30/04/2026
স্বামী তিন তালাক দেবার পর অস্বীকার করলে স্ত্রীর করণীয় কি?
উত্তরঃ
যদি স্ত্রী দাবী করে স্বামী তিন তালাক দিয়েছে, কিন্তু স্বামী তা অস্বীকার করে, তাহলে স্ত্রী নিজ দাবীর পক্ষে সাক্ষী উপস্থিত করতে পারলে স্ত্রীর কথা গ্রহণ করা হবে ও বিচ্ছেদ হবার ফতোয়া দেয়া হবে। আর সাক্ষী না থাকলে স্বামীকে কসম করতে বলা হবে তালাক না দেবার পক্ষে। যদি কসম করতে অস্বীকার করে, তাহলে স্ত্রীর কথা গ্রহণ করা হবে ও বিচ্ছেদ হবার ফতোয়া দেয়া হবে। কিন্তু যদি স্বামী কসম করে ফেলে, তাহলে স্বামীর কথা গ্রহণ করা হবে কাযাআন।
রাসূল (ﷺ) বলেন,
“যখন স্ত্রী তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে বলে দাবি করে এবং এর পক্ষে একজন নির্ভরযোগ্য সাক্ষী পেশ করে, তখন তার স্বামীকে কসম খেতে বলা হবে। সে যদি কসম খায়, তবে সাক্ষীর সাক্ষ্য বাতিল বলে গণ্য হবে। আর যদি স্বামী কসম খেতে অস্বীকার করে, তবে তার এ অস্বীকার একজন সাক্ষ্যের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তালাক সাব্যস্ত হয়ে যাবে।”
📚 (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-২০৩৮)
কিন্তু স্বামীর কথা (কাযাআন) গ্রহণ করা হলেও স্ত্রী তো জানে তিন তালাক দিয়ে স্বামী অস্বীকার করতেছে। তাই তার জন্য উক্ত স্বামীর সাথে ঘর-সংসার করার কোন সুযোগ নেই। ইবনে আবেদীন শামী রাহ লিখেন,
والمرأة كالقاضي إذا سمعته أو أخبرها عدل لا يحل له تمكينه.
মহিলা নিজের ব্যাপারে কাযী/বিচারক এর মতো। যখন সে স্বামীর নিকট থেকে তালাক শুনবে বা তাকে কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি তালাকের খবর পৌঁছাবে, তখন স্বামীর সাথে সংসার করা তার জন্য জায়েয হবে না।
📚 (রদ্দুল মুহতার-৩/২৫১)
তাই যেভাবেই হোক তার থেকে আলাদা হয়ে যেতে হবে। স্বামী তালাকের কথা অস্বীকার করলে, পিত্রালয়ে বা অন্য কোন নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যাবে। অথবা সামর্থ্য থাকলে স্বামীকে টাকা-পয়সা দিয়ে মুক্তি নিবে অথবা হক্বপন্থী আলেমদের সালিশের মাধ্যমে আলাদা হয়ে যাবে। মোট কথা, যে-কোনো উপায়ে স্বামীর থেকে আলাদা হয়ে যাবে।
যদি কোন স্বামী-স্ত্রী উভয়ে তিন তালাককে অস্বীকার করে, কিন্তু দুজন সাক্ষী বলে যে তিন তালাক দিয়েছিল, তাহলে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ করে দেয়া হবে। আর স্বামী-স্ত্রী তিন তালাক হয়েছে জানার পরও সংসার করাটা নিকৃষ্ট যেনা-ব্যভিচার, ইসলামী রাষ্ট্র থাকলে তাদেরকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হতো। এমন ব্যভিচারময় হারাম সংসারের প্রতিবেশীরাও বিপদগ্রস্ত হবে।
শেষ যামানায় স্বামীরা তালাক দিয়ে অস্বীকার করার ব্যাপারে হাদীসে আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে দেখুন!
