22/01/2026
মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক হাফিযাহুল্লাহ ইসলাহী মজলিসে বলেন,
এমনিতে কোনো জরুরি কাজ ছাড়া শীতের মৌসুমেও ঘুমাতে ঘুমাতে আপনি রাতের এগারোটা-বারোটা বাজিয়ে ফেলবেন, সেটা অন্যায়। রুটিন মাফিক জীবন চলা একজন মুমিনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা রুটিনটা ঠিকমতো বানাই না, বানালেও যথাযথ মেনে চলি না; বরং নিজের ইচ্ছামতো চলি। মনে হয় যেন আমাদের জীবনে সবচেয়ে কম গুরুত্বের বিষয় সময়! বিনা কারণে বা অযৌক্তিক কারণে বা অতি সামান্য কারণে রাতে ঘণ্টাকে ঘণ্টা সময় নষ্ট করে ফেলি! না, এমন করা যাবে না। সবাইকে সময় সাশ্রয়ে সচেতন হতে হবে।
বাচ্চাদেরকে ঘুম পাড়ানোসহ অন্যান্য কাজগুলো গুছিয়ে আনার জন্য ঘরের লোকদের সহযোগিতা করুন! কথা ঠিক, আপনিও বাইরে থেকে ক্লান্ত হয়ে এসেছেন। সেজন্য পাঁচ-দশ মিনিট একটু বিশ্রাম করে তারপর উঠুন! ঘরের কাজ গোছানোর জন্য সহযোগিতা করুন! যেন সবাই দ্রুত শুয়ে পড়তে পারে! রাতের খাবার আগে আগে শেষ করুন! রাতের খাবার খেতে দেরি করা ঠিক নয়। এগুলো কেবল ডাক্তারদের কথা নয়! ডাক্তাররা তো আজকাল বলেন, উলামায়ে কেরাম আরও আগে থেকে বলে আসছেন!
এভাবে চলতে পারলে আপনার ঘুম সুন্দর হবে, ভালো হবে এবং অল্প ঘুমিয়ে তৃপ্তিও পাওয়া যাবে। সালাফে সালেহীনের কেউ কেউ এই ভাষায় দুআ করতেন–
اللّهُمَّ اشْفِنِيْ مِنَ النَّوْمِ بِيَسِيْرٍ، وَارْزُقْنِيْ سَهَرًا فِيْ طَاعَتِكَ.
আল্লাহ, অল্প ঘুমে আমাকে তৃপ্ত করুন! অল্প ঘুমের মধ্যেই আপনি আমাকে বেশি ঘুমের উপকারিতা ও ফায়েদা দিয়ে দিন! আর আমাকে আপনার ইবাদতের সাথে রাত জাগার তাওফীক দান করুন! (দ্র. মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ২৯৫৯৩)
যেখানে রাত জেগে ইবাদতের কথা বলা হয়েছে, সেখানে আপনি পুরো রাত ঘুমিয়ে সুবহে সাদিকের আধা ঘণ্টা আগে অথবা পনেরো-বিশ মিনিট আগে অন্তত উঠুন না! ওযু করে অন্তত দুই রাকাত নামায পড়ুন! এভাবে তাহাজ্জুদের অভ্যাস শুরু করুন! চার রাকাত পড়া, লম্বা সূরা দিয়ে পড়া, দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করা, সেগুলো তাহাজ্জুদের আরও উঁচু স্তর। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে সামান্য– فواق ناقة
উটনীকে একবার দোহন করার পর দুধ আবার জমে ওঠার জন্য যতটুকু সময় অপেক্ষা করা হয়। অর্থাৎ খুবই অল্প সময়।
কোনো বর্ণনায় আছে– فواق شاة
বকরিকে একবার দোহন করার পর দুধ আবার জমে ওঠার জন্য যতটুকু সময় অপেক্ষা করা হয়। মূলকথা হল, তাহাজ্জুদের জন্য এবং তার ফযীলত পাওয়ার জন্য একেবারে অল্প সময়ই যথেষ্ট।
এখনই শুরু করুন
এই মজলিস থেকে আমরা সবাই এই নিয়ত করে উঠি, তাহাজ্জুদ শুরু করব, ইনশাআল্লাহ। আগে থেকে তাহাজ্জুদের অভ্যাস থাকলে তো কোনো কথাই নেই। অভ্যাস যদি না থাকে, তাহলে এখন শীতের মৌসুমে রাত লম্বা, এখনই অভ্যাস করি!
-মাসিক আলকাউসার
15/01/2026
“যে আল্লাহর যিকির বাড়ায় এবং আল্লাহর কিতাবের তিলাওয়াত বাড়ায় তার ঈমানও বাড়ে; আর যে আবশ্যিক মৌখিক যিকির কমিয়ে দেয় তার ঈমানও কমে যায়।”
— ইমাম ইবন রাজাব হাম্বলী (রহ.)
[ফাতহুল বারী, ১/৯; মাকতাবাতুল গুরাহা]
10/01/2026
সন্তান ও (স্বামী/স্ত্রী) এর জন্য কুরআনে কারীমের সর্বোত্তম দু'আ।
26/12/2025
রজব ও সা'বান মাসে বেশি বেশি পড়ব ইনশাআল্লাহ।
13/12/2025
আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, প্রথমবারের মতো দাওয়াতুন নূর বালিকা মাদরাসা আয়োজন করেছে শীত আনন্দ উৎসবের। থাকছে প্রতিযোগিতায় ( কেরাত, আর্ট ও আবৃত্তি) অংশ গ্ৰহনের সুযোগ। আরো থাকবে বিভিন্ন স্টল যেখানে, মেয়েরা মেয়েদের থেকেই কেনাকাটা, মেহেদী পরা ও ঘরোয়া পরিবেশে তৈরি বিভিন্ন খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন সাথে তো থাকছেই হামদ্/নাত,কেরাত পরিবেশন।
আপনারা সকলে ( মেয়েদের জন্য ) আমন্ত্রিত।
13/12/2025
16 December In sha Allah Ta'la.
04/12/2025
❛ জুম্মাবার ❜
▪️সূরা আল কাহফ তিলাওয়াত
▪️দরুদ শরীফ পাঠ
▪️ইস্তেগফার এবং
▪️বেশি বেশি দোয়া বিশেষ করে
আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে।
আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি!
( ﷺ )
আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ 🩵
30/11/2025
অধ্যয়নে মনোযোগ বৃদ্ধির জন্য নিম্নের দো‘আসমূহ পাঠ করা যায়। (ক) رَبِّ زِدْنِىْ عِلْمًا- (রব্বী ঝিদনী ‘ইলমা)। ‘হে প্রভু! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর’ (ত্বোয়াহা ২০/১১৪)। এছাড়াও পড়া যায়. (খ)َاللَّهُمَّ انْفَعْنِي بِمَا عَلَّمْتَنِي وَعَلِّمْنِي مَا يَنْفَعُنِي وَزِدْنِي عِلْمًا- (আল্লাহুম্মানফা‘নী বিমা ‘আল্লামতানী ওয়া ‘আল্লিমনী মা ইয়ানফা‘উনী ওয়াযিদনী ‘ইলমা)।
‘হে আল্লাহ! আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছ তা দ্বারা আমাকে উপকৃত কর। আর আমাকে শিক্ষা দাও যা আমার উপকারে আসে এবং আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর’ (তিরমিযী হা/৩৫৯৯; ইবনু মাজাহ হা/২৫১; মিশকাত হা/২৪৯৩; ছহীহাহ হা/৩১৫১)। (গ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ফজরের ছালাতের পর বলতেন,
اَللَّهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَّافِعًا وَّرِزْقًا طَيِّباً وَّعَمَلاًمُّتَقَبَّلاً -
আল্লা-হুম্মা ইন্নীই আস’আলুকা ‘ইলমান নাফী‘আন, ওয়া রিঝক্বন ত্বয়্যীবান’ ওয়া 'আমালান মুতাক্বব্বালা । (হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রূযী ও কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।) (আহমাদ হা/২৬৫৬৪, ইবনু মাজাহ হা/৯২৫, ছহীহ; ত্বাবারাণী ছগীর হা/৭৩৬; মিশকাত হা/২৪৯৮)।
28/11/2025
দুরুদ শরীফ পড়ার সময় ৪টি বিষয় মাথায় রাখুন। ইন শা আল্লাহ! দুরুদের প্রতি আকর্ষণ বাড়তেই থাকবে।
1️⃣ রসূল (ﷺ) আপনার নাম জানেন!
রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর যখন আপনি দুরুদ পাঠ করেন, তখন একজন বিশেষ ফেরেশতা রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে গিয়ে আপনার নাম উল্লেখ করে এই দুরুদের সংবাদ পৌঁছে দেন।
রসূল (ﷺ) বলেছেন:
"তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের দুরুদ আমার কাছে পৌঁছায়।"
— সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২০৪২
— মুসনাদ আহমদ: ১০৫৯৪
অন্য হাদিসে এসেছে,
"তোমাদের দুরুদ ফেরেশতারা আমার কাছে পৌঁছে দেয় এবং তোমাদের নাম উল্লেখ করে।"
—মুসনাদ আহমদ: ১৬৩০৩
—সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯১০
2️⃣ একবার দুরুদ পড়লে আল্লাহ দশগুণ রহমত বর্ষণ করেন!
রসূল (ﷺ) বলেন:
"যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দুরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন, তার দশটি গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।"
—সুনান আন-নাসায়ি: ১২৯৭
—সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯০৮
আর আল্লাহ তা'আলা কুরআনে বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দুরুদ পাঠ করেন। হে বিশ্বাসীগণ! তোমরাও নবীর প্রতি দুরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম প্রেরণ করো।"
—সুরা আল-আহযাব: ৫৬
3️⃣ দুরুদ পাঠ সমস্যার সমাধান এনে দেয়
যে ব্যক্তি দুরুদ শরীফ বেশি বেশি পড়ে, আল্লাহ তার জীবনের সকল সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নিয়ে নেন, এমনকি সে যদি আলাদাভাবে দোয়া নাও করে।
হাদিসে এসেছে,
"তোমাদের সমস্যার সমাধান ও গুনাহ মাফের জন্য দুরুদকে অধিক পরিমাণে নিজের উপর আবশ্যক করো।"
—সুনান আত-তিরমিজি: ২৩৮১
এক ব্যক্তি রসূল (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল:
"হে আল্লাহর রসূল(ﷺ)! আমি আমার দোয়ার একাংশকে আপনার দুরুদের জন্য নির্ধারণ করেছি।"
রসূল (ﷺ) বললেন—
"তাহলে তোমার চিন্তা-ভাবনা থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেওয়া হবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।"
—সুনান আত-তিরমিজি: ২৪৫৭
4️⃣ রসূল (ﷺ) আমাদের জাহান্নাম থেকে বাঁচাতে জীবন উৎসর্গ করেছেন
রসূল (ﷺ) আমাদের জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য কত কষ্ট সহ্য করেছেন! তাঁর সামনে তাঁর প্রিয় সাহাবীদেরকে নির্যাতন করা হয়েছে, তবুও তিনি উম্মতের জন্য দোয়া করেছেন।
কিয়ামতের দিনও তিনি আমাদের জন্য দোয়া করবেন:
"আমার উম্মত! আমার উম্মত!"
—সহিহ মুসলিম: ২০২
—তিরমিজি: ২৪৪৩
তিনি (ﷺ) বলতেন:
"হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে ক্ষমা করো, হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে ক্ষমা করো।"
—সহিহ মুসলিম: ২৪৯
অতিরিক্ত আমল
দুরুদের সাথে ইস্তেগফার ও দোয়া ইউনুস
দুরুদের পাশাপাশি বেশি বেশি ইস্তেগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পড়লে এবং দোয়া ইউনুস (لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ) পাঠ করলে জীবন থেকে বিপদ দূর হয়।
রাসূল (ﷺ) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি দোয়া ইউনুস পড়বে, আল্লাহ তাকে সমস্ত সংকট থেকে মুক্তি দেবেন।" — সুনান আত-তিরমিজি: ৩৫০৫
দুরুদ শরীফ শুধু একটি আমল নয়, এটি আমাদের জীবনের জন্য রহমত, সমস্যার সমাধান এবং জান্নাতের সুসংবাদ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি দুরুদ পড়ার তাওফিক দান করুন, আমিন!
21/11/2025
আতা বিন আবী রবাহ রহ. ছিলেন একজন মহিলার গোলাম। দেখতে ছিলেন বড় কুৎসিত। কিন্তু ইলম অর্জনের মাধ্যমে যুগের শ্রেষ্ঠ ফকীহ হয়েছিলেন। একদিন তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক তার দুই ছেলেকে নিয়ে তার যিয়ারতে গেলেন। আতা বিন আবী রবাহ রহ. তখন নামায পড়ছিলেন। ফলে তারা তার পেছনে বসে অপেক্ষা করেন। তিনি নামায শেষ করে তাদের দিকে ফিরেন। তখন তারা তাকে হজ্জ সংক্রান্ত কিছু মাসআলা জিজ্ঞাসা করেন। তিনি প্রশ্নের জবাব দিয়ে পিঠ ঘুরিয়ে পুনরায় কেবলা মুখি হয়ে যান। খলীফা সুলাইমান তখন তার দুই ছেলেকে নিয়ে চলে আসেন এবং বলেন, তোমরা ইলম অর্জন করতে কখনো অলসতা করবে না। এই কালো গোলামের কাছে নিজেদেরকে যে পরিমাণ হেয় মনে হয়েছে তা কখনো ভুলব না।
মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আওকাস অনেক খাঁটো ও কদাকার ছিলেন। তার মা ছিলেন বড় বুদ্ধিমতী। তাই তার মা তাকে বলেন, তুমি এই শরীর নিয়ে যেখানে যাবে সেখানেই হাসির পাত্র হবে। মানুষ তোমার সাথে মিশতে চাইবে না। তাই তুমি ইলম অর্জন করো। ইলম অপূর্ণকে পূর্ণ করে দেয়। অনেক নিচু স্তরের ব্যক্তিকেও সুউচ্চ মর্যাদা দান করে। মায়ের এই নসিহত তাকে বড় প্রভাবিত করে। ফলে তিনি ইলম অর্জন করেন এবং এই স্তরে উপনিত হন যে, বিশ বছরের মত দীর্ঘ সময় তিনি মক্কার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
(আল ফকীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ: ১/১৪০)
19/11/2025
হে অধিক পাপ করেও কম অনুশোচনাকারী, তোমার চোখ অশ্রুসিক্ত না হওয়ার জন্য কাঁদো। সালাফগণ মুত্তাকী হয়েও সর্বদা কাঁদতেন আর তুমি পাপী হয়েও হাসো!
— ইমাম ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ)
[সূত্র : কিতাব আল-খাওয়াতিম, ২৫৪]