16/12/2025
নবম গ্রহের রহস্য কী?
উত্তর: একটা ভজকট দেখা দিয়েছে আমাদের সৌরমণ্ডলের বাইরের দিকে। নেপচুনের কক্ষপথ পেরিয়ে যে বিস্তৃত অঞ্চলে প্রচুর ছোটখাটো বস্তুর ভিড়, সেখানে কোথাও একটা জটলা পাকাচ্ছে। অন্তত সে রকম কিছু হচ্ছে বলে বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর ধারণা। তাঁদের মতে, এ জন্য দায়ী এক অনাবিষ্কৃত গ্রহ। সৌরমণ্ডলের ‘নবম গ্রহ’!
এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে বিজ্ঞানীমহলে। এই গ্রহ সত্যিই আছে কি না, তার ছবি তোলা যাবে কি না, এ নিয়ে একদল বিজ্ঞানী গবেষণায় ব্যস্ত। আরেক দলের মতে, নবম গ্রহের চিন্তাটা সোনার হরিণের মতো। তার পেছনে ধাওয়া করা বৃথা।
সে যা–ই হোক, অনেক বছর পর আবার যেন সৌরমণ্ডল নিয়ে গবেষণায় তাত লেগেছে। গ্রহ নিয়ে বেড়েছে আগ্রহ। লেগেছে রোমাঞ্চের ছোঁয়া। রহস্যের খোঁজে যে সব সময় কৃষ্ণগহ্বর আর বিগ ব্যাংয়ের পেছন ধাওয়া করতে হবে, তেমন নয়। কে জানে, হয়তো সৌরমণ্ডলের সীমার মধ্যেই এক বিশাল আবিষ্কারের সম্ভাবনা আছে! (অনেকে অবশ্য এখানেও কৃষ্ণগহ্বরের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন—এই নবম গ্রহ যদি ছোট কৃষ্ণগহ্বর হয়, তাহলে কী হবে, সেই চিন্তায় মশগুল তাঁরা!)
নেপচুনের বাইরে সৌরমণ্ডলের অবস্থা কেমন যেন ছন্নছাড়া। সেখানে অগুনতি বস্তুপিণ্ডের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যেগুলোকে গ্রহ বলতে তাঁরা নারাজ। যেমন প্লুটো। হায়, প্লুটোকে এককালে গ্রহ বলে গণ্য করা হতো, কিন্তু যখন দেখা গেল তার মতো আরও অনেক বস্তুপিণ্ড সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন গ্রহের সংজ্ঞা না পাল্টে তাকে গ্রহের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
অনেকের মতে, এটা প্লুটোর মতো একদা-গ্রহের প্রতি নিগ্রহ ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু তার কারণ ছিল। না হলে আরও বেশ কয়েকটা বস্তুকে গ্রহের মর্যাদা দিতে হতো। আর প্লুটোর কক্ষপথটাও কেমন বেয়াড়া ছিল। মাঝেমধ্যে নেপচুনের কক্ষপথের ভেতর ঢুকে পড়ত।
একটি হলেও নাহয় ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা যেত; কিন্তু যখন দেখা গেল সেখানকার আরও অনেক বস্তুর রকমসকমই এই, তখন বোঝা গেল, আসলে প্লুটো অন্য গ্রহদের মতো নয়, সেটি অন্য দলের সদস্য। এই নেপচুন-পারের (বিজ্ঞানীদের ভাষায়, Trans-Neptunian objects) বস্তুগুলোর গঠনও আলাদা।
16/12/2025
জোনাকি দেখতে কেমন? জোনাকি কি সত্যিই জোনাকির মাংস খায়?
উত্তর: কাক কাকের মাংস খায় না—প্রবাদটি হয়তো আমাদের জানা। কিন্তু জোনাকি কি জোনাকির মাংস খায়? হ্যাঁ, খায়। কথাটা আসলেই সত্যি!