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (ﷺ), কিয়ামতের কি এমন কিছু আলামত রয়েছে, যদ্বারা কিয়ামতের বিষয়ে অবগত হওয়া যাবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হে ইবনে মাসউদ। নিশ্চয় কিয়ামতের অনেকগুলো আলামত ও নিদর্শন আছে।...হে ইবনে মাসউদ, কিয়ামতের আলামত ও নিদর্শনসমূহের একটি হলো, জারজ সন্তান বৃদ্ধি পাবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে ইবনে মাসউদ, তারা কি মুসলমান? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, হে ইবনে মাসউদ, তাদের সামনে কি কুরআন থাকবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, হে ইবনে মাসউদ, তাহলে এমনটা (জারজ সন্তানের বৃদ্ধি) কীভাবে হবে? তিনি বললেন, মানুষের সামনে এমন একটি সময় আসবে, যখন সে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা অস্বীকার করবে। অতঃপর তার সাথে সহবাসে লিপ্ত হবে। এভাবে যতদিন তারা সংসার করবে তারা ব্যভিচারী হিসেবে থাকবে।"
📚 (আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি—৫/১২৭, হাদীস নং-৪৮৬১, প্র. দারুল হারামাইন, কায়রো)
ফাতাওয়ার কিতাবে এসেছে —
وَالْمَرْأَةُ كَالْقَاضِي إذَا سَمِعْته أَوْ أَخْبَرَهَا عَدْلٌ لَا يَحِلُّ لَهُ تَمْكِينُهُ. وَالْفَتْوَى عَلَى أَنَّهُ لَيْسَ لَهَا قَتْلُهُ، وَلَا تَقْتُلُ نَفْسَهَا بَلْ تَفْدِي نَفْسَهَا بِمَالٍ أَوْ تَهَرُّبٍ، كَمَا أَنَّهُ لَيْسَ لَهُ قَتْلُهَا إذَا حُرِّمَتْ عَلَيْهِ وَكُلَّمَا هَرَبَ رَدَّتْهُ بِالسِّحْرِ. وَفِي الْبَزَّازِيَّةِ عَنْ الْأُوزْجَنْدِيِّ أَنَّهَا تَرْفَعُ الْأَمْرَ لِلْقَاضِي، فَإِنَّهُ حَلَفَ وَلَا بَيِّنَةَ لَهَا فَالْإِثْمُ عَلَيْهِ. اهـ. قُلْت: أَيْ إذَا لَمْ تَقْدِرْ عَلَى الْفِدَاءِ أَوْ الْهَرَبِ وَلَا عَلَى مَنْعِهِ عَنْهَا فَلَا يُنَافِي مَا قَبْلَهُ. (رد المحتار، كتاب الطلاق، مطلب فى قول البحر الخ-4\463، 3\251، 3\305، البحر الرائق-3\448، 3\257 ،وكذا فى الهندية-1\354 قديم، 1\422 جديد)
“স্ত্রী এই ক্ষেত্রে কাজীর মতো; যদি সে নিজে তালাকের কথা শুনে অথবা কোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি তাকে জানায়, তাহলে তার জন্য স্বামীকে নিজের উপর কর্তৃত্ব করতে দেওয়া বৈধ নয়। তবে ফতোয়া হলো—তার জন্য স্বামীকে হত্যা করা জায়েয নয়, এবং সে নিজেও আত্মহত্যা করবে না। বরং সে নিজেকে মুক্ত করবে অর্থের বিনিময়ে অথবা পালিয়ে যাবে।
যেমন স্বামীর জন্যও স্ত্রী যখন তার জন্য হারাম হয়ে যায়, তখন তাকে হত্যা করা জায়েয নয়। আর যখনই সে (স্ত্রী) পালিয়ে যায়, স্বামী তাকে যাদুর মাধ্যমে ফিরিয়ে আনে।
আর ফাতাওয়ায়ে বাজ্জাযিয়াতে এসেছে—
স্ত্রী বিষয়টি কাজীর কাছে উত্থাপন করবে। যদি স্বামী শপথ করে অস্বীকার করে এবং স্ত্রীর কাছে কোনো প্রমাণ না থাকে, তাহলে গুনাহ স্বামীর উপরই হবে।
ইবনে আবেদীন শামী রহ. বলেন—
এটি তখন, যখন স্ত্রী মুক্তিপণ দিয়ে নিজেকে ছাড়াতে পারে না, পালাতে পারে না এবং স্বামীকে নিজের কাছ থেকে বিরত রাখতেও সক্ষম না হয়, তাহলে এ কথা পূর্বের কথার বিরোধী নয়।”
