02/10/2024
Educationem et litterae
This is a page dedicated for students who do not get proper guidance for education. We also publish stories and poems for their recreation.
02/10/2024
মেয়ে
রমা পোদ্দার
এ ছি ছি ছি কি চেহারা হয়েছে গো। একেবারে কালি মাখা। জন্মের পর পরই ঠাকুমার এমন চিৎকারে মেয়েটি কিছু না বুঝলেও মেয়ের মা বুঝে গিয়েছিল মেয়ের ভবিষ্যত।
কালো মেয়ের জন্ম দিয়ে মরমে মরে যাচ্ছিল সদ্য মা হওয়া সুনেত্রা ও। কালো মেয়ের জন্মের কথা শুনে খুশি হতে পারেনি বাবা সত্যব্রতও।
ছমাস তো মেয়ের মুখই দেখেননি। বছর না ঘুরতেই আবার যখন সুনেত্রা সন্তান সম্ভবা হলো তখন সবাই বংশের প্রদীপ ছেলের অপেক্ষায়। কিন্তু এবার ও সে গুড়ে বালি দিয়ে যখন আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিল সুনেত্রা তখন বাড়িতে শোকের ছায়া। সে শোক অবশ্য বেশি দিন স্থায়ী হলো না। ছয়দিনের দিন সবাইকে মুক্তি দিয়ে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিল ২য় মেয়েটি। সবাইকে খুশি করে দিয়ে ৩য় ও ৪র্থ সন্তান যখন পরপর ছেলে হলো তখন সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। খুব ধুমধাম করে অন্নপ্রাশন করা হলো। বংশপ্রদীপ বলে কথা।
অবহেলা অনাদরে বেড়ে উঠতে লাগলো বাপে খেদানো, মায়ে তাড়ানো ছোট্ট রত্না। বাড়তি যত্ন, আদর-সোহাগ কি সে জানে না। আশেপাশে সাধারণ পরিবারের বাচ্চাদেরও যখন মায়েরা মুখে তুলে খাইয়ে দিত সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকত। এগুলো তার কপালে জোটেনি কোনদিন। মায়ের বুকের দুধ ছাড়ার পর থেকেই বাড়ির এর ওর সাথে ভাত, মুড়ি খেয়ে বেড়ে উঠতে লাগলো সে। বাড়ির ছেলেরা দুধভাত খেলেও তার কপালে জোটেনি কখনো। বাবা অফিস থেকে ফেরার পথে সন্দেশ বা কমলা নিয়ে আসতো প্রতিদিন কিন্তু সেগুলো বরাদ্দ ছিল বাড়ির ছেলেদের জন্য। বছরে দুএকবার যখন বাড়ির সবার জন্য আনা হতো তখন অবশ্য সেও পেত।
দিন গড়িয়ে বয়স বেড়ে যেতে লাগলো কিন্তু স্কুলে ভর্তি করার নামও নিলনা কেউ। পাড়ার ছেলেমেয়েদের সাথে একা একাই একদিন গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে গিয়ে হাজির হলো। তখন কার দিনে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তির ব্যাপারস্যাপার ছিল না বোধহয়। কিংবা থাকলেও স্যারেরা করে দিয়েছিলেন কারন গ্রামের সবাই কমবেশি তার ব্যাপারে জানত।
রবি স্যার তো তাকে আলাদা করে প্রাইভেট ও পড়াতো। সবাইকে অবাক করে দিয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় সে প্রথম হয়ে গেল যা কিনা তার কাকাতো ভাই অরুন হবে বলে সবাই আশা করেছিল।
ঠাকুমাতো রেগে আগুন।
সুনেত্রাকে উদ্দেশ্য করে সবাইকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে লাগলো, "মেয়েকে জজ ব্যারিস্টার বানাবে, ইস্কুলে দিয়েছে, আমিও দেখব......"
