Short Islamic History

Short Islamic History

Share

জানা-অজানা ইসলামের ইতিহাস জানুন এবং নিজেকে সমৃদ্ধ করুন।

18/03/2023

ইয়াযিদের মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী ফাখিতা বিনতে আবু হাশিমকে বিয়ে করেন মারওয়ান ইবনুল হাকাম। ইয়াযিদের ছেলে মুআবিয়া ইবনে ইয়াযিদের ইন্তেকালের পর কে খলিফা হবেন এই নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

ইয়াযিদের ছেলে খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ছিলেন খলিফা হবার একজন ক্যান্ডিডেট। অন্যদিকে, মারওয়া ইবনুল হাকাম নিজেকে খলিফা ঘোষণা করেন। ইসলামের ইতিহাসে মারওয়ান ইবনে হাকাম বেশকিছু কাজের জন্য নিন্দিত ছিলো। বিশেষ করে তার উস্কানিমূলক কিছু কাজ।

যাইহোক, ঘরের গল্পে চলে যাই। মারওয়ান ইবনুল হাকাম প্রকাশ্যে তার সৎ ছেলে খালিদ ইবনে ইয়াযিদের সমালোচনা করেন এমনকি তাকে নিয়ে কটুকথা বলেন।

অন্যদিকে, খালিদের মা ফাখিতা ছিলেন মারওয়ানের স্ত্রী। তিনি দেখতে পান তার স্বামী তার ছেলেকে প্রকাশ্যে গালাগালি করেছে।

মা হয়ে এই অপমান তার সহ্য হলো না। স্বামীর বিরুদ্ধে তিনি প্রতিশোধ নিতে চাইলেন।

স্বামী-স্ত্রী ঘুমাতে গেলেন। মারওয়ান ইবনুল হাকাম ঘুমিয়ে পড়লেন। ফাখিতা কয়েকজন দাসীকে নিয়ে তার স্বামীর ওপর বালিশ চাপা দিলেন। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেলেন তৎকালীন 'খলিফা'!

তবে কারো কারো মতে, মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারওয়ান ইন্তেকাল করেন।

©আরিফুল_ইসলাম

16/03/2023

এই হাদিসটি আপনার হৃদয়কে নাড়া দিবে।
©

15/03/2023

একজন নারী তার স্বামী-সন্তান সহ মক্কায় হিজরত করেন। তখনকার যুগে বাইরের কেউ মক্কায় এসে বসবাস করলে কারো অধীনে থাকতে হতো। এটা ছিলো তখনকার যুগের ভিসা ব্যবস্থা।

মক্কায় আগত নতুন পরিবারের দায়িত্ব নেন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু। ছেলে সন্তান আর স্বামীর সাথে নতুন পরিবেশে ভালোই দিন কাটছিলো। হঠাৎ একদিন সেই নারীর স্বামী ইন্তেকাল করলেন। তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। 'বিদেশে' এসে থিতু হবার আগেই বিধবা হয়ে পড়লেন। অসহায় সেই নারীর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবার কেউ ছিলো না।

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ালেন। তাঁকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিলেন।

আরব উপদ্বীপের 'আস-সারাত' অঞ্চলে জন্মগ্রহণকারী নারী ভাবতেও পারেননি তাকে মক্কায় আসতে হবে, মক্কায় এসে স্বামীকে হারাতে হবে, অতঃপর মক্কার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির স্ত্রী হতে হবে।

১৪০০ বছর পর তাঁর জীবনী চর্চা হবে এটাও হয়তো তিনি ভাবতে পারেননি।

নতুন স্বামীর ঘরে তাঁর এমন এক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে, যেই সন্তানের কারণে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।

তাঁর সেই মেয়ের নাম আয়িশা বিনতে আবি বকর রাদিয়াল্লাহু আনহা; তাঁর নাম উম্মে রূমান বিনতে আমির রাদিয়াল্লাহু আনহা।

©আরিফুল_ইসলাম

11/03/2023

মীর্জা গোলাম আহমেদ কাদিয়ানী কি নবী-রাসুল ছিলেন?