📚 (রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন), কিতাবুত তালাক, “বাহর” গ্রন্থের বক্তব্য প্রসঙ্গে আলোচনা, ৪/৪৬৩; ৩/২৫১ ও ৩০৫; আল-বাহরুর রায়েক-৩/৪৪৮ ও ২৫৭; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৫৪; জাদীদ-১/৪২২)
* الفتاوى البزازية1/169: سمعت بطلاق زوجها إياها ثلاثا ، ولا تقدر على منعه إلا بقتله إن علمت أنه يقربها تقتله بالدواء ، ولا تقتل نفسها ، وذكر الأوزجندي أنها ترفع الأمر إلى القاضي فإن لم يكن لها بينة تحلفه فإن حلف فالإثم عليه ، وإن قتلته فلا شيء عليها ، والبائن كالثلاث . شهد أن زوجها طلقها ثلاثا إن كان غائبا ساغ لها أن تتزوج بآخر ، وإن كان حاضرا لا لأن الزوج إن أنكر احتيج إلى القضاء بالفرقة ، ولا يجوز القضاء بها إلا بحضرة الزوج . ا هـ
কোনো স্ত্রী যদি তার স্বামীর কাছ থেকে নিজের ওপর তিন তালাক হওয়া শুনে, এবং স্বামীকে নিজের থেকে বিরত রাখার কোনো উপায় না থাকে হত্যা করা ছাড়া—তাহলে যদি সে নিশ্চিত হয় যে স্বামী তার নিকটবর্তী হবে, তবে সে তাকে বিষ দ্বারা হত্যা করতে পারে। তবে সে নিজেকে হত্যা করবে না।
আওযজান্দী (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, স্ত্রী বিষয়টি কাজীর কাছে উত্থাপন করবে। যদি তার কাছে কোনো প্রমাণ না থাকে, তাহলে স্বামীকে শপথ করানো হবে। যদি সে শপথ করে (অস্বীকার করে), তাহলে গুনাহ তার (স্বামীর) ওপরই হবে। আর যদি স্ত্রী তাকে হত্যা করে, তাহলে তার ওপর কিছুই বর্তাবে না।
আর ‘বাইন’ তালাক তিন তালাকের মতোই। যদি সাক্ষ্য দেওয়া হয় যে তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়েছে—যদি স্বামী অনুপস্থিত থাকে, তাহলে তার জন্য অন্য কাউকে বিয়ে করা বৈধ হবে। আর যদি স্বামী উপস্থিত থাকে, তাহলে বৈধ হবে না। কারণ, স্বামী অস্বীকার করলে বিচ্ছেদের জন্য বিচারকের রায় প্রয়োজন হবে। আর স্বামীর উপস্থিতি ছাড়া সেই রায় দেওয়া বৈধ নয়।”
📚 (ফাতাওয়া বাজ্জাযিয়া-১/১৬৯)
আল-বাহরুর রায়েকে এসেছে —
*البحر الرائق 4/97: وقد ذكر في القنية خلافا فرقم للاصل بأنها إن قدرت على الهروب منه لم يسعها أن تعتد وتتزوج بآخر لانها في حكم زوجية الاول قبل القضاء بالفرقة، ثم رمز شمس الائمة الاوزجندي وقال: قالوا هذا في القضاء ولها ذلك ديانة، وكذلك إن سمعته طلقها ثلاثا ثم جحد وحلف أنه لم يفعل وردها القاضي عليه لم يسعها المقام معه ولم يسعها أن تتزوج بغيره أيضا. قال – يعني البديع: والحاصل أنه على جواب شمس الاسلام الاوزجندي ونجم الدين النسفي والسيد أبي شجاع وأبي حامد والسرخسي يحل لها أن تتزوج بزوج آخر فيما بينها وبين الله تعالى، وعلى جواب الباقين لا يحل انتهى. وفي الفتاوى السراجية: إذا أخبرها ثقة أن الزوج طلقها وهو غائب وسعها أن تعتد وتتزوج ولم يقيده بالديانة والله أعلم. قال المصنف رحمه الله: وقد نقل في القنية قبل ذلك عن شرح السرخسي ما صورته: طلق امرأته ثلاثا وغاب عنها فلها أن تتزوج بزوج آخر بعد العدة ديانة. ونقل آخر أنه