সুনেত্রা কেঁদে কেটে একাকার হয়ে মেয়েকে মেরে একাকার করে ফেলল।
"তোর জন্য আর কত কথা শুনব? মরতে পারিস না।।"
কোথায় ভেবেছিল প্রথম হয়েছে বলে মা বাবা কত আদর করবে, সন্দেশ, কমলা খেতে পাবে...... কিছুই হলোনা। উল্টে সবাই অরুণদাকে যত্ন আত্তি করছে। এবার রোল এক হয়নি তো কি হয়েছে, পরের বার হবে। এমনকি বাবাও অরুণ দাকেই স্বান্ত্বনা দিচ্ছে। রত্নার কোন খোঁজই নিচ্ছে না।
এভাবেই চলে যাচ্ছিল সদ্য কৈশোর পেরোনো রত্নার দিন। হঠাৎ ক্লাবের সরস্বতী পূজার সময় পাশের পাড়ার চমককে দেখে চমকে উঠে। রত্নার মনের কথা যেন বলে দিচ্ছে সাউন্ড বক্সে বজানো গানটা,
"আমার পূজার ফুল ভালোবাসা হয়ে গেছে, তুমি যেন ভুল বুঝোনা.........."
সদ্য পাশ করা ইন্জিনিয়ার চমকও হঠাৎ ওর দিকে তাকালো। চোখে চোখ রেখে যেন শুভদৃষ্টি হয়ে গেল। চোখের ভাষায় অনেক কিছু বলা হয়ে গেল দু'জনের।
পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়িতে ফিরে গেলেও মন পরে রইলো চমকের কাছে। সদ্য অনার্স ভর্তি হওয়া রত্না নিজের চেহারা, গায়ের রং ভুলে গিয়ে শুধু চমকেরই সাধনা করতে লাগলো। কলেজ যাওয়ার পথে মাঝে মধ্যে দেখা ও টুকিটাকি কথায় সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। দু'জন দু'জনকে পাওয়ার জন্য মরিয়া। চোখে চোখ রেখে একজন আরেকজনকে আলাদা না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া, হাতে হাত রাখা.....১০০ টা লাল গোলাপ 🌹 উপহার দেওয়া.. ভালোই যাচ্ছিল দিনগুলি। এভাবে রত্নার অনার্স শেষ হয়ে যায় আর চমকও একটা বেসরকারি অফিসে ভালো বেতনে চাকরি করে।
দুজনেরই বাড়িতে বিয়ের কথা উঠে।
দু'জন দু'জনের কথা জানায় বাড়িতে। রত্নার পরিবার রাজি হলেও চমকের মা এ বিয়েতে কোনমতেই রাজি হননি। চমকও মায়ের কথার বিরুদ্ধে না গিয়ে সুন্দরী এক মেয়ের সাথে বিয়েতে রাজী হয়ে যায়।
আজ চমকের বৌভাত। রত্নাদের বাড়ির সবাই গিয়েছে নিমন্ত্রণ খেতে। শুধু রত্না শূন্য চোখে ছাদে বসে আকাশের তারা গুনছে আর চোখে বাদলধারা বয়ে চলেছে।
বেশ কয়েক বছর পরে........
ই-কমার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সেরা উদ্যোক্তার পুরস্কার গ্রহণ করছে চল্লিশোর্ধ রত্না। অনেক সংগ্রাম করে আজ এ পর্যন্ত এসেছে। কতটা কঠিন ছিল তার এ পথচলা সেটা শুধু সেই জানে।
অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েই বিভিন্ন জায়গায় চাকরির চেষ্টা করতে থাকে। পেয়েও যায় একটা এনজিও তে। কিন্তু এনজিওর চাকরি তার ভাল লাগেনা। নিজে কিছু করার অদম্য ইচ্ছা থেকে শুরু করে শাড়ি ডিজাইন করার কাজ। থান কাপড় কিনে তাতে পায় বসিয়ে কখন ও ব্লক, কখনও সূতার কাজ করে নিজের ফেসবুক পেজ এ আপলোড দেয়া শুরু করে। পরিচিত দু'জন কিনেও নেয় সে শাড়ি। সে পরিচিত দু'জনের সূত্র ধরে আরো দুজন আসে।এভাবে কাস্টমার বাড়তে থাকে। এখন এত এত অর্ডার আসে যে সে তার নেতৃত্বে আরো ২৭ জন মেয়েকে দিয়ে কাজ করায়। তারপরও উৎসবের আগে সারাদিন রাত ধরে কাজ করে যেতে হয় সময়মত সবার ডেলিভারি দিতে।
