06/03/2026
#ইরানের_প্রাকৃতিক_মানচিত্র 🇮🇷
🔘ইরান মূলত একটি পাহাড়ি রাষ্ট্র, যা প্রধান দুটি পর্বতমালা দ্বারা বেষ্টিত।
১. জাগরোস পর্বতমালা এবং
২. আলবোর্জ পর্বতমালা।
এই পর্বতমালাদ্বয় একটি শুষ্ক কেন্দ্রীয় মালভূমিকে ঘিরে রেখেছে। জাগরোস পর্বতমালা উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিস্তৃত। অন্যদিকে, আলবোর্জ পর্বতমালা কাস্পিয়ান সাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত, যার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো মাউন্ট দামাভান্দ (১৮,৪০৬ ফুট)।
06/03/2026
🔥 ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন + প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক + ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি
📌 ১০ম থেকে ৫০তম বিসিএস পর্যন্ত আসা সকল বাংলা প্রশ্ন একসাথে
✔ Previous BCS Bangla MCQ
✔ শিক্ষক নিবন্ধন প্রস্তুতি
✔ প্রাইমারি প্রধান শিক্ষক প্রস্তুতি
📥 সম্পূর্ণ PDF CareerLab পেইজের কমেন্ট বক্সে দেওয়া আছে — এখনই ডাউনলোড করুন।
🔁 পোস্টটি শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিন, পরীক্ষার আগে কাজে লাগবে।
03/03/2026
আমার বিশ্লেষণ অনুযায়ী যুদ্ধ যেভাবে আগাচ্ছে, তাতে আমি স্পষ্টই মনে করি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরান ভালো অবস্থায় আছে।
বাস্তবতা হল, যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের মধ্যে চলা এই যুদ্ধ এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়-সংঘাতের যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। এবং ইরানিরা এই সংঘাতের জন্য ২০ বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
তাদের ধর্মীয় ভাবনায় তাদের কাছে এটা 'গ্রেট শয়তান'-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
ইতিমধ্যে তাদের কয়েকবার অনুশীলনেরও সুযোগ হয়েছে। গত জুনে ১২ দিনের যে যুদ্ধ, সেখানে ইরানিরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষেরই হামলার সক্ষমতা খুঁটিয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছে।
এরপর তাদের হাতে প্রায় আট মাস সময় ছিল নতুনভাবে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হওয়ার।
তাদের প্রক্সি শক্তিগুলিও—হুথি, হিজবুল্লাহ, হামাস এবং শিয়া মিলিশিয়ারা, এই সময়ের মধ্যে আমেরিকান মানসিকতা ভালোভাবে বুঝে নিয়েছে।
এখন তাদের কাছে একটা মোটামুটি পরিষ্কার কৌশল আছে৷ কীভাবে আমেরিকান সাম্রাজ্যকে ধীরে ধীরে দুর্বল করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত ধ্বংস করতে হবে।
ইরান এখন শুধু সামরিকভাবে লড়ছে না, তারা কার্যত পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তারা জিসিসি বা গালফ দেশগুলোকে লক্ষ্য করছে।
জিসিসি দেশ ও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ছাড়াও সেসব ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো তারা লক্ষ্য করছে। তারা লজিস্টিকস অচল করে দিচ্ছে।
ধীরে ধীরে তারা পানি লবণমুক্তকরণ প্ল্যান্টগুলোর দিকেও যেতে পারে৷ যেগুলো এইসব দেশের জীবনরেখা, কারণ তাদের নিজস্ব মিষ্টি পানির উৎস নেই।
গালফ অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ পানির জোগান আসে ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট থেকে।