لا يجوز في المذهب الصحيح ا ه. قلت: إنما رقم لشمس الائمة الاوزجندي وهو الموافق لما تقدم عنه والقائل بأنه المذهب الصحيح العلاء الترجماني ثم رقم بعده لعمر النسفي وقال: حلف بثلاثة فظن أنه لم يحنث وعلمت الحنث وظنت أنها لو أخبرته ينكر اليمين فإذا غاب عنها بسبب من الاسباب فلها التحلل ديانة لا قضاء. وسئل الشيخ أبو القاسم عن امرأة سمعت من زوجها أنه طلقها ثلاثا ، ولا تقدر أن تمنعه نفسها هل يسعها أن تقتله في الوقت الذي يريد أن يقربها ، ولا تقدر على منعه إلا بالقتل فقال لها أن تقتله ، وهكذا كان فتوى الإمام شيخ الإسلام عطاء بن حمزة أبي شجاع ، وكان القاضي الإمام الإسبيجابي يقول ليس لها أن تقتله ، وفي الملتقط ، وعليه الفتوى في فتاوى الشيخ الإمام محمد بن الوليد السمرقندي في مناقب أبي حنيفة عن عبد الله بن المبارك عن أبي حنيفة أن لها أن تقتله ، وفي المحيط في مسألة النظم ، وينبغي لها أن تفتدي بمالها ، وتهرب منه فإن لم تقدر قتلته متى علمت أنه يقربها ، ولكن ينبغي أن تقتله بالدواء ، وليس لها أن تقتل نفسها قلت قال في المنتقى ، وإن قتلته بالآلة يجب عليها القصاص. اهـ.
📚 (বাহরুর রায়েক- ৪/৯৭)
হাম্বলী মাযহাবের বিখ্যাত ফতোয়াগ্রন্থ "আল-মুগনীতে" এসেছে —
* المغني لابن قدامة: 7\503، المكتبة الشاملة: فَإِذَا طَلَّقَ ثَلَاثًا وَسَمِعَتْ ذَلِكَ وَأَنْكَرَ أَوْ ثَبَتَ ذَلِكَ عِنْدَهَا بِقَوْلِ عَدْلَيْنِ لَمْ يَحِلَّ لَهَا تَمْكِينُهُ مِنْ نَفْسِهَا وَعَلَيْهَا أَنْ تَفِرَّ مِنْهُ مَا اسْتَطَاعَتْ وَتَمْتَنِعَ مِنْهُ إذَا أَرَادَهَا وَتَفْتَدِيَ مِنْهُ إنْ قَدَرَتْ قَالَ أَحْمَدُ: لَا يَسَعُهَا أَنْ تُقِيمَ مَعَهُ وَقَالَ أَيْضًا: تَفْتَدِي مِنْهُ بِمَا تَقْدِرُ عَلَيْهِ، فَإِنْ أُجْبِرَتْ عَلَى ذَلِكَ فَلَا تَزَّيَّنُ لَهُ وَلَا تُقِرُّ بِهِ وَتَهْرُبُ إنْ قَدَرَتْ وَإِنْ شَهِدَ عِنْدَهَا عَدْلَانِ غَيْرُ مُتَّهَمَيْنِ فَلَا تُقِيمُ مَعَهُ وَهَذَا قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ
যদি স্বামী তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেয়, এবং স্ত্রী তা নিজে শোনে বা অস্বীকার করা সত্ত্বেও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর মাধ্যমে তার কাছে তা প্রমাণিত হয়—তাহলে তার জন্য স্বামীকে নিজের উপর ক্ষমতা (সহবাস/সম্পর্ক) দিতে দেওয়া বৈধ নয়।
বরং তার করণীয় হলো, যতটুকু সম্ভব স্বামীর কাছ থেকে পালিয়ে থাকা, স্বামী তাকে কাছে চাইলে নিজেকে রক্ষা করা, সম্ভব হলে স্বামীর কাছ থেকে মুক্তিপণ (খুলা) নিয়ে বিচ্ছেদ করা। ইমাম আহমদ (রহ.) বলেন, তার জন্য স্বামীর সাথে অবস্থান করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। তিনি আরও বলেন, সে যতটুকু সম্ভব মাল দিয়ে নিজেকে মুক্ত করবে আর যদি তাকে বাধ্য করা হয় সে স্বামীর জন্য নিজেকে সাজাবে না, তার কাছে অবস্থান করবে না, সুযোগ পেলে পালিয়ে যাবে।
যদি দুইজন নির্ভরযোগ্য ও সন্দেহমুক্ত সাক্ষী তার কাছে সাক্ষ্য দেয়—তাহলে তার জন্য স্বামীর সাথে থাকা বৈধ নয় এবং এটি অধিকাংশ আলেমের মত।
