12/10/2020
বিষন্ন খেয়ালে
- রমা পোদ্দার
দুই
আজ তিনদিন হয়ে গেল খেয়া জ্বর আর মাথাব্যাথার সাথে লড়াই করে টিকে আছে। মাঝে মাঝে রাতের বেলা ঘুম ভেঙে গেলে খুব ভয় লাগে। তবুও সে কাউকে ফোন করেনি বা কারো ফোন রিসিভও করেনি। কি হবে কাউকে জানিয়ে? নিজের কষ্টের কথা বলে নিজেকে আরো ছোট করার কোন ইচ্ছা খেয়ার নেই। বড় অভিমান হয় নিজের সাথে। কারো ভালবাসার যোগ্য করে তুলতে পারল না নিজেকে! অন্যদিকে অনিতা, নিজের স্বামী নিয়ে সুখে সংসার করছে আবার প্রাক্তন প্রেমিকের সাথেও দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর চেয়ে তারা দুজন বিয়ে করে নিলেও তো হতো। তাহলে খেয়ার জীবনটা এভাবে নষ্ট হতো না। জীবনের এই চরম দিনগুলো হয়তো দেখতে হতো না।
হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে চমকে উঠল। কে হতে পারে? বিপুল ফিরে এসেছে?
দুইবার কে কে বললেও কেউ বাইরে থেকে কোন উত্তর না দেওয়ায় দরজা খুলে দিল।
- ( অবাক হয়ে), শামীম সাহেব, আপনি?
- আসতে নেই?
- না, মানে, আপনি না দেশের বাইরে গিয়েছেন?
- গিয়েছিলাম, চলে এসেছি। অনিতা আর বিপুল ফেরেনি, কক্সবাজার থেকে?
মাথায় হঠাৎ সজোরে কেউ আঘাত করলেও এত অবাক হতো না, যতটা হয়েছে শামীমের কথা শুনে।
- আপনি জানতেন যে ওরা কক্সবাজার গিয়েছে?
- হ্যা। জানবো না কেন? In fact আমিই তো ওদের হোটেল রুম বুক করে গিয়েছিলাম। আপনাকেও নিয়ে যেতে বলেছিলাম বিপুলকে। কিন্তু ও বলল, আপনি comfort ফিল করবেন না। তাই ওরাই গিয়েছ।
খেয়া ভাবতে পারছে না। কেমন স্বামী রে বাবা? নিজের বউকে অন্যের সাথে হোটেল রুম বুক করে বেড়াতে পাঠিয়ে দেয়? এটাই কি আধুনিকতা নাকি আধুনিকতার আড়ালে অন্য কিছু আছে, যা খেয়া জানেনা বা ধারনাও করতে পারছে না।
- বসতে বলবেন না ভিতরে গিয়ে?
- না, মানে বাসায় আর কেউ নেই তো। আপনি বরং বিপুল ফিরে এলে আসুন।
- ঠিক আছে, বলে এক পা এগুতেই দেখল বিপুল আর অনিতা আসছে।
- ও, শা....মীম তুমি চলে এসেছ?
অনিতার ঢং দেখে রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে খেয়ার।
- শামীম, বাসায় চলেন, বলে বাসার দিকে পা বাড়াল বিপুল। বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে।
- না। এখন আর যাবনা। একটু আগে গিয়েছিলাম। অবশ্য, আপনার বউ বাসার ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। দরজা থেকেই বিদায় করে দিয়েছে
- কি বলেন, এত বড় সাহস ওর। আমার বাসায় আপনাকে ঢুকতে দেয়নি? দেখাচ্ছি মজা। চলেন, ভাই, চলেন। হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে জোরে জোরে কলিংবেল চাপতে লাগল।
অনিতা কাছেই ছিল। সাথে সাথেই দরজা খুলে দিল।
- শামীম সাহেব কে ঘরে ঢুকতে দাওনি কেন?
- তোমার মত হতে পারিনি বলে।
কিছু বুঝে উঠার আগেই ঠাস করে এক চড় বসিয়ে দিল বিপুল খেয়ার গালে।
তিনদিনের জ্বর, নাওয়া খাওয়ার ঠিক নেই, প্রচন্ড দুর্বল। মাথা ঘুরে পড়ে জ্ঞান হারাতে সময় লাগলো না।
চলবে......