১/

مَا کَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنۡ رِّجَالِکُمۡ وَ لٰکِنۡ رَّسُوۡلَ اللّٰهِ وَ خَاتَمَ النَّبِیّٖنَ ؕ وَ کَانَ اللّٰهُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا ﴿۴۰﴾
অর্থঃমুহাম্মাদ তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নয়; তবে আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী।* আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞাতা। [১]

ইবনে কাসীর রহ. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ তাফসীরে ইবনে কাসীরে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুতাওয়াতির হাদীসের মাধ্যমে উম্মতকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পর আর কোনো নবী আসবে না। তারা যেন এ বিষয়ে সতর্ক থাকে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পর যে নবুওয়াতের দাবি করবে সে একজন মিথ্যুক, প্রতারক, ধোঁকাবাজ। যে নিজেও পথভ্রষ্ট এবং অপরকেও পথভ্রষ্ট করবে।[২]

২/

اَلۡیَوۡمَ اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ وَ اَتۡمَمۡتُ عَلَیۡکُمۡ نِعۡمَتِیۡ وَ رَضِیۡتُ لَکُمُ الۡاِسۡلَامَ دِیۡنًا

‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পূর্ণাঙ্গতা দান করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের ধর্ম হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে স্বীকৃতি প্রদান করলাম।[৩]

ইসলাম হচ্ছে সর্বশেষ নবীর আনীত সর্বশেষ ধর্ম। তাই আল্লাহ তাআলা সর্বশেষ নবীর মাধ্যমে ইসলাম-ধর্মকে একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

৩/
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى يَعْبُدُوا الأَوْثَانَ وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي ثَلاَثُونَ كَذَّابُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ মুশরিকদের সাথে আমার উম্মতের কতিপয় গোত্র না মিলিত হওয়া পর্যন্ত কিয়ামাত সংঘটিত হবে না, এমনকি তারা মূর্তিপূজাও করবে। আমার উম্মতের মধ্যে খুব শীঘ্রই ত্রিশজন ডাহা মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে। এদের সকলেই দাবি করবে যে সে নবী। অথচ আমি সর্বশেষ নবী, আমার পরে কোন নবী নেই।[৪]

তাই হাদিস ও কোরআন থেকে বোঝা যায় কাদিয়ানীদের দাবি ভ্রান্ত, মিথ্যা। এবং সরাসরি কোরআনের আয়াত অস্বীকার করায় তারা কাফের।

আল্লাহর প্রেরিত নবীরা কখনো তাদের পূর্ববর্তী নবী-রাসুল নিয়ে অশালীন অশ্লীল কথা বলতো না। তাদের নিয়ে অপপ্রচার করতো না। কিন্তু মির্জা গোলাম আহমেদ কাদিয়ানী তা করেছেন।

মির্জা গোলাম আহমেদ কাদিয়ানীর আরেক বৈশিষ্ট্য হলো, সে কথায় কথায় বিভিন্ন ভবিষ্যৎ বাণী প্রচার করতো এবং তার সাথে জুড়ে দিতো এটি আল্লাহর পক্ষ হতে পাঠানো ওহি। আর এটা যদি সংঘটিত না হয় তাহলে সে নবী না। এ কথা মিথ্যা হলে সে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবে। পরবর্তীতে দেখা গেছে এর অধিকাংশই মিথ্যা হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু সে ও তার মুরিদরা বিষয়টিকে বিভিন্ন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে কুফরির উপর অটল থাকতো।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

اَلۡیَوۡمَ اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ

‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম।’[৫]

এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, দ্বীন পরিপূর্ণ এবং এতে কোনো ধরনের পরিবর্তন-পরিবর্ধনের প্রয়োজন নেই।

আবার আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

وَ اِنَّا لَهٗ لَحٰفِظُوۡنَ

‘আর আমিই তার হেফাজতকারী।’[৬]

এই আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা দ্বীনকে হেফাজত করবেন।[৭]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের এবং আমাদের সকল ভাই-বোনদের এসকল ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুক। আমিন।