প্রথমদিকে পরিবার পরিজন কারো কাছে থেকে কোন সহায়তা না পেলেও এখন সবাই মোটামুটি তার কাজে সহায়তা না করলেও অসহযোগিতা করে না। সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে তার দুই ভাই।
সেদিন চমকের বিয়ের পর থেকেই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। নিজেকে শেষ করে দেয়ার চিন্তাও করেছে কতবার। তখন ঢাল-তলোয়ার রূপে পাশে পেয়েছিল দুই ভাইকে।
ভাই বোনের সম্পর্কটা বুঝি এমনই হয়। দিদিকে আজও আগলে রাখে দুই ভাই।
তার উদ্যোগে গড়ে উঠা রত্না শাড়ি কুটির আজ সকলের আস্হার জায়গা। নিত্য নতুন ডিজাইন, নজর কাড়া রঙের সংমিশ্রণ, নিখুঁত হাতের কাজ আর যুক্তিসঙ্গত দাম...... সবকিছু মিলিয়ে সকলের প্রথম পছন্দ রত্না শাড়ি কুটির।
পুরস্কার নিতে নিতে এক লহমায় পূর্বের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একটু থমকে গেল দর্শক সারিতে তার বাবা মাকে বসে থাকতে দেখে।
ক্রেস্ট হাতে নিয়ে সোজা দর্শক সারিতে গিয়ে বাবা মাকে প্রনাম করল। বুকে জড়িয়ে ধরে বাবা মা প্রানভরে আশির্বাদ করলেন।
মেয়ে বলে, সুশ্রী নয় বলে যাকে এত অনাদর অবহেলা করেছে সকলে মিলে সেই আজ বংশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।
07/09/2021
মাস্টারদার হাতঘড়ি, শামসুর রহমান কবিতা - মাস্টারদার হাতঘড়িকবি - শামসুর রহমান আবৃত্তি - রমা পোদ্দার
রক্তে লেখা ইতিহাস
-রমা পোদ্দার
রক্ত দিয়ে লিখা এই ইতিহাসের কথা
বলতে গেলে আজও প্রাণে লাগে ব্যথা।
রক্তের অক্ষর যেন কথা বলে
ব্যথার বীনা বুকে বেজে চলে।
জঘন্য অত্যাচার আর বর্বরতার ইতিহাস
সেই রক্তে রাঙানো শহীদের লাশ।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে কাঁপা হাতে
আজও যেন তারা কথা বলে আমাদের সাথে।
কত অত্যাচার, কত অনাচার আর-
কত যে অবিচার করেছে হিসাব নেই তার।
সেই দেশ বিভাগের পর থেকে
পশ্চিমারা পূর্বদের জিম্মি করে রাখে।
পশ্চিমারা ছিল মালিক যেন,পূর্বরা চাকর
নিজেদের গড়া সম্পদেও পূর্বদের ছিল না অধিকার।
এদেশে জন্মানো ফসল নেয়া হত পশ্চিম পাকিস্তানে,
আদেশের হেরফের হলে তারা পূর্বদের মারত প্রাণে।
বায়ান্ন সালে তারা আবার নতুন ফন্দি আটল
বাঙালিদের অস্তিত্ব শেষ করতে চাইল।
উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করে বাংলাকে চাইল নিতে কেড়ে,
বাঙালিরা রক্ষা করল ভাষা প্রাণপণে লড়ে।
তবুও তাদের অত্যাচার হল না বন্ধ
অশিক্ষা, কুশিক্ষায় তারা বাঙালিদের করল অন্ধ।
৪৭ থেকে ৭১ টানা চব্বিশ বছর ধরে,
কতই না অত্যাচার তারা আমাদের করে।
অত্যাচার, শাসন ও শোষণে অতিষ্ঠ সারাদেশ,
গোলাভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ সব শেষ।
অত্যাচারের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে
দামাল ছেলেরা ছুটে এল অস্ত্র হাতে।
কৃষক, মজুর, ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ, ই.পি.আর.
