09/11/2022
▌সাবায়িদের উদ্দেশ্যে খলিফা উসমান রা. এর ভাষণ
উসমান রা. পূর্ণ সহমর্মিতার সাথে চেষ্টা করে গেছেন, ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে যারা ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে বিদ্রোহে অংশ নিয়েছে তারা (সাবায়ি) যাতে তাওবা করে নেয়। বাড়ির উঁচুস্থানে দাঁড়িয়ে তিনি তাদের প্রতি মর্মস্পর্শী বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি তোমাদের কসম দিয়ে বলছি, তোমরা কি জানো না, আমিই সেই ব্যক্তি যে রুমার কূপ ক্রয় করে মুসলিমদের নামে ওয়াক্ফ করে দিয়েছে? সকলেই বলেন, জি, হ্যাঁ। তিনি বলেন, তারপরও কেন তোমার আমাকে সেই কূপের পানি পান করতে দিচ্ছ না?
অতঃপর বলেন, 'আমি তোমাদের কসম দিয়ে বলছি, তোমরা কি জানো না, পার্শ্ববর্তী জায়গা ক্রয় করে আমিই মসজিদে নববির সম্প্রসারণের কাজ করেছি? বলো, আমার আগে এমন কারও কথা কি তোমরা জানো যাকে মসজিদে নামাজ আদায় করতে বাধা দেওয়া হয়েছে? এই বক্তব্য এত তীব্র ঝাঁকুনি দিতে সক্ষম ছিল যে, বিদ্রোহের কয়েকজন বলে ওঠে, আমিরুল মুমিনিনের ওপর আমাদের হাত (অস্ত্র) তোলা সমীচীন নয়। তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত।
হককে 'দুইয়ে দুইয়ে চার’- এর মতো স্পষ্ট করার জন্য উসমান রা. আরও যুক্ত করেন, 'আমি তোমাদের কসম দিয়ে বলছি, তোমাদের কি মনে নেই, একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ হেরা পর্বতে অবস্থান করছিলেন। আচানক পাহাড় কাঁপতে শুরু করে। রাসুলুল্লাহ ﷺ পাহাড়ে পদাঘাত করে বলেন, থেমে যাও। তোমার ওপর নবী , সিদ্দিক ও শহিদ ছাড়া অন্য কেউ নেই। সেদিন আমি নবীজির সাথে উপস্থিত ছিলাম। 'এই হাদিস স্মরণ করিয়ে দিয়ে নবীজির জামাতা উসমান রা. বিদ্রোহীদের সামনে সুস্পষ্ট করে দেন, তাকে হত্যা করা হলে তিনি হবেন শহিদ। অর্থাৎ হত্যাকারীরা হবে বাতিলপন্থী ও জালিম (জাহান্নামী)।
তিনি পুনরায় বলেন, আমি তোমাদের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করি, তোমরা কি জানো না, বাইআতে রিজওয়ানের দিন নবীজি যখন আমাকে মক্কায় পাঠিয়েছিলেন, আপন হাতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, এটা উসমানের হাত? তিনি আবার বলেন, তোমাদের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করি, তোমাদের কি মনে নেই, তাবুকযুদ্ধের অভাবের সময় যখন নবীজি বলেছিলেন, কে আছো! আল্লাহর রাস্তায় মাকবুল (কবুলকৃত বা গৃহীত) দান করবে? আমি তখন অর্ধেক সেনাবাহিনীর সাজসরঞ্জামের ব্যবস্থা করেছিলাম। প্রতিটি কথা উসমান রা. বিদ্রোহীদের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকেন। মদিনাবাসী ও বিদ্রোহীদের কয়েকজন তার প্রতিটি কথা সত্যায়ন করে। সেই দিনগুলোতেই কোনো এক সুযোগে তিনি বলেছিলেন, 'কী অপরাধে তোমরা আমাকে হত্যা করবে? আমি নবীজির জবানে শুনেছি, মাত্র তিনটি অপরাধের কারণে মুসলিমকে হত্যা করা যায়:
এক . বিবাহিত হয়েও সে যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়।
দুই . কেউ যদি অকারণে হত্যা করে বা
তিন. মুরতাদ হয়ে যায়।
আল্লাহর কসম, জাহিলি যুগেও আমি কখনো ব্যভিচারে লিপ্ত হই নি। মুসলিম হওয়ার পরও না। আমি কাউকে হত্যাও করি নি যে, আমার থেকে কিসাস গ্রহণ করা যাবে। যখন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছি, ইসলাম থেকে এক পলকের জন্য বিমুখ হই নি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। মুহাম্মাদ ﷺ তার বান্দা ও রাসুল। তারপরও কেন তোমারা আমাকে হত্যা করতে চাও?
[মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস বিশ্বকোষ: ৩ খন্ড. পৃ: ১৬৩-১৬৫]
©M H Emon