-----------------------------------------
[১] সূরা-আহযাব, আয়াতঃ৪০

[২]তাফসীরে ইবনে কাসীর

[৩] সূরা - মায়েদা, আয়াতঃ৩

[৪]আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২২১৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

[৫]সূরা- মায়েদা, আয়াতঃ ৩

[৬]সূরা- হিজর, আয়াতঃ ৯

[৭]কাদিয়ানী মতবাদ বোঝার সহজ উপায়- শায়খ মনযুর নুমানী রহ. (অনুবাদ- উস্তায তানজীল আরেফীন আদনান)

09/03/2023

এক মহান উজির ও সেনাপতি। আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনু মানুসর ইবনু মুহাম্মদ আল - কিনদারি তার নাম। তিনি ছিলেন সুলতান তুঘরিল বেগের উজির।

নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি, উদারতা ও লেখালেখির জন্য সে সময়ে ব্যাপক প্রসিদ্ধ ছিলেন তিনি। গভীর বোধশক্তি ও ভদ্রতার জন্য ও তার খ্যাতি রয়েছে। তিনি সুলতানের কেরানি ছিলেন। সেখান থেকে পদোন্নতি হয়ে খাওয়ারিজমের শাসক হন।

একসময় সুলতানের অবাধ্য হয়ে খোয়ারাজম-অধিপতির স্ত্রীকে বিয়ে করেন। সুলতান তুঘরিল বেঘ কৌশল অবলম্বন করে তাকে পরাজিত করেন। খাওয়ারিজম শাসকের স্ত্রীকে বিয়ে করার কারণে তাকে নপুংসক বানিয়ে দেন। পরে আবার দয়াপরবশ হয়ে সুলতান তার চিকিৎসা করান এবং উজির হিসেবে নিয়োগ দেন

আমিদুল মুলক বাগদাদে গেলে সেখানকার খলিফা কায়েম বি-আমরিল্লাহ তাকে উজিরে আযম (প্রধান উজির) উপাধি দেন। তিনি ছিলেন মুতাজিলা সম্প্রদায়ের লোক। তার রচিত অনেক গদ্য ও পদ্য রয়েছে। [১] তিনি খুব মেধাবী, বিচক্ষণ ও বিশুদ্ধভাষূ কবি ছিলেন। বহুগুণে গুণান্বিত ছিলেন তিনি।

তিনি ছিলেন প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের অধিকারী; যেকোনো প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দিতে পারতেন। তুঘরিল বেগ খলিফা-কন্যার সাথে উজিরের বিয়ের প্রস্তাব খলিফার কাছে পাঠালে খলিফা ভীষণ অনাগ্রহ দেখান; তিনি খুব উত্তেজিত হয়ে কবি মুতানাব্বির এ পঙক্তিটি আবৃত্তি করেন-----

❝মানুষ যা কিছু পেতে চায়, তার সব কিছু সে পায় না।❞

উজির আমিদুল মুলক তৎক্ষনাৎ কবিতার বাকি অংশ উল্লেখ করে বলেন-----

❝জাহাজের ইচ্ছামতো ঝড়-বাতাস আসে না।❞
এটা শুনে খলিফা চুপ হয়ে মাথা নিচু করে ফেলেন।[২]

বলা হয়, এক বেদুইন-কন্যা জনসমাবেশে আমিদুল মুলককে গান শুনিয়েছিল। আমিদুল মুলক খুশি হয়ে বেদুইন মেয়েটিকে দুই হাজার দিনার পুরস্কার দেওয়ার হুকুম করলেন এবং আরও অনেক জিনিসও দান করলেন। সকালে উঠে বললেন, গতকালের মজলিসের কাফফারা হলো, আমি গত রাতে যা ব্যায় করেছি এর সমপরিমাণ সম্পদ ব্যয় করা।

