11/03/2021
English Proficiency Certificate (EPC)
চায়নাতে পড়াশোনার জন্য যারা আবেদন করেন তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে যে বিষয়টি খুবই জরুরি সেটি হলো ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি সার্টিফিকেট। যে কোনো দেশে পড়াশোনার জন্য আবেদনের সময় এই সার্টিফিকেট শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করতে হয়। স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য এই সার্টিফিকেটের গুরুত্ব অনেক । আসুন আমরা এক নজরে দেখে ফেলি এই সার্টিফিকেটের আদি-অন্ত।
English Proficiency Certificate (EPC) আসলে কী?
ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি টেস্ট হলো ইংরেজি ভাষায় একজন শিক্ষার্থী কতটা দক্ষ সেটি যাচাই করা। যারা মাতৃভাষা হিসেবে ইংরেজি শিখে নি, এই ভাষায় তাদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য এমন একটি সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা। যেহেতু বিদেশে তাদের পড়শোনার মাধ্যম হবে ইংরেজি, এজন্য শিক্ষার্থীর এই দক্ষতাটুকু অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।
ইংরেজি ভাষার দক্ষতাকে আমরা ৪ ভাগে ভাগ করতে পারি
1- Poor
2- Fair
3- Good
4- Excellent
এই লেভেলগুলো সাধারণত ইংরেজি বিভিন্ন টেস্টে যেমন IELTS, TOEFL, DUOLINGO এর মাধ্যমে নির্নয় করা হয়ে থাকে।বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ এর জন্য এসব সার্টিফিকেট সাবমিট করা প্রয়োজন হয়ে থাকে।
IELTS: সর্বাধিক প্রচলিত টেস্টঃ
ব্রিটিশ ধাঁচে কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক গৃহীত এই টেস্টটি সারাবিশ্বে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সির জন্য। পূর্ণরূপে বললে এই নামের পরিচয় দাঁড়ায় International English Language Testing System. সংক্ষেপে একে IELTS বলে। এই টেস্টটি প্রদান করার পর প্রাপ্ত ব্যান্ড স্কোর দিয়ে একজন শিক্ষার্থী সারাবিশ্বে নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারবে। ০-৯ পর্যন্ত ব্যান্ড রয়েছে এখানে। সাধারণত যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বাইরে যেতে চান, তারা ৬ ব্যান্ড স্কোর থেকে নিজের কাঙ্খিত যোগ্যতা পরিমাপ শুরু করেন। যারা ৭ কিংবা ৭.৫ কিংবা ৮ স্কোর করতে পারেন, তারা বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মনোনীত হয়ে থাকেন।
ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি সার্টিফিকেটের জন্য এই টেস্ট সারাবিশ্বে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও গৃহীত।
এই টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নিতে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ দুই থেকে তিন মাস লাগে। প্রায়ই অধিকাংশ শহরেই IELTS প্রিপারেশনের জন্য কোচিং সেন্টারগুলো ক্লাস নিয়ে থাকে। তবে নিজে ঘরে বসেই আপনি সহজে প্রিপারেশন নিতে পারবেন এই টেস্টের জন্য
বিশেষত যারা অনার্স /মাস্টার্সের জন্য চায়না বা অন্য কোথাও আবেদন করতে চান, তারা IELTS স্কোর ন্যূনতম ৬.৫ অর্জনের চেষ্টা করবেন। এতে করে স্কলারশিপ প্রাপ্তির সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
TOEFL: IELTS সমমানের একটি পরীক্ষা
TOEFL এর পূর্নরুপ Test of English as a Foreign Language। যে সকল শিক্ষার্থী আয়েল্টস এক্সাম না দিয়ে অন্য কোনো মাধ্যমে টেস্ট দিতে চান, তারা সেক্ষেত্রে টোফেল টেস্টের কথা ভাবতে পারেন। আমেরিকান ইউনিভার্সিটিগুলো IELTS এর পরিবর্তে TOEFL টেস্ট প্রেফার করে। চাইনিজ ইউনিভার্সিটিগুলোতেও আপনি এই টেস্টের স্কোর দিয়ে এপ্লাই করতে পারবেন। টোফেল টেস্টে 80-101 এই রেঞ্জের রেজাল্ট করতে পারলে সহজেই চাইনিজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্কলারশিপ পাবেন
DuoLINGO TEST: IELTS/TOEFL অল্টারনেটিভ
