এটি হল একটি সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী দুআ যা হাদিস গ্রন্থ ইবনে মাজাহ এবং সুনান আবু দাউদ থেকে একটি সহিহ (প্রমাণিত) হাদিস থেকে এসেছে।
ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, “রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা এই দোয়াগুলো কখনো পরিত্যাগ করেননি।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ
Transliteration: Allahumma inni as’alukal-‘afwa wal-‘afiyah fid-dunya wal-akhirah.
আল্লাহুম্মা ইন্নি আস'আলুকাল-আফওয়া ওয়াল-আফিয়াহ ফিদ-দুনিয়া ওয়াল-আখিরাহ
English Meaning: O Allah, I ask, You for forgiveness and well-being in this world and in the Hereafter.
অনুবাদ: হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও মঙ্গল কামনা করছি।
ফজিলতঃ
১. এমন অসুস্থতা থেকে আল্লাহ তায়ালা হেফাজত করবেন যার কারণে মৃত্যু হতে পারে।
২. একাকিত্তের গুনাহ থেকে আল্লাহ তায়ালা হেফাজত করবেন।
৩. দুনিয়ার জালিম লোকদের থেকে আল্লাহ তায়ালা হেফাজতে রাখবেন। এদের থেকে দূরে রাখবেন।
৪. আল্লাহ তায়ালা অল্প পরিশ্রমে সহজে রুজি রোজগারের ব্যবস্থা করে দিবেন।
আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের সকলকে আমল করার তাওফীক দান করুন।
Education of Iman, Amal & Quran.
Iman means Belief. Amal means work according to the demands of faith. Learning Arabic & Quran.
রমজানে লাইলাতুল ক্বদরের রাতটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এ রাতে পবিত্র কোরআন নাযিল হয়েছে। এ রাতে ফেরেশতারা অবতরণ করেন। এ রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এই রাতে আপনি যে ভালো কাজই করুন না কেন, তা আপনি ১০০০ মাস বা ৮৩ বছর ধরে করেছেন বলে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে!
বর্ণিত হাদিস সমূহ বলে যে লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ ১০ দিনে (একটি বিজোড় রাতে) হয়। রমজানের ২৫, ২৭ বা ২৯ তম রাতে, এটি বেশিরভাগ আলেমদের মতামত রয়েছে। এটা হতে কেউ বঞ্চিত হবেন না!
কুরআনে লাইলাতুল কদর
إِنَّآ أَنزَلْنَـٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْرِ
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ
لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ خَيْرٌۭ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍۢ
تَنَزَّلُ ٱلْمَلَـٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍۢ
سَلَـٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ ٱلْفَجْرِ
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন:
“নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল ক্বদর (ক্বদরের রাতে)।
আর কিসের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে লাইলাতুল ক্বদর (ক্বদরের রাত) কি?
লাইলাতুল ক্বদর (ক্বদরের রাত) হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
প্রতিটি কাজের জন্যে সেখানে ফেরেশতাগন ও রূহ তাদের পালনকর্তার অনুমতিক্রমে অবতরণ করেন।
আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ফজর হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে ।
" সুরা ক্বদর [আয়াত১-৫]
إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةٖ مُّبَٰرَكَةٍۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ
فِيهَا يُفۡرَقُ كُلُّ أَمۡرٍ حَكِيمٍ
أَمۡرٗا مِّنۡ عِندِنَآۚ إِنَّا كُنَّا مُرۡسِلِينَ
رَحۡمَةٗ مِّن رَّبِّكَۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে আরো বলেন:
“নিশ্চয়ই আমি একে (কুরআন) নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী।
সেই রাতে প্রতিটি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে আলাদা করা হয়।
[প্রত্যেক] বিষয় [চলমান] আমার (আদেশে) কাছ থেকে। নিশ্চয়ই আমি [একজন বার্তাবাহক] পাঠাব।
তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ। নিশ্চয়ই তিনি সর্ব শ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
রমজানের শেষ ১০ দিন ও লাইলাতুল ক্বদরে করনীয় আমল সমুহঃ
মসজিদে ইতিকাফ
তাহাজ্জুদ নামায পড়ুন
বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করুন!