হাতে সবার অস্ত্র আর কন্ঠে বজ্র হুংকার।
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অবশেষে
ফিরে এলো স্বাধীনতা আমাদের এই দেশে।
ত্রিশ লক্ষ শহীদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে
লিখেছি এক ইতিহাস আমরা ভাঙ্গা মন নিয়ে।
আছে সে ইতিহাস আজও জীবন্ত
আদি আছে তার, নেই কোন অন্ত।
প্রতি বাঙালি আজও তার অন্তর প্রাণে
লিখে রেখেছে সে ইতিহাস আনমনে।
ইতিহাস কোটি বাঙালির কথা কয়
রক্তে গড়া সেই ইতিহাস কভু ভুলবার নয়। ।
বিষন্ন খেয়ালে
- রমা পোদ্দার
দুই
আজ তিনদিন হয়ে গেল খেয়া জ্বর আর মাথাব্যাথার সাথে লড়াই করে টিকে আছে। মাঝে মাঝে রাতের বেলা ঘুম ভেঙে গেলে খুব ভয় লাগে। তবুও সে কাউকে ফোন করেনি বা কারো ফোন রিসিভও করেনি। কি হবে কাউকে জানিয়ে? নিজের কষ্টের কথা বলে নিজেকে আরো ছোট করার কোন ইচ্ছা খেয়ার নেই। বড় অভিমান হয় নিজের সাথে। কারো ভালবাসার যোগ্য করে তুলতে পারল না নিজেকে! অন্যদিকে অনিতা, নিজের স্বামী নিয়ে সুখে সংসার করছে আবার প্রাক্তন প্রেমিকের সাথেও দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর চেয়ে তারা দুজন বিয়ে করে নিলেও তো হতো। তাহলে খেয়ার জীবনটা এভাবে নষ্ট হতো না। জীবনের এই চরম দিনগুলো হয়তো দেখতে হতো না।
হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে চমকে উঠল। কে হতে পারে? বিপুল ফিরে এসেছে?
দুইবার কে কে বললেও কেউ বাইরে থেকে কোন উত্তর না দেওয়ায় দরজা খুলে দিল।
- ( অবাক হয়ে), শামীম সাহেব, আপনি?
- আসতে নেই?
- না, মানে, আপনি না দেশের বাইরে গিয়েছেন?
- গিয়েছিলাম, চলে এসেছি। অনিতা আর বিপুল ফেরেনি, কক্সবাজার থেকে?
মাথায় হঠাৎ সজোরে কেউ আঘাত করলেও এত অবাক হতো না, যতটা হয়েছে শামীমের কথা শুনে।
- আপনি জানতেন যে ওরা কক্সবাজার গিয়েছে?
- হ্যা। জানবো না কেন? In fact আমিই তো ওদের হোটেল রুম বুক করে গিয়েছিলাম। আপনাকেও নিয়ে যেতে বলেছিলাম বিপুলকে। কিন্তু ও বলল, আপনি comfort ফিল করবেন না। তাই ওরাই গিয়েছ।
খেয়া ভাবতে পারছে না। কেমন স্বামী রে বাবা? নিজের বউকে অন্যের সাথে হোটেল রুম বুক করে বেড়াতে পাঠিয়ে দেয়? এটাই কি আধুনিকতা নাকি আধুনিকতার আড়ালে অন্য কিছু আছে, যা খেয়া জানেনা বা ধারনাও করতে পারছে না।
- বসতে বলবেন না ভিতরে গিয়ে?
- না, মানে বাসায় আর কেউ নেই তো। আপনি বরং বিপুল ফিরে এলে আসুন।
- ঠিক আছে, বলে এক পা এগুতেই দেখল বিপুল আর অনিতা আসছে।
- ও, শা....মীম তুমি চলে এসেছ?
অনিতার ঢং দেখে রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে খেয়ার।
- শামীম, বাসায় চলেন, বলে বাসার দিকে পা বাড়াল বিপুল। বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে।
- না। এখন আর যাবনা। একটু আগে গিয়েছিলাম। অবশ্য, আপনার বউ বাসার ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। দরজা থেকেই বিদায় করে দিয়েছে
- কি বলেন, এত বড় সাহস ওর। আমার বাসায় আপনাকে ঢুকতে দেয়নি? দেখাচ্ছি মজা। চলেন, ভাই, চলেন। হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে জোরে জোরে কলিংবেল চাপতে লাগল।
অনিতা কাছেই ছিল। সাথে সাথেই দরজা খুলে দিল।
- শামীম সাহেব কে ঘরে ঢুকতে দাওনি কেন?
- তোমার মত হতে পারিনি বলে।
কিছু বুঝে উঠার আগেই ঠাস করে এক চড় বসিয়ে দিল বিপুল খেয়ার গালে।
তিনদিনের জ্বর, নাওয়া খাওয়ার ঠিক নেই, প্রচন্ড দুর্বল। মাথা ঘুরে পড়ে জ্ঞান হারাতে সময় লাগলো না।
চলবে......