গ্রামের মানুষ এদিক দিয়ে খুব ভাগ্যবান। সেখানে শহরের মতো টিউবলাইট কিংবা সোডিয়াম বাতির জৌলুশ নেই। বাঁশবন আর ঝোপঝাড়ে আটকে থাকে জমাট অন্ধকার। দূরের মাঠ থেকে শেয়ালের হাঁক ভেসে আসে। তক্ষক আর ঝিঁঝি পোকার ঐকতান মনে অন্য রকম অনুভূতির জন্ম দেয়। সেই মায়াবী অন্ধকার রাতে যেন আকাশ থেকে নেমে আসে খুদে পরির দল। লাল পরি, হলুদ পরি, সবুজ পরি!
কেউ কেউ বলে ওরা পরি নয়, নীল আকাশের তারা। পরিই হোক আর তারাই হোক, গ্রামবাংলার আঁধার রাতে স্বর্গ এনে দেয় ওই খুদে প্রাণীর দল। গ্রীষ্ম কিংবা শরতের অন্ধকার রাতে বড্ড গরম পড়ে। ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে নেমে আসে উঠোনে। খেজুরপাতার মাদুর পেতে রূপকথার গল্প শোনে। কিন্তু বারবার ছেদ পড়ে সেই গল্পে। ওই যে নিমপাতার আড়ালে একটা জোনাকি খেলছে! পেছনে তার আশ্চর্য বাতি। জ্বলে আর নেভে। পুকুরপাড়ের বুনো ঝোপজঙ্গল। তার ভেতর শত শত জোনাকির মিছিল। তখন হয়তো কারও কারও কবিতার সেই কাজলা দিদির কথা মনে পড়ে যায়।
15/12/2025
অর্থকষ্টে কেন মানুষের ঘুম আসে না, বিজ্ঞান কী বলে?
উত্তর: ঘড়ির কাঁটায় রাত ২টা। সারা দিনের খাটুনি শেষে শরীরটা বিছানায় এলিয়ে দিয়েছেন। চোখ দুটো ঘুমে জড়িয়ে আসছে, কিন্তু মস্তিষ্ক? সে যেন কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না। মাথার ভেতর চলছে এক অদ্ভুত ক্যালকুলেটর। আগামী মাসের বাড়ি ভাড়া, ক্রেডিট কার্ডের বিল কিংবা বাচ্চার স্কুলের বেতন—টাকার এই হিসাব-নিকাশ আপনাকে কিছুতেই ঘুমাতে দিচ্ছে না।
এই দলে কিন্তু আপনি একা নন। যুক্তরাষ্ট্রের রাইস ইউনিভার্সিটির নতুন এক গবেষণা বলছে, অর্থনৈতিক চাপ বা ফিন্যান্সিয়াল স্ট্রেস আমাদের ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু। আর এই নির্ঘুম রাত শুধু আপনার শরীর খারাপ করছে না, পরদিন অফিসে আপনার কাজেরও বারোটা বাজাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে এক ভিসিওয়াস সাইকেল বা দুষ্টচক্র।
সমীকরণটা অনেকটা এ রকম: টাকার চিন্তা, ঘুম নেই; পরদিন খারাপ পারফরম্যান্স, চাকরির ভয়, আবার টাকার চিন্তা। কিন্তু টাকার সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক কোথায়? এই সাপে-নেউলে সম্পর্কটা আসলে কীভাবে কাজ করে?
এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের রাইস ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বেছে নিলেন আমেরিকার আর্মি এবং এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের পূর্ণকালীন সদস্যদের। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্সের অর্থায়নে চলা এই গবেষণায় প্রায় ৯ মাস ধরে তাঁদের ওপর নজর রাখা হয়েছিল।
গবেষক রেবেকা ব্রোসইট এবং তাঁর দল শুধু মুখের কথায় বিশ্বাস করেননি। তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের হাতে পরিয়ে দিয়েছিলেন রিস্ট-ওর্ন অ্যাক্টিগ্রাফ। এটি এমন এক বিশেষ যন্ত্র, যা নির্ভুলভাবে বলে দেয় মানুষটা আসলে কতক্ষণ ঘুমিয়েছে আর কতক্ষণ বিছানায় ছটফট করেছে। ফলাফল? যাদের মাথায় অর্থনৈতিক চাপ ছিল, তাদের ঘুমের দফারফা!