একটা ড্রোন, ধরুন যার দাম ৫০ হাজার ডলার—যদি সৌদি আরবের রিয়াদে গিয়ে একটা বড় ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট ধ্বংস করে দেয়, রিয়াদ প্রায় এক কোটি মানুষের শহর—দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা পানিশূন্য হয়ে যাবে।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করেছে। গালফ দেশগুলো তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ খাদ্য আমদানি করে সমুদ্রপথে, হরমুজ হয়ে।
ফলে অনেকে এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির ব্যাঘাত নিয়ে কথা বলছে, কিন্তু ইরান বাস্তবে সৌদি আরব, ইউএই, বাহরাইন, কাতার এইসব দেশের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গালফ দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মূল একটা স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে।
তারা পেট্রোডলার আয় করে, তারপর সেই পেট্রোডলার আমেরিকান অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করে, বিশেষত শেয়ারবাজারে।
এখন আমরা জানি, পুরো আমেরিকান অর্থনীতি অনেকটাই দাঁড়িয়ে আছে এআই-নির্ভর বিনিয়োগের ওপর। ডেটা সেন্টার, প্রযুক্তি অবকাঠামো, এইসব।
এই বিনিয়োগের বড় অংশও আসে গালফ দেশগুলো থেকে।
যদি গালফ রাষ্ট্রগুলো তেল বিক্রি করতে না পারে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের এআই বুদবুদে অর্থের জোগান দিতে না পারে—তাহলে এই বুদবুদ শিগগিরই ফেটে যাবে।
— জিয়াং শুয়েচিন
কানাডিয়ান শিক্ষাবিদ ও লেখক
02/03/2026
কুয়েতিরা বিশ্বের সবচেয়ে সহজ-সরল মানুষ। নিজেদের আকাশে যুদ্ধবিমান দেখেই উত্তেজিত হয়ে ইরানি যুদ্ধবিমান মনে করে "ফ্রেন্ডলি ফায়ার" করে সেগুলোকে ফেলে দিয়েছে। তাও একটা না। পরপর তিনটা।
অতি উত্তেজনায় ওদের মনেই ছিল না যে ইরানের কাছে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান নাই।
বা ইরানি যুদ্ধবিমান ওদের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে ওরা অনেক আগে থেকেই টের পেত।
বা ওদের ভূমিতে আমেরিকার ঘাঁটি আছে এবং ওদের আকাশ সীমায় আমেরিকানদের প্লেন ওড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বেচারা আরবরা যে সহজ-সরল, বোকাসোকা হয়, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে? আমেরিকার উচিত প্রতিটা আরব শহরে একটা করে ঘাঁটি স্থাপন করা।
স্যরি।
01/03/2026
দুবাইতে অফিসিয়ালি ১২ লাখ বাংলাদেশী থাকে। আনঅফিসিয়ালি আরো কয়েক লাখ হবে। দুবাই থেকে প্রতি বছর রেমিট্যান্স আসে ৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
কাতার একটা ছোট দেশ। এই ছোট দেশেই ৫ লাখের কাছাকাছি বাংলাদেশী থাকে যারা মোস্টলি শ্রমিক। প্রতি বছর ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসে কাতার থেকে।
আমেরিকায় এখন ৫ লাখের বেশি বাংলাদেশী থাকে। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে এখন এভারেজে ৪০ হাজার+ স্টুডেন্ট আমেরিকা পড়তে যায়। এদের সবার টার্গেট থাকে কোন না কোন ভাবে আমেরিকায় থেকে যাওয়া। আমেরিকা থেকে প্রতি বছর এরাউন্ড ৩-৫ বিলিয়ন ডলার শুধু রেমিট্যান্স আসে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম টপ ডেস্টিনেশন আমেরিকা। প্রতি বছর শুধু আমেরিকাই ৮ বিলিয়ন ডলারের মালামাল কিনে আমাদের কাছ থেকে।
ইরানে বাংলাদেশী থাকে ২,০০০ থেকে ২,৫০০। এর মধ্যে এম্বাসীর সাথে কানেক্টেড লোকজনই ৭০০ এর মত।
আজকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের উপর আগ্রাসন নিয়ে প্রেস রিলিজ দিয়েছে যা অনেকেরই পছন্দ হয় নাই। কারন, এখানে মারমার কাটকাট ভাষা নাই। আমেরিকাকে তীব্র নিন্দা করে কিছু বলা হয় নাই। উল্টা দুবাই, কাতারে ইরানের মিসাইল হামলার সমালোচনা করা হইছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন এই ধরনের স্ট্যান্ড নিছে আশা করি সেটা উপরের স্ট্যাটিসটিকস থেকে পরিষ্কার।