সুলতান রুকনুদ্দিন আবু তালিব তুঘরুল-বেগ মুহাম্মদ ইবনে মিকাইল ইবনে সেলজুক এর ইন্তেকালের পর তার ভাইয়ের পুত্র সুলায়মান ইবনে দাউদ এর পক্ষে বাইয়াত গ্রহণ করা হয়। সুলতান তুঘরুল বেগ তাঁর পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন এবং তার জন্য অসীয়ত করেছিলেন। সুলায়মানের ভাই ব্যাতীত তার জন্য অন্য কোনো ভয়ভীতি অবশিষ্ট ছিল না। আর তিনি হলেন আল - মালিক আযুদদৌল্লাহ আল্প আরসালান। সেনাবাহিনীরা আল্প আরসালানের প্রতি ঝুঁকে পড়েছিল। পাহাড়ী অধিবাসীরা তার নামে খুতবা পাঠ করছিলো।
আমিদুল মুলক আল্প আরসালানের ক্ষমতা অবলোকন করেন, এবং ভীত তার নামে রায় শহরে খুতবা পড়েন।

৪৫৬ হিজরিতে সুলতান আল্প আরসালান উজীর আমিদুল মুলককে গ্রেফতার করেন এবং তার ঘরে বন্দী করে রাখেন। [৩]

আমিদুল মুলক বলেন, সেলজুক বংশ আমাকে কত সৌভাগ্যভান করেছে! তুঘরিল বেগ যেন আমাকে দুনিয়া দিয়েছেন! আর আল্প আরসালান যেন আমাকে আখিরাত দিয়েছেন!

মারভ আর-রুজ-এ ৪৫৬ হিজরির জিলহজ মাসে তাকে হত্যা করা হয়। তিনি নয় বছর উজির ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। তিনি শাফেয়ি মাজহাবের লোকদের কষ্ট দিতেন। হানাফি মাজহাবের লোকদের থেকে সর্বোচ্চ প্রতিশোধ নিতেন। [৪]

---------------
তথ্য সূত্রঃ

[১]সিয়ারু আলামিন নুবালা,১৮/১৩৩-১১৪
[২]আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৫/৬
[৩]আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া,
[৪]সিয়ারু আলামিন নুবালা,১৮/১১৪

17/11/2022

'' কিছু লোক আছে, যারা বিপদে পড়লে উঠতে বসতে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর যখন আমি বিপদ দূর করে দেই, তখন তাদের ভাবখানা এমন হয় যেন সেই বিপদে পড়ে সে আমাকে ডাকেইনি। ''

[ সূরা আল ইউনুস || আয়াত ১২ ]

16/11/2022

প্রায় তিন বছর শুহাদায়ে উহুদে সাহাবিদের কবরের পাশে অনুবাদক হিসেবে কর্মরত থাকলাম একদিনও সুঘ্রাণ পেলাম না।
আর সে এসেই পেয়ে গেলেন!! আবার নিশ্চিত ভাবে বলছে- এটা নিঃসন্দেহে জান্নাতের সুঘ্রাণ। [নাউজুবিল্লাহ]।

• শায়েখ আব্দুল মালেক মাদানী হাফিজাহুল্লাহ

09/11/2022

▌সাবায়িদের উদ্দেশ্যে খলিফা উসমান রা. এর ভাষণ

উসমান রা. পূর্ণ সহমর্মিতার সাথে চেষ্টা করে গেছেন, ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে যারা ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে বিদ্রোহে অংশ নিয়েছে তারা (সাবায়ি) যাতে তাওবা করে নেয়। বাড়ির উঁচুস্থানে দাঁড়িয়ে তিনি তাদের প্রতি মর্মস্পর্শী বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি তোমাদের কসম দিয়ে বলছি, তোমরা কি জানো না, আমিই সেই ব্যক্তি যে রুমার কূপ ক্রয় করে মুসলিমদের নামে ওয়াক্ফ করে দিয়েছে? সকলেই বলেন, জি, হ্যাঁ। তিনি বলেন, তারপরও কেন তোমার আমাকে সেই কূপের পানি পান করতে দিচ্ছ না?

