21/10/2023
সংশয় নিরসন - ১ম পর্ব
#মুসলিমদের_বিরুদ্ধে_কাফিরদেরকে_সাহায্য_করা_কী_কুফর_নয় ??
যুগে যুগে বিভিন্ন বিদআতি ফিরকা ও উলামায়ে সু'রা ইসলামি আকিদা বিকৃত করার চেষ্টা করেছে।
এরই অংশ হিসেবে তারা #মুসলিমদের_বিরুদ্ধে_কাফিরদেরকে_সাহায্য_করা__কুফর_নয়’- এমনটা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে।
তাদের এসব প্রচারণায় সাধারণ মুসলমানরা যেন বিভ্রান্তিতে না পড়েন এবং তারাও যেন কোন ওজর পেশ করতে না পারে, এই উদ্দেশ্যে আমরা তাদের সংশয়গুলোর বাস্তবতা উন্মোচন করে দিচ্ছি।
#প্রথম_সংশয় :
বিদআতিরা তাদের এই অপব্যাখ্যার পক্ষে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে #হাতিব_ইবনু_আবি_বালতাআ_রাদিয়াল্লাহু_আনহুর__ঘটনা। তারা এই ঘটনাকে কাটছাঁট করে উপস্থাপন করে জনমনে এই বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে যে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে সাহায্য করা কুফর নয়। এজন্য এই হাদিসটা আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করব। এখানে আমরা নিজের পক্ষ থেকে কোন কিছুই সংযোজন করবো না।
শরীয়ত যা বলে, শরীয়ত যেটাকে কুফর বলে সেটা আমরা নির্দ্বিধায় মেনে নেব। আর শরীয়ত যেটাকে কুফর বলেনি, আমরা নিজ থেকে সেটার উপর কুফরের শিরোনাম লাগাবো না।
এবার আমরা হাদিস উল্লেখ করছি,
আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে এবং যুবাইর ও মিকদাদ ইব্নু আসওয়াদ (রাঃ)-কে পাঠিয়ে বললেন, ‘তোমরা খাখ্ বাগানে যাও। সেখানে তোমরা এক মহিলাকে দেখতে পাবে। তার নিকট একটি পত্র আছে, তোমরা তার কাছ থেকে তা নিয়ে আসবে।’ তখন আমরা রওনা দিলাম। আমাদের ঘোড়া আমাদের নিয়ে দ্রুত বেগে চলছিল। অবশেষে আমরা উক্ত খাখ্ নামক বাগানে পৌঁছে গেলাম এবং সেখানে আমরা মহিলাটিকে দেখতে পেলাম। আমরা বললাম, ‘পত্র বাহির কর।’ সে বলল, ‘আমার নিকট তো কোন পত্র নেই।’ আমরা বললাম, ‘তুমি অবশ্যই পত্র বের করে দিবে, নচেৎ তোমার কাপড় খুলতে হবে।’ তখন সে তার চুলের খোঁপা থেকে পত্রটি বের করে দিল। আমরা তখন সে পত্রটি নিয়ে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হাজির হলাম। দেখা গেল, তা হাতিব ইব্নু বালতাআ (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে মক্কার কয়েকজন মুশরিকের প্রতি লেখা হয়েছে। যাতে তাদেরকে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন পদক্ষেপ সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হয়েছে। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘হে হাতিব! একি ব্যাপার?’ তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার ব্যাপারে কোন তড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আসলে আমি কুরাইশ বংশোদ্ভুত নই। তবে তাদের সঙ্গে মিশে ছিলাম। আর যারা আপনার সঙ্গে মুহাজিরগণ রয়েছেন, তাদের সকলেরই মক্কাবাসীদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। যার কারণে তাঁদের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিরাপদ। তাই আমি চেয়েছি, যেহেতু আমার বংশগতভাবে এ সম্পর্ক নেই, কাজেই আমি তাদের প্রতি এমন কিছু অনুগ্রহ দেখাই, যদ্দারা অন্তত তারা আমার আপনজনদের রক্ষা করবে। আর আমি তা কুফরী কিংবা মুরতাদ হবার উদ্দেশ্যে করিনি এবং কুফরীর প্রতি আকৃষ্ট হবার কারণেও নয়।’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘হাতিব তোমাদের নিকট সত্য কথা বলছে।’ তখন ‘উমর (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেই।’ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তোমার হয়ত জানা নেই, আল্লাহ্ তা‘আলা বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের ব্যাপারে অবহিত আছেন। তাই তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমরা যা ইচ্ছা আমল কর। আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।’
সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, এ সনদটি খুবই উত্তম।
আরেক বর্ণনায় পাওয়া যায়,
