28/11/2025
সপ্তর্ষি মন্ডল (Asterism of Ursa Major) রাতের আকাশের খুবই পরিচিত একটি নক্ষত্রমণ্ডল। উত্তর গোলার্ধ থেকে একে উত্তরপূর্ব আকাশে উঠতে দেখা যায় এবং উত্তর পশ্চিমে তা অস্ত যায়। বছরের প্রথম ছয় মাস একে রাতে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। এই নক্ষত্রমণ্ডলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক পৌরাণিক কাহিনী এবং বেশীরভাগ সভ্যতার কাছে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
সপ্তর্ষি মানে হল সপ্ত ঋষি বা সাত ঋষি। নামটি প্রাচীন ভারতবর্ষ থেকে এসেছে। এদের ধ্যানে মগ্ন অমর ঋষি ভাবা হত। এই নক্ষত্রমণ্ডলের সঙ্গে কৃত্তিকার একটি মজার সম্পর্ক আছে। গল্পে আছে কৃত্তিকার ছয় তারা আসলে ঐ ঋষিদের স্ত্রী। অগ্নির প্রতি আকর্ষণে তারা ঋষিদের কাছ থেকে বিতারিত হয়, তবে আরুন্ধতী (Alcor)-এর বিশ্বস্ততার জন্য সে বশিষ্ঠের (Mizar) কাছে থাকে। অনেক হিন্দু রীতিতে নতুন দাম্পত্যদের বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে এই দুই তারা দেখানো হয়।
গ্রিক পুরাণে বলা হয়, সুন্দরী অপ্সরা ক্যালিস্টো ছিলেন শিকারি দেবী আর্টেমিসের সঙ্গিনী। দেবরাজ জিউস ক্যালিস্টোর প্রতি মুগ্ধ হয়ে তাকে একটি ছেলে সন্তান দেন, আরকাস। কিন্তু জিউসের স্ত্রী হেরা বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে ক্যালিস্টোকে অভিশাপ দিয়ে একটি ভাল্লুকে পরিণত করে। বহু বছর পরে আরকাস বনে শিকারে বেরিয়ে নিজের মা-কে ভাল্লুক রূপে দেখে চিনতে না পেরে তাকে আক্রমণ করতে যায়। ঠিক তখনই জিউস সব দেখে নেমে আসেন এবং মা-ছেলেকে হত্যা থেকে বাঁচাতে দু’জনকেই আকাশে তুলে নক্ষত্রমণ্ডলে রূপ দেন। ক্যালিস্টো হয় আরসা মেজর (Ursa Major) বা বড় ভাল্লুক, আর আরকাস হয় আরসা মাইনর (Ursa Minor) বা ছোট ভাল্লুক। আকাশে এই দুই নক্ষত্রমণ্ডলের চিরন্তন অবস্থান মা-ছেলের চিরবন্ধনের প্রতীক হিসেবে গ্রিকরা দেখত।
প্রাচীন আরব মরুভূমির বেদুইনরা রাতের আকাশকে নেভিগেশনের জন্য ব্যবহার করত। বিশেষ করে আরসা মেজর (Ursa Major) ও আরসা মাইনর (Ursa Minor) ছিল তাদের পথপ্রদর্শক। মাইনরের শেষ তারা, ধ্রুবতারা, স্থির নক্ষত্র হিসেবে উত্তর দিক দেখাত, আর মেজরের দুই শেষ তারা (Dubhe and Merak) সেই দিকে নির্দেশ করত। আরব লোককথায় এই নক্ষত্রমণ্ডলকে বলা হতো “বানাতু’ন-নাআশ”, অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির কন্যারা, যারা আকাশে চিরকাল ঘুরে বেড়াচ্ছে। বেদুইনরা এই কাহিনী মনে রেখে আকাশের নক্ষত্রগুলোকে দিকনির্দেশনার প্রতীক এবং আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে দেখত।
এরকম পুরাণ-গল্প প্রায় সব সভ্যতায় শোনা যায়