অতঃপর বলেন, 'আমি তোমাদের কসম দিয়ে বলছি, তোমরা কি জানো না, পার্শ্ববর্তী জায়গা ক্রয় করে আমিই মসজিদে নববির সম্প্রসারণের কাজ করেছি? বলো, আমার আগে এমন কারও কথা কি তোমরা জানো যাকে মসজিদে নামাজ আদায় করতে বাধা দেওয়া হয়েছে? এই বক্তব্য এত তীব্র ঝাঁকুনি দিতে সক্ষম ছিল যে, বিদ্রোহের কয়েকজন বলে ওঠে, আমিরুল মুমিনিনের ওপর আমাদের হাত (অস্ত্র) তোলা সমীচীন নয়। তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত।

হককে 'দুইয়ে দুইয়ে চার’- এর মতো স্পষ্ট করার জন্য উসমান রা. আরও যুক্ত করেন, 'আমি তোমাদের কসম দিয়ে বলছি, তোমাদের কি মনে নেই, একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ হেরা পর্বতে অবস্থান করছিলেন। আচানক পাহাড় কাঁপতে শুরু করে। রাসুলুল্লাহ ﷺ পাহাড়ে পদাঘাত করে বলেন, থেমে যাও। তোমার ওপর নবী , সিদ্দিক ও শহিদ ছাড়া অন্য কেউ নেই। সেদিন আমি নবীজির সাথে উপস্থিত ছিলাম। 'এই হাদিস স্মরণ করিয়ে দিয়ে নবীজির জামাতা উসমান রা. বিদ্রোহীদের সামনে সুস্পষ্ট করে দেন, তাকে হত্যা করা হলে তিনি হবেন শহিদ। অর্থাৎ হত্যাকারীরা হবে বাতিলপন্থী ও জালিম (জাহান্নামী)।

তিনি পুনরায় বলেন, আমি তোমাদের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করি, তোমরা কি জানো না, বাইআতে রিজওয়ানের দিন নবীজি যখন আমাকে মক্কায় পাঠিয়েছিলেন, আপন হাতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, এটা উসমানের হাত? তিনি আবার বলেন, তোমাদের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করি, তোমাদের কি মনে নেই, তাবুকযুদ্ধের অভাবের সময় যখন নবীজি বলেছিলেন, কে আছো! আল্লাহর রাস্তায় মাকবুল (কবুলকৃত বা গৃহীত) দান করবে? আমি তখন অর্ধেক সেনাবাহিনীর সাজসরঞ্জামের ব্যবস্থা করেছিলাম। প্রতিটি কথা উসমান রা. বিদ্রোহীদের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করতে থাকেন। মদিনাবাসী ও বিদ্রোহীদের কয়েকজন তার প্রতিটি কথা সত্যায়ন করে। সেই দিনগুলোতেই কোনো এক সুযোগে তিনি বলেছিলেন, 'কী অপরাধে তোমরা আমাকে হত্যা করবে? আমি নবীজির জবানে শুনেছি, মাত্র তিনটি অপরাধের কারণে মুসলিমকে হত্যা করা যায়:

এক . বিবাহিত হয়েও সে যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়।

দুই . কেউ যদি অকারণে হত্যা করে বা

তিন. মুরতাদ হয়ে যায়।

আল্লাহর কসম, জাহিলি যুগেও আমি কখনো ব্যভিচারে লিপ্ত হই নি। মুসলিম হওয়ার পরও না। আমি কাউকে হত্যাও করি নি যে, আমার থেকে কিসাস গ্রহণ করা যাবে। যখন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছি, ইসলাম থেকে এক পলকের জন্য বিমুখ হই নি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। মুহাম্মাদ ﷺ তার বান্দা ও রাসুল। তারপরও কেন তোমারা আমাকে হত্যা করতে চাও?


[মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস বিশ্বকোষ: ৩ খন্ড. পৃ: ১৬৩-১৬৫]

©M H Emon

Photos from Short Islamic History's post 08/11/2022

নারীদের পোশাকের ৯টি মূলনীতি।

Short Islamic History 08/11/2022

ইসলাম ও ইতিহাস চর্চা করে নিজের জ্ঞান বৃদ্ধি করুন ও বলীয়ান হন।

Short Islamic History জানা-অজানা ইসলামের ইতিহাস জানুন এবং নিজেকে সমৃদ্ধ করুন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka