11/04/2023
(ঈমান) পর্ব– ২
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মেহেরবানী- আলহামদু লিল্লাহ। সকাল-সন্ধ্যায় আমাদের আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত। কারণ তিনি আমাদেরকে নিজ পরিচয় দান করেছেন। আমরা তাঁকে চিনতে পেরেছি। তাঁর প্রতি ঈমান আনতে পেরেছি। তিনি আমাদের রব আর আমরা তাঁর বান্দা। তিনি আমাদেরকে দ্বীন ইসলাম কবুল করার তাওফীক দান করেছেন। তিনি আমাদেরকে মুসলিম ও মুমিন বানিয়েছেন। আলহামদু লিল্লাহ। আমাদের তাঁর আরো শুকরিয়া আদায় করা উচিত, তিনি আমাদেরকে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত বানিয়েছেন, আলহামদু লিল্লাহ।
ঈমানী কালেমা হচ্ছেঃ
لا إله إلا الله محمد رسول الله
লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।
There is nothing deserving to be worshipped except Allah Sub’hanahu Wa Ta’ala, Prophet Muhammad (ﷺ) is his messenger
অর্থ: আল্লাহ্ ছাড়া (ইবাদাতের উপযুক্ত) অন্য কোন মাবুদ নাই। হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্ তায়ালার প্রেরিত রাসুল।
ঈমানের উদ্দেশ্যঃ
অন্তরে আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস সৃষ্টি করাঃ মন থেকে মাখলুকের এক্বীন বের করে এক আল্লাহ্ পাকের এক্বীন অন্তরে বসাতে হবে। অর্থাৎ মাখলুক কোন কিছুই করতে পারে না। যা কিছু হয় তা একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকেই হয়।
আল্লাহর রাসুল সাঃ এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করাঃ হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখনো পথেই দুনিয়া ও আখিরাতের শতভাগ শান্তি ও কামিয়াবি। অন্য সকল পথে নাকামিয়াবি ও ধ্বংস।
অন্তরে জজবা তৈরি করাঃ দুনিয়া সুখেরও জায়গা না দুঃখেরও জায়গা না। চিরস্থায়ী সুখের জায়গা হচ্ছে জান্নাত আর চিরস্থায়ী দুঃখের জায়গা হচ্ছে জাহান্নাম। এ জন্য এই দুনিয়ার সম্পদমুখী জজবাকে পরিবর্তন করে আখিরাত মুখী এবং আমলমুখী করা।
ঈমানের লাভঃ
যদি কেউ র্জারা পরিমাণ ঈমান নিয়ে ও এ দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে যায়, তবে সে দশ দুনিয়ার সমান জান্নাত পাবে।
যতদিন পর্যন্ত দুনিয়ার মধ্যে একজন ঈমান ওয়ালা লোক থাকবে ততদিন পর্যন্ত দুনিয়া ধ্বংস হবে না।
ঈমানের বিশুদ্ধতা হচ্ছেঃ
ঈমান সকল হারাম হতে বাঁচিয়ে রাখবে। ঈমানের হাকীকত তখনই বোঝা যাবে, যখন আমি কোন সমস্যার সম্মুখীন হব। আর আমার দিল প্রথমেই যদি বলে ইহা আল্লাহর তরফ থেকে হয়েছে। লজ্জা যেমন মানুষ কে পোশাক পড়তে বাধ্য করে, তেমনি ঈমান মানুষকে আমল করতে বাধ্য করে।
ঈমানের হেফাযত ফরয।
ঈমান আনা যেমন ফরয, হেফাযত করাও ফরয। কিন্তু এখন ঈমানের ওপর আক্রমণ চলছে বিভিন্নভাবে। মানুষের ঈমান নষ্ট করার জন্য এবং তাদেরকে গোমরাহ করার জন্য বিভিন্ন প্রতারক বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এজন্য ঈমান গ্রহণ করে তার ওপর যেমন আল্লাহর শোকর আদায় করতে হবে, তেমনি ঈমানের ওপর অটল অবিচল থাকার জন্য আল্লাহর কাছে সবসময় দুআও করতে হবে।
Send a message to learn more