বিষন্ন খেয়ালে
রমা পোদ্দার
এক
কদিন থেকে মনটা খুব খারাপ। কিছু ভাল লাগেনা। শরীরটাও ভাল যাচ্ছে না। বিছানার সাথে লেপ্টে পড়ে থাকতে ইচ্ছা করে। খুব দুর্বল লাগে। মনে হয় মৃত্যু খুব সন্নিকটে। বুকের ভেতরটা হূহূ করে। দলা বেঁধে থাকা কান্না গলায় আটকে থাকে।
চোখের জলে বালিশ ভেজাতে ভেজাতে কথন যে সকাল হয়ে গেছে টের পায়নি খেয়া। আজ মনে হচ্ছে আরো খারাপ লাগছে। কেন এমন হচ্ছে? কার জন্য এত কষ্ট পাচ্ছে সে?
জীবনে কোন কিছুই খুব সহজে পায়নি খেয়া। নিজের পছন্দের ছেলের সাথে বিয়ে দিতে আপত্তি ছিল বাবা মায়ের। ভেবেছিল পালিয়ে যাবে । কিন্তু কার সাথে পালাবে? যাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্নে বিভোর ছিল সে তার মায়ের পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করে হানিমুনে চলে গিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বাবা মার পছন্দ করা ছেলেকেই বিয়ে করতে বাধ্য হলো। বিয়ের পর বুঝতে পারল সে এখানেও অবাঞ্ছিত। স্বামী তার প্রাক্তন প্রেমিকা অনিতার সাথে এখনও সম্পর্ক রেখে চলেছে। অনিতার স্বামী ব্যস্ত মানুষ, এগুলো নিয়ে তার কোন মাথাব্যাথা নেই। বরং সে ব্যস্ততার কারনে অনিতাকে নিয়ে বের হতে না পারলে বিপুল মানে খেয়ার স্বামীকেই দায়িত্ব দেয় অনিতাকে নিয়ে বেড়িয়ে আসার। কি অদ্ভুত!
ঘুম ভাঙতেই লক্ষ্য করলো, বিপুল রেডি হচ্ছে। সাড়ে ছয়টা বাজে মাত্র।
সকাল সকাল রেডি হয়ে কোথায় যাচ্ছ? — খেয়া জানতে চাইতেই খেকিয়ে উঠলো বিপুল।
- আমি কোথায় যাচ্ছি, সেটা দিয়ে তোমার কি দরকার?
- না, এমনি। আমার শরীরটা ভাল লাগছে না।
- আমাকে বাইরে যেতে দেখেই তোমার শরীর খারাপ হয়ে গেল? আরেকটু জোরালো কোন বাহানা বানাও। নাহলে আমাকে আটকানো যাবে না।
- আমি তোমাকে আটকাতে চাইনি। বিশ্বাস কর, আমার শরীরটা সত্যিই অনেক খারাপ।
- বাপের বাড়ি চলে যাও।
- কি বলছ তুমি এসব?
- আমি অনিতাকে নিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছি কয়েকদিনের জন্য।
- আর শামীম ভাই মানে অনিতার বর?
- শামীম অফিসিয়াল ট্যুরে থাইল্যান্ড গেছে এক সপ্তাহের জন্য।
খেয়া বলার মত কোন ভাষা খুঁজে পেলনা। বাবা মা কি দেখে, কোন খোঁজখবর না নিয়েই বিয়ে দিয়েছে? এতই বোঝা হয়ে গিয়েছিল সে? ভাবতে ভাবতেই কেমন মাথা ঘুরে চোখটা বন্ধ হয়ে এলো।
চলবে........