📚 (আল-মুগনী—৭/৫০৩)
قَالَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ وَحَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ وَابْنُ سِيرِينَ: تَفِرُّ مِنْهُ مَا اسْتَطَاعَتْ وَتَفْتَدِي مِنْهُ بِكُلِّ مَا يُمْكِنُ وَقَالَ الثَّوْرِيُّ وَأَبُو حَنِيفَةَ وَأَبُو يُوسُفَ وَأَبُو عُبَيْدٍ: تَفِرُّ مِنْهُ وَقَالَ مَالِكٌ: لَا تَتَزَيَّنُ لَهُ وَلَا تُبْدِي لَهُ شَيْئًا مِنْ شَعْرِهَا وَلَا عَرِيَّتِهَا وَلَا يُصِيبُهَا إلَّا وَهِيَ مُكْرَهَةٌ، وَرُوِيَ عَنْ الْحَسَنِ وَالزُّهْرِيِّ وَالنَّخَعِيِّ يُسْتَحْلَفُ ثُمَّ يَكُونُ الْإِثْمُ عَلَيْهِ وَالصَّحِيحُ مَا قَالَهُ الْأَوَّلُونَ؛ لِأَنَّ هَذِهِ تَعْلَمُ أَنَّهَا أَجْنَبِيَّةٌ مِنْهُ مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِ فَوَجَبَ عَلَيْهَا الِامْتِنَاعُ وَالْفِرَارُ مِنْهُ كَسَائِرِ الْأَجْنَبِيَّاتِ وَهَكَذَا لَوْ ادَّعَى نِكَاحَ امْرَأَةٍ كَذِبًا وَأَقَامَ بِذَلِكَ شَاهِدَيْ زُورٍ فَحَكَمَ لَهُ الْحَاكِمُ بِالزَّوْجِيَّةِ أَوْ لَوْ تَزَوَّجَهَا تَزْوِيجًا بَاطِلًا وَسُلِّمَتْ إلَيْهِ بِذَلِكَ فَالْحُكْمُ فِي هَذَا كُلِّهِ كَالْحُكْمِ فِي الْمُطَلَّقَةِ ثَلَاثًا. *الدر المختار: 3/421
* الفتاوى الهندية : 1/537 *خلاصة الفتاوى 2/119-12
জাবির ইবনে যায়েদ, হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান এবং ইবনে সিরীন (রহ.) বলেন:
স্ত্রী তার সামর্থ্য অনুযায়ী স্বামীর কাছ থেকে পালিয়ে থাকবে এবং যতটুকু সম্ভব নিজেকে মুক্ত করবে।
সুফিয়ান সাওরী, ইমাম আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং আবু উবাইদ (রহ.) বলেন:
সে স্বামীর কাছ থেকে পালিয়ে থাকবে।
ইমাম মালিক (রহ.) বলেন:
সে স্বামীর জন্য সাজসজ্জা করবে না, তার সামনে চুল বা শরীরের কোনো অংশ প্রকাশ করবে না, এবং সে তার জন্য হালাল হবে না—যতক্ষণ না সে বাধ্য হয়।
হাসান বসরী, জুহরী এবং নাখাঈ (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে:
স্বামীকে শপথ করানো হবে, তারপর গুনাহ তার উপর বর্তাবে।
আর সঠিক মত হলো প্রথম দলের মত (যারা বলেছেন পালাতে হবে); কারণ স্ত্রী জানে যে সে এখন স্বামীর জন্য গায়রে মাহরাম, এবং তার জন্য স্বামীর জন্য হারাম হওয়া নিশ্চিত—তাই তার জন্য বাধ্যতামূলক হলো স্বামীর কাছ থেকে বিরত থাকা এবং পালিয়ে থাকা, যেমন অন্যান্য পরনারীদের ক্ষেত্রে করা হয়।
তদ্রূপ, যদি কেউ মিথ্যা দাবি করে কোনো নারীর সাথে বিয়ে হয়েছে বলে এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দ্বারা আদালত তাকে স্বামী বলে রায় দেয়, অথবা কোনো নারীকে বাতিল বিয়ের মাধ্যমে তার কাছে সমর্পণ করা হয়—তাহলে সব ক্ষেত্রেই হুকুম একই, যেমন তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে।
📚 (আদ-দুররুল মুখতার—৩/৪২১; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া—১/৫৩৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া—২/১১৯–১২০)