সংযোগটা দেশের অর্থনীতির সাথে, মানুষের কর্মসংস্থানের সাথে। দুই দিন আগে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দুবাইয়ের কাছে অনুরোধ জানানো হইছে বাংলাদেশিদের জন্য আবারো লেবার মার্কেট খুলে দেয়ার জন্য।
রাস্ট্র হিসেবে আপনার না আছে কোন ব্যাপক প্রাকৃতিক সম্পদ, না আছে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা আর না আছে গেম চেঞ্জিং টেকনোলজি। আপনি প্রতি পদে পদে অন্যের উপর নির্ভরশীল। সো আপনি গরীব হলে আপনার শক্তিশালী নৈতিক অবস্থান প্রকাশ সুযোগ কমে আসে। দিন শেষে রাস্ট্রকে আগে চিন্তা করতে হয় আমার ২০ কোটি নাগরিকদের পেটে লাথি পড়ে এমন কিছু করা যাবে না।
দিল্লী না ঢাকা স্লোগান দিলে ফেসবুকে অনেক লাইক পড়ে। কিন্তু যেই মোমেন্ট দিল্লীর ভিসা সেন্টার খুলে দেয়া হবে সেই মুহুর্তে যমুনা ফিউচার পার্কে দিল্লীর ভিসা সেন্টারের লাইন কয়েক কিলোমিটার ছাড়ায় যাবে।
দিল্লীর বিরুদ্ধে দুইটা কড়া কড়া স্লোগান দেয়া সহজ। কিন্তু দিল্লীর মত চিকিৎসা ব্যবস্থা, আইটি হাব, বিজনেস হাব গড়ে তোলা কঠিন। দিল্লীর অর্থনৈতিক গুরুত্ব ইগ্নোর করা কঠিন।
আমেরিকাকে ২৪ ঘন্টা গালাগালি করা ছেলেটারও বিগেস্ট ড্রিম হচ্ছে তার পাসপোর্টে আমেরিকার একটা ভিসার সিল লাগানো।
কাজী নজরুল ইসলাম বলেছিলেন, দারিদ্র্য মানুষকে মহান করে। উনি ভুল বলেছিলেন। দারিদ্র্য কাউকে মহান বানাতে পারে না। দারিদ্র্যতা মানুষের নেগোসিয়েশন পাওয়ার কেড়ে নেয়, আত্নসন্মানবোধ কেড়ে নেয়, ন্যায্য কথা বলার সুযোগ কেড়ে নেয়। গরীব মানুষ সাধারণত ইজ্জত পায় না।
পকেটে টাকা না থাকলে প্রেমিকা, বউ, বন্ধু, বাপ-মা, আত্নীয় স্বজন কেউ গুনে না। একটা রাস্ট্র গরীব হলে তারেও অন্য কোন রাস্ট্র গুনে না।
দেশে যদি কোন বিপ্লব ঘটাতে হয় সেই বিপ্লবটা হতে হবে অর্থনৈতিক আর শিক্ষার বিপ্লব। দেশের মানুষের ভাগ্য সেদিনই বদলাবে যেদিন আমরা অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে আগায় যাব। এটা ছাড়া বাকী সব আলাপ, সব বিপ্লব আজাইরা আলাপ।
(Collected)
01/03/2026
লোকেরা ইরানকে মনে করে ধর্মতন্ত্র, কারণ খামেনির পোশাক জুব্বা, রাষ্ট্রের ভাষা ধর্মতাত্ত্বিক। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, খামেনি ছিলেন একজন যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধশেষে তিনি বুঝেছিলেন, ইরান দুর্বল একটি রাষ্ট্র, একে সুরক্ষিত করা প্রয়োজন। ইসলাম ও জাতীয়তাবাদকে আলাদা না করে এটাকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার উপযোগী করে তুলতে হবে।
আলজাজিরাকে কথাগুলো বলেছেন, ইরানবিশেষজ্ঞ Iran’s Grand Strategy: A Political History বইয়ের লেখক ভালি নাসর।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পরের বছরেই সেক্যুলার ইরাক যুদ্ধ বাঁধিয়ে বসে। টানা আট বছরের সেই যুদ্ধে সাদ্দাম হোসেনের পাশে দাঁড়ায় পশ্চিমা বিশ্ব। ইরান ছিল কার্যত একা। তখন থেকে সর্বোচ্চ নেতা খোমেনির বিপ্লবী আদর্শকে সামরিক শক্তিমত্তায় রূপান্তর করতে চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট খামেনি।
১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমনির মৃত্যুর পর এই দায়িত্ব পান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তারপর ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (IRGC) প্যারামিলিটারি বাহিনী থেকে শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনীতে পরিণত করেন। ইরানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় আইআরজিসি। দেশের চারপাশে প্রক্সি যুদ্ধ চালাতেও নানা গ্রুপকে সহায়তা করতে থাকে তারা।
