের চৌদ্দই ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাহেন্দ্রক্ষণে বাঙালিকে মেধাহীন করার লক্ষ্যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শহীদ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার সহধর্মিনী বাসন্তী গুহঠাকুরতা তাঁর 'একাত্তরের স্মৃতি' গ্রন্থে লিখেছেন, "নীল নকশার রেখা অংকন শুরু হয়েছিল একাত্তরে পয়লা মার্চের আগেই— সত্তরের ১৭ই ডিসেম্বর গণভোট বা তারও অনেক আগে ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনের সময় থেকেই, কিংবা বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের পরে। ভাষা আন্দোলন প্রেরণা জুগিয়েছে স্বাধিকার আন্দোলনের, তার থেকে রূপ নিয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলন। ... এরা প্ল্যান করে যুদ্ধে নেমেছে। যুদ্ধ তো নয়, কেবল নিরস্র মানুষকে নিধন। প্রথমে ওদের এলোপাতাড়ি মারা, তারপর বেছে বেছে ধনী, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী নিধন শহরে গ্রামে, গঞ্জে, নদীতে, খালে। ... ওদের আপ্রাণ চেষ্টায়ও পারেনি তালিকার সব কটি নাম মুছে দিতে। ওদের কি আফসোস!"
হত্যাযজ্ঞের নৃশংসতার বর্ণনায় ডক্টর নীলিমা ইব্রাহীম বলেছেন, "... শুধু হত্যা কর্ম নয়, কত বীভৎস্য পাশবিকতার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে তা শুধু আমাদের ঘৃণা নয়, মানব চরিত্র সম্পর্কেও সন্দিহান করে তোলে। যারা একেবারে গুলিতে নিহত হয়েছে তারা ভাগ্যবান। কারো দেহ থেকে রক্ত শোষণ করে জলাতঙ্কের ইনজেকশন দিয়ে তাঁকে পানিতে ফেলে দেয়া হয়েছে। কারও চোখ তুলে নেয়া হয়েছে, কারও বুক ছিঁড়ে হৃদপিণ্ড বের করে নেয়া হয়েছে— এর বর্ণনা দিতে হলে মানব ইতিহাস কলঙ্কিত হবে। মানুষের মানব পরিচয় মুছে যাবে।"
আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সকল শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি!!!