বর্তমানে কোভিড মহামারির সময় থেকে শিক্ষার্থীদের বাইরে চলাফেরা বেশ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ঠিক এই সময়ে এই টেস্টটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করে। স্বল্পসময়ে গৃহীত অনলাইন নির্ভর এই টেস্টটি এখন সারাবিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় এই টেস্টের ফলাফল এখন গ্রহনও করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা যারা দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি ও ইকোওমিক দিকগুলো খেয়াল করচেন, তারা নির্দ্বিধায় এই টেস্ট টি দিতে পারেন। ঘরে বসে খুব স্বল্প খরচে টেস্ট দিয়ে মাত্র তিন দিনে ফলাফল পাওয়া যায়।
কোথায় (EPC) টেস্ট করা যায়ঃ
যারা ইপিসি টেস্ট দিয়ে সার্টিফিকেট নিতে চান, তাদেরকে দেশের কোনো একটি প্রসিদ্ধ সেন্টারে ভর্তি হয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে হবে। সাধারণত কয়েক মাসব্যাপী হয়ে থাকে এই প্রশিক্ষণ। এরপর শিক্ষার্থীর যোগ্যতার লেভেল অনুযায়ী তারা একটি ইপিসি সার্টিফিকেট দিয়ে থাকেন। এতে খরচ পড়ে ৫-৮ হাজার টাকা।
প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাইফুরস, মেন্টরস, এফ এম মেথড, ব্রিটিশ কাউন্সিল, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রসিদ্ধ। এগুলোর কোনো একটিতে আপনারা এই প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
যাদের ইংলিশ টেস্ট দেওয়ার সুযোগ নেই, তারা কী করবেঃ
অনেকেই আছেন যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেই বিদেশে আবেদন করতে চান, অথবা আবেদনের তারিখ শেষের পথে থাকে, তাদের জন্য চট করে উপরোক্ত টেস্টগুলো দেয়া সম্ভব হয় না। তাদের জন্য (EPC) সংগ্রহের একটি ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও এটি তেমন মানসম্মত না, কিন্ত কাজ চালিয়ে নেয়ার মত মান অবশ্যই রয়েছে।
1. এক্ষেত্রে যারা অনার্স বা গ্রাজুয়েশন ইংরেজি মাধ্যমে করেছেন, তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিজ বিভাগ থেকে Medium of Instruction Certificate গ্রহন করে নিতে পারবেন। এটিই তাদের ইংলিশ প্রফিসিয়েন্সি সার্টিফিকেট হিসেবে গন্য হবে।
2. যারা ইংরেজি মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করেছেন, অর্থাৎ ‘এ’ লেভেল পর্যন্ত পড়াশোনা করে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে চান, তারাও একইভাবে এই সার্টিফিকেট নিয়ে নিতে পারবেন।
মনে রাখবেন, প্রাতিষ্ঠানিক ইপিসি-র মূল্যায়ন কখনোই আয়েল্টস-টোফেল বা ডুও লিংগোর মত ধরা হয় না। ফলে স্কলারশিপ সহ নানা ধরনের সুবিধা পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে কোনো একটি টেস্টে অংশ নিয়ে একটি ভালো স্কোর অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
চায়নায় আবেদনের ক্ষেত্রে কোনটি ভালো?
অবশ্যই Duolingo/IELTS/TOEFL। এগুলোর কোনো বিকল্প নেই। কিন্ত যদি কারও পক্ষে এই ধরনের পরীক্ষা দেয়া সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে তিনি কয়েকটি উপায়ে ইপিসি সংগ্রহ করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ইপিসি কখনোই প্রসিদ্ধ ইংলিশ টেস্টিং স্কোরগুলোর সমান নয়।
যে কয়েকটি উপায়ে ইপিসি পাওয়া যায় সেগুলো হলো -
1. বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগ থেকে। এক্ষেত্রে মিডিয়াম অফ ইন্সট্রাকশনটি ইপিসি হিসেবে বিবেচিত হয়।
2. ইংরেজি মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করলে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যায়নেও ইপিসি দেয়া থাকে।
3. কোনো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেস্ট দিয়ে ইপিসি সংগ্রহ করা যেতে পারে।
এই পদ্ধতিগুলো ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যমে ইপিসি সংগ্রহ করলে সেটি গ্রহনযোগ্যতা রাখে না।
নোটারি করা কি ভালো!?
জি, অবশ্যই সুযোগ থাকলে ইপিসি সার্টিফিকেট নোটারাইজ করে নেয়া ভালো। এতে করে গ্রহনযোগ্যতা থাকে বেশি। তবে এক্ষেত্রে তারিখ, সিল, সাইন ইত্যাদি অবশ্যই যুক্ত থাকতে হবে।