04/05/2022
ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভিত্তিক আলোচনা নিবেদন করছি : ৩৩ নম্বর শ্লোক। এ শ্লোকে বিভিন্ন প্রকার যজ্ঞের মধ্যে কোন যজ্ঞ শ্রেষ্ঠ সে সম্পর্কে জানাচ্ছেন শ্রীভগবান। শ্রীভগবান উবাচ : ওঁ
শ্রেয়ান দ্রব্যময়াদ যজ্ঞাজ জ্ঞানযজ্ঞঃ পরন্তপ।
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে।। ৪/৩৩
#অনুবাদ- হে পরন্তপ! দ্রব্যময় যজ্ঞ থেকে জ্ঞান যজ্ঞ শ্রেষ্ঠ। হে পার্থ! সকল কর্মই পূর্ণরূপে জ্ঞানে পরিসমাপ্তি হয়।
#গীতার_শ্লোকের_প্রাসঙ্গিক ও োচনা : শ্রেয়ান দ্রব্যময়াদ যজ্ঞাজ - দ্রব্যময় যজ্ঞ হতে শ্রেষ্ঠ; জ্ঞানযজ্ঞঃ মানে আত্মজ্ঞান রূপী যে যজ্ঞ। পরন্তপ এবং পার্থ দুটো নামে সম্বোধন করা হয়েছে এ শ্লোকে। পরন্তপ মানে অপর পক্ষ, যুদ্ধের প্রতিপক্ষ যাকে দেখলে অন্তর থেকে ভয় পায়। শত্রুদমনকারী।
২৮ নম্বর শ্লোকে আমরা পড়েছি দ্রব্যযজ্ঞ- আসক্তি ত্যাগের মাধ্যমে দ্রব্য দান করে যে ত্যাগ কর্ম করা হয় তাকে দ্রব্যযজ্ঞ বলে। লোকসেবার জন্য কূপ, পুকুর, মন্দির তৈরি করা, রোগী, ভিখারী, ক্ষুধার্থ, অনাথ দরিদ্র মানুষের মধ্যে অন্ন, বস্ত্র, জল, ঔষধ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বস্তু যেমন : গো দান, ভূমি দান, ধন দান প্রভৃতি প্রদান দ্রব্যযজ্ঞ। এক কথায় শাস্ত্রবিহীত সকল শুভ কর্মই দ্রব্যময় যজ্ঞের অন্তর্গত। এ যজ্ঞের ফলে কাম্যবস্তু কিংবা স্বর্গ লাভ হয়। এ যজ্ঞে যজ্ঞকর্তা নিজেকে যজ্ঞের কর্তা ও ফলের ভোক্তা মনে করেন।
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ মানে সকল কর্মের বন্ধন বিলীন হয়, জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে মানে- ব্রহ্মজ্ঞানে পরিসমাপ্তি হয়। কারণ জ্ঞানযজ্ আত্মজ্ঞান যখন লাভ হয় তখন সব কিছুর সমাপ্তি হয়। এ জ্ঞানযজ্ঞ বিষয়ে এ অধ্যায়ের ২৫ এবং ২৮ নম্বর শ্লোকেও পড়েছি যে, শাস্ত্রের অর্থ গভীর যুক্তিবিচার ও একনিষ্ঠ ভাবে বেদার্থ অনুশীলনের মাধ্যমে বেদ জ্ঞানযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অষ্টাদশ অধ্যায় মোক্ষযোগের ৭০ নম্বর শ্লোকে গীতা অধ্যয়নকেও শ্রীভগবান ‘জ্ঞানযজ্ঞ’ নামে অভিহিত করেছেন। জ্ঞানযজ্ঞ অধিষ্ঠিত সাধকের নিজের চাওয়া পাওয়া বা স্বার্থ থাকে না। ভগবান ব্যতীত আর কোনো চিন্তা থাকে না, সাংসারিক কোনো বিষয়ে তার কোনো চিন্তা থাকে না, সংসার তার কাছে লয় হয়ে যায়। নিষ্কাম কর্মে মানুষের চিত্ত শুদ্ধ হয় এবং শুদ্ধ চিত্তে ভগবদ্ জ্ঞানের উদয় হয়। পরমাত্মার সাথে মিলিত হয়ে একই সত্তায় পরিণত হয়। এমন জ্ঞানের মাধ্যমেই পরিসমাপ্তি হয়। মোট কথা- এ যজ্ঞে যজ্ঞকর্তা ভগবানকে যজ্ঞের কর্তা ও ফলের ভোক্তা মনে করেন। এ কারণেই জ্ঞানযজ্ঞকে দ্রব্যযজ্ঞ থেকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে।
শুধু আসক্তি যুক্ত বা বিষয় লাভের জন্য যজ্ঞ করা থেকে জ্ঞান অর্জনপূর্বক যজ্ঞের অনুষ্ঠান করাই অধিক উত্তম। জ্ঞানযজ্ঞ শ্রেষ্ঠ জানার পর, এ জ্ঞান কীভাবে লাভ করা যায় সে বিষয়ে জানবো আগামী শ্লোকে। আজকের আলোচনার এখানেই বিশ্রাম টানছি। বিশ্বের সকল জীবের ত্রিবিধ মঙ্গল হোক। ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি। জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।
নিবেদনে-
শ্রী গৌরমোহন দাস
সাংগঠনিক সম্পাদক
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি
এবং
কণ্ঠধ্বনিতে রয়েছেন : শ্রীমতী সরস্বতী কর
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা,৪র্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ, শ্লোক ৩৩, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 33 ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভি....
01/05/2022
29/04/2022
27/04/2022
24/04/2022
23/04/2022
20/04/2022
19/04/2022
17/04/2022