খামেনি চেয়েছিলেন ইরানকে আত্মনির্ভরশীল করতে, যাতে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখেও নিজেদের অর্থনীতি ঠিক রাখতে পারে। কিন্তু সামরিক খাত নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকায় অর্থনৈতিক অগ্রগতি সেভাবে হয়নি। আবার তরুণদের চাহিদাভিত্তিক প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কারও করে উঠতে পারেনি। ফলে ইরানিদের একটা অংশ আর্থিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে সরকারের উপরে হতাশ। আবার আরেকটা সেক্যুলার গ্রুপ নারী অধিকার, লিবারেল মানবাধিকার এসব নিয়ে ক্ষুব্ধ। ঘরের বিদ্রোহ দমন করা, বাইরের শত্রু থেকে নিরাপত্তা দেওয়া, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভর হওয়া - এসবই ছিল চ্যালেঞ্জ।
খামেনি বেশ কয়েকবার বড় বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। ২০০৯ সালে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে, ২০২২ সালে নারী অধিকার প্রশ্নে, সর্বশেষ ২০২৩ সালে অর্থনৈতিক সঙ্কটে। খামেনির চিন্তা ছিল দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি অর্জন, কিন্তু তরুণরা চায় নগদ খেয়ে পরে ভালো থাকা।
একসময় তরুণরা খামেনির ভক্ত ছিল, যখন তারা হতাশ ছিল শাহ পাহলবির রাজতন্ত্র নিয়ে। ১৯৫৩ সালে আমেরিকা ও ব্রিটেন পাহলবি পরিবারকে ক্ষমতায় এনেছিল মোসাদ্দেক সরকারকে হটিয়ে। কারণ, তখনকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেক চেয়েছিলেন দেশের তেলশিল্প জাতীয়করণ করতে, সেটা পশ্চিমারা করতে দেয়নি।
পাহলবি রাজতন্ত্র যখন জনগণের উপরে দমনপীড়ন শুরু করে, তখন তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছিলেন ধর্মীয় বক্তা খামেনি। পুলিশ তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার করেছিল, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্বাসনে রেখেছিল। ১৯৭৮ সালে পাহলবির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলে তিনি ফিরে এসে আন্দোলনে যোগ দেন।
১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন আলী খামেনি। কৈশোর বয়স থেকে ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন এবং রাজনৈতিভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বাবা ছিলেন ধর্মীয় নেতা, মা তাকে কুরআনের পাশাপাশি সাহিত্য ও কবিতায় আগ্রহী করে তুলেছিলেন। খামেনি যখন রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যেতেন, তাতে সমর্থন ও উৎসাহ দিতেন মা।
১৯৭৯ সালে বিপ্লবের পর গুরুত্বপূর্ণ নেতা হন তিনি। প্রতিরক্ষমন্ত্রী থেকে বিপ্লবী গার্ডের নেতা, তারপর প্রেসিডেন্ট। খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার মতো ধর্মীয় পদবি খামেনির ছিল না। তবে দেশটির কাউন্সিল সংবিধান সংশোধন করে যোগ্যতা শিথিল করে প্রাগমেটিক নেতা হিসেবে খামেনিকে মনোনীত করে। খামেনি একইসাথে প্রতিরোধ এবং সমঝোতার নীতিতে চলতেন।
৮৬ বছর বয়সে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আমেরিকার হামলায় শাহাদাত বরণ করলেন।
01/03/2026
ভাবুন তো, একজন চিকিৎসক শুধু বলেছিলেন---
'রোগী ছোঁয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন।'আর সেই কথার জন্যই তাঁকে পাগল ঘোষণা করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল! এই মানুষটির নাম "ইগনাজ স্যামেলওয়াইজ", তিনি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রথম “হাইজিন হিরো”।