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুপারিশকৃত বিশেষ দুআ
اَللَّهُمَّ اِنَّكَ عَفُوٌّ، تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউ উন, তুহিব্বুল ‘আফওয়া, ফা’ফু ‘আন্নি
অর্থ- হে আল্লাহ, আপনি পরম ক্ষমাশীল এবং আপনি ক্ষমা পছন্দ করেন; তাই আমাকে ক্ষমা করুন।
আরো অন্যান্য দুআ সমূহ!
এই সব এর বারবার পুনরাবৃত্তি করুন যেন আপনি আর রমজান বা লাইলাতুল ক্বদর পাবেন না!
عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ ".
অর্থ- হযরত আয়েশা (রাযীঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা রমযানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত তালাশ কর।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
অর্থ- হযরত আবু হুরায়রা (রাযীঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি খাঁটি ঈমানের সাথে এবং আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখল, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে এবং যে ব্যক্তি কদরের রাতে সালাতে দাঁড়ালো, খাঁটি ঈমানের সাথে এবং আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদানের আশায়, তাহলে তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।"
عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ.
অর্থ- হযরত আয়েশা (রাযীঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রমজানের শেষ দশ দিন শুরু হওয়ার সাথে সাথে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোমরের বেল্ট শক্ত করতেন (অর্থাৎ পরিশ্রম করতেন এবং সারা রাত নামায পড়তেন এবং তাঁর পরিবারকে নামাজের জন্য জাগিয়ে রাখতেন।
তিনটি কথা :
এক- আল্লাহ আমাদের রব, আমরা তাঁর বান্দা।
দুই- আমরা মুসলিম, ইসলাম আমাদের ধর্ম।
তিন- আমরা সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত।
আমাদের প্রতি আল্লাহর যেসব নিআমত রয়েছে, এই তিনটি নিআমত অনেক বড়।
আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এই দুআ তিন বার করে পাঠ করা-
رَضِيْتُ بِاللهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِيْنًا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُوْلاً.
অর্থ- (আমার রব হিসেবে আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট, আমার দ্বীন হিসেবে ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট, আমার রাসূল হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সন্তুষ্ট।)
তাহলে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।
হাদীসে আছে, যে এই দুআটি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ অবশ্যই তাকে সন্তুষ্ট করবেন। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৮৯৬৭
অন্য এক বর্ণনায়, রাসুল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে এই দোয়াটি বলার সওয়াব হল যে তিনি নিজে সেই ব্যক্তির হাত ধরে নেবেন যতক্ষণ না সে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, পাশাপাশি এ ব্যক্তির জন্য জান্নাতও নিশ্চিত হয়ে যাবে।
আল্লাহ আমাদের সকলকে আমল করার তাওফীক দান করুন।
(ঈমান) পর্ব– ২
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মেহেরবানী- আলহামদু লিল্লাহ। সকাল-সন্ধ্যায় আমাদের আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত। কারণ তিনি আমাদেরকে নিজ পরিচয় দান করেছেন। আমরা তাঁকে চিনতে পেরেছি। তাঁর প্রতি ঈমান আনতে পেরেছি। তিনি আমাদের রব আর আমরা তাঁর বান্দা। তিনি আমাদেরকে দ্বীন ইসলাম কবুল করার তাওফীক দান করেছেন। তিনি আমাদেরকে মুসলিম ও মুমিন বানিয়েছেন। আলহামদু লিল্লাহ। আমাদের তাঁর আরো শুকরিয়া আদায় করা উচিত, তিনি আমাদেরকে সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত বানিয়েছেন, আলহামদু লিল্লাহ।