ইমদাদুল আহকামে এসেছে —
امداد الاحکام 2/392: اگر زوجه نے طلاق كا لفظ تين بار سن ليا هو تو اس پر واجب هے كه اپنے كو مطلقة مغلظه يعني مطلقة الثلاث سمجھے اور شوهر سے عليحده هو جائے او ر اس كو اپنے اوپر هرگز قابو نه دے۔
যদি স্ত্রী নিজে তিনবার তালাকের শব্দ শুনে থাকে, তাহলে তার জন্য ওয়াজিব হলো নিজেকে মুগাল্লাযা তালাকপ্রাপ্তা (অর্থাৎ তিন তালাকপ্রাপ্তা) হিসেবে গণ্য করা এবং স্বামীর থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া। আর তাকে কোনোভাবেই নিজের উপর স্বামীর কর্তৃত্ব করতে দেওয়া যাবে না।”
📚 (ইমদাদুল আহকাম—২/৩৯২)
فتاوی محمودیہ: 19/252-253: صورت مسؤلہ میں مرد طلاق کا منکر ہے ، اور عورت مدعیہ ہے ، لھاذا شرعی ثبوت کی ضرورت ہے، یعنی جب تک کم از کم دو عادل یا ایک مرد اور دو عادل عورت گواہی نہ دیں ، اس وقت تک قضاء طلاق کا ثبوت نہ ہوگا-
۔۔۔ لیکن اگر عورت نے خود تین طلاق کو سنا ہے ۔۔۔ تو اس کو جائز نہیں ، کہ کسی طرح سے اس مرد کو اپنے اوپر قابو دے، بلکہ جس تدبیر سے ممکن ہو اس سے علیحدہ رہے۔ *
উক্ত মাসআলায় স্বামী তালাক অস্বীকার করছে এবং স্ত্রী দাবি করছে। তাই শরীয়তসম্মত প্রমাণের প্রয়োজন। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত কমপক্ষে দুইজন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ মহিলা সাক্ষ্য না দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত বিচারিকভাবে (কাজীর আদালতে) তালাক প্রমাণিত হবে না।
কিন্তু যদি স্ত্রী নিজে তিন তালাকের শব্দ শুনে থাকে, তাহলে তার জন্য কোনোভাবেই জায়েজ নয় যে সে স্বামীকে নিজের উপর ক্ষমতা দিক; বরং যেভাবে সম্ভব সে তার থেকে আলাদা হয়ে থাকবে।
📚 (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া—১৯/২৫২–২৫৩)
رحیمیہ: 8/283 ۔۔۔ تو ایسی صورت میں عورت شوہر سے خلع کرے ، کچھ دے دلاکر رہائی حاصل کرے جماعت اور برادری کے سمجھدار دیندار حضرات شوہر کو سمجھا کر طلاق کا اقرار یا طلاق دینے یا خلع کر لینے پر آمادہ کریں۔ *
এমন অবস্থায় স্ত্রীকে উচিত হবে স্বামীর কাছ থেকে "খুলা" গ্রহণ করা এবং কিছু অর্থ বা বিনিময় দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেওয়া।
এছাড়া সমাজ ও এলাকার জ্ঞানী ও দ্বীনদার ব্যক্তিরা স্বামীকে বুঝিয়ে তাকে তালাক স্বীকার করতে অথবা তালাক প্রদান করতে কিংবা খুলা করতে সম্মত করানোর চেষ্টা করবেন।
📚 (ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া—৮/২৮৩)
দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়ায় বলা হয়েছে —
فتاوی دارالعلوم دیوبند 9/237: اگر اس کو یقین طلاق مغلظہ یا بائنہ کا ہے تو جہاں تک اس سے ہو سکے وہ اس مرد سے علیحدہ رہے
যদি কোনো নারীর নিশ্চিত বিশ্বাস হয় যে তার উপর মুগাল্লাযা (তিন তালাক) বা বাইন তালাক কার্যকর হয়েছে, তাহলে যতটুকু তার সাধ্য থাকে সে ওই পুরুষ থেকে আলাদা হয়ে থাকবে।
📚 (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ—৯/২৩৭)
والله تعالى أعلم بالصواب