অষ্টাদশ শতকে ভিয়েনার এক হাসপাতালে প্রতিদিন মারা যেত অসংখ্য প্রসূতি। কেউ কারণ জানতো না। ইগনাজ দেখলেন—ডাক্তাররা মর্গে মৃতদেহ পরীক্ষা করে সোজা রোগী দেখতে যান, হাত না ধুয়েই। তিনি নির্দেশ দিলেন—“হাত ক্লোরিনে ধুয়ে নিন।”
অলৌকিকভাবে প্রসূতি মৃত্যুর হার কমে গেল ৯৯%। কিন্তু তখনকার ডাক্তার সমাজ বিশ্বাস করতো—রোগ হয় দুষ্ট আত্মার কারণে, জীবাণুর কারণে নয়। ফলে তাঁকে ‘পাগল’ বলা হলো, চাকরি গেল, শেষে তাঁকে মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
কিন্তু সত্য চিরকাল টিকে থাকে। বহু বছর পর লুই পাস্তুর ও জোসেফ লিস্টার তাঁর তত্ত্ব প্রমাণ করেন—রোগ আসলে জীবাণু থেকেই হয়। আজ আমরা যেভাবে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার, স্টেরিলাইজার ব্যবহার করি—সবকিছুর শিকড় সেই স্যামেলওয়াইজের ভাবনায়।
আজ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে তাঁকেই মনে করি—যিনি নিজের প্রাণ দিয়ে শিখিয়েছিলেন,
“একটা পরিষ্কার হাত, এক পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে।”
***Collected.
01/03/2026
মিজানুর রহমান এর পোস্ট।
১। একজন সাব ইন্সপেক্টর সরকারের একজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা।
আমি হলফ করে বলতে পারি একজন সাব ইন্সপেক্টর যে পরিমাণ পরিশ্রম করে দেশের অন্য কোন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা সেই পরিশ্রম করেনা। অথচ যেকোন থানায় গিয়ে দেখবেন বসে কাজ করার জন্য তার একটা নির্দিষ্ট ডেস্কও পর্যন্ত নাই। বসার চেয়ারটাও নাই।।
এখন মামলার সকল কিছু অনলাইনে লিখতে হয়। তা তো মোবাইলে লিখা সম্ভব না। এজন্য যে ল্যাপটপ দরকার সেটা সরকার তাকে দেয়না। একটা ল্যাপটপ কিনার টাকা তার নিজেকেই ম্যানেজ করতে হয়।
২। আসামীরা অপরাধ করে পালিয়ে যায় রাঙামাটি, কক্সবাজার ইত্যাদি দূরের জিলায়। তাকে গ্রেফতার করে আনতে গেলে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়। সেটা তাকে নিজের পকেট থেকেই ম্যানেজ করা লাগে। এছাড়াও থানা এলাকায় সারাক্ষণ তাকে নিজের টাকায় তেল, গাড়ির খরচ বহন করে চলাফেরা করতে হয়।
৩। জনবল সংকটের কারণে থানার অধ্বস্তন অফিসারদেরকে দিন রাত টানা ডিউটি করতে হয়। পরিবারের কাছ থেকে মাসের পর মাস দূরে থাকতে হয় ছুটির অভাবে। গত নির্বাচনে প্রতিটা পুলিশকে ঘুম হারাম করে টানা ২ মাস কাজ করতে হয়েছে। অথচ একজন পোলিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার একদিন ডিউটি করে নির্বাচন উপলক্ষে তাদের চাইতে বেশি আর্থিক সম্মানী পেয়েছে।
এরকম হাজারো সমস্যায় জর্জরিত দেশের প্রত্যেকটা থানা। পুলিশের কাছ থেকে ভালো আউটপুট পেতে এইসব ব্যাপারে সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না করে পোশাক পরিবর্তনের নামে হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার কোন মানে দেখিনা। আশা করি সরকারের নীতিনির্ধারকেরা সেটা বুঝবেন।
01/03/2026
ছবিটি আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। ঘটানাটি ঘটেছিল দক্ষিণ কানাড়া জেলার একটি গ্রামে, ২০২১ সালে। একটি চিতাবাঘ একটি কুকুরকে তাড়া করে। প্রাণ বাঁচাতে কুকুরটি একটি খোলা দরজা দিয়ে বাথরুমে ঢুকে পড়ে। পিছু পিছু চিতাবাঘটিও সেখানে ছুটে যায়। বাড়ীর মালিক ঘটনাটি দেখতে পেয়ে, সাথে সাথে বাথরুমের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়।
ফলে প্রাণী দুটি ভিতরে আটকা পড়ে যায়। কুকুরটি ভয় পেয়ে এক কোণে চুপচাপ বসে পড়ে। প্রবল আতঙ্কে সে ঘেউ ঘেউ করার সাহস পর্যন্ত করেনি!