ঈমানী কালেমা হচ্ছেঃ
لا إله إلا الله محمد رسول الله
লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।
There is nothing deserving to be worshipped except Allah Sub’hanahu Wa Ta’ala, Prophet Muhammad (ﷺ) is his messenger
অর্থ: আল্লাহ্ ছাড়া (ইবাদাতের উপযুক্ত) অন্য কোন মাবুদ নাই। হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্ তায়ালার প্রেরিত রাসুল।
ঈমানের উদ্দেশ্যঃ
অন্তরে আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস সৃষ্টি করাঃ মন থেকে মাখলুকের এক্বীন বের করে এক আল্লাহ্ পাকের এক্বীন অন্তরে বসাতে হবে। অর্থাৎ মাখলুক কোন কিছুই করতে পারে না। যা কিছু হয় তা একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকেই হয়।
আল্লাহর রাসুল সাঃ এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করাঃ হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেখনো পথেই দুনিয়া ও আখিরাতের শতভাগ শান্তি ও কামিয়াবি। অন্য সকল পথে নাকামিয়াবি ও ধ্বংস।
অন্তরে জজবা তৈরি করাঃ দুনিয়া সুখেরও জায়গা না দুঃখেরও জায়গা না। চিরস্থায়ী সুখের জায়গা হচ্ছে জান্নাত আর চিরস্থায়ী দুঃখের জায়গা হচ্ছে জাহান্নাম। এ জন্য এই দুনিয়ার সম্পদমুখী জজবাকে পরিবর্তন করে আখিরাত মুখী এবং আমলমুখী করা।
ঈমানের লাভঃ
যদি কেউ র্জারা পরিমাণ ঈমান নিয়ে ও এ দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে যায়, তবে সে দশ দুনিয়ার সমান জান্নাত পাবে।
যতদিন পর্যন্ত দুনিয়ার মধ্যে একজন ঈমান ওয়ালা লোক থাকবে ততদিন পর্যন্ত দুনিয়া ধ্বংস হবে না।
ঈমানের বিশুদ্ধতা হচ্ছেঃ
ঈমান সকল হারাম হতে বাঁচিয়ে রাখবে। ঈমানের হাকীকত তখনই বোঝা যাবে, যখন আমি কোন সমস্যার সম্মুখীন হব। আর আমার দিল প্রথমেই যদি বলে ইহা আল্লাহর তরফ থেকে হয়েছে। লজ্জা যেমন মানুষ কে পোশাক পড়তে বাধ্য করে, তেমনি ঈমান মানুষকে আমল করতে বাধ্য করে।
ঈমানের হেফাযত ফরয।
ঈমান আনা যেমন ফরয, হেফাযত করাও ফরয। কিন্তু এখন ঈমানের ওপর আক্রমণ চলছে বিভিন্নভাবে। মানুষের ঈমান নষ্ট করার জন্য এবং তাদেরকে গোমরাহ করার জন্য বিভিন্ন প্রতারক বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এজন্য ঈমান গ্রহণ করে তার ওপর যেমন আল্লাহর শোকর আদায় করতে হবে, তেমনি ঈমানের ওপর অটল অবিচল থাকার জন্য আল্লাহর কাছে সবসময় দুআও করতে হবে।
(ঈমান) পর্ব– ১
যদি কেউ আল্লাহ্ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ করতে ও তাঁর কাছে কবুল হইতে চায়, আল্লাহ্ তায়ালা তার পদ, বংশ বা অন্য কোন যোগ্যতা দেখেন না। আল্লাহ্ তায়ালা যা দেখেন তা হল তার গুন। আর সে সমস্ত গুন গুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় গুন হলো ঈমানের গুন।
ঈমান কি জিনিস?
আল্লাহ্ তায়ালার একাত্মবাদের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা। হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আখেরী নবী ও রাসূল এবং সকল নবী-রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর পূর্ণ আস্থা রাখার মাধ্যমে, আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ হতে তিনি যেসব গায়েবের খবর নিয়ে এসেছেন, সেগুলোকে বিনা দ্বিধায় মেনে নেয়ার নাম হলো ঈমান।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Narayanganj
Dhaka
1400
Opening Hours
| Monday | 20:30 - 23:30 |
| Wednesday | 20:30 - 23:30 |
| Friday | 20:30 - 23:30 |