15/12/2025
মহাকাশে নতুন রেকর্ড গড়ল আন্তর্জাতিক স্পেস ষ্টেশন!
আন্তর্জাতিক স্পেস ষ্টেশনছবি: নাসা
মহাকাশের হয়তো আমাদের সবচেয়ে গর্বের বস্তু আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস। মানুষের তৈরি এই বিশাল ল্যাবরেটরি গত ২৫ বছর ধরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। কিন্তু সব ভালো জিনিসেরই একটা শেষ আছে। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঘোষণা দিয়েছে, আর মাত্র ৫ বছর পর এই বিশাল স্টেশনটিকে কক্ষপথ থেকে নামিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে আছড়ে ফেলা হবে।
কিন্তু মৃত্যুর আগে বাতি যেমন দপ করে জ্বলে ওঠে, ঠিক তেমনি আইএসএস তার শেষ বয়সে এসে গড়ল এক নতুন ইতিহাস। মহাকাশ স্টেশনের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এর ৮টি ডকিং পোর্টের সব কটিই এখন হাউসফুল!
মানে আইএসএসকে যদি একটা বাড়ি ভাবেন, তাহলে হাউসফুল শব্দটা বেশ মানানসই। পৃথিবীর ৪০০ কিলোমিটার ওপরে ভাসমান একটা বাড়ি, আর তার সব কটি দরজায় নভোযান পার্ক করা আছে। আইএসএসের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।
বর্তমানে স্টেশনটির সঙ্গে যুক্ত আছে মোট ৮টি মহাকাশযান। এর মধ্যে আছে স্পেসএক্স-এর দুটি ড্রাগন ক্যাপসুল। এর মধ্যে একটি কার্গো বা মালবাহী, অন্যটি মানুষবাহী। আরও রয়েছে নর্থরপ গ্রুমম্যানের সিগনাস এক্সএল, জাপানি মহাকাশ সংস্থা জাক্সার তৈরি কার্গো শিপ এইচটিভি-এক্স১, রাশিয়ার রসকসমসের দুটি সয়ুজ নভোযান এবং দুটি প্রোগ্রেস কার্গো শিপ।
15/12/2025
পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক গাছটি কেটে ফেলার মাশুল আজও গুনছে পৃথিবী!
উত্তর: মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আমরা সবাই জীবনে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা নিয়ে পরে আফসোস করতে হয়েছে। হয়তো রাগের মাথায় কাউকে কটু কথা শুনিয়েছেন, কিংবা শখ করে চুলে এমন রং করেছেন যা দেখে নিজেই আয়নায় তাকাতে ভয় পাচ্ছেন! এগুলো ছোটখাটো ভুল। কিন্তু ভাবুন তো, আপনি যদি অজান্তেই পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক জীবন্ত প্রাণীটিকে মেরে ফেলেন?
ঠিক এমন এক ট্র্যাজেডির নায়ক ছিলেন ডোনাল্ড আর. কারি। ১৯৬৪ সালে কারি একজন গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট। গবেষণার প্রয়োজনে তিনি একটি গাছ কেটে ফেলেছিলেন। কাটার পর তিনি যা আবিষ্কার করলেন, তা দেখে তার পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছিল। তিনি বুঝতে পারলেন, তিনি মাত্রই এমন এক গাছকে হত্যা করেছেন, যার বয়স প্রায় ৫ হাজার বছর!