অন্যদিকে, যদিও চিতাবাঘটি ক্ষুধার্ত ছিল এবং কুকুরটিকেই তাড়া করছিল, সহজ শিকার সামনে পেয়েও সে কুকুরটির ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়ে বাথরুম থেকে বের হবার চেষ্টা চালাতে থাকে।
চিতাবাঘটি চাইলেই কুকুরটিকে মেরে ফেলতে পারত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারা দুজন দুই কোণে চুপচাপ বসে রইল। দীর্ঘ ২৮ ঘন্টা একসঙ্গে কাটানোর পরও চিতাবাঘটি কুকুরটিকে আক্রমণ করেনি। পুরোটা সময় সে ভীষণ শান্ত ছিল।
অবশেষে বন বিভাগ চিতাবাঘটিকে নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ট্র্যাঙ্কুলাইজার ডার্ট ব্যবহার করে তাকে বন্দি করে। দুটি প্রাণীকেই পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এখন প্রশ্ন হলো, যখন চিতাবাঘের জন্য কুকুরটিকে আক্রমণ করা এতো সহজ ছিল, তখন সে তা করল না কেন?
বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, বন্যপ্রাণীরা স্বাধীনতার ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যখনই তারা বুঝতে পারে যে, তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তখন তারা এতোটাই মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করে যে, তাদের স্বাভাবিক খাদ্যগ্রহণের প্রবৃত্তি পর্যন্ত ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে।
শিক্ষা: স্বাধীনতা ও সুখ একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। চিন্তার স্বাধীনতা, কাজের স্বাধীনতা, নিজের ইচ্ছামতো বাঁচার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে আপনি কাউকে যা কিছুই দেন তা কেন, সবই তার কাছে মূল্যহীন।
01/03/2026
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে: যুদ্ধের লাভ, সাধারণের ক্ষতি।
হরমুজ প্রণালী কেবল একটি সামুদ্রিক পথ নয়, এটি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু। হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ২০–২১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট পরিবাহিত হয়—যা বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
International Energy Agency সতর্ক করেছে, এই রুটে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে এবং মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
আমাদের ( বাংলাদেশের) মতো আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য এর অর্থ অত্যন্ত গুরুতর। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মানে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শিল্প উৎপাদনে চাপ এবং শেষ পর্যন্ত খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে ঊর্ধ্বগতি।
International Monetary Fund একাধিক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, তেলের মূল্য ১০% বৃদ্ধি পেলে উন্নয়নশীল দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ০.৪%–০.৬% পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে প্রবৃদ্ধি কমে গেলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়—যা “stagflation”-এর ঝুঁকি তৈরি করে।
সুতরাং হরমুজে অচলাবস্থা মানে শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নয়; এটি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, ডলার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক টানাপোড়েন।
28/02/2026
আমাদের শরীর দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি নিউট্রিনো কণা অতিক্রম করে যায়। কিন্তু আমরা কিছুই অনুভব করি না। এগুলো এমন কণা যা সূর্যে এবং ব্ল্যাক হোলে উৎপন্ন হয়। কিছু কণা বিগ ব্যাং-এর সময়ও তৈরি হয়েছিল এবং সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত মহাবিশ্বে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এদেরকে "ভূত কণা" (ghost particles) নাম দিয়েছেন, কারণ এদের ওজন ইলেকট্রনের তুলনায় প্রায় দশ লক্ষ গুণ কম। ইলেকট্রন নিজেই কত হালকা, কিন্তু এরা তার থেকেও দশ লক্ষ গুণ ছোট।
বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বে ফোটনের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যে কণা রয়েছে, তা হলো নিউট্রিনো কণা। এদের সংখ্যা এতটাই বেশি যে আমার এই লেখাটি পুরোপুরি পড়ে শেষ করার পর আপনার শরীর দিয়ে কোটি কোটি নিউট্রিনো অতিক্রম করে যাবে। আমরা এদের আটকাতে পারি না, কারণ এরা সূর্য থেকে আসছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, যদি সূর্য থেকে আসা নিউট্রিনোকে আটকাতে চাই, তাহলে প্রায় দশ কোটি কিলোমিটার পুরু সীসার দেয়াল লাগবে। তবুও অর্ধেক নিউট্রিনো সেই দেয়াল ভেদ করে চলে যাবে। অর্থাৎ আমরা কখনোই এদের পুরোপুরি আটকাতে পারব না। এরা অবিরাম বর্ষণ করছে, কিন্তু আমরা এদের দেখতে পাই না। এই কারণেই বিজ্ঞানীরা এদের "ভূত কণা" নাম দিয়েছেন।
এরা এমন অদ্ভুত কণা যে সর্বত্র বিদ্যমান, পুরো মহাবিশ্ব জুড়ে এরা ছড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানীদের ধাক্কা লেগেছিল যখন তারা দেখলেন যে সূর্যের কেন্দ্র থেকে পৃষ্ঠে পৌঁছাতে ফোটন অর্থাৎ আলোর হাজার হাজার বছর লাগে, অথচ নিউট্রিনো পৃষ্ঠে পৌঁছাতে মাত্র তিন সেকেন্ড সময় নেয়।
এর সুবিধা এই যে, যদি সূর্যের কেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটে, তাহলে আমরা মাত্র তিন সেকেন্ডের মধ্যে তা জানতে পারব। কারণ আমাদের ফোটনের জন্য হাজার বছর অপেক্ষা করতে হবে না, বরং নিউট্রিনো কণাগুলো অধ্যয়ন করব। এই কণাগুলো আমাদের চারপাশে রয়েছে, কিন্তু আমরা এদের দেখতে পাই না।
যেহেতু আমরা কুরআন মজীদের উপর ঈমান রাখি যে এটি আল্লাহ তা'আলার কালাম এবং এতে প্রতিটি কথা সত্য, কুরআনে জিনের উল্লেখ আছে। যাদের ব্যাপারে বলা আছে তারা আগুন থেকে তৈরি। আমার মনে হয় জিনরা হয়তো এমন কিছু কণা দিয়ে তৈরি, যেমন নিউট্রিনো কণা। নিউট্রিনো কণার সন্ধান পাওয়া এতটাই কঠিন যে এদের পিছনে ছুটতে গিয়ে বড় বড় বিজ্ঞানীদের ঘাম ছুটে যায়। এর মূল কারণ দুটি: এক, এরা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলে; দুই, এরা পদার্থের সাথে অত্যন্ত কম মিথস্ক্রিয়া করে। এই কারণে আমরা এদের ধরতে পারি না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন যে এই কণাগুলো আমাদের চারপাশে বিদ্যমান রয়েছে।
28/02/2026
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াত উল্লাহ আলি খামেনি কী বেঁচে আছেন?
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন- খামেনির বাসভবনে হামলার পর তার মৃত্যের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আবার ইসরাইলেরই এক সরকারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন- খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার মৃতদেহ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে- তাদের নেতা এখনও জীবিত আছেন।
কেন তার বেঁচে থাকা বা মৃত্যু নিয়ে এত লুকোচুরি খেলা? আপনারা জানেন, যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়েই হয় না, সাইকোলজিক্যাল বা মনস্তাত্বিকও হয়। ইসরাইল চাচ্ছে, খামেনির মৃত্যুর খবর যদি বেশি প্রচার করা যাবে তত তাড়াতাড়ি তাদের জয় হবে। অন্যদিকে ইরান কখনোই চাইবে না এমন খবর সত্য হলেও তা প্রচার বা প্রকাশ হোক। কারণ, যুদ্ধে সেনাপতির মৃত্যু সংবাদ দ্রুত পরাজয় ডেকে আনে।
এখন আপনিই বলুন- কোনটা আপনি বিশ্বাস করতে চান?