গীতার মধুরতা Gitar Madhurata

গীতার মধুরতা Gitar Madhurata

Share

শ্রীমদ্ভগবদ্ গীতা বিষয়ক জ্ঞান অর্জনে আমরা ছাত্র। গীতা

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা,৪র্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ, শ্লোক ৩৩, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 33 04/05/2022

ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভিত্তিক আলোচনা নিবেদন করছি : ৩৩ নম্বর শ্লোক। এ শ্লোকে বিভিন্ন প্রকার যজ্ঞের মধ্যে কোন যজ্ঞ শ্রেষ্ঠ সে সম্পর্কে জানাচ্ছেন শ্রীভগবান। শ্রীভগবান উবাচ : ওঁ
শ্রেয়ান দ্রব্যময়াদ যজ্ঞাজ জ্ঞানযজ্ঞঃ পরন্তপ।
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে।। ৪/৩৩
#অনুবাদ- হে পরন্তপ! দ্রব্যময় যজ্ঞ থেকে জ্ঞান যজ্ঞ শ্রেষ্ঠ। হে পার্থ! সকল কর্মই পূর্ণরূপে জ্ঞানে পরিসমাপ্তি হয়।
#গীতার_শ্লোকের_প্রাসঙ্গিক ও োচনা : শ্রেয়ান দ্রব্যময়াদ যজ্ঞাজ - দ্রব্যময় যজ্ঞ হতে শ্রেষ্ঠ; জ্ঞানযজ্ঞঃ মানে আত্মজ্ঞান রূপী যে যজ্ঞ। পরন্তপ এবং পার্থ দুটো নামে সম্বোধন করা হয়েছে এ শ্লোকে। পরন্তপ মানে অপর পক্ষ, যুদ্ধের প্রতিপক্ষ যাকে দেখলে অন্তর থেকে ভয় পায়। শত্রুদমনকারী।
২৮ নম্বর শ্লোকে আমরা পড়েছি দ্রব্যযজ্ঞ- আসক্তি ত্যাগের মাধ্যমে দ্রব্য দান করে যে ত্যাগ কর্ম করা হয় তাকে দ্রব্যযজ্ঞ বলে। লোকসেবার জন্য কূপ, পুকুর, মন্দির তৈরি করা, রোগী, ভিখারী, ক্ষুধার্থ, অনাথ দরিদ্র মানুষের মধ্যে অন্ন, বস্ত্র, জল, ঔষধ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বস্তু যেমন : গো দান, ভূমি দান, ধন দান প্রভৃতি প্রদান দ্রব্যযজ্ঞ। এক কথায় শাস্ত্রবিহীত সকল শুভ কর্মই দ্রব্যময় যজ্ঞের অন্তর্গত। এ যজ্ঞের ফলে কাম্যবস্তু কিংবা স্বর্গ লাভ হয়। এ যজ্ঞে যজ্ঞকর্তা নিজেকে যজ্ঞের কর্তা ও ফলের ভোক্তা মনে করেন।
সর্বং কর্মাখিলং পার্থ মানে সকল কর্মের বন্ধন বিলীন হয়, জ্ঞানে পরিসমাপ্যতে মানে- ব্রহ্মজ্ঞানে পরিসমাপ্তি হয়। কারণ জ্ঞানযজ্ আত্মজ্ঞান যখন লাভ হয় তখন সব কিছুর সমাপ্তি হয়। এ জ্ঞানযজ্ঞ বিষয়ে এ অধ্যায়ের ২৫ এবং ২৮ নম্বর শ্লোকেও পড়েছি যে, শাস্ত্রের অর্থ গভীর যুক্তিবিচার ও একনিষ্ঠ ভাবে বেদার্থ অনুশীলনের মাধ্যমে বেদ জ্ঞানযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার অষ্টাদশ অধ্যায় মোক্ষযোগের ৭০ নম্বর শ্লোকে গীতা অধ্যয়নকেও শ্রীভগবান ‘জ্ঞানযজ্ঞ’ নামে অভিহিত করেছেন। জ্ঞানযজ্ঞ অধিষ্ঠিত সাধকের নিজের চাওয়া পাওয়া বা স্বার্থ থাকে না। ভগবান ব্যতীত আর কোনো চিন্তা থাকে না, সাংসারিক কোনো বিষয়ে তার কোনো চিন্তা থাকে না, সংসার তার কাছে লয় হয়ে যায়। নিষ্কাম কর্মে মানুষের চিত্ত শুদ্ধ হয় এবং শুদ্ধ চিত্তে ভগবদ্ জ্ঞানের উদয় হয়। পরমাত্মার সাথে মিলিত হয়ে একই সত্তায় পরিণত হয়। এমন জ্ঞানের মাধ্যমেই পরিসমাপ্তি হয়। মোট কথা- এ যজ্ঞে যজ্ঞকর্তা ভগবানকে যজ্ঞের কর্তা ও ফলের ভোক্তা মনে করেন। এ কারণেই জ্ঞানযজ্ঞকে দ্রব্যযজ্ঞ থেকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে।
শুধু আসক্তি যুক্ত বা বিষয় লাভের জন্য যজ্ঞ করা থেকে জ্ঞান অর্জনপূর্বক যজ্ঞের অনুষ্ঠান করাই অধিক উত্তম। জ্ঞানযজ্ঞ শ্রেষ্ঠ জানার পর, এ জ্ঞান কীভাবে লাভ করা যায় সে বিষয়ে জানবো আগামী শ্লোকে। আজকের আলোচনার এখানেই বিশ্রাম টানছি। বিশ্বের সকল জীবের ত্রিবিধ মঙ্গল হোক। ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি। জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।
নিবেদনে-
শ্রী গৌরমোহন দাস
সাংগঠনিক সম্পাদক
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি
এবং
কণ্ঠধ্বনিতে রয়েছেন : শ্রীমতী সরস্বতী কর

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা,৪র্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ, শ্লোক ৩৩, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 33 ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভি....

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা,৪র্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ, শ্লোক ৩২, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 32 01/05/2022

ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভিত্তিক আলোচনা নিবেদন করছি : ৩২ নম্বর শ্লোক। এ শ্লোকেও বিভিন্ন প্রকার যজ্ঞের ফল সম্পর্কে জানাচ্ছেন শ্রীভগবান। শ্রীভগবান উবাচ : ওঁ
এবং বহুবিধা যজ্ঞা বিততা ব্রহ্মণো মুখে।
কর্মজান বিদ্ধি তান সর্বানেবং জ্ঞাতা বিমোক্ষ্যসে।।
#অনুবাদ- এই ববিধ যজ্ঞের কথা বেদে বিস্তারিত ভাবে বলা হয়েছে। এ সকল যজ্ঞ- মন, ইন্দ্রিয় এবং শারীরিক ক্রিয়ার দ্বারা সম্পন্ন হয় বলে জানবে। এ তত্ত্ব যথাযথ জানলে মুক্তিলাভ করবে।
#গীতার_শ্লোকের_প্রাসঙ্গিক ও োচনা: ‘এবং বহুবিধা যজ্ঞা’ মানে পূর্বে আলোচিত বিভিন্ন এই প্রকার যজ্ঞ।‘বিততা ব্রহ্মণো মুখে’ মানে ব্রহ্মণো মানে ব্রহ্মের, এর দ্বারা এখানে বেদের কথা বোঝানো হয়েছে, ‘বিততা; মানে বিস্তৃত করা বা বর্ণনা। ‘কর্মজান বিদ্ধি’ মানে কায়িক, বাচিক ও মানসিক কর্মের কথা জানা, তান সর্বানেবং জ্ঞাতা বিমোক্ষ্যসে মানে যথার্থ জানলে মুক্তিলাভ করবে।
আমরা সাধারণ জীব কেবল দেহাত্মবুদ্ধি নিয়েই থাকি। তাই দেহ, মন ও বুদ্ধির স্তরেই কর্মও করে থাকি। পরিশেষে তারাও যেনো মুক্তির স্তরে উপনীত হহতে পারে, সে জন্যই বেদে বিভিন্ন ধরণের যজ্ঞানুষ্ঠানের অনুমোদন করা হয়েছে। ঠিক যেমন বিভিন্ন প্রকার ঔষধ বিভিন্ন রোগের জন্য নির্দেশিত, ঠিক তেমনি বিভিন্ন প্রকার কর্মীর জন্য বিভিন্ন যজ্ঞ অনুমোদন করা হয়েছে। বেদের কর্মকাণ্ডে বর্ণিত সকাম যজ্ঞের কর্মকারী ব্যক্তি স্বর্গলোকে গমন করেন এবং পুণ্য শেষে জন্মমৃত্যুর চক্রে আবার ফিরে আসেন। মানে জন্ম-মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ থাকেন। কিন্তু শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় নিষ্কামকর্মরূপ যজ্ঞগুলির কথা বলা হয়েছে। এই সকল যজ্ঞ অনুষ্ঠানের দ্বারা পরমাত্মা (ভগবান) প্রাপ্তি হয়।
আসক্তিহীনভাবে যে সকল সাধক ঐসব অনুষ্ঠান করেন, তারা যজ্ঞার্থ কর্মই করে থাকেন। এরা কর্ম বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে সনাতন পরব্রহ্ম প্রাপ্ত হন। প্রকৃতির কার্যরূপ মন, ইন্দ্রিয় ও শরীরের ক্রিয়া দ্বারাই হয়ে থাকে। তাই যে কোনো কর্মে বা সাধনে কর্মযোগীর কর্তৃত্বের অভিমান থাকা উচিত নয়। কর্ম ছাড়া পরমাত্মা প্রাপ্তি বা কর্মবন্ধন থেকে মুক্তও হতে পারে না। এ কারণেই শ্লোকে বলা হয়েছে-কর্মজান বিদ্ধি তান সর্বানেবং জ্ঞাতা বিমোক্ষ্যসে মানে তত্ত্ব জেনে কর্ম করলে তাঁর কর্মবন্ধন হয় না এবং পূর্বসঞ্চিত কর্মও নাশ করে মুক্তিদায়ক হয়ে উঠে।
স্বপ্ন আমরা সকলে দেখি। ধরা যাক, মনে মনে সরস্বতী মায়ের পূজা করছি। কত পরিকল্পনা! মাকে আসনে বসাচ্ছি, সাজাচ্ছি, মন্ত্র উচ্চারণ করছি, অঞ্জলি অর্পণ করছি ইত্যাদি ইত্যাদি করছি। কিন্তু যখনই জেগে উঠা হলো তখন আর কিছুই নেই। স্বপ্নের কথা ভেবে মনে মনে তখন হাসি পায়। ঘুমের মধ্যে হাসা যায় না। আর এ সব কিছুই সৃষ্টি হয়েছে মন থেকে।
তেমনি আমাদের সমগ্র জীবনটাই একটি বড় স্বপ্ন। এ কঠিন সত্যকে জানতে না পেরে, সত্যকে না দেখে আমরা স্বপ্নের মত মিথ্যাকেই দেখছি। তাই আমাদের সকল ভাবনায়, সকল কাজে বা মনের জায়গাতেই ভগবানকে বসিয়ে দিতে হবে। যখন আমরা যা করছি প্রতিটি বিষয়ের মধ্যে প্রতিটি কর্মের মধ্যে ভগবান রয়েছেন। ঐ যে পূর্বে বর্ণিত ২৪ নম্বর শ্লোকে যেমন আমরা জেনেছি- যা হচ্ছে, যার দ্বারা হচ্ছে- যার উদ্দেশ্যে যজ্ঞ হচ্ছে সবই ব্রহ্ম। এই ভাবটি রাখতে হবে এবং কর্ম করতে হবে। নিজে কর্তা সাজলে কিংবা ফল প্রাপ্তির আশা করা যাবে না।
আজকের আলোচনার এখানেই বিশ্রাম টানছি। বিশ্বের সকল জীবের ত্রিবিধ মঙ্গল হোক। ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি। জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।
নিবেদনে-
শ্রী গৌরমোহন দাস
সাংগঠনিক সম্পাদক
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি
এবং কণ্ঠধ্বনিতে রয়েছেন শ্রীমতী সরস্বতী কর

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা,৪র্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ, শ্লোক ৩২, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 32 ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভি....

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা,৪র্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ, শ্লোক ৩০ ৩১, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 30 31 29/04/2022

ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভিত্তিক আলোচনা নিবেদন করছি : ৩০ ও ৩১ নম্বর শ্লোক। বিভিন্ন প্রকার যজ্ঞের কথা জানিয়ে এর ফল সম্পর্কে জানাচ্ছেন শ্রীভগবান। শ্রীভগবান উবাচ : ওঁ
সর্বেঽপ্যেতে যজ্ঞবিদো যজ্ঞক্ষয়িতকল্মষাঃ।।
যজ্ঞশিষ্টামৃতভুজো যান্তি ব্রহ্ম সনাতনম।৩০
নায়ং লোকোঽস্ত্যযজ্ঞস্য কুতোঽন্যঃ কুরুসত্তম।। ৩১
অনুবাদ: এরা ব্রহ্মবিদগণ সকলেই যজ্ঞদ্বারা নিষ্পাপ হয়ে থাকেন, যাঁরা অমৃতস্বরূপ যজ্ঞাবশিষ্ট অন্ন ভোজন করেন, তারা সনাতন ব্রহ্মপদ লাভ করেন। হে কুরুশ্রেষ্ঠ! যে কোনোরূপ যজ্ঞই করে না, তারা ইহলোকে নয়, পরলোক ত দূরের কথা!
#গীতার_শ্লোকের_প্রাসঙ্গিক ও োচনা : এ অধ্যায় জ্ঞানযোগের ২৫ -২৯ নং শ্লোকে ভগবান বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ বিভিন্ন যজ্ঞ অর্থাৎ শুভ কর্মের কথা বর্ণনা করেছেন। তৃতীয় অধ্যায় কর্মযোগের ১৩ নং শ্লোক আলোচনায়ও ‘যজ্ঞশিষ্ট অন্নের কথা জেনছি। যজ্ঞ স্বরূপ কামনাহীন কর্ম দ্বারাই মোক্ষ(ভগবান) লাভ হয়।
সকল সাধক যজ্ঞাদি দ্বারা পাপ নাশ করেন এবং যজ্ঞ সম্বন্ধে জানেন।
এ অধ্যায়ের ২৩ নম্বর শ্লোকেও যেমন জেনেছি যে, যজ্ঞের জন্য যারা কর্মের অনুষ্ঠান করেন তাদের সকল কর্ম বিলীন হয়ে যায়। আস‌ক্তিহীনভা‌বে তারা সকল যজ্ঞা‌র্থ কর্মের অনুষ্ঠান দ্বারা পূর্বসঞ্চিত কর্ম সংস্কার রূপ সকল কর্মের বিনাশ করেন, তাই তারা যজ্ঞের তত্ত্ব জানেন। লোক প্রসিদ্ধিতে দেবতাদের জন্য অগ্নিতে ঘৃত আহুতি দেওয়াকে যজ্ঞ বলা হয় এবং তার থেকে উদ্বৃত্ত হওয়া হবিষ্যন্নই যজ্ঞাশিষ্ট অমৃত।
পঞ্চ মহাযজ্ঞে দেবতা ঋষি পিতৃকুল মানুষ এবং অন্য প্রাণীমাত্রের জন্যই অন্ন ভাব করে দেওয়ার পর যে ভাগ থাকে, তাকেই যজ্ঞাশিষ্ট অমৃত বলা হয়।
কিন্তু পরমাত্মা প্রাপ্তির জন্য জ্ঞান, সংযম, তপ, যোগ, স্বাধ্যায়, প্রাণায়াম ইত্যাদিতে যজ্ঞে অন্নের সম্বন্ধ নেই। তবে এতে সাধকের অন্তকরণ শুদ্ধ হয় এবং তাতে দ্বিতীয় অধ্যায় সাংখ্যযোগে শ্লোক নম্বর ৬৪-৬৫ এবং অষ্টাদশ অধ্যায়, মোক্ষযোগের শ্লোক নম্বর ৩৬-৩৭ এ বর্ণিত প্রসাদরূপ যে প্রসন্নতা উপলব্ধি হয় সেটাই যজ্ঞ থেকে উদ্বৃত অমৃত। এতে নিত্য তৃপ্ত থাকাই হলে অমৃত অনুভব করা।
যজ্ঞই সংসারের নিয়ম। প্রত্যেকের কর্তব্য সম্পাদন, পরস্পরের ত্যাগ স্বীকার, আদান-প্রদান দ্বারাই জগৎ চলছে। প্রসঙ্গত স্বর্ণ নকুলের গল্পটি এখানে শেয়ার করা যায়। হয়তো আপনারা অনেকে গল্পটি জানেন। এক বেজি ছিলো যার অর্ধাঙ্গ সোনা হয়েছিলো। বাকি অংশ যেনো সোনা হয় সে জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষে যুধিষ্ঠির একটি অশ্বমেধ আয়োজন করেছিলেন, যজ্ঞ হচ্ছে। সেখানে গিয়ে একটি বেজি গড়াগড়ি করছিলো, যার অর্ধাঙ্গ সোনার ছিলো। এ বেজি হঠাৎ বলে উঠলো- এ যজ্ঞ কোনো যজ্ঞই না! বেজির মুখে এ রকম কথা শোনে যজ্ঞে উপস্থিত সবাই অবাক হলো! কথাটা শোনে যজ্ঞে উপস্থিত অনেকে বলতে লাগলো কেন কেন! এখানে এত দান দক্ষিণা হচ্ছে, কাঙ্গাল ভোজন হচ্ছে আর তুমি বলছো যজ্ঞই না!
তখন বেজি বলে উঠলো- আপনারা তো দেখতে পাচ্ছেন আমার অর্ধেক শরীর সোনা। বাকি শরীরটা যেনো সোনা হয় সে জন্য আমি মাটিতে গড়াগড়ি করেছি। কিন্তু না! হচ্ছে না। তাহলে কীসের যজ্ঞ! তখন সবাই তার অর্ধেক শরীর সোনা হওয়ার কাহিনী জানতে চাইলো। কাহিনীটি হলো : একদা এক গরীব ব্রাহ্মণ ছিলো। তার স্ত্রী, এক ছেলে নিয়ে সংসার। ভিক্ষাবৃত্তি করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। অনেকদিন পর একদিন অল্প চাল ভিক্ষা পেলো। ভিক্ষার চাল দ্বারা রান্না করে ভগবানকে নিবেদন করে যখনই খেতে বসবে এমন সময় একজন অতিথি এসে বললো- আমি অনেক দিন কিছু খাই না। ক্ষুধার্থ আমি। আমাকে খেতে দিবে? তখন ব্রাহ্মণ তার নিজের ভাগের খাবারটুকু অতিথিকে দিয়ে দিলেন। তাতে তার খাওয়া হয়নি। তা দেখে ব্রাহ্মণের স্ত্রীও তার অংশের খাবার দিয়ে দেন। তাতেও অতিথির সেবা হয়নি দেখে ছেলেও ভাবছে পিতার কর্মে ছেলের অধিকার রয়েছে। তাই ছেলেও তার খাবারের ভাগটুকু দিয়ে দিলেন। আর এসব আমি আড়াল থেকে দেখছিলাম। ভিক্ষুক চলে যাওয়ার পর সেখানে পড়ে থাকা অল্প কিছু অন্ন খেয়েছিলাম। যার ফলে আমার শরীর স্বর্ণ হয়ে গিয়েছিলো। আর তাই আমি ভেবেছিলাম যুধিষ্ঠিরের মত রাজার যজ্ঞাবশেষ খেলে আমার পুরো শরীরই সোনা হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুই হলো না। তাই বলেছি এ যজ্ঞ কোনো যজ্ঞই না।
অর্থাৎ দরিদ্র ব্রাহ্মণ নিষ্কামভাবে যজ্ঞ করার পর সে যজ্ঞাশিষ্ট অন্ন গ্রহণ করার ফলে নকুলের শরীর সোনা হয়েছিলো। তেমনি এখানে বলা হয়েছে যে, অমৃতস্বরূপ যজ্ঞাবশিষ্ট অন্ন ভোজন করেন, তারা সনাতন ব্রহ্মপদ লাভ করেন। কিন্তু যারা এমন যজ্ঞে অংশ গ্রহণ করেন না, যজ্ঞরূপে নিজের কর্তব্য সম্পাদন করেন না, তাদের এ জগত ও পরলোকে কোথাও শান্তি হয় না।
সকলের সকল শান্তি ও সুখ একমাত্র শ্রীকৃষ্ণ সাধনায়।
আজকের আলোচনার এখানেই বিশ্রাম টানছি। বিশ্বের সকল জীবের ত্রিবিধ মঙ্গল হোক। ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি। জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।
নিবেদনে-
শ্রী গৌরমোহন দাস
সাংগঠনিক সম্পাদক
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি
এবং কণ্ঠধ্বনিতে রয়েছেন : শ্রীমতী সরস্বতী কর

https://youtu.be/Tdj6tFCdhSc
বি.দ্র. : আমাদের পোস্ট থাকে সপ্তাহের রবি, বুধ ও শুক্রবার। গীতার মধুরতা ইউটিউব চ্যানেলেও শুনতে পারেন।

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা,৪র্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ, শ্লোক ৩০ ৩১, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 30 31 ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভি....

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগ, শ্লোক ২৯, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 29 27/04/2022

ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভিত্তিক আলোচনা নিবেদন করছি : ২৯ নম্বর শ্লোক। বিভ্নি প্রকার যজ্ঞের কথা জানাচ্ছেন ম্রীভগবান। শ্রীভগবান উবাচ : ওঁ

অপানে জুহ্বতি প্রাণং প্রাণেঽপানং তথাহপরে।
প্রাণাপানগতী রুদ্ধা প্রাণায়ামপরায়ণাঃ।।
অপরে নিয়তহারাঃ প্রাণান প্রাণেষু জুহ্বতি। ৪/২৯

#অনুবাদ : আর যাঁরা প্রাণায়াম চর্চায় আগ্রহী, তাঁরা অপান বায়ুতে প্রাণ বায়ু এবং প্রাণবায়ুতে অপান বায়ু আহুতি দিয়ে অবশেষে প্রাণ এবং অপান বায়ুর গতি রোধ করে সমাধিস্থ হন। অপর কেউ আবার আহার সংযম করে প্রাণবায়ুসমূহে অন্যান্য প্রাণবায়ুর আহুতি দেন। এ সকল যজ্ঞবিদগণ সকলেই যজ্ঞের প্রভাবে পাপ মুক্ত হন।

#গীতার_শ্লোকের_প্রাসঙ্গিক ও োচনা : শাস্ত্রে অপান বায়ুর স্থান গুহ্যদ্বারে এবং প্রাণ বায়ুর স্থান হৃদয়ে। বাইরের বায়ু ভিতরে প্রবেশ করানোকে বলা হয় শ্বাস, একেই যোগশাস্ত্র মতে বলা হয় পূরক, একেই অপানের গতি মানা হয়। কারণ অপানের স্থান অধঃ এবং বাইরের বায়ু ভিতরে প্রবেশের সময় তার গতি শরীরের নিচের দিকে থাকে। তেমনি ভিতরের বায়ু বাইরে বের করাকে বলা হয় প্রশ্বাস।, একেই যোগশাস্ত্র মতে বলা হয় রেচক; একে প্রাণের গতি মানা হয়। যখন শ্বাস-প্রশ্বাসকে ধরে রাখা হয় তাকে বলা হয় কুম্ভক। শ্লোকে রয়েছে অপানে জুহ্বতি প্রাণং অর্থাৎ অপান বায়ুতে প্রাণ বায়ুর আহুতি। অপান বায়ুকে শরীর-ভিতরে প্রবেশ করালে প্রাণবায়ুর গতি রোধ হয়। আর এ-ই অপানে প্রাণের আহুতি।
প্রাণেঽপানং- প্রাণে অপানের আহুতি দেন। প্রাণায়াম যজ্ঞে অগ্নি স্থানীয় হচ্ছে প্রাণবায়ু এবং হবি স্থানীয় হচ্ছে অপানবায়ু। যোগশাস্ত্র অনুযায় রেচক প্রাণায়ামই হচ্ছে- প্রাণে অপানের আহুতি। আবার কেউ কেউ প্রাণ ও অপানের গতি রোধ করে প্রাণায়ামপরায়ণ হন অর্থাৎ রেচক-পূরণ পরিত্যাগপূর্বক বায়ুকে শরীরের মধ্যে নিরুদ্ধ করেন এর নাম কুম্ভক।
‘প্রাণাপানগতী রুদ্ধা প্রাণায়ামপরায়ণাঃ।’ অর্থাৎ প্রাণ ও অপান এই উভয়ের গতিরোধ। মুখ ও নাক দ্বারা শরীর অন্তর্গত বায়ুর বাইরে নির্গমনরূপ যে শ্বাসক্রিয়া তা প্রাণগতি। আর বাইরে থেকে বায়ুর যে শরীর অভ্যন্তরে প্রবেশরূপ প্রশ্বাস তা অপানগতি (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা- শ্রীমধুসূদন সরস্বতী কৃত টীকা)। প্রাণায়ামপরায়ণাঃ- যিনি প্রাণকে নিয়মন করায় অর্থাৎ বার বার প্রাণকে রুদ্ধ করার অভ্যাসে তৎপর এবং একেই পরমাত্মা প্রাপ্তির প্রধান সাধন মনে করেন তাকে ‘প্রাণায়ামপরায়ণাঃ’ বলে।
অপরে নিয়তহারাঃ অর্থাৎ অন্য অনেকে পরিমিত বা নিয়ন্ত্রিত আহারকারী। যোগশাস্ত্রের নিয়মের অধিক যিনি খান না আবার একদম না খেয়েও থাকেন না এমন ব্যক্তিকেই নিয়তহারাঃ বলা হয়। এছাড়া শ্লোকে বর্ণিত আছে- ‘প্রাণান প্রাণেষু জুহ্বতি’ মানে প্রাণবায়ুকে প্রাণবায়ুতে আহুতি দেন। আবার ‘প্রাণান্’ প্রাণসমূকে বা পূর্বে ২৭ নম্বর শ্লোকে আলোচিত ‘প্রাণকর্মাণি’কে রোধ করে যজ্ঞ করা হয়। এভাবে বিভিন্ন যোগের কথা এ শ্লোকে আলোচিত হয়েছে। এগুলো জানলে ও পালন করলে কী হয় সে বিষয়ে পরের শ্লোকে জানবো।

আজকের আলোচনার এখানেই বিশ্রাম টানছি। বিশ্বের সকল জীবের ত্রিবিধ মঙ্গল হোক। ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি। জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।
নিবেদনে-
শ্রী গৌরমোহন দাস
সাংগঠনিক সম্পাদক
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি
এবং
কণ্ঠধ্বনিতে রয়েছেন : শ্রীমতী সরস্বতী কর

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগ, শ্লোক ২৯, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 29 ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভি....

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগ, শ্লোক ২৮, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 28 24/04/2022

ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভিত্তিক আলোচনা নিবেদন করছি : ২৮ নম্বর শ্লোক। এ শ্লোকে আমরা বেশ কয়েক প্রকার যজ্ঞের কথা জানবো : শ্রীভগবান উবাচ- ওঁ
দ্রব্যযজ্ঞাস্তপোযজ্ঞা যোগযজ্ঞাস্তথাপরে।
স্বাধ্যায়জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ যতয়ঃ সংশিতব্রতাঃ।। ৪/২৮
#অনুবাদ- কেউ কেউ দ্রব্যদানরূপ যজ্ঞ করেন, কেউ তপস্যারূপ যজ্ঞ করেন, কেউ অষ্টাঙ্গ যোগরূপ যজ্ঞ করেন, অন্য অনেকে ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করে শাস্ত্রাধ্যয়ন ও শাস্ত্রচর্চাকেই যথাসর্বস্ব মনে করেন। আবার কোনো কোনো দৃঢ়ব্রতা ব্যক্তিগণ যুক্তির দ্বারা বেদার্থ মনন ও বিচারের দ্বারা প্রত্যাহিক জীবন ধারণ করেন।
#গীতারশ্লোকেরপ্রাসঙ্গিক ও োচনা : ২৭ নম্বর শ্লোকে ‘চাপরে’ মানে চ অপরে শব্দ ছিলো। এ শ্লোকের মধ্যেও ‘অপরে’ শব্দটি রয়েছে। মানে অন্য কেউ কেউ এ অধ্যায়ের ২৫, ২৬ এবং ২৭ নম্বর শ্লোকে আলোচিত (১) দৈবযজ্ঞ, (২) ব্রহ্মযজ্ঞ বা জ্ঞানযজ্ঞ, (৩) সংযম যজ্ঞ, (৪) ইন্দ্রিয়সংযম বা অনাসক্ত যজ্ঞ এবং (৫) আত্মসংযম যজ্ঞের কথা জেনেছি।
আজ পঠিত ২৮ নম্বর শ্লোকে শ্রীভগবান- ‘দ্রব্যযজ্ঞাস্তপোযজ্ঞা’ মানে দ্রব্যযজ্ঞ, তপোযজ্ঞ; ‘যোগযজ্ঞাস্তথাপরে’ যোগযজ্ঞ বা অষ্টাঙ্গযোগ যজ্ঞ; ‘স্বাধ্যায়জ্ঞানযজ্ঞাশ্চ’ মানে স্বাধ্যায় যজ্ঞ এবং জ্ঞানযজ্ঞ এই পাঁচ প্রকার যজ্ঞের কথা বলেছেন। এখানে আবারও বলতে হচ্ছে যে,
যজ্ঞ বলতে শুধু হোম অগ্নির সাহায্যে যজ্ঞ নয়, শাস্ত্রবিহিত যে কোন শুভকর্মকে ‘যজ্ঞ’ বলা হয়।
*দ্রব্যযজ্ঞ- আসক্তি ত্যাগের মাধ্যমে দ্রব্য দান করে যে ত্যাগ কর্ম করা হয় তাকে দ্রব্যযজ্ঞ বলে। লোকসেবার জন্য কূপ, পুকুর, মন্দির তৈরি করা, রোগী, ভিখারী, ক্ষুধার্থ, অনাথ দরিদ্র মানুষের মধ্যে অন্ন, বস্ত্র, জল, ঔষধ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বস্তু যেমন : গো দান, ভূমি দান, ধন দান প্রভৃতি প্রদান দ্রব্যযজ্ঞ। পুষ্পপত্র নৈবেদ্যাদি দ্বারা পূজার্চনা- সবই দ্রব্যযজ্ঞ। দানরূপ এই যজ্ঞ করার অধিকার শুধু গৃহস্থেরই থাকে।
*তপোযজ্ঞ- ফলের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে ব্রত- উপবাস করা, ধর্মপালনের জন্য কষ্ট করা, মৌন ধারণ করা, বেশি বস্ত্রের অধিকার ত্যাগ করা, অন্নত্যাগ করা, ফল বা দুধ খেয়ে শরীর নির্বাহ করা ইত্যাদি শাস্ত্রবিধি অনুসারে তিতীক্ষা সম্পর্কীত যে সকল ক্রিয়া আছে সে সবই তপোযজ্ঞ।
*যোগযজ্ঞ : সাধারণত যোগ শব্দে চিত্তবৃত্তিনিরোধরূপ অষ্টাঙ্গ যোগ বুঝায়। মনের ইচ্ছাগুলোকে বা মন ও বুদ্ধির অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ যোগ। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৪/২৭ নম্বর শ্লোকে সে বিষয়ে ভগবান বলেছেন।
যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান, সমাধি এই আটটিকেই অষ্টাঙ্গ বলে। শাস্ত্রমতে অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহ এগুলোকে যম। ’শৌচ, সংযম, তপস্যা, স্বাধ্যায় ও ঈশ্বর প্রণিধানকে নিয়ম বলে। যম-নিয়ম পালন পরায়ণ সাধকই যোগযজ্ঞী।’
*স্বাধ্যায়যজ্ঞ : স্বাধ্যায় অর্থ বেদ-শাস্ত্রাদি পাঠ। ব্রহ্মচর্য অবলম্বন করে শ্রদ্ধাপূর্বক যথাবিধি বেদাভ্যাস। ইংরেজি রিডিং অর্থ পড়া। আবার স্টাডিও পড়া। উপন্যাস আমরা পড়ি। কিন্তু ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ শুধু পড়ার বিষয় নয়, মননের বিষয়, জীবনে ধারণ করার বিষয় মানে স্বাধ্যায় করতে হয়। নিজে পড়া এবং অন্যকে পড়ানোর বিষয়ই স্বাধ্যায়।
*জ্ঞানযজ্ঞ : শাস্ত্রের অর্থ গভীর যুক্তিবিচার ও একনিষ্ঠ ভাবে বেদার্থ অনুশীলনের মাধ্যমে বেদ জ্ঞানযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ১৮/৭০ নম্বর শ্লোকে গীতা অধ্যয়নকেও শ্রীভগবান ‘জ্ঞানযজ্ঞ’ নামে অভিহিত করেছেন।
‘যতয়ঃ সংশিতব্রতাঃ’ অর্থাৎ তত্ত্বজ্ঞান প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ কঠোরব্রত পরায়ণ বা বর্ণিত যজ্ঞাদিতে দৃঢ়ব্রত।
বাকি যজ্ঞের কথা জানবো পরের শ্লোকে। আজকের আলোচনার এখানেই বিশ্রাম টানছি। বিশ্বের সকল জীবের ত্রিবিধ মঙ্গল হোক। ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি। জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।
নিবেদনে-
শ্রী গৌরমোহন দাস
সাংগঠনিক সম্পাদক
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি
এবং
কণ্ঠধ্বনিতে রয়েছেন : শ্রীমতী সরস্বতী কর

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগ, শ্লোক ২৮, Srimadbhagavad Gita, Chapter 4, Verse No 28 ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভি....

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ‌্যায়, জ্ঞান‌যোগ, শ্লোক নম্বর ২৭ 23/04/2022

ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভিত্তিক আলোচনায় আজ নিবেদন করছি : ২৭ নম্বর শ্লোক। এ শ্লোকে আমরা আত্মসংযমরূপ যজ্ঞের কথা জানবো : শ্রীভগবান উবাচ- ওঁ

সর্বাণীন্দ্রিয়কর্মাণি প্রাণকর্মাণি চাপরে।
আত্মসংযমযোগাগ্নৌ জুহ্বতি জ্ঞানদীপিতে।। ৪/২৭

#অনুবাদ- অন্য যোগীগণ ইন্দ্রিয় ও প্রাণের ক্রিয়াগুলো জ্ঞানের দ্বারা প্রকাশিত আত্মসংযমরূপ অগ্নিতে আহুতি প্রদান করেন।'
#গীতার_শ্লোকের_প্রাসঙ্গিক ও োচনা : শ্লোকে রয়েছে ‘সর্বাণীন্দ্রিয়কর্মাণি’ মানে হলো- আমাদের সকল ইন্দ্রিয়ের কর্মসমূহ। আমাদের ইন্দ্রিয় হচ্ছে দশটি। তার মধ্যে পাঁচটি জ্ঞানেন্দ্রিয় হচ্ছে- চোখ, কান, নাক, জিহ্বা ও ত্বক। পাঁচটি কর্মেন্দ্রিয় হচ্ছে- মুখ, হাত, পা, গুহ্য, জননেন্দ্রিয়। এর কাজগুলো যেমন : চোখের কাজ- দেখা, কানের কাজ শোনা, নাকের কাজ ঘ্রাণ নেওয়া, ত্বকের কাজ স্পর্শ করা, আস্বাদনের জন্য জিহ্বা ইত্যাদি। এর পর রয়েছে- ‘প্রাণকর্মাণি’। এর মানে হলো- প্রাণবায়ুর কার্যকলাপ। আমাদের শরীরে মোট দশ প্রকারের বায়ু রয়েছে। যথা : প্রাণ , অপান, সমান, উদ্যান ,ব্যান, নাগ, কুর্ম , কৃকর, দেবদত্ত ও ধনঞ্জয়। এই দশবায়ুর সমন্বয়ে যা সৃষ্ট তাই প্রাণ । ইন্দ্রিয়াদির কাজগুলো আমাদের নিকট খুবই পরিচিত, তাই সকল ই‌ন্দ্রিয়ের কাজের কথা ব‌লি‌নি। কিন্তু প্রাণবায়ুর কার্যকলাপ ততটা পরিচিত নয়। ফ‌লে প্রসঙ্গত এ বায়ুগুলোর সংক্ষিপ্ত কার্যকলাপ হলো : ১৷ প্রাণ বায়ু : কণ্ঠ থেকে নাভি পর্যন্ত যে বায়ু শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজে ব্যস্ত৷ ২৷ অপান বায়ু : উদরে নাভির নিম্না‌ঙ্গে কাজ করে৷ এই বায়ু মলমূত্র বর্জনে সাহায্য করে৷ ৩৷ সমান বায়ু : নাভিতে অবস্থান করে প্রাণ ও অপানের মধ্যে সমতা বিধান করে৷ ৪৷ উদান বায়ু : কণ্ঠ ও শব্দ উচ্চারণকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ ৫৷ ব্যান বায়ু :সংকোচন ও প্রসারণ এবং সারা দেহে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে ৷ উল্লেখ্য, বাকি প্রকারের বায়ুগুলো সূক্ষ বায়ুর। ৬৷ নাগ বায়ু : শরীরকে বিস্তৃত করতে অর্থাৎ লম্ফ-ঝম্ফ দিতে সাহায্য করে৷ ৭৷ কূর্ম বায়ু : শরীরকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে৷ ৮৷ কৃকর বায়ু : হাইতোলা বা হাঁচি-কে নিয়ন্ত্রণ করে৷ ৯৷ দেবদত্ত বায়ু : ক্ষুধা-তৃষ্ণা বোধ জাগায়৷ ১০৷ ধনঞ্জয় বায়ু : যে বায়ু পুষ্টি সাধনে সাহায্য করে।
এই দশবায়ুকে নিয়ন্ত্রণে আনার বিজ্ঞানসম্মত কৌশলই প্রাণায়াম। এই যে, ইন্দ্রিয় ও প্রাণবায়ুর কাজগুলোকে বিলীন করে সমাধিস্থ হওয়াই হলো- আত্মসংযম যোগরূপ সমাধিযোগকে প্রজ্বলিত অগ্নির ন্যায় মানে জ্ঞান দ্বারা উদ্দীপিত-‘জ্ঞানদীপিতে’ আহুতি প্রদান করেন। এভাবে আহুতি প্রদান করার মাধ্যমে ইন্দ্রিয় ও বায়ুর ক্রিয়াগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এটাই সমাধি অবস্থার কথা এ শ্লোকে আলোচিত হয়েছে।
সম্মা‌নিত পাঠক শ্রোতা! যজ্ঞের কথা এখনও শেষ হয় নি। বাকি যজ্ঞের কথা জানবো পরের শ্লোকে। আজকের আলোচনার এখানেই বিশ্রাম টানছি। বিশ্বের সকল জীবের ত্রিবিধ মঙ্গল হোক। ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি। জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।

নিবেদনে-
শ্রী গৌরমোহন দাস
সাংগঠনিক সম্পাদক
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি
এবং
কণ্ঠধ্বনিতে রয়েছেন- শ্রীমতী সরস্বতী কর

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ‌্যায়, জ্ঞান‌যোগ, শ্লোক নম্বর ২৭ ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভি....

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ,শ্লোক ২৬ Srimadbhagavad Gita,Chapter 4,Verse No 26 20/04/2022

ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। জয় গীতা। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভিত্তিক আলোচনা নিবেদন করছি : ২৫ নম্বর শ্লোকে দেবপূজারূপ যজ্ঞের এবং আত্মা-পরমাত্মার অভেদদর্শনরূপ যজ্ঞের কথা জানার পর আশ্রমভেদে কিছু যজ্ঞের কথা জানবো : শ্রীভগবান উবাচ- ওঁ

শ্রোত্রাদীনীন্দ্রিয়াণ্যন্যে সংযমাগ্নিষু জুহ্বতি।
শব্দাদীন বিষয়ানন্য ইন্দ্রিয়াগ্নিষু জুহ্বতি।। ৪/২৬

অনুবাদ :
#গীতার_শ্লোকের_প্রাসঙ্গিক ও োচনা : ২৫ নম্বর শ্লোকে আমরা দৈবযজ্ঞ ও জ্ঞানযজ্ঞের বিষয়ে জেনেছি। ২৬ নম্বর শ্লোকে শ্রীভগবান ইন্দ্রিয়সংযমরূপ যজ্ঞ এবং বিষয় আহুতিরূপ যজ্ঞের কথা বলেছেন। ‘শ্রোত্রাদীনীন্দ্রিয়াণ্যন্যে সংযমাগ্নিষু জুহ্বতি।’ অর্থাৎ শ্রবণাদি ইন্দ্রিয়সমূহ সংযমরূপ অগ্নিতে আহুতি দেন। সকল ইন্দ্রিয়কে নিজের বশে আনা, তার স্বেচ্ছাচারিতা দূর করা, তাতে মনকে বিচলিত করার শক্তি থাকতে না দেওয়া, জাগতিক বিষয়ভোগে প্রবৃত্ত হতে না দেওয়াই হলো ইন্দ্রিয়াদিকে সংযমরূপ অগ্নিতে আহুতি দেওয়া।

এ বিষয়ে আমরা দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৬০ নম্বর শ্লোকেও পড়েছি- যততো হ্যপি কৌন্তেয় পুরুষস্য বিপশ্চিতঃ।/ ইন্দ্রিয়াণি প্রমাথীনি হরন্তি প্রসভং মনঃ।। অর্থাৎ হে কৌন্তেয় ! ইন্দ্রিয়সমূহ এতই বলবান এবং ক্ষোভকারী যে, তারা অতি যত্নশীল বিবেকসম্পন্ন পুরুষের মনকেও বলপূর্বক বিষয়াভিমুখে আকর্ষণ করে। স্বর্গের অপ্সরা মেনকার রূপে মুগ্ধ হয়ে মহর্ষি বিশ্বামিত্রও অধঃপতিত হয়েছিলেন। তাই চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বককে তাদের বিষয়-রূপ, শব্দ, রস, গন্ধ, স্পর্শ ইত্যাদিকে সংযমরূপ অগ্নিতে হোমসাধন বা আহুতি দেওয়াই হলো- ইন্দ্রিয়সংযমরূপ যজ্ঞ।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে শ্রীভগবানের দেয়া উপমার মত- সুস্পষ্ট ভাবে ভাবটি হতে হবে এমন যে, কচ্ছপ যেমন তার ইন্দ্রিয়সমূহকে নিজের দেহে গুটিয়ে নিতে পারে। তেমন করেই ইন্দ্রিয়কে গুটিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন। ইন্দ্রিয়ের দাস হওয়া নয়, ইন্দ্রিয়কে দাস বানানোর উপায় শিখতে হবে।

‘শব্দাদীন বিষয়ানন্য ইন্দ্রিয়াগ্নিষু জুহ্বতি।।’ অনেকে শব্দাদি ইন্দ্রিয়সমূহকে ইন্দ্রিয়রূপ অগ্নিতে আহুতি দেন। এ জগতের শব্দ মনকে জড় বিষয়ে আকৃষ্ট করে এবং জড় বন্ধনে আবদ্ধ রাখে। শ্রবণ ইন্দ্রিয়কে এবং অন্যান্য চিত্তসংযমরূপী আগুনে অর্পণ করা মানে আগুনে বিলীন করে দেওয়াই হলো- শব্দাদি ইন্দ্রিয়কে অগ্নিতে আহুতি দেওয়া। আহুতি দেওয়ার পর সাধকের মনে আসক্তি, সুখ ও রমণীয় বুদ্ধি না থাকায় সেগুলো সাধকের ওপর তাদের প্রভাব পড়ে না, সেগুলো অগ্নিতে ঘাসের ন্যায় দগ্ধ হয়ে যায়। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব যেমন বলেছেন- পাকাল মাছ (বাইম) পাকে থাকে, কিন্তু পাক তাকে স্পর্শ করতে পারে না। তেমনি অগ্নিতে আহুতি দেওয়ার পর শব্দাদি ইন্দ্রিয়সমূহ সাধকের দেহে থাকে কিন্তু সেগুলো কোন প্রভাব ফেলতে পারে না, তাকে কোনো প্রকার বিষয়ে স্পর্শ করে না। মানে কানে নিন্দা, প্রশংসা কিংবা অন্য কোনো প্রকার শব্দ শোনে বিচলিত হন না। তিনি কেবল ঈশ্বরীয় শব্দই শ্রবণ করেন।

তৃতীয় অধ্যায়ের ৬ নম্বর শ্লোকে পড়েছি- যে ব্যক্তি পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয় সংযত করেও মনে মনে তার বিষয়গুলো স্মরণ কনে, সে মূঢ় অবশ্যই নিজেকে বিভ্রান্ত করে এবং তাকে মিথ্যাচারী বলা হয়। কিন্তু এখানে ইন্দ্রিয়সমূহকে জোরপূর্বক নয়, বরং বশ করে বিষয় চিন্তা থেকে দূর করে নিরন্তর পরমাত্মার চিন্তাতেই মগ্ন থাকার কথা বলা হয়েয়ে এবং তাদেরকে সংযমী বলা হয়েছে। ‘একমাত্র বস্তুর ধারণা, ধ্যান ও সমাধিকে সংযম বলে।’ আমাদের সকল ধারণা, ধ্যান শ্রীভগবানের দিকে হোক সে প্রত্যাশায় আজের আলোচনার এখানেই বিশ্রাম টানছি।
বিশ্বের সকল জীবের ত্রিবিধ মঙ্গল হোক। ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি। জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।
নিবেদনে-
শ্রী গৌরমোহন দাস
সাংগঠনিক সম্পাদক
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি
এবং
কণ্ঠধ্বনিতে রয়েছেন : শ্রীমতী সরস্বতী কর

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ,শ্লোক ২৬ Srimadbhagavad Gita,Chapter 4,Verse No 26 ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। জয় গীতা। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের .....

Photos 19/04/2022

রেডিও ভেরিতাসে নতুন পদ্ধতিতে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী প্রচার https://www.facebook.com/veritasbangla/photos/a.470474706797462/1349456202232637/

প্রাজ্ঞবচন – শ্রীমদ্ভগবদগীতা’র বাণী (Reading from Sri Bhagabad Gita)

রেডিও ভেরিতাস বাংলা বিভাগের সম্মানিত দর্শক-শ্রোতা, সকলে অবহিত আছেন যে, সর্বশেষ আমরা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের ধারাবাহিক ২৮তম পর্বের আলোচনা ভিডিও আকারে উপহার দিয়েছিলাম। সে ধারাটি পরিবর্তন হওয়ায় কার্ড আকারে সকলের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল প্রার্থনা করে - শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের ধারাবাহিক ২৯তম পর্বের আলোচনায় স্বাগত ও নমস্কার জানাচ্ছি।

যারা কর্মতত্ত্ব জানেন মানে কর্মতত্ত্ব জ্ঞানী পুরুষদের লক্ষণ কীরূপ? তাদের মনোভাব বিষয়ে শ্লোক নম্বর ১৯ এ জেনেছিলাম : যাঁর সকল কর্ম কামনাহীন ও কর্তৃত্বাভিমানবর্জিত এবং জ্ঞানাগ্নি দ্বারা যাঁর কর্ম দগ্ধ হয়েছে, শাস্ত্রজ্ঞগণ তাঁকেই পণ্ডিত বলে থাকেন।

আজ ২০ নম্বর শ্লোকে দেখি কী জানাচ্ছেন : শ্রীভগবান উবাচ -

ওঁ ত্যক্ত্বা কর্মফলসঙ্গং নিত্যতৃপ্তো নিরাশ্রয়ঃ।
কর্মণ্যভিপ্রবৃত্তোঽপি নৈব কিঞ্চিৎ করোতি সঃ।। ৪/২০

#অনুবাদ : শ্রীভগবান বলেছেন - যিনি কর্মফলের আসক্তি ত্যাগ করে সর্বদা নিজেই তৃপ্ত থাকেন এবং যিনি অপরের আশ্রয়শূন্য। তিনি সকল কর্মে পূর্ণরূপে প্রবৃত্ত হলেও কর্মফলের আশায় কিছুই করেন না। ৪/২০

#গীতার_শ্লোকের_প্রাসঙ্গিক ও োচনা/ব্যাখ্যা : শ্লোকে বলা হয়েছে - ত্যক্ত্বা কর্মফলসঙ্গং নিত্যতৃপ্তো নিরাশ্রয়ঃ মানে যিনি কর্মফলের আসক্তি ত্যাগ করে সর্বদা নিজেই তৃপ্ত থাকেন এবং যিনি অপরের আশ্রয়শূন্য। জপ, ধ্যান, দান, তপস্যা এবং শরীর নির্বাহের জন্য যত প্রকার শাস্ত্রবিহিত কর্ম রয়েছে সেগুলোতে মানুষের স্বাভাবিক আসক্তি থাকে। তাই কর্মগুলো না করে থাকতে পারে না। কর্ম করার সময় সে তাতে জড়িয়ে পড়ে, ফলে তার মাঝে ঈশ্বরের চিন্তা মোটেও থাকে না। জাগতিক এই রূপ আসক্তি থেকে সর্বোতভাবে রহিত হয়ে যাওয়া, কোনো কর্মে মনকে একটুও আসক্ত হতে না দেওয়াই হল - কর্মে আসক্তি ত্যাগ করা। এ জগতে বা পরলোকে আমাদের যত ভোগ তাতে কোনো প্রকার আসক্তি বা কামনা না রাখাই সর্বোতভাবে কর্মের ফলে আসক্তি ত্যাগ করা বা ‘ত্যক্ত্বা কর্মফলসঙ্গ‘। সকল কর্মে আসক্তি ত্যাগ করলে কেমন হয়? ‘নিত্যতৃপ্তো নিরাশ্রয়ঃ।’ মানে আসক্তি সর্বোতভাবে পরিত্যাগ করে শরীরে অহংকার ও মমতা রহিত হয়ে যাওয়া এবং কোনো সাংসারিক বস্তু বা মানুষের আশ্রিত না হওয়া অর্থাৎ এ জিনিসটি বা অমুকের দ্বারা আমার জীবন-জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। তাকে ছাড়া আমার এ কাজটি হবে না - এমন ভাব না থাকাই হলো- ‘নিরাশ্রয়ঃ’ হওয়া। বিশ্ববরেণ্য দার্শনিক ড. মহানামব্রত ব্রহ্মচারী তার গীতাধ্যানে লিখেছেন - দেহীর আশ্রয় দেহ। যার দেহেতে আত্মজ্ঞান সে দেহাশ্রয়ী, যার দেহেতে আত্মজ্ঞান নেই সে নিরাশ্রয়। কর্তৃত্ব অভিমানহীন ব্যক্তি নিরাশ্রয়। জাগতিক কোনো কিছুর উপর নির্ভরশীল না হয়ে যিনি কর্ম করেন তিনি পূর্ণকাম হয়ে উঠেন। পরমানন্দস্বরূপ পরমাত্মা বা ভগবানকে লাভ করায় তিনি নিরন্তর আনন্দে মগ্ন থাকেন, কোনো ঘটনায় তাঁর অবস্থানে কোনো প্রকার সমস্যা হয় না। এ ভাবটিই হলো - নিত্যতৃপ্ত হয়ে যাওয়া। তিনি কখনো কর্ম ফলের আশা করেন না। এরপর রয়েছে - ‘কর্মণ্যভিপ্রবৃত্তোঽপি নৈব কিঞ্চিৎ করোতি সঃ’মানে তিনি সকল কর্মে পূর্ণরূপে প্রবৃত্ত হলেও কর্মফলের আশায় কিছুই করেন না। ‘নিত্যতৃপ্তো নিরাশ্রয়ঃ’ ব্যক্তি সকল কর্ম করেও কর্মবন্ধনে আবদ্ধ হন না। একজন সাধারণ মানুষ ফলের আকাঙ্ক্ষা যুক্ত হয়ে কর্ম করেন বলে কর্ম বন্ধনে আবদ্ধ হন। আমরা পূর্বেও জেনেছিলাম- যে কর্মে অকর্ম এবং অকর্মে কর্ম দেখেন সে সব মুক্ত পুরুষ তারা পূর্ণকাম হওয়ায় তাদের কোনো কর্তব্যই বাকি থাকে না। তাঁদের কোনো বস্তুরও কোনো প্রয়োজন থাকে না। তাদের কোনো বস্তুরই প্রয়োজন থাকে না। সুতরাং তিনি যে সকল কর্ম করেন বা যে কোনো কর্মে নিরত হন- ‘নৈব কিঞ্চিৎ করোতি স‘। তার সবই শাস্ত্রসম্মত এবং লোকসংগ্রহার্থেই করেন। তাই তার কর্ম বাস্তবে কোনো কর্ম নয়।

অকর্ম ব্যক্তির লক্ষণ ও মনোভাব বিষয়ে আমরা আরও কথা জানবো পরের শ্লোকে। আজকের আলোচনার এখানেই বিশ্রাম টানছি। বিশ্বের সকল জীবের ত্রিবিধ মঙ্গল হোক। ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি। জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।

আজ এই গীতার বাণীর ব্যাখ্যা করেছেন- বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ এর সাংগঠনিক সম্পাদক- শ্রী গৌরমোহন দাস কিশোরগঞ্জ, ঢাকা, বাংলাদেশ থেকে ।

আপনার সুচিন্তিত মতামত জানান Comments করে এবং এই অনুষ্ঠানটি Like ও Share করবেন আপনাদের facebook এর Wall এ।

Thought of the Day – Reading from Sri Bhagabdad Gita.
Please Like, Comment and Share with all.

Please visit our Website: https://bengali.rvasia.org

Facebook: http://facebook.com/veritasbangla
YouTube: http://youtube.com/veritasbangla
Twitter: https://twitter.com/banglaveritas
Instagram: http://instagram.com/veritasbangla

#প্রাজ্ঞবচন #শ্রীমদ্ভগবদগীতা #শ্রীমদ্ভগবদগীতার_বাণী #গীতার_উপদেশ

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ,শ্লোক ২৫ Srimadbhagavad Gita,Chapter 4,Verse No 25 17/04/2022

ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের শ্লোকভিত্তিক আলোচনা নিবেদন করছি : সবই কর্ম করছেন। কেউ যজ্ঞের মাধ্যমে, কেউ কর্মের মাধ্যমে। এভাবে কর্ম-অকর্ম বিষয়ে আলোচনা শেষে বিভিন্ন প্রকার যজ্ঞের মাধ্যমে যোগীগণের কর্ম সম্পর্কে জানাচ্ছেন। ২৫ নম্বর শ্লোকে দেবপূজারূপ যজ্ঞের এবং আত্মা-পরমাত্মার অভেদদর্শনরূপ যজ্ঞের কথা জানবো : শ্রীভগবান উবাচ- ওঁ

দৈবমেবাপরে যজ্ঞং যোগিনঃ পর্যুপাসতে।
ব্রহ্মাগ্নাবপরে যজ্ঞং যজ্ঞেনৈবোপজুহ্বতি।। ৪/২৫

অনুবাদ : কোনো কোনো যোগী দেবতাদের উদ্দেশ্যে যথাযথ যজ্ঞানুষ্ঠান করে থাকেন এবং অন্য কেউ কেউ ব্রহ্মরূপ অগ্নিতে কর্মাহুতি দিয়ে থাকেন অর্থাৎ অন্যের হিতার্থে সমস্ত কর্তব্য কর্ম ব্রহ্মে অর্পণ করেন।
#গীতারশ্লোকেরপ্রাসঙ্গিক ও োচনা : ‘দৈবমেবাপরে যজ্ঞং’ মানে দেবতাদের উদ্দেশ্যে যথাযথ যজ্ঞানুষ্ঠান করে থাকেন। শাস্ত্র সম্মত দেবতা- ব্রহ্মা, শিব, গণেশ, চন্দ্র, সূর্য, ইন্দ্র, বরুণ প্রমুখ। দেব অর্চনা যাঁরা করেন, তাঁরাও যজ্ঞকর্ম করেন। দেবতাদের জন্য যজ্ঞ করা, তাঁদের জন্য পূজা করা, জপ করা, দান করা ইত্যাদি শাস্ত্রবিধি অনুসারে শ্রদ্ধাভক্তিপূর্বক (পর্যুপাসতে) করাকেই দৈবযজ্ঞ বলা হয়। দেবতাদের প্রীতি সাধনের জন্য দেবতারূপী অগ্নিতে ঘি অর্পণ করা হয়। কর্মযোগের ১১ নং শ্লোকেও ভগবান পড়েছি -'যজ্ঞের দ্বারা তোমরা দেবতাদেরকে সন্তুষ্ট কর, তোমাদের যজ্ঞ অনুষ্ঠানে প্রীত হয়ে দেবতারাও অভীষ্ট ফল প্রদান করুন। এভাবে একে অপরকে সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে উভয়ের মঙ্গল লাভ হবে।'

শরীরের মধ্যে আমরা আত্মা ও পরমাত্মার ভেদ নিয়ে ভাবি কিন্ত যথার্থজ্ঞানের মাধ্যমে কিংবা আচার্যগণের উপদেশ শ্রবণ করে তত্ত্বজ্ঞানের মাধ্যমে আত্মা ও পরমাত্মাকে এক করে অগ্নিতে আহুতি দেওয়াকে ব্রহ্মার্পণ যজ্ঞ বা জ্ঞানযজ্ঞ বলা হয়। এমন অবস্থায় সাধকের নিজের চাওয়া পাওয়া বা স্বার্থ থাকে না। ভগবান ব্যতীত আর কোনো চিন্তা থাকে না, সাংসারিক কোনো বিষয়ে তার কোনো চিন্তা থাকে না, সংসার তার কাছে লয় হয়ে যায়। যেমন : আগুনে ঘি আহুতি দিলে যেমন ঘি এর নিজস্ব অস্তিত্ব থাকে না, তা আগুনে পরিণত হয় তেমনি আত্মা পরমাত্মার সাথে মিলিত হয়ে একই সত্তায় পরিণত হয়। একে ব্রহ্মযজ্ঞ বা জ্ঞানযজ্ঞ বলে।
বিশ্বের সকল জীবের ত্রিবিধ মঙ্গল হোক। ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি, ওঁ শান্তি। জয় গীতা। জয় শ্রীকৃষ্ণ।

নিবেদনে-
শ্রী গৌরমোহন দাস
সাংগঠনিক সম্পাদক
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি
এবং
কণ্ঠধ্বনিতে রয়েছেন- শ্রীমতী সরস্বতী কর

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়,জ্ঞানযোগ,শ্লোক ২৫ Srimadbhagavad Gita,Chapter 4,Verse No 25 ওঁ তৎ সৎ। ওঁ আচার্য দেবো ভবঃ। ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়ো। জয় গীতা। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, চতুর্থ অধ্যায়, জ্ঞানযোগের .....

29/03/2022
Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Dhaka