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন, সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাকে অনুমতি দিন। আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। উত্তরে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেকি বদরে অংশগ্রহণ করেনি? উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হাঁ করেছিল। কিন্তু এখন সে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং আপনার বিরুদ্ধে আপনার শত্রুদের সাহায্য করেছে। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদের ব্যাপারে অবহিত আছেন। তাই তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমরা যা ইচ্ছা আমল কর। এ কথা শুনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর দুচোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল এবং তিনি বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন।
বিদআতি ও ফেতনাবাজরা এই হাদিসের মাধ্যমে এ কথার প্রমাণ পেশ করতে চায় যে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে সাহায্য করা কুফর নয়। অথচ এই হাদিসটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে সাহায্য করা কুফর হওয়ার বিষয়ে অন্যতম সুস্পষ্ট ও মজবুত দলিল।
লক্ষ্য করুন:
সাহাবায়ে কেরাম যারা ছিলেন এই উম্মাহর সবচেয়ে বড় আলেম, তাদের মধ্যে বিশেষ করে হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু (যার জবানে আল্লাহ তা’আলা হক জারি করে দিয়েছেন) বুঝেছিলেন যে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে সাহায্য করা কুফর ও ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার শামিল। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাক্যগুলো দেখুন:
دَعْنِيْ أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ
অর্থ: “আমাকে সুযোগ দিন, আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেব।”
তিনি এখানে উদ্দেশ্য করেছেন বড় নিফাক তথা কুফর। অন্য বর্ণনায় তো উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সুস্পষ্ট ভাষায় তাকে তাকফির করেছেন।
يا رسول الله ، أمكني منه فإنه قد كفر ، فأضرب عنقه
অর্থ: “হে আল্লাহর রাসূল! তাকে আমার হাতে তুলে দিন। কেননা সে কুফরি করেছে। তাই আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেব।”
অন্য বর্ণনায় উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে তাকফিরের কারণও উল্লেখ করেছেন,
فقال: خان الله ورسوله، ائذن لي أضرب عنقه، فقال النبيّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّم: " أَلَيْسَ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا؟" قال: بلى، ولكنه قد نكث وظاهر أعداءك عليك
অর্থ: তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন, সে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আমাকে অনুমতি দিন। আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সেকি বদরে অংশগ্রহণ করেনি? উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হাঁ করেছিল। কিন্তু এখন সে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং আপনার বিরুদ্ধে আপনার শত্রুদের সাহায্য করেছে।
অতএব বুঝা গেল, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ও সাধারণভাবে সকল সাহাবায়ে কেরামের কাছে এটা সুস্পষ্ট ছিল যে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে সাহায্য করা কুফর ও ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথাগুলোকে খন্ডন করেননি। বরং (মৌন) সমর্থন করেছেন। তিনি যদি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথাগুলোকে বাতিল মনে করতেন তাহলে অবশ্যই বলতেন, হে উমর! এটা কুফর নয় এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে সাহায্য করা কুফর নয়।
কারণ, প্রয়োজনের সময় বিধান গোপন করা হারাম। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদেরকে সাহায্য করাকে কাফির হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ কথা খন্ডন করেননি বরং সমর্থন করেছেন।
এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে তাহলে হাতেব রাদিআল্লাহু আনহুকে কাফের সাব্যস্ত করা হয় নি কেন??
চলবে.....
21/08/2023
01/08/2023
28/07/2023
19/07/2023
12/07/2023
04/07/2023