লহ সালাম
-রমা পোদ্দার
প্রিয় পুত্রের জান কোরবান করে
হলে শহীদ জননী এই দেশের তরে।
দেশ ছিল তোমার কাছে অন্তর-সম
তারই তরে উৎসর্গ করলে পুত্র-প্রিয়তম।
স্নেহ, মায়া-মমতার বন্ধন ভুলে
নিজ হাতে পুত্রের হাতে দিলে অস্ত্র তুলে।
স্বাধীন করতে দেশ রাখল অবদান
পুত্র তোমার দিয়ে নিজ প্রাণ।
শত কষ্ট, শত ব্যথা বুকে নিয়ে
দেশটাকে গড়েছ তুমি ভালোবাসা দিয়ে।
বুকে বয়ে গেছে নিরব অশ্রুর ঢেউ,
তবু সে কথা কোনোদিনও জানতে পারেনি কেউ।
জানতে তুমি, ছিল তোমার এক মরণব্যাধি
দুরারোগ্য সে ক্যান্সারও তোমায় রাখতে পারেনি বাধি।
অকপটে তুমি করে গেছ কাজ এই দেশেরই জন্য
ভালোবেসে তুমি নিরন্ন মানুষের মুখে তুলে দিয়েছ অন্ন।
আজ তুমি নেই এই ধরনীতে আমাদের মাঝে
তবুও তোমার সে সাহসী পদধ্বনি আজো রয়ে গেছে।
হৃদয়ের গভীর থেকে তোমায় জানাই সালাম,
চিরস্মরণীয়, বরণীয় মাতা তুমি জাহানারা ইমাম।।
রাজাকারের অবসান চাই
-রমা পোদ্দার
রাজাকারে রাজাকারে ছেয়ে গেছে দেশটা
কেউ জানেনা কি হবে এর শেষটা।
কেউবা বসে ভাবছে কিছু, গালে দিয়ে হাত
ঘুম আসেনা চোখে, কেটে যায় রাত।
নির্বাচনে জিতবে কে চিন্তা যে সবার
স্বৈরাচারী সরকারের বুঝি পতন হবে এবার।
সুজলা সুফলা দেশটাতে আজ কত দুর্যোগ,
সাধারণ মানুষ পোহাচ্ছে কত দুর্ভোগ।
নগণ্য মানুষের তো কোন দোষ নাই,
তাইতো সবাই এই অবস্থার শেষ চাই।
বাংলার শোভা
-রমা পোদ্দার
গাছের কথা শুনবে, না পাতার কথা ?
গাছ যত সুন্দর, পাতা তার চেয়ে বেশি,
এর চেয়েও বেশি সুন্দর আমার স্বদেশী।
পথ সুন্দর, ঘাট সুন্দর, আরো সুন্দর বন
এর চেয়েও বেশি সুন্দর বাংলার মানুষের মন।
ফসল সুন্দর, মাঠ সুন্দর, সুন্দর দেশের চাষী
এর চেয়েও বেশি সুন্দর কৃষক বউয়ের হাসি।
ঝাউ বন সুন্দর, ঝাউয়ের মাঁচা সুন্দর, সুন্দর ঝাউ ফুল
এর চেয়েও বেশি সুন্দর কৃষাণীর নাকফুল।
ফুল সুন্দর, পাখি সুন্দর, সুন্দর পাখির গান,
এর চেয়েও বেশি সুন্দর ক্ষেতের নতুন ধান।
পুকুর সুন্দর, নদী সুন্দর, সুন্দর নদীর পানি,
এর চেয়েও বেশি সুন্দর কৃষাণীর হাসি ভরা মুখখানি ।
আকাশ সুন্দর, বাতাস সুন্দর, সুন্দর মাঠের ধার,
এর চেয়েও বেশি সুন্দর মানুষ আমার বাংলার ।।
বাংলার কৃষক
-রমা পোদ্দার
গাছে গাছে আম, কাঁঠাল, ক্ষেত ভরা ধান,
কৃষাণীর চোখে স্বপ্ন আর কৃষকের কন্ঠে গান।
বাতাসে কঁচি ধান গাছ যখন উঠে দুলে,
চেয়ে থাকে কৃষাণী, তার সব কাজ ভুলে।
এই ধান যেদিন ফসল হয়ে ঘরে উঠবে
কৃষাণ-কৃষাণীর মুখে সেদিন হাসি ফুটবে ।
নতুন ধানের গন্ধে ভরে যাবে মন
সেই খুশিতে খুশি কৃষক বধূ সারাক্ষণ।
ধীরে ধীরে পাক ধরে কঁচি ধানের আগায়
সেই রং কৃষাণীর মনে আনন্দ জাগায়।
তারপর একদিন মহা সমারোহে-
পাকা ধানের মিষ্টি গন্ধ বাতাসে বহে।
সোনালী ফসল কেটে আনে কৃষক
পথপানে চেয়ে থাকে কৃষাণীর দু’ চোখ।
নবান্নের উৎসবে সয়লাব হয় কৃষকের ঘর
এমনি করে দিন কেটে যায় কৃষাণ-কৃষাণীর।
দিন চলে যায়, মাস চলে যায়, বছর যায় ঘুরে
সবুজে-শ্যামলে সাজিয়ে তোলে কৃষক আমার বাংলারে।।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Address
Khilgaon Chowdhury Para
Dhaka
1219