গাছটির নাম ছিল প্রমিথিউস। গ্রিক মিথলজির সেই টাইটানের নামে নাম, যিনি মানুষের জন্য আগুন চুরি করেছিলেন। কিন্তু বাস্তব প্রমিথিউসের কপালে জুটেছিল কুড়ালের আঘাত।
প্রশ্ন হলো, কারি কেন গাছটি কেটেছিলেন? ডোনাল্ড কারি আসলে কোনো ভিলেন ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন ভূ-তত্ত্ববিদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার গ্রেট বেসিন ন্যাশনাল পার্কের হুইলার পিক এলাকায় হিমবাহ নিয়ে গবেষণা করছিলেন। তাঁর গবেষণার জন্য গাছের বয়সের রিং বা বলয় গণনা খুব জরুরি ছিল। কারণ, গাছের রিং দেখেই বোঝা যায় হাজার বছর আগের আবহাওয়া কেমন ছিল।
15/12/2025
ওষুধ খাওয়ার পর ব্যথা কমে কীভাবে?
উত্তর: সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধের তালিকার একেবারে সামনের সারিতেই থাকবে পেইনকিলার বা ব্যথানাশকের নাম। ব্যথার অনুভূতি যেমন আদিম ও অকৃত্রিম, তেমনি একে পাশ কাটানোর চেষ্টাও মানুষের বহু পুরোনো। আর সেই কারণেই আমরা পেয়েছি হরেক রকমের ব্যথানাশক।
ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের সেটি বুঝতে পারা পর্যন্ত লম্বা পথপরিক্রমার যেকোনো এক জায়গায় বাধা দিতে পারলেই সেটি জায়গা পায় ব্যথানাশকের তালিকায়। তবে দৈনন্দিন জীবনে পেইনকিলার বলে আমরা যে ওষুধগুলোকে চিনি ও ব্যবহার করি, সেগুলো মূলত এনএসএআইডি বা নন স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস নামে ওষুধের একটি গ্রুপের সদস্য।
মজার ব্যাপার হলো, এই গ্রুপের প্রোটোটাইপ বা প্রথম সদস্য হলো অ্যাসপিরিন, যা চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রথম ব্যবহৃত হতে শুরু করে ১৮৯০-এর দশকে। বর্তমানে অবশ্য অ্যাসপিরিন ব্যথা কমানোর চেয়ে রক্ত তরল রাখার জন্য বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসপিরিনের অনেক উত্তরসূরি আবিষ্কৃত হয়েছে, যারা ব্যথানাশক হিসেবে আরও অনেক বেশি দক্ষ।
আমাদের ভীষণ পরিচিত এই পেইনকিলারগুলোর ক্রিয়াকৌশল বুঝতে হলে আগে একটু জানতে হবে ব্যথার পেছনের বিজ্ঞান। আমাদের শরীরের ত্বক থেকে শুরু করে আরও প্রায় সব অঙ্গে থাকে ব্যথার অনুভূতি গ্রহণকারী রিসেপ্টর। এগুলোকে বলা হয় নোসিসেপ্টর।
ল্যাটিন শব্দ নোসি (Nocere) থেকে এদের নামটা এসেছে, যার অর্থ ক্ষতি করা। শরীরের যেকোনো জায়গায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলেই এরা তৎপর হয়ে ওঠে। সেই ক্ষতিটা হতে পারে যেকোনো ভৌত বা রাসায়নিক শক্তির কারণে—যেমন তাপ, চাপ কিংবা অ্যাসিড বা ক্ষারের মতো কোনো ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ।
14/12/2025
পৃথিবীর বাইরে কেমন শোনাবে আপনার কণ্ঠস্বর?
উত্তর: মঙ্গল, শুক্র কিংবা শনির উপগ্রহ টাইটানে আপনার কণ্ঠস্বর কেমন শোনাবেছবি: শাটারস্টোক ডটকম
কল্পনা করুন, আপনি মঙ্গল, শুক্র কিংবা শনির উপগ্রহ টাইটানের পৃষ্ঠে দাঁড়িয়ে আছেন। গায়ে কোনো স্পেসস্যুট নেই! যদিও বাস্তবে এটা অসম্ভব, কিন্তু কল্পনায় তো দোষ নেই। এখন ধরুন, আপনি কথা বলার চেষ্টা করছেন। আপনার কি মনে হয়, পৃথিবীর মতোই শোনাবে আপনার গলার স্বর? মোটেই না!
শব্দ আসলে একধরনের যান্ত্রিক তরঙ্গ। এটি চলাচলের জন্য একটি মাধ্যমের প্রয়োজন হয়। আর এই মাধ্যমের ঘনত্বের ওপরই নির্ভর করে শব্দের গতি এবং প্রকৃতি। মহাশূন্য বা শূন্যস্থানের মধ্য দিয়ে শব্দ চলতে পারে না। তবে অন্য গ্রহের বায়ুমণ্ডল যেহেতু পৃথিবীর মতো নয়, তাই সেখানে শব্দের আচরণও বেশ অদ্ভুত।
সৌরজগতে পৃথিবী ছাড়া আরও তিনটি জায়গা আছে, যেখানে শব্দ চলাচলের জন্য বায়ুমণ্ডল যথেষ্ট ঘন। এগুলো হলো শুক্র গ্রহ, মঙ্গল গ্রহ এবং শনির বৃহত্তম উপগ্রহ টাইটান।
শুক্র গ্রহের পরিবেশকে নরকের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এখানে রয়েছে সিসা গলে যাওয়ার মতো তাপমাত্রা। আর এমন প্রচণ্ড চাপ থাকে, যা মুহূর্তেই একজন মানুষকে চ্যাপ্টা করে দিতে পারে। কিন্তু আমরা যেহেতু কল্পনা করছি, তাই ধরে নিচ্ছি আমরা সেখানে নিরাপদেই আছি।
পৃথিবীতে উচ্চতা ও তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে শব্দের গতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৪০ মিটার। ১৯৮০-এর দশকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের দুটি মিশন ভেনেরা ১৩ ও ১৪ শুক্র গ্রহে শব্দের গতি পরিমাপ করেছিল। সেখানে শব্দের গতি পাওয়া গিয়েছিল সেকেন্ডে প্রায় ৪১০-৪২০ মিটার, যা পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি।
14/12/2025
অন্ধকারে কি মানুষ আসলেই ভূত দেখে, নাকি পুরোটাই চোখের ভ্রম?
উত্তর: রাতে আমদের চোখ মাঝে মাঝে আমাদের ভুল দেখায়
রাতে আমদের চোখ মাঝে মাঝে আমাদের ভুল দেখায়ছবি: ডিপোজিটফটো
১৯৯৯ সালে দ্য ব্লেয়ার উইচ প্রজেক্ট নামে একটা মুভি মুক্তি পেয়েছিল। বাজেট ছিল মাত্র ৬০ হাজার ডলার। সিনেমায় কোনো ভয়ংকর মেকআপ করা ভূত ছিল না, কোনো গ্রাফিক্সের কারসাজিও ছিল না। ছিল শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকার আর নিস্তব্ধতা।
অথচ এই সিনেমা দেখেই মার্কিন হলগুলোতে দর্শকরা ভয়ে সিঁটিয়ে গিয়েছিল। কেন জানেন? কারণ, পর্দায় যখন অন্ধকার থাকে, আমাদের মস্তিষ্ক তখন সেই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য নিজের কল্পনার সবচেয়ে ভয়ংকর ছবিটা সেখানে বসিয়ে দেয়।
বাস্তব জীবনেও ঠিক এটাই ঘটে। ছোটরা বা বড়রাও অন্ধকারে ভয় পায়। বাতি নেভানোর পর মনে হয়, ওই কোণায় কে যেন দাঁড়িয়ে আছে! কিংবা কী যেন একটা নড়ে উঠল! মনের ভুল ভেবে আমরা চাদর মুড়ি দিই। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এটা শুধু মনের ভুল নয়, আমাদের চোখেরও একটা বড়সড় কারসাজি আছে এখানে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের চোখের ডাক্তার এবং অধ্যাপক স্কট ই. ব্রডি আমাদের এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমরা ভাবি আমাদের চোখ ক্যামেরার মতো। সামনে যা থাকে, ঠিক সেটাই দেখায়। কিন্তু ব্রডি বলছেন, ‘চোখ সবসময় বিশ্বাসযোগ্য নয়। চোখের দেখার পেছনে অনেক নিউরোলজি এবং রাসায়নিক ব্যাপার কাজ করে। তাই চোখকে সহজেই বোকা বানানো যায়।’
এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো অপটিক্যাল ইলিউশন বা চোখের ধাঁধা। ইন্টারনেটে এমন অনেক ছবি আছে যা স্থির, কিন্তু তাকালে মনে হয় নড়ছে। অন্ধকারে আমাদের চোখ অনেকটা সেই ধাঁধার মতোই কাজ করে।
14/12/2025
সিনেমার দেখানো ডাইনোসরের গায়ের রং আসলে কী ঠিক? গবেষণায় মিলল ভিন্ন ছবি!
উত্তর: ডাইনোসরের ফসিলে দুই ধরনের মেলানোসোম পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
ডাইনোসরের ফসিলে দুই ধরনের মেলানোসোম পেয়েছেন বিজ্ঞানীরাছবি: টেস গ্যালাঘার সৌজন্যে
জুরাসিক পার্ক মুভি বা বইয়ের পাতায় ডাইনোসরদের গায়ের রং কেমন দেখেছেন? সাধারণত ধূসর, কালচে সবুজ বা মেটে খয়েরি, তাই তো? শিল্পীরা সাধারণত বর্তমান যুগের কুমির বা টিকটিকির কথা মাথায় রেখে অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই এই রংগুলো দেন। কারণ, হাড়ের ফসিল দেখে তো আর চামড়ার রং বোঝা সম্ভব নয়।
কিন্তু বিজ্ঞানীরা এবার সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। সম্প্রতি আমেরিকার মন্টানায় মাদার্স ডে কোয়ারি থেকে পাওয়া গেছে ডিপ্লোডোকাস নামে ডাইনোসরের ফসিল। লম্বা গলাওয়ালা যে বিশাল ডাইনোসরগুলো মুভিতে দেখেছেন, সেগুলো। আর সেই চামড়ার আণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। বিজ্ঞানীরা সেখানে খুঁজে পেয়েছেন মেলানোসোম।
মেলানোসোম কী? মেলানোসোম হলো আমাদের বা প্রাণীদের কোষের ভেতরের ছোট্ট এক অঙ্গাণু, যা পিগমেন্ট বা রঞ্জক তৈরি করে। সোজা কথায়, আপনার গায়ের রং ফর্সা, কালো নাকি শ্যামলা হবে, তা ঠিক করে দেয় এই মেলানোসোম। ডাইনোসরের ফসিলে এটা পাওয়া যাওয়া মানে, আমরা এখন তাদের আসল রঙের রহস্যভেদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি!
এটিই ইতিহাসের প্রথম ঘটনা, যেখানে কোনো সরোপডের ফসিলে মেলানোসোম পাওয়া গেল। কিন্তু এই কাহিনিতে একটু টুইস্ট আছে। বিজ্ঞানীরা এই ফসিলে দুই ধরনের মেলানোসোম পেয়েছেন। একটা লম্বাকৃতি, অন্যটা চ্যাপ্টা। লম্বাকৃতির মেলানোসোম সাধারণ সরীসৃপদের মধ্যে দেখা যায়। কিন্তু এউ চ্যাপ্টা বা ডিস্ক আকৃতির মেলানোসোম বিজ্ঞানীদের ভুরু কুঁচকে দিয়েছে।
14/12/2025
পাখি টানা কতদিন আকাশে উড়তে পারে?
উত্তর: সুইফট পাখিগুলো মাসের পর মাস আকাশে উড়তে পারদর্শী
সুইফট পাখিগুলো মাসের পর মাস আকাশে উড়তে পারদর্শীছবি: শাটারস্টোক ডটকম
১০-১৫ ঘণ্টা বিমান বা আরামদায়ক বাসে চড়লেও আমাদের অনেকের কোমরে ব্যথা শুরু হয়। টানা এত ঘণ্টা সিটে বসে থাকা কি চাট্টিখানি কথা? আমরা তো তাও সিটে বসে থাকি, আরাম করি। কিন্তু যদি আপনাকে বলা হয়, হাত দুটোকে ডানার মতো ছড়িয়ে টানা ১০ মাস শূন্যে ভেসে থাকতে হবে? কোনো বিশ্রাম নেওয়া যাবে না, মাটিতে পা ফেলা যাবে না!
শুনেই নিশ্চয়ই অদ্ভুত লাগছে। মানুষের পক্ষে এটা অসম্ভব হলেও, প্রকৃতির রাজ্যে এমন এক জাদুকর পাখি আছে, যার কাছে এটা ডালভাত। নাম তার কমন সুইফট।
এই পাখিটি টানা ১০ মাস আকাশে ওড়ার ক্ষমতা রাখে। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন—১০ মাস বা প্রায় ৩০০ দিন! একবারের জন্যও মাটিতে ল্যান্ড করে না!
ওয়েলশ পক্ষীবিদ রোনাল্ড লকলে সেই ১৯৭০ সালেই সন্দেহ করেছিলেন যে, কমন সুইফটরা হয়তো বাতাসের মধ্যেই তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে দেয়। কিন্তু তখন তো আর পাখির পিঠে জিপিএস বসানোর প্রযুক্তি ছিল না, তাই প্রমাণ করা যায়নি।
অবশেষে ২০১৬ সালে সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক ঠিক করলেন, এই রহস্যের সমাধান করেই ছাড়বেন। তারা ১৩টি পূর্ণবয়স্ক কমন সুইফটের পিঠে একদম ছোট সাইজের ডেটা লগার বসিয়ে দিলেন। এতে ছিল অ্যাক্সিলোমিটার এবং লাইট সেন্সর। অ্যাক্সিলোমিটার ওড়ার গতিবিধি মাপে আর তাদের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে লাইট সেন্সর।
14/12/2025
মাকড়সা কীভাবে জাল তৈরি করে?
উত্তর: সব মাকড়সা জাল তৈরি করে না, তবে অনেক প্রজাতির মাকড়সা তাদের একাধিক ক্ষুদ্র গ্রন্থি থেকে রেশম তৈরি করে। এই গ্রন্থিগুলোর প্রতিটি আলাদা রেশম তৈরি করতে পারে। যেমন সিল্ক দিয়ে সাধারণত জাল তৈরি করে, আবার পোকামাকড় ধরার জন্য তৈরি করে চটচটে সিল্ক। বন্দী শিকারকে আটকানোর জন্য তৈরি করতে পারে একধরনের সূক্ষ্ম রেশম। দীর্ঘ ট্রেইলিং সিল্কের সাহায্যে এরা প্রথমে জাল তৈরি শুরু করে। এরপর একটার সঙ্গে একটা মিলে তৈরি হয় বড় জাল, যা বাতাসে ভাসতে থাকে।
বেশির ভাগ মাকড়সা একাকী বাস করে। তবে কিছু প্রজাতি দলবদ্ধভাবে বড় জাল তৈরি করে। বড় শিকার আটকাতে হাজারো মাকড়সা একসঙ্গে কাজ করে।
সিল্ক
মাকড়সার জালের রেশমের সুতা প্রোটিন দিয়ে তৈরি। অবিশ্বাস্যরকম বিস্তৃত হতে পারে। প্রাকৃতিক পদার্থগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী ও শক্ত এই জাল। সত্যি বলতে, এ জাল ইস্পাতের চেয়